Home Blog Page 675

মুম্বাইয়ের দিকে যাচ্ছে ২০ হাজার কৃষকের বিক্ষোভ মিছিল

ভারতের মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার কৃষক পায়ে হেঁটে রাজধানী মুম্বাইয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করেছে। কৃষকরা দাবি করছে যে পেঁয়াজ চাষ করে তাদের বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এ বছর, সরকার অনুদান দিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করুক।

সোমবার নাসিক শহর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বুধবার সন্ধ্যায় পৌঁছেছে থানে জেলার কাসওয়া ঘাটে। ইতোমধ্যেই মিছিলটিতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাসিকে বিবিসির সহযোগী সংবাদদাতা প্রভিন ঠাকরে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, মিছিল যত মুম্বাইয়ের দিকে আগাবে, ততই বহরে কৃষকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষকদের এই মিছিলটি সংগঠিত করছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্ক্সবাদী (সিপিআইএম) দলের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভা। ২০১৮ সালেও এমনই একটি মিছিল মুম্বাইতে গিয়েছিল।

কী দাবিতে কৃষকদের মিছিল?
মিছিলে হাঁটার পথেই সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি উমেশ দেশমুখ বলছিলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবিগুলো খুব স্পষ্ট। এ বছর পেঁয়াজ চাষ করে উত্তর মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কুইন্টাল (একশো কেজি) প্রতি মাত্র সাত শ’ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের অর্ধেক। সরকার সর্বনিম্ন সংগ্রহ মূল্য দুই হাজার টাকা কুইন্টাল প্রতি নির্দিষ্ট করুক, যার মধ্যে অনুদান হিসেবে দেয়া হোক পাচ শ’ থেকে ছয় শ’ টাকা করে।’

ফসলের ক্ষতি হলে বীমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ করা, বিদ্যুতের বিল আর কৃষি ঋণ মওকুফ করাসহ আরো একগুচ্ছ দাবি নিয়ে কৃষকরা এখন যাচ্ছে মুম্বাইয়ের দিকে।

ওই মিছিলে যে শুধু পেঁয়াজ-চাষিরা যোগ দিয়েছে তা নয়। সংগঠকরা বলছেন, দুধ উৎপাদনকারী, সয়াবিন, তুলা আর ডাল-চাষিরাও যে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে, তারও সমাধান চান তারা।

পেঁয়াজ চাষ করে ক্ষতির মুখে
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ বছর কৃষকরা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাঞ্জাব থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের আলু-চাষি, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ-চাষি হোন ও ছত্তিশগড়ের সবজি-চাষি- প্রায় সব জায়গাতেই ক্ষতির পরিমাণ কমাতে তারা ক্ষেতেই ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজ-চাষি কৃষ্ণ ডোংরে তার ক্ষেতের ১৫ হাজার কেজি পেঁয়াজ পুড়িয়ে ফেলেছেন। ট্রাক্টর চালিয়ে তিন একর জমির পেঁয়াজ নষ্ট করে দিয়েছেন সেখানকারই আরেক পেঁয়াজ-চাষি রাজেন্দ্র বোঢ়গুঢ়ে।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বোঢ়গুঢ়ে বলেছিলেন, ‘তিন একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম এ মৌসুমে। পেঁয়াজ মণ্ডিতে আড়ৎদারের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার টাকা মতো খরচ হয় প্রতি একরের ফসলে। এক একরে ১৫০ কুইন্টাল তো হয়, ভালো ফলন হলে ১৭০ থেকে ১৮০ কুইন্টালও হয়। সেই হিসেব যদি করেন, তাহলে এক একরের ফসল থেকে গড়ে আমি দাম পাচ্ছি ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। যা আমার খরচের অর্ধেক। তো সেই ফসল আড়তে পৌঁছে দেয়ার জন্য আরো বাড়তি খরচ করে লোকসানের বোঝা বাড়াবো কি?’

এক সপ্তাহ আগেও তারা প্রতি কেজি পেঁয়াজের জন্য দুই/তিন টাকা করে পাচ্ছিলেন। গত সপ্তাহের শেষ দিকে অবশ্য দাম সামান্য বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবে ক্ষতির মুখে আলু-চাষিরা
মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বহু দূরে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর, যে অঞ্চলটি আলু ফলনের জন্য পরিচিত। নাসিকের পেঁয়াজ-চাষিরা যেমন অতিরিক্ত ফলনের জন্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমন সিঙ্গুর এলাকায় আবার এ বছর বিঘা প্রতি আলুর ফলন কম হয়েছে।

সেখানকার এক কৃষক প্রহ্লাদ মণ্ডলের কথায়, ‘চাষের উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেকটা বেড়ে গেছে। যে সার আমরা গত বছর কিনেছি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায়, এ বছর সেই সার কিনতে হয়েছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়। কৃষিশ্রমিকদের মজুরি ৩০০ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় পানির খরচ বেড়েছে ৫০ টাকা করে। আমার এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তার ওপরে আমার মতো এলাকার অনেকের জমিতেই ফলন প্রায় অর্ধেক হয়েছে।’

প্রহ্লাদ মণ্ডল জানান, ‘সরকার থেকে যে সহায়ক মূল্য ঘোষণা করেছে, তা হলো ৬৫০ টাকা প্রতি ১০০ কেজি। আমি ০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।’

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আলু-চাষিরাও রাস্তায় আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

আবার পাঞ্জাব বা উত্তরপ্রদেশের মতো অনেক রাজ্যে আলুর প্রচুর ফলন হয়েছে এ বছর। তাই সেখানে আলুর দাম কমে গেছে।

দারুণ ফলন এ বছর, তাই দাম মুখ থুবড়ে পড়েছে
ভারতের কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে ‘নিউজপোটলি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল চালান সাংবাদিক অরভিন্দ শুক্লা। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘গত বছর নাসিকের পেঁয়াজ-চাষিরা বিক্রি করেছেন ২০ টাকা কেজি দরে, যেটা ১০০ টাকা করে কিনে খেয়েছি আমরা। কৃষকদের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, এ বছর যে ফসলের দাম বেশি উঠল, পরের বছর তারা সেটা আরো বেশি করে চাষ করে। এ বছর ঠিক সেটাই হয়েছে। গত বছর বেশি দাম পেয়েছে দেখে এ বছর আরো বেশি করে চাষ করেছে, আর তাদের সাহায্য করেছে আবহাওয়া। তাই বেশিরভাগ জায়গায় আলু বা পেঁয়াজের ফলন অত্যধিক বেশি হয়েছে। আর মুখ থুবড়ে পড়েছে দাম।’

তিনি ইসরাইলের উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, ‘সেখানে চাহিদা অনুযায়ী চাষ করা হয়। যাতে অতিরিক্ত ফলনের কারণে দাম না কমে যায়, আবার খাদ্য ভাণ্ডারেও টান না পড়ে। আমাদের দেশে তো ওই ব্যবস্থাপনা নেই। দেশের জন্য কী পরিমাণ সবজি লাগবে, বিদেশে কতটা রফতানি হবে, সে সব তথ্য মিলিয়ে কৃষকদের নির্দেশ দেয়া যেতে পারে যে এই পরিমাণের বেশি চাষ করা যাবে না। আর সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা তো নেই-ই। নাসিকে দেখে এলাম আলুর দাম কেজি প্রতি ২৫ টাকা আর আমি উত্তরপ্রদেশের যে শহরে থাকি, সেই বারাবাঙ্কিতে আলু চার টাকা। সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা থাকলে কী এই অবস্থা হয়?’

রাজনৈতিক দল বা সরকারের মাথ্যাব্যাথা নেই
মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা বলছে, আলু বা পেঁয়াজের দাম যখন বাজারে খুব বেড়ে যায়, তখন সরকার তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে নামে, যেন সাধারণ মানুষের ওপরে চাপ বেশি না পড়ে।

কিন্তু যখন কৃষকরা অত্যধিক কম দামে সবজি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়, তখন রাজনৈতিক দল বা সরকারের মাথাব্যাথা হয় না, সেগুলো নিয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো টকশো করে না।

কৃষি বিশেষজ্ঞ দেবেন্দ্র শর্মা বিবিসিকে বলছিলেন, ‘যখন শহরাঞ্চলের মানুষদের বেশি দামে সবজি কিনতে হয়, তখন দেশের সংবাদমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়ে, সরকার চাপে পড়ে। কিন্তু যখন কৃষকদের সামান্য দামে ফসল বিক্রি করে দিতে হয়, তখন কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না।’

পেঁয়াজের দাম নিয়ে সরকার গত সপ্তাহ থেকেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তারা জাতীয় কৃষি সমবায় ন্যাফেডের মাধ্যমে পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে, যার ফলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা হলেও বেড়েছে। কিন্তু তা চাষিদের ক্ষতি এখনো পূরণ করার মতো অবস্থায় আসেনি।

সূত্র : বিবিসি

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া অনিবার্য হয়ে ওঠেন আশির দশকের শুরুতে। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপিতে বিভক্তি দেখা দেয়। দ্বিধা-বিভক্তির কুশীলবদের নাম-ধাম না বলে এভাবে বলতে পারি, সুবিধাবাদী গ্রুপ এবং আদর্শবাদী গ্রুপ। সুবিধাবাদী গ্রুপ এরশাদ সরকারে যোগদান করার জন্য বিএনপিকে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়। অপর দিকে আদর্শবাদী গ্রুপ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে আঁকড়ে থাকার উদ্যোগ নেয়। বিভক্তি এড়ানোর জন্য ১৯৮৪ সালের শেষের দিকে বেগম খালেদা জিয়াকে দলের নির্বাহী চেয়ারম্যান করা হয়। খালেদা জিয়া কোনো মতেই রাজি হচ্ছিলেন না। অনেক অনুরোধ উপরোধ করে তাকে রাজি করানো হয়। এভাবে বিচারপতি সাত্তারের পদত্যাগের পর থেকে আজ পর্যন্ত (২০২৩) কার্যত তিনিই দলটির কর্ণধার। যিনি ছিলেন নিরেট গৃহবধূ, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় দলের প্রধান হিসেবে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে তিনি তিন তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকিত করেন। বিএনপি সম্পর্কে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এবং বিরোধীদের মন্তব্য ছিল, এটি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সেনা ছাউনি’ থেকে সৃষ্ট সরকারি দল। তিনি সে বদনাম ঘুচিয়ে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিকে জনগণের দলে পরিণত করেন। এটি কোনো ভক্তের অতিশয় উক্তি নয়।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর রওনক জাহান মন্তব্য করেন, ÔShe (Khaleda Zia) succeeded in transforming the BNP from a state sponsored party to an opposition party, (Rounaq Jahan, Political Parties in Bangladesh, 2015, P-31) এভাবে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি ও কৌশল বিএনপিকে বারবার ভাঙন থেকে রক্ষা করে। যারা জিয়ার আদর্শকে পরিত্যাগ করে হিরো হতে চেয়েছেন অবশেষে তারাই জিরো হয়েছেন।

এটি একটি সাধারণ সত্য যে, বাংলাদেশে উত্তরাধিকারের রাজনীতি একটি অনিবার্য বিষয়। এই উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে নেতৃত্ব যদি হয় সুশাসনের ধারক, কল্যাণকামী ও জনগণের জীবনবোধের প্রতিভূ তাহলে জনগণ সতত আনুগত্য প্রকাশ করে। আর যদি তা হয় কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী তাহলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে যখন সবাই একটি পরিত্যক্ত দলের পুনরুত্থান আশঙ্কা করেছিল তখন জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ জনগণের সম্মতিতে আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রমাণিত হয়, ‘বাংলাদেশ জাগ্রত জনতার’। কিন্তু যারা জনগণের ভোটে কখনো নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খোঁজে। এভাবেই ঘটে ১/১১’র অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি। ‘ব্যতিক্রমী নির্বাচনের মাধ্যমে যে অভিনব সরকার’ (ইয়াহিয়া আখতার : ২০০৯) প্রতিষ্ঠিত হয়, ২০২৩ সালের এই প্রান্তে এসেও তাদেরকেই বাধ্যতামূলকভাবে ধারণ করতে হয়। উত্তরাধিকারের রাজনীতির বিপরীত ধারকরা নিশ্চিত করেই জানে যে, জনসমাদৃত প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপিত হলে তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। তাই ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন ও ২০১৮ সালের নিশীথ রাতের নির্বাচন। ২০২৪ এর জন্য অনুরূপ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে- এটা নাবালকও বোঝে। আর জিয়া পরিবার যে তাদের সামনে একমাত্র চ্যালেঞ্জ, তাও তারা বোঝে। সে কারণেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, অন্যায় কারাবাস ও দুরভিসন্ধির রাজনীতি। ক্ষমতাসীন দলের সর্বশেষ নাটক আবারও খালেদা জিয়াকে নিয়ে।

বিষয়টি সম্পর্কে বিবিসির ভাষ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় : খালেদা জিয়া বিতর্ক : আন্তর্জাতিক চাপ নাকি বিএনপির জন্য ‘ট্র্যাপ’? বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা সরকার সচেতনভাবেই করছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। তারা বলছেন, এর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপসহ নানা কারণ থাকতে পারে। অবশ্য সরকার বলছে যে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে যে বিতর্ক তার পেছনে সরকারের কোনো দুরভিসন্ধি নেই। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি রয়েছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতেই এমন বিতর্ক শুরু করতে পারে আওয়ামী ল্লীগ। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে সরকারের অন্তত চারজন মন্ত্রী নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী ল্লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। একই মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদও। তবে কিছুটা ভিন্ন মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই মিসেস জিয়ার। আর আইনমন্ত্রী বলেছেন, রাজনীতি করতে কোনো বাধা না থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বিএনপির সভানেত্রী।

সরকারের একাধিক মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, বিএনপি প্রধানের ব্যাপারে এই সময়ে এসে কেন মন্ত্রীরা এ ধরনের মন্তব্য করছেন? এটা কি বিএনপির জন্য ‘ট্র্যাপ’? এই প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা বলছেন, সরকারের ওপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, যার কারণে আওয়ামী ল্লীগ খালেদা জিয়াকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করছে। তার মতে, প্রথমত আন্তর্জাতিক মহল বারবারই বিএনপিকে নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার জন্য সরকারকে বলছে। একই সাথে, প্রধান বিরোধী দলের নেতাকে এভাবে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে একটার পর একটা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দেখানোটাও সরকারের ওপর একটা চাপ সৃষ্টি করছে।

ফারহানা মনে করেন, দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের যে দু’রকমের বক্তব্য সেটা আসলে বিএনপির জন্য একটা ‘ট্র্যাপ’ বা ফাঁদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হবে যে, তিনি সুস্থ আছেন। তাই তার আসলে বাসায় থাকার দরকার নেই। তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হোক।

রুমিন ফারহানা আরও মন্তব্য করেন, ‘এই সরকার অত্যন্ত প্রতিশোধপরায়ণ, ধূর্ত ও মিথ্যাবাদী। তাই এই সরকার কী উদ্দেশ্যে কী করে সেটা বলা মুশকিল।’ এই বিতর্কের সূচনা করেন আওয়ামী ল্লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। গত ২৬ জানুয়ারি সংসদে তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন যে, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না, এমন মুচলেকা দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে তাকে বাসায় নেয়া হয়েছে। সংসদে মি. সেলিমের এমন বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি দেয়া হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। অসুস্থ থাকার কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়েছে তাকে। শেখ সেলিমের উত্থাপিত শর্ত সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেছেন, এমন কোনো শর্ত ছিল না। মুক্তি দেয়ার সময় সম্ভবত দুটো অলিখিত শর্ত ছিল। সেগুলো হচ্ছে, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিবেন এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, ‘খালেদা জিয়া যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে তিনি রাজনীতি করবেন কিভাবে?’ আর যদি সুস্থ থাকেন তাহলে তার স্থগিত দণ্ডাদেশ আবার চালু করা হবে এবং তাকে কারাগারে গিয়ে তার মেয়াদ পূর্ণ করতে হবে। সে কারণেই বলা হচ্ছে যে, তার রাজনীতি করার সুযোগ নেই।

এখন কেন বিতর্ক? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় থাকার মেয়াদ প্রায় তিন বছর হতে চলল। এতদিন কোনো মন্তব্য না আসলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কারণে এখন তার রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য আসছে বলে মনে করছে বিএনপি। সামনে নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৎপরতা রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। বিএনপির প্রধান দাবি হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ রেখে এবং দল্লীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহল একটা চাপ তৈরি করেছেন যাতে সামনে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হয়। এটি একটি কারণ হতে পারে এই সময়ে এমন বিতর্কের জন্য। খালেদা জিয়ার দৃশ্যত মুক্তি এবং অদৃশ্য আইনি কারসাজির মাধ্যমে তাঁকে অকার্যকর করার কূটবুদ্ধি থেকে বিতর্কটি উত্থাপিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক ছাড় দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কৌশলও হতে পারে এই বিতর্কের উৎস। একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ নানা নাগরিক ভোগান্তির দিক সামনে এনে একটি আন্দোলন দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। একই সাথে তারা নির্দল্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেও অটল রয়েছে। এই অটল মনোভাবকে টলায়মান করার জন্য ক্ষমতাসীনদের ফন্দি ফিকিরের অংশ হিসেবে বিষয়টি উত্থাপিত হয়ে থাকবে।

সবকিছু ছাপিয়ে এটা স্পষ্টতর হচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবশ্যম্ভাবী ব্যক্তিত্ব, কোটি কোটি মানুষের মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজও রাজনীতির নিয়ামক। তাকে জেলে রেখে কোনো জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক চাপ তখনই কার্যকর হতে পারে যখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে। বিগত ১৫ বছরে সেই কাঙ্ক্ষিত আন্দোলন করতে জাতীয়তাবাদী দল ও ইসলামী শক্তি ব্যর্থ হয়েছে-এতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্মম শক্তি প্রয়োগের রাজনীতির বিপরীতে আন্দোলন কষ্টকর হলেও অসম্ভব ছিল না। রাজনীতি যদি হয় কৌশল ও শিল্পকলার অপরূপ সমন্বয়, তাহলে বিরোধী রাজনীতিকরা সেখানেও ব্যর্থ। এখন সূচিত আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। এ ধরনের আন্দোলন এবং শুধুমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রত্যাশিত। আর তাই যদি হয় গণতন্ত্রকামী সব শক্তিকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় বল্লীয়ান হতে হবে। প্রতিজ্ঞা হোক, ‘মুক্তি অথবা মৃত্যু’।

লেখক :ড. আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com

আ’লীগের হাত থেকে জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির লড়াই চলবে : গয়েশ্বর

ঢাকা ডেস্কঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির লড়াই-সংগ্রাম চলবে। আর এজন্য দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে মুক্ত করতে চাই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে চাই, আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে চাই। এই মুক্তি আমরা যতক্ষণ না পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আর এজন্য যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সফল হতে হলে ঐক্যবদ্ধের বিকল্প নেই।’

বুধবার (১৫ মার্চ) জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস পার্টি সেন্টারে সকাল ১১টায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জলসহ সারাদেশের ৬০ জেলার শীর্ষনেতারা।

গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশের জনগণের একটাই দাবি-নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই মুদ্রা পাচারকারী, শিশু হত্যাকারী সরকারকে এ দেশের জনগণ আর দেখতে চায় না। কিন্তু এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আশা করছি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব এবং দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, তাদের মালিকানা ফেরত দিতে পারব।’

আন্দোলনের জাসাসের অনেক ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন মানুষকে আকৃষ্ট করে। সহজেই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তাই আগামী দিনে আন্দোলনে সাংস্কৃতির বিপ্লবের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যেমন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতা আর গানের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অধিকার আদায়ের শিহরণ তুলেছিলেন।’

সভাপতির বক্তব্যে জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে জাসাসের দায়িত্ব দিয়েছেন। এরপর ঢাকাসহ সারাদেশের জাসাসের ইউনিটগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সাংগঠনিকভাবে কর্মিসভা করে যোগ্য নেতাদের খুঁজে কমিটি দিয়েছি। চেষ্টা করছি জাসাসকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে।’

জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন বলেন, ‘জাসাসকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি জেলায় গিয়ে কর্মিসভা করেছি। এ পর্যন্ত ৬০ জেলায় কমিটি দিয়েছি। যেখানে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা নিরসনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। সেইসাথে বিএনপি-ঘোষিত সব কর্মসূচিতে জাসাস সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। আগামীতে সরকারবিরোধী যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে সারিতে থাকবে জাসাস।’

বান্দরবানের ৩ উপজেলায় আবারো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

নিরাপত্তাজনিত কারণে বান্দরবানের তিন উপজেলায় আবারো পর্যটক ভ্রমণের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন।

বুধবার (১৫ মার্চ) জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বান্দরবান পার্বত্য জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটক ভ্রমন নিষিদ্ধ করা হলো। এছাড়া বান্দরবান জেলার অন্যান্য উপজেলায় পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন।

এর আগে রুমা উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উগ্রবাদবিরোধী অভিযানের কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৮ অক্টোবর থেকে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর ধারাবাহিকভাবে থানচি ও আলীকদম উপজেলাও নিষেধাজ্ঞা দেয় প্রশাসন। পরবর্তীতে সময়ে দফায় দফায় উপজেলাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে প্রশাসন।

রমজানে ব্যাংকে লেনদেন হবে ৫ ঘণ্টা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ব্যাংকের কর্মঘণ্টা ও লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন চলবে। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বুধবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন ডিপার্টমেন্টের এক সার্কুলারে এ সময়সূচি জানানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।

পবিত্র রমজান মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আগের সময়সূচি বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সার্কুলারে।

উল্লেখ্য, বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয়। আর অফিস চলে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

এ সরকারকে এবার পদত্যাগ করতেই হবে : মির্জা ফখরুল

ঢাকা ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দুর্নীতিতে নিমজ্জিত আওয়ামী লীগ এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। দেশে আর কোনো বিনাভোটের নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। পাড়া-মহল্লায়, ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ সরকারকে এবার পদত্যাগ করতেই হবে।’

বুধবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ কারাগারে থাকা সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। অথচ সংবিধান তো তারাই কেটে-ছেঁটে শেষ করেছে। অনির্বাচিত, গণবিরোধী ও দেশবিরোধী সরকার ভয় দেখাতে অতীতে র‌্যাব দিয়ে গুম করেছে, এখন ডিবি দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। জনগণের যৌক্তিক দাবিকে কখনো অস্ত্র দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না, অতীতেও যায়নি। স্বৈরশাসক হিটলার পারেননি। বিষপাণ করে মারা গেছেন তিনি। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন মাটির নিচে গুহায় লুকিয়েও বাঁচতে পারেননি। মুসোলিনি পারেননি, আইয়ুব-ইয়াহিয়া ও ভুট্টো পারেননি। এ আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ এ দেশে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে ভোট চুরি হয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে। হাজারো নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। থানায় নিয়ে পায়ে গুলি করা হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কী কোনো ভয় সৃষ্টি করাতে পেরেছে? কোনো লাভও হয়নি।’

‘আওয়ামী লীগ মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করছে,’ বলেন তিনি।

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

নিঁখোজের ২ দিন পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

নিঁখোজের দু’দিন পর গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ইসলামপুর বিল থেকে এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ মার্চ) বিকেলে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

শিশু সাখাওয়াত (৬) রংপুরের মিঠাপুকুর থানার বড় হযরতপুর গ্রামের মো: জাফর আলীর ছেলে। পরিবারসহ তারা মহানগরের ভোগড়া (পেয়ারা বাগান) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

বাসন থানার এসআই মো: নাজমুল হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ভাড়া বাসার গেটের বাইরে দোকানে সামনে খেলার কথা বলে বের হয় শিশুটি। এরপর থেকে সাখাওয়াতের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেলে পাশের ইসলামপুর বিলে জমি ভরাটের জন্য ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলার কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন একটি লাশের দু’টি পা বের হওয়া অবস্থায় দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ মাটির নিচে চাপা দেয়া লাশটি উদ্ধার করে। লাশের বাম চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, বাম হাতের কনুই ও আঙ্গুল কাটা এবং লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাংলাওয়াস করলো বাংলাদেশ

০

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ধবলধোলাইয়ের তিক্ত লজ্জা দিল বাংলাদেশ। ধবলধোলাই এড়াতে ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হতো ইংলিশদের, তবে নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানেই থেমেছে থ্রি লায়ন্সদের ইনিংস। ১৬ রানের এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো দলকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ (ধবলধোলাই) করলো বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। অভিষেক ওভারেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন তানভীর ইসলাম, গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে ফিরিয়েছেন ফিলিপ সল্টকে। তবে ইংল্যান্ড দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার ডেভিড মালান, তাকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক জশ বাটলার। দু’জনে মিলে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দলকে।

প্রথম ওভারেই প্রথম উইকেট তুলে নেয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় ১৩তম ওভারে। ততক্ষণে দলীয় রান তিন অংকে পৌঁছে দিয়েছেন বাটলার-মালান জুটি। সে ওভারেই পরপর ২ বলে ফেরেন দু’জনেই। প্রথমে মালানকে লিটনের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ, পরের বলে রান আউটের ফাঁদে পড়েন বাটলার। মালান ৪৭ বলে ৫৩ ও বাটলার ৩১ বলে করেন ৪০ রান।

শেষ ২৪ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন যখন ৪০ রান, তখন ১০ বলে ৯ রান করে তাসকিন আহমেদের শিকার হন মইন আলি। তিন বল পর তাসকিনই ভাঙেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা বেন ডাকেটের উইকেট। মূলত সেখানেই রঙ বদলায় ম্যাচের, খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে আসে টাইগারদের হাতে। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র ৪ রান দিলে শেষ ১২ বলে প্রয়োজন হয় ৩১ রান।

১৯তম ওভারে সাকিব আল হাসান মাত্র ৪ রান দিয়ে ক্রিস ওকসকে ফেরালে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৭ রান নিতে হতো ইংল্যান্ডকে। প্রথম ২ বলে ২ চার হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ রান সংগ্রহ করতে পারে থ্রি লায়ন্সরা। ফলে ১৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। টাইগাররা গড়ে তোলে ইংলিশদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশ করার কীর্তি।

মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। জমে উঠে উদ্বোধনী জুটি, দুই ওপেনার লিটন দাস ও রনি তালুকদার মিলে পাওয়ার প্লেতে যোগ করেন ৪৬ রান। অবশ্য পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে এসে ভেঙে যেতে পারতো এই জুটি, আউট হয়ে যেতে পারতেন রনি তালুকদার। তবে রেহান আহমেদ সহজ ক্যাচ মিস করায় পাওয়ার প্লে শেষেও উইকেটবিহীন থাকে বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি। জীবন পেয়েও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি রনি তালুকদার। আদিল রাশিদের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। আউট হওয়া আগে খেলেছেন ২২ বলে ২৪ রানের ইনিংস। রনির বিদায়ে ভাঙে ৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ খেলতে থাকেন আরেক ওপেনার লিটন দাস।

পুরো সিরিজ নিষ্প্রভ থাকা লিটন দাস জ্বলে উঠেন স্বরূপে। রনি তালুকদারের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দলীয় শতক পূরণ করেন তিনি, একই সাথে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের নবম অর্ধশতক। লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন নাজমুল শান্ত। সিরিজে বাংলাদেশের সেরা এই পারফর্মার এদিনও জ্বলে উঠেন ধারাবাহিকতা ধরে রেখে। ফলে ইংল্যান্ডের জন্যে ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে থাকে লিটন-শান্ত জুটি।

এই জুটি ভাঙে ১৭তম ওভার শেষে দলীয় ১৩৯ রানে। ক্যারিয়ার সেরা ৭৩ রান করে আউট হন লিটন, ১০ চার আর ১ ছক্কায় ৫৭ বলে এ রান করেন তিনি। লিটন আউট হওয়ার আগের ওভার থেকেই অবশ্য কমে আসতে থাকে রানের গতি। ১৫৮ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ইংল্যান্ডের হয়ে একটা করে উইকেট নেন ক্রিস জর্ডান ও আদিল রাশিদ।

কৃষ্ণসাগর উপকূলে মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল রুশ যুদ্ধবিমান

ইউক্রেনের উপকূলে এবার রুশ হামলার শিকার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কৃষ্ণসাগরের আকাশে মঙ্গলবার আমেরিকার একটি নজরদারি ড্রোনকে গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করেছে রুশ যুদ্ধবিমান।

কাশিত খবরে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণসাগর উপকূলে এমকিউ-৯ র‌্যাপটর গোত্রের এ ড্রোনটি নজরদারি চালানোর সময় রুশ এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান সেটির প্রপেলারে আঘাত হানে। ফলে এটিকে আন্তর্জাতিক সাগরে নামিয়ে আনতে বাধ্য হতে হয়। এতে করে ড্রোনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। রুশ বিমানবাহিনীর এই হামলাকে ‘বেপরোয়া আচরণ’ বলেছে পেন্টাগনের ইউরোপিয়ান কমান্ড। ঘটনাস্থলের অদূরেই দক্ষিণ ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ। ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা দখল করেছিল রুশ বাহিনী। গত এক দশক ধরে ওই এলাকা তাদেরই নিয়ন্ত্রণে।

তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রুশ যুদ্ধবিমান এবং মার্কিন ড্রোনের মোকাবেলার কথা অস্বীকার করে বলেছে, একটি ড্রোন অনিয়ন্ত্রিত ফ্লাইটে পানিতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার কৃষ্ণসাগরে উপকূলে পরমাণু বোমা পরীক্ষার আয়োজন করতে চলেছেন বলে কয়েক মাসে আগে অভিযোগ করেছিল ব্রিটেন। তার পর থেকেই ক্রিমিয়াসহ দক্ষিণ ইউরোপের রুশ অধিকৃত অঞ্চলজুড়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের নজরদারি বেড়েছে।

অন্য দিকে মস্কোর অভিযোগ, খেরসনের পর এ বার কৃষ্ণসাগর উপকূলের ক্রিমিয়া দখল করতে ইউক্রেন সক্রিয় হয়েছে। তাদের মদত দিচ্ছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলো।
সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন ও অন্যান্য

ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে গেলে রাশিয়া কি ভেঙে যাবে?

ইউক্রেন যুদ্ধ এমন এক জটিল সময়ে প্রবেশ করেছে যে কোনোভাবেই এই যুদ্ধ বিজয় অর্জন করা ছাড়া বন্ধের কথা ভাবতে পারছেন না পুতিন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন তিনি এটা ভাবতে পারছেন না যেখানে এই যুদ্ধ থেকে রাশিয়ার যা অর্জিত হয়েছে তার চেয়ে ক্ষতির হিসাব দৃশ্যত অনেক বড়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়া যদি এই যুদ্ধে হার মেনে নেয় তাহলে কেবল রাশিয়ান ফেডারেশনই নয় বরং রুশ জাতিই ভেঙে পড়তে পারে। তখন মস্কো এবং পশ্চিম উভয়পক্ষের ভাষ্যকাররাও ধারণা করেছিলেন যে, পুতিন নিজের কথা বলার পরিবর্তে একটি প্রচারণার অনুশীলনই আসলে করছিলেন। তারা মনে করেন না যে, ইউক্রেনে হেরে গেলেও রাশিয়া ভেঙে পড়বে এবং পুতিনও সেইভাবে চিন্তা করেন (Polit.ru, নভেম্বর ২৫, ২০২২)।

কিন্তু এখন বিষয়টি সেরকম মনে হচ্ছে না। পুতিন আসলেই বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ার এই যুদ্ধে জয় ছাড়া নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিকল্প কোনো সুযোগ নেই। আর রাশিয়ার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীও সেই ধারণার সাথে দ্বিমত পোষণ করে না। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রতি নানা ধরনের দুর্ভোগের পরও ব্যাপক জনসমর্থন সেটিরই ইঙ্গিত দেয়। লেভান্ডা, রাশিয়ান ফিল্ডের প্রকাশ করা এই জনমত জরিপে দেখা যায়, ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ অভিযান’কে সমর্থন করেন কি না মর্মে প্রশ্নের জবাবে ৮০ শতাংশ রাশিয়ান হ্যাঁ-সূচক জবাব দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি দৃঢ়তার সাথে এই সমর্থন জানিয়েছেন। অন্য দিকে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ রাশিয়ান।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, কিয়েভে আবার নতুন কোনো রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ৫৯ ভাগ জানিয়েছেন, হ্যাঁ। ২৬ শতাংশ রাশিয়ান নতুন করে হামলার বিরোধিতা করেছেন। পুতিনের শর্তে শান্তি চুক্তিতে সমর্থন জানিয়েছেন ৬৬ শতাংশ আর ২৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। (geopoliticalfutures.com/russians-attitudes-toward-the-war, ৩ মার্চ ২০২৩) জনমত জরিপের এই প্রবণতায় বয়স বা আয় নির্বিশেষে রাশিয়ানদের মধ্যে মনোভাবের বড় ধরনের কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

সাধারণভাবে দেখা যায়, শাসকদের ধরন যাই হোক না কেন অভ্যন্তরীণ জনমত যুদ্ধের মতো কোনো বিষয়ে জড়িত হওয়া বা তা বন্ধ করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাশিয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত বিধিনিষেধের পরও যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে পুতিনের প্রতি এই ব্যাপক সমর্থন রাশিয়াকে অদূরভবিষ্যতে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে নেতিবাচক কোনো শর্ত মানতে বাধ্য করবে এমনটি মনে হয় না।

একসময় প্রচারণার স্বার্থে রাশিয়া ভেঙে যাবার কথা পুতিন বলছেন বলে বিশ্বাস করার নানা কারণ ছিল। এ ধরনের ধারণার অন্যতম কারণ হলো, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তুলনায় রাশিয়া এখন অনেক বেশি জাতিগতভাবে সম-মনোভাবাপন্ন এবং এখন যেকোনো বিচ্ছিন্নতার জন্য জাতিগত রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে অ-রাশিয়ানদের পরিবর্তে রাশিয়ানদের সেট করতে হবে (Vz.ru, ১৩ জুলাই, ২০২২)। মিখাইল গর্বাচেভ শেষবার যখন দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয় তখন ক্রেমলিন রাশিয়ান ফেডারেশনের সীমানার মধ্যে অ-রুশদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেয় (Holod.media, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩)। উপরন্তু, এমনকি বেশির ভাগ রাশিয়ান বিরোধী দলও দেশটির মধ্যে যেকোনো বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে রয়েছে আর তারা সতর্ক করে দেয় যে, এই ধরনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হবে তাদের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক (Echofm.online, মার্চ ১, ২০২৩)। তদুপরি, রাশিয়ানদের মধ্যে যারা পুতিন এবং ইউক্রেনে তার যুদ্ধের বিরোধিতা করেন তাদের মধ্যেও দেশের সম্ভাব্য ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে (Business-gazeta.ru, জানুয়ারি ৩, ২০২৩)। প্রকৃতপক্ষে, তাদের মধ্যে অনেকেই এবং অন্যরাও দীর্ঘদিন ধরে পুতিনকে সমর্থন করেছেন কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে, তিনি চেচনিয়ায় তার নৃশংস যুদ্ধের মাধ্যমে দেশের সম্ভাব্য ভাঙনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন (Graniru.org, এপ্রিল ১৫, ২০২২)।

এভাবে পুতিনের কাছে যথেষ্ট কারণ রয়েছে, রাশিয়া এবং রুশ জাতির বিচ্ছিন্নতার আভাসকে উত্থাপন করার ক্ষেত্রে এটিকে প্রচারের একটি হাতিয়ার হিসাবে নেয়ার যাতে তিনি নিজের প্রতি এবং তার নীতিগুলোর প্রতি জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারেন। বিশেষত যখন এ জাতীয় ধারণাগুলোকে পশ্চিমা নীতির লক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপন করা হয় তখন তিনি এই কৌশল নিতে পারেন বলে মনে করা হয়। আর বাস্তবেও এটি নিশ্চিত যে, রুশ নেতা তার মন্তব্য করার সময় এসব বিবেচনা করেছিলেন।

তবে একই সময়ে, রাশিয়ান ভাষ্যকার আলেক্সান্ডার স্কোবভের মতে, বাস্তবতা হলো, পুতিন পূর্ববর্তী রাশিয়ান শাসকদের থেকেও বেশিভাবে আশঙ্কা করেন যে, ইউক্রেনে হার বা সেখান থেকে দূরে সরে আসা হবে ‘একটি অতল গহবর’ যা তার শাসনকে ছাপিয়ে যাবে এবং সাম্রাজ্যিক কাঠামো হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে পড়তে পারে এতে।

স্কোবভের বিশ্লেষণে বলা হয় যে, অন্যান্য সাম্রাজ্যের মতো, রাশিয়ান সাম্রাজ্য সর্বদা বিভিন্ন অঞ্চল এবং জনগণের সংমিশ্রণ ছিল। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এটিকে একত্রিত রাখা হয়েছে। একটি ‘উল্লম্ব’ প্রশাসনের অধীনস্থ করার জন্য, এর শাসক শ্রেণী সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আনুভূমিক সম্পর্কের স্বাভাবিক উত্থানে (Kasparov.ru, মার্চ ৬)। তবে একই সাথে রাশিয়ান জাতিকে অন্য সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বোধ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাশিয়ান রাষ্ট্রের এই সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র এবং সামাজিক সম্পর্কের পুরো ব্যবস্থায় প্রসারিত কর্তৃত্ববাদী ঐতিহ্যের জৈব সংযোগ সুস্পষ্ট এবং এটি রাশিয়ান ব্যবস্থাকে ‘পশ্চিমাবাদ বিরোধী’ হিসাবে তৈরি করতে সহায়তা করে। পুতিনের মস্তিষ্ক হিসাবে খ্যাত আলেক্সান্ডার ডুগিন এটিকে একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি দিয়েছেন তার ইউরেশিয়া মতবাদের ধারণায়। এখন রাশিয়ার তাত্ত্বিকরা ও নেতৃত্ব দু’পক্ষই মনে করে, রুশ রাষ্ট্র ও জাতি উভয়ের জন্য পশ্চিম হুমকিস্বরূপ।

এর ফলস্বরূপ, রাশিয়া অনায়াসে ‘অবরোধিত দুর্গ’ হওয়ার অবস্থা থেকে ‘একটি ক্রুসেড’-এর দিকে চলে যায় যাকে ‘পাপী ও মন্দ পশ্চিম’কে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি নীড় হিসাবে দেখা হয় (কধংঢ়ধৎড়া.ৎঁ, মার্চ ৬, ২০২৩)। আর এইভাবে, রাশিয়ান অভিজাতরা স্বাভাবিকভাবেই একটি দুষ্ট বৃত্ত তৈরি করে সেই বিপদের মোকাবিলা করতে চায়, যেখানে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় কর্তৃত্ববাদ এবং পাশ্চাত্য-বিরোধিতা উভয়কেই শক্তিশালী করে। আর সেই ধরনটার অর্থ হলো : ‘একটি রাশিয়ান সাম্রাজ্য উদার হতে পারে না এবং এটি পশ্চিমা সভ্যতার বা সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে না।’ রাশিয়া ও রুশ জাতির ভেঙে পড়া সম্পর্কে পুতিনের ভয় এইভাবে পশ্চিমের প্রতি তার ঘৃণার অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।

এর ফলে, পুতিন এই আশঙ্কাও করছেন যে, একটি কর্তৃত্ববাদী শক্তির সমর্থন ছাড়া তার রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যিক পরিচয় সহজেই আঞ্চলিক পরিচয়ে বিভক্ত হবে। আর তারপর ‘অভিশপ্ত পশ্চিম’ অংশে অংশে রাশিয়াকে নিজের মধ্যে শুষে নেবে’ (Kasparov.ru, মার্চ ৬, ২০২৩)। রাশিয়ার ভেঙে যাওয়ার ভয়ের যে কথা পুতিন বলেছিলেন তা জনগণকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলা কোনো কিছু নয়। আসলে এটি পুতিনের নিজের মধ্যকার একটি প্রকৃত এবং গভীর উদ্বেগ। আর এখানে একটি সভ্যতা হিসাবে পশ্চিমের প্রতি তার ঘৃণা সৃষ্টি করে যে পশ্চিমারা রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরের অধিকার প্রত্যাখ্যান করে।

পুতিনের পশ্চিমের প্রতি শত্রুতা এবং গভীরভাবে আন্তঃসম্পর্কিত বিচ্ছিন্নতার ভয় স্কোবভ একা দেখেননি। তাতারস্তানের বিজনেস অনলাইন পোর্টালের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভ্লাদিমির মারচেনকো বলেছেন যে, এই বিষয়টি যেভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে সে সম্পর্কে পুতিনের উপলব্ধি ইভান ইলিনের প্রভাব থেকে এসেছে, যিনি ক্রেমলিন প্রধানের প্রিয় দার্শনিক হিসাবে চিহ্নিত। কাজান বিশ্লেষকের মতে, পুতিন ইলিনের প্রশংসা করার আসল কারণ, ফ্যাসিবাদের প্রতি ইলিনের প্রতিশ্রুতি নয়। বরং, এটি রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে তাদের ভাগ করা আবেশ এবং এটি প্রতিরোধ করার জন্য যা কিছু করা দরকার তা করার জন্য তাদের সাধারণ প্রতিশ্রুতি (Kasparov.ru, অক্টোবর ২, ২০২২)। স্কোবভের মতো মার্চেঙ্কোর জন্য পুতিনের কর্তৃত্ববাদ, তাই প্রাথমিক নয় বরং এই ভয়ের প্রতিফলন, যা উভয়কে অন্য রাশিয়ান চিন্তাবিদদের থেকে আলাদা করে যারা ফ্যাসিবাদের সাথে ফ্লার্ট করেছে। উপরন্তু, এতে এই ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়, কেন পুতিন রাশিয়ায় বিভক্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এমনকি ভেঙে পড়া রোধ করার জন্য শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করছেন না।

আরেক রাশিয়ান বিশ্লেষক ভ্লাদিমির পাস্তুখভ পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, এমনটি ইতিহাসে এর আগে কখনো হয়নি। সারা বিশ্বে এবং সেই সাথে রাশিয়াতেও এত বেশি মানুষ এই সম্ভাবনার প্রতি মনোযোগী হয়েছে যে, রাশিয়া ভেঙে যেতে পারে। এর আগের বছরগুলোর তুলনায় এটি তীব্রভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯১৭ সালে রাশিয়ান সাম্রাজ্যের এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন যখন হয় তখন খুব কমই আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল (Polit.ru, 3 Ryb, ৩ জুন, ২০২২)। এখন রাশিয়ার অস্তিত্বের ভয় পুতিনের নীতিগুলোকে চালিত করছে। এ কারণে বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে পুতিনের কথাগুলোকে অনেক বেশি গুরুত্বসহকারে নেয়া উচিত বলে মনে হয়।

একসময় কিছু পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, যুদ্ধের পরিণতিতে এক বা দুই বছরের মধ্যে রাশিয়ার পতন হবে। রাশিয়া এবং ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ বলেছেন যে, সংস্কারমূলক শক্তির উদ্ভবের সাথে ইতিবাচক পরিবর্তনের সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও, রাশিয়ান ফেডারেশনের অনেকগুলো নতুন রাজ্যে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যরা রাশিয়ার যেকোনো আসন্ন শাসনের পতন সম্পর্কে কম আত্মবিশ্বাসী। রাশিয়া এবং ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো ড. জোয়ানা সজোস্টেক বলেছেন, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ দমনে পারদর্শী এবং দমন-পীড়নের ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, গণবিক্ষোভ সাধারণভাবে শুধুমাত্র অভিজাত শ্রেণীর মধ্যেও বিভাজন থাকলেই একটি আবদ্ধ কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্য একটি প্রকৃত হুমকি সৃষ্টি করে। ((Chathamhouse.org/2023/02/seven-ways-russias-war-ukraine-has-changed-world, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩)।

রাশিয়ার জনমতের যে উল্লেখ লেখার শুরুতে রয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, জাতিগতভাবে দেশটির ভেঙে পড়ার জোরালো আশঙ্কা নেতৃত্ব ও জনগণ উভয় পর্যায়েই রয়েছে। চ্যাথাম হাউজের প্রতিবেদনে দেখা যায়, পশ্চিমের মধ্যে তেমন আকাঙ্ক্ষা যে রয়েছে তা নানা সময় প্রকাশও পেয়েছে। ফলে পুতিন সহজেই যুদ্ধ বন্ধ করবেন এমনটি প্রত্যাশা করা যায় না। প্রশ্ন হলো, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের দুই বিবদমান শক্তি ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের অবসান ঘটানোর ব্যাপারে বেইজিংয়ের সাফল্য দেশটির নেতা শি জিনপিংকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে উৎসাহিত করতে পারে। তেমন ইঙ্গিত এর মধ্যে তিনি দিয়েছেন।

এ কথা ঠিক যে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ থেকে স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে লাভবান রাষ্ট্রটির নাম চীন। কিন্তু এই লাভ মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিও নিয়ে আসতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার বিপর্যয় এড়ানোর জন্য মস্কোর জন্য চীনা সামরিক সহায়তা প্রয়োজন অনেক বেশিভাবে অনুভব করছে ক্রেমলিন। আর এই সামরিক সহায়তার অর্থ দাঁড়াবে, চীনের পশ্চিমের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া। রুশ নিষেধাজ্ঞার মতো এই ধরনের নিষেধাজ্ঞায় চীনের পাশাপাশি পশ্চিমের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়বে। কিন্তু এর পরও ভিন্ন কোন রাস্তা থাকবে না আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য। বেইজিংয়ের জন্য বড় বিপদ হবে, এতে তার উত্থান পরিকল্পনায় বড় আকারের ব্যত্যয় সৃষ্টি হবে, যেটি কোনোভাবে সময় আসার আগে কামনা করবে না চীন। এ কারণে বেইজিং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

প্রশ্ন হলো, কোন শর্তে এই যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হতে পারে? বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনো পক্ষের এককভাবে শর্ত পূরণের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এই সময়ে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হতে হলে তা হবে দু’পক্ষের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান নেয়ার মধ্য দিয়ে। সেটি কি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ চীন এবং রাশিয়া-ইউক্রেনকে সম্মত হতে হবে যার মধ্যে ইউক্রেনের ভূমি ছেড়ে দেয়া, দেশটির ন্যাটোভুক্ত না হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও স্থান পেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সহজ কোনো সমীকরণ কোনো পক্ষের সামনে দৃশ্যমান নেই।

মাসুম খলিলী, লেখক ও গবেষক

mrkmmb@gmail.com