Home Blog Page 80

সুস্থ হার্ট চান? সুরক্ষিত রাখতে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে আপনার অন্যতম প্রধান কাজ হলো হার্টের যত্ন নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিকোল হারকিন সামাজিক মাধ্যমে এমন পাঁচটি জিনিসের কথা জানিয়েছেন যা তিনি হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে কখনোই করতেন না। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

তার পোস্টে, ডা. নিকোল এমন পাঁচটি জীবনযাত্রার অভ্যাসের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন যা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা হৎদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে নিকোটিনযুক্ত পণ্য থেকে দূরে থাকা, প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া সীমিত করা, বুকের ব্যথাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাসের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ডা. নিকোল জানিয়েছেন, এই অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চললে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে তিনি জানান, আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো জীবনযাত্রার অভ্যাসও হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

 ধূমপান বা ভ্যাপিং পণ্য ব্যবহার

ডা. নিকোল বলেছেন, তিনি তরুণীদের মধ্যে যতগুলো হার্ট অ্যাটাক দেখেছেন, তার প্রায় সবগুলোই ধূমপায়ী বা ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঘটেছে। তার মতে, নিকোটিনযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা মানুষের হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি।

বুকের ব্যথা উপেক্ষা করা বা গুরুত্ব না দেওয়া

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বুকের ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন,। তিনি বলেন, আশ্চর্যজনকভাবে, প্রচলিত স্ক্রিনিংয়ের  যাদের ঝুঁকি কম বলে মনে করা হয়, তাদেরও হার্ট অ্যাটাক হয়। যখন রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তারা অনেক বেশি অসুস্থ থাকেন। বুকে ব্যথা হলে তিনি যেই বয়সীই হোক না কেন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া

ডা. নিকোল বেকন, হট ডগ, হ্যামবার্গার এবং ডেলি মিটের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার বিরুদ্ধেও পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, হট ডগ, হ্যামবার্গার, ডেলি মিটের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস উপেক্ষা করা

ডা. নিকোল বলেছেন, কারো পরিবারে হৃদরোগে ইতিহাস থাকলে কখনোই তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। ডা. নিকোল ব্যাখ্যা করেন, আজকাল অনেক তরুণই জার্ট অ্যাটাকের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসে। সবাইকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বিশেষ করে যাদের পরিবারে হার্ট হৃদরোগের ইতিহাস আছে তাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘুমকে অবহেলা করবেন না

প্রতি রাতে অন্তত আট ঘণ্টা বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. নিকোল। হার্ট ভালো রাখতে ঘুম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তিনি ব্যাখ্যা করেন।

শিক্ষিকার রিল ভাইরাল, যা বলছেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’র গায়ক

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে, অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণের ধারা…’—তিন দশকের বেশি সময় আগে প্রকাশিত গানটি নতুন করে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষিকার রিল ভিডিও ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যেই গানটির শিল্পী মেজবাহ রহমান নিজের মতামত জানিয়েছেন। ভিডিওটিতে নেতিবাচক কিছু দেখেননি তিনি। বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই গানটা আমরা সব সময়ই গাই। এটা চিরন্তন বৃষ্টির গান, বর্ষার গান, প্রকৃতির গান। ১৯৮৯ সালে গানটি তৈরি করি, ১৯৯০ সালে প্রকাশ করি। ৩৬ বছর পরও এর আবেদন একটুও কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এটাও এক ধরনের ভিন্ন অনুভূতি।’

সম্প্রতি এই গান ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তার সহকর্মী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল তৈরি করে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।

বিউটি পালের প্রসঙ্গে মেজবাহ রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বাবা-মায়ের পরে শিক্ষকদের স্থান দিই। শিক্ষকদের অবশ্যই কিছু বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য মেনে চলতে হয়। তবে এই রিল ভিডিও নিয়ে যেটা করা হচ্ছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়। আমার কাছে এতে নেতিবাচক কিছু মনে হয়নি। এখানে একটি শ্রেণি কী অনৈতিক বিষয় খুঁজে পেল, আমি বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিকমাধ্যমকে আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। প্রয়োজনেই সবাই এর দ্বারস্থ হয়। তাই একটি দিক দেখে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।’

এদিকে ঘটনাটি সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেজবাহ রহমান। তার ভাষায়, ‘এটা নিয়ে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি ঠিক হবে না। আমার মনে হয়, বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা উচিত। কারণ এটি কোনো নেতিবাচক ভিডিও ছিল না।’

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মিনি ট্রাকসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ

ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় পণ্য ও একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ২৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

সোমবার ভোরে ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্বদেবপুর সীমান্ত এলাকায় ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এ অভিযান চালায়।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য এনে পাচারের উদ্দেশ্যে জমা করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পণ্যবোঝাই মিনি ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ট্রাকটি থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও চকলেট জব্দ করা হয়।

ফেনী ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান সমকালকে জানান, জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। চোরাচালান ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইনসহ যেকোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে।

এবার টিভি সিরিজে অভিনয় করবেন রোনালদো

০

দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এবার বিনোদন অঙ্গনেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই পর্তুগিজ তারকা নতুন টেলিভিশন ড্রামা সিরিজ ‘ডে ওয়ানস’-এ নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশেষ অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করবেন তিনি।

সিরিজটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আর্সেনাল ও ফ্রান্সের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরিও। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে এবার দুজনকে দেখা যাবে একই প্রযোজনা প্রকল্পে।

‘ডে ওয়ানস’ যৌথভাবে নির্মাণ করছে রোনালদো এবং হলিউড পরিচালক ম্যাথিউ ভনের প্রতিষ্ঠিত ইউআর-মার্ভ স্টুডিওস। ভন ‘কিংসম্যান’ ও ‘কিংসম্যান’ চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য পরিচিত।

নতুন প্রকল্প নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘এটি আমার জীবনের নতুন একটি অধ্যায়। ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

ম্যাথিউ ভনও রোনালদোর প্রশংসা করে বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো মাঠে এমন অনেক গল্প তৈরি করেছেন, যা কল্পনাকেও হার মানায়। এবার তার সঙ্গে পর্দার গল্প বলার অপেক্ষায় আছি।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডে ওয়ানস’ আধুনিক ফুটবলের পর্দার আড়ালের নানা বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত হবে। খেলোয়াড়, এজেন্ট, অর্থনীতি এবং পেশাদার ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশই হবে সিরিজটির মূল বিষয়।

সিরিজটির ধারণা দিয়েছেন ফুটবল এজেন্ট ড্যারেন ডেইন। কেন্দ্রীয় চরিত্র স্ট্যানলি ডালটনের ভূমিকায় অভিনয় করবেন ‘হোমল্যান্ড’ ও ‘বিলিয়নস’-খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা ডেমিয়ান লুইস।

ইতোমধ্যে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বার্নেট এফসির স্টেডিয়াম ‘দ্য হাইভ’-এ সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রোনালদো ও অঁরির সম্পৃক্ততার কারণে সিরিজটির সম্প্রচারস্বত্ব পেতে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

ফাইনালের ৭ দিন পর খোলা চিঠিতে যা লিখলেন স্কালোনি

০

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের এক সপ্তাহ পর সমর্থকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বার্তায় আরেকটি ট্রফি এনে দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের লড়াই, মানসিকতা ও আত্মত্যাগকেই দলের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো দীর্ঘ বার্তা দেন স্কালোনি। ট্রফি না জিতলেও দল কী দেখানোর চেষ্টা করেছে, সেটিই মনে রাখতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান স্কালোনি। তিনি লেখেন, ‘আমি চাই, আপনারা এই খেলোয়াড়দের মনে রাখুন। এরা আমার যোদ্ধা। আমার স্ত্রীকে যখন তাদের কথা বলতাম, তখনও আমি এভাবেই তাদের পরিচয় দিতাম।’

এরপর একে একে তিনি দলের মানসিকতার কথা তুলে ধরেন, ‘পরিশ্রম, জয়ের ইচ্ছা, বিশ্বাস, ‘আমি পারব’ মানসিকতা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল না ছেড়ে দেওয়া, আর কিছু দেওয়ার না থাকলেও নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া, যারা আমাদের চেনে না তাদের কাছ থেকে আসা ঠান্ডা পানির ঝাপটা সহ্য করা, পা যখন আর মস্তিষ্কের নির্দেশ মানতে চায় না, তখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা… এটাই আসল ট্রফি।’

চিঠির শেষ অংশে নিজের কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মী এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কালোনি। তিনি লেখেন, ‘আমার কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, এএফএর কর্মীরা এবং নেপথ্যে নীরবে কাজ করা প্রত্যেকের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আর আপনাদের সবার ভালোবাসার জন্যও ধন্যবাদ।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকেই স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। দায়িত্বে থাকা বা সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।

তবে ইতালীয় ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফএ তাকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখতে আগ্রহী।

বাংলাদেশে পুষ্টি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেসলে ও বিসিএসআইআরের, উন্মোচন ‘পুষ্টিগ্রো+’

বাংলাদেশে পুষ্টি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে যৌথ উদ্যোগে তৈরি নতুন পুষ্টি সমাধান ‘পুষ্টিগ্রো+’ উন্মোচন করেছে নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন-২০২৬-এ নেসলে বাংলাদেশ তাদের প্যাভিলিয়নে বিসিএসআইআরের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবিত এই পুষ্টি সমাধানটি প্রদর্শন করে।

নেসলে বাংলাদেশ জানায়, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পুষ্টি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরি ‘পুষ্টিগ্রো+’ একটি সিরিয়ালভিত্তিক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পুষ্টি সমাধান, যা পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নেসলে বাংলাদেশ ও বিসিএসআইআরের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি এই পুষ্টি সমাধান দৈনন্দিন ঘরে রান্না করা খাবারের সঙ্গে সহজেই মিশিয়ে খাওয়া যায়। এতে প্রোবায়োটিক, আয়রন, জিংক এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে, যা শিশুদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা নেসলে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা এই উদ্ভাবনী পুষ্টি সমাধানের প্রশংসা করেন বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ডা. সামিনা আহমেদ বলেন, ‘বিসিএসআইআরের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং নেসলের বৈশ্বিক পুষ্টি বিষয়ক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছি। এমন সহযোগিতা বেসরকারি ও সরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।’

নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপাল আবেউইক্রেমা বলেন, ‘বিসিএসআইআরের সঙ্গে আমাদের যৌথ উদ্যোগের ফসল ‘পুষ্টিগ্রো+’, যা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সাশ্রয়ী সমাধান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি মোকাবেলায় আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

নেসলে বাংলাদেশ জানায়, বাংলাদেশ যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক মূল্য সৃষ্টি করতে সহায়তা করবে।

৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের

বৃষ্টির অজুহাতে হু হু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমায় মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে।

কিছু অঞ্চলে বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কারণে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। সে জন্য দাম বাড়ছে। তারা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং আমদানি না করলে দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর তেজগাঁও কলোনি, মগবাজার ও কারওয়ানবাজার ঘুরে মরিচের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের এই অজুহাতকে বিশ্বাস করতে রাজি নন ভোক্তারা। তাদের দাবি, বৃষ্টির অজুহাতে সরবরাহ ঘাটতি দেখিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। সরকারের উচিত বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালানো।

চার-পাঁচ দিন আগে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায়। সেই হিসাবে কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বাজারভেদে দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। মগবাজার, কলোনি বাজারের মতো এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোতে কেজি বিক্রি হয়েছে কমবেশি ৩০০ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজারে বিক্রি হয়েছে কিছুটা কমে। খুচরার পাশাপাশি পাইকারি বাজার থাকায় এখানে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০, ২৬০ ও ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগের বাজারের চিত্র বিশ্লষণ করলে দেখা যায়, প্রায় পাঁচগুণ দাম বেড়েছে মরিচের। রাজধানীর খুচরা বাজারে মাসখানেক আগে মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে।

কলোনি বাজারের সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন সমকালকে বলেন, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি-বাদল হচ্ছে। এ কারণে বাজারে মরিচ কম আসছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরায় বেড়েছে।

কারওয়ানবাজারে পাইকারি ও খুচরা উভয় পদ্ধতিতে মরচি বিক্রি করেন তরিকুল হাসান। হঠাৎ এভাবে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিস্তর বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, মানিকগঞ্জসহ কিছু এলাকা থেকে মরিচ আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী অঞ্চলের মরিচ আসছে। এসব এলাকায়ও অনেক ক্ষেতে গাছ পচে মরে গেছে। অতিবৃষ্টিতে কিছু গাছের ফুল ঝরে গেছে। ফলে মোকামেই মরিচের সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে মরিচের সরবরাহ কমে গেছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, যেখানে দৈনিক ১০ গাড়ি (ট্রাক) মরিচ আসত, সেখানে এখন আট গাড়ি আসে। তাহলে দুই গাড়ির তো ঘাটতি থাকে। এ সময় ভারত থেকে মরিচ আমদানি হওয়ার কথা কিন্তু হচ্ছে না। এ কারণে বাজার দর বাড়তি।

সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ড বেড়েছে, দূর হয়নি নিরাপত্তাহীনতা সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ মাসে গড়ে ৭ দশমিক ৩৩টি। বিপরীতে ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের হিসাবে মাসিক গড় ছিল ৫ দশমিক ৫টি। একই সময়ে জমি দখল বা দখলচেষ্টার ঘটনাও মাসিক গড়ে বেড়েছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিসংখ্যানে সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় বাড়লেও নারী নির্যাতন, উপাসনালয়ে হামলা এবং বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মাসিক গড় কমেছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, কিছু সূচকে ঘটনার সংখ্যা কমলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা দূর হয়নি। অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, রঞ্জন কর্মকার, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪০টি হত্যাকাণ্ডে ৪৪ জন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। গত বছর হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৬৬টি। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মাসিক গড় হত্যাকাণ্ড ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড়ে যা শূন্য দশমিক ৮৩টি। ২০২৫ সালে এ ধরনের ২৮টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ২ দশমিক ৩৩টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মাসিক গড় প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজামণ্ডপে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১৫টি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় ২ দশমিক ৫টি। ২০২৫ সালে এ ধরনের ৯৫টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৯২টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

তবে জমি দখল বা দখলচেষ্টার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের ১৫টি ঘটনার মাসিক গড় ২ দশমিক ৫টি, যেখানে ২০২৫ সালে ২১টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ১ দশমিক ৭৫টি। অর্থাৎ মাসিক গড়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও প্রতিমায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৪৭টি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় ৭ দশমিক ৮৩টি। গত বছর এ ধরনের ১০২টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ৮ দশমিক ৫টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও কিছুটা কমেছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অপহরণ, চাঁদাবাজি, নিখোঁজ ও নির্যাতনের অভিযোগ, কর্মস্থলে বৈষম্য এবং জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আরও কয়েক ডজন ঘটনার তথ্যও তুলে ধরে সংগঠনটি।

রাবি ছাত্রীকে চাকু-পিস্তলের ভয় দেখানোর অভিযোগ, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ছাত্রীকে চাকু বের করে এবং পিস্তলের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে পড়েন। অভিযুক্ত মহসিন আলম একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রক্টর দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর গত ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে জোর করে তাকে পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও একই প্রস্তাব দেন।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয়বারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মহসিন আলম পকেট থেকে একটি চাকু বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং পিস্তলেরও ভয় দেখান।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে প্রথমে মেসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রুয়েট হয়ে আবার পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি কান্নাকাটি করলে তাকে মেসে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অভিযুক্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মহসিন আলম ছাত্রদলের কর্মী, ক্যাম্পাসে অনেকে এমন দাবি করছেন। তবে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কোনো সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেউ নন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বক্তব্য শুনেছি। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। পরে তারা ফোন করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডাকা হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য শুনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে অভিযুক্তের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি কিছুটা রহস্যজনক মনে হয়েছে। তাদের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সবার বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভারতে আন্দোলন পদত্যাগ নিয়ে পর্দার আড়ালে ৪৮ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাবনাতেও ছিল না। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে হওয়া তিনটি মূল্যায়ন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও দিল্লিতে বিক্ষোভ আরও জোরদার এবং অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ছিল। দ্বিতীয়ত, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ যেমন- শিক্ষা সচিবের বদলি, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল এমনকি নিট পরীক্ষা পরিচালনার সংস্থা এনটিএ-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘটনাও বিক্ষোভকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

তৃতীয়ত, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এবারের অধিবেশনে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং নারী সংরক্ষণ বিলের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো সংসদে তোলার কথা ছিল। এগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিজেপিকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। ফলে অধিবেশন পণ্ড হলে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারতো।

ভারতের সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতের সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতে সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুরুর প্রথম দিন (গত সোমবার) অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সরকার তখন ধারণা করেছিল, এবার হয়তো বিক্ষোভ ধীরে ধীরে থেমে যাবে। কিন্তু এই ধারণা বদলাতে খুব বেশি সময় লাগেনি।

বিজেপির একজন এমপি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব নেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেওয়ার পর সেটির প্রতিক্রিয়াগুলো গভীরভাবে যাচাই করা হয়। তাতে দেখা যায়, যন্তর মন্তরের পাশাপাশি অন্য রাজ্যের আন্দোলনেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। এমনকি মুম্বাইয়ে নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা সত্ত্বেও উপস্থিতি কমেনি।

বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানায়, নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি মানুষের মনোভাব পরিবর্তন হচ্ছিল না। হাতে বেশি বিকল্পও ছিল না। কিন্তু তখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সংসদে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদি পদত্যাগের বিষয়ে একটুও ইঙ্গিত পেতেন তাহলে হয়তো এই প্রস্তুতি নিতেন না।

সূত্রটি জানায়, এ থেকে বোঝা যায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কারণ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনোভাবেই বোঝা যাচ্ছিল না যে পদত্যাগ আসন্ন।

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী। ছবি: এএফপি

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী। ছবি: এএফপি

তরুণদের আন্দোলন চলাকালে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির সরকার প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়েছিল যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি মূলত রাজনৈতিক। দলের নেতাদের আশঙ্কা ছিল, দাবি মেনে নেওয়া হলে বিরোধীরা এটিকে রাহুল গান্ধীর নৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করবে। সূত্রগুলো জানায়, এমন ভাবনা সত্ত্বেও আন্দোলনের তীব্রতার কারণে বিজেপির মধ্যে সুর নরম হতে শুরু করে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলা দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, একটা সময় ধর্মেন্দ্রর দপ্তর ছাড়ার বিষয়ে কথা ওঠে। রাজ্যের কিছু নেতাও বলতে শুরু করেন, এই অবস্থায় পদ ধরে রাখাটা অবাস্তব হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর বা জাতীয় পরিসরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলে পরিস্থিতি তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ফলে অল্প সময়ের সিদ্ধান্তে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।