Home Blog Page 75

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কনভেনশন সেন্টারসহ বেশ কিছু জায়গাতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কনভেনশন সেন্টারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গাতে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে জামাতে আদায় করা হয় ঈদের নামাজ। এতে অংশ নেন কয়েকশ মুসল্লি।

এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই রেওয়াজ মেনে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন স্থানীয় কিছু মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক নারী ও পুরুষ মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের জামাতের ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী। জামাত শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া পটুয়াখালীতে ৩৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছে। আবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে সাড়ে ৭টার দিকে গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মিজানুর রহমান। নারী ও শিশু মুসল্লিরাও এতে অংশ নেন। মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এ জামাতে গাবতলীসহ কাহালু ও ধনুট উপজেলা থেকেও কিছু সংখ্যক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। বৈরী আবহওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এবারে জামাত খোলা মাঠের অনুষ্ঠিত না হয়ে মসজিদের ভেতরে অর্ধশত মুসল্লি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, আবহাওয়া কারণে অনেকে এবারে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলীতে এটি ছিল ৪র্থ বারের মতো আগাম ঈদ উদযাপন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আয়োজকদের দাবি, বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সে অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করা উচিত। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।

এদিকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

তিনি লেখেন, ‘ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্যাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।’

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কো রবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা আজ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

এরপর দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

সরকার পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে চায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার আশ্বাস এডিবির

দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আগামী পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিতে চায় সরকার। জুনের মধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অন্তত তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা আগামী পাঁচ বছরে মোট পাঁচ বিলিয়ন ডলারের (৫০০ কোটি ডলার) ঋণ প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে  উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে বর্তমান ঋণ কর্মসূচির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন একটি তিন বছর মেয়াদি সংস্কারভিত্তিক ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায়  তিন বছর মেয়াদি নতুন সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে আইএমএফ থেকে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচিতে সম্মত আইএমএফ 
গত বৃহস্পতিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে চলমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছিল। পরে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না, বরং বাস্তবসম্মতভাবে ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছরের একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করতে পারে। তখন ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের মধ্যে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।

বিভিন্ন সময়ে সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ছিল অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়াও সহজ হয়। সরকার আশা করছে, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি ইতিবাচক হলে বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা পাওয়া সহজ হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে অন্তত ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা আশা করছে সরকার।

এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সমন্বিত প্রবৃদ্ধিভিত্তিক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়া হবে। এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এই প্যাকেজের আওতায় প্রতিবছর গড়ে এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন করা হবে, যা এডিবির নিয়মিত বার্ষিক ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপে প্রবেশ করছে এবং এডিবি এ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাশে থাকবে। তিনি ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার এবং শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সম্প্রতি এডিবি এ খাতে আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন দিতে এডিবি তাদের বার্ষিক সার্বভৌম ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে বার্ষিক ঋণের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এই অর্থ বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়ক হবে।

আজ পবিত্র হজ, দুয়ারে ঈদ

ত্যাগের বাণী নিয়ে বছর ঘুরে এসেছে মনের পশুত্ব ত্যাগ করে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষকে পরাভূত করার সময়। এসেছে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উত্তম সময়। আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজ। সারা বিশ্ব থেকে সমবেত হওয়া লাখো হাজির কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান নিইমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’ ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল। বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে ঈদ।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরব গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার হাজি। বিভিন্ন দেশের ও স্থানীয় হজযাত্রী মিলে হাজির সংখ্যা এ বছর ১৬ লাখের মতো। ধর্মপ্রাণ এই মুসলমানরা সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে আজ পবিত্র হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতির মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ হজের দ্বিতীয় রুকন আদায়ের জন্য তারা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই ময়দানে অবস্থান করবেন তারা।

আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে জোহরের নামাজের শেষ ওয়াক্তে হজের খুতবা পাঠ করা হবে। এরপর সেখানে সমবেতরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়ায় অংশ নেবেন। এ বছর আরাফার ঐতিহাসিক খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ আলি বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের পর কিছু সময় পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা।

ত্যাগের ঈদ, আনন্দের ঈদ 
বাংলাদেশে ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন। পশু প্রতীক মাত্র। কবি নজরুল বলেছেন– ‘মনের পশুরে করো জবাই/ পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।’
ইসলাম ধর্মমতে, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, আদরের ধন পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন ইব্রাহিম (আ.)। পিতার এই সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেন পুত্র ইসমাইল (আ.)।

Untitled 1 1779767389

এরপর ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির প্রস্তুতি নেন পিতা ইব্রাহিম (আ.)। কিন্তু আল্লাহতায়ালা ইব্রাহিমের (আ.) কঠোর আনুগত্য ও ত্যাগকে গ্রহণ করেন। ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে কোরবানি হয় একটি দুম্বা। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার স্মরণে মুসলমানরা প্রতি বছরের ১০ জিলহজ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে কোরবানি করেন।

এই পশু কোরবানি সম্পূর্ণ রূপক। আল্লাহর পথে ত্যাগই ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা। পশু জবাই করে তা বিলিয়ে দেওয়া দান নয়, ত্যাগ। তাই তো কবি নজরুল ঈদজ্জোহা কবিতায় বলে গেছেন– ‘চাহি নাকো দুম্বা উট, কতটুকু দান? ও দান ঝুট। চাই কোরবানি, চাই না দান।’

সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। সামর্থ্যবানরা নিজেদের নামে, প্রিয়জনের নামে পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে সচেষ্ট হবেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারাও বাদ যাবেন না ঈদের আনন্দ থেকে। কেননা, কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করা উত্তম। এর মধ্যে এক ভাগ বিলিয়ে দিতে হয় গরিব মিসকিনকে। আত্মীয়দের দিতে হয় এক ভাগ। আর অবশিষ্ট এক ভাগ নিজের ও পরিবারের জন্য। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পবিত্র এই মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি দেওয়া যায়। সে হিসাবে আগামী শুক্র ও শনিবারও কোরবানি করা যাবে।

নাড়ির টানে শহরবাসী কোটি মানুষ পথের ভোগান্তি জয় করে ফিরছেন শিকড়ের কাছে। ঈদগাহ ময়দানও প্রস্তুত। সকালের শুরুতেই মুসল্লিরা ঈদগাহে যাবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ে। ফিরে এসে আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের প্রধান জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে হবে পাঁচটি ঈদ জামাত। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আয়োজনে বিভিন্ন মসজিদ ও মাঠেও হবে ঈদের জামাত।

ত্যাগের দিন হলেও তো ঈদ বলে কথা! ত্যাগের এই ঈদ বাঙালি মুসলমানরা উদযাপন করেন দারুণ জৌলুসে। বাংলাদেশে ইসলাম আগমনের প্রথম যুগে ঈদ সাদামাটাভাবে উদযাপন করা হলেও মোগল ও নবাবি আমলে ঈদ উৎসবের রূপ পায়। সতেরো শতকে পরিব্রাজক মির্জা নাথানের ‘বাহরিস্তানে গায়েবী’ বইয়ে বাঙালির বর্ণিল ঈদের বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ঈদে বাঙালি মুসলমানরা একে অন্যের বাড়িতে যান। অতিথির জন্য আহারের ব্যবস্থা থাকে। ঈদের দিনে মুসলমানরা সুন্দর পোশাক পরে। অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মুক্ত হস্তে দান করেন। সেই ধারায় আজও ঈদ উদযাপিত হয় জৌলুসের সঙ্গেই।
ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদরা দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিক ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সরকারি ছুটি সাত দিনের। পত্রিকায় ছুটি থাকবে পাঁচ দিন। হাসপাতাল, শিশুসদন, আশ্রয়কেন্দ্র ও কারাগারে বিশেষ খাবার দেওয়া হবে ঈদের দিন।

রদ্রিগেজকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা কলম্বিয়ার

অসুস্থতা ও অনিয়মিত মৌসুমের পরও ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কলম্বিয়ার দলে জায়গা পেয়েছেন অধিনায়ক জেমস রদ্রিগেজ। ৩৪ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারকে নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

গত মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে রদ্রিগেজ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তীব্র পানিশূন্যতার কারণে তাকে তিন দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর দলে আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হবেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজ। তবে সৌদি ক্লাব আল নাসরের ডিফেন্ডার জন ডুরান দলে জায়গা পাননি, যা কিনা দেখা হচ্ছে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি কলম্বিয়া। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়।

বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য আসে ২০১৪ সালে, যখন তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। সেখানে তারা হেরে যায় স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে কলম্বিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘কে’-তে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, উজবেকিস্তান ও কঙ্গো।

কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক:

কামিলো ভার্গাস, আলভারো মনতেরো, ডেভিড ওসপিনা

রক্ষণভাগ:

দাভিনসন সানচেজ, জন লুকুমি, ইয়েরি মিনা, উইলার দিত্তা, ড্যানিয়েল মুনিওজ, সান্তিয়াগো আরিয়াস, হোহান মোহিকা, দেইভার মাচাদো

মিডফিল্ডার:

রিচার্ড রিওস, জেফারসন লেরমা, কেভিন কাস্তানো, হুয়ান কামিলো পোর্তিয়া, গুস্তাভো পুয়ের্তা, জন আরিয়াস, হোর্হে কারাসকাল, হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরো, হেমস রদ্রিগেজ, হ্যামিন্তন কাম্পাস

আক্রমণভাগ:

হুয়ান কামিলো হার্নান্দেজ, লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ, কার্লোস আন্দ্রেস গোমেজ ও জন কর্দোবা

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা আবারও কী যুদ্ধের পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মাঝেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কয়েকটি নৌযান। হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন এ অভিযানের পক্ষে ‘আত্মরক্ষার’ যুক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি-ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কি আবারও বাড়ছে?

ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার রাতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কয়েকটি বোটে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বিমান হামলার মাধ্যমে দক্ষিণ ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়। অভিযানের দায় স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার প্রস্তুতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির খসড়াতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০ দিনের মধ্যে সব মাইন সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করে, হরমুজ এলাকায় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস আবারও মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরই বিমান হামলা শুরু হয়।

এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অভিযোগও উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার সময় দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। এর জবাবে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে জানান, ইরানের দুটি বোট এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ঈদ যাত্রায় একদিনেই ৬ জেলার সড়কে ঝরল ২৫ প্রাণ

ঈদের ছুটিতে নাঁড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটছে লাখো মানুষ। ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে কাটানোর আবেগেহাসিমুখে সইছে যাত্রাপথের নানা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা। কিন্তু এই ঈদযাত্রা কথনো কখনো অনেক পরিবারকে ঢেকে দিচ্ছে স্বজন হারোনোর গভীর ব্যথা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। আসন্ন ঈদুল আজহার দুদিন আগে দেশের ৯ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহতও হয়েছেন।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে – টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বগুড়ায় চারজন, কিশোরগঞ্জে তিনজন এবং গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর ও ঝালকাঠিতে একজন করে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

আমাদের সময়ের জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

টাঙ্গাইল

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই কম খরচে বাড়ি ফিরতে যাত্রীবাহী বাস পরিহার করে রডবোঝাই ওই ট্রাকে উঠেছিলেন। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও নাটোর জেলায়। ওই ট্রাকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে কায়েকজন যাত্রীও ওঠেছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, উত্তরবঙ্গগামী ট্রাকটি সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। এতে ট্রাকে থাকা যাত্রীরা ভারী রডের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।

এই জেলায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় দুজন এবং কাহালু উপজেলায় দুজন মারা গেছেন।

 বগুড়া

বগুড়ায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত হন। এ সময় আয়েশা বেগম নামে অপর এক আরোহী আহত হন। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আনিছুর রহমান এবং তার দুই বছরের কন্যা পুষ্প। আহত আয়েশা বেগমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাহালু উপজেলায় কাজিপাড়া এলাকায় বাসচাপায় ভ্যানযাত্রী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- জেমি আকতার ও তার মেয়ে তনু আকতার (২০)। বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন ভ্যানচালকও।

পুলিশ জানায়, জেমি আকতার তার মেয়ে তনুকে নিয়ে ভ্যানে কাজিপাড়া থেকে বিবিরপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাজশাহীগামী একটি বাস তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান।

 কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদের সড়কের মিঠামইন উপজেলার কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মিঠামইন উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাদের শিশু সন্তান আয়ান (৬)। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান বাড়িতে ফিরছিলেন। মিঠামইন উপজেলার ভাতশালা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যান তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান।

 গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ সদরে প্রাইভেটকার-মাইক্রোর সঙ্গে সংঘর্ষে বাস ছিটকে গভীর খাদে পড়ে এক চালক নিহত হন। এ সময় আহত হন অন্তত ৫০ বাসযাত্রী। দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উপজেলার সোনাসুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত চালকের পরিচয় জানা যায়নি।

ঝালকাঠি

ঝালকাঠির রাজাপুরে ভেকু মেশিনের ধাক্কায় মো. সিহাব উদ্দীন নামে ব্র্যাকের এক মাঠকর্মী নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার খন্দকারবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিহাব উদ্দীন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের মো. মাকসুদুর রহমানের ছেলে। তিনি ব্র্যাকের ভান্ডারিয়া শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, খাল খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন রাস্তার পাশ থেকে মহাসড়কে উঠছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সিহাব উদ্দীন। ভেকু মেশিনের সামনের হাতা ঘুরে তার মাথায় সজোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

পবিত্র হজ আজ, ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাত

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ। আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রী। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ যার অর্থ, ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব একমাত্র তোমারই।’

গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। মক্কা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের তাঁবুর নগরী মিনা ভরে ওঠে সাদা ইহরামে আবৃত আল্লাহর মেহমানদের পদচারণায়। সেখানে ইবাদত ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে রাত কাটিয়ে মঙ্গলবার ফজরের পর হাজিরা রওনা হয়েছেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি হলো আরাফাতে অবস্থান, যাকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে সমবেত হয়েছেন। ভাষা, বর্ণ ও দেশের ভিন্নতা ভুলে সবাই এক কাতারে মিলিত হয়েছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়।

ঐতিহাসিক এই আরাফাতের ময়দান মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এখানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। আজও সেই ময়দানজুড়ে দিনভর দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত ও আত্মসমর্পণের আবহ বিরাজ করবে।

আরাফাতে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা প্রদান করা হবে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে হাজিরা কাটাবেন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ প্রার্থনা করবেন।

ধর্মীয় বর্ণনায় আরাফাতের দিনের দোয়ার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসর নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গভীর বিনয় ও আবেগে নিজেদের পাপমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় মগ্ন হবেন। নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনাও করবেন তারা।

হাদিসে আরাফাতের দিনের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনা রয়েছে, এ দিনে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন এবং হাজিদের জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।

সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার পথে রওনা হবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহের পর ১০ জিলহজ আবার মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। পরে কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈর মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে পূর্ণতা পাবে পবিত্র হজের এবারের যাত্রা।

ইরানে হামলায় অস্থির তেলের বাজার, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা ও তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দামের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়তে পারে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৪ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। তবে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে।

এদিকে, শান্তি আলোচনা চলাকালেই দক্ষিণ ইরানে মাইন স্থাপনের অভিযোগে নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মঙ্গলবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। সে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবুও উচ্চ সুদের হার এই ধাতুর চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৭ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। পাশাপাশি প্লাটিনামের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৮ দশমিক ১৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে দর কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস পেলে সাধারণত দেশীয় বাজারেও দামের সমন্বয় করা হয়। ফলে স্বর্ণ ও রুপার দাম আবারও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবশেষ ২৫ মে বাজুস স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করে। সে সময় ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়।

বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায়।