Home Blog Page 9

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি, প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি
প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

নিউইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় শক্তি ডায়াসপোরা কমিউনিটি। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অর্থ বিনিয়য়োগ করে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ করতে চাই। প্রতিষ্ঠা করতে চাই বিশ্বমানের হাসপাতাল। এজন্য প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলে একটি হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ড. মনসুর বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আশা করছি দেশের জন্য। গত ৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই মতবিনিময় সভা।

ব্যতিক্রমী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ’র উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক হককথা ও বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ সংগঠনের উপদেষ্টা আশেক খন্দকার শামীম, মোহাম্মদ ফরহাদ তালুকদার, সাবেক সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খান ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সভাপতি আরিফ বিন আনোয়ার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আনিস, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আব্দুর রব ইসলাম।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আরমান চৌধুরী সিপিএ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ। সভায় ড. মনসুর খোলামেলা মতবিনিময়কালে বলেন, দেশ-বিদেশে আমাদের অনেক মেধাবী মানুষ রয়েছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে দেশের হাসপাতালের উপর মানুষের আস্থা নেই বলেই তারা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড। ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর্থিকভাবে। আর আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বিদেশীরা। আমরা চাই দেশের ভিতরেই বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এজন্য উদ্যোগে নেয়া হয়েছে বেসরকারী পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় ১৬তলা একটি ভবনে কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর থেকেই এই হাসপাতালে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে ৩০/৪০ একর জায়গায় প্রাথমিকভাবে হাতে নেয়া হয়েছে হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। টাঙ্গাইল রাজধানী ঢাকার নিকটে আর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষেরা সহজেই এই প্রকল্প থেকে সেবা নিতে পারবেন। এজন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের পাশে টাঙ্গাইল শহরের প্রবেশ পথের পাশে বিশাল জায়গা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সুখী প্রকল্প নিয়েও মানুষের সেবায় কাজ করার পরিকল্পনা চলছে। সুখী প্রকল্পে ৫০ লক্ষ সদস্য রয়েছে। কোরিয়ান সরকার এই খাতে আইটি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. মনসুর বলেন, দেশে ভালো কাজ বেসরকারী উদ্যোগেই সফল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রাক, গণস্বাস্থ্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রবাসীরা তথা ডায়াসপোরা কমিউনিটি শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন। মূলত: আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে চাই। আমরা ১০০, ২০০, ৩০০, ৫০০ ডলার করে ছোট ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। সবার অংশগ্রহণ চাই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনি সকল প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বেসরকারী উদ্যাগে কোন কোন মহলের বিরোধীতা, সিন্ডিকেট ব্যবস্থা প্রভৃতির প্রসঙ্গ উঠলেও ড. মনসুর বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সভা শেষে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র পক্ষ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর-কে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন – প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

নিউ ইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের সামনে ভোটিং মেশিন ও নমুনা ব্যালট পেপার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ভোট গ্রহণের পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং নির্বাচন বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কমিশন।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের সঙ্গে কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে এবং ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সেলিম-আলী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদসহ দুই প্যানেলের বিভিন্ন পদের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সব প্রার্থী, প্যানেল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, পোলিং এজেন্ট ও সমর্থককে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

মতবিনিময়ে বিশেষ গুরুত্ব পায় একজন ভোটারের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বা ভোটার তালিকায় ‘ডাবল ভোট’-এর বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। একজন ভোটার কেবল একবারই তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
‘ডাবল ভোট’ ঠেকাতে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।
ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একবার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন।কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন প্রভাবিত না হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অনুমোদিত প্রতিনিধিকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই প্যানেলের প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও নির্বাচনী উত্তেজনা।

স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা নয়

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। ককরোচ-রা প্রথমে এসেছিলো ‘শিক্ষা-সংস্কার’-র দাবি নিয়ে। এর কিছুটা ন্যায্যতা ছিলো। সরকার দাবি মেনে নেয়। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ককরোচ-রা উৎসাহিত হয়। এবার তারা মাঠে নেমেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবীতে। এটি ভুল পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে প্রধান তেলাপোকা বোম্বেতে জনতার হাতে মৃদু লাঞ্ছিত হয়েছেন। সামনে হয়তো অন্য নেতাদের গায়ে পঁচা ডিম্ পড়বে। কারণ মানুষ বুঝে গেছে ককরোচদের লক্ষ্য শিক্ষা-সংস্কার নয়, তাঁরা সরকারের পতন চায়। এরচেয়ে বরং ককরোচ-রা স্মিট মাচ্ছার-কে অভিনন্দিত করে একদিনের আনন্দ-উৎসবের ডাক দিলে পুরো ভারতের সমর্থন পেতেন।

ককরোচ-রা বাংলাদেশ ষ্টাইলে বিপ্লব ঘটাতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশে কোন বিপ্লব হয়নি, ইসলামী শক্তি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করেছে এবং মাত্র দুই বছরে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, ওই দেশের জনগণের এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। ভারতের ‘জেন-জি’ শিক্ষিত, স্মার্ট, তাঁরা এ ফাঁদে পা দেবেনা। ভারত এমন বহু আন্দোলন দেখেছে, এর ফেডারেল শাসন ব্যবস্থা এর অন্যতম রক্ষাকবচ। ভারতে ক্ষমতা বহুকেন্দ্রিক, স্বৈরাচার হবার সুযোগ নেই। নির্বাচনই হচ্ছে ভারতে ক্ষমতার হাতবদলের একমাত্র পথ। ভারতে নির্বাচনী ব্যবস্থা স্বচ্ছ, বিশ্ব=নন্দিত। ভারতে বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। ভারতে মিডিয়া অবাধ ও স্বাধীন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কোন সরকারের ‘লাগামহীন’ হবার সুযোগ কম।

ককরোচ-রা তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারেনি। এ আন্দোলন প্রমান করে তাঁরা ‘অন্যের হাতে খেলছে’। তাঁদের সহায়ক শক্তি হচ্ছে বাম, মৌলবাদী ইসলামী শক্তি, এন্টি-হিন্দু শক্তি এবং কিছু ক্ষমতাচ্যুত ও ক্ষমতালোভী পরিত্যক্ত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। ভারতে এন্টি-হিন্দু রাজনীতি এখন অচল, সামনের যেকোন নির্বাচনে এদের অবস্থা আরো শোচনীয় হবে। মানুষ জেনে গেছে যে, ‘বাম ও ইসলামী শক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’। বাইরের চাইতে ভারতের ভেতরে ভারতের শত্রু বেশি। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে এরা ভারতের ক্ষতি করছে। পুরো বিশ্ব যখন স্মিট মাচ্ছারের প্রশংসায় করছে, আন্দোলনকারী অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে পারছেন না! সমস্যাটা হচ্ছে তাতে মুসলিম কো=পাইলটের নিন্দা জানাতে হয়, এতে ভোটব্যাঙ্ক বিগড়ে যেতে পারে!

ভারত সরকার বা ক্ষমতাসীন দল কিন্তু স্মিট মাচ্ছারের সম্মানে পুরো ভারতে দুইদিব্যাপী এখনই উৎসবের ডাক দিতে পারেন। স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা বা তাদের সমর্থকরা নয়। পাঠক, আমি ভারতীয় নই, থাকি আমেরিকা, আমার এ পর্যবেক্ষণ কেউ পছন্দ করতে পারেন, আবার পছন্দ নাও করতে পারেন, কিন্তু যারা ‘অপারেশন সিন্দুর’র বিরোধিতা করে বা প্রশ্ন তুলে অথবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী’ শ্লোগান দেয় বা ‘হিন্দুধর্ম গান্ধা ধর্ম’ বলে তারা আর যাই হোক ভারতের শুভাকাঙ্ক্ষী নন, এদের থেকে সাবধান থাকাটা জরুরি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে এরা ভারত ভাঙ্গতেও প্রস্তুত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, এটি আরো সমবৃদ্ধ হোক কিন্তু এরমানে এই নয় যে, অবৈধ-অনুপ্রবেশকারীদের ভোট দেয়ার অধিকার দিতে হবে? ভারতের স্বার্থেই এসআইআর/ এনআরসি দরকার।

১০/০৬/২৬

ওজোনপার্কে খলিল বিরিয়ানির নতুন শাখা চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে ‘খলিল বিরিয়ানি হাউজ’। এবার ওজোনপার্ক-সংলগ্ন ব্রুকলিনের পিটকিন অ্যাভিনিউতে চালু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নতুন শাখা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান দেশীয় খাবারের চাহিদা বিবেচনায় গত ২ অক্টোবর ২০২৬ পিটকিন অ্যাভিনিউতে শাখাটির গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্কলার ড. রুহুল আমিন। পরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহেদ আহমেদ ও মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ এবং শেফ খলিলুর রহমান অতিথি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। নতুন শাখা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথি ও গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দেশীয় খাবার উপভোগ করেন।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. খলিলুর রহমান জানান, ওজোন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের দেশীয় খাবারের চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এ এলাকায় নতুন শাখা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাছাকাছি বসবাসকারী গ্রাহকদের কাছে বাংলাদেশি খাবার আরও সহজলভ্য করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নতুন শাখায় খাবারের মান, স্বাদ ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। হালাল, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন বাংলাদেশি খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের স্বাদ ও গুণগত মান ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশি কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের কাছেও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ পৌঁছে দিতে চান তারা। নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

স্থানীয় প্রবাসীরা নতুন শাখা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ওজোন পার্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বাংলাদেশি খাবারের আরও একটি বিকল্প তৈরি হলো। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে দেশীয় খাবার উপভোগ করতে আগ্রহীদের জন্য নতুন শাখাটি বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। একই সঙ্গে খাবারের স্বাদ, মান ও সেবায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তারা।
শেফ খলিলুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ‘খলিল বিরিয়ানি’ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবারের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি বিরিয়ানির পাশাপাশি তেহারি, বিভিন্ন ধরনের মাংস, মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচাসহ নানা দেশীয় খাবার পরিবেশন করা হয়।

নতুন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলো। উদ্যোক্তারা বলছেন, ভবিষ্যতেও খাবারের মান ও স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই তারা কাজ করবেন।

কুষ্টিয়া শতকোটি টাকার প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি তিন জেলায় একই প্রকল্পে খরচ ২৪৮ কোটি

সেচ সুবিধা বাড়িয়ে বেশি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রকল্পটির। তিন জেলায় পাঁচ বছরে খরচ হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল শতকোটি টাকা। প্রকল্পের কুষ্টিয়া অংশে নানা অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, তারা কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাননি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগ ২০২০ সালে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু করে। প্রকল্পটি শেষ হয় গত বছর। কোথাও পাম্প অচল, কোথাও যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে; আবার কোথাও খাল খননের পর উল্টো মাঠে পানি ঢোকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় ৬৮ হাজার টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল।

এখন এই তিন জেলায় নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। আগের প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ব্যয়ের মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বছর শেষ হওয়া প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০০ কোটি এবং ৪৮ কোটি টাকা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতকোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায়।

সমকালের পক্ষ থেকে শুধু কুষ্টিয়ার ওই ছয়টি উপজেলায় প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের নথি, মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ফারাক পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ ভাগাভাগি, নিম্নমানের নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরির কারণে প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় যেসব খাতে বরাদ্দ 
প্রকল্পের আওতায় ছয় উপজেলায় খাল পুনর্খনন করা হয় ১০৬ কিলোমিটার, এলপি স্থাপন ১১২টি, ভূগর্ভের সেচনালা নির্মাণ ১৬৫টি, সৌরচালিত ডাগওয়েল স্থাপন ২২টি, ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ২৪১টি, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ছোট-বড় ৩০টির বেশি। ল্যাব ও বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া শতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  করা হয়।

নথি অনুযায়ী, একটি ডাগওয়েল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা, পাম্প হাউসপ্রতি ১৫ লাখ, দুই কিউসেক পাম্প সেটপ্রতি ১৫ লাখ এবং পাঁচ কিউসেক সৌর পাম্পপ্রতি ১৫ লাখ টাকা। বড়, মাঝারি ও ছোট সেচ অবকাঠামোর জন্য যথাক্রমে ৪০ লাখ, ২৫ লাখ ও সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

১২ লাখ টাকার ডাগওয়েল অচল
দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের মাঠে ২০২০-২১ অর্থবছরে একটি সৌরচালিত ডাগওয়েল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে আশপাশের প্রায় ৫০ জন কৃষককে কম খরচে সেচ দেওয়া। কিন্তু এখন সেটি অচল। পাম্পের মোটর, বৈদ্যুতিক তার, পানি সংরক্ষণের ট্যাঙ্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেই।

সরেজমিন সেখানে সৌর প্যানেল ও অবকাঠামোর একটি অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কুয়ায়ও পানি নেই। স্থানীয় কৃষকরা এখন ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে সেচ দিচ্ছেন।

সবজি চাষি লিয়াকত হোসেন বলেন, সরকারি টাকায় প্রকল্প করা হয়েছিল। কিন্তু চালু হওয়ার পর থেকেই পড়ে আছে। এখন ডিজেল পাম্প দিয়ে সেচ নিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে।

একই গ্রামের কৃষক ইউনূস আলী বলেন, দৌলতপুরে ধান, গম ও ভুট্টার মতো ফসল চাষে বেশি পরিমাণ পানি প্রয়োজন। ডাগওয়েলের তিন ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সেই চাহিদা মেটে না। তাঁর ভাষ্য, নিম্নমানের যন্ত্রপাতির কারণে পাম্পটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

তেকালা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে কাজীপুরেও একই ধরনের একটি ডাগওয়েল ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল।

কুমারখালীর মাহেন্দ্রপুর পদ্মার চরে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত এলএলপি। সরেজমিন সেখানে পাম্পের ঘর ও নদী পর্যন্ত নেওয়া পাইপ দেখা গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এটি ব্যবহার করা যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির এক প্রকৌশলী বলেন, ১৩০টি ডাগওয়েল কৃষকের সেচ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়া অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তি উপযোগী নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুপারিশে প্রকল্পে ডাগওয়েল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর হিসাবে, এ খাতে ব্যয় করা প্রায় এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা কার্যত কোনো কাজে আসেনি।

কৃষিবিদদেরও কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের ডাগওয়েল মূলত সীমিত পরিসরে সবজি চাষে ব্যবহারযোগ্য; ধান বা বেশি পানিনির্ভর ফসলের জন্য তা কার্যকর নয়। তাদের মতে, তুলনামূলক কম ব্যয়েই এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব।

খাল খননে উল্টো ফল
প্রকল্পের আওতায় ১৮০ কিলোমিটার খাল ও নালা পুনর্খননের কথা ছিল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের একটি ক্যানেল কয়েক বছর আগে পর্যন্ত স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানি সরবরাহ করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএডিসি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই ক্যানেলটি পুনর্খনন করে।

খননের পর এটি আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়ে গেছে। ফলে খালের পানি মাঠে উঠছে না; বরং বৃষ্টির পানি মাঠ থেকে নেমে খালে চলে যাচ্ছে। এখন কৃষকরা শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করছেন।

কৃষক উসমান আলী বলেন, আগে এই খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ হতো। এখন পানি থাকলেও মাঠে আসে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে খনন করে কৃষকেরই ক্ষতি হয়েছে।

দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর বাজারের পাশের একটি খালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেড় কিলোমিটার খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় এক কিলোমিটার খননের পরই কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। সরেজমিন খালের অসম্পূর্ণ অংশের অস্তিত্বও দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের শান্তিডাঙ্গা মৌজায় ৬০০ মিটার পানি নিষ্কাশন খাল খননের কথা রয়েছে ২০২৩ সালে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খালটির বড় অংশ এখন ভরাট ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয় এবং নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন, তাদের জিকে প্রকল্পের অন্তত কয়েকটি খালকে নিষ্কাশন খাল দেখিয়ে বিএডিসি পুনর্খনন করেছে। এ জন্য তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভুল নকশায় খননের কারণে কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা সেচের পানি পাচ্ছেন না। এসব খাল ঠিক করতে পাউবোকে আবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

গভীর নলকূপেও প্রভাবশালীদের দখল
প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলায় অর্ধশতাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। কৃষকদের মাত্র ৫৫ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এসব পাম্প নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সরকারি পাম্পের পানি ব্যবহারের জন্য সেচ কমিটির নির্ধারিত হারও রয়েছে। তিন দফা সেচে এক বিঘা জমির জন্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের দুধকুমড়া গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি পাম্প ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা প্রতি সেচে বিঘাপ্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা নিচ্ছেন। ফলে পাঁচ বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতেই প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

কৃষক শরীফ উদ্দিন বলেন, কম খরচে সেচ দেওয়ার জন্য সরকার পাম্প দিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত হারের কয়েক গুণ টাকা দিতে হচ্ছে। তাই অনেকে আবার শ্যালো মেশিনের পানি নিচ্ছেন।

পাম্পটির ম্যানেজার মোজাফফর হোসেন নিজাম অবশ্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দৌলতপুরে ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর কয়েকটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা পেয়েছেন। তৎকালীন মন্ত্রী ও কয়েকজন সচিবের সুপারিশে এসব পাম্প বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে।

সমঝোতায় ঠিকাদারকে কাজ প্রদান
প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় কাজের একটি অংশ কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকলেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে আগে থেকে দর ও কাজের তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির একজন নিবন্ধিত ঠিকাদার বলেন, রাজনৈতিক নেতা, তৎকালীন মন্ত্রী, বিএডিসির চেয়ারম্যান ও সচিবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বড় কাজগুলো পেয়েছেন। তাঁর দাবি, কাগজপত্রে দরপত্রের নিয়ম মানা হলেও বাস্তবে কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সমঝোতা করা হতো।

প্রকল্পের নথিতে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ায় চার বছরে ঠিকাদার আতাউর রহমান আতা ৫০টির বেশি কাজ পেয়েছেন। মোট আটজন ঠিকাদার তুলনামূলকভাবে বেশি কাজ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম বছরেই প্রায় ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় অফিস সাজসজ্জা, ল্যাব স্থাপন, বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ বিভিন্ন কাজ ছিল।
নথি অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কক্ষ সাজাতে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, অফিস সংস্কারে ২১ লাখ ৫১ হাজার এবং বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণে ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই তিন কাজ একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিন প্রকল্প কার্যালয়ের পেছনে পাম্প টেস্টিং ল্যাবের জন্য তৈরি একটি অসম্পূর্ণ স্থাপনা দেখা যায়। নথিতে কাজের ৬০ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ আরও কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

ঠিকাদার তানভীর নোবেল বলেন, কাজটি তাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল, তবে পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং কিছু বিলও বকেয়া রয়েছে।
ঠিকাদার রুবেল হাসান অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে কৃষকদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে। আরেক ঠিকাদার এ এম জুবায়েদ রিপনের অভিযোগ, প্রকল্পের বড় অংশই নেতা ও ঠিকাদারদের স্বার্থে বাস্তবায়ন হয়েছে; কৃষকের বাস্তব সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিন পিডি, অনিয়মের অভিযোগ
পাঁচ বছরের প্রকল্পে তিনজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে প্রায় আট মাস দায়িত্বে ছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর সময়ে আগাম দরপত্র আহ্বান ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। পরে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলম। ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন আলী আশরাফ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে নুরুল ইসলামের সময়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তির তথ্য রয়েছে। পরে ওই আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিতে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আলী আশরাফ দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও কাজ বণ্টনের পুরোনো পদ্ধতি পুরোপুরি বদলায়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের প্রভাবের কারণে কয়েকজন ঠিকাদার একাধিক লটের কাজ পেয়েছেন।

তিন জেলার জন্য নতুন প্রকল্পে ৬৮১ কোটি
পুরোনো প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। নতুন প্রকল্পে সেচ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে আগের প্রকল্পে কোন খাতে কী ফল পাওয়া গেছে, কৃষকের সেচ ব্যয় কতটা কমেছে বা উৎপাদন কতটা বেড়েছে– এমন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

উন্নয়ন সংগঠন দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের প্রয়োজন ও প্রকল্পের ফল যাচাই না করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলে তা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কৃষকের বাস্তব চাহিদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সদ্য শেষ হওয়া প্রকল্পের পিডি ও বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের সব কাজ হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম থাকতে পারে, বিশেষ করে ডাগওয়েল নির্মাণে ত্রুটি পাওয়া গেছে। নতুন প্রকল্পে ডাগওয়েল বাদ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন এবং ফসল উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন কতটা বেড়েছে বা কৃষকের খরচ কতটা কমেছে– এমন কোনো পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই বলে জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্থূলতায় ওষুধ ও অস্ত্রোপচার নয়

বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। এতে বয়সভেদে স্থূলতার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১০ বছরের কম বয়সের শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, পাকস্থলীতে অস্ত্রোপচার বা ওজন কমানোর কোনো যন্ত্র যেন ব্যবহার করা না হয়। তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। গুরুতর স্থূলতার সঙ্গে স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্থূলতা
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৫ থেকে ৯ বছরের প্রায় সাত কোটি শিশু স্থূলতায় ভুগছিল। একই সময়ে ১০ থেকে ১৯ বছরের প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় ভুগছিল। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে স্থূলতার হারও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৯০ সালে এদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেজিল বলেন, বিশ্বের সব অঞ্চলেই শিশু-কিশোরদের স্থূলতার হার বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ প্রবণতা বেশি। তাঁর মতে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত করাই এর মূল ভিত্তি।

শুধু ওজন নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর
স্থূলতার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আত্মসম্মানবোধ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক কটূক্তি, বৈষম্য ও বুলিংয়েরও শিকার হতে পারে। তাই স্থূলতার চিকিৎসায় শুধু ওজন কমানোর বিষয় নয়; শিশুর মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর স্থূলতায় অস্ত্রোপচারের সুযোগ
ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের বিজ্ঞানী মারিয়া নিভেস গার্সিয়া কাসাল বলেন, কিশোর বয়সে গুরুতর স্থূলতার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দিলে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে অস্ত্রোপচারের আগে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। এসব পদক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে এবং গুরুতর স্থূলতার সঙ্গে স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে অস্ত্রোপচারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নীতি ভিন্ন
শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য ডব্লিউএইচওর এই নির্দেশনা প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা চিকিৎসায় সংস্থাটির সাম্প্রতিক অবস্থানের তুলনায় ভিন্ন। প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা চিকিৎসায় জিএলপি-ওয়ান অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির ওষুধের ভূমিকা বিবেচনা করেছে ডব্লিউএইচও। ওজেম্পিক ও মাউনজারোর মতো পরিচিত ব্র্যান্ড এ শ্রেণির ওষুধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বদলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশেও বাড়ছে অতিরিক্ত ওজনের প্রবণতা
বাংলাদেশে একদিকে অপুষ্টি এখনও শিশুস্বাস্থ্যের বড় হুমকি, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার প্রবণতা বাড়ছে। গত এপ্রিলে ইউনিসেফের ‘ফিডিং প্রফিট: হাউ ফুড এনভায়রনমেন্টস আর ফেইলিং চিলড্রেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি পরিস্থিতির এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে। আগে তুলনামূলকভাবে উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বেশি দেখা গেলেও এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যেও এ প্রবণতা বাড়ছে। ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, মিষ্টি বিস্কুট ও কোমল পানীয়র মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুষ্টির অভাবে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের প্রায় ২৮ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতিতে ভুগছে। ফলে বাংলাদেশে অপুষ্টির ডাবল বার্ডেন বা দ্বৈত বোঝা স্পষ্ট হয়ে উঠছে– একদিকে অপুষ্টি, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা।

শিশুর খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। স্কুল পরিবেশে ফাস্টফুড ও চিনিযুক্ত পানীয়র সহজলভ্যতাও কিশোর-কিশোরীদের ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। ৬ থেকে ২৩ মাসের শিশুদের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবারের বড় ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ শিশু ডিম ও মাংস খেতে পায় না। ৪৬ শতাংশ শিশু শাকসবজি ও ফল খায় না। বিপরীতে ৫৯ শতাংশ শিশু নিয়মিত নিম্নমানের খাবার ও কোমল পানীয় গ্রহণ করে। প্রায় ২০ শতাংশ শিশু লবণাক্ত ও ভাজা খাবার খায়। বিশ্বজুড়েও স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা বাড়াকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিশুদের ওজন বাড়লেও তাদের পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেই এ ধরনের স্থূলতার হার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে ২০ জনে একজন, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ওজনের শিকার। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় পাঁচজনে একজন বা ২০ শতাংশ বাড়তি ওজনে ভুগছে। ২০০০ সালে বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী অতিরিক্ত ওজনের শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৩৯ কোটি ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে।
নতুন সূচক অনুযায়ী, ৬ থেকে ২৩ মাসের অনেক শিশুই নিয়মিত মিষ্টি ও ভাজা খাবার খাচ্ছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিদিন একাধিক চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে। এ বয়সীদের প্রায় ৩২ শতাংশ কোমল পানীয় এবং ২৫ শতাংশ নোনতা প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়।

বিদায়, পূর্ণতার অমর গল্প

০

বিদায় বোধ হয় সব সময় সবকিছুর সমাপ্তি নয়! কখনও কখনও তা স্মৃতির সিন্দুকে এক অনন্ত হাহাকার আর ভালোবাসা জমা রাখার নিভৃত, গোপন আয়োজনও; যা পাথেয় করেই হয়তো বাকি জীবনটা অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়া যায়। লিওনেল মেসিও বুঝি জীবনের গূঢ় বাঁকে দাঁড়িয়ে সেই চিরন্তন সত্যটাই বেছে নিলেন। গতকাল বুধবার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বেনিনের বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলার পর বিষাদঘন মহালগ্নে তিনি আশ্রয় নিলেন পরিবারের বুকে। একপাশে তাঁর কাঁধ ছুঁইছুঁই বড় ছেলে থিয়াগো, অন্যপাশে চির-সহচরী আন্তোনেলা রোকুজ্জো আর বাকি দুই সন্তান– স্টেডিয়ামের দিকে মুখ ঘুরিয়ে মাঠ থেকে ফিরে প্রস্থান নিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার একুশ বছরের অভ্যাস থেকে।

লুসাইলের সেই কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণ– বিশ্বকাপ, কোপার মরমিয়া উল্লাস আর আলবিসেলেস্তে জার্সির গায়ে খোদাই করা অতিমানবিক কীর্তিগাথা রেখে দিয়ে এলেন ‘মেসিশূন্য’ আর্জেন্টিনার একলা আকাশে। ক্যামেরার লেন্স যখন তাঁর চোখের কোণে জমা হওয়া সেই নোনা জলের শেষ বিন্দুটিকে ছুঁয়ে গেল, তখন স্পষ্ট বোঝা গেল– যিনি কোটি মানুষকে প্রতিদিন স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, তিনিও আজ এক চরম রিক্ততার মুখোমুখি। জামার হাতায় চোখ মুছে তাঁর বিদায়ী স্বরলিপি, ‘আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের ও দুঃখের দিনটি পার করছি। কারণ আজ সেই দিন, যেদিন আমি জাতীয় দল ও আপনাদের সবাইকে বিদায় জানাচ্ছি। জাতীয় দলের এই ঐতিহাসিক জার্সি ও সম্মান রক্ষা করার প্রতিটি মুহূর্তকে আমি মিস করব। তবে এখন থেকে আমি আপনাদের সারিতে, ওপাশে গিয়ে দাঁড়াব।’

আলবিসেলেস্তে জার্সির মায়া কাটিয়ে ওপাশে গিয়ে সাধারণ সমর্থক হওয়ার ঘোষণা দিলেও ফুটবলকে তিনি অবশ্য এখনই বিদায় জানাচ্ছেন না। আটলান্টিকের ওপারে, ইন্টার মায়ামির চেনা গোলাপি জার্সিতে এখনও তাঁর পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় বুঁদ হয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব। মেসি এখন ক্লাব ফুটবলের আঙিনায় খেলবেন শুধুই নিজের আনন্দের জন্য, ফুটবলের আদি ও অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য। দেশের হয়ে ‘আছেন’ থেকে ‘ছিলেন’ হয়ে যাওয়ার পরও মায়ামির সবুজ ঘাসে তাঁর প্রতিটি ছোঁয়া ফুটবল রোমান্টিকদের মনে করিয়ে দেবে– রাজার দেশ বদলেছে, কিন্তু জাদুর মায়া ফুরিয়ে যায়নি! দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলতে নেমেও শেষবারের মতো আকাশি-সাদায় জাদুই দেখিয়েছেন।

মাঠে লিওনেল মেসি যে কেন শুধুই একজন ফুটবলার নন– এক অলৌকিক কিংবদন্তি, তার চূড়ান্ত সাক্ষ্য তিনি রেখে গেলেন বেনিনের বিপক্ষে এই বিদায়ী মঞ্চেও। ৩-০ গোলের ম্যাচটি শুধু স্মরণীয় করে রাখলেন না, বরং চিত্রনাট্যের মতো করে বুনে গেলেন এক পরম বৃত্তপূরণ। অদ্ভুত এক নিয়তি, ম্যাচের প্রথম গোলটি তিনি করালেন কার হাত দিয়ে? নিকোলাস ওতামেন্দি! মেসির মতোই যাঁর আজ আলবিসেলেস্তে জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল। দুই পুরোনো কমরেডের এই শেষ যুগলবন্দি যেন এক প্রজন্মের অবসান। আর ঠিক তার পরেই দ্বিতীয় গোলটি তিনি সাজিয়ে দিলেন তরুণ নিকো পাজের পায়ে, যাঁর চোখের মণিতে ফুটবলবিশ্ব এরই মধ্যে মেসির এক যোগ্য উত্তরসূরির ছায়া দেখতে শুরু করেছে। কে জানে, হয়তো এই পাজের পিঠেই উঠতে যাচ্ছে আগামী দিনের সেই পবিত্র ১০ নম্বর জার্সি! আর নাটকের শেষ অঙ্কটি মেসি লিখলেন নিজের পায়ে। যে পেনাল্টি কিক নিয়ে জীবনের নানা বসন্তে তাঁকে অজস্র তীরবিদ্ধ হতে হয়েছে, সমালোচকদের বিষাক্ত বাণে বিদ্ধ হতে হয়েছে, সেই পেনাল্টি থেকেই স্পট-কিকে বল জাল ছুঁয়ে তিনি যেন নিজের ক্যারিয়ারের সমস্ত অপূর্ণতা আর যন্ত্রণার হিসাব চুকিয়ে দিলেন। বিদায়ের রাতে বেনিন-বধের এই ৩-০ ব্যবধান তাই কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এ এক মহানায়কের নিজের হাতে লিখে যাওয়া নিখুঁত এক মহাকাব্যের শেষ অনুচ্ছেদও।

খেলা শুরুর ঠিক পাঁচ ঘণ্টা আগে থেকেই মূলত মহাকালের সেই বিষণ্ন নাটকের প্রথম অঙ্কটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনার ট্রেনিং সেন্টারের প্রবেশমুখে যখন হাজার হাজার ভক্তের সেই উথালপাতাল ভিড় আছড়ে পড়ছিল, গাড়িবারান্দার ওপাশে বসা লিওনেল মেসির চোখের কোণটা তখনই প্রথম আর্দ্র হয়ে ওঠে। তারপর যখন হাইওয়ে ধরে টিম-বাস ছুটছে এস্তাদিও মনুমেন্তালের দিকে, জানালার কাচে মাথা রেখে বাইরে তাকানো জাদুকর আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন সেই অতিমানব, যিনি গত একুশ বছর ধরে গোটা বিশ্বকে হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন। স্টেডিয়ামের টানেলে ঢোকামাত্রই তাঁকে জড়িয়ে ধরে একটুকরো নিরাপদ পৃথিবী– তাঁর মা, ছায়ার মতো পাশে থাকা স্ত্রী আন্তোনেলা আর অবুঝ সন্তানরা। একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার মতো আজন্ম যোদ্ধারা, যারা এই ঐতিহাসিক বিদায়ের সাক্ষী হতে, বন্ধুকে শেষ আলিঙ্গন দিতে গ্যালারি আলো করে এসেছিলেন।

আর মাঠের ভেতর? ওটা তো নিছক কোনো ফুটবল ম্যাচ ছিল না, ওটা ছিল এক ভালোবাসার মানুষের প্রতি ভক্তকুলের রাজকীয় উপাসনা। গ্যালারি থেকে যখন পঁচাশি হাজার কণ্ঠের ‘মেসি… মেসি…’ ধ্বনি কূজনের মতো আছড়ে পড়ছিল, জাতীয় সংগীতের প্রতিটি সুরে মিশে যাচ্ছিল এক অলৌকিক হাহাকার। আর কখনও কি এমন সন্ধ্যা আসবে তাদের জীবনে?

চিত্রনাট্যের সবচেয়ে মায়াবী দৃশ্যটা মঞ্চস্থ হয়েছিল ম্যাচের ঠিক দশম মিনিটে; রেফারি যখন খেলা থামিয়ে দিলেন, পুরো স্টেডিয়াম একযোগে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল আর্জেন্টিনার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ‘নম্বর ১০’-কে। প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের বাড়িয়ে দেওয়া লাল গোলাপের শুভেচ্ছা যেন শত্রু-মিত্রের সীমানা মুছে দিল চিরতরে। আর ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য– খোদ রেফারি এগিয়ে এসে মেসির হাতে তুলে দিচ্ছেন ম্যাচের বল, পকেট থেকে বের করছেন লাল আর হলুদ কার্ড। যেন বলতে চাইছেন, ‘হে জাদুকর, এই নিয়মের খেলা তো আজ থেকে তোমার জন্য শেষ!’ ঠিক তখনই বুয়েন্স আয়ার্সের রাতের আকাশকে চিরে দিয়ে ড্রোনের আলোয় জ্বলে উঠল দুটো অমর শব্দ– ‘গ্রাসিয়াস মেসি’। প্রযুক্তির শরীরে মায়ার প্রলেপ মাখানো মেসির রূপকথা সাজানো ছিল রাতের আকাশে। জাদুকরের পায়ের জাদুর মতোই হাজার হাজার ড্রোন আকাশে এক আলোর নকশিকাঁথা বুনছিল তখন। যে আলোর রোশনাই বুঝিয়ে দিয়েছিল, আলো নিভে গেলেও এই রূপকথার গোধূলি কখনও ফুরাবার নয়।

যে গল্পের শুরুটা হয়েছিল রোজারিওর এক চিলতে ধুলোবালি মাখা গলিতে, এক হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা বিষণ্ন বালকের পায়ে বলের আলতো ছোঁয়ায়, এদিন বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালের আকাশ ছোঁয়া গর্জনে এসে তার রাজকীয় অবসান হলো। মেসির এই দুই দশকের আন্তর্জাতিক পথচলা তো কেবল কিলোমিটারের মাপে রোজারিও থেকে বুয়েন্স আয়ার্সের দূরত্ব নয়; এ আসলে এক মহাকাব্যের সফল রূপান্তর করার জীবন-যুদ্ধ। সেই ছোটবেলার ‘লা পুলগা’ বা খুদে জাদুকরটি যখন দেশের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে দিতে ফাইনালে হারার কান্না সয়েছেন, ট্রফি না পাওয়ার বিষাক্ত বাণে বিদ্ধ হয়েছেন, তখনও কেউ ভাবেনি এই রূপকথার শেষ অঙ্কটা এত মধুর হবে। রোজারিওর সেই ছটফটে পায়ে আজ ২০৮টি ম্যাচের ক্লান্তি আর ১২৬টি গোলের রাজকীয় অহংকার মিশে আছে বটে; কিন্তু শেষ ম্যাচে এসে যখন তিনি পরম তৃপ্তিতে থিয়াগোর কাঁধে হাত রাখলেন, তখন মনে হলো বৃত্তটা সম্পূর্ণ হলো।

এদিন ম্যাচ শেষের পর যখন উৎসবের আলো একে একে নিভে এলো, তখন মনুমেন্তালের ড্রেসিংরুমের বদ্ধ বাতাসে নেমে এলো এক ভারী নৈঃশব্দ্য। কিছু বিদায় সতীর্থদের আর সতীর্থ রাখে না, তাদের বানিয়ে দেয় একেকজন অভিভাবকহারা ক্রন্দনরত শিশু। তারা শুধু একজন অধিনায়ককে হারাচ্ছেন না; হারাচ্ছেন তাদের শৈশবের রূপকথাকে, মাঠের ভেতরের পরম নির্ভরতাকে। ডি মারিয়া দূর থেকে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছিলেন; যেন এক কমরেড অন্য কমরেডের মহানিষ্ক্রমণ দেখছেন গভীর নীরবতায়। সতীর্থদের প্রতিটি আলিঙ্গন, প্রতিটি ভাঙা কণ্ঠের আকুতি মেসিকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল– গত একুশ বছরে তিনি কেবল ট্রফি জেতেননি; জয় করেছেন একেকটা মানুষের হৃদয়।

আর ঠিক তার পরেই এলো সেই চিরস্মরণীয় মুহূর্ত, যখন মাইক হাতে মঞ্চের মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন মেসি। চারপাশের গগনবিদারী চিৎকারের মধ্যেও তাঁর বিদায়ী ভাষণের আবহ জুড়ে ছিল এক অপার্থিব মরমিয়া বিষাদ। কাঁপা কাঁপা গলায় যখন তিনি বলে উঠলেন, ‘আজ কিছু বলা সত্যিই খুব কঠিন… আমি মাঠ ছেড়ে যেতে চাইছি না, আমি বিদায় নিতে চাইছি না’– তখন এস্তাদিওর প্রতিটি ঘাসের কণা যেন গুমরে কেঁদে উঠেছিল। কণ্ঠে কোনো অহংকার ছিল না, ছিল না বিশ্বজয়ের কোনো উদ্ধত আস্ফালন; বরং সেখানে মিশে ছিল বাবার স্মৃতির প্রতি নিবিড় কৃতজ্ঞতা, ইংল্যান্ড ম্যাচের সেই শরীর নিংড়ানো ক্লান্তির স্বীকারোক্তি এবং চিরকাল আর্জেন্টিনার সাধারণ এক সমর্থক হয়ে ওপাশে গিয়ে দাঁড়ানোর এক পরম আত্মত্যাগ। আলো-ছায়ার সেই মায়াবী সন্ধ্যায়, মেসির মুখ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি শব্দ যেন বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশ চিরে একেকটা নীল পদ্ম হয়ে ঝরে পড়ছিল কোটি ভক্তের হৃদয়ে। রাজা মঞ্চ ছাড়লেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের সেই শেষ আকুতি ফুটবল রোমান্টিকদের স্মৃতির সিন্দুকে অমর হয়ে রইল চিরকালের জন্য।

রেলে গতি আনতে কেনা হবে ৩০ লোকোমোটিভ

রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা হবে। এর ফলে নতুন করে গতি আসবে রেলে। একই সঙ্গে ট্রেন পরিচালনার দক্ষতা বাড়বে, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে এবং পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন  দেওয়া হয়। সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এই ব্যয়ে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিদেশি ঋণ চার হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব জোগান। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত প্রকল্প।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। একনেকে উত্থাপিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট  মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী একনেক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, যে কোনো রাস্তা কিংবা অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা মেরামত করে দিতে হবে। প্রকল্পের কার্যক্রমে এই বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে একনেকে অনুমোদিত  প্রকল্পের কোনো  সম্পর্ক নেই।

অনুমোদিত ১৩ প্রকল্প
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। প্রকল্পটির ব্যয় এক হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট সাত হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল তিন হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে হবে। অনুমোদিত অন্য বড় প্রকল্পের মধ্যে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এটি একটি নতুন প্রকল্প। রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পে বিদেশি ঋণ আছে এক হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে দুই হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে দুই হাজার ১২৩ কোটি  টাকা।  ২০২৯ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে দুই হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ৬০৭ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি  টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৪ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব স্পষ্ট করতে হবে। পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার সপ্তম বার্ষিকীতে তার স্মৃতিকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছিলেন। সেই অবস্থানকে ধারণ করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব স্পষ্ট করতে হবে। পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তার হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্যাতন ও গেস্টরুম সংস্কৃতির চিত্রও প্রকাশ পেয়েছিল। সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে তাকে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

এনসিপি নেতা নাহিদ বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কেনা বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈঠক করলেই হবে না; সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা পানি বণ্টনসহ সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গাজা যুদ্ধের ৩ বছর ‘আমরা সব হারিয়েছি’

০

গাজা যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা, মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং পদ্ধতিগত নির্মূল প্রচেষ্টার মুখে পড়ে বাস্তবতাই পাল্টে গেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির। নিজেদের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে বেইত হানুনের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমরা সব হারিয়েছি।’

আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল ইসরায়েলে। ওই হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এরপর টানা হামলায় গাজার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মানুষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন এই যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুতি ও উচ্ছেদের নির্দেশে পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে।

গাজা যুদ্ধের নির্মমতায় যখন গোটা বিশ্ব নড়েচড়ে বসতে শুরু করে, সে সময় আসে বহুল প্রতীক্ষিত এক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এক হাজার ৪৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়।

প্রতিদিনের জীবনে টিকে থাকার লড়াই

গাজার মানুষের জন্য যুদ্ধ শুধু তাদের বসবাসের জায়গা বদলে দেয়নি, দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে সাধারণ কাজগুলো করার পদ্ধতিও বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের জেরে উপত্যকাটির শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। খাবার, পানি, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করাই এখন প্রতিদিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তার প্রয়োজন ছিল। আর ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছিল। ইসরায়েলি হামলা কিংবা জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় এসব আশ্রয়ে তাদের থাকতে হচ্ছে। এসব অস্থায়ী আশ্রয় আবহাওয়া থেকে সামান্যই সুরক্ষা দেয় তাদের।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, অনেক পরিবারের পর্যাপ্ত বিছানা, আলো, রান্নার সরঞ্জাম ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নেই। পানিও প্রতিদিনের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, আগস্টের শুরুতে গাজার ৯১ শতাংশ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পানি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও একইভাবে অনিশ্চিত। উপত্যকাটিতে এখনও কার্যকর বিদ্যুৎ গ্রিড নেই। জ্বালানিও ক্রমে দুর্লভ হয়ে উঠছে।

গাজার উত্তরাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর বেইত হানুনের বাসিন্দা বাসাম নাসের বলেন, ‘একসময় আমাদের বাড়ি ছিল। এখন আমরা প্রিয়জনদের হারিয়েছি। তাদের মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। আমরা সব হারিয়েছি।’

ধ্বংস হয়ে গেছে অর্থনীতি

যুদ্ধ গাজার অর্থনীতিও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্যবসা ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় পরিবারগুলোর আয় কমে গেছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

চাকরি ও আয় হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ক্রমে মানবিক সহায়তা, ঋণ এবং ছোট পরিসরের অনানুষ্ঠানিক কাজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। অর্থনৈতিক গবেষক রামি আল-জায়গ আলজাজিরাকে বলেছেন, এই যুদ্ধ ‘সমাজটিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে’।

সংকুচিত হয়ে আসছে বসবাসের জায়গা

যুদ্ধের কারণে গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে গেছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভূখণ্ডটিকে বিভক্ত করেছে। ফিলিস্তিনিদের ক্রমেই ছোট একটি এলাকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ তৈরির মাধ্যমে গাজার ভেতরে একটি সামরিক সীমারেখা তৈরি করা হয়েছে। এই কথিত রেখার একপাশে ইসরায়েলি সেনার অবস্থান এবং অন্যপাশে আছেন ফিলিস্তিনিরা। গত সেপ্টেম্বরে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছিল, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে। ফলে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে গাজার ৩০ শতাংশেরও কম এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকতে হচ্ছে।

তৃতীয় বার্ষিকীতেও হামলা

যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকীতেও বুধবার গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, রাতে ইসরায়েলি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স নিহতদের একজনকে মোহাম্মদ তামুস হিসেবে শনাক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তিনি তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ৬০ বছর বয়সী হিশাম ইব্রাহিম আবু মুস্তাফা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।