আত্মবিশ্বাসী ও সহজে বন্ধু বানাতে শিশুদের যা শেখানো জরুরি

কিছু মানুষ আছেন, যারা নতুন যেকোনো মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যান। তারা সব সময় যে  আত্মবিশ্বাসী হোন বিষয়টি এমন নয়। তারা জানেন কীভাবে অন্যের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করতে হয়, কীভাবে বন্ধু বানাতে হয়। মূলত এগুলো চর্চার মাধ্যমেই শেখা যায়। এই দক্ষতাগুলো ছোট থেকেই সন্তানকে শেখানো উচিত। এতে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং সহজেই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

আগে থেকেই শুভেচ্ছা জানাতে শেখান
সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আগে থেকে ‘হ্যালো’ বা শুভেচ্ছা জানানো। অনেক শিশু অন্য কেউ আগে কথা বলবে সেই অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী শিশুরা নিজেরাই কথোপকথন শুরু করে। একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা অস্বস্তি দূর করে, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে। একইসঙ্গে নতুন বন্ধুত্ব তৈরিতে সহায়তা করে। নতুন স্কুল, শ্রেণিকক্ষ বা খেলার মাঠে এই অভ্যাস শিশুর জন্য খুব উপকারী।

আগ্রহ নিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন করতে শেখান
মানুষ তখনই নিজেকে মূল্যবান মনে করে, যখন কেউ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনে। শুধু শোনা নয়, তার কথার সূত্র ধরে সন্তান যেন আরো কিছু প্রশ্ন করে তা তাকে শেখান। আত্মবিশ্বাসী শিশুরা নিজের কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা জানতে বেশি কৌতূহলী হয়। এই আন্তরিক কৌতূহলই সম্পর্ককে গভীর করে এবং অন্যের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার সুযোগ তৈরি করে।

মানুষের নাম মনে রাখার কৌশল শেখাতে পারেন
কারো নাম মনে রাখা ভালো গুণ। একদম ছোট শিশুরা তা পারবে না। তবে যারা কিশোর-কিশোরি, তারা মানুষের নাম মনে রাখার এ অভ্যাস রপ্ত করতে পারে। মানুষের নাম মনে রাখতে পারা ইতিবাচক সামাজিক দক্ষতাও। কারো মুখে নিজের নাম শুনলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তাকে আপন ভাবতে শুরু করে। তাই শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মানুষের নাম মনে রাখার অভ্যাস শেখানো উচিত।

পরিস্থিতি ও আবেগ বুঝে আচরণ 
সামাজিকভাবে দক্ষ শিশুরা বুঝতে পারে, কখন কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে। কেউ আনন্দের খবর দিলে তার আনন্দে অংশ নেওয়া, আবার কেউ কষ্টের কথা বললে মনোযোগ দিয়ে শোনার শিক্ষাটাও সন্তানকে দিন। অন্যের অনুভূতির সঙ্গে নিজের আচরণ মিলিয়ে নেওয়ার এই দক্ষতা সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তোলে।

একা থাকা শিশুটিকে দলে নেওয়া 
দলের বাইরে একা দাঁড়িয়ে থাকা কোনো শিশুকে খেয়াল করা, তাকে খেলায় যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো একটি মানবিক গুণ। ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে?’ এই একটি বাক্য কারো পুরো দিন বদলে দিতে পারে। এই অভ্যাস শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা, নেতৃত্ব এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা গড়ে তোলে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর