Home Blog Page 8

জ্যাকসন হাইটসের নির্বাচনী সভা – ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী

জ্যাকসন হাইটসের নির্বাচনী সভা
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে নিউইয়র্ক প্রবাসী বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা ও নির্বাচনী সমাবেশ হয়েছে। সভায় প্রবাসী বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভার বক্তাগণও বিশেষ করে বৃহত্তর কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল ভেদাভেদ ভুলে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বলেও দাবী করেছেন। এই সভার মধ্য দিয়ে সকল কুমিল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ হবেন বলেও আশাদাদ ব্যক্ত করা হয়। অপরদিকে সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, আমরা কোন বিভক্তির পক্ষে নই, আমরা সকল বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করার পক্ষে। বাংলাদেশ সোসাইটিকে শক্তিশালী করার পক্ষে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাই। নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জীবনের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে লুকোচুরি করতে চাই না। সভায় বক্তারা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে যোগ্য ও সবার সেরা পরিষদ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় 1

গত ৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে ‘কুনু-ফিরোজ’ কুমিল্লাবাসীদের পক্ষ থেকে প্রথম বৃহৎ আকারে মতবিনিময় ও নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী সহ বাংলাদেশীরা উপস্থিতি ছিলেন। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির সভাপতিত্বে সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতি সন্তান ও সোসাইটির সাবেক ট্রাষ্টি এমদাদুল হক কামাল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহŸায়ক ভিপি জহির মোল্লা, আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন, কবি শামসুল আলম, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (একাংশ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সাবেক সভাপতি ওয়াসিম উদ্দিন ভূইয়া, শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সভাপতি মোস্তফা রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, জেএফকে এয়ারপোর্ট এমপ্লয়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন মজুমদার, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম, কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হাজী আবু তাহের, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মিজানুর রহমান মিজান, মঞ্জুরুল আলম হারুন, মোহাম্মদ আলম সরকার, সৈয়দ মোহাম্মদ শওকত, ইয়ার আহমেদ ও বদরুল হক আজাদ।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি সহ ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, কসবা সোসাইটির উপদেষ্ঠা ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কালাম ভূইয়া, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নাদের আইয়ুব, সিলেট সদর সমিতি ইউএস’র সভাপতি সাইফুল খান হারুন, ব্রাক্ষণবাড়িয়া কমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। সভায় প্যানেল নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এম ও জি রাসেল ভূইয়া। সভা পরিচালনা করেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার ও সিদ্দিক পাটোয়ারী।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় 2

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান। এর আগে ব্যক্তিগত জরুরী কাজের জন্য চলে যেতে হয় বিধায় বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান মিয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রতি সর্বাত্বক সমর্থন জানান। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুইন্স সোসাইটির সভাপতি ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া সোসাইটির সাবেক সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সভায় সোসাইটির আগামী নির্বাচনে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বৃহত্তর কুমিল্লার ৬ প্রার্থীকে সভায় বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং তারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীরা হলেন- সহ সভাপতি পদপ্রার্থী, বর্তমানে সোসাইটির সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও পুনরায় একই পদে প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বি মেহের চৌধুরী, কার্যকরী পরিষদ পদপ্রার্থী সিদ্দিক পাটোয়ারী, প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল বাছির ও কাওছার আলম।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী এলিন, কুমিল্লা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি জাকির হোসেন, কসবা সমিতি ইউএসএ’র উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাসিম, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা সহ রেজাউল করীম, আবুল ভূইয়া সিদ্দিকী, মোস্তফা মামুন মজুমদার, কবীর হোসেন প্রমুখ।

সভায় আজমল হোসেন কুনু তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছি সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেবো না। সোসাইটির কোন অর্থ অপচয় করবো না। তবে প্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার তাই করবো। আমরা সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে মিথ্যার রাজনীতি করতে চাই না, বা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত নামের জন্য সোসাইটির একটি অর্থও ব্যয় করবো না। যেদিন সোসাইটির একাউন্টে ভবন কেনার অর্থ জমা থাকবে সেদিনই ভবন কিনবো। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা জবাবদিহীমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। নিউ ইমিগ্র্যান্টদের চাকরীর সুযোগের পথ দেখানো, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু সহ প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবেলায় তিনি কতিপয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং নতুন প্রজন্মকে সোসাইটীমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাবুল চৌধুরী বলেন, আমাদের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে সোসাইটিতে ছিনিমি খেলতে দেয়া হবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা দুই বছরের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, তারা আবার তিন বছর সময় বাড়িয়ে কি দায়িত্ব পালন করবেন? তিনি বলেন, আমরা জবাবদিহিমূলক সবার সোসাইটি চাই। এজন্য ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের বিকল্প নেই।

সভায় আবুল কালাম ভূইয়া, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া ও সিদ্দিক পাটোয়ারী বলেন, আমরা বিগত নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু কমিটির কর্মকতাদের অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি আর বুহত্তর চাঁপুরবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সাখে সম্পৃক্ত হবে নির্বাচন করছি। আজকের সভায় বৃহত্তর চাঁদপুরবাসী যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত করেছে তা সোাসাইটি কমিউনিটির ইতিহাসে দৃষ্টন্ত হয়ে থাকবে।

জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ৯০ হাজার ডলার কিভাবে ইফতারে খরচ হয়, ২৪ হাজার ডলার ফটো কার্ড, ম্যাগাজিনে খরচ হয়েছে- তার হিসাব দিতে হবে। কবর ক্রয়ের অর্থ কেন ফেরৎ আনা হলো তার ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং বিদায়ী কমিটিকে আগের মূল্যেই সোসাইটির কবর ক্রয় করে দিতে হবে। তিনি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদ-কে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্যানেল-কে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামাল আহমেদ জনি। প্যানেলের প্রার্থীর হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।

নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই

কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক খবর কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিউইয়র্কে নিখোঁজের ৫ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিকলীগ নেত আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর মিললো বুধবার স্থানীয় সময় রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে বাসা থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজিজুল হক খোকন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। নিখোঁজের ওইদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এখানে তার নিজের স্বজন ও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রুকলিনের আই ৯৯ উইনত্রোপ স্ট্রীট চীফ মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তার মরদেহ রয়েছে।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, সবার প্রিয় কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই। কিছুতেই কেউ মেনে নিতে পারছে না কেউ , চিরচেনা সেই মানুষটির সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে না! এই প্রবাসজীবনে নিঃসন্দেহে কাজী আজিজুল হক খোকন-্এর মুখে থাকত সেই চিরচেনা হাসি। কথাবার্তায় ছিল অদ্ভুত এক আপনত্ব। অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী, সদালাপী এবং অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। নিখোঁজের পর থেকে নিউইয়র্কের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কোথায় আছেন খোকন ? কেমন আছেন তিনি? মনে মনে সবাই আশা করছিল, হয়তো হঠাৎ কোনো একদিন খবর আসবে, খোকনকে পাওয়া গেছে। তিনি ভালো আছেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হলো সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সংবাদ দিয়ে। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই! কী নির্মম এই সংবাদ! কী অসহায় মানুষের জীবন!

প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন তিনি। মাগুরার সন্তান এই মানুষটি দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছিলেন। জ্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অনেক বড় ছিল তাঁর মানবিক পরিচয়। তিনি ছিলেন একজন ভালো মানুষ, একজন আপনজন। নিউইয়র্কের ব্যস্ত প্রবাসজীবনে এমন মানুষ খুব বেশি পাওয়া যায় না, যাঁদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বললেও মনটা ভালো হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।

প্রসঙ্গত খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন খোকন। কিউ গার্ডেনের বাসায় একা থাকতেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র হয়নি বলে জানা গেছে। শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি।

এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার প্রয়াত কাজী আজিজুল হক খোকন-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের গভীর সমবেদনা জানান।

সোনালী এক্সচেঞ্জে বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন শুরু

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সরকারী প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক প্রবাসী বাংলাদেশী সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’। প্রতিষ্ঠানটির জ্যামাইকা শাখা থেকে শুরু হয়েছে এই ক্যাম্পেইন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন-এর উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর। এসময় সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক ম্যানেজার এমরাম হোসেন ভূইয়া, সিনিয়র অফিসার মনিউর রহমান ও কর্মকর্তা সৈয়দা আর মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর মঙ্গলবার ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে জানান, সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণে বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রবাসীদের কথা ভেবে বিশেষ করে গ্রাহক সেবা আরো বাড়াতে অক্টোবর মাসব্যাপী ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’ শুরু হলো। তিনি বলেন, বিশেষ করে অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করাও এই ক্যাম্পেইন-এর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কেননা, অ্যাপসের মাধ্যমে সহজেই ঘরে বসে দেশে অর্থ প্রেরণ সম্ভব। এতে সময়ও বাঁচবে আবার দ্রæত অর্থ প্রেরণ করা যাবে। কাটা যাবে না বাড়তি অর্থ। এছাড়াও সোনালী এক্সচেঞ্জ’র মাধ্যমে বন্ড ক্রয় সহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

মোহাম্মদ মহসিন কবীর বলেন, সোনালী এক্সচেঞ্জ’র জ্যামাইকা শাখার মাধ্যমে ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্কের আরো ৫টি শাখা এবং নিউজার্সী, লস এঞ্জেলেস ও জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টা শাখায় ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’-এর কার্যক্রম চলবে।

প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর মঙ্গলবার সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত জ্যামাইকা শাখায় অবস্থান করেন এবং আগত গ্রাহকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সেবার কথা জানান। এছাড়াও তিনি জ্যামাইকা শাখার কর্মর্তাদের নিয়ে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কথা বলে গ্রহক সেবা আরো বৃদ্ধির আহবান জানান।

উল্লেখ্য, সোনালী এক্সেচেঞ্জের মাধ্যমে বছরব্যাপী স্বজনদের কাছে অর্থ প্রেরণ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে দুই ঈদের সময় রেকর্ড পরিমান অর্থ প্রেরণ করে থাকেন প্রবাসীরা।

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুল চালু

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুল চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বাংলা স্কুলের নতুন শাখা চালু করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। গত ২ অক্টোবর বিকেলে জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৫ স্ট্রিটের কর্নারে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলটির উদ্বোধন করা হয়। সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে নতুন শাখার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আহসান হাবীব, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও আজিমুর রহমান বোরহান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট জে মোল্লা সানি, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, নওশাদ হায়দার, ডিউক খান, ফারুক মজুমদার ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা শিশুদের ইংরেজি বলতে পারা স্বাভাবিক বিষয়। তাই সন্তান ভালো ইংরেজি বলতে পারে— এটি নিয়ে গর্ব করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইংরেজির পাশাপাশি তাকে নিজের মাতৃভাষা বাংলা শেখানো এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করা।

তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা ভাষা ঠিকমতো বলতে বা বুঝতে পারে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা, মেক্সিকান, ইহুদি ও স্প্যানিশ ভাষাভাষী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সন্তানরা নিজেদের মাতৃভাষা চর্চার পাশাপাশি ইংরেজিতেও দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই বাংলা ভাষায় কথা বলাকে কোনোভাবেই হীনমন্যতার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মাতৃভাষার চর্চাকে শিকড়ের সঙ্গে প্রবাসী প্রজন্মের বন্ধন হিসেবে দেখতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শেখানোর মাধ্যমে শুধু ভাষার চর্চাই নয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিও আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব। এ ধরণের উদ্যোগ প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ইতিমধ্যে ব্রুকলিন ও কুইন্সে দুটি বাংলা স্কুল পরিচালনা করছে। জ্যামাইকায় নতুন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির পরিচালিত বাংলা স্কুলের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে।

নতুন শাখায় জ্যামাইকা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের সন্তানদের বাংলা ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্রঙ্কসে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। গত ৩ অক্টোবর শনবিার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্রঙ্কসরে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মো. আরদি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি, প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি
প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

নিউইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় শক্তি ডায়াসপোরা কমিউনিটি। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অর্থ বিনিয়য়োগ করে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ করতে চাই। প্রতিষ্ঠা করতে চাই বিশ্বমানের হাসপাতাল। এজন্য প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলে একটি হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ড. মনসুর বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আশা করছি দেশের জন্য। গত ৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই মতবিনিময় সভা।

ব্যতিক্রমী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ’র উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক হককথা ও বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ সংগঠনের উপদেষ্টা আশেক খন্দকার শামীম, মোহাম্মদ ফরহাদ তালুকদার, সাবেক সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খান ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সভাপতি আরিফ বিন আনোয়ার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আনিস, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আব্দুর রব ইসলাম।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আরমান চৌধুরী সিপিএ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ। সভায় ড. মনসুর খোলামেলা মতবিনিময়কালে বলেন, দেশ-বিদেশে আমাদের অনেক মেধাবী মানুষ রয়েছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে দেশের হাসপাতালের উপর মানুষের আস্থা নেই বলেই তারা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড। ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর্থিকভাবে। আর আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বিদেশীরা। আমরা চাই দেশের ভিতরেই বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এজন্য উদ্যোগে নেয়া হয়েছে বেসরকারী পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় ১৬তলা একটি ভবনে কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর থেকেই এই হাসপাতালে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে ৩০/৪০ একর জায়গায় প্রাথমিকভাবে হাতে নেয়া হয়েছে হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। টাঙ্গাইল রাজধানী ঢাকার নিকটে আর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষেরা সহজেই এই প্রকল্প থেকে সেবা নিতে পারবেন। এজন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের পাশে টাঙ্গাইল শহরের প্রবেশ পথের পাশে বিশাল জায়গা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সুখী প্রকল্প নিয়েও মানুষের সেবায় কাজ করার পরিকল্পনা চলছে। সুখী প্রকল্পে ৫০ লক্ষ সদস্য রয়েছে। কোরিয়ান সরকার এই খাতে আইটি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. মনসুর বলেন, দেশে ভালো কাজ বেসরকারী উদ্যোগেই সফল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রাক, গণস্বাস্থ্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রবাসীরা তথা ডায়াসপোরা কমিউনিটি শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন। মূলত: আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে চাই। আমরা ১০০, ২০০, ৩০০, ৫০০ ডলার করে ছোট ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। সবার অংশগ্রহণ চাই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনি সকল প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বেসরকারী উদ্যাগে কোন কোন মহলের বিরোধীতা, সিন্ডিকেট ব্যবস্থা প্রভৃতির প্রসঙ্গ উঠলেও ড. মনসুর বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সভা শেষে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র পক্ষ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর-কে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন – প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

নিউ ইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের সামনে ভোটিং মেশিন ও নমুনা ব্যালট পেপার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ভোট গ্রহণের পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং নির্বাচন বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কমিশন।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের সঙ্গে কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে এবং ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সেলিম-আলী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদসহ দুই প্যানেলের বিভিন্ন পদের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সব প্রার্থী, প্যানেল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, পোলিং এজেন্ট ও সমর্থককে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

মতবিনিময়ে বিশেষ গুরুত্ব পায় একজন ভোটারের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বা ভোটার তালিকায় ‘ডাবল ভোট’-এর বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। একজন ভোটার কেবল একবারই তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
‘ডাবল ভোট’ ঠেকাতে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।
ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একবার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন।কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন প্রভাবিত না হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অনুমোদিত প্রতিনিধিকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই প্যানেলের প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও নির্বাচনী উত্তেজনা।

স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা নয়

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। ককরোচ-রা প্রথমে এসেছিলো ‘শিক্ষা-সংস্কার’-র দাবি নিয়ে। এর কিছুটা ন্যায্যতা ছিলো। সরকার দাবি মেনে নেয়। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ককরোচ-রা উৎসাহিত হয়। এবার তারা মাঠে নেমেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবীতে। এটি ভুল পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে প্রধান তেলাপোকা বোম্বেতে জনতার হাতে মৃদু লাঞ্ছিত হয়েছেন। সামনে হয়তো অন্য নেতাদের গায়ে পঁচা ডিম্ পড়বে। কারণ মানুষ বুঝে গেছে ককরোচদের লক্ষ্য শিক্ষা-সংস্কার নয়, তাঁরা সরকারের পতন চায়। এরচেয়ে বরং ককরোচ-রা স্মিট মাচ্ছার-কে অভিনন্দিত করে একদিনের আনন্দ-উৎসবের ডাক দিলে পুরো ভারতের সমর্থন পেতেন।

ককরোচ-রা বাংলাদেশ ষ্টাইলে বিপ্লব ঘটাতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশে কোন বিপ্লব হয়নি, ইসলামী শক্তি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করেছে এবং মাত্র দুই বছরে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, ওই দেশের জনগণের এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। ভারতের ‘জেন-জি’ শিক্ষিত, স্মার্ট, তাঁরা এ ফাঁদে পা দেবেনা। ভারত এমন বহু আন্দোলন দেখেছে, এর ফেডারেল শাসন ব্যবস্থা এর অন্যতম রক্ষাকবচ। ভারতে ক্ষমতা বহুকেন্দ্রিক, স্বৈরাচার হবার সুযোগ নেই। নির্বাচনই হচ্ছে ভারতে ক্ষমতার হাতবদলের একমাত্র পথ। ভারতে নির্বাচনী ব্যবস্থা স্বচ্ছ, বিশ্ব=নন্দিত। ভারতে বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। ভারতে মিডিয়া অবাধ ও স্বাধীন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কোন সরকারের ‘লাগামহীন’ হবার সুযোগ কম।

ককরোচ-রা তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারেনি। এ আন্দোলন প্রমান করে তাঁরা ‘অন্যের হাতে খেলছে’। তাঁদের সহায়ক শক্তি হচ্ছে বাম, মৌলবাদী ইসলামী শক্তি, এন্টি-হিন্দু শক্তি এবং কিছু ক্ষমতাচ্যুত ও ক্ষমতালোভী পরিত্যক্ত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। ভারতে এন্টি-হিন্দু রাজনীতি এখন অচল, সামনের যেকোন নির্বাচনে এদের অবস্থা আরো শোচনীয় হবে। মানুষ জেনে গেছে যে, ‘বাম ও ইসলামী শক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’। বাইরের চাইতে ভারতের ভেতরে ভারতের শত্রু বেশি। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে এরা ভারতের ক্ষতি করছে। পুরো বিশ্ব যখন স্মিট মাচ্ছারের প্রশংসায় করছে, আন্দোলনকারী অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে পারছেন না! সমস্যাটা হচ্ছে তাতে মুসলিম কো=পাইলটের নিন্দা জানাতে হয়, এতে ভোটব্যাঙ্ক বিগড়ে যেতে পারে!

ভারত সরকার বা ক্ষমতাসীন দল কিন্তু স্মিট মাচ্ছারের সম্মানে পুরো ভারতে দুইদিব্যাপী এখনই উৎসবের ডাক দিতে পারেন। স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা বা তাদের সমর্থকরা নয়। পাঠক, আমি ভারতীয় নই, থাকি আমেরিকা, আমার এ পর্যবেক্ষণ কেউ পছন্দ করতে পারেন, আবার পছন্দ নাও করতে পারেন, কিন্তু যারা ‘অপারেশন সিন্দুর’র বিরোধিতা করে বা প্রশ্ন তুলে অথবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী’ শ্লোগান দেয় বা ‘হিন্দুধর্ম গান্ধা ধর্ম’ বলে তারা আর যাই হোক ভারতের শুভাকাঙ্ক্ষী নন, এদের থেকে সাবধান থাকাটা জরুরি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে এরা ভারত ভাঙ্গতেও প্রস্তুত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, এটি আরো সমবৃদ্ধ হোক কিন্তু এরমানে এই নয় যে, অবৈধ-অনুপ্রবেশকারীদের ভোট দেয়ার অধিকার দিতে হবে? ভারতের স্বার্থেই এসআইআর/ এনআরসি দরকার।

১০/০৬/২৬

ওজোনপার্কে খলিল বিরিয়ানির নতুন শাখা চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে ‘খলিল বিরিয়ানি হাউজ’। এবার ওজোনপার্ক-সংলগ্ন ব্রুকলিনের পিটকিন অ্যাভিনিউতে চালু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নতুন শাখা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান দেশীয় খাবারের চাহিদা বিবেচনায় গত ২ অক্টোবর ২০২৬ পিটকিন অ্যাভিনিউতে শাখাটির গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্কলার ড. রুহুল আমিন। পরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহেদ আহমেদ ও মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ এবং শেফ খলিলুর রহমান অতিথি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। নতুন শাখা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথি ও গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দেশীয় খাবার উপভোগ করেন।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. খলিলুর রহমান জানান, ওজোন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের দেশীয় খাবারের চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এ এলাকায় নতুন শাখা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাছাকাছি বসবাসকারী গ্রাহকদের কাছে বাংলাদেশি খাবার আরও সহজলভ্য করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নতুন শাখায় খাবারের মান, স্বাদ ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। হালাল, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন বাংলাদেশি খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের স্বাদ ও গুণগত মান ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশি কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের কাছেও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ পৌঁছে দিতে চান তারা। নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

স্থানীয় প্রবাসীরা নতুন শাখা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ওজোন পার্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বাংলাদেশি খাবারের আরও একটি বিকল্প তৈরি হলো। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে দেশীয় খাবার উপভোগ করতে আগ্রহীদের জন্য নতুন শাখাটি বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। একই সঙ্গে খাবারের স্বাদ, মান ও সেবায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তারা।
শেফ খলিলুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ‘খলিল বিরিয়ানি’ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবারের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি বিরিয়ানির পাশাপাশি তেহারি, বিভিন্ন ধরনের মাংস, মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচাসহ নানা দেশীয় খাবার পরিবেশন করা হয়।

নতুন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলো। উদ্যোক্তারা বলছেন, ভবিষ্যতেও খাবারের মান ও স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই তারা কাজ করবেন।

কুষ্টিয়া শতকোটি টাকার প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি তিন জেলায় একই প্রকল্পে খরচ ২৪৮ কোটি

সেচ সুবিধা বাড়িয়ে বেশি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রকল্পটির। তিন জেলায় পাঁচ বছরে খরচ হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল শতকোটি টাকা। প্রকল্পের কুষ্টিয়া অংশে নানা অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, তারা কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাননি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগ ২০২০ সালে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু করে। প্রকল্পটি শেষ হয় গত বছর। কোথাও পাম্প অচল, কোথাও যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে; আবার কোথাও খাল খননের পর উল্টো মাঠে পানি ঢোকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় ৬৮ হাজার টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল।

এখন এই তিন জেলায় নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। আগের প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ব্যয়ের মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বছর শেষ হওয়া প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০০ কোটি এবং ৪৮ কোটি টাকা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতকোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায়।

সমকালের পক্ষ থেকে শুধু কুষ্টিয়ার ওই ছয়টি উপজেলায় প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের নথি, মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ফারাক পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ ভাগাভাগি, নিম্নমানের নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরির কারণে প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় যেসব খাতে বরাদ্দ 
প্রকল্পের আওতায় ছয় উপজেলায় খাল পুনর্খনন করা হয় ১০৬ কিলোমিটার, এলপি স্থাপন ১১২টি, ভূগর্ভের সেচনালা নির্মাণ ১৬৫টি, সৌরচালিত ডাগওয়েল স্থাপন ২২টি, ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ২৪১টি, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ছোট-বড় ৩০টির বেশি। ল্যাব ও বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া শতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  করা হয়।

নথি অনুযায়ী, একটি ডাগওয়েল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা, পাম্প হাউসপ্রতি ১৫ লাখ, দুই কিউসেক পাম্প সেটপ্রতি ১৫ লাখ এবং পাঁচ কিউসেক সৌর পাম্পপ্রতি ১৫ লাখ টাকা। বড়, মাঝারি ও ছোট সেচ অবকাঠামোর জন্য যথাক্রমে ৪০ লাখ, ২৫ লাখ ও সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

১২ লাখ টাকার ডাগওয়েল অচল
দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের মাঠে ২০২০-২১ অর্থবছরে একটি সৌরচালিত ডাগওয়েল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে আশপাশের প্রায় ৫০ জন কৃষককে কম খরচে সেচ দেওয়া। কিন্তু এখন সেটি অচল। পাম্পের মোটর, বৈদ্যুতিক তার, পানি সংরক্ষণের ট্যাঙ্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেই।

সরেজমিন সেখানে সৌর প্যানেল ও অবকাঠামোর একটি অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কুয়ায়ও পানি নেই। স্থানীয় কৃষকরা এখন ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে সেচ দিচ্ছেন।

সবজি চাষি লিয়াকত হোসেন বলেন, সরকারি টাকায় প্রকল্প করা হয়েছিল। কিন্তু চালু হওয়ার পর থেকেই পড়ে আছে। এখন ডিজেল পাম্প দিয়ে সেচ নিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে।

একই গ্রামের কৃষক ইউনূস আলী বলেন, দৌলতপুরে ধান, গম ও ভুট্টার মতো ফসল চাষে বেশি পরিমাণ পানি প্রয়োজন। ডাগওয়েলের তিন ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সেই চাহিদা মেটে না। তাঁর ভাষ্য, নিম্নমানের যন্ত্রপাতির কারণে পাম্পটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

তেকালা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে কাজীপুরেও একই ধরনের একটি ডাগওয়েল ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল।

কুমারখালীর মাহেন্দ্রপুর পদ্মার চরে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত এলএলপি। সরেজমিন সেখানে পাম্পের ঘর ও নদী পর্যন্ত নেওয়া পাইপ দেখা গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এটি ব্যবহার করা যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির এক প্রকৌশলী বলেন, ১৩০টি ডাগওয়েল কৃষকের সেচ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়া অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তি উপযোগী নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুপারিশে প্রকল্পে ডাগওয়েল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর হিসাবে, এ খাতে ব্যয় করা প্রায় এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা কার্যত কোনো কাজে আসেনি।

কৃষিবিদদেরও কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের ডাগওয়েল মূলত সীমিত পরিসরে সবজি চাষে ব্যবহারযোগ্য; ধান বা বেশি পানিনির্ভর ফসলের জন্য তা কার্যকর নয়। তাদের মতে, তুলনামূলক কম ব্যয়েই এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব।

খাল খননে উল্টো ফল
প্রকল্পের আওতায় ১৮০ কিলোমিটার খাল ও নালা পুনর্খননের কথা ছিল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের একটি ক্যানেল কয়েক বছর আগে পর্যন্ত স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানি সরবরাহ করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএডিসি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই ক্যানেলটি পুনর্খনন করে।

খননের পর এটি আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়ে গেছে। ফলে খালের পানি মাঠে উঠছে না; বরং বৃষ্টির পানি মাঠ থেকে নেমে খালে চলে যাচ্ছে। এখন কৃষকরা শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করছেন।

কৃষক উসমান আলী বলেন, আগে এই খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ হতো। এখন পানি থাকলেও মাঠে আসে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে খনন করে কৃষকেরই ক্ষতি হয়েছে।

দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর বাজারের পাশের একটি খালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেড় কিলোমিটার খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় এক কিলোমিটার খননের পরই কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। সরেজমিন খালের অসম্পূর্ণ অংশের অস্তিত্বও দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের শান্তিডাঙ্গা মৌজায় ৬০০ মিটার পানি নিষ্কাশন খাল খননের কথা রয়েছে ২০২৩ সালে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খালটির বড় অংশ এখন ভরাট ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয় এবং নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন, তাদের জিকে প্রকল্পের অন্তত কয়েকটি খালকে নিষ্কাশন খাল দেখিয়ে বিএডিসি পুনর্খনন করেছে। এ জন্য তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভুল নকশায় খননের কারণে কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা সেচের পানি পাচ্ছেন না। এসব খাল ঠিক করতে পাউবোকে আবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

গভীর নলকূপেও প্রভাবশালীদের দখল
প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলায় অর্ধশতাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। কৃষকদের মাত্র ৫৫ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এসব পাম্প নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সরকারি পাম্পের পানি ব্যবহারের জন্য সেচ কমিটির নির্ধারিত হারও রয়েছে। তিন দফা সেচে এক বিঘা জমির জন্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের দুধকুমড়া গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি পাম্প ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা প্রতি সেচে বিঘাপ্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা নিচ্ছেন। ফলে পাঁচ বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতেই প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

কৃষক শরীফ উদ্দিন বলেন, কম খরচে সেচ দেওয়ার জন্য সরকার পাম্প দিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত হারের কয়েক গুণ টাকা দিতে হচ্ছে। তাই অনেকে আবার শ্যালো মেশিনের পানি নিচ্ছেন।

পাম্পটির ম্যানেজার মোজাফফর হোসেন নিজাম অবশ্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দৌলতপুরে ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর কয়েকটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা পেয়েছেন। তৎকালীন মন্ত্রী ও কয়েকজন সচিবের সুপারিশে এসব পাম্প বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে।

সমঝোতায় ঠিকাদারকে কাজ প্রদান
প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় কাজের একটি অংশ কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকলেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে আগে থেকে দর ও কাজের তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির একজন নিবন্ধিত ঠিকাদার বলেন, রাজনৈতিক নেতা, তৎকালীন মন্ত্রী, বিএডিসির চেয়ারম্যান ও সচিবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বড় কাজগুলো পেয়েছেন। তাঁর দাবি, কাগজপত্রে দরপত্রের নিয়ম মানা হলেও বাস্তবে কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সমঝোতা করা হতো।

প্রকল্পের নথিতে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ায় চার বছরে ঠিকাদার আতাউর রহমান আতা ৫০টির বেশি কাজ পেয়েছেন। মোট আটজন ঠিকাদার তুলনামূলকভাবে বেশি কাজ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম বছরেই প্রায় ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় অফিস সাজসজ্জা, ল্যাব স্থাপন, বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ বিভিন্ন কাজ ছিল।
নথি অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কক্ষ সাজাতে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, অফিস সংস্কারে ২১ লাখ ৫১ হাজার এবং বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণে ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই তিন কাজ একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিন প্রকল্প কার্যালয়ের পেছনে পাম্প টেস্টিং ল্যাবের জন্য তৈরি একটি অসম্পূর্ণ স্থাপনা দেখা যায়। নথিতে কাজের ৬০ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ আরও কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

ঠিকাদার তানভীর নোবেল বলেন, কাজটি তাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল, তবে পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং কিছু বিলও বকেয়া রয়েছে।
ঠিকাদার রুবেল হাসান অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে কৃষকদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে। আরেক ঠিকাদার এ এম জুবায়েদ রিপনের অভিযোগ, প্রকল্পের বড় অংশই নেতা ও ঠিকাদারদের স্বার্থে বাস্তবায়ন হয়েছে; কৃষকের বাস্তব সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিন পিডি, অনিয়মের অভিযোগ
পাঁচ বছরের প্রকল্পে তিনজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে প্রায় আট মাস দায়িত্বে ছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর সময়ে আগাম দরপত্র আহ্বান ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। পরে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলম। ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন আলী আশরাফ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে নুরুল ইসলামের সময়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তির তথ্য রয়েছে। পরে ওই আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিতে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আলী আশরাফ দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও কাজ বণ্টনের পুরোনো পদ্ধতি পুরোপুরি বদলায়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের প্রভাবের কারণে কয়েকজন ঠিকাদার একাধিক লটের কাজ পেয়েছেন।

তিন জেলার জন্য নতুন প্রকল্পে ৬৮১ কোটি
পুরোনো প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। নতুন প্রকল্পে সেচ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে আগের প্রকল্পে কোন খাতে কী ফল পাওয়া গেছে, কৃষকের সেচ ব্যয় কতটা কমেছে বা উৎপাদন কতটা বেড়েছে– এমন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

উন্নয়ন সংগঠন দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের প্রয়োজন ও প্রকল্পের ফল যাচাই না করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলে তা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কৃষকের বাস্তব চাহিদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সদ্য শেষ হওয়া প্রকল্পের পিডি ও বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের সব কাজ হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম থাকতে পারে, বিশেষ করে ডাগওয়েল নির্মাণে ত্রুটি পাওয়া গেছে। নতুন প্রকল্পে ডাগওয়েল বাদ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন এবং ফসল উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন কতটা বেড়েছে বা কৃষকের খরচ কতটা কমেছে– এমন কোনো পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই বলে জানান।