Home Blog Page 686

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদন্ডে অবাধ- সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র : পিটার হাস

ঢাকা ডেস্ক :  বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আগামীতেও শীর্ষে থাকতে চায় বলে মন্তব্য জানিয়েছেন ঢাকায় কর্মরত রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তবে তিনি বলেছেন সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যাত্রাপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আসন্ন সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে পছন্দের কেউ নেই। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন দেখতে চায় যে আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী এখানে (বাংলাদেশ) একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে তাদের নিজেদের সরকার তারাই নির্বাচন করুক, এটাই যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া। গতকাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

‘বাংলাদেশ কোন পথে’ শীর্ষক নিবন্ধে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস লিছেছেন, গণতন্ত্রকে সমর্থন করা এবং ব্যক্তি অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পথ চলা আরো নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়তে সাহায্য করে। তিনি মনে করছেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সরকার, মিডিয়া থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ থেকে রাজনৈতিক দল, প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে। তাদের কেউ যদি নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় বা তাদের কেউ যদি অন্যকে তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এছাড়াও বিক্ষোভকারী, রাজনৈতিক দলগুলো, সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ প্রত্যেকের আইনের শাসনকে সম্মান করা এবং সহিংসতা, হয়রানি এবং ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার মাত্র ৫১ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভ‚য়সী প্রশংসা করে পিটার হাস বলেছেন, আমি অবাক হই যে মাত্র ৫১ বছরে বাংলাদেশ কতোটা এগিয়েছে! আমি এমন এক বাংলাদেশকে দেখি যারা শুধু স্বাধীনতা আর গর্বকে সম্বল করে যাত্রা শুরু করেও আজ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আমি কল্পনা করতে পারি, আগামী ৫১ বছরে বাংলাদেশ আরো কতদূর এগুবে। আগামী কয়েক দশকে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক উন্নত দেশ হয়ে ওঠার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবই বাংলাদেশের আছে। তবে, সামনের রাস্তায় বাংলাদেশের জন্য বহু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে দূত বলেছেন, এই প্রতিবন্ধকতাগুলো পার হয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পরিচর্যা, সুশাসনের উন্নতি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে শিক্ষিত করে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে।

পিটার হাস বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের পক্ষে অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব, যদি বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য যতটা সম্ভব আমন্ত্রণমূলক ব্যাবসায়িক পরিবেশ তৈরি করে। আরো অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে যদি বাংলাদেশে নিম্নলিখিত সংস্কারগুলো ঘটে : দক্ষ কর্মিবাহিনী গড়ে তোলার আরো ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া; এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা, যা ব্যবসায়-সহায়ক; দুর্নীতির কারণে গোপন খরচ (লুকানো কর!) ও অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিকতা দূর করা; সব ধরনের মেধা সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া এবং আরো অবাধে মুদ্রা রূপান্তরের অনুমতি দেওয়া।

এই ধরনের এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্কার বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন : এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের (ইউএমপিএল) ৫৮৪ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্রকল্প পরিদর্শন করতে গিয়ে পিটার হাস বলেন, আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগে নম্বর ওয়ান আগামিতেওবিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী রেগুলেটরি বডিগুলোকে আরো আপডেট করতে হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রসঙ্গে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত বলেন, আধুনিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশেরউন্নয়নেভুমিকারাখবে

তুলনামূলকভাবে জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কম করবে। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি খরচ কম হবে।এর আগে পিটার হাস হেলিকপ্টারে করে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে গিয়ে পৌঁছান। চৌধুরী নাফিজ সরাফাত তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জিই গ্যাস পাওয়ারের সাইট ম্যানেজার কালুম ডেভিড কর্নফোর্থ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থার বর্ণনা দেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগামীতেও শীর্ষে থাকতে চায় আমেরিকানরা। দূতাবাসের অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রধান জোসেফ গিবলিন, ইউএমপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, ইউএমপিএলের চেয়ারম্যান মো. ন‚র আলী, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিন মোল্লা এবং জিই (জেনারেল ইলেকট্রিক) গ্যাস পাওয়ারের দক্ষিণ এশিয়ার সিইও দীপেশ নন্দা এ সফরে পিটার হাসের সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট গ্যাস-ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের জন্য স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স লিমিটেড, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং জিই-এর কনসোর্টিয়াম ২০১৮ সালের ২৫ জুন এ প্রকল্পের ঠিকাদার বা ইপিসি নিযুক্ত করে জিইকে। পরবর্তী পর্যায়ে নেব্রাস পাওয়ার কিউ.পি.এস.সির প্রতিষ্ঠান ২৪ শতাংশ ইক্যুইটি অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রকল্পে যুক্ত হয়। প্রকল্প উদ্যোক্তাদের ২৫ শতাংশ ইক্যুইটি বিনিয়োগ রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের বাকি ৭৫ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (সুইস), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট দিয়েছে। প্রকল্পের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে আন্তর্জাতিক উচ্চ মান বজায় রাখছে।

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক

নিউইয়র্কে ন্যান্সির কণ্ঠে তালমিলিয়ে হাজারকণ্ঠে উদযাপিত হতে যাচ্ছে ১৪৩০ বাংলা বর্ষবরণ

নিউইয়র্ক ডেস্কঃ নিউইয়র্কে বৈশাখ উদযাপনের থিম সং গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। দর্পণ কবীরের লেখা গানটি সুর ও সঙ্গীত আয়োজন করেছেন জে. কে. মজলিশ। রূপসী বাংলা এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রযোজনায় ঢাকার ফোকাস ষ্টুডিওতে গানটি রেকর্ড হয় ১৫ মার্চ সন্ধ্যায়। এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের আয়োজনে নিউইয়র্কে শতকণ্ঠে ১৪৩০ বাংলা বর্ষবরণ, শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ও ১৫ এপ্রিল। থিম সং এর পরিকল্পনা করেছেন বিশ্বজিত সাহা ও তোফাজ্জল লিটন। রেকর্ডিং অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিত সাহা, কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি, আবৃত্তি শিল্পী মেহেদী হাসান এবং রূপসী বাংলা এন্টারটেইনমেন্টের নির্বাহী সম্পাদক মুবিন খান।

কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি গান রেকর্ডিং শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে বিশ্বের বাণিজ্যিক রাজধানী নিউইয়র্কে বৈশাখের বিশাল এ আয়োজন উপলক্ষে একটি মৌলিক গান নির্মিত হয়েছে। আমার মনে হয় দেশের বাইরে যারা থাকেন তাঁরা দেশকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসেন। তাদের সংস্কৃতি কার্যক্রমও নিখাদ। গান গাওয়ার মাধ্যমে এই আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি আপ্লুত।
আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর সভাপতি বিশ্বজিত সাহা রেকর্ডিং অনুষ্ঠানে বলেন, নিউ ইয়র্কের সক্রিয় প্রগতিশীল সামাজিক সংস্কৃতিক সাহিত্যিক সংগঠনের সহযোগিতায় রমনার বটমূলের আদলে শতকন্ঠে বর্ষবরণ, বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করছে। বাঙালিরা যেখানে যায় সেখানে লাল সবুজের পতাকা গৌরবের সাথে উড়ায়, তাঁদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালন ও ধারণ করে।
রূপসী বাংলা এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রযোজনায় এই গানটি তৈরি হয়েছে। মিউজিক ভিডিওসহ অচিরেই তা প্রচারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশনে। গানটির প্রযোজক শাহ্ জে. চৌধুরী বলেন, গানের কথাগুলো দেখেই আমার খুব ভালো লেগেছে। ভালো শিল্পী ও সুরকার দিয়ে বৈশাখের প্রাণবন্ত একটি গান উপহার দিতে চেয়েছি সারা বিশ্বের বাঙ্গালীদের।

সুর ও সঙ্গীত আয়োজক জে. কে. মজলিশ রেকর্ডিং অনুষ্ঠানে বলেন, দেশীয় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে গানটির সঙ্গীতায়োজন করা হয়েছে। বৈশাখী আয়োজনের সকল উপাদান উপস্থিত আছে এ গানে। গানের কাব্যময়তার কারণে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী। বৈশাখের এ নতুন গানটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাবে এই প্রত্যাশা করি ।

থিম সং রেকর্ড ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণের এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর সমন্বয়ক সুদীপ কুমার দীপ জানান, কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সির সঙ্গে কোরাস শিল্পী হিসেবে ছিলেন প্রমা, টুটুল, জে.কে ও অথৈ। ঢোল ও তবলায় ছিলেন মিলন। বাঁশি বাজিয়েছেন ফিরোজ। হারমোনিয়াম, একতারা, খমক এবং খঞ্জনির দায়িত্বে ছিলেন জে. কে. মজলিশ। রেকর্ডিস্ট সেলিম এস. রেজা। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করছেন তৌহিদ হোসেন চৌধুরী । ক্যামেরার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল আজিজ।

গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি অনুষ্ঠানে অঙ্গীকার দু’তিন মাসের মধ্যেই হরিমন্দির সংগঠনের নামে হস্তান্তর করা হবেঃ সমীর সরকার

জন্মভূমি প্রতিবেদক : নিউ ইয়র্কের কুইন্সের রীচসুন্ডইলে হরিমন্দির বাংলাদেশী প্রবাসী মতুয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব মন্দির। নিউ ইয়র্কের অন্যান্য মন্দির থেকে এই মন্দিরে একটি সাতন্ত্র্যবোধ আছে। এক সময়ের বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া নিম্নবর্ণের মানুষের আত্মসামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির মুক্তির লক্ষ্যে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের আধ্যাত্মিক শক্তি ও বাস্তবতায় নমানূন সম্প্রদায় ঘুরে দাঁড়ায়। গুরুচাঁদ ঠাকুরের বিশেষ লক্ষ ছিলো শিক্ষার আলোকে সমাজকে আলোকিত করা। সেই আদর্শের স্কুল-কলেজ সহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের সুশিক্ষিত করে তোলে। সারা ভারতীয় উপ-মহাদেশে ও পৃথিবী জুরে আজকের শিক্ষিত মতুয়া সম্প্রদায় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার সংকল্পে অবিচল আছে।
গত ১১ই মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় হরিমন্দিরে শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি পালন করে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশনের নেতৃবৃন্দ। এদিনের গুরুত্ব অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে। পূজা-অর্চ্চনা মহা ভোগ, আলোচনা সভা, দ্বাদশ আজ্ঞাপাঠসহ ভক্তিভরে ঠাকুরের জন্মজয়ন্তিতে ভক্তরা অংশ নেয়।

এ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ ঠাকুরের জীবনদর্শন, মতুয়া সম্প্রদায়কে শিক্ষার আলো দিয়ে আলোকিত করার অলৌকিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানায়।

আলোচনায় জন্মজয়ন্তি পালনের সেবক ডা. সমীর সরকার ভক্তকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন। আলোচনায় শাশ্ত্রী ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি প্রসঙ্গ ছাড়াও হরিমন্দিরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
উল্লেখ্য ২০১৫ সালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় সকল ভক্তদের অনুষ্ঠানের অর্থে। ব্যাংকের লোন নিতে গিয়ে ডা. সমীর সরকারের সাহায্য নিতে হয়। অর্থাৎ মন্দিরের লোনটি হয় ভক্ত ডা. সমীর সরকারের নামে। যদিও এই সময় হরিচাঁদ গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশনের সাথে একটি চুক্তিপত্রও স্বাক্ষর হয়। এর অর্থ যথা সময়ে ডা. সমীর সরকার মন্দিরকে মতুয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব গঠনের নামে ফিরিয়ে দিতে হবে।

মন্দির প্রতিষ্ঠার ক’বছর পরই পরস্পরের মাঝে আত্মকলহ ও দূরত্ব বাড়তে থাকে। টানা পাঁচ-ছয় বছর যাবত মন্দির নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ সংঘাত মনমালিন্য-বাকবিতন্দা, সোসাল মিডিয়ার কাদা ছোড়াছুড়ি সহ নেতৃবৃন্দের সম্পর্ক তলানিতে যায়। এসব নিয়ে মামলা কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য মন্দিরে প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ডা. প্রভাত দাস ও ডা. নিহার সরকার. ডা. সমীর সরকার, সুশীল সাহা গবিন্ধ বিশ্বাস, অনুকুল অধিকারী তারা মিলে একটি লোন নিয়ে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের নামে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এর আগে সংগঠনের পদ-পদবী ও কমিটি নিয়ে বিস্তর ঠেলাঠেলি হয়। এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়। কেউ কেউ মন্দিরে আসা থেকে বিরত থাকেন। বিষয়টি বাংলাদেশী প্রবাসী হিন্দুদের কাছে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন্দিরের ভক্ত যার নামে মন্দিরের লোন সেই ডা. সমীর সরকারকে নিয়ে প্রতিপক্ষে বিরূপ মনোবৃত্তি মতুয়াদের মাঝে প্রতিক্রিয়া হয়।
এই অবস্থায় গত বছর দুর্গা পূজা দু’পক্ষের গোঁজামিলে হলেও আত্মকলহের আগুন জ্বলতে থাকে। অধিকাংশ ভক্ত বিশ্বাস করতে পারে নাই ডা. সমীর সরকার মন্দির মতুয়াদের নামে ফিরিয়ে দিবেন? এমন সন্দেহ থেকেই পরিবেশ আরো গাঢ় হয়।
ব্যক্তিগতভাবে ডা. সমীর সরকার কোন দিনই মন্দির ফিরিয়ে দেবেন না এমনটি বলেননি বরং তিনি প্রায়ই মন্দিরের জটিলতা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তবে কালক্ষেপণ হয়েছে অনেক ফলে দ্বন্দ ও সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে অনেক।
এর আগে ডা. সমীর সরকার সাপ্তাহিক জন্মভূমিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অবিলম্বে হরিমন্দির আমার নাম থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ সংগঠনের নামে ফেরত দেবেন।
একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ডা. সমীর সরকার মন্দির মতুয়াদের নামে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করলেও অন্যেরা বিশ্বাস করতে পারছে না। সম্ভবত: পরস্পরের মাঝে বিশ্বাস হীনতার জটিলতার অন্যতম কারণ।
সুসংবাদ অতি সম্প্রতি এই জটিলতা নিরসনে একটি প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। এক সভায় ডা. প্রভাত দাস, ডা. সমীর সরকার ও অনুকুল অধিকারী সহ তিন জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মন্দিরে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা পরিচালনা ও যতদ্রুত সম্ভব ব্যাংকের লোন নিয়ে ডা. সমীর সরকারের নাম থেকে মন্দিরের নামে হস্তান্তর করা।
জন্মজয়ন্তির আলোচনা সভায় ডা. সমীর সরকার নিজে মন্দিরের জটিলতা নিয়ে ভক্তদের মনোভাব জানতে চায়। এ কারণেই এদিনের আলোচনায় প্রায় সকল বক্তার কাছ থেকেই সংগঠনের জটিলতার প্রসঙ্গ উঠে আছে। তারা সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যার সমাধান করে আবার সবাই মিলেমিশে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে গুরুত্বারোপ করেন। অনেকেই সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা, ব্যাংকের লোন, পরস্পরের মাঝে আগের মতো সুন্দর সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলেন।

এই সভায় ডা. সমীর সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সুশীল সিন্হা, নিহার সরকার, অনুকুল অধিকারী, শ্যাম বৈদ্য, সমীর মন্ডল, এরিক গায়েন, অরবিন্দ বিশ্বাস, অসীম সরকার, পারিজাত দাস, মতিলাল দেব, কমলেল ঢালি, ষিখা সিন্হা, কৃষ্ণা সরকার, কলেন বিশ্বাস, শ্রীমতি অধিকারী ও রতন তালুকদার প্রমুখ।
আগামী ১৯শে মার্চ হরিমন্দিরে বার্ষিক বারুণী অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বারুণী অনুষ্ঠানে দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবক সসীম সরকার।
সভায় শেষ বক্তা ও অনুষ্ঠানের সেবক ডা. সমীর সরকার দৃঢ়তার সাথে বলেন, সকলের বক্তব্য শুনে আমি নিজেও অনুভব করি সমস্যার অতি সমাধান প্রয়োজন, তিনি বলেন, আশা করছি আগামী দু’তিন মাসের মাঝেই আমরা লোন নিয়ে মন্দির সংগঠনের হাতে হস্তান্তর করতে পারবো।

নিউ ইয়র্কে ইসকনের গৌরপূর্ণিমা উৎসব পালিত

জন্মভূমি প্রতিবেদক : নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটের ওমশক্তি মন্দিরে গত ১১ই মার্চ শনিবার দিনব্যাপী গৌর পূর্ণিমা পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলো থার্কন নিউ ইয়র্ক। অনুষ্ঠান সূচীতে ছিলো অভিষেক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভজন কীর্তন, পূজা-অর্চ্চনা, ভগবত কথা, কৃষ্ণ নৃত্য ও আরতি।
এদিকের অনুষ্ঠানে ওমশক্তি মন্দিরে ভেতর তিল পরিমাণ জায়গা ছিলো না। বিপুল ভক্তের পদচারণায় অনুষ্ঠান স্থল উপছে পড়ে। নিউইয়র্ক ইসকনের সম্ভাব্য দল ও নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তারা দক্ষতার সাথে এই অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটায়।

Screenshot 8 3

হরে কৃষ্ণ নামহাট্টা সোসাইটির এই অনুষ্ঠানে ইসকনের এইছএইছ চন্দ্রশেখর মহারাজ, এইছ জি হংলশরুপা প্রভূ, প্রাণ গবিন্দ প্রভ’, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূকে নিয়ে তার বক্তব্য প্রধান করেন।
অনুষ্ঠানে আগত ভক্তদের কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জানায়, অনুষ্ঠানে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। অভিষেক ও সংকীর্তনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

প্রায় পঞ্চাশ বছরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটি প্রসঙ্গেঃ ডা. ফায়জুল কবীর

জন্মভূমি প্রতিবেদক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে প্রায় পঞ্চাশ বছর। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে এর সূত্রপাত। স্বাধীন বাংলাদেশের হাতে গোনা ক’জন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, দার্শনিক প্রথম এদেশে আসলে বাংলাদেশী কমিউনিটি সময় ও বাস্তবতার তাগিদে গড়ে। এসব পেশাজীবী প্রবাসীর পাশাপাশি অবৈধভাবে আসা অপেশাদার শ্রমিকও এদেশে আসলে এই নিউইয়র্ক নগরীই হয়ে উঠে তাদের আবাস স্থল।
প্রবীণ প্রবাসীদের মাঝে ডা. ফায়জুল কবীর একজন। তরুন একজন ডাক্তার হিসেবে তিনি এদেশে আসেন। নিজকে প্রতিষ্ঠিত করতে একজন সফল দন্তচিকিৎসক হিসেবে এই নিউ ইয়র্কের কুইন্স-এর অফিসে থেকেই নিজের পেশার পাশাপাশি কমিউনিটি গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
তরুণ বয়সে ডা. ফায়জুল কবীরের মতো আরো অনেকে প্রবাসী হলেও দেশমাতৃকার মায়া মমতা ও আবেগের ব্যাকুলতার তাগিদেই একটি বাংলাদেশ কমিউনিটির স্বপ্ন দেখে।

দন্ত চিকিৎসক ডা. ফায়জুল কবীর সম্প্রতি সাপ্তাহিক জন্মভূমির এই প্রতিনিধির সাথে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আজ কমিউনিটিও হয়েছে, আমাদের নতুন প্রজন্মের আমেরিকান বাংলাদেশীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করছে। এসব দেখতে মন ভরে যায়। কিন্তু ব্যর্থতার দিক হল নতুন প্রজন্মকে আমরা ‘বাঙ্গালীর ভাষা, কৃষি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করতে পারি নাই।’

তিনি বলেন প্রায় পঞ্চাশ বছরেই এই কমিউনিটিও দিকপ্রান্ত, প্রভৃত লক্ষ্যবস্তুতে আমরা এখন পৌঁছতে পারি নাই।
ডা. ফায়জুল কবীর বলেন, আজ তেকে অনেক বছর আগে আমরা যখন এদেশে এসে বসতি স্থাপন করি ঠিক এই সময়ের মাঝে ইউরোপ, এশিয়া বা আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে আসা আভিবাসীরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশী অগ্রগামি। তিনি বলেন, এদেশের রাজনীতিতে আমাদের তেমন ভূমিকা নেই। অর্থনীতিতেও নড়বরে অবস্থা এবং সামাজিক অবস্থানেও আমরা অনেকাংশে ঘরমুখী। পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটি আশাতীত এগিয়েছে।

ডা. ফায়জুল কবীর বলেন, এক সময় আমরা অফিসেও দেশপ্রেমেই একটি বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ার লক্ষ্যেই আশির দশক থেকেই কাজ করি। প্রথমত: লক্ষ্য ছিলো, একুশে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ পালনের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশীয় সংস্কৃতি ও ভাষাকে ধরে রাখা। তখন অনেক প্রতিকূলতার মাঝে আমরা শুরু করি। আমাদের সময়ের অনেকেই আজ নেই। আবার কেউ কেউ উৎসাহ হারিয়ে ঘরে বসে আছে।

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এমন সব ঘটনা ঘটে তা খুবই বিচিত্র। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের পালাবদল বা পরিবর্দ্ধন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলেও আজকের বাংলাদেশী কমিউনিটি সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলা যাবে না। তবু আমি আশাবাদী ও তাতেই কমিউনিটি একদিন সঠিক রাস্তা পাবে, আমাদের নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসবে। উল্লেখ্য ডা. ফায়জুল কবীর এখন কমিউনিটির কর্মকান্ড থেকে অনেক দূরে আছেন।
ডা. ফায়জুল কবীর অনুতাপের সাথে বলেন, আমরা যখন এই কমিউনিটি গড়ার সাথে এগিয়ে যাই তখন ভাবতাম বাংলা সংস্কৃতি, আমাদের জীবনধারা, খাদ্য-মসলা এসব এদেশেমের মানুষের কাছে পরিচিত করবো নিজস্ব ধারা গড়ে উঠবে।

কবিতা / ফজলুল কাদির পান্না

শুধু আমি জানলাম না
ফজলুল কাদির পান্না

সবাই জানলো,
শুধু আমি জানলাম না।
এতো আয়োজন, এতো বোঝাপড়া
রাজপথ থেকে সরুগলি, বয়ে যায় বহুদূর।
ছিন্তাই হলো প্রিয় ইতিহাস
ছিন্তাই হলো দিবালোকে-
স্বাধীন, দুরন্ত, জীবন্ত রেসকোর্স।

অশ্বরাজ, ক্ষুরধারা ধুলায় ধূসরিত
আহা কি মায়াময় প্রান্তর!
দখলে নিয়েছে ওরা বনস্পতি সুকৌশলে।

একদিন পড়ন্ত বিকেলে ঠিক এখানে
সম্মোহনের বিলাপ ছিলো বজ্রকন্ঠে,
লক্ষ প্রাণের ফেটে পড়া গর্জন সেøাগানে
গগণে গগণে আঁকে আল্পনা।
সিমুল, পলাশ বসন্ত দিনের প্রহরবন্দী
আমার দেখা, সবার দেখা নান্দনিক,
নিয়ন্ত্রণহীন চলমান বিদ্রোহের বিশাল ঝড়।

মহাকালের রক্তাক্ত বাহু ছিড়ে লেখা হলো,
স্বৈরাচারী শব্দের অত্যাচারে বিবর্ণ কিছু পঙক্তিমালা।
ঝলকে ঝলকে পলকে পলকে বদলায় রঙ
বদলে যায় বিশ্বাস অবলিলায়
মিথ্যের বেসাতী খুলে বসে ভন্ড কবির দল,
সবাই জানলো, শুধু আমি –
শুধু আমি জানলাম না।

রোজার কবিতা

কেমন তোদের লোভ?

আতিকুর রহমান

রোজা হলো পবিত্র মাস

রবের সেরা দান

তখন সবাই বেশি বেশি 

গাই যে রবের গান।

মনটা সবার থাকে নরম 

রবকে করে ভয়

ব্যবসায় বসে ঠিক তখনই 

করিস যে নয়-ছয়।

গরিব লোকের হয়না খাওয়া 

ভালো কিছু তাই

লোভে পড়ে তোদের ভেতর 

আল্লাহর ভয় নাই।

রোজাদারের অভিশাপে 

জমবে তোদের পাপ

আগুন কুপে হাশর মাঠে 

দিতে হবে ঝাঁপ ।

______________________

আতিকুর রহমান 

বি-পাড়, কুমিল্লা ।

সৌদি প্রবাসী ।

‘আমি সুশান্ত নই, মরলে সবাইকে নিয়ে মরব’ অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড পরিচালক অনুরাগ ক্যাশপের বিরুদ্ধে মিটু অভিযোগ এনে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অসামপ্ত সুইসাইড নোট লিখে ফের নজরে পড়লেন পায়েল। সরাসরি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না করেও, নিজের মৃত্যুর কথা বললেন পায়েল। তবে হঠাৎ করে এমন পোস্ট কেনো করেছেন তা কিন্তু স্পষ্ট করেননি পায়েল।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পায়েল লিখলেন, ‘আমি পায়েল ঘোষ, যদি আমি আত্মহত্যা করি, কিংবা আমার হৃদরোগে মৃত্যু হয়, তার জন্য কে দায়ী থাকবে?‌’ পায়েলের এই পোস্ট নজরে পড়েছে মুম্বাই পুলিশের। সেকথা জানিয়েছেন পায়েল নিজেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় পায়েল লিখলেন, ‘আমার বাড়িতে ওশিওয়ারা থানার পুলিশ এসেছিল। চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। তবে আমি সবাইকে বলতে চাই, আমি সুশান্ত সিং রাজপুত নই। আমি মরলে সবাইকে নিয়ে মরব।”

02 2 1
দু’বছর আগে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ। তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে ছিলেন কঙ্গনা রনৌতে।

পায়েল টুইট করেছিলেন, অনুরাগ কাশ্যপ জোর করে আমার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চেয়েছে। নরেন্দ্র মোদিজি, দয়া করে কিছু করুন। লোকে জানতে পারুক শিল্পী সত্ত্বার আড়ালে কোন রাক্ষস লুকিয়ে। জানি আমার ক্ষতি হতে পারে। আমার নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে। প্লিজ সাহায্য করুন!

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক

পরিবারের অজান্তে জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছেন তরুণরা 

ঢাকা ডেস্ক : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম। ২৭ বছর বয়সি এই ব্যক্তি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন সাভারের উত্তর রাজাশনে। এর আগে সমাজকল্যাণ বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন সরকারি বাঙলা কলেজে। অনার্স শেষ করলেও আর্থিক অনটনের কারণে মাস্টার্স শেষ করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। চলতি মাসের ৯ তারিখে বাসা থেকে বের হয়ে যান এই ব্যক্তি। যাওয়ার আগে বাসায় রেখে যান তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। এর আগে তিনি ইসলামি চারটি বই কিনে পড়াশোনা করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করেন (জিডি নং-৮৯৭)। পরিবারের ধারণা, তিনি হয়তো ধর্মান্ধ হয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যরাও।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত শতাধিক ব্যক্তির নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি—এসব ব্যক্তি ধর্মান্ধ হয়ে বেহেস্ত লাভের আশায় ঘর ছাড়েন। এদের মধ্যে অনেকে ফিরে এসেছেন আবার অনেকের সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছে না। র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ পাহাড়ে অবস্থানরত ৫৯ জন এবং প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর ১৭ জন নেতা ও সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনো যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিএমপির থানাগুলোতে ৫ হাজার ৯৩৭টি নিখোঁজের জিডি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি জিডি হয়েছে ডিএমপির মিরপুর বিভাগে। এই বিভাগের আট থানায় এক বছরে ১ হাজার ৪৪৪ জন নিখোঁজ হয়েছে। সবচেয়ে কম নিখোঁজ রমনা বিভাগে। এই বিভাগের ছয়টি থানায় এক বছরে ২৫৬ জন নিখোঁজ হয়েছে। সাধারণত কাউকে খুঁজে না পেলে স্বজনেরা থানায় জিডি করেন। এছাড়া কারো গৃহকর্মী, গাড়িচালক, নিরাপত্তাকর্মী হঠাৎ উধাও হলে; এতিমখানা বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ না বলে চলে গেলে, প্রেম বা অন্য কোনো কারণে নারী বা পুরুষ হঠাৎ উধাও হলে, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানুষ ও শিশু হারিয়ে গেলে, কেউ অপহৃত হলে জিডি হয়। এ রকম ১০-১৫টি কারণে নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি হয় বলে জানিয়েছে ডিএমপি। তবে বাসা থেকে বের হয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিরাই সাধারণ জঙ্গিবাদে জড়ান। এক্ষেত্রে তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বাসায় রেখে যান। তখনই তাদের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের অভিযানে জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া নামের নতুন জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ সর্বমোট ৫৯ জন এবং পাহাড়ে অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে জঙ্গিদের সহায়তার জন্য পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’-এর ১৭ জন নেতা ও সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় সংগঠন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনটেন্ট। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই সংগঠনের আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ, দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রধান মাইমুন, সংগঠনের উপদেষ্টা শামীম মাহফুজ, অর্থ ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান রাকিব এবং ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত অর্থ বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মুনতাছির, দাওয়াতি ও অন্যতম অর্থ সরবরাহকারী হাবিবুল্লাহ, সামরিক শাখার প্রধান রনবীর ও বোমা বিশেষজ্ঞ বাশার। সংগঠনের আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদের সঙ্গে কেএনএফের প্রধান নাথামবমের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময় নাথামবমের সঙ্গে তাদের অর্থের বিনিময়ে চুক্তি হয়, এরপর তারা পাহাড়ে আশ্রয়, অস্ত্র ও রশদ সরবরাহ এবং সশস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রদান করতেন।

তিনি বলেন, জঙ্গিদের বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর সক্ষমতা নেই। তাদের সব ধরনের নেটওয়ার্ক তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ১৫ থেকে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তারা আসলে কোন উদ্দেশ্যে ঘরছাড়া হয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক

নিঃসন্দেহে শেখ মুজিব এ দেশের ‘ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট সান ’: ফখরুল 

ঢাকা ডেস্ক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিঃসন্দেহে এ দেশের ‘ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট সান’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয়। এরকম একজন বিশাল মানুষের কন্যা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা)। আমরা কেউ বলি না বলি এটা তো সত্য কথা যে, শেখ মুজিবুর রহমান নিঃসন্দেহে এদেশের ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট সান। তার মেয়ে গোটা জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল। উনিও (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) দিয়েছিলেন বাকশাল তৈরি করে। ওই যে বলি না- বডি কেমেস্ট্রিতে আছে আওয়ামী লীগের। ওরা লুট করবে, ওরা ভোগ করবে আর আমাদেরকে পায়ের তলে পিষে মারবে, সাধারণ মানুষকে।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। গত সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গতকাল (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোমবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার ওপর কোনো চাপই কাজ করবে না। এখানেই বুঝা যায় তার (প্রধানমন্ত্রীর উক্তিতে) দেশের ও মানুষের প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই। জনগণের ভবিষ্যত নিয়ে এই রাষ্ট্রকে একটা সত্যিকার অর্থে কার্যকর রাষ্ট্র করার চিন্তা তার নেই।’

চাপ কেন পড়ছে ব্যাখ্যা করে ফখরুল বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে গত দুইটা নির্বাচন করেছেন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে। ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে ভোট কেন্দ্রে শূন্য করে তারা ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে বেআইনভাবে ক্ষমতায় গেছেন। যখন আবার নির্বাচন আসছে তখন তারা দেখছেন, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। সত্যিকার অর্থে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এ কারণে আগে থেকেই একটা অবস্থা তৈরি করছেন- তা হচ্ছে দেশের নির্বাচনের ব্যাপারে কেউ বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করবে না, কেউ কথা বলবে না এবং নির্বাচনটা আমাদের মতোই করছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশিরা যারাই যাচ্ছে তারাই বলছে যে, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। সরকার বলছে, না সব ঠিক আছে তো। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। তারা ফ্রি, যা খুশি তাই করতে পারবে। সোমবারও একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী দেখা করতে গেলেন, এর আগেও একজন গেলেন তাদের উনি (প্রধানমন্ত্রী) একই কথা বলেছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ ও কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন।

সূত্র : যুগান্তর