Home Blog Page 8

ইরানের হত্যার হুমকি, খাবার বহনের ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকির পর গত মাসে তুরস্ক থেকে গোপনে সামরিক বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ফিরছেন। তবে বাস্তবে তাকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সোমবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ সফরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক যাত্রায় ব্যবহার করা হয় কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটি। তবে আঙ্কারা ছাড়ার সময় আকস্মিকভাবে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। এতে নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক সফর অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে।

আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করে’ পুরোনো নীল রঙের এয়ারফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মাইল্ডেনহলে যাবেন। একই সময়ে কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটিও সেখানে যাবে, যাতে ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখতে পারেন। তবে পরে জানা যায়, এটি ছিল নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। এরপর তাকে গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ ছোট একটি সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটি ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর সি৩২-এ। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে হত্যার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পর এই গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানকে কার্যত ট্রাম্পের ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন বলে ধারণা করা সাংবাদিকেরা পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ছিলেন। হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীও মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ওই বিমানেই রয়েছেন। সাংবাদিকদের বিমানের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

পরে সাংবাদিকেরা জানতে চান, কেন তাদের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আমরা একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলাম।’ এরপর তিনি বলেন, ‘তবে আমি গেলে আপনারাও যাবেন, তাই না?’

ট্রাম্পকে বহনকারী সি৩২-এ যুক্তরাজ্যে গিয়ে রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে। কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছায়। তবে ট্রাম্প কখন এবং কীভাবে সি৩২-এ থেকে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরে যান, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকেরা জানান, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামেন। সাংবাদিকদের দিকে তিনি শান্তির প্রতীক হিসেবে দুই আঙুল তুলে ইশারা করেন, তবে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যাননি। পরে কিছু সময় মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির দিকে যান।

ট্রাম্পের গোপন তৃতীয় বিমানে যাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং বলেন, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমন বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে লক্ষ্য করছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা ব্যবহার করি।’

ওয়াশিংটন পোস্টকেও একই বক্তব্য দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটি একটি বোয়িং ৭৪৭। ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী এতে লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালি রঙের নকশা করা হয়েছে। গত বছর কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে বিমানটি উপহার দেয়। পরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলথ্রি হ্যারিস টেকনোলজিস বিমানটি সংস্কার করে।

বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের এয়ারফোর্স ওয়ান সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা চলায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য এই বিমানটি নেওয়া হয়েছিল। তবে বিমানটির দ্রুত সংস্কারের খরচ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল।

এর আগে ২০০০ সালেও একই ধরনের নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তানে যাওয়ার সময় পরিচয়বিহীন একটি নির্বাহী উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিলেন। একই সময়ে তার আনুষ্ঠানিক এয়ারফোর্স ওয়ানকে ডিকয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপা ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ১৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনসিপির হুঁশিয়ারি মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত মেনে নেওয়া হবে না

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি খাতকে কোনো অবস্থাতেই মাফিয়া বা লুটেরা ব্যবসায়ীদের মুনাফা লোটার হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সোমবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, ‘মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে আঁতাত কিংবা জনগণের সম্পদ নিয়ে যে কোনো গোপন রফা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই আত্মঘাতী বেসরকারীকরণ নীতি ও অপপ্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতেই এই খাতের পূর্ণ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত মাফিয়া ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করার এক গভীর দেশবিরোধী অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে, কীভাবে আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে, ঋণ জালিয়াতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত একটি বিতর্কিত মাফিয়া ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে জাতীয় পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণের চাবি তুলে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে কোনো চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।

মাফিয়াদের হাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র ফ্যাসিবাদী শাসনের সেই পুরোনো এবং অন্ধকার মডেলেরই পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন নেতারা। তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বিশেষ সুবিধাভোগী মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে দেউলিয়া এবং লুটেরাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল, আজও সেই একই বিপজ্জনক প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত দিনে কুইক রেন্টালের নামে ও ‘দায়মুক্তি আইনের’ সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামতো বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচারের মচ্ছব চালানো হয়েছে। এখন আবার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জ্বালানি খাতকেও একই মাফিয়াতন্ত্রের শিকারে পরিণত করার নীলনকশা আঁকা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাত্র দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, বিপিসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং মাত্র চার দিনে নীতিমালার খসড়া তৈরি করার মতো নজিরবিহীন তাড়াহুড়া প্রমাণ করে এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং মাফিয়া ব্যবসায়ী তোষণের নগ্ন চক্রান্ত। আমদানিনির্ভর ও চরম কৌশলগত এই জ্বালানি খাতে বিপিসি নিজস্ব শোধন, সংরক্ষণ ও বিপণন সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে, উল্টো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া চরম জনস্বার্থবিরোধী।

এনসিপি বলেছে, এলপিজি খাতকে বেসরকারি আমদানিকারকদের হাতে তুলে দিয়ে মাফিয়া সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ জনগণকে যেভাবে জিম্মি করা হয়েছিল, ঠিক একই কৌশলে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো জরুরি জ্বালানির সরবরাহ ও দর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মাফিয়াদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিয়ে লুটপাটের যে সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখান থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বের করে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর সুসম্পর্ক রেখে দাবি আদায় করতে চায় হেফাজত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের চট্টগ্রামে প্রথম সফর নিয়ে বেশ ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তাঁর এই সফরে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা কিংবা উদ্বোধনের মাধ্যমে শেষ করার কোনো কর্মসূচি ছিল না। এরপরও সফরটি ঘিরে চট্টগ্রামে উজ্জীবিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারে ‘মুগ্ধ’ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরাও।

ফটিকছড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের আমির শাহ আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি ছিল তাঁর এই সফরের বড় একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এটিকে হেফাজতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন হিসেবে দেখছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দাবি-দাওয়া আদায়ে এই সম্পর্ককে কাজে লাগাতে চান তারা।

হেফাজতে ইসলাম সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই হেফাজতের নেতাকর্মীরা মূলত দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মামলা-মোকদ্দমা ও ধরপাকড় থেকে রেহাই পেতে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভিড়েছিলেন। বড় অংশটি নীরব অবস্থানে ছিলেন। একপর্যায়ে তারাই প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন দেন। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে কোণঠাসা নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়ান। বিপরীতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়া হেফাজতের নেতাকর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এসব নেতাকর্মীকে ফেরানোর কথা ভাবছেন সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের নায়েব আমির মুফতি লোকমান হাকিম অবশ্য সমকালকে বলেন, হেফাজতের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। সারাদেশের হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। হেফাজত যেহেতু একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যেহেতু বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংগঠনের আমিরের একটা সুসম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। হেফাজতের নেতাকর্মীরা এটিকে সংগঠনের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। হেফাজতের যারা নিস্ক্রিয় তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হবে।

এদিকে বিএনপি সরকারের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও দাবি-দাওয়া আদায় করতে চাইছেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এজন্য সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে একটি টিমও গঠন করা হচ্ছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯টি দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। ক্রমান্বয়ে এসব দাবি আদায়ে পরিকল্পনা করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। হেফাজত আশা করে, সরকারপ্রধান এসব দাবিকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ আলেমদের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামবিদ্বেষী কোনো শক্তি যাতে অনৈক্য সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার নিশ্চয় পদক্ষেপ নেবে বলে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আশা করেন।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আলেম-ওলামাদের বৈঠকের পর সারাদেশের হেফাজতে ইসলামের নেতারা খুবই উচ্ছ্বসিত। সরকারের এই সমর্থন কাজে লাগিয়ে হেফাজতের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে এবং দাবি-দাওয়াগুলো আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

গত রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ব্যস্ততম সময় পার করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে প্রথমেই ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজারের মহেশখালী গিয়ে মাতাবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারেই চট্টগ্রামের বাঁশখালী যান। সেখানে বন্যায় গৃহহারা ১০০ পরিবারকে ঘর উপহার দেন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে আবার হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে গিয়ে হেফাজতের আমির শাহ আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর গাড়িতে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন। রাতে নগরীতে হোটেল র‍্যাডিসনে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের নিয়ে দলীয় বৈঠক করেন।

দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভারতকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যে কোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে দুই পক্ষ আলাদাভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে। তাতে প্রতিবেশী দুই দেশের এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আপত্তি জানানোর পরও ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় আবারও ক্ষোভ জানিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যর্পণ চেয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে অগ্রগতির আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত নয় বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ভারতের হাইকমিশনারকে অস্বস্তি তৈরির কারণগুলো বন্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার, তা সৃষ্টির ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে দিল্লিকে অনুরোধ করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে।

হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের ভারতে ধরা পড়ার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবকিছু তাদের দিয়েছি। আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা বলেছি অভিযুক্তদের যত দ্রুত আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য।’

সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে আলোচনা প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার বিষয় নয়। ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতকে চিঠি পাঠিয়ে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লির দূতের সাক্ষাতে তা এসেছে কিনা– এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। ভারত গত রোববারই তা জানিয়েছে। আজকেও (সোমবার) তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছে।’

ভারত দুঃখ প্রকাশ করেছে কিনা– এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নেই। রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে– নির্বাহী, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বিচার বিভাগ থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি ৫ আগস্ট বাংলাদেশের বিচার বিভাগ তথা রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গতকালও (রোববার) বলেছি, রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক। আশা করব, বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পারবে। ধারণা হচ্ছে, তারা এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আশা করব, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন (খাটো) করার কিছু তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে; আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত– এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিত নয়
নয়াদিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া দুই দফা আমন্ত্রণ বাংলাদেশ কি গ্রহণ করবে– এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত আমি গণক নই। পরের জিনিসটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে। এই পার্থক্যটা বোঝার চেষ্টা করবেন। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিটা সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেখানে তিনি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ একটা আছে।’

ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’

আলোচনাকে সমাধান বললেন ভারতের হাইকমিশনার
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যে কোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ণ আস্থা আছে– দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই যা সমাধান করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা, যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য লাভজনক হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন বিনয়ী নেতা। তিনি জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু একটি অভিন্ন সীমান্তই নয়’ আরও অনেক কিছু রয়েছে। আমরা শুধু সীমান্তই ভাগ করি না; আমরা স্বপ্নও ভাগ করি।’

হাইকমিশনার বলেন, দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ও সমস্যা থাকাটা স্বাভাবিক। এ ধরনের মতপার্থক্যকে কূটনীতি বা সম্পর্কের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করা যেতে পারে।

হাইকমিশনার বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ‘ভালোবাসা, সম্মান ও স্নেহের’ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অব্যাহত সংলাপ, সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস।

সম্পর্কের অবনতি যেখান থেকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার, বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে হামলা, দেশটির রাজনীতিকদের বাংলাদেশ বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, সীমান্তে হত্যা, পুশব্যাকের মতো ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা বন্ধ, সড়ক-রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। গত ডিসেম্বরে হত্যার শিকার হাদির খুনিরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির সরকার গঠনের পর ধারণা করা হচ্ছিল, সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া এবং সীমান্তে ভারতের পুশইন চেষ্টার কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি পাঠানো, তাঁকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানানো, ভিসা সেবা চালুর মতো পদক্ষেপে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে কিছু এগোলেও দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন আবার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

গ্যাস ও কয়লা সংকট ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, গ্রামে তীব্র লোডশেডিং গতকালের রেকর্ড ভাঙল, সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩৭৫৭ মেগাওয়াট

জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ আছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।

বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।

লোডশেডিংয়ের মূল কারণ গ্যাসের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের কম গ্যাস পাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লা সরবরাহের সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস নেই, বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ এখনও গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম গ্যাস পাচ্ছে কেন্দ্রগুলো। জ্বালানি সংকট ও মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই চলছে আংশিক সক্ষমতায়।

একসময় গ্যাস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াটে। কিছুদিন আগেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানির অভাবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরেনি এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কাটি আসে গত ২১ জুলাই। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।
টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে। ১৫ দিন পর আংশিক মেরামতের মাধ্যমে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে টার্মিনালটি এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, টার্মিনালটির মেরামত শেষ হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটিই সংকটের শেষ নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে। একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে।

কয়লাতেও সংকট
বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করেছে কয়লা সরবরাহের জটিলতা। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কয়লা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রটি প্রায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটে। ঝাড়খণ্ডে বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল মানুষ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। অনেক এলাকায় দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে ফ্যান-এসি চালানো কিংবা পানির পাম্প চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইনভিত্তিক কাজ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। সিলেটে গতকাল সোমবার ২৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট। আগের দিন ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রোববার রাতে সিলেটের টুকের বাজারে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

বগুড়ার সান্তাহারেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বাড়ায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গ্যাস সংকট আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি যোগ হয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চাপ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যায়। আবার বিদ্যুৎ এলে মেশিন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে উৎপাদন খরচও।

গ্যাস বাড়াতে তাগাদা
লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। যেসব কেন্দ্র দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে পারবে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। এতে লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। তবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।

তেল দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা
গ্যাস ও কয়লার সংকট সামাল দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকির চাপ বাড়ে। তা ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলেও দীর্ঘ সময় এভাবে চালানো ব্যয়বহুল। তাই গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

দুই-তিন দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আশা করছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তিনি জানান, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আদানি পাওয়ারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।

অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

পুরোনো সমস্যার নতুন বিস্ফোরণ
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট আকস্মিক নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতার চাপের পুঞ্জীভূত ফল হিসেবেই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করে লোডশেডিং কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধান হবে না। দীর্ঘ মেয়াদে অযৌক্তিক ব্যয় কমানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত সচল রাখতে প্রয়োজনে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।’

স্থানীয় অবকাঠামোর দুর্বলতাও ভোগাচ্ছে
জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৪০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।

আড়াইহাজারে ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালে এটি চালুর কথা থাকলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। কোরিয়া থেকে বিশেষায়িত প্রকৌশলী দল এলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।

নতুন গ্রিডটি চালু হলে ভূলতা গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। তৈরি হবে বিকল্প সঞ্চালন পথ। এতে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকলে শুধু স্থানীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করে লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

বগুড়ায় দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২

বগুড়ায় বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পেছন থেকে আরেকটি ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ফ্লাইওভারের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, সকালে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাক বিকল হয়ে মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। সকাল ৮টার দিকে একই দিকে যাচ্ছিল আরেকটি ট্রাক। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের ওই অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, উদ্ধারকাজ শেষ হলে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর জামায়াত সামলাতে হেফাজতকে কাছে টানার কৌশল বিএনপির হেফাজতের আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ

বিগত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছিল হেফাজতে ইসলাম। এমনকি প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম বলেও জানিয়েছিলেন সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। জামায়াত ইস্যুতে হেফাজতের এই অবস্থান বিএনপির জন্য নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। নির্বাচনের পরও জামায়াতবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছে হেফাজত।

এমনকি হেফাজতে থেকেও নির্বাচনে জামায়াত জোটে যাওয়া খেলাফতে মজলিস নেতা মামুনুল হকসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে সংগঠনে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এটি বিএনপি-হেফাজতকে আরও কাছাকাছি এনেছে। নানা ইস্যুতে জামায়াত জোট যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন হেফাজতকে আরও কাছে টানছে বিএনপি। এটিকে অবশ্য জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

আজ রোববার দিনব্যাপী চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন, চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দলীয় একটি সভায় অংশ নেবেন তিনি। তাঁর এই সফরের সব ছাপিয়ে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হেফাজতের আমির শাহ আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি।

আজ দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় তাদের এই সাক্ষাৎ হবে। মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটির মুহতামিম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মাদ্রাসাটি থেকে হেফাজতের কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তিনি। হাটহাজারীর ওই মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চিরসমাহিত হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবরও জিয়ারত করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে হেফাজত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার চাইবেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে ধর্মীয় ইস্যুতে হেফাজতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কওমি মাদ্রাসা পরিচালনায় সহযোগিতাও আশা করেন হেফাজতের নেতারা।

হেফাজতের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিনশ মামলা করা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার হেফাজত নেতাকর্মীদের এসব মামলার বড় একটি অংশ প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীকালে বিএনপি সরকার আমলেও বেশ কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেন। ভারতে মুসলিম নিপীড়নের অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম ও বিভিন্ন সমমনা দল তাঁর এই সফরের বিরোধিতা করলে বিভিন্ন এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হাটহাজারী, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়ের হওয়া দুই ডজনের বেশি মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। এর বাইরে আরও কিছু মামলা রয়েছে। এগুলো প্রত্যাহার চায় হেফাজতে ইসলাম।

এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সমকালকে বলেন, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শুধু হেফাজতে ইসলামের আমিরই নন; তিনি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন বুজুর্গ আলেম ও মুরব্বি। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে এ জন্য হেফাজতের পক্ষ থেকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দুজনের সাক্ষাতে স্বাভাবিকভাবে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনও যেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি আসবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ইস্যুতে হেফাজতের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

আদর্শিক কারণে দেওবন্দি ধারার হেফাজতে ইসলাম স্পষ্টতই মওদুদী আদর্শে পরিচালিত জামায়াতের ঘোরবিরোধী। জামায়াতের এই আদর্শিক বিরোধিতাকে আরও কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি। নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে দলটি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হেফাজত আমিরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে খোঁজ-খবর নিতে ফটিকছড়ি যাচ্ছেন। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো।

এ ব্যাপারে গত নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসন থেকে নির্বাচন করা চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ নুরুল আমিন সমকালকে বলেন, হেফাজতের পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরোধিতাকে আকিদাগত বলা হলেও এর নেপথ্যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও রয়েছে। বিএনপি এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাবে– এটাই বাস্তবতা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম যেসব সমালোচনা করে, সেগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করি; উপদেশ হিসেবে নিই। কোথাও সংশোধনের বিষয় থাকলে সেটিও করা হয়ে থাকে। আমরা আশা করছি, তাদের সঙ্গে আমাদের যে দূরত্ব, সেটি ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

তবে নাম প্রকাশ না করে চট্টগ্রাম জামায়াতের এক সিনিয়র নেতা জানান, হেফাজতের কার্যক্রম হচ্ছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক। এগুলো মানুষের দানের টাকায় পরিচালিত হয়। বিনা খরচে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো ও পড়ানো হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আসে বেশির ভাগ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তাদের টাকার উৎসে টান পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন তারা সরকারের সঙ্গে আরও সুসম্পর্ক বাড়াতে চায়। বিএনপিও এটিকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। এটি জামায়াতকে এক ধরনের চাপে রাখার কৌশলগত ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু নয়।

তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হেফাজতের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এবং নির্বাচনে তারা আমাদের সমর্থন দিয়েছে। এই সম্পর্কের টানেই প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত সমাবেশের মাধ্যমে প্রথম জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে হেফাজত। সমাবেশটি অবরুদ্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই কর্মসূচিকে সমর্থন দিলে বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে। তবে পরবর্তীকালে মামলা-মোকদ্দমা ও ধরপাকড় এড়াতে তাদের একটি অংশ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে বাধ্য হয়। তবে এখন সেই অংশটি নিষ্ক্রিয়।

প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু থাকলেও, জিয়া নেই কেন—জবাবে যা বললেন জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি বা স্বাধীনতা ঘোষণার প্রসঙ্গ কেন নেই- প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। জবাবে জামায়াতে বলেছে, জিয়াউর রহমান স্বৈরাচার নন বলেই, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নানা পর্বে স্বৈরশাসনের ইতিহাসে তাঁর ছবি রাখা হয়নি।

গত ৫ আগস্ট রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গনে ‘জুলাই এখনো শেষ নাই’ শীর্ষক এই স্থিরচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। যা শেষ হয় শনিবার রাতে। এতে জুলাই শহীদদের ছবি, চিঠি রয়েছে। স্বৈরাশসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, শেখ মুজিবুর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও শেখ হাসিনাকে। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও জামায়াতের এই প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ অংশে রাখা হয়েছে ৭ মার্চের ভাষণের ছবি। এরপর রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের ছবি। এই অংশে জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন, বাংলাদেশিদের ওপর হানাদার বাহিনীর আক্রমণ এবং সর্বশেষ বিজয় অর্জনের চিত্র উঠে এসেছে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালকে ‘একনায়কতন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে। শেখ মুজিবের শাসনামলে দুর্ভিক্ষ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েমের ছবি রয়েছে। এরপর ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালকে সামরিক স্বৈরশাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তথ্য ও ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এই অংশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার জামায়াতের চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের ছবি রয়েছে; কিন্তু সেখানে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, কথা বা পোস্টার রাখা হয়নি। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বক্তব্যের জবাবে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? জিয়াউর রহমান স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন না। এই জন্য তাঁর শাসনামল প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে আনা হয়েছে।’

প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সরকারের সফলতা দেখানোর জন্য এই আয়োজন করা হয়নি। যুগে যুগে যারা স্বৈরাচারী ছিল, তাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জনগণ তখন কীভাবে নিগৃহীত হয়েছিল, সেটা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের জনগণ, শহীদ ও শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা তুলে ধরাই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।

১৯৪৭ সালে দেশভাগ থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’। এই অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষভাগে রয়েছে ‘ফ্যাসিবাদ’। এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় গভর্নর ডিজিটাল রূপান্তরকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখছে বাংলা কিউআর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে নিরাপদ, সহজ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআর দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএভবনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাবির অ্যাকাউন্টিং বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বাংলা কিউআর বিষয়ে সচেতনতামূলক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান সরকার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলা কিউআর সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার আরও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করে। ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসার এবং মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও দ্রুত একটি ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।