Home Blog Page 67

‘রোনালদোকে আমরা বল পাস দিতে বাধ্য নই’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে পর্তুগাল। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র করেছে আসরের অন্যতম ফেভারিটরা। সেই ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন রোনালদো। ম্যাচের কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই রোনালদো সম্পর্কে তীর্যক মন্তব্য করে বসলেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ ফ্রান্সিসকো কনসেসাও। পর্তুগালের এই উইঙ্গার মনে করেন, তারা রোনালদোকে বল পাস দিতে বাধ্য নন।

আগামীকাল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। ২৩ জুন হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কনসেসাওকে প্রশ্ন করা হয়, দলের সবাই রোনালদোকে পাস দিতে বাধ্য কি-না! এর জবাবে তিনি বলেন, ‘না, রোনালদোর গোল করার সামর্থ্য রয়েছে। তার মতো আর কেউ নেই। আমাদের এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, তাকে বল পাস দিতেই হবে। আমরা তাকেই দিবো যে খালি জায়গায় থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি অন্য সতীর্থরা আক্রমণের জন্য আরও ভালো অবস্থানে থাকে, তাহলে রোনালদোকে পাস দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনুভব করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাকে দলের আর দশজন সদস্যের মতোই দেখা হয়। দলের জন্য প্রত্যেককেই প্রয়োজন।’

একজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালীন প্রতি মিলিসেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে এই জুভেন্টাস তারকা বলেন, ‘আমার ম্যাচের মুহূর্তে মাথায় থাকে না যে কে আমার সামনে আছে, কে নেই। আমরা নিজ উদ্যোগেই বল পাস দেই। এটাতে আমরা মিলিসেকেন্ড সময় পাই ভাবার জন্য। আর ক্রিশ্চিয়ানো এখানে অন্যান্য ফুটবলারদের মতই দলকে সাহায্য করার জন্য এসেছে।’

‘মেসিকে নিয়ে লিখতে গেলে একটি পুরো বইও যথেষ্ট নয়’

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন দারুণভাবে শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল। এই ম্যাচকে সামনে রেখে আজ কোচের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন আলবিসেলেস্তের মাঝমাঠের কাণ্ডারি এনজো ফার্নান্দেজ। যেখানে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে রণকৌশল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে কথা বলেছেন চেলসির এই মিডফিল্ডার।

২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তখন ফেসবুকে এক খোলা চিঠিতে লিখেছিলেন এনজো লিখেছিলেন, ‘লিও, দয়া করে আমাদের ছেড়ে যেও না।’

কাতারে সেই মেসির পাশেই খেলে বিশ্বকাপজয়ী এনজোকে সেই চিঠির কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আজ আবার পেছনে ফিরে গিয়ে লিওকে একটা চিঠি লিখতে চাই, তবে তার পাশে থেকে আমি যা যা শিখেছি তা লিখে শেষ করার জন্য একটা পুরো বইও যথেষ্ট হবে না।’

গত চার বছরে নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান নিয়ে এনজো আরও যোগ করেন, ‘এই চার বছরে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আজ নিজেকে অনেক বেশি পরিপক্ব মনে হয় এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করতে আমি নিজের ওপর আরও বেশি তাগিদ দিই।’

অস্ট্রিয়াকে নিয়ে বেশ সতর্ক শোনা গেল এই আর্জেন্টাইন তারকাকে। অস্ট্রিয়ার খেলার ধরন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এনজো বলেন, ‘অস্ট্রিয়া সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ওরা মাঠে কিছুটা ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেয় ঠিকই, তবে আক্রমণে ওঠার সময় ওরা ভীষণ আগ্রাসী। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

নিজের পজিশন ও খেলার ধরন নিয়ে এনজো জানান, ‘আমি যে পজিশনে খেলছি, সেখানে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যখনই আমাকে একাদশে বেছে নেওয়া হয়, আমি দলের জন্য আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি সবসময় বল পায়ে রাখতে পছন্দ করি, এটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।’

বিশ্বকাপের শুরুটা এবার ভিন্ন হয়েছে আর্জেন্টিনার। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে সেই হারকে স্মরণ করে এনজো বলেন, ‘কাতারে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাটা আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল, যদিও এর পরের সবকিছু ছিল অবিশ্বাস্য এক রূপকথা। তবে এবার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আমরা দারুণ খেলেছি, বলের নিয়ন্ত্রণও আমাদের কাছে ছিল। এবার জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারাটা ড্রেসিংরুমে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।’

ফুটবল এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে এনজো বলেন, ‘ফুটবল এখন অনেক বেশি সমানে-সমান হয়ে গেছে এবং আমার মনে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপটি আগের চেয়েও অনেক বেশি জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন অনেক দলই দারুণ চমক দেখাচ্ছে এবং গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে।’

তৃতীয়বার বিয়ে করছেন আমির, কারা থাকবেন অনুষ্ঠানে

তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। ৬০ বছর বয়সে এসে অভিনেতার নতুন করে সংসার শুরুর খবর এখন বলিউডপাড়া থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আগামী ৫ জুলাই দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। তবে এই বিয়েতে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, নিজ বাড়িতেই ঘরোয়া আয়োজনে আইনি বিয়ে সারবেন আমির ও গৌরী। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

আমির নিজেও জানিয়েছেন, তিনি ও গৌরী দুজনেই সাদামাটা আয়োজন পছন্দ করেন। তাই এই বিয়ে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরেই রাখতে চান তারা।

খবর অনুযায়ী, বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেন আমিরের মেয়ে আইরা খান, ছেলে জুনায়েদ খান, প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত, দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া গৌরী স্প্র্যাটের পরিবারের সদস্য ও অভিনেতার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু-সহকর্মীকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

সম্প্রতি ‘লগান’ ছবির ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আমিরের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত, দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও এবং হবু স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটকে দেখা যায়। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে আমিরের প্রাক্তন ও বর্তমান সম্পর্কের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে প্রেম করে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন আমির। দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসারজীবনের পর ২০০০ সালে বিচ্ছেদ হয় তাদের। ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন তিনি। ২০২১ সালে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এই দম্পতি।

এরপর বেশ কিছুদিন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরব থাকলেও, সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন আমির। এবার সেই সম্পর্কই নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছে বিয়ের মাধ্যমে।

সাহসী কেপ ভার্দে, আতঙ্কে উরুগুয়ে

ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে (০-০) রুখে দিয়েছে। যেটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অঘটন বলা হচ্ছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। ওই ম্যাচে দলটির কী প্রত্যাশা থাকবে? লড়াই করা। আরেকটি সমতা! কিন্তু কেপ ভার্দের তরুণ মিডফিল্ডার দিরয় দুয়ার্তে বলেছেন ভিন্ন কথা, ‘স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটা আপনারা দেখেছেন। সমতা করবো কেউ প্রত্যাশা করেনি। তাদের আটকে দিতে পারলে উরুগুয়েকে কেন হারাতে পারবো না?’

বার্তা পরিষ্কার। স্পেনের বিপক্ষে সাহস সঞ্চয় করা ব্লু শার্করা দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে এবারের পরীক্ষাটা তাদের ফাঁস হওয়া প্রশ্নে দিতে হবে।

স্পেনের বিপক্ষে ফুটবলের রক্ষণাত্মক লো ব্লকেরও সবচেয়ে কুখ্যাত পদ্ধতিটা অবলম্বন করে খেলেছিল কেপ ভার্দে। মাঠ ছোট করে, প্রতিপক্ষকে কোনো জায়গা না ছেড়ে, গায়ে গা লাগিয়ে খেলাই এই কৌশলের ফুটবলের শেষ কথা। স্পেনের ফুটবলাররা দীর্ঘদেহি না হওয়ায় ক্রস খেলেও সুবিধা করতে পারেনি। দায় ছিল সুযোগ হারানোরও। উরুগুয়েকে একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।

 

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জয় চায় জাপান

দারুণ এক মাইলফলকের অংশ হওয়ার অপেক্ষায় জাপান ও তিউনিসিয়া। মন্তেরিতে বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ১০টায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাজারতম ম্যাচটি খেলবে দুই দল। এমন উপলক্ষটি জয় দিয়ে রাঙাতে মরিয়া জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু। তিউনিসিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ডও জাপানের বিপক্ষে নিখুঁত পারফরম্যান্স চান।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে যাত্রা শুরু করেছে জাপান। দুইবার পিছিয়ে পড়েও অনেকটা ডাচদের পকেটে চলে যাওয়া ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে ১ পয়েন্ট প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছে জাপান। তার পরও সন্তুষ্ট নন কোচ মরিয়াসু।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মরিয়া তিনি, ‘আমাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস খুব ভালো খেলেছিল। আমাদের দলও ভালো করেছিল। কিন্তু ওই ম্যাচের ফলাফলে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। এখন আমাদের প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। আমি বিশ্বাস করি, দলের সবাই মনে করে যে ম্যাচটি আমাদের জেতা প্রয়োজন।’

তিউনিসিয়া প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তার পরও প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন জাপানের কোচ, ‘আমি নিশ্চিত, সুইডেনের বিপক্ষে খেলা তিউনিসিয়ার চেয়ে এই তিউনিসিয়া ভিন্ন। নতুন কোচ নিশ্চিতভাবে দলকে তাতিয়ে দিচ্ছেন। তাদের জমাট রক্ষণ আছে, গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরির জন্য ফাঁকফোকর খুঁজে বের করতে তারা পারদর্শী।’

সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার জেরে তিউনিসিয়ার ডাগআউটে পরিবর্তন এসেছে। ওই ম্যাচের পরই কোচ সাবরি লামৌচিকে বরখাস্ত করে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন। নিয়োগ দেওয়া হয় ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ডকে। গত বিশ্বকাপে তাঁর অধীনেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সৌদি আবর। সেই রেনার্ডের চোখে জাপান হলো এশিয়ার সেরা দল।

আমার নয়, নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে ভাবুন—ট্রাম্পকে মেলোনি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান বাকযুদ্ধে নতুন করে পাল্টা মন্তব্য করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমে গেছে এবং তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছেন না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ইস্যুতে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় মেলোনি ‘লজিস্টিক সমস্যা’ তৈরি করেছেন।

এর জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক। মেলোনি আরও বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার চিন্তার কিছু নেই। আমি পরামর্শ দেব, আপনি নিজের জনপ্রিয়তার দিকে মন দিন।’

এর আগে জি৭ সম্মেলনে তোলা একটি ছবিকে ঘিরে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি নাকি বারবার তার সঙ্গে ছবি তুলতে অনুরোধ করেছিলেন। এই মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি বলেন, এমন দাবি তাকে হতবাক করেছে এবং এটি মিথ্যা। ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়টি বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং তা ভঙ্গ করা হয়নি।

দুই নেতার এই বাকযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মালয়েশিয়ায় ১১৮ বাংলাদেশিসহ ১৮৬ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক বিশেষ অভিযানে ১১৮ জন বাংলাদেশিসহ ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে পুডু মার্কেট এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই আকস্মিক অভিযান চালায় দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তবে যৌথ বাহিনী তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুলিশ ও সিটি হলের মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ওই ভবনে থাকা মোট ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ১৮৬ জনকে আটক করে ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশিয়ান, ২৬ জন মিয়ানমারের এবং পাঁচজন ভিয়েতনামের। বাকিদের মধ্যে চারজন নেপালি, দুজন ভারতীয়, দুজন চীনা ও একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটকদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেকের কাছে দেশটিতে বসবাসের কোনো বৈধ নথিপত্র বা পাসপোর্ট ছিল না।

তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবাইকে ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

পোশাকের কাঁচামাল আমদানি ৩০% মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল চায় বিটিএমএ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত প্রত্যাহারের কঠোর সমালোচনা করেছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি বলেছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হবে। এতে টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি তৈরি পোশাক রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উন্নীত হওয়ার পর জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে স্থানীয় মূল্যসংযোজন অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার শর্ত থাকবে। এছাড়া জোটগত প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্য বাজারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতেও মূল্যসংযোজনের শর্ত থাকবে।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার, সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংগঠন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গত ৮ জুন জারি করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিল করা হয়। এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় শিল্প আরও সমস্যায় পড়ে বন্ধ হবে। এমনিতেই ২৩৪টি বস্ত্রকল বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে তাঁর নিজেরই ৫টি মিল বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কসুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি রাখতে হবে। তাই দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন ধরে রাখতে এবং বন্ডের অনিয়ম রুখতে এই শর্ত বহাল রাখা অপরিহার্য।
করপোরেট পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য করপোরেট করহার ১২ শতাংশ হলেও প্রাথমিক বস্ত্র খাতে কার্যকর আয়কর হার সাড়ে ২৭ শতাংশ। এটিকে ‘চরম বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, একই ব্যবস্থার অংশ হওয়া সত্ত্বেও বস্ত্র খাত বেশি করের মুখোমুখি হচ্ছে। বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের করহার কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি করেন তিনি।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই ৬০ হাজার কোটি টাকা কাকে দেওয়া হবে, কেন দেওয়া হবে, কীভাবে দেওয়া হবে, তার কোনো পথনকশা এখনও জানা যায়নি।

পিপিআরসির আলোচনায় হোসেন জিল্লুর রহমান বাজেট বাস্তবায়ন তিন মাস অন্তর তদারক করতে হবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না, বাস্তবে কতটুকু অর্জিত হচ্ছে, তার ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে। গতকাল শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় সংগঠনটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এমন মত দিয়েছেন।

‘পিপিআরসির বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে হোসেন জিল্লুর বলেন, যেকোনো বাজেটের প্রকৃত পরীক্ষা তার প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং বাস্তবায়নে। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়ন কৌশলকে সরকারের শাসন কাঠামোর মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এতে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিতা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ছাড়া বাজেটের লক্ষ্য অর্জন কঠিন। তিনি মনে করেন, দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি বড় সমস্যা বাধাগ্রস্ত করছে—দুর্নীতি, বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যর্থতা এবং অপ্রয়োজনীয় দপ্তর ও প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অপচয়। এসব সমস্যা সমাধান না হলে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু সুরক্ষা থাকলেও মধ্যবিত্তের ওপর বাজেটের প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলেও করহার বাড়ানোর কারণে করদাতাদের একটি অংশ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের বৈষম্য কমানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার গুণগত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী গতি এবং অধিকতর স্বচ্ছতা ছাড়া উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব, সে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি রাজস্ব প্রশাসনে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, রাজস্ব মূলত একটি কার্যকর অর্থনীতি থেকেই আসে। উৎপাদনশীল খাত ও বেসরকারি উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে রাজস্ব আহরণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, বাজেটের অনেক প্রক্ষেপণ দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। কিছু ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কারকে স্বাগত জানালেও তিনি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষ্য, বাজেটে যেন ধরে নেওয়া হয়েছে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে পুনরুদ্ধারের জন্য সময় প্রয়োজন। প্রত্যাশিত ফল অর্জন নির্ভর করবে এমন একটি পরিবেশ তৈরির ওপর, যেখানে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণে আস্থা পাবেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণকে একাধিক কাজ করতে হচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ খরচ সামলাতে এক বেলা কম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরের চিত্র দেখে দেশের সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করা যাবে না। রাজধানীর বাইরের অঞ্চলে মানুষের কষ্ট ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি দৃশ্যমান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এ. সাত্তার মণ্ডল বলেন, কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উন্নয়ন কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। তিনি স্মার্ট কৃষি, প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং কৃষির আধুনিকায়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মালালা ফান্ডের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুশাররফ তানসেন শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এ বরাদ্দ শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানের বিদ্যমান ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ বাজেটের আকারে নয়, বরং সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পেতে হলে শেখার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাদানের গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্যাসিস্টদের মতো বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে: জামায়াত আমির

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকে কালো হাতের থাবা দিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগত ও পদধারী লোকদের বসিয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে বিগত ফ্যাসিস্টদের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। অর্ধবছর থাকতে পারেননি। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেখতে চায় না। অনির্বাচিত প্রশাসক আমরা দেখতে চাই না। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি  নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ দেখতে চায়।

‎জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-র জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। দেশে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্ত এবং জিহাদের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল, তারা যদি শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা এবং উপহাস করেন তবে নিজের সঙ্গেই গাদ্দারি কায়েম হবে।

‎তিনি দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু জনগণের বিজয় অনেক জায়গায় প্রতিফলিত হয়নি। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচন আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নির্বাচন হয়েছে। জনগণতো আমাদের ভোট দিয়েছে।

‎ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে। জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

‎সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভুল করেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‎তিনি বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোঁটা দেয়, হাজার জাতের খোঁটা। আমার নাকি কোথায় জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছি। আপনারা কি কোথাও কোনও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আপনাদের কাছে কি কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আপনারা কেউ বিক্রি করেনি। আপনাদের কাছেও কেউ বিক্রি করেনি। জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে যারা ইলেকশনের সময় গিয়ে বলেছে এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে। কারা বিক্রি করেছেন যারা বলেছেন অমুক নেতার নাম ১০০ বার জপলে আপনি জান্নাতে যাবেন।

‎জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ অন্যান্যরা।

‎পরে জামায়াতের আমির আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে ২৭টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামির কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।