Home Blog Page 70

সকালের সেশন বাংলাদেশের, ১৫ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার

০

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটিও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে সফরকারীরা। তবে ক্যামেরন গ্রিনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা লিডও নিয়ে নিয়েছে।

সকালের ৩১ ওভারে ৮২ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া, হারিয়েছে তিন উইকেট। মিরাজ একাই শিকার করেছেন অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে। ফলে ৮৪ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে লাঞ্চে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ১৫ রান।

দিনের শুরুতেই অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মিরাজ। ৩০ রানে থাকা ক্যারি অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হন। এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়তে আসা বিউ ওয়েবস্টারকে ৫ রানে বোল্ড করেন এই অফ স্পিনার।

প্যাট কামিন্সের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন গ্রিন। দলীয় ২০০ রান পেরিয়ে যাওয়ার পর কামিন্সকে অবশ্য বেশি দূর যেতে দেননি মিরাজ। ৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে শর্ট লেগে সাদমান ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরান তিনি। তাতেই ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন। ১০৯ বলে ফিফটি পূরণ করা এই অলরাউন্ডার লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮৫ রানে অপরাজিত। তার সঙ্গে ১৪ রানে অপরাজিত মিচেল স্টার্ক। দুজন মিলে গড়েছেন ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

সকালের সেশনে তিন উইকেট তুলে বাংলাদেশ চাপ ধরে রাখলেও গ্রিনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া এখন ম্যাচে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে। স্বাগতিকদের লিড আরও বড় হওয়ার আগেই শেষ তিন উইকেট তুলে নেওয়াই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।

ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি

ছেলের স্ত্রীর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান

ব্রুনেইয়ের সুলতান তার এক পুত্রবধূর সব রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তার আচরণ ‘অশোভন’। চলতি মাসের শুরুতে ব্রুনেই দারুসসালামের গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর এক আদেশের পর তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয় এবং তাঁর (পুত্রবধূ) রাজকীয় উপাধিগুলো বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর উপাধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে।

৩৩ বছর বয়সী পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ ব্রুনাইয়ের প্রিন্স আবদুল মালিকের (৪৩) স্ত্রী। আবদুল মালিক সিংহাসনের উত্তরাধিকার ক্রমে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন।

পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিষ্টান শহর তাইবাতে ভয়, আতঙ্ক

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট একমাত্র খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবা। ঐতিহাসিক সেন্ট জর্জ চার্চ ও শতাব্দীর প্রাচীন ঐতিহ্যের এই শহরে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান বসবাস করছেন। তবে চারপাশের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি গড়ে ওঠায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি শহরটিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সশস্ত্র অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রোলান্ড বাসির নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে শহরে একটি কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত হামলা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে।

শহরের মেয়র সুলেমান খুরিয়া জানান, বসতি স্থাপনকারীরা কেবল ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেই গবাদিপশু চরাচ্ছে না বরং স্থানীয় পানির উৎসগুলোর নিয়ন্ত্রণও কেড়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিয়াজোঁ অফিস ও পুলিশে বারবার লিখিত আবেদন করেও প্রশাসন বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাইবা ও রামুন গ্রামকে ‘অবরুদ্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করেছে। তবে স্থানীয় অধিবাসীরা মনে করছেন, এটি মূলত মানবাধিকার কর্মীদের দূরে রাখার কৌশল, যা শহরটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।

আইএলওর রিপোর্ট বিশ্বে তরুণদের ২০% শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে

বিশ্বজুড়ে তরুণদের জন্য চাকরির বাজার যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, বেকারত্বের সামগ্রিক হারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য স্থায়ী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষতার ঘাটতি, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য প্রভাব।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–আইএলওর প্রতিবেদন ‘তরুণদের জন্য বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রবণতা–২০২৬’ এই চিত্র তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে এবং শোভন কর্মসংস্থানে পৌঁছানোর পথ আরও কঠিন হচ্ছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সমস্যা শুধু বেকারত্বের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। আইএলওর হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে তরুণদের ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এক বছরে আরও প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এই অবস্থায় পড়েছে। ২০২৭ সালে হারটি ২০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নারীদের নিয়ে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে না থাকা তরুণ নারীদের হার পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় এই বৈষম্য আরও তীব্র। এখানে পুরুষদের তুলনায় প্রায় চারগুণ।

আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান শ্রমবাজারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে তরুণদের জন্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; ডিজিটাল দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, বিশ্লেষণ এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে চার লাখ কোটি টাকা

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। উচ্চ খেলাপির কারণে ঋণ বিতরণে সতর্কতা দেখাচ্ছে ব্যাংক। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। ঝুঁকিমুক্ত বিবেচনায় ভালো ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দেওয়ায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে রেকর্ড পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য তৈরি হয়েছে। গত জুন শেষে প্রথমবারের মতো উদ্বৃত্ত তারল্য চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত দিতে না পারায় মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা বেড়েছিল। বর্তমানে এ প্রবণতা কমেছে। ঘরের টাকা ব্যাংকে ফিরছে। তবে এই অর্থ আসছে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকের কাছে। ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদ দিলেও যথাসময়ে টাকা ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে সেখানেই টাকা রাখছে বেশির ভাগ মানুষ। ফলে ঋণ বিতরণও করছে মূলত হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকেই উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ।

উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই নগদ বা তাৎক্ষণিক ঋণযোগ্য তহবিল নয়; বরং উদ্বৃত্ত অর্থের অধিকাংশই বিভিন্ন বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে আছে। বিল ও বন্ডের বিপরীতে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসএলআর বা সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ সংরক্ষণ করে থাকে। বর্তমানে একটি ব্যাংকের তলবি ও মেয়াদি দায়ের ১৩ শতাংশ এসএলআর হিসেবে রাখতে হয়। এ ছাড়া নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআর রাখতে হয় ৪ শতাংশ। এ দুয়ের অতিরিক্ত অর্থ উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত। প্রয়োজন হলে বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকগুলো যে কোনো সময় নগদায়ন করতে পারে। যে কারণে এই অর্থ উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী– গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা। আগের মাস মে শেষে যা ছিল তিন লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল তিন লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুন শেষে যা এক লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা ছিল। ২০২২ সালের জুন শেষে ছিল দুই লাখ তিন হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন ঋণ নিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আবার এখন যে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে, এর বেশির ভাগই কয়েকটি ব্যাংকের কাছে। এসব ব্যাংক ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি বিল, বন্ডে টাকা খাটানোর ওপর জোর দিয়েছে। এ প্রবণতার ফলে শিল্প উৎপাদন কমে যাবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগসহ অবকাঠামো ঠিক করতে না পারলে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়বে না। এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ঋণের সুদহার কমে আসবে। তবে দুর্বল ব্যাংকের কারণে আমানতের সুদ অনেক বেশি কমবে না। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের সর্বোচ্চ ব্যবধান (স্প্রেড) ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মে মাসে কম সুদের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তাতে তেমন সাড়া মিলছে না। এর মধ্যে নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করেছে। এর আগে করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাংক খাতে ঋণ চাহিদা ব্যাপক কমে যায়। ওই সময়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ভর্তুকি সুদে ১২টি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৯৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বিতরণের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশির ভাগ প্রণোদনা তহবিলের সুদহার ছিল ৪ শতাংশ। এরপরও ঋণ সেভাবে বাড়েনি। যে কারণে ২০২১ সাল শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দুই লাখ ৩১ হাজার ৭১১ কোটি টাকায় ওঠে। ওই সময় পর্যন্ত উদ্বৃত্ত তারল্যের যা ছিল রেকর্ড। তখন বিতরণ করা ঋণের অপব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ডে মৃত্যু টানাটানির দুই সংসারে দুই সন্তান হারানোর শোক

২০১৮ সালে এসএসসি পাস করেছিলেন মোহাম্মদ খোকন মিয়া। কাজের সন্ধানে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বাড়ি ছেড়ে সে বছরই ঢাকায় যান। কয়েক বছর কাজ করেন পোশাক তৈরির কারখানায়। ২০২৫ সালে তিনি যোগ দেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে। এক বছরের মাথায় গত শুক্রবার স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে অন্য আটজনের সঙ্গে প্রাণ গেছে তাঁর।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামে আনা হয় খোকনের (২৬) মরদেহ। এ সময় স্বজনের কান্নায় দেখা দেয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয় খোকনের। তিনি ওই গ্রামের মো. রানা মিয়ার ছেলে।
এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খোকন সবার ছোট। খোকনের আয়েই টানাটানি করে চলত সংসার। তিন বছর আগে পাশের গ্রামের শাপলা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। এ দম্পতির একমাত্র ছেলে জিসানের বয়স সবে দেড় বছর।

মো. রানা মিয়া বলেন, ‘ছেলের বেতনে সংসার চলত। মালিক আমার সেই ছেলেটিকে কেড়ে নিল। এখন আমার দেড় বছর বয়সী নাতি জিসানের দায়িত্ব নিবে কে? অল্প বয়সে আমার নাতি বাবাহারা হয়ে গেল। তাকে নিয়ে কোথায় যাব?’
স্বামীর সঙ্গে কিছু বিরোধের কারণে সাত-আট মাস ধরে বাবার বাড়িতেই আছেন শাপলা বেগম। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন শ্বশুরবাড়ি। শিশু জিসানের ভরণপোষণের জন্য কোম্পানি ও সরকারের সহায়তা চান শাপলা ও তাঁর শ্বশুর।

ধোপাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মণ্ডলের ভাষ্য, অকালে ছেলেটিকে হারিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল। তাঁর শিশুসন্তান ও পরিবারের সহায়তা দরকার। ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, তাঁর নজরে এসেছে এই দুর্ঘটনার তথ্য। তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

‘ব্যাটাক কারখানাত মারি ফেলালো’
‘বড় ছেলে বিয়ে করি আলাদা খায়। সংসার চালাতো ছোট ছেলে রানা। সেই ব্যাটাক ওমরা (ওরা) কারখানাত নিয়ে যায়া মারি ফেলালো।’ এমন আর্তনাদ করছিলেন মনোয়ারা বেগম। তাঁর ছেলে মোহাম্মদ রানা মিয়া (২৩) মারা গেছেন একই দুর্ঘটনায়। গতকাল গাইবান্ধা সদরের কুপতলা ইউনিয়নের গোডাউন বাজারসংলগ্ন উত্তরপাড়া গ্রামে দেখা যায় তাঁর স্বজনের আহাজারির দৃশ্য।
গতকাল সকাল ৯টায় রানার লাশ পৌঁছায় বাড়িতে। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাড়িতে  মা মনোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘কয়েকদিন আগেই বাড়িত আসছিল। মোর বাওয়ার (ছেলে) সাথে আর দেখা হবে না। হামরা এখন কিভাবে বাঁচি থাকমু?’

উত্তরপাড়ার হারুন মিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সবার ছোট রানা। পেশায় কৃষক হারুন মিয়া অনটনের মধ্যেও তিন সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। বড় ছেলে মোনারুল চট্টগ্রামে আবুল খায়ের স্টিল মিলে কর্মরত। রানাও সেখানে কাজ করতেন। কারখানা বন্ধ হওয়ায় সম্প্রতি ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ নেন।

রানার সঙ্গে একই সঙ্গে পড়াশোনা করতেন প্রতিবেশী তয়ন ইসলাম। তয়নের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালে রানা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার জন্য কিছুদিন আগেই বাড়িতে এসেছিলেন রানা। ‘এভাবে সে মারা যাবে, ভাবতেও পারছি না’ বলে চুপ করে যান তয়ন। প্রিয় বন্ধু হারানোর শোক তাঁকে যেন চেপে ধরেছে।
উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকার দেখছেন হারুন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে। অভাবের কারণে পড়ালেখা শেষ করার আগেই সংসারের হাল ধরতে চট্টগ্রামে চাকরি নেয় রানা। সেই সংসার চালাতো। আমি গরিব মানুষ, জমিজমা নাই। রানার মৃত্যুতে আমি একেবারে শেষ। সংসারের হাল ধরার মতো আর কেউ থাকল না।’

মাদ্রাসার পাশে বিস্ফোরণ, আহত চার শিশুশিক্ষার্থী

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসায় হাতবোমা বিস্ফোরণে চার শিশু আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এক শিশু টেনিস বলের মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে খেলার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হন। মেহেরপুরের তিনটি জায়গায়  বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ জানায়, তারা এসব জায়গা থেকে সাউন্ডবক্স উদ্ধার করেছে।

বল ভেবে খেলা শুরু 
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ৯টা। কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুরের দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সামনে খেলছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। তাদের একজন পাশের ইমন সরদারের ঘরের সামনে টেনিস বলের মতো বস্তু কুড়িয়ে পায়। সেটি দিয়ে খেলা শুরু করতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় পৌরসভার মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের মেয়ে আবিদা আক্তার (১১), পশ্চিম মিনাজদী এলাকার ছিরাতুল তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুর এলাকার রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার মিনহা (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) আহত হয়। তাদের সঙ্গে সুলতানা নামের আরেক শিশু থাকলেও সে অক্ষত আছে।

আবিদার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই শিশুরা সবাই মাদ্রাসাটিতে নূরানি পড়ত বলে জানান শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ওরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে খেলতে খেলতে সেখানে গিয়েছিল। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এখানে যারা বোমা রেখেছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত শাস্তির  আওতায় আনার দাবি জানান।

ইমন সরদার বলেন, তাঁর ঘরের সামনে কীভাবে এমন বিস্ফোরণ হলো, এ বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই। নাহিদা খানম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘মারাত্মক একটি ঘটনা ঘটে গেল। ভাগ্য ভালো যে, বড় ধরনের কিছু হয়নি, কেউ মারা যায়নি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানিয়েছেন, সংবাদ পেয়েই কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে সেখানে র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যান। কীভাবে হাতবোমাটি সেখানে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আহত যুবক পুলিশি নজরদারিতে
বেলা ১১টার দিকে যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হয়েছেন। যশোর-চুকনগর সড়কের উপজেলার মধ্যকুল তেলপাম্পের উল্টোপাশে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আহত জুয়েল সরদারকে (২৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার খানজাহান আলী সরদারের ছেলে। তাঁর ওপর নজরদারি করছে পুলিশ।

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আরও দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে স্প্লিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে কাচের গুলিসদৃশ দুটি পোঁটলাও পাওয়া গেছে। আহত জুয়েল সরদার পুলিশি নজরদারিতে আছেন।

বোমাতঙ্কের পর বাজল ভাষণ
এদিন ভোর থেকে মেহেরপুর শহরের তিনটি জায়গায় বৈদ্যুতিক তারে ঝোলানো বস্তু নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। পুলিশ সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, শহরের কোর্টমোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে থেকে সেগুলো উদ্ধার করে জানায়, এসব বোমা নয়, অটোরিকশায় থাকা সাউন্ডবক্স। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সকাল সোয়া ৯টার দিকে পার্কের সামনে থাকা বক্সটি থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজছিল।

পুলিশ জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতের খুঁটির তারে একটি বক্স আকৃতির বস্তু দেখতে পান এলাকাবাসী। তখন সেটি বোমা মনে করেন অনেকে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল জনসাধারণের সাহায্যে বক্সটি নামিয়ে আনে। পানিভর্তি বালতিতে রাখার কিছুক্ষণ পর ব্যাটারির সঙ্গে তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাক্স খুলে দেখা যায়, এগুলো সাউন্ডবক্স। ভেতরে মেমরি কার্ড আছে। পরে শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে আরও দুটি একইরকম বস্তু পাওয়ার সংবাদ পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

সদর থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, ‘ঘটনাটি আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়। এগুলো বোমা নয়। অটোবাইকে ব্যবহৃত সাউন্ডবক্স। এতে মেমরি কার্ড লাগানো। এগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এসব রাখায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

ভালো ফলে আনন্দের সঙ্গে ‍দুশ্চিন্তা

এসএসসিতে ভালো ফল করলে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার আনন্দিত হয়। কিন্তু জয়পুরহাট সদর, রাজশাহীর বাঘা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তিন কন্যার মনে ততটা উচ্ছ্বাস নেই। ভালো ফল তাদের জন্য আনন্দের সঙ্গে বয়ে এনেছে একরাশ দুশ্চিন্তা। দারিদ্র্যের বাধা ডিঙিয়ে পড়াশোনা আর চালিয়ে নিতে পারবে কি না সে উৎকণ্ঠায় তাদের মন ভার।
অভাব-অনটনের সংসার। থাকার জন্য ছোট্ট একটি টিনের ঘর। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। মা-বাবা ও ছোট বোনসহ সন্ধ্যা খাতুন এককক্ষের সেই ঘরেই থাকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো কলেজে পড়ানোর সামর্থ্য পরিবারের নেই।

সন্ধ্যা খাতুন রাজশাহীর চারঘাটের বামনদিঘী মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বামনদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে সে। তার বাবা বকুল আলী ইটভাটার শ্রমিক এবং মা মান্নি আরা বেগম গৃহিণী।
বামনদিঘী মন্ডলপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় সন্ধ্যার সঙ্গে। সে বলে, আমার স্বপ্ন বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হবো। অনেক কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। এখন ভালো একটি কলেজে ভর্তি হতে চাই। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। সন্ধ্যার মা মান্নি আরা বেগম বলেন, মেয়েটার পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই। সরকারি সহযোগিতা করলে মেয়েটা ভালোভাবে পড়তে পারত।

ভবিষ্যৎ চিন্তায় কাঁদছে কণিকা
জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে কণিকা রাণী পাল। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার। সে পর্যন্ত যাওয়া তো অনেক দূর, এখন কলেজে ভর্তি হতে পারবে কি না সেই চিন্তায় কাঁদছে মেয়েটি।
সদর উপজেলার মাধাইনগর বাজারের পাশেই তাদের মাটির বাড়ি। বাবা গোপাল চন্দ্র পাল দরজি শ্রমিক। মা মালতি রাণী পাল বাড়িতে মাটির পাত্র তৈরি করেন।
প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বেতন ভাতা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের যাবতীয় ব্যয়ভারে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেন। আর সারাবছর বিনা টাকায় টিউশনিতে সহযোগিতা করেন স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক।

মা মালতি রাণী পাল বলেন, অভাবের কারণে পড়ালেখা বন্ধের কথা বললেই মেয়ের দুচোখ দিয়ে জল ঝরে। তার বাবার সামান্য আয়ে সংসারই চলে না। নিজেও মাটির পাত্র বানিয়ে বিক্রি করি। দুজনের এই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাব না মেয়েকে পড়ালেখা করাব?
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক বলেন, অর্থাভাবে মেয়েটি যদি কলেজে ভর্তি হতে না পারে তাহলে সব অর্জন বৃথা যাবে। প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, শুধু কণিকা নয় অভাবের কারণে স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীর যেন পড়ালেখা বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা সবসময় থাকবে।

পড়াশুনা না সংসার চিন্তায় ইতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার লাভাঙ্গা গ্রামের শিক্ষার্থী ইতি খাতুন রাণীহাটি এম এল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছে।
পরীক্ষার শেষদিকে অসুস্থ বাবা মারা যান। তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন সংসারে আছে ইতি, তার মা ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোন। সংসার চলবে না, কলেজে ভর্তি হবে এ চিন্তায় দিন কাটছে ইতির। সে জানায়, গরিব শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পড়ে এজন্য একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায় সে।

উদ্ভাবন শুঁটকি ও খাদ্য সংরক্ষণে লাগবে না রোদ

কৃষি ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সংগ্রহ-পরবর্তী সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ঘাটতির কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে মাছ, শুঁটকি, ফল ও সবজি শুকানোর ক্ষেত্রে বৃষ্টি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের কারণে পণ্যের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোদে শুকাতে গিয়ে বৃষ্টি, ধুলাবালিসহ নানা সমস্যা পোহাতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সৌরশক্তি, সেন্সর ও ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্মার্ট ড্রায়ার উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ।

গতকাল শুক্রবার শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা। উদ্ভাবকদের দাবি, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই ড্রায়ারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দ্রুত ও নিরাপদে মাছ, শুঁটকি, ফল, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকানো সম্ভব।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য খোলা জায়গায় রোদ ও বাতাসের সাহায্যে শুকানো হয়। কম খরচের এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি, ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের সংস্পর্শে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শুকানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে পচনও শুরু হতে পারে। শুঁটকি তৈরিতে অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।

এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে স্মার্ট ড্রায়ারে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শুকানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে তা ব্যাটারিতে সঞ্চয় করা হয়। রাতে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে ইনফ্রারেড হিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ উৎপাদন করা যায়। ফলে বাইরে বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া থাকলেও ড্রায়ারের ভেতরে শুকানোর কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব।

ড্রায়ারটির ভেতরে রয়েছে চারটি এক্সজস্ট ফ্যান ও আটটি রোটেটিং ফ্যান। এক্সজস্ট ফ্যান পণ্য থেকে বের হওয়া আর্দ্রতা দ্রুত বাইরে সরিয়ে ড্রায়ারের ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে রোটেটিং ফ্যান ভেতরের তাপ সমভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে বিভিন্ন স্তরে থাকা পণ্য তুলনামূলকভাবে সমান পরিবেশে শুকানোর সুযোগ পায়। প্রযুক্তিটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ইন্টারনেট অব থিংস ও সেন্সরভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ড্রায়ারের ভেতরের বিভিন্ন পরিবেশগত বিষয় সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেও এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।
উদ্ভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা কার্যকরভাবে মাছ শুকানো যায়। বিপরীতে স্মার্ট ড্রায়ারে ২৪ ঘণ্টা শুকানোর সুযোগ থাকায় শুকানোর সময় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একই সময়ে বেশি পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু মাছ বা শুঁটকি নয়, এই প্রযুক্তিতে ফল, সবজি, সি-ফুড ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা যায়। আম, বিটরুট, রোজেলা, লেমন, কাঁঠাল, কলা, করলা, কাঁচামরিচ ও ধনিয়াপাতাসহ বিভিন্ন পণ্য থেকে পাউডার, চা ও জার্কি তৈরিও সম্ভব এই ড্রায়ার ব্যবহার করে।

উদ্ভাবক ড. মাসুদ রানা বলেন, লক্ষ্য শুধু একটি শুকানোর যন্ত্র তৈরি করা নয়; বরং কৃষক ও মৎস্যজীবীদের উৎপাদিত কাঁচামাল স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা। দেশের বিভিন্ন কৃষি ও মৎস্যপ্রধান এলাকায় প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণ করা গেলে খাদ্য অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এক দিন পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিট থেকে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এ ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হঠাৎ ১ নম্বর ইউনিটের একটি পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ইউনিটটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ওই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু রয়েছে। এ ইউনিট থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে।