নিউইয়র্ক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা (১ লাখ ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার) উঠাওয়ের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ করে মোটা অংকের সন্দেহজনক লেনদেনসহ উক্ত হিসাব নম্বরটি বন্ধ করে দেয়ার প্রেক্ষিতে বিষয়টি দূতাবাসের উচ্চ পর্যায়ের নোটিশে আনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ওয়াশিংটন ডিসিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিনের বিদায় এবং পরবর্তী রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তে (ট্রানজিশন পিরিয়ডে) ওই ঘটনা ঘটে। যা সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার নজরে এসেছে। এ নিয়ে ওয়াশিংটন দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। অনেকটা নীরবেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীলরা জানার চেষ্টা করছেন-কী অজুহাত দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, এর ব্যয় কীভাবে দেখানো হয়েছে? অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া এবং কার কার মধ্যে এটি ভাগবাটোয়ারা হয়েছে তা-ও খোঁজা হচ্ছে।
সেভিংস ফর ইমার্জেন্সি বা দুর্যোগ তহবিল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ব্যাংকে ওয়াশিংটনের দূতাবাসের পৃথক একটি অ্যাকাউন্ট ছিল। বহু বছর ধরে জমা হওয়া ওই অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলার জমা পড়েছিল। সুদ-আসল মিলেই তহবিলটি বেশ সমৃদ্ধ হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা।
দেশের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে তহবিলটি ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল। ডকুমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে ৪ দিনে পুরো অ্যাকাউন্ট খালি করা হয়। এর মধ্যে একদিনেই ৩টি লেনদেনে উত্তোলন করা হয় ৪০ হাজার ডলার। ২৬শে অক্টোবর ২০২০ এটি সংঘটিত হয় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে। ৩ দিন বিরতি দিয়ে ২৯শে অক্টোবর ’২০ অ্যাকাউন্ট থেকে দ্বিতীয় দফায় অর্থ উত্তোলন করা হয়। ওই দিন তোলা হয় আরও ১০ হাজার ডলার। পরের মাসে অর্থাৎ ২০২০ সালের নভেম্বরে দুই দিনে ৬টি ট্রানজেকশনে ৯৩ হাজার ডলার উত্তোলন করে অ্যাকাউন্টটি খালি করা হয়। ১১ই নভেম্বর তোলা হয় ৪৮ হাজার ৮ শ’ ডলার। আর ২৪শে নভেম্বর তোলা হয় ৪৫ হাজার ডলার। ডকুমেন্টে দেখা যায়, সেই বছরের ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ছিল ২ হাজার ৭শ’ ৫১ ডলার। যা পরবর্তীতে উত্তোলন করার মধ্যদিয়ে অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।
যেভাবে ঘটনাটি ফাঁস হলো: যেকোনো দূতাবাসের আয়-ব্যয়ে একটি অ্যাকাউন্ট থাকে। যাকে মাদার বা মূল অ্যাকাউন্ট বলা হয়। সরকারের অনুমতি নিয়ে বাড়তি অ্যাকাউন্ট খোলা বা বন্ধ করতে হয়। ‘সেভিংস ফর ইমার্জেন্সি’ ছিল ওয়াশিংটন মিশনের স্বতন্ত্র অ্যাকাউন্ট। যার নাম্বার ছিল সিটি বিজনেস আইএমএমএ-১৫২৮৩৩২১।
জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর ইমার্জেন্সি ওই হিসাব খোলা হয়েছিল। শুরুতেই এতে জমা হয়েছিল বেশ অর্থ। কিন্তু অনেকদিন এতে লেনদেন না হওয়ায় অনেকটা ফ্রিজ বা স্থিতাবস্তা ছিল। আচমকা এই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন এবং চটজলদি ৪টি লেনদেনে অ্যাকাউন্টটি খালি করে ফেরায় সন্দেহ হয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। তাৎক্ষনিক তারা তা দূতাবাসের নোটিশে আনে। কিন্তু দু’মাসের ব্যবধানে তা পুরোপুরি ক্লোজ করে ফেলা হয়। দূতাবাসের তৎকালীন হেড অব চ্যান্সারি (ডিডিওর বাড়তি দায়িত্ব) ছিলেন ৩০ ব্যাচের কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম। তার স্বাক্ষরে ব্যাংকের হিসাবটি ক্লোজ করা হয়। এতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ আরও বাড়ে এবং ব্যাংক ও দূতাবাসের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে বিষয়টি সম্প্রতি ঢাকার নজরে আসে।
এ ব্যাপার ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বেশ কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যাংক থেকে দেড় কোটি টাকা উধাও,তোলপাড়
স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, বাকির আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল ২৬ মার্চ
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের দাবীতে দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দাবী করে তারা সভা করেছেন। ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থকার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। খবর ইউএনএ’র।

সিটির জ্যাকসন হাইটসের ইটজি রেস্টুরেন্টে ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি যথাক্রমে এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, এমদাদুল হক কামাল, আবুল কাশেম, আলহাজ্ব বাবর উদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে কাজী আজম, সৈয়দ এম রেজা ও ফিরোজ আহমেদ, সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা মাহমুদা শিরীন, সাবেক নির্বাহী সদস্য মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর এম আলম, সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তফা আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক একেএম ওবায়দুল হক, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে বদরুল হক আজাদ, মোঃ আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, দেওয়ান কাওসার ও মোঃ আশরাফ হোসেন, মহানগর বিএনপির সদস্য নূরে আলম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাইনুদ্দিন মিয়াজী, আরাফাত রহমান কোকো পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসেন রাজু, মোঃ আইয়ুব খান, মোঃ আমিন রসুল ছোটন, মোঃ সোহেল, মোঃ শাহিন উদ্দিন, আশরাফুল হাসান, মোঃ আবুল খায়ের মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আগামী ২৬ মার্চ রোববার বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মরহুম বাকির আজাদ ও মরহুম আব্দুল খালেক খায়ের-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এই আয়োজনে বৃহত্তর কুমিল্লা জাতীয়তাবাদী ফোরাম সার্বিক সহযোগিতায় থকবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২৬ মার্চ রোববারের অনুষ্ঠান সফল করতে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি-কে আহ্বায়ক ও ফিরোজ আহমেদ-কে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংগঠনের সাবেক তিন নেতা যথাক্রমে গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লুর ও মিজানুর রহমান ভূইয়া (মিলটন ভূইয়া)-কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

এছাড়াও এই সভা থেকে আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাটকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত এবং যত দ্রæত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একটি কমিটি উপহার দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিশেষ দাবি জানানো হয়। সভা থেকে গ্রেতারকৃত কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নি:শর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।
সবশেষে সভায় দলের চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনা, তারেক রহমানের সুস্থতা কামনা, অসুস্থ নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ সাইদুর রহমান সাইদের সুস্থতা ও মরহুম বাকির আজাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট।
আমার পরিষ্কার কথা—যারা ভদ্রতা জানে না, তাদের সঙ্গে সংলাপের কী আছে? প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা ডেস্ক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা প্রকারান্তরে নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিগত নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত সংলাপের ফলাফল ও খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গেলে, বাসায় ঢুকতে না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সংলাপ কার সঙ্গে করবো? ওদের সঙ্গে আবার কীসের বৈঠক, আর কীসের কী? এত অপমানের পর তাদের সঙ্গে আবার কীসের বৈঠক? যারা এইটুকু ভদ্রতা জানে না, তাদের সঙ্গে বৈঠকের কী আছে?’ কাতারে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে সোমবার (১৩ মার্চ) গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে গত ৪ থেকে ৮ মার্চ এই সফর করেন তিনি।
সংলাপ প্রসঙ্গে, এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংলাপ কার সঙ্গে করবো? আমি ১৮ সালের নির্বাচনের আগে সংলাপ করেছি। তার রেজাল্টটা কী? নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই করেনি। ৩০০ সিটে ৭০০ নমিনেশন দিয়ে, টাকা খেয়ে নিজেরাই নিজেদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে, তারপর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দিয়েছে, সহ্যশক্তি দিয়েছে। না হলে ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মায়ের হত্যাকারী, গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ আমাকে হত্যার চেষ্টা, বোমা মেরে হত্যার চেষ্টা যারা করেছে, আমি তাদের সঙ্গেও বসেছি শুধু দেশের স্বার্থে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তাই না, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা গেলো। আমি গেলাম তাকে দেখতে, একজন সন্তানহারা মাকে সহানুভূতি জানাতে। আমাকে কীভাবে অপমানটা করলো? আমার গাড়ি ওই বাড়ির মধ্যে ঢুকতে দেবে না। বড় গেট বন্ধ। টেলিফোন করে সময় নেওয়া হয়েছে যে আমি ওই সময় আসবো। তারপরও সে গাড়ি বন্ধ করলো। কারণ, আমি তখন অলরেডি চলে গেছি। আমি বললাম, ঠিক আছে তাহলে ছোট গেট দিয়ে ঢুকবো। আমার গাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট গেট বন্ধ করে দিলো। এত অপমানের পর তাদের সঙ্গে আবার কীসের বৈঠক? আমার পরিষ্কার কথা—যারা এটুকু ভদ্রতা জানে না, তাদের সঙ্গে বৈঠকের কী আছে? কেউ পারবেন আপনার বাবা-মার হত্যাকারীর সঙ্গে বসে বৈঠক করতে? আপনাকে যদি কেউ এভাবে অপমান করে আপনারা পারবেন? কে পারবে? যেটুকু সহ্য করেছি শুধু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, নিজের স্বার্থে না। এটা তো প্রমাণিত, বাংলাদেশের মানুষের জন্য।’
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারপর আবার এদের সঙ্গে কীসের কথা বলবো? তারপরও তো অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ, তার বোন এসে, ভাই এসে, বোনের জামাই— সবাই এসে যখন আমার কাছে আর রেহানার কাছে আকুতি করলো…। তার সাজাটা স্থগিত করে বাসায় থাকার এবং চিকিৎসার সুযোগটা করে দিয়েছি। এটুকু যে করেছি সেটাই যথেষ্ট। যারা বারবার আমাদের হত্যা করে, অপমান করে। সারা বাংলাদেশে কাকে না অপমান করেছে? তারপরও যে এটুকু সহানুভূতি পাচ্ছে, সেটা শুধু আমার কারণে। ওদের সঙ্গে আবার কীসের বৈঠক আর কীসের কী? কী ক্ষমতা তাদের আছে? সন্ত্রাস করা ছাড়া তো তাদের আর কোনও ক্ষমতা নেই।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে যে কথা আমরা দিয়েছি, আমরা তা রেখেছি। মাঝখানে করোনাভাইরাস আর ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগের ওপরে ছিল, আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের দারিদ্র্যের হার ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছিলাম। আজ করোনা আর যুদ্ধকালীন সময় যদি না থাকতো, আরও দুই থেকে তিন শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে পারতাম। নানা কারণে হয়তো হয়নি। তবে এখানে থেমে থাকলে হবে না, হতাশাগ্রস্ত হলে হবে না। আমি কখনও হতাশায় ভুগি না, একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলি, আমার তো হারানোর কিছু নেই। আর কিছু মনে না রাখতে পারলেও দেশের উন্নয়নের জন্য কোথায় কী করতে হবে, সেটা মনে রাখতে পারি। ওইটুকু স্মরণশক্তি আমার রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দল বেশি লাফায় তাদের দুই নেতাই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা না পারবে ইলেকশন করতে, না পারবে ক্ষমতায় আসতে। বিএনপি তো তার নিজের গঠনতন্ত্র নিজেরাই ভঙ্গ করছে। তার গঠনতন্ত্রে আছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দলের নেতা হতে পারে না। এখন সেই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকেই দলের নেতা বানিয়ে রেখে দিয়েছে। এই দলের কাছে কী আশা করবেন? ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩০০ সিটের মধ্যে তারা পেলো প্রথমে ২৯টা সিট। পরে বাই-ইলেকশনে একটা, এই ৩০টা। ২০ দলীয় জোট বিএনপির নেতৃত্বে। ২০ দলীয় জোট পেলো ৩০টা সিট। ২৭০টা পেলাম আমরা মহাজোট। ২০০৮-এর নির্বাচন যেটা সবথেকে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সেই নির্বাচনেই যখন তাদের ওই দুরবস্থা…। এখন তো আমরা অন্তত কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি।
বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা হাতেনাতে ধরা পড়লো যে ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্র পাচার হচ্ছে। যে পুলিশ ধরলো সে পুলিশকে টর্চার করলো, চাকরি থেকে বের করে দিলো। অত্যাচার করলো, এটা আবার শুধু রাজনৈতিক হয় কীভাবে? আর এই ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় কিন্তু তারেক জিয়া সাজাপ্রাপ্ত এবং খালেদা জিয়ার মন্ত্রীরাও। তারপরও যদি তারা (বিএনপি) এটাকে রাজনৈতিক বলে, তাহলে এটা জনগণই বিচার করবে। এটা একটা ভাঁওতাবাজি, জনগণের সঙ্গে একেবারে মোনাফেকি।’
তিনি বলেন, ‘এই অস্ত্র চোরাকারবারি ব্যবসাটাই তাদের ব্যবসা। সেটাকে তারা রাজনীতি হিসেবে দেখাতে চায়। আসলে ওদের জন্মই হয়েছে অস্ত্র হাতে নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী একজন সেটা। সে হলো সেনাবাহিনী প্রধান আবার সেই অবস্থা থেকে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিলেন, অস্ত্র হাতে নিয়ে। নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। আর সেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলি করে তৈরি করা দল হলো বিএনপি। এদের কাছ থেকে জনগণ এর চেয়ে বেশি কী আশা করবে? লুটপাট করা, দুর্নীতি করা। বিএনপি, খালেদা জিয়া, তার ছেলেদের দুর্নীতির কথা এটা আমাদের না। এটা আমেরিকায় এফবিআই খুঁজে বের করেছে, সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে। এমনকি তাদের পাচার করা ৪০ কোটি টাকা বাংলাদেশ উদ্ধার করে ফেরত এনেছে। এই কথাটা সবার মনে রাখা উচিত। সেটাও রাজনৈতিক বলবে? সরাসরি অস্ত্র চোরাকারবারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। গ্রেনেড হামলা, ওটাও তো রাজনৈতিক? হ্যাঁ, রাজনৈতিকভাবে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। সবই রাজনৈতিক বলে ধামাচাপা দেওয়া। এরা রাজনীতির কী জানে? রাজনৈতিকভাবে এদের জন্ম না তো। জন্ম তো অস্ত্র হাতে নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে, সেটা মনে রাখলেই চলবে। ওদের কাছে জনগণ কিছু আশা করতে পারে না।’
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব বিদেশি সহায়তা ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকালীন সময়ে তা সীমিত হয়ে গেছে। এখন ইউক্রেনের রিফিউজিদের দিকে তাদের নজর বেশি। আমরা যেহেতু আশ্রয় দিয়েছি, কাজেই সেটা আমাদের দায়িত্ব। যার জন্য কিছুটা সমস্যায় আমাদের অবশ্যেই পড়তে হবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, প্রথম যখন রোহিঙ্গা আসে, কয়েক মাস কিন্তু আমরা নিজেদের টাকায় থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এরপর অন্য দেশের সহায়তা এলে কিছুটা সুবিধা হয়। আমরা ভাসানচরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। এরা ভাসানচরে যদি যায় অন্তত তারা জীবন-জীবিকার সুযোগও পাবে। ভালো একটা পরিবেশে থাকতে পারবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা আমাদের ওপর একটা বোঝা এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে—১৯৭১ সালে আমাদের এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। সেই সময়ের কথা মনে করে মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় দিয়েছি। মানুষের বিপদে পাশে তো থাকতেই হবে।’ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা ঝগড়া করতে পারি না। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করে যাচ্ছি—তাদের নাগরিক দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকেও বলেছি, তাদেরও চেষ্টা চালানো উচিত
তোষাখানার মাল’ আত্মসাতের দায়ে গ্রেফতার হতে পারেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
আন্তর্জাতি ডেস্ক : তোষাখানার মাল’ আত্মসাতের দায়ে চোখের জল-নাকের পানি এক হচ্ছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। পরোয়ানা জারি হয়ে গেছে। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না চৌদ্দশিকের ভয়ে। বাড়ির চারপাশ ঘিরে রয়েছে নেতা-কর্মী সমর্থকরা। আর দূর থেকে চিলের মত বারবার ছোঁ মারছে পুলিশ। অথচ এই একই অপরাধ করেও রাজার হালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোটের হেভিওয়েট নেতারা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফেরও নাম আছে। সে সময় অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তালিকায় রয়েছে বেশকিছু সরকারি কর্মকর্তাও।
রোববার দেশটির মন্ত্রিসভা সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ২০০২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তোষাখানার উপহার গ্রহণকারীদের লম্বা নথি থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। খবর ডনের। ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রয়াত সামরিক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাফরুল্লাহ খান জামালি, সিনেট চেয়ারম্যান সাদিক সানজরানি, অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, শেখ রশিদ আহমেদ, খুরশিদ কাসুরি, আবদুল হাফিজ শেখ, জাহাঙ্গীর তারিন, শাহ মাহমুদ কুরেশি এবং ড. আতাউর রহমানসহ রয়েছে আরও অনেকের নাম।
২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি বিএমডব্লিও এল আই হোয়াইট (নিরাপত্তা সংস্করণ) নিজের কাছে রেখে দেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রেসিডেন্ট ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। গাড়িটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৭.৩ মিলিয়ন রুপি। যার মধ্যে তিনি মাত্র ৪ মিলিয়নের কিছু বেশি মূল্য পরিশোধ করেছিলেন। সেসময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ- নওয়াজের প্রেসিডেন্ট ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিপও আছেন তালিকায়। ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল উপহার পেয়েছিলেন মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি। যার মূল্য ছিল ৪.২৫ মিলিয়ন রুপি। এর মধ্যে ০.৬৩৬ মিলিয়ন রুপি তিনি পরিশোধ করেছিলেন।
তালিকা থেকে বাদ যাননি বর্তমান প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভী ও তার স্ত্রী সামিনা আলভিও। প্রায় ১২ লাখ রুপি মূল্যের একটি নেকলেস নিয়েছিলেন আলভি’র স্ত্রী সামিনা। যদিও এর জন্য তারা তোষাখানায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার পরিশোধ করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই সেখান থেকে তিনি আরও গয়না নিয়ে যান। আরও পরে আরিফ আলভী ১২ লাখ রুপি পরিশোধ করে ২৫ লাখ রুপি মূল্যের একটি রোলেক্স ঘড়ি নিয়ে যান। শেখ রশিদ মাত্র ৩ হাজার ৪০০ রুপি দিয়ে দুটি মূল্যবান স্বর্ণমুদ্রাসহ কয়েক ডজন উপহার নিয়ে যান। খুরশিদ কাসুরিও মূল্য পরিশোধ ছাড়া ২০০৫ সালে বেশ কয়েকটি উপহার নেন। পাঁচটি মূল্যবান হাতঘড়ি, অলঙ্কার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ও শওকত আজিজ বিনামূল্যে শত শত বিদেশী উপহার রেখেছেন নিজের কাছে।
ইরানে বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া ২২ হাজার বিক্ষোভকারীকে সাধারণ ক্ষমা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া ২২ হাজার বিক্ষোভকারীকে ক্ষমা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি ইজেই সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনাকে ইজেই বলেন, এখন পর্যন্ত ৮২ হাজার মানুষকে ক্ষমা করা হয়েছে। এরমধ্যে ২২ হাজার ব্যক্তি রয়েছে, যারা বিক্ষোভে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে তাদের কত সময় মেয়াদি ক্ষমা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কখন অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল তা জানা যায়নি। তিনি শুধু বলেন, যাদের ক্ষমা করা হয়েছে তারা চুরি বা সহিংস অপরাধ করেননি।
শুক্রবার চীনের মধ্যস্থতায় ইরান এবং সৌদি আরবের সাত বছরের সম্পর্কের স্থবিরতার পর কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পুনরায় দূতাবাস চালু চুক্তির পর এ ঘোষণা দিল তেহরান। তবে ইরান তাদের পূর্বের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ইরান সরকার পবিত্র রমজান মাসের আগে বিক্ষোকারীদের ক্ষমা করতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে হিজাববিরোধী আন্দোলনের জন্য ২২ বছর বয়সি মাহসা আমিনি নামের এক কুর্দি তরুণীকে আটক করে দেশটির নীতি পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হলে চারদিকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ ঠেকাতে দমনপীড়ন চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। হাজার হাজার লোককে আটক করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তাকর্মীরা অন্তত ২০০ জনকে হত্যা করেছেন। শত শত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরানের মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালীন ১৯ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সহিংসভাবে বিক্ষোভ দমন করায় কমপক্ষে ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন। যদিও দেশটি গত কয়েক মাস ধরে কোনো মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় পতাকা ওড়ানো বাধ্যতামূলক, মন্ত্রিপরিষদ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি
ঢাকা ডেস্ক : আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ মার্চ) সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ভবনে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রবিবার (১২ মার্চ) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে—‘‘সরকার এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে ‘জাতির পিতার জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ শুক্রবার সারা দেশে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হবে।’’ উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
অবশেষে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক কিনতে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক
জন্মভূমি ডেস্ক : দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি) কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। গত শুক্রবার ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়। এর পরপরই সেটি কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন মাস্ক। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রেজারের প্রধান মিন-লিয়াং তান এক টুইট বার্তায় বলেন, টুইটার এসভিবি কিনে তা ডিজিটাল ব্যাংকে পরিণত করার কথা বিবেচনা করতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় টুইটারের প্রধান ইলন মাস্ক লিখেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আগ্রহী। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান মাস্ক এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার কিনে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার এসভিবি ঘোষণা করে, আর্থিক ক্ষতির কারণে তারা বেশ কয়েকটি সিকিউরিটিজ বন্ধ করে দিচ্ছে। ব্যালেন্সশিট ধরে রাখতে ২২৫ কোটি ডলারের নতুন শেয়ার বিক্রি করবে তারা। এ ঘোষণার পর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করে। এরপর শুক্রবার সকালে এসভিবি তাদের শেয়ার বন্ধ করে দেয়।
বেটার মার্কেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেনিস এম কেলেহার বলেছেন, এসভিবির অবস্থার এত দ্রুত অবনতি হয়েছিল যে এটি আর পাঁচ ঘণ্টাও টিকে থাকার অবস্থায় ছিল না। কারণ আমানতকারীরা আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে সমস্ত টাকা তুলে নিচ্ছিলেন। ফলে ব্যাংকটি মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যায়। এ ছাড়া সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার পেছনে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধিও একটি কারণ বলে মনে করেন ডেনিস এম কেলেহার। তিনি বলেন, যখন সুদের হার শূন্যের কাছাকাছি ছিল, তখন ব্যাংকগুলো কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানতে গিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ যখন সুদের হার বাড়িয়েছে, তখন সম্পদের দাম কমে গেছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোও লোকসানের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সেবদাতা প্রতিষ্ঠান মুডির প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেছেন, সুদের উচ্চহার প্রযুক্তিশিল্পে আঘাত হেনেছে। প্রযুক্তির স্টকগুলোর দাম কমে গেছে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ব্যাংকে রাখা টাকা উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ডেপুটি ট্রেজারি সেক্রেটারি ওয়ালি আদেয়েমো জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিক আছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
কমলা হ্যারিসকে বাদ দিতে বাইডেনকে অনুরোধ হলিউড তারকাদের
জন্মভূমি ডেস্ক : কমলা হ্যারিসকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হলিউডের ডেমোক্র্যাটপন্থী তারকারা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে। ফাইভ থার্টি এইট পোলিং সাইট অনুসারে, কমলার জনপ্রিয়তা কমে গিযেছে। ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার তার বিরোধিতা করেছেন এবং মাত্র ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ তাকে সমর্থন করেছেন।
বার্তা সংস্থা সিএনএন বলেছে যে, হলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক সিনেটর বারবারা বক্সারের সাথে একটি জুম কলে ভাইস-প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন। অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী হেলেন হান্ট, অভিনেতা রন লিভিংস্টন এবং বেভারলি হিলস, ৯০২১০ তারকা গ্যাব্রিয়েল কার্টেরিসের মতো তারকারাও ওই কলে ছিলেন। সিএনএন-এর মতে, তারাকারা সিনেটে কমলার পূর্বসূরি বক্সারের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট একটি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা, যা কমলা ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না। তবে শুধু হলিউডই কমলার বিরোধিতা করেনি, জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটস সিনেটর এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেনও কমলার বিরোধিতা করেছেন। এসব ঘটনায় ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদদের মধ্যে শঙ্কার ঘণ্টা বাজছে৷ কমলার সাথে হলিউডের মোহভঙ্গের ঘটনা বিনোদন শিল্প এবং পার্টির মধ্যে দীর্ঘ সম্পর্ককে বিবেচনা করে ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
হলিউড তারকারা পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমর্থনও দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, বাইডেন ২০২০ সালের প্রচারাভিযানে এক রাতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। হলিউড কমলা হ্যারিসকে স্বাগত জানিয়েছিল যখন তিনি প্রথম মহিলা এবং প্রথম আমেরিকান এবং দক্ষিণ-এশীয় আমেরিকান ভাইস-প্রেসিডেন্ট হন। যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের মহিলাদের জন্য এ অসাধারণ মুহূর্তটি দেখে চোখে পানি চলে এসেছে,’ অপরাহ উইনফ্রে সেই সময়ে টুইট করেছিলেন। সমালোচকরা বলছেন যে, মেক্সিকান সীমান্তে অভিবাসন সঙ্কট মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কমলার সমর্থকরা হতাশাগ্রস্থ হয়েছেন।
উল্রেখ্য যে, বাইডেন যদি ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবারও অংশ নেন, তখন তার বয়স হবে ৮১ বছর। সে সময় তার রানিং মেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কে হবে সেটিও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, কমলার অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা করা হয়েছে, বিশেষত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তার হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সমর্থনকে নির্দেশ করে। ডেমোক্র্যাটরা বিশ্বাস করেন যে, গর্ভপাতের বিষয়ে তার অবস্থান আগামী বছর নারী ভোটারদের সমর্থন জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্যাপিটল হিলেও কমলার শক্তিশালী মিত্র রয়েছে। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার তাকে একটি অমূল্য সম্পদ হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘কিছু কঠিন যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে তিনি খুব শক্তিশালী হতে চলেছেন।’ সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।
নিউইয়র্কে মসজিদ আবু হুরায়রা’র গ্র্যান্ড ওপেনিং ১৮ মার্চ শনিবার
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি : নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট এলমহার্স্টে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক সেন্টার অব জ্যাকসন হাইটস ইনক’র ‘মসজিদ আবু হুরায়রা’র গ্র্যান্ড ওপেনিং আগামী ১৮ মার্চ শনিবার। ৭৮-০৪ ৩১ এভিনিউ ইস্ট এলহার্স্ট, নিউইয়র্ক ১১৩৭০ ঠিকানায় প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ভবনটির গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষ্যে ঐদিন বেলা ১২টায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিস্টরা জানান, দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস। আলোচক থাকবেন কানাডার বিশিষ্ট ইসলাসিক স্কলার মোহাম্মদ আসলামউদ্দিন আল আজহারী ও নিউইয়র্কের দারুস সালাম মসজিদের খতিব মওলানা আব্দুল মুকিত। এতে সভাপতিত্ব করবেন ‘মসজিদ আবু হুরায়রা’র খতিব মোহাম্মদ ফায়েক উদ্দিন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এ রউফ, বোর্ড অব ট্রাষ্টির সদস্য এটর্নী মঈন চৌধুরী এবং জেনারেল সেক্রেটারী নবি হোসাইন অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন।
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন ও আখতার হোসেন বাদল নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমটি এখন সময়ের দাবী। এক যুগ পড়ে হলেও তিন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার মধ্য দিয়ে কমিটি গঠনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে প্রবাসের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে রোববার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক আখতার হোসেন বাদল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা মহিন উদ্দিন আহমেদ এবং সভা পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সভাপতি সালেহ আহমেদ মানিক। সভায় অন্যান্যের মধ্যে ষ্টেট বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল মুকুল, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শিপন, প্রচার সম্পাদক তাইবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় আখতার হোসেন বাদল বলেন, এক যুগ হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমটি এখন সময়ের দাবী। আমাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক রহমান। তাদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমরা তাদের সকল সিদ্ধান্ত আর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, আমরা কমিটিতে পদ পেলেও বিএনপি করি, করবো, পদ না পেলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া রাজনীতি করবো। তবে দলে যোগ্য ও ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সভায় দলীয় নেতা-কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক আখতার হোসেন বাদল-কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃত্বে দেখতে চান বলে কেন্দ্রের প্রতি দাবী জানান। সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্থ্যতা কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও ষ্টেট বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ তায়েবুর রহমানের শশুর কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার শীতারাপুরবাসী আব্দুল বারী মাস্টারের ইন্তেকালে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মদ সোহেল।
সভায় আগামী ২৬ মার্চ রোববার বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বাধীনতা দিবস ও ইফতার ও মাহফিল সফল করতে সালেহ আহমেদ মানিক-কে আহ্ববায়ক, মহিন উদ্দিন আহমেদ-কে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও দেলোয়ার হোসেন শিপন-কে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় উল্লেখ নেতা-কর্মীদের মধ্যে মোহাম্মদ টি রহমান, নাজমুল হাসান, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, কামরুল হাসান, নূর আমীন, মোহাম্মদ ইউনুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


