Home Blog Page 7

দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনি, ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ

দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে না আসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ। ভিডিওটি প্রকাশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে চীনের বার্তাসংস্থা সিনহুয়া ও সিজিটিএন জানিয়েছে, শনিবার মেহের নিউজ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। তাকে দৃশ্যত সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে।

তবে ভিডিওটি কখন বা কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মেহের নিউজ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানানো হয়নি।

সিজিটিএনের ফেসবুক পেজেও মেহের নিউজের বরাতে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে ভিডিওটি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঠিক পরপরই ভিডিওটি প্রকাশ পেয়েছে। বুধবার পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের খবরের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

তবে একই সঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি ইরানিদের জন্য ‘অনেক বড় শক্তি’।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। একই হামলায় তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিকও হামলায় নিহত হন।

হামলার পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে মার্চের শুরুতে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে তার প্রকাশ্য অনুপস্থিতি এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

এ অবস্থায় নতুন ভিডিওতে তাকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভিডিওটি। তবে ভিডিওটির ধারণের সময় ও স্থান নিশ্চিত না হওয়ায় এর মাধ্যমে মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান বা সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নলকায় পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাসের চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা ওভারপাসের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটি নলকা ওভারপাসের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক ওভারপাসে ওঠার সময় বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চালকসহ দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ যাত্রী।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ব্যবসা মন্দা, আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই কারখানার ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ

সাভারের আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির মধ্যেই এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ব্যবসায়িক মন্দার কথা।

বৃহস্পতিবার কারখানার প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে এসব শ্রমিকের ছাঁটাই কার্যকর হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কর্মরত সব শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বর্তমানে কারখানায় মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতার কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানার মোট ৫৬৫ জন শ্রমিককে ৮ আগস্ট  থেকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

নোটিশে বলা হয়েছে, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ মেনে তাদের যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই করা এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস-সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

কারখানাটির ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম থাকা সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় টানা তিন দিনের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন সমকালকে জানান, ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই করা অমানবিক। তারা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে ছাঁটাই করা সব শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি হেভি-লিফট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দুজন আরোহী ছিলেন। একই সময়ে ওরেগনে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত এক বুলডোজার চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

উটাহর রিচফিল্ডের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সল্টলেক সিটি থেকে প্রায় ১৬০ মাইল (২৫৮ কিলোমিটার) দক্ষিণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। হেলিকপ্টারটি মধ্য উটাহর একটি দাবানল নেভাতে নিয়োজিত সাতটি হেলিকপ্টারের একটি ছিল। গত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়।

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’। অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত এই হেলিকপ্টারে পানি বা ফায়ার রিটার্ড্যান্ট বহনের ব্যবস্থা থাকে। দুর্ঘটনার সময় এটি খাড়া ভূ-প্রকৃতির একটি এলাকায় কাজ করছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারে থাকা দুজনের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তীব্র আগুনের কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর আশা করছেন কর্মকর্তারা।

দুর্ঘটনার পর দাবানল নেভানোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়। হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত করবে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। তবে আশপাশে আগুন জ্বলতে থাকায় তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।

এদিকে ওরেগনে ‘রাইটস স্প্রিং’ নামের একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় ৪৭ বছর বয়সী জেসন এনসাইন নামে এক বুলডোজার চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আগুনটি অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়।

ওরেগনের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে চিলোকুইন শহরের পূর্বে বুধবার ওই দাবানলের সূত্রপাত হয়। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১৪ বর্গমাইল বা ৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুনের আচরণ অনিয়মিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দমকলকর্মীদের অনিয়মিত বাতাস, উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক ও দাহ্য উদ্ভিদ এবং বৃষ্টিহীন বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। এ কারণে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্কতা জারি করা হয়।

উটাহতে কানশের কাছে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টের দাবানলও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১৬৫ বর্গমাইল বা ৪২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে এবং মাত্র ১৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন নেভাতে ৬০০-এর বেশি দমকলকর্মী কাজ করছেন। আগুনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং অন্তত ছয়টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র দাবদাহ, স্বাভাবিকের তুলনায় কম তুষারপাত এবং অনিয়মিত বাতাসের কারণে উটাহসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এবার দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। গত জুনেও কলোরাডোর একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে চার দমকলকর্মী নিহত ও একজন আহত হয়েছিলেন।

ভারত-চীনের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার বিধান রেখে একটি বিল পাস করেছে দেশটির সিনেট। রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত ও চীনও এই শুল্কের সম্ভাব্য আওতায় রয়েছে।

প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন গ্রাহাম। গত ১১ জুলাই তিনি মারা যান।

সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। সিনেটে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার বোন ডারলিন গ্রাহাম বলেন, এই বিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘সঠিক জায়গায় আঘাত হানবে’।

আগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নতুন অধিবেশনে বিলটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। বর্তমানে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে।

তবে যেসব দেশ তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমাতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য বিলে শিথিলতার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রুশ তেল ও জ্বালানি রাজস্বের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যেসব পুরোনো ও নতুন পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ব্যবহার করছে, সেগুলোকে বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিলে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়ে থাকে।

দাম কমেছে স্বর্ণের, আজ থেকেই কার্যকর

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা।

ছুটির দিনে ক্রয় কমিটির বৈঠক, এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার।

ছুটির দিন আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সভাপতিত্বে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অষ্টম সভা।

সভায় জানানো হয়, জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ২০২৬ সালের ১১-১২ আগস্ট ডেলিভারির জন্য এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

একটি এলএনজি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ থাকে। সে হিসাবে এ কার্গোর মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৭২.৪১ মিলিয়ন ডলার)।

এদিকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত জিটুজি ভিত্তিতে গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে এলএনজি কেনার দরপ্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা দুই হলের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদল, ফেরেনি ছাত্রশিবির

ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার (আলিয়া মাদ্রাসা) আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তিনতলা আবাসিক হলের কোনো কোনো কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। গত মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর বন্ধ রয়েছে মাদ্রাসাটির ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল। তবে ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অধিকাংশই ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। মুফতি আহসান উল্লাহ হলেও একই দৃশ্য। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলের পাহারায় রয়েছেন। ছাত্রদলের দাবি, দুটি হলই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংঘর্ষে গত মঙ্গলবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মাদ্রাসাটির আল্লামা কাশগারী (রহ.) হল। একপর্যায়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা পিছু হটেন। তাদের কেউ এখনও হলে ফিরে আসেননি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হলে যাওয়া-আসা করতে দেখা গেছে।

ঢাকা আলিয়ায় আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী হলে ঢোকেন। তবে এর আগেই হল ছাড়েন শিবির কর্মীরা। শিবিরের দখলে থাকা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে বেধড়ক মারধর করা হয়। ছাত্রদলের ১৪ জন ও শিবিরের ১১ জন আহত হন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেখা গেছে, হলের বাইরের ফটক খোলা। ফটক থেকে ভেতরে ঢুকতেই হলের মূল ফটক। ওই ফটকে তালা মারা। এর সামনেই বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বসে আছেন। বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকলে পরিচয় জানতে চাচ্ছেন। বাইরে থেকে বেশ কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করলে সেখানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। তাদের কেউ কেউ এসেছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে। কেউ অনার্সের পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে এসেছেন।

মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে আসা জিহাদ সমকালকে বলেন, ‘গত পরশু দিন সংঘর্ষের সময় হলে ছিলাম না। তাই সবকিছু হলেই ছিল। শনিবার আমার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা। তাই অ্যাডমিট কার্ড নিতে আসছি। হলের বাইরে থাকি।’

হলের ফটকে দায়িত্বরত চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান সমকালকে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ভেতরে আগে থেকেই ছিলেন। এ ছাড়া কিছু শিক্ষার্থী হলের ভেতরে ঢুকছেন যারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে আসছেন। অনেকের পরীক্ষা আছে। তবে হলের শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনতলা ভবনের হলটিতে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ৭৪টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষে ৩১২টি বৈধ সিট আছে। সেখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী থাকেন। মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের বেশ কিছু কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। দুই দফায় সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ত্যাগ করেন।

মূল ফটকের ভেতরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। তারা বলেন, ভেতরে কিছু শিক্ষার্থী এখনও রয়েছেন। তাদের অন্য কোথাও থাকার জায়গা নেই। আলী হাসান ওবামা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি কোথাও যাইনি। হলেই থাকছি।’

ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীও হলে অবস্থান করছেন। এ সময় সাদ চৌধুরী নামের ছাত্রদলের এক নেতাকে হলের ভেতরে যেতে দেখা যায়। তারা সেখানে অবস্থান করেন। হলের ‎নিরাপত্তাকর্মী বদিউর রহমান সমকালকে বলেন, ছাত্রদল যারা করে তাদের কিছু লোক নিজেরাই এসে হলের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

মাদ্রাসাটির শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলীম সমকালকে বলেন, ‘এটা দুই পক্ষের মধ্যে সিট দখলের কোনো সংঘর্ষ ছিল না। যুবদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পরিকল্পিত হামলা ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের লোকজন ধাওয়া খেয়েছে। সেটারই প্রতিফলন ছিল আমাদের ওপর হামলা করা। এতে ১১ জন আহত হন। দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’ কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধাওয়া দিয়েছে, তখন আমরা পাল্টা ধাওয়া দিয়েছি। আমরা হলের ভেতরে যেতে পারিনি, কক্ষ ভাঙচুর করিনি।’

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের বর্তমানে কমিটি নেই। তবে আসন্ন কমিটিতে পদ পেতে অনেকে তৎপর। মাদ্রাসাটির আবাসিক হলের অবস্থা জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বারবার আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের লোকবল কমছিল। তাই আমাদের কিছু করার ছিল না। গত মঙ্গলবার শিবির কর্মীরা যখন বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে আমাদের ওপর হামলা করেন। মিডিয়ায় এই দৃশ্য দেখে আমাদের বড় ভাইয়েরা এগিয়ে আসেন। তখন শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যান। হল এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সেদিনের হামলায় আহত ছাত্রদলের অন্তত ১৪ জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

সংঘর্ষের পর হলে ফেরা শিবিরকর্মীরা চুপচাপ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গত বুধবার দুপুরে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রশিবিরকর্মীদের তাড়িয়ে দেয় ছাত্রদল। তবে শিবিরকর্মীরা রাতে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। তারা চুপচাপ আছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ তথ্য দিয়েছেন। এদিকে শিবিরকর্মীদের অভিযোগ, তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা আতঙ্কে আছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের কর্মীরা বলছেন, ক্যাম্পাস শিবিরমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে কোনো শিবিরকর্মী নেই। যারা আছেন, তারা গুপ্ত।

বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। সেদিন সকালে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক শোভাযাত্রা বের করে। এটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু। এজন্য উভয় সংগঠনই একে অপরকে দুষছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আশিক আহমেদের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে কর্মসূচি পালন না করতে শিবিরকর্মীদের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কথা না শুনে ছাত্রদল কর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনো হামলা চালাইনি। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই-তিনজনকে ধরে আমরা উপাচার্যের কাছে সোপর্দ করেছি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবুর দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি উপাচার্য ভবনের ফটকের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদল কর্মীরা অতর্কিত হামলা করেন। এতে তাদের অন্তত ৫ জন কর্মী আহত হন।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য মতে, সংঘর্ষের পর শিবিরকর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। তবে রাতে ফিরে আসেন। এরপর থেকে প্রকাশ্যে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা যায়নি। পরদিন বৃহস্পতিবারও ক্যাম্পাসের পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। শিবিরকর্মীরা ক্যাম্পাসে থাকলেও কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাননি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চব্বিশের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ববি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাপুটে অবস্থান ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল একক আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। তবে শিবিরের কার্যক্রমে বাধা দিত না ছাত্রদল। বিলুপ্ত হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতাকর্মীরা ছাত্রশক্তি নামে ক্যাম্পাসে থাকলেও তাদের অবস্থান খুবই দুর্বল। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার সংঘর্ষ হয়।

শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের বর্তমান কমিটি গঠিত হয় গত জানুয়ারিতে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশিত হয়েছে। সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী কমিটির অপর আটজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১২৭ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে গত ৩ মে। কমিটিতে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হয়। দুই সংগঠন হল শাখায় কমিটি দেয়নি।

ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাকারিয়া ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদলের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিবিরকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা ক্যাম্পাসে থাকলেও আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

ছাত্রদল সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ক্যাম্পাস শিবিরমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ক্যাম্পাসে কোনো শিবির নেই। যদিও কেউ থেকে থাকেন তারা গুপ্ত। শিবিরের কমিটি দুই সদস্যের। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে নেই। অন্যদের পদ না থাকায় পরিচয় লুকিয়ে ক্যাম্পাসে হয়তো থাকতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক মো. মেহেদি হাসান সমকালকে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। বুধবার শিবিরের সঙ্গে ও বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের সঙ্গে বৈঠক করেছি। অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে।’

সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল বেপরোয়া চালক, ১৮ মৃত্যু

মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না 
দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে 
সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী।  একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।