বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে দড়িকান্দি ইউনিয়নের খালা গ্রামে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাব, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘরটিতে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভায়। শুক্রবার সকালে পোড়া ঘরটি দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন এলাকার মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন এলাকার বাইরে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন
অপ্রতিম হত্যা নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, তদন্ত কর্মকর্তা বদল
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করবেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে গালাগাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় সমকালকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়ে জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রথমে তদন্ত শুরু করেন সদর দক্ষিণ মডেল
থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। তবে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তা পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। থানার এসআই সাইফুল ইসলাম সমকালকে জানান, এ মামলা এখন থেকে তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। মামলার যাবতীয় নথিপত্র দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। রাজিব আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তকাজ শুরু করা হবে। আশা করি, শিগগিরই তদন্তের পর দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’
ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি মিলেছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন
নিহত অপ্রতিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দেওয়া হয়। ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে তাঁর পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। অপ্রতিমের বাবা পরিচয় দিতেই অন্য প্রান্তের লোক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তিনি ফোন কেটে দিলেও ক্রমাগত কল দিতে থাকে। তিনি নম্বরটি ব্লক করেন। পরে অন্য আরেকটি নম্বর থেকে বারবার কল দেওয়া হয়।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে খুন হয়েছে। তাকে আইফোনের জন্য মারা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, সেটা আমরা জানি না। আমাদেরও শঙ্কা কাজ করে। মাঝেমধ্যে কিছু মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন কল দিয়ে খুব বাজে ভাষায় গালাগাল করা হয়।’ তিনি জানান, মোবাইলে ফোন দেওয়া ব্যক্তির বয়স খুব অল্প মনে হয়েছে।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলেকে মেরে ফেলার পরে আসামিরা আমার সঙ্গে এসে আমার ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের লিডাররাও যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা বিহিত না হলে কীভাবে হবে। আমরা নিরাপত্তার শঙ্কায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মৃত্যুর পর থেকে অনেকেই বাসায় আসছে। গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার লোকজন আসছেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীও আসছেন। এর মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের আমরা চিনি না। ফলে আমাদের ভয় হচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা হচ্ছে। আমি থানায় জিডি করব।’
চার দিন পরও জিডি না করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘ছেলেকে হারিয়েছি। আমরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় হুমকি-ধমকি আসছে। থানায় দৌড়ঝাঁপ করার মতো শক্তিটুকুও পাচ্ছি না।’ তবে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা জিডি করব। ডিবিকেও বিষয়টি জানাব।’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। অপ্রতিমকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানোর পর সানন্দার নির্জন পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
গত বুধবার কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এক রাতে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ৪৫১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে বাকি ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৬৩
কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযানে ২৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ১৮৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৯ পিস ইয়াবা ও ৭২ বোতল ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, অভিযানে ২২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৭৪ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, ভেন্যু পরিদর্শনে ডিআইজি
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ১ অক্টোবর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সফরের সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। আজ শনিবার ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের।
শুক্রবার দিনভর ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করেন ডিআইজি। এ সময় তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ডিআইজির পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসকও বিভাগীয় কমিশনারের ফেনী সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ফেনী সফর উপলক্ষে সফরসূচিতে থাকা বিভিন্ন স্থানের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী পরিদর্শনে যান। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ডিআইজি ফেনীর পরশুরামের মুহুরী নদীর স্টিল ব্রিজসংলগ্ন সম্ভাব্য জনসভাস্থল, পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অস্থায়ী হেলিপ্যাডের মাঠ, ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ মাঠ এবং ফুলগাজী ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন ডিআইজি।
এদিকে আজ বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন ফেনী সফরে এসে সফরের সম্ভাব্য ভেন্যু ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হুথিদের ছোড়া দুই ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ভূপাতিত করল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট
ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শনিবার ভোরে জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
জোটের এক্সে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এবং ড্রোন দুটি রাজধানী রিয়াদের দিকে যাচ্ছিল। সৌদির দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানায় জোটটি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে রাতে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় সতর্কবার্তা জারি করেছিল। তবে রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইয়েমেনের জনবহুল অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর দেশটির ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে চাপ রয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির বিকল্প পথও ঝুঁকিতে পড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।
গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তিটির লক্ষ্য হিসেবে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
শনিবার সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে রিয়াদে সৌদির ওপর হামলা মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়াসহ ইরানের অন্যান্য শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সব শর্ত মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এ জন্য সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তেহরান মার্কিন নৌ অবরোধ থেকে স্বস্তি চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। বর্তমানে প্রণালিটি তেহরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নেওয়ার পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে প্রস্তুত তারা।
তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ঠিক করছে ইসি অতীতের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ঠিক করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংঘাত ও সহিংসতামুক্ত ভোট নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিচ্ছে তারা। এ ক্ষেত্রে অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে চাইছে সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট শুরুর ‘প্রাথমিক পরিকল্পনা’ থেকে সরে আসায় ইসি এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে আরও সময় পাচ্ছে।
এর আগে ১২ নভেম্বর ইউপি নির্বাচন শুরুর ‘সম্ভাব্য তারিখ’ ঘোষণা করলেও সরকারের অসন্তোষ প্রকাশের পর সরে আসে ইসি। নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের নতুন পরিকল্পনার কথা বলছে ইসি।
ইসি সূত্র বলছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির ডাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন ঘিরে বিশেষ করে ‘বহিরাগতদের হস্তক্ষেপে’ ব্যাপক সহিংসতার শঙ্কা প্রকাশ করেন ইসি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। ‘বহিরাগত’ বলতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ভোটার এলাকার বাইরের প্রভাবশালীসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করেন তারা। নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গতি আনার কথাও বলেন কেউ কেউ। আলোচনা শেষে সম্ভাব্য সহিংসতা, বলপ্রয়োগ এবং ‘বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ’ প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত জানায় ইসি।
গত মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দেন সিইসি। পুলিশের আইজিকে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
পুলিশ, বিজিবি ও আনসারে ভরসা
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেটি না রাখার সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছে ইসি। স্থানীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নজির নেই। কেবল গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামানো হয়।
তবে স্থানীয় নির্বাচনে পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখার চিন্তা-ভাবনাও আছে ইসির। এজন্য জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারেও এটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আনতে চাইছে সংস্থাটি। তা ছাড়া ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
ইসির আরও যত পরিকল্পনা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতা মোকাবিলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করবে ইসি।
ভোটের আগে-পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমদের মোতায়েন করা হবে। প্রায় ৪৬ হাজার ৪০০ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা মেরামত অথবা নতুন করে স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশে ক্যামেরা, ড্রোনসহ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি থাকবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার এবং ভুল ও ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো ভুল তথ্য প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম নেওয়া হবে।
অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বেশি সংঘাত ও সহিংসতাপূর্ণ হয়ে থাকে। অতীতের স্থানীয় নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩ ও ১৯৯২ সালের নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক প্রাণহানি ঘটে। এরশাদ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ৮০ জন নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে ৩১ জন, ২০০৩ সালে ২৩ জন এবং ২০১১ সালে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) প্রকাশিত ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে মোট দুই হাজার ৩২৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে ৪১৭ জন নিহত এবং ২৮ হাজার ৩০৫ জন আহত হন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীমের মতে, অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সংঘাত-সহিংসতা বেশি দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সম্প্রতি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় নির্বাচনগুলো আরও সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে চায় ইসি। তবে একটি সফল নির্বাচন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের ওপর এটি নির্ভরশীল।
নিউইয়র্ক থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ।
সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর ৩০ কর্মসূচি, ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আমরা নতুন পর্যায়ে নিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। মাহদী বলেন, বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। মাহদী আমিন বলেন, এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে তিনি জানান।
চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘=আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আসিয়ানে সামর্থ্যের প্রতিশ্রুতি
এতদিন ফিফার টুর্নামেন্ট বলতে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কপালে জুটত স্রেফ বিশ্বকাপের সেই অন্তহীন, ধূসর বাছাই পর্বের শুরুর দিককার কিছু ম্যাচ। যেখানে মূল পর্বের আলো অধরাই থেকে যেত, আর টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যেত শুরুর বাঁশি বাজার অনেক আগেই। কিন্তু এবার গল্পটা আলাদা, প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ নতুন। বাংলাদেশ জাতীয় দল সরাসরি পা রাখছে ফিফার একটি মূল টুর্নামেন্টে ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’-এর রাজকীয় আঙিনায়। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতায় বাংলাদেশের (১৮১ র্যাঙ্কিং) প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া (১৩৬ র্যাঙ্কিং)। হামজা-শমিতদের জন্য এটা নিছক কোনো ম্যাচ খেলতে নামা নয়, ফুটবলের বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের এক নতুন আত্মপরিচয় লেখার ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু তাদের কোচ থমাস ডুলি কেন জানি এই টুর্নামেন্টকে শুধুই ‘শিক্ষা সফর’ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে চাইছেন।
আসিয়ানের মঞ্চে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি যেখানে কোচের মগজে স্রেফ একটি ড্রয়ের নিরাপদ বৃত্তে বন্দি, সেখানে তাঁর পদাতিক সৈন্যরা কিন্তু বুক চিতিয়ে গ্রুপ পর্ব টপকানোর স্বপ্ন দেখছে। ড্রেসিংরুমে চলছে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। একদিকে ৯ জন প্রবাসী ফুটবলারের রক্তে টগবগ করতে থাকা ইউরোপীয় পেশাদারিত্বের বারুদ, যার প্রতিচ্ছবি হামজা চৌধুরীর হুঙ্কার, ‘আমরা এখানে কাউকে ভয় পেতে আসিনি।’ আর ঠিক তার উল্টো পিঠেই দাঁড়িয়ে থমাস ডুলি! জাকার্তার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও একই বাস্তবতার ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে গেলেন কোচ। ‘মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে পারি, সুযোগ তৈরি করতে পারি, অন্তত একটি গোল করে ড্র করতে পারি, তবে সেটি অসাধারণ হবে। আর যদি জিতে যাই, তাহলে তো কথাই নেই। স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে।’ আসলে আসিয়ানের মঞ্চটিকে ডুলি নভেম্বরে সাফের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন। ‘আমাদের ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্ট সাফ। তাই এই টুর্নামেন্ট এবং আগামী নভেম্বরে হতে যাওয়া সাফের জন্য এটি চমৎকার প্রস্তুতি।’
কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২১১ নম্বর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দল সান ম্যারিনোর বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলিয়ে জয় পেয়েছেন ডুলি। তাই এখন আসিয়ানের তিন প্রতিপক্ষ র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর আর ইন্দোনেশিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জটা কঠিন শুধু নয় ‘অসম্ভব’ মনে করছেন ডুলি।
কিন্তু পরিসংখ্যান বলে আজকের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া কিন্তু তাদের গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে। ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন আর থাইল্যান্ডের কাছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে হারিয়েছে সান ম্যারিনো আর ভারতকে। তবে প্রস্তুতির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে বাংলাদেশের। হামজা যেখানে গত তিন মাসে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে মালয়েশিয়া গেল দুই মাসে খেলেছে পাঁচটি ম্যাচ। তার পরও বুক চওড়া করে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন হামজাদের মতো বিদেশি লিগে খেলা বাংলাদেশিরা। তাদের কাছে ফিফার চেয়ে আসিয়ান কাপের মতো মর্যাদার টুর্নামেন্ট খেলাটা অনেক বেশি প্রেরণার। ডুলির এই অতি-সাবধানী ‘ড্র’ সমীকরণের আড়ালে বাংলাদেশ ফুটবলের আসল বারুদটা কিন্তু লুকিয়ে আছে স্কোয়াডের ভেতরেই। এবার লাল-সবুজের ডেরায় যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের রক্তের নতুন জোয়ার এসেছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আক্রমণভাগে যদি ফারহানের মতো গতিশীল আর চতুর উইঙ্গার থাকেন, যিনি ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের কোমর ভেঙে দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন, তবে বক্সে কামড় দেওয়ার জন্য আছেন শুকির মতো জাপানি বংশোদ্ভূত খাঁটি গোলশিকারি স্ট্রাইকার। শুধু কী আক্রমণভাগ? মাঝমাঠের সেই ইঞ্জিনরুমে হামজা চৌধুরী আর শমিতের সঙ্গে এসে যুক্ত হয়েছেন ফাহামিদুল– প্রবাসী ফুটবলের আরও এক নতুন কারিগর। আর রক্ষণদুর্গের দিকে তাকালে তো ভরসার চওড়া বুক! জায়ান আর তারিক কাজীর চেনা দেয়ালের পাশে এবার যোগ হয়েছে জিদান ইউসুফের মতো নিখুঁত ডিফেন্ডার। এই ৯ প্রবাসীর পায়ে ভর করে বাংলাদেশ আজ আর স্রেফ লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, আসিয়ানের মঞ্চে যে কোনো পরাশক্তির ঘুম কেড়ে নেওয়ার এক বিস্ফোরক সম্ভাবনা বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও তাদের কোচ নিজেরই তাতে বিশ্বাস নেই!
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি
ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই প্যাকেটজাত নুডলস, চিপস, বিস্কুট, কেক, কোমল পানীয়, ইনস্ট্যান্ট খাবারসহ নানা ধরনের অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। সহজে পাওয়া যায় এবং দ্রুত খাওয়া যায় বলে এসব খাবার অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে এসব খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন এক গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বেশি গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই খাবার বাছাইয়ের সময় শুধু স্বাদ বা সুবিধার কথা না ভেবে খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
‘ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও ওশেনিয়ার ৫১টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ৮৮ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ গ্রাম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ১১ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব ফলাফল সম্পর্ক নির্দেশ করে; প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করে না।
খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনুন
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর সহজ উপায় হলো দৈনন্দিন খাবারে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম, মাংস, দুধ, ফল, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। বাড়িতে রান্না করা খাবারকে অগ্রাধিকার দিলে খাবারে লবণ, চিনি ও তেলের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
প্যাকেটের লেবেল দেখুন
প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে পুষ্টিগুণের তথ্য ও উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়ার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি রয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। শুধু ‘হেলদি’, ‘লো ফ্যাট’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা দেখে কোনো খাবারকে স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্যাকেটের পেছনে থাকা উপাদান ও পুষ্টিগুণের তথ্যও দেখা প্রয়োজন।
ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন
ক্ষুধা লাগলে যাতে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে না পড়েন, সে জন্য ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত রাখতে পারেন। মৌসুমি ফল, বাদাম, দই, সেদ্ধ ডিম বা ঘরে তৈরি হালকা নাশতা হাতের কাছে থাকলে প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমানো সহজ হয়।
ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলান
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার একদিনে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের একটি বা দুটি খাবার থেকে প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে তার বদলে তাজা বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবার যোগ করা যেতে পারে। বাইরে খাওয়ার সময়ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে সহজ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস করুন।
কেন কমানো জরুরি
গবেষকদের মতে, একাধিক খাদ্য-সংযোজকের সংমিশ্রণ মানবস্বাস্থ্যের ওপর সম্মিলিত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষাগারের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভৌত গঠনের পরিবর্তন অন্ত্রের অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে প্রদাহ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।
এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার প্রক্রিয়াজাত করার সময় তৈরি হওয়া অ্যাক্রিলামাইড এবং চর্বি বা তেল গরম করার সময় উৎপন্ন অ্যাক্রোলিনের মতো কিছু উপাদানের সঙ্গেও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
প্রতিদিনের খাবারে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমিয়ে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তন আনলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাসও গড়ে উঠবে।


