Home Blog Page 69

১৫ বছর খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে: আইসিসিবি সভাপতি

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশীয় খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিতর্ক চলছে–গ্যাস কোথায় অগ্রাধিকার পাবে। গ্যাস কি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাবে, শিল্পে যাবে, নাকি সার কারখানায়। তিন সেক্টরেই যেতে হবে। কারণ সবগুলোতেই এটি দরকার এবং একটির সঙ্গে অন্যটি যুক্ত।

বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি চলছে। বাকিগুলো বন্ধ, সেগুলো গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। দেশে সার যদি উৎপাদন না হয় তাহলে আমদানি করতে হবে। বিদেশ থেকে ফার্টিলাইজার পাওয়াও যাচ্ছে না। এ কারণে ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস দিতে হবে। শিল্প খাতে গ্যাস দিতে হবে। সার উৎপাদন না করলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। আবার শিল্পে গ্যাস না দিলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন কোনো শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না।

আইসিসিবি সভাপতি বলেন, শিল্প খাতে যদি প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেওয়া না হয় তাহলে শিল্প মালিকরা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারবেন না। ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমবে। এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে গ্যাস কেনা সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার বলছে যে, দেশে বিনিয়োগ আসুক, এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ) আসুক। যেখানে অফিসিয়ালি বলা হচ্ছে, নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না সেখানে কীভাবে বিনিয়োগ আসবে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, এটার পেছনে সংকটটা যেটা হয়েছে, আমরা দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে জলে-স্থলে কোথাও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করিনি। এখন যেটা হচ্ছে, সেটাও পুরোমাত্রায় হচ্ছে না। সিলেকটেড কিছু জায়গায় হচ্ছে। যেমন ভোলায় সেখানে গ্যাস শনাক্ত হয়েছে ২০১৮ সালে, আজকে ২০২৬ সাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সেখানকার গ্যাস পাইপে করে নিয়ে আসতে পারবে কিনা, এলএনজি করবে কিনা, নাকি সেখানে কোনো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির মতো ইন্ডাস্ট্রি সেটআপ করবে। এভাবেও আসতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলো- এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো এবং এর বাস্তবায়ন খুবই ধীরগতিতে চলছে। এসব কারণে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধানও হচ্ছে না।

এই অবস্থায় সরকারের কী বিকল্প সেটিও তুলে ধরেন আইসিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখন বিকল্প হলো- গ্যাস আমদানি করা। এলএনজি আমদানি করতে হলে এলএনজির কিউতে অনেক পেছনে থাকার কারণে সরকারকে অনেক সময় স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে কিনতে হয়। এতে দামও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নতুন করে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের আগ পর্যন্ত দুটি চয়েজের বিকল্প নেই। একটি হলো নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সোলার এনার্জি যার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, অন্যটি এলএনজি। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা সহজেই বিদ্যুতের উৎপাদনের বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারি।’

সরকারের বিনিয়োগ আহ্বানের বিষয়ে আইসিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আগে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটা সাকসেসফুল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই এমনিতে চলে আসবে। আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটে ও বলের কানেকশনটা ঠিকভাবে হচ্ছে না। আর নতুন করে গ্যাস কানেকশন দেওয়া হবে না এমন ঘোষণাও সঠিক নয়।’

তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুতে আমাদের ২৮ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি। শিল্প খাতে ১২-১৪ হাজার মেগাওয়াটও সাপ্লাই দিতে পারছে না সরকার। অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ ধরা হচ্ছে। এটা কোন ধরনের কথা।

সংকট নিরসনে কী করণীয় সে ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত না করে এবং স্টেকহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে কেবল আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসা এবং তাদের সমস্যা শোনা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের  আমন্ত্রণ জানানো এবং জিজ্ঞেস করা যে, শিল্প রক্ষায় কোথায় তাদের সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী না চাইলে সরকারের সবাই দুর্নীতিতে জড়ায় কীভাবে: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি না চান, তাহলে সরকারের সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে- এই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির বলেন, যখন সরকার নিজেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে, তখন নৈতিক দিক থেকে তারা দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি। যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে, আটকে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া পাঁচ মাসে আর কোনো বদল হয়নি।

এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা দেখি প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন। ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটাই প্রশ্ন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁর (মির্জা ফখরুল) ভাষ্যমতে, একজন ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, আর সেই একজন হলেন তারেক রহমান। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। তারেক রহমান তো প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি দুর্নীতি না চান, তাহলে সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়ায়। আমরা তো দেখি, তার ইশারাতেই সবকিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় কি দুর্নীতি বন্ধ হয় না।

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে যে অবৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটাকেই যেন চাকরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক। সেই শ্রমিকরা আজ চাঁদাবাজির শিকার। একজন হুইপ বলেছেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ চালালেও চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না। এই বক্তব্যই সত্য হয়, তবে তা চাঁদাবাজির একটি বৈধ কাঠামো দাঁড় করানোর শামিল।

সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ৫১ সদস্যের বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবিকে সমর্থন জানান জামায়াত আমির।

ইসির সিদ্ধান্ত এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন মাঠ পর্যায়েই

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা আবারও মাঠ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো এখন এই কাজ করতে পারবে।

এনআইডিতে এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমিয়ে সহজ করা হয়েছে। প্রবাসীদের আবেদন ও বায়োমেট্রিক পাওয়ার পর বাংলাদেশে দ্বৈত তদন্তের (ভেরিফিকেশন) বদলে এক ধাপে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের প্রক্রিয়ায় জন্মতারিখ তথা বয়স সংশোধন করাতে নাগরিকদের দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় ছুটতে হতো। ভোটার স্থানান্তর সেবা নিতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে আসা-যাওয়া করতে হতো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের। এমন হয়রানি কমাতে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির সাম্প্রতিক ১২তম কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা  বছর তিনেক আগেও মাঠ পর্যায়ে ছিল। ডেটাবেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বয়স জালিয়াতি বা জালিয়াতিমূলক অপরাধের অপচেষ্টা ঠেকানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর এনআইডি সংশোধনের নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দেশিকা জারি করে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী জন্মতারিখ বা বয়স পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর আবেদনগুলোকে ‌‘ঘ’ ক্যাটেগরিভুক্ত করে নিষ্পত্তির ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক বা কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া হয়। এতে ঢাকায় দৌড়াদৌড়ির পাশাপাশি মাসের পর মাস ফাইল আটকে থাকায় সাধারণ নাগরিকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। হয়রানির এমন চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর এনআইডি সেবা সহজ করার উদ্যোগ নেয় ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে নাগরিকরা এসএসসি, জেএসসি বা পিইসি সনদের ওপর ভিত্তি করে জন্মতারিখ সংশোধন প্রক্রিয়া আগের মতো মাঠ পর্যায় তথা উপজেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। বিভাগীয় তথা সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় এই কাজ করবেন সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া নাগরিকরা ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা এনআইডি স্থানান্তরের জন্য অনলাইন আবেদনের মাধ্যমেই নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এ জন্য তাদের সরাসরি অফিসে যেতে হবে না। এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রথমবার আবেদনের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা।

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। আগে প্রবাসীদের অনলাইন আবেদন ও বায়োমেট্রিক পাওয়ার পর দেশে দুই দফা তদন্ত করা হতো। তদন্ত প্রতিবেদন ইতিবাচক এলে তা সিস্টেমে আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা আবেদন ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অনলাইনে আপলোড হয়ে যাবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তথ্যের সঠিকতা মিললেই এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত একটি ধাপ কমে গেল।

এ ছাড়া ভোটার তালিকায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়সের সময়সীমা আরও কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে ইসি। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের এনআইডি ও ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় সক্রিয় হয়। এই তথ্য সংগ্রহে বয়সসীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায় কিনা– সেটার পর্যালোচনা চলছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা হবে।

জুলাইয়ে ১১৮ শিশুর মৃত্যু হামের টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ে গবেষণা টিকার ওপর নির্ভরতা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ঘাটতি

হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা নেওয়ার পর শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে দেশব্যাপী গবেষণা শুরু করেছে সরকার। আগস্টের মাঝামাঝি গবেষণার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর শুধু জুলাই মাসে হাম ও এই ভাইরাসের উপসর্গে ১১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ হাজার ২০৯ জন। এখনও প্রতিদিন নতুন করে প্রায় এক হাজার শিশু শনাক্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথমে ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল ঢাকার দুটি এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ– চার সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হয়।

এদিকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের দাবি, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ১০৩ শতাংশ অর্জন করা হয়েছে। কিন্তু একই বয়সী শিশুদের জন্য পরিচালিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই কোটি ২৬ লাখ। অর্থাৎ, দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪৬ লাখ শিশুর ব্যবধান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ব্যবধানই প্রমাণ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, হাম এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বর্তমানে আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত অথবা অপুষ্টিতে ভুগছে। তিনি বলেন, টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ভুল ছিল এবং প্রায় ৪৬ লাখ শিশু কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে। তিনি জানান, হাম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নতুন বৈঠক করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার মূলত টিকাদান কর্মসূচির ওপর নির্ভর করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু রোগী শনাক্তকরণ, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতাল প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিবিড় নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো জনস্বাস্থ্যভিত্তিক পদক্ষেপে ঘাটতি ছিল।

হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ে জাতীয় কমিটির (এনভিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, শুধু টিকাদান নয়, কভিড-১৯ মহামারির সময়ের মতো সামাজিক সংক্রমণ প্রতিরোধে শুরু থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। জ্বর দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস, মাস্ক ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

টিকা নিয়েও হামে আক্রান্ত 
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আরাফাত সাজিদের বয়স তিন বছর দুই মাস। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দুই ডোজ এমআর টিকা নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতেও সে টিকা পেয়েছিল। এর পরও গত ১৯ জুলাই হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সাজিদের মা সুমি আক্তার বলেন, ছেলে জন্মের পর থেকে সুস্থ ছিল। সময়মতো সব টিকা নিয়েছে। দুই বছর বুকের দুধ খেয়েছে এবং প্রাদুর্ভাবের সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে নেওয়া হয়নি। তার পরও সে আক্রান্ত হলো।

একইভাবে ১০ মাস বয়সী হাফসাও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা পেয়েছিল। কিন্তু জ্বর, কাশি ও পরবর্তী জটিলতায় তাকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বারী বলেন, টিকা নেওয়ার পর শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডির মাত্রা যাচাই করা উচিত। তাঁর মতে, অন্তত ১২০ আইইউ/এমএল অ্যান্টিবডি থাকলে শিশুকে নিরাপদ ধরা যায়। এর কম হলে পুনরায় টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করা হলে বোঝা যাবে টিকার কার্যকারিতা কতটা হয়েছে এবং পুনরায় টিকাদানের প্রয়োজন রয়েছে কিনা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যে কোনো টিকাদান কর্মসূচির পর টিকার কার্যকারিতা মূল্যায়নে গবেষণা ও নজরদারি (পোস্ট মার্কেটিং সার্ভিলেন্স) পরিচালনা একটি বিশ্বব্যাপী স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআর,বি– যে কোনো প্রতিষ্ঠানই এ ধরনের মূল্যায়ন করতে পারে। এতে দেখা হয়, টিকা নেওয়ার পর কত শতাংশ মানুষের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়েছে। শুধু টিকাদান নয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য কৌশল এখন সময়ের দাবি।

এনভিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সমকালকে বলেন, টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর অপুষ্টি, মায়ের অপুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’র ঘাটতি, অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত থাকা এবং মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়া। তিনি বলেন, তিন-চার বছর ধরেই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি– এমন শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর প্রবণতা বাড়ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানান, দেশের ১৮টি উপজেলা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি গবেষণার ফল প্রকাশ করা হবে। তখন বোঝা যাবে, টিকা নেওয়ার পর কত শতাংশ শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ১৪ দেশের এই জোটের মূল লক্ষ্য জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখা

লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা থেকে জাহাজ রক্ষার জন্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামের এই জোটে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ দেশীয় জোটের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। রয়টার্স ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে এই জোট কাজ করবে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোটে বাকি দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্ত্বেও সংঘাতপূর্ণ এলাকার দুই প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান নতুন এই জোটে যোগ দেয়নি। তবে সৌদি আরব জানিয়েছে, নিজস্ব আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য যে কোনো দেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত একটি উদীয়মান সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই আলোচনার পালে হাওয়া দেয়। তবে পরবর্তীতে যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার খবরটি জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।

সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অবস্থান
জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার তথ্য জানা যায়নি। এর আগে লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে গত ২২ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহতের ঝুঁকি তৈরি করে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রুটে নিরবচ্ছিন্ন নৌ-চলাচলের প্রতি সমর্থনও ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, ‘লোহিত সাগর বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এখানে যে কোনো ধরনের ব্যাঘাত সারাবিশ্বের মানুষের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতি ডেকে আনবে। তাই বাংলাদেশ সব নাবিক ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।’

আবার সৌদি আরব যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, সেখানে একক কোনো দেশের ভূমিকার কথা আলাদা করে উল্লেখ নেই। বলা হয়েছে, যৌথ বিবৃতির বক্তব্যের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সদস্যরা জোটের সনদ অনুযায়ী সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অপারেশনাল পরিকল্পনা, যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং যৌথ সামুদ্রিক অভিযানে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করবে। জোটটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনো দেশ, জোট বা আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে নয়।

তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল রক্ষা এবং অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জোটের যৌথ কমান্ড, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, যৌথ সামুদ্রিক অপারেশন সেন্টার এবং প্রধান নির্বাহী সংস্থা হিসেবে সৌদি আরবে সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাসপাইডস নামের নিজস্ব নৌ-সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে। এই জোটের সঙ্গে ইইউ মিশন কীভাবে সমন্বয় করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জোট গঠনের কারণ 
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়ার পর বিশ্ব বাণিজ্যে লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১০-১২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মোট পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি বজায় রাখতে দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাচ্ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছু তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলেও খবর এসেছে। সবচেয়ে সরু পয়েন্টে মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

হুতিদের প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার জোটের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা আগে হুতির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছিল। ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবকে উদ্দেশ করে ‘সর্বাত্মক প্রতিক্রিয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আবদুল মালিক আল-হুতি বলেন, ‘কিছু ইঙ্গিত বলছে, সৌদি আরব পূর্ণাঙ্গ উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। আমরা পূর্ণাঙ্গ উত্তেজনার মাধ্যমেই এর পাল্টা জবাব দেব।’
তিনি দাবি করেন, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর হুতিদের নৌ-অবরোধ ইতোমধ্যে সফল হয়েছে।

লোকসভা-রাজ্যসভায় প্রতিবেদন শেখ হাসিনাকে রাজনীতির অনুমতি দেয়নি ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরবেন বলে সাম্প্রতিক সময়ে মন্তব্য করেছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। তবে এসব খবরের মধ্যেই সামনে এসেছে ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদন।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে আশ্রিত থাকলেও শেখ হাসিনার সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি নেই।

গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হবেন শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারা যথাযথ আইন ও প্রতিষ্ঠিত নীতির ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেসের খবর বলছে, ভারতের সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন কংগ্রেস এমপি শশী থারুর। বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপিত হয় প্রতিবেদনটি। কমিটির প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ভারতের তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে চলে আসা আশ্রয়নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বাভাবিক গতিতে ভিসা দেওয়ার প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা দেওয়ার হার কমিয়ে দেওয়ার কারণে জনমতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও প্রভাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত গত ২৮ জুন থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। এর আগের দুই বছর তারা এটি বন্ধ রেখেছিল।

এ ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছর। বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারকে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে। কমিটি বলেছে, ২০২৬ সালে চুক্তিটি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এটি পুনঃনবায়নের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিটি এই উদ্যোগের প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্নের পরামর্শ দিচ্ছে।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। এ ছাড়া উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে।

গত বৃহস্পতিবারই ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকা, বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে চীনের সহায়তায় লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি উন্নত করা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। কমিটি বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যকলাপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত ‘পরিমিত ও হিসাবনিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ অনুসরণ করে বলে ওই সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং পরে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি ভারত ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তারেক রহমানকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে সাধুবাদ জানানো হয়।

জামায়াত ও এনসিপির ফেসবুকে বাদানুবাদ

এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে বাহাস চলছে ফেসবুকে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জোটেও চলছে মন কষাকষির গুঞ্জন। যদিও দল দুটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের গুরুত্ব রাজনীতিতে নেই।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে হামলা হয়।

দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির স্থানীয় এক কর্মীর বাঁ চোখ নষ্ট হয়েছে।

এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির সেই রাতেই বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। একে একে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকা খেলাফত মজলিস। ২৮ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত।
ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরের দিন সিলেট এবং কুড়িগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা, মিছিলে হামলা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতে ১১ দলের বৈঠক থেকে এসব হামলার নিন্দা করা হয়।
তবে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে আবার অভিযোগ তোলেন, জোটসঙ্গী জামায়াত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করছে না। বিএনপির প্রতি অনেকটাই নমনীয়, প্রধান বিরোধী দল। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে জামায়াত।

বিপরীতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই বিরোধ লোক দেখানো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতে বিএনপি এসব হামলা করছে। যাতে মনে হতে পারে, জামায়াত নয় এনসিপিই প্রধান বিরোধী দল।
শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের প্রোফাইলে লেখেন,  ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’
এতে জামায়াতের অনেকে সমর্থন করেন। তাদের ভাষ্য, এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা করছে। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এই পোস্ট ডিলিট করেন জাহিদুল।
তবে জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

এই বক্তব্যে সমর্থন করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা লেখেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার পর জামায়াতই নিরাপত্তা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে হামলার পর জামায়াত নেতাকর্মীরা এনসিপিকে নিরাপত্তা দেয়। একে ‘খোটা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টাপাল্টি চলছে ফেসবুকে।
যদিও বাস্তব দুনিয়ায় এর প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপিকর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি এ হামলার বিচার দাবি করেন। আগের রাতে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট এনসিপির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে।

বাংলাদেশে নিপীড়িত হিন্দুদের নিয়ে একাধিক অমর মহাকাব্য হতে পারে

০

হিন্দু সম্পত্তি গনিমতের মাল: আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক: সামাজিক মাধ্যমে এক মহিলা লিখেছেন: ‘এ বয়সে চোখের সামনে কত হিন্দুর সম্পত্তি মুসলমানদের দখল করতে দেখলাম, কিন্তু তা আজো থামলো না’। মহিলা আমার ফেইসবুক বন্ধু, বয়স ঠিক জানিনা, তবে কথবার্তায় চল্লিশ পার হয়েছেন বলে মনে করিনা। সেই তুলনায় আমি যা দেখেছি তা বলে শেষ করা যাবেনা। শুধু বলি, ষাটের দশকে আমি যখন ছোট তখন দেখেছি চাঁদপুর শহরের প্রায় অধিকাংশ বাড়ী-ই হিন্দু’র, আর এখন চাঁদপুরে মাঝেমধ্যে হিন্দুর বাড়ী খুঁজে পাওয়া যায়। আমার একটি বইয়ে আমাদের পরিবার নিয়ে লিখতে গিয়ে চাঁদপুরের কাহিনী বিস্তৃত লিখেছি, শেষে প্রশ্ন করেছি, ‘এতবড় একটি পরিবার কেন চাঁদপুর থেকে হারিয়ে গেলো, এর কারণ কি, এর দায় কার?

ঐ মহিলা যা দেখেছেন তা প্রায় প্রতিটি হিন্দু দেখেছেন, অনেকেই ভুক্তভুগী। মুসলমানরাও দেখেছেন, স্বীকার করেন সামান্য কিছু মানুষ। আমার অন্য একটি বইয়ে আমি লিখেছি, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি কালে যদি আপনার পূর্ব-পুরুষের বাড়ী না থেকে থাকে, তাহলে আপনার পূর্ব-পুরুষ হয় হিন্দুর থেকে সম্পত্তি কিনেছেন, অথবা জোর করে দখল করেছেন অথবা কম-পয়সায় ঠকিয়ে হিন্দুর সম্পত্তি দখল নিয়েছেন। অনেকে ‘অর্পিত সম্পত্তি (শত্রু-সম্পত্তি)’র নামে দখল নিয়েছেন। কি রাগ করলেন? রাগ করলেও সত্য সত্যই থাকবে। ভবিষ্যৎ এনিয়ে সত্য কাহিনী প্রকাশিত হবেই, হয়তো আমরা থাকবো না, কিন্তু আপনার পরবর্তী প্রজন্ম সত্য জেনে লজ্জ্বিত হবে?

শুধু মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই একাজ করছে। নেতারা করেছে। সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্র এ অপকর্ম করতে উদবুদ্ধ করেছে। শত্রু বা অর্পিত সম্পত্তি কালো আইনের কথা আগেই বলেছি, শুধুমাত্র এই আইন প্রয়োগ করে রাষ্ট্রযন্ত্র ২০১১ পর্যন্ত ২৭লক্ষ্ একর হিন্দু-সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে মুসলমানকে দিয়েছে, বহু সরকারি অফিস-আদালত এই শত্রু-সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ আইন নিয়ে বহু নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, শুধু অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি বই এজন্যে যথেষ্ট। এই আইনের যাঁতাকলে হিন্দুরা নি:স্ব হয়ে গেছে। আইনটি এখন নেই, কিন্তু এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থেমে যায়নি। এই আইন রদ হবার পর কোন হিন্দু সম্পত্তি ফেরত পেয়েছে তা শোনা যায়নি।

তদানিন্তন পাকিস্তানে ‘জমিদারী প্রথা বাতিল’ সম্পর্কে অনেকেই জানেন, সেটি ১৯৫০ সালের ঘটনা। অনেকেই বিশেষত: বামপন্থীরা তখন খুশি হয়েছিলেন এই ভেবে যে, পাকিস্তান তাদের একটি এজেন্ডা পূরণ করেছে। বিষয়টি তা ছিলোনা, এ পদক্ষেপ ছিলো ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং এটি করা হয়েছিলো হিন্দুর সম্পত্তি কেঁড়ে নেয়ার জন্যে। ক্যামনে? কারণ জমিদারি স্বত্ব আইনটি বাতিল হয়েছিলো শুধু পুর-পাকিস্তানে, কেননা জমিদাররা ছিলো হিন্দু। পশ্চিম-পাকিস্তানে তা বাতিল হয়নি, কারণ জমিদাররা ছিলো মুসলমান। মাওলানা ভাষানীর সন্তোষের বাড়ীটি তেমনি একটি দখলকৃত হিন্দু জমিদার বাড়ী। এতবড় নেতা যখন হিন্দু সম্পত্তি দখল করে তখন অন্যদের আর দোষে দিয়ে লাভ কি?

ফরিদপুরের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এখন যে বাড়ীতে থাকেন সেটি অরুন গুহ মজুমদারের বাড়ী। আগে তিনি যে বাড়িতে থাকতেন লোকমুখে সেই বাড়ির নাম ছিলো ‘নুরু রাজাকারের বাড়ি’, কারণ বোধগম্য। অরুন গুহ মজুমদারের বাড়িতে ম্যুভ হয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যান। তখন তিনি মন্ত্রী ৭০কোটি টাকার বাড়িটি তিনি ন্যায্য মূল্যে মাত্র ২০লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তাও দিতে বাধ্য হয়েছেন জানাজানি হবার পর? সিলেটের দানবীর রাগীব আলীর মাহাত্ম্য আপনারা শুনে থাকবেন, তাঁর সকল সম্পত্তি, চা-বাগান হিন্দুর থেকে জোর করে দখল করা? সুপ্রিমকোর্ট একবার তার সম্পত্তি হিন্দু মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়? কিন্তু মেয়র ব্যারিষ্টার তাপস যখন ১শ’ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁর উকিল হ’ন, তখন বেচারা হিন্দুর আর কিছু করার থাকেনা। রাগিব আলী হিন্দু সম্পত্তির জোরে দানবীর ‘হাজি মহসিন’ হয়ে যান।

এমপি দিদারুল-র কথা নাইবা বললাম। কত ঘটনা দেবো? এরকম হাজার হাজার ঘটনা আছে? ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যখন অরুন গুহ মজুমদারের সম্পত্তি দখল করছিলেন ঠিক তখন প্রখ্যাত কলামিষ্ট একুশে গানের রচয়িতা প্রায়ত: আবদুল গাফফার চৌধুরী নিউইয়র্কে এসেছিলেন। হাঁটতে তাঁর তখন কিছুটা সাহায্য লাগে, আমি তাঁকে ধরে এগিয়ে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, গাফফার ভাই, মন্ত্রী মোশাররফ তো অরুন গুহ মজুমদারের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে? তিনি হেসে উত্তর দিলেন, শিতাংশু, ‘হিন্দুর সম্পত্তি তো গনিমতের মাল’। তিনি আরো কিছু বলেছিলেন, সেইসব না-ই বললাম। ঐসময় ক’জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, একজন মন্ত্রী ও একজন রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ছিলো একেবারে ঘরোয়া এবং গাফফার চৌধুরী স্পষ্ট ও সোজাকথা বলতে পছন্দ করতেন। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দুরা একজন বন্ধু হারিয়েছে।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্পত্তি দখল বা এই জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে একাধিক মহাকাব্য হতে পারে। কোন মহাকবি লিখবেন সেই মহাকাব্য জানিনা, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব-বাংলা, পূর্ব-পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আট দশকের বেশি সময় ধরে চলমান বীভৎস সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে থাকলেও মানবতাবাদী কবি-সাহিত্যিকরা আগামী দিনে পিছিয়ে থাকবেন তা মনে হয়না। সময় এসেছে বাংলাদেশের এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর। আমার সদ্য প্রকাশিত ইংরেজী বই, “বাংলাদেশ: এক্সটিংশন অফ হিন্দুজ ইন গ্লোবাল কনটেক্সট”-এ আমি সেই চেষ্টা করেছি। বইটি আমাজনে পাওয়া যাচ্ছে, আপনি যেদেশে থাকুন, আমাজন থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে শুধুমাত্র ইউনুস আমলের ১৮ মাসের ঘটনা দিয়ে সমগ্র পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

শিশু নিহানের বাম হাতটি কেটেই ফেলতে হলো

পাঁচ বছর বয়সি নিহানের বাম হাতটি শেষ পর্যন্ত কেটেই ফেলে দিতে হলো। বাসার বারান্দালাগোয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দুই হাত ও পেট পুড়ে গিয়েছিল শিশুটির। গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে বাম হাত বাদ দিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছে নিহানের পরিবার।
গাজীপুর সদরের উত্তর ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়ির তৃতীয় তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন খাইরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই বিকেলে বাড়ির বারান্দাঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়। এতে খায়রুল ইসলামের বড় ছেলে মো. নিহান অগ্নিদগ্ধ হয়। ওই সময় বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আম খাচ্ছিল শিশুটি। তার দুটি হাত পুরোপুরি এবং পেটের
২২ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে তার বাম হাতটি বাহুর মাঝামাঝি থেকে কেটে ফেলা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন নিহানের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপের তত্ত্বাবধানে নিহান চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল বুধবার ডা. মো. নাসির উদ্দীন সমকালকে বলেন, নিহান এখনও সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে সার্বক্ষণিক গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর কয়েকদিন না গেলে নিশ্চিত করে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহানের বাবা খায়রুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী, আর মা নাইমা সুলতানা গৃহিণী। তারা গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তরখামের গ্রামের বাসিন্দা। ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন এ দম্পতি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই।
যোগাযোগ করা হলে নিহানের চাচা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩ বছর তাঁর ভাই খাইরুল ইসলাম ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ের ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। গত মার্চে তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ায় যান। ছুটি শেষে বাসায় এসে তাঁর বারান্দাঘেঁষে পল্লী বিদ্যুতের নতুন একটি খুঁটি এবং এতে ৩টি ট্রান্সফরমার বসানো দেখতে পান। এ সময় খাইরুল ইসলাম বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম এবং বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সুরক্ষা দেয়াল অথবা গ্লাস দিয়ে বারান্দা আটকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বারবার বলা সত্ত্বেও বাড়ির মালিক বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।

এই দুর্ঘটনার জন্য বাড়িওয়ালা এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি আবাসিক এলাকায় এই ধরনের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৩টি ট্রান্সফরমার বসাতে পারে না। এই দুর্ঘটনার দায়ও এড়াতে পারে না তারা। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান।
জানতে চাইলে প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রী মনিরা বেগম দাবি করেন, তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। আর মো. ইলিয়াস জানান, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পর খাইরুল ইসলামকে ওই ফ্ল্যাট থেকে অন্য ফ্ল্যাটে চলে যেতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি।
পল্লী বিদ্যুতের গাজীপুরের ছায়াবীথি জোনাল অফিসের এজিএম মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়ির লোকজনের দেখানো জায়গায় নিয়ম মেনেই বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড ইউএনও অফিসে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন তিনি।

এর আগে সোমবার তাঁর অভিযোগের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে বান্ধারদিয়া এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।

অভিযোগকারী নারী জানান, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাঁকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে তাঁকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও ওই নেতার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনও আমি পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ তাঁর ভাষ্য, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের ভোটার ও বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে পারেননি। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি দেখেছেন তিনি। আশরাফ উদ্দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ রিকাবদারের ভাষ্য, বিষয়টি শুনেছেন তিনি। পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণত সম্পাদককে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শিবপুর থানার ওসি কোহিনূর মিয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মঙ্গলবার আমার অফিসে এসেছিলেন ওই নারী। মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আমি তাঁকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য থানায় বলে দেব।’