Home Blog Page 77

জাহাঙ্গীর হত্যার নেপথ্যের কেউই রেহাই পাবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের খুনিদের পেছনে যাদের মদদ রয়েছে এবং যাদের ইশারায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তাদের কেউই রেহাই পাবে না। তবে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর দীর্ঘ ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন। তাঁর মতো নেতৃত্ব মিঠামইনে আর সহজে সৃষ্টি হবে না।

তিনি জানান, মিঠামইনে আসার পথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ তাঁকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের গডফাদারদের শনাক্ত করতে সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

জানাজায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে খুনির হাতে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা তিনি কখনও ভাবেননি। তিনি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা। এ শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না। হত্যাকারীদের বিচারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর হত্যার খবর শুনে সারারাত ঘুমাতে পারেননি। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর ধরে যিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে বিএনপিকে ধরে রেখেছেন, তাঁর মতো মানুষ আর হবে না।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার এবং খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রুবেল, পিপি শাহ কামাল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাঈদ হোসেন, অ্যাডভোকেট সায়েম মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য আলমগীর শিকদার, নিহতের বড় ভাই শাহেরীল আলম তপন, বাহার মিয়া এবং নিহতের চাচা অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ কামাল পাশা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শাহরুখের ‘মান্নাত’ কেন ভক্তদের কাছে এটি এক আবেগের নাম

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাসভবন ‘মান্নাত’ শুধু একটি বিলাসবহুল বাড়ি নয়, কোটি ভক্তের কাছে এটি স্বপ্ন, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকার ব্যান্ডস্ট্যান্ডে অবস্থিত এই বাড়ির সামনে প্রতিদিনই ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটক ও ভক্তরা। জন্মদিন, ঈদ কিংবা নতুন সিনেমা মুক্তির সময় সেই ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে ‘মান্নাত’। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ হওয়ার পর শাহরুখ খান ও তার পরিবার বাড়িটিতে আরও দুটি তলা নির্মাণের অনুমতি পেয়েছেন। এরপরই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মান্নাতের ইতিহাস ও এর জনপ্রিয়তা।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে শাহরুখ খান প্রায় ১৮ কোটি রুপিতে তখনকার ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে পরিচিত বাংলোটি কিনেছিলেন। বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়।

মান্নাতের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যগুলোর একটি হলো শাহরুখ খানের জন্মদিনে (২ নভেম্বর) কিংবা ঈদের দিনে বাড়ির বারান্দায় এসে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানানো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখতে পেরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ভক্তরা। অনেক সময় ছেলে আব্রামকেও সঙ্গে নিয়ে শুভেচ্ছা জানান শাহরুখ।

নতুন সিনেমা মুক্তির সময়ও মান্নাতের সামনে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালে দীর্ঘ বিরতির পর মুক্তি পাওয়া পাঠান ও জওয়ান বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পর বাড়িটির সামনে হাজারো ভক্ত জড়ো হয়ে উদ্‌যাপন করেছিলেন। গান, নাচ ও শাহরুখের জনপ্রিয় সংলাপে মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো এলাকা।

মান্নাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শাহরুখ খানের ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের গল্পও। ১৯৯৭ সালে ইয়েস বস ছবির ‘চাঁদ তারে’ গানের শুটিংয়ের সময় তিনি প্রথম এই বাংলোটি দেখেন। সে সময় এটি ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে পরিচিত। পরে ২০০১ সালে বাড়িটি কিনে এর নাম দেন ‘মান্নাত’।

বর্তমানে মুম্বাই ভ্রমণে যাওয়া অনেক পর্যটকের জন্য ‘মান্নাত’ একটি অবশ্য দর্শনীয় স্থান। বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কিংবা শাহরুখ খানের বিখ্যাত দুই হাত ছড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গি অনুকরণ করা যেন অনেকের জন্য ভ্রমণেরই অংশ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তাজমহলের পর ভারতের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা স্থানগুলোর একটি হলো ‘মান্নাত’।

একসময় স্বপ্নের বাড়ি হিসেবে কেনা ‘মান্নাত’ আজ শাহরুখ খানের সাফল্যের পাশাপাশি তার ভক্তদের আবেগ ও ভালোবাসারও এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জয়ে টি-২০ সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

০

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ। টি-২০ সিরিজও হার দিয়ে শুরু করেছিল তাওহীদ হৃদয়ের দল। শুক্রবার দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ৩৪ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের ভালো সংগ্রহ তোলে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান ১২০ রানের দারুণ জুটি গড়েন। দু’জনই ফিফটি তুলে নেন।

ইনিংসের ১৪.৪ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে ডানহাতি ওপেনার সাইফ ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আটটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কার শট আসে। পরের ওভারে ফিরে যান অন্য ওপেনার তানজিদ। তিনি ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন। বাঁ-হাতি এই ব্যাটার ছয়টি চার ও দুটি ছক্কার মারেন।

তিনে নামা অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় কিংবা চারে নামা পারভেজ ইমন ব্যর্থ হলেও পাঁচে নেমে ইয়াসির আলী এবং সাতে ব্যাটিংয়ে এসে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ঝড়ো ব্যাটিং করে দলকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেন। সাইফ ১২ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২২ রান করেন। অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ১০ বলে চার ছক্কায় ৩১ রান করেন।

জবাব দিতে নামা জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের দুই স্পিনার শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ২ বল থাকতে ১৫২ রানে অলআউট হয়েছে। ২১ রানে স্বাগতিকরা ৩ উইকেট হারায়। যার দুটি দখলে নেন মেহেদী। সিকান্দার রাজা ও ব্রায়ান বেনেট ৪৪ রানের জুটি গড়েন। তারা যথাক্রমে ২৮ ও ২৯ রান করে রিশাদের বলে ফিরে যান।

শেষটায় ব্রাড ইভান্স ২৫ ও রিচার্ড এনগ্রাভা ১৫ রান যোগ করেন। অফ স্পিনার শেখ মাহেদী ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩টি এবং লেগ স্পিনার রিশাদ ৩.৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ৩৬ রানে ১ উইকেট নেওয়া সাইফউদ্দিন ম্যাচ সেরা হয়েছেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে রোববার মাঠে নামবে দুই দল।

জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী হয়েও বিএনপি গাদ্দারি করেছে: গোলাম পরওয়ার

বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েও গাদ্দারি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বেনিফিসিয়ারি হয়েও বিএনপির মন্ত্রী এমপিরা জুলাইকে এখন অপ্রয়োজনীয় বলে, অস্বীকার করে। বিএনপির কাছে জুলাই আননেসেসারি হলেও জনগণের কাছে নেসেসারি।’

তিনি বলেন, ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপি বলেনি সংবিধানে গণভোট নেই, রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই। ক্ষমতায় বসেই এসব দাবি করছে। এটি সরাসরি জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এই প্রতারণার উপযুক্ত জবাব জাতি যথাসময়ে দেবে।

১১ দলের র‌্যালি শহীদ মিনার থেকে হওয়ার কথা ছিল। হিন্দু ধর্মালম্বীদের রথযাত্রার কারণে তা শাহাবাগ থেকে করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা শহীদ মিনার হয়ে যাবে বলে র‌্যালির স্থান পরিবর্তন করেছি। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাদের দেশে মসজিদে নামাজ পড়তে দেয় না, ঈদের নামাজ পড়তে দেয় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, চব্বিশের জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসে গণভোটের রায় উপেক্ষা করে পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদের প্রকৃত সংখ্যা অজানা রয়ে গেছে।

সমাবেশে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজীসহ জোট নেতারা বক্তৃতা করেন।

গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ঐক্য চায় জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ

আধুনিক মানবতাবাদী বিশ্ব গড়তে গণতান্ত্রিক সকল দেশের ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ। সংগঠনটি বলেছে, চীন-পাকিস্তানকে রুখতে গণতান্ত্রিক আমেরিকা, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মান, ইতালি, জাপান ও কানাডাসহ সকল মানবিক দেশের ঐক্য প্রয়োজন। যে ঐক্যের মাধ্যমে সকল অসহায় মানুষকে দারিদ্র ও মাদকমুক্ত করে মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলা যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্দ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, মিজানুর রহমান মিজু, আমিনুল হক ভূইয়া, এওয়াইএম কামরুল ইসলাম বাবু, অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম, ডা. কে এম হাফিজুর রহমান, রাজু আহমেদ খান, শেখ বাদশা উদ্দিন মিন্টু, দেওয়ান রাইয়ান ইসলাম, লিজা রহমান, বিউটি বেগম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তারা বলেন, আমেরিকার সিনেটর এড ওয়ার্ড টেড কেনেডী, শিল্পী রবি সংকর ও জজ হেরিসনসহ অনেক শিল্পী ও আমেরিকান জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়াছেন, অর্থনৈতিক সাহায্য করেছে। আমেরিকা বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।

সংবিধান সংস্কার নয় সংশোধনের কথা বলেছি: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বরাবরই সংবিধান সংশোধনের কথা বলেছি, সংবিধান ‘সংস্কার’ বা পুনর্লিখন নয়। জনগণ আমাদের ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী বিএনপি টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় একথা বলেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ফসল ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তা জনগণের রায় ও দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী করা হবে।

সনদের কিছু বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উচ্চকক্ষ গঠন কিংবা আনুপাতিক হারে ভোট ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। এই বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। জনগণের সম্মতি ছাড়া (কনসেন্ট) কিছু বিষয় নিয়ে এসে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।’

দেশে অতীতে যত বড় বড় গণতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার হয়েছে, তার পেছনে বিএনপির ভূমিকা মনে করিয়ে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কিছু বিরোধী দল জুলাইকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু এই আন্দোলন কেবল এক মাসের আন্দোলন নয়। দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে, এটি তারই চূড়ান্ত ফলশ্রুতি।’ তিনি যোগ করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ১,৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সহজ-সরল জীবন ও উঁচু দর্শনের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি ক্ষমতার লোভ কিংবা সুযোগ-সুবিধার জন্য বিএনপির সঙ্গে কাজ করেননি। যখন দল ক্ষমতার বাইরে ছিল এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছিল, তখন তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদারপন্থী গণতন্ত্র) বাতিঘর।’

দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উত্তরণে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ক্ষত মুহূর্তের মধ্যে দূর করা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালে যেভাবে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম, ২০২৪ সালেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই মিলে লড়াই করেছি। এখন বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে ধৈর্য ধরে আমাদের একটি সুন্দর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে; পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বন্যার কারণে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সড়কে কাজও শুরু হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে তিনি সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার কথা রয়েছে।

রংপুরের পাঁচ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

আগামী তিন দিন উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কিছু কিছু জায়গায় পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বেড়েছে যা আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ পূর্বাভাস জানানো হয়। এতে বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

বন্যা সতর্কতা জারি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা) উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী তিন দিন নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে। কিছু জায়গায় বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলায় এসব নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে সুরমা নদীর পানি সমতল কমেছে যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী, মুহরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। এসব নদীর পানি সমতল আরও একদিন বৃদ্ধি পাবে এবং পরে দুদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিপদসীমার উপরে নদ-নদীর তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

লঘুচাপ ও নিম্নচাপের তথ্য জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং আশপাশের বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে।

এ ব্যাপারে মোস্তফা কামাল জিহান বলেন, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি আগামী তিনদিন বাড়তে পারে। কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ নদীর পানি আগামী পাঁচদিন বাড়তে পারে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু জায়গায় এসব নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। একইসঙ্গে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

মসজিদের পাশে মুয়াজ্জিনকে গলাকেটে হত্যাচেষ্টা

খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলার সাহস ইউনিয়নে কারিমুল ইসলাম (৫০) নামে এক মুয়াজ্জিনকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সাহস-নোয়াকাটি বাজার মসজিদের পাশে মুয়াজ্জিনকে গলাকেটে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওই মসজিদে ইমাম মো. আবুল হোসেন সরদার জানান, ফজরের আযান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিন সাহেব বাড়ি থেকে মসজিদে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য তারা মসজিদে যেয়ে দেখেন, দরজায় তালা দেওয়া। মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদে নেই। পরে মসজিদের ১০০ গজ দূরে গ্রামীণ সড়কে মুয়াজ্জিন সাহেবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মাঠে পুলিশ কাজ করছে।

বৃষ্টি বাড়িয়েছে সবজির দাম

কয়েক দিনের বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে অধিকাংশ সবজির দর কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে হাতেগোনা দু-তিনটি ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি এখন ৭০ টাকার ওপরে। ডিম ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারও বেশ চড়া।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে লাগাতার বৃষ্টির কারণে কৃষক ক্ষেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। ক্ষেতে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ঢাকায় সবজি তুলনামূলক কম এসেছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় বন্যায় সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এসব কারণে সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বৃষ্টি না থামলে সবজির বাজার চড়তে পারে। গতকাল সবজির বাজারে গিয়ে তাদের ধারণা যে ঠিক, এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগে ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। গতকাল এই তিনটি সবজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম হাঁকছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পাঁচ-ছয় দিন আগেও সবজিটি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে বেগুন ও বরবটি গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল কেজিতে খরচ করতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শসা, টমেটোতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না! শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় শসা বিক্রি হয়।

সবজির মধ্যে কিছুটা কম দাম দেখা গেছে পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপের। এসব সবজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে সবজি নিয়ে আগারগাঁওয়ের কলোনির পাশে ভ্যানে করে বিক্রি করেন সাইফুল মিয়া। তিনি বলেন, তিন-চার দিন আগের চেয়ে পাল্লায় (পাঁচ কেজি) অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম। এ জন্য তাঁকেও খুচরায় বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী রিফাত হোসেন বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চাষিরা সবজি তুলতে পারেননি। অনেকের ক্ষেতে পানি জমে সবজি পচে গেছে। কিছু এলাকায় বন্যায় জমি ডুবে গেছে। ফলে সেসব এলাকায় সবজির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে সরবরাহ কম। ফলে দর বেড়েছে।

বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার সমকালকে বলেন, বাজারে এখন কিছু সবজি পাওয়া যাচ্ছে, এটাই স্বস্তির। প্রায় সপ্তাহজুড়ে সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে। পানি জমলে সবজি গাছ বাঁচে না। এখন বাজারে যেসব সবজি আসছে, সেগুলো বেশির ভাগই পচে বা মরে যাচ্ছে এমন গাছের সবজি। এসব গাছ মরে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

তিন-চার দিনের ব্যবধানে ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম ১১৫ থেকে ১২০ এবং বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে মুরগির দর। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেজকুনীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বলেন, সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের হাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। সেজন্য খুচরা বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।

মাছের বাজারের অস্বস্তি কমেনি। আগে থেকেই ইলিশের দর চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি কমবেশি দুই হাজার আর এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। রুই-কাতলার দামও অনেকের নাগালের বাইরে। মাঝারি আকারের এসব মাছ কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কিছুটা স্বাভাবিক দাম চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের। এসব মাছ কেনা যাচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।

মুদি পণ্যের মধ্যে আগের মতোই কিছুটা বেশি দর রয়েছে সব ধরনের ডালের। ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়নি। তবে ফের দাম বাড়তে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এ ছাড়া আগে থেকেই বেড়ে থাকা চাল-আটার বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।