Home Blog Page 669

গে কানেকশন! স্থপতি ইমতিয়াজ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের স্থপতি ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূঁইয়া (৪৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন মিল্লাত হোসেন মুন্না ওরফে মুন (১৯), এহসান ওরফে মেঘ (২৩) ও আনোয়ার হোসেন (৩৮)।

ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এনামুল হক মিঠু বাসসকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য। তারা একটি গে চ্যাটিং অ্যাপসের মাধ্যমে আগে থেকে সমকামী বিভিন্ন লোকজনকে টার্গেট করে রুম ডেটের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে আসছেন তারা।

নিহত ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূঁইয়ার সঙ্গে আসামি আলিফের গে চ্যাটিং অ্যাপসের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়। তারই সূত্র ধরে গত ৭ মার্চ দুপুরে আলিফকে ফোন করেন ইমতিয়াজ। আলিফ তাকে কলাবাগান থানার ক্রিসেন্ট রোডের আরাফাতের বাসায় যেতে বলেন।

ওই বাসার একটি রুমে ইমতিয়াজ ও আলিফ আপত্তিকর অবস্থায় থাকাকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আলিফের সহযোগী আরাফাত, মেঘ, মুন্না ও আনোয়ার প্রবেশ করেন। তারা ওই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইমতিয়াজকে মারধর শুরু করে এবং তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।

এডিসি এনামুল হক মিঠু আরও বলেন, ইমতিয়াজ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বুকে, পিঠে বেদম মারধর করেন আসামিরা। পরে ইমতিয়াজের মৃত্যু হয়। আসামিরা কৌশলে বাসা থেকে ইমতিয়াজের মরদেহ বের করে একটি প্রাইভেটকারে করে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকার কামারকান্দা গ্রামের নবাবগঞ্জ হাইওয়ে রোডের পাশে ঝোপে ফেলে দেয়। পরে আলিফকে বাসাবো, আনোয়ারকে গ্রিনরোড নামিয়ে দিয়ে আরাফাত, মেঘ ও মুন্না নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লা হয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান।

ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) গোলাম সবুর বলেন, ভারতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আসামিরা ওই স্থান থেকে পালিয়ে পুনরায় অবৈধভাবে একই পথে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর ডিবি পুলিশের অভিযানে ইমতিয়াজ হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ডিবির তেজগাঁও বিভাগের নেতৃত্বে টানা অপারেশনে মেঘ, আনোয়ার ও মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার একটি গ্যারেজ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। তবে আরাফত আর আলিফ ভারতে পালিয়ে গেছেন ।

ইমতিয়াজ তেজগাঁও এলাকায় নিজ ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ৭ মার্চ কলাবাগান ক্রিসেন্ট রোড এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ইমতিয়াজ। পরদিন তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের চিত্রকোট কামারকান্দা সেতু এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯ মার্চ পুলিশ লাশ আঞ্জুমান মুফিদুলে হস্তান্তর করে। এরপর বেওয়ারিশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জ পৌর এলাকার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কবর থেকে তোলার পর তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার ও স্বজনেরা ইমতিয়াজের লাশ শনাক্ত করেন।
সূত্র : বাসস

অবশেষে নিউইয়র্কে দেখা মিলবে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’

নিউ ইয়র্ক ডেস্ক: অবশেষে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বপ্ন পূরণ হলো। স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশের ৫৩তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামফলক উম্মোচন করা হয়। এ দুপুর ২টায় বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন করেন জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণান। জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ আমন্ত্রণ না পাওয়ায় নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের কোন সরকারি কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামকরণের জন্য প্রায় এক বছর ধরে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা নানাভাবে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ সামাজিক তৎপরতা চালিয়ে আসছেন কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের কাউকেই কোন রকম বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় সেখানে উপস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকলেও তাদেরকেও দু’টি কথা বলার সুযোগ দেননি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান। এ ঘটনায় প্রবাসীরা হতবাক হয়েছেন। এমনকি জ্যাকসন হাইটসে বসবাস করন না শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত এমন এক ব্যক্তি মিলন রহমানকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা হয়। যা উপস্থিত প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

bd street 01

বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, স্টিভেন রাঘাব, কাউন্সিল মেম্বার জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস, অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লি, জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, অপর জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাধারন সম্পাদক তারেক হাসান খানসহ শত শত বাংলাদেশি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলম্যানদের সাধারন সভায় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’  নামকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নিলে পরে ৪৭-০ ভোটে তা পাশ হয়। সেই থেকে জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউয়ের ৭৩ স্ট্রিটের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। বিলটির সিদ্ধান্ত নম্বর হলো- আইএনটি ৮৯৭।
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটসে ‘বাংলাদেশ’ নামে সড়ক করার জোর তৎপরতা চালান জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণানকে গত বছরের জুলাই মাস থেকে কয়েক দফায় তাগিদ দেন। এর আগেও জেবিবিএ’র সাবেক ও প্রয়াত নেতা সাঈদ রহমান মান্নান, পিয়ার মোহাম্মদ, মহসিন ননি, গিয়াস আহমেদ ও শাহনাওয়াজ সকলেই এই দাবির প্রতি ছিলেন ঐক্যবদ্ধ।  

bd street 02

গত বছর জুলাই মাসে উক্ত জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান নিউ ইয়র্ক সিটি’র কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। তাদের দেওয়া তাগিদের ফলেই প্রস্তাবটি পাস করানোর চেষ্টা চালান সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলম্যানরা।
কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণান, মেয়র এরিক এডামস, বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস গত নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা জয়ী হলে এই নামকরণ বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু শেকার কৃষ্ণানের আন্তরিকতায় এবং জ্যাকসন হাইটসের নেতৃবৃন্দের দাবিতে ও সহায়তায় প্রায় ৬ মাসের প্রস্তুতিতে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্তটি পাশ করা হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির ১২৯টি স্ট্রিটের পুণঃনামকরণের বিলটি সভায় আলোচনায় আসে। এক এক করে ১২৯টি স্ট্রিটের নতুন নামকরণের প্রস্তাব শোনানো হয়। পাঁচ বরোতেই নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্ট্রিটের বা এভিনিউয়ের। এইসব নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন কম্যুনিটির নিজ দেশের বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টদের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের এক ব্লকের নামকরণ করা হলো ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। এছাড়াও বাংলাদেশ কম্যুনিটির বিশিষ্ট একটিভিস্ট, শিক্ষক ও লেখক লিজি রহমানের পুত্রের নামে এলমহার্স্টের কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কর্ণারে নামকরণ করা হলো আসিফ রহমান ওয়ে। আসিফ রহমান ২০০৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইকেল চালিয়ে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কাছে ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এই রাস্তাটিরও নামকরণ করা হলো কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানের উদ্যোগেই।
এদিকে শুনানিতে যেমন এই ১২৯টি রাস্তার তালিকায় কুইন্স বরোতে ‘লিটল বাংলাদেশ ওয়ে’ নামে একটি রাস্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, পাশ হওয়া বিলেও সেই নামটি রয়ে গেছে। কিন্তু কোন কাউন্সিলম্যানের প্রস্তাবে কোন এলাকায় কোন রাস্তার নাম লিটল বাংলাদেশ ওয়ে হলো তা জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের পার্ক কমিটির চেয়ার। আর স্ট্রিটের পুণঃনামকরণ করার দায়িত্বটিও পার্ক কমিটির। সে কারণে নির্বাচিত হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই তিনি ৭৩ স্ট্রিটের নাম বাংলাদেশ স্ট্রিট এবং ৫৫ রোডের নাম আসিফ রহমান ওয়ে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা তৈরি শুরু করেন। এর জন্য কেন ৭৩ স্ট্রিটের নাম ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ করতে হবে তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান। অবশেষে পার্ক কমিটি তার প্রস্তাবনা মেনে নেয় এবং শুনানিতে তোলে। ৩১ জানুয়ারি শুনানিতে তা গৃহীত হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি তা ফুল কাউন্সিলে ৪৭-০ ভোটে পাশ হয়। এ সময় কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান সিটি কাউন্সিল চেম্বারে ৭৩ স্ট্রিটকে বাংলাদেশ স্ট্রিট ও ৫৫ রোডকে আসিফ রহমান ওয়ে ঘোষণার পক্ষে চমৎকার দুটি বক্তব্য রাখেন।

ভারতে ভোটের বছরে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাহুল গান্ধী

ভারতে এক মানহানির মামলায় বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর কারাদণ্ড আর লোকসভার সদস্যপদ হারানোর ঘটনা অনেকটা হঠাৎ করেই দেশটির রাজনীতিতে সৃষ্টি করেছে এক বিরাট আলোড়ন।

এর প্রতিবাদে শনিবার ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন, পাঞ্জাবে হয়েছে রেল অবরোধ।

দেশের ১৪টি বিরোধী দল – যাদের মধ্যে অন্য প্রশ্নে খুব একটা সহমত হতে দেখা যায় না- তারাও রাহুল গান্ধীর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এক হয়েছে ।

এছাড়া এমপির পদ খোয়ানোর পরে শনিবারই প্রথম সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন রাহুল গান্ধী, আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিজেপি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোকসভা ভোটের যখন বছরখানেক বাকি, তখন এ ঘটনার ভেতর দিয়ে রাহুল গান্ধীই মূল রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছেন।

কিন্তু তাতে কোন দলের লাভ, কার ক্ষতি হতে পারে?

গুজরাতের এক আদালতে ফৌজদারী মানহানির মামলায় দুই বছরের জেলের সাজা হওয়ার পরে আইন অনুযায়ীই গান্ধীর পার্লামেন্ট সদস্য পদ খারিজ হয়ে যায়।

চার বছর আগে নির্বাচনী প্রচারে কর্ণাটকে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “নিরাভ মোদী, ললিত মোদী, নরেন্দ্র মোদী .. মোদী পদবীধারীরা সবাই কী করে চোর হয়!”

ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গুজরাটের বাসিন্দা মোদী পদবীধারী এক বিজেপি নেতা এই যুক্তিতে মানহানির মামলা করেন যে গান্ধী একথা বলে সব মোদী পদবীধারীর মর্যাদাহানি করেছেন।

শুক্রবার ওই গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হওয়ার পরে রাহুল গান্ধী শনিবারই প্রথমবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন।

‘মোদী-আদানির সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ বন্ধ রাখবেন না রাহুল গান্ধী
রাহুল গান্ধী বলেন, “আমার সদস্য পদ খারিজ হয়েছে কারণ আমার পরের ভাষণকে প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। ওই ভাষণটা আমি আদানির ব্যাপারে দিতাম। আমি তার চোখে আতঙ্কের ছাপ দেখেছি। তিনি কিছুতেই চাননি যেন ভাষণটা সংসদের কক্ষে দিতে পারি।“

নরেন্দ্র মোদী ও আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে তিনি যে তথ্যবহুল ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে কেন বাদ দেয়া হলো, সেই প্রশ্ন বারবার জানতে চেয়েও তিনি জবাব পাননি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন গান্ধী।

মোদী ও আদানির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে রাহুল গান্ধীকে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার মুখ খুলতে শোনা গেছে।

তিনি বলেন, “আদানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলির কাছে যে ২০ হাজার কোটি টাকা এসেছিল, কেউ জানে না এই অর্থের উৎস কী! প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন যে মোদী-আদানি সম্পর্কটা মানুষের সামনে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। সেজন্যই আমাকে আটকানো হচ্ছে। কিন্তু আমি থামব না। মোদী-আদানি সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন আমি তুলবই।“

‘আমি সাভারকার নই, আমি গান্ধী, ক্ষমা চাইব না’
আদালতের নির্দেশে তার যে জেল এবং পরবর্তীকালে সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে অবশ্য ওই সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

বিজেপি নেতারা গান্ধীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘মোদী’দের নিয়ে ওই মন্তব্যের জন্য যেন ক্ষমা চান কংগ্রেস নেতা।

কিন্তু সে প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী শনিবার বলেন ,”আমি সাভারকার নই, আমি গান্ধী। ক্ষমা চাইব না।“

এই উক্তিতে গান্ধী যে সাভারকারের কথা বলেছেন, তিনি সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন বিনায়ক দামোদর সাভারকারের কথা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের যে হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি, তার মূল দর্শন সাভারকারেরই লেখা থেকে আসা। তিনি আন্দামানের সেলুলার জেলে বন্দী থাকার সময়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে একাধিকবার ক্ষমাপ্রার্থনা করে চিঠি লিখেছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা জানান। শনিবার সেই ক্ষমাপ্রার্থনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন রাহুল গান্ধী, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

‘কংগ্রেস আদালতে কেন যাচ্ছে না?’
রাহুল গান্ধীর সংবাদ সম্মেলনের জবাব দিতে বিজেপি নেতা রভি শঙ্কর প্রসাদ একটি জবাবী সংবাদ সম্মেলন করেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন- ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশের ওপরে স্থগিতাদেশ নেয়ার কোনো চেষ্টাই কেন করল না কংগ্রেস?

তার কথায়, কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা থেকে ফায়দা তুলতে চাইছে কংগ্রেস।

তিনি আরো বলেন, “মোদী পদবী নিয়ে রাহুল গান্ধী যা বলেছিলেন, সেটা সমালোচনামূলক কখনই ছিল না। ওটা অশালীন মন্তব্য ছিল। অন্যান্য পিছিয়ে থাকা শ্রেণী বা ওবিসি সমাজকে অপমান করেছেন তিনি। এ নিয়ে বিজেপি আন্দোলনে নামবে।“

রাজনৈতিক কৌশল?
কংগ্রেস কেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করল না, তাহলে কি সত্যিই এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা কাজ করছে, এই প্রশ্ন উঠছে বিশ্লেষকদের মনেও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভাশিস মৈত্র বলছিলেন, “বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে আদালত, তারপরে শুক্রবার আজ শনিবার চলে গেল। এই কয়দিনে কংগ্রেস তো উচ্চতর আদালতে যেতেই পারত। কিন্তু তা তারা করেনি। নিঃসন্দেহে এর পেছনে একটা রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে।

“উচ্চতর আদালতে না যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে রাহুল গান্ধীকে একজন শহীদ বা পরিস্থিতির শিকার হওয়া এক ব্যক্তির মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা তাদের পক্ষে লাভজনক তো হবেই। তাদের আইনি পরামর্শদাতারাও কিন্তু এখনো এটা স্পষ্ট করেননি।”

“হয়ত শনিবার রাতে বা রোববার তাদের রাজনৈতিক কৌশলটা স্পষ্ট হবে,” বলছিলেন মৈত্র।

‘আদানি ইস্যু সামনে এলে বড় ক্ষতি হতে পারে বিজেপির’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতদিন রাহুল গান্ধী-সোনিয়া গান্ধীকেই নিশানা করে রাজনীতি করে এসেছে বিজেপি। এবার যদি রাহুল গান্ধী নাই থাকেন, তাহলে কী নিয়ে রাজনীতি করবে বিজেপি?

‘লোকসত্তা’ পত্রিকার সম্পাদক গিরীশ কুবেরের কথায়, “এটা কংগ্রেসের কাছে একটা বড় সুযোগ নতুন কোনো চেহারা সামনে নিয়ে আসার। গান্ধী সবসময়েই বিজেপির ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ হয়ে থেকেছেন। এখন তিনিই যদি না থাকেন, তাহলে বিজেপির তো নিশানা করারই কেউ থাকবে না। তাই কংগ্রেসকে খুব ভেবে চিন্তে এগোতে হবে।“

আবার রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্য পদ খারিজের প্রশ্নে বিজেপি বিরোধী সব দলগুলিই একজোট হয়ে প্রতিবাদ করছে।

বিশ্লেষক শুভাশিস মৈত্র বলছেন, “রাহুল গান্ধীকে নিশানা করা বিজেপির তো একটা অ্যাজেন্ডা বটেই। তাই বিজেপি-আরএসএসের মধ্যে দুটো মতই আছে।

“একটা অংশ চাইছে রাহুল গান্ধীই থাকুন তাদের প্রধান নিশানা হয়ে। আরেকটা মত বলছে রাহুল গান্ধী সামনে থাকলেই বারেবারে আদানি ইস্যুটা তুলবেন, আর তাতে নরেন্দ্র মোদীর ইমেজের বড়সড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।“

কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলো যেমন একদিকে রাহুল গান্ধীকে ‘পরিস্থিতির শিকার’ বা তার সংসদ সদস্য পদ খারিজকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ ধরনের শব্দ বন্ধে অভিহিত করছে, অন্যদিকে বিজেপি যে কোনোভাবে আদানি গোষ্ঠীর সাথে নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ককে সামনে আসতে দিতে চায় না।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন রাহুল গান্ধীই
সবমিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের একবছর আগে এবং কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচনের বছরেই ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন রাহুল গান্ধীই।

রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে যাওয়ায় শনিবার সারা দেশেই কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

তিনি যে আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন, কেরালার সেই ওয়েনাডে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ যেমন হয়েছে, তেমনই কর্ণাটকেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

রাজ্যের রাধানী বেঙ্গালুরুতে ওই বিক্ষোভ আটকিয়ে দেয় পুলিশ।

আবার পাঞ্জাবে রেল অবরোধ করেন কংগ্রেস কর্মীরা।

মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের বিধায়করা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিধানসভা চত্ত্বরেই বিক্ষোভ দেখান। সূত্র : বিবিসি

স্বাধীনতার চেতনা কি লুট চুরি জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা, প্রশ্ন ফখরুলের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কথায় কথায় স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- স্বাধীনতা চেতনা কি লুট করা, চুরি করা, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে নিজেদের পকেট ভারি করা, মানুষকে কষ্ট দেয়া?’

শনিবার (২৫ মার্চ) এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এটাই হচ্ছে প্রকৃত ইতিহাস। কথায় কথায় আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে। স্বাধীনতার চেতনা কি লুট করা, স্বাধীনতার চেতনা কি চুরি করা, স্বাধীনতার চেতনা কি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা, স্বাধীনতার চেতনা কি রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে নিজেদের পকেট ভারি করা, মানুষকে কষ্ট দেয়া? না। স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। তার জন্য মানুষ সংগ্রাম করেছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তখন থেকে বুকে রক্ত দিয়ে এদেশের মানুষ একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, নিজেদের জন্য একটা পতাকা, নিজেদেরকে শাসন করার একটা অধিকার তারা চেয়েছিল। সেজন্য লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। তারই পরিণতি হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের স্বাধিকার আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রায় দিয়েছে। এরপর পাক সেনারা যখন এদেশের জনগণের বাড়িঘর লুণ্ঠন, হত্যা চালিয়ে যাচ্ছিল, তখনই এদেশের মানুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের সর্বনাশের জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট। একাত্তরের যুদ্ধের আগেও আওয়ামী লীগ জনগণকে চেতনা শিখিয়েছিল, বিভিন্ন কমিটমেন্ট দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা- বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। তার মধ্যে সর্বশেষ একটা কৌশল হচ্ছে ইসির মাধ্যমে আমাদেরকে চিঠি দেয়া। এটা নিয়ে আমি এখনি কথা বলতে চাই না। এটা নিয়ে আমাদের স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং আছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নিব। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো ক্ষমতা আছে যে এই প্রশাসনকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে?’

‘আওয়ামী লীগ সব শেষ করে দিয়েছে। সব শেষ। রাস্তার রিপেয়ারিংয়ের কাজ শেষ না হতেই বিটুমিন উঠে যাচ্ছে- এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ টিসিবির ট্রাকে লাইন দিয়েও মালামাল পাচ্ছে না। আর তারা পাতাল রেল তৈরি করছে,’ বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সংসদকে বিলুপ্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন মাধ্যমে নির্বাচন হবে। জনগণ তার ভোট দেবে। দেশকে রক্ষা করার জন্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য, দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য, আজকের এই স্বাধীনতা দিবস, এই কালো রাত্রিতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে সাক্ষী রেখে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে। এই সরকারকে বিদায় করে দেশের সত্যিকার অর্থে একটি সমৃদ্ধময় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ফারুক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ।

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ ২৬ মার্চ, ৫৩তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে শুরু হয় আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম। নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের অন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে মুক্তিপাগল সচেতন শ্রেণি পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ইঙ্গিত লাভ করে। এরপর সমস্যা সমাধানে ১৬ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সাথে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থতার দিকে গড়াতে থাকলে অনেকেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলোতে এভাবে প্রস্তুত হতে থাকে যুদ্ধের ক্ষেত্র।

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করাচির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন ইয়াহিয়া খান। রাত ১১টায় তিনি করাচি পৌঁছার খবর ঢাকায় পাঠানোর পরপরই শুরু হয় গণহত্যা অভিযান। রাজপথে নেমে আসে ট্যাংক এবং সশস্ত্র সৈন্য। পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শুরু হয় ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ড। ২৫ মার্চে গণহত্যা পরিচালনার সময় পুলিশ, তৎকালীন ইপিআর এবং বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি সৈনিক ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। পরের দিন থেকে শুরু হয় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। যে যার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন চূড়ান্ত সেই যুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই-সংগ্রাম আর ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মহান বিজয়। এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ পায় লাল-সবুজের পতাকা খচিত একটি স্বাধীন ভূখণ্ড।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা বেগবান করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে মহান স্বাধীনতা দিবসে এ আমার প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে দেশে এবং প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশী নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণকে, যাদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সব বাংলাদেশীকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

কর্মসূচি : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয়পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী ক‚টনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এ উপলক্ষে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।

এদিন সরকারি ছুটি। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এ দিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।

সরকারি দল আওয়ামী লীগ দিবসটি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সূর্যোদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে), সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধিদল টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

কবিতা/জাতির পিতা

জাতির পিতা

সমৃদ্ধি সততা দৃষ্টি

তুমি আমাদের মহান নেতা 

সবার প্রিয় জাতির পিতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

সবার কাছে শ্রেষ্ঠ তুমি 

আর অতি আপন জন!

প্রিয় মনের মণিকোঠায় 

তোমার অসামান্য আসন। 

আজও আকাশে-বাতাসে

তোমার আহ্বানের সেই-

বজ্রকন্ঠ ভাসে। 

জাতির সকল দুর্দিনে

তুমি যে ছিলে সবার পাশে। 

তুমিতো করেছো 

এ দেশকে স্বাধীন-

না হলে আজও আমরা 

থাকতাম পরাধীন!

তুমি-তো সকলের প্রিয়

করেছো দেশ ও জাতির কল্যাণ।

এমন সোনার দেশ পেয়েছি

সেতো তোমারই অবদান।

কবিতা / জাগো মোমিন

জাগো মোমিন
মোঃ এনামুল হক

নিশি রাতে জাগো মোমিন
এলো রমাদান,
আরামের ঘুম হারাম করে
সেহরি করো পান।

দিনের খাবার রাতে খাবো
করবে না কেউ মানা,
পাপ কর্ম করবো নাকো
প্রভুর কাছে চাই ক্ষমা।

মুখে আহার তুলবো নাকো
থাকবো অনাহারে,
রোজা রাখলো না খেয়ে যে
ইফতার দিব তারে।

সিয়াম সাধনায় মত্ত থাকবো
দিন রজনী ধরে,
ইফতার শেষে তারাবির নামাজ
পড়বো মসজিদ ঘরে।

সময় কালে মোমিন ধরো
সিয়াম সাধনা,
সামনের বছর এমন দিনটি
হয়তো পাবো না।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর যতটুকু ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই আছে। এটার মাত্রা নিয়ে কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের উদ্বেগ, সংশয় বা প্রশ্ন উত্থাপন করার নৈতিক অধিকার নেই। তিনি বলেন, অনিবন্ধিত সংগঠন থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি বেআইনি কাজ। আমি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে এটা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানাব।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত – মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনের এই অভিমত সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন। গতকাল সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, এই প্রতিবেদনগুলোর মৌলিক কিছু ঘাটতি রয়েছে। প্রথমত, বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা বলি প্রতিবেদনগুলোর প্রকাশ করার আগে আমাদের যাতে জানানো হয় এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতোই এবারো সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।

দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে ওপেন সোর্স থেকে তথ্যগুলো নেয়া হয়। এতে স্ববিরোধিতা থাকে। অনেক সময় বলা হয়, মিডিয়া বা বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনে ওপেন সোর্স ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়, গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশে সরকার কোনো বাধা দেয় না। তৃতীয়ত, প্রতিবেদনে বেশ কিছু এনজিও এবং আইএনজিওর রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। এর অন্যতম হলো এনজিও সংস্থা অধিকার। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অধিকারকে কোনো লাইসেন্স দেয়া হয়নি। তাদের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। আপিলেও তা খারিজ হয়েছে। কোনো নাগরিক সমাজ সম্পৃক্ত সংগঠন বা এনজিওর রাজনৈতিক ইতিহাস থাকলে তাদের নিরপেক্ষতার দৃষ্টিকোনো থেকে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘাটতি অব্যাহতভাবে থাকলে মানবাধিকার বা অন্য কোনো প্রতিবেদনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে যায়।
শাহরিয়ার আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন আমরা বিশ্লেষণ করে দেখবো এতে আমলে নেয়ার কোনো বিষয় রয়েছে কি না। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর বিনিময় ও বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক রয়েছে। এগুলোতে আমরা প্রতিবেদনের ঘাটতিগুলো তুলে ধরবে, যাতে আগামী বছরের প্রতিবেদনে এই ঘাটতিগুলো না থাকে।

রাশিয়াকে চীনের `কৌশলগত পার্টনার’ আখ্যা দিলেন শি জিনপিং

চীনা নেতা শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ মঙ্গলবার তাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করছেন। শি এক রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল মস্কোয় পৌঁছেছেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে ‘কৌশলগত পার্টনার’ এবং ‘বড় প্রতিবেশি শক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। আজ মস্কোতে তার সফরের দ্বিতীয় দিনে শি ভ্লাদিমির পুতিনকে এ’বছর “তার সময় সুযোগমতো” চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং বলেছেন মস্কোর সাথে যোগাযোগকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনের সাথে আজ ইতোমধ্যেই বৈঠক করেছেন শি জিনপিং এবং এই বৈঠকের সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।

রুশ সৈন্য ইউক্রেন আক্রমণ করার পর এটাই শি-র প্রথম মস্কো সফর।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ
সফরের প্রথম দিন সোমবার দুই প্রেসিডেন্ট চার ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলেছেন এবং দুজন দুজনকে “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করেছেন।

দুই নেতাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের আজকের আলোচনায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও স্থান পাবে।

চীনা সরকার বলে আসছে এই যুদ্ধের ব্যাপারে তাদের অবস্থান পক্ষপাতহীন, কিন্তু কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করেন বেইজিংয়ের শান্তি পরিকল্পনা আসল উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্য একটা ধোঁয়াটে পর্দার মতো এবং এই পরিকল্পনাকে সামনে রাখলে চীনের পক্ষে রাশিয়ার আক্রমণকে সমর্থন করা সহজ হবে।

তবে জানা যাচ্ছে যে শি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট মি, জেলেনস্কির সাথে ভিডিও কলে কথা বলবেন। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকে শি ও জেলেনস্কির মধ্যে কোনো কথা হয়নি।

কিয়েভে জাপানের প্রধানমন্ত্রী
চীন ইউক্রেন এবং রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসানোর ব্যাপারে রাজি করাতে পারবে এমন সম্ভাবনা কম হলেও চীনা নেতা শি জিনপিং এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে এই ভিডিও কল আদৌ হয় কিনা কিয়েভ সেই অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে শি যখন মস্কো সফর করছেন তখন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক এক সফরে একই সময়ে কিয়েভে পৌঁছেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। তিনিও আজ জেলেনস্কির সাথে বৈঠকে বসছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন শি-র মস্কোয় রাষ্ট্রীয় সফরের সময়ই জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক কিয়েভ সফর চীনা প্রেসিডেন্টের ওপর বড় রকমের চাপ তৈরি করবে।

জাপানি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শেষ করে নিজের দেশে ফিরে যাবার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই পরিকল্পনা বদলে পোল্যান্ডে পৌঁছেছেন এবং সেখান থেকে ট্রেনে কিয়েভ গেছেন।

মস্কোয় শি-এর সফরে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে কোনরকম অগ্রগতি হয়ত হবে না, কিন্তু চীনা ও জাপানি দুই নেতা তাদের সফরে ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং সার্বিকভাবে বিশ্ব শান্তির বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তা নিয়ে তুলনামূলক কাটাছেঁড়া যে অবশ্যম্ভাবী হবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চীনা নেতার মস্কো সফরের প্রথম দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছেন, “ইউক্রেন সংকট নিরসনে” বেইজিংয়ের দেয়া প্রস্তাবগুলো তিনি পড়ে দেখেছেন এবং এ নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন।

দুই নেতার মধ্যে গতকালের দীর্ঘ আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ অবসান নিয়ে চীনের দেয়া ১২ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও তাদের আলোচনার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ক্রেমলিন শুধু জানিয়েছে যে দুই নেতা “বিস্তারিতভাবে” মতবিনিময় করেছেন এবং ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছেন আজ দুই নেতার বৈঠকের পর আরো পরের দিকে এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের আলোচনার বিষয়ে জানানো হবে।

গত মাসে এই ১২ দফা প্রস্তাব দেয় চীন। তবে এতে ইউক্রেন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই।

বরং এতে সব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর কথা, এবং সব পক্ষকে “যৌক্তিক আচরণ” করার বলা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

চীন এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে স্বীকৃতি দেয় না।

সূত্র : বিবিসি

বিএনপি নেতারা চায় না বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আসলে বিএনপি নেতারা চায় না বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে আদালতে গিয়ে আইনজীবী দিয়ে মামলা লড়তো। তারা কিন্তু মামলা লড়ে না। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবদের মাতব্বরিটা আর থাকে না, সেজন্য উনারা চান না যে, বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাক।’

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ শিশুদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি নেতারা কিছুদিন আগে বলেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া এমন অসুস্থ যে, উনাকে যদি বিদেশ নেয়া না হয়, উনি মারা যাবেন। তাদের কথায় মনে হচ্ছিল, তারা চাচ্ছিল বেগম খালেদা জিয়া মারা যাক। উনি বাংলাদেশের চিকিৎসকদের চিকিৎসায় ভালো হয়ে গেলেন।’

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘এখন কোনো ইস্যু নাই। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ইস্যু হালে পানি পায় নাই। ১০ ডিসেম্বর বড় একটা অশ্ব ডিম পেড়েছিল। তাদের আন্দোলনে তাদের নেতারা, কর্মীরাও সাড়া দেয় নাই। এখন কোনো ইস্যু নাই, এখন তারা রোড এক্সিডেন্টের মধ্যে গেছে।’

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, দফতর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণসহ অন্য নেতারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাসস