Home Blog Page 80

এক টিকেটে দুই সিনেমা দেখার সুযোগ

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘উৎসব’-এ মুক্তি পেয়েছে গেল ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে আলোচনায় থাকা দুই সিনেমা ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’। বিগ বাজেটের এই দুই সিনেমা এখন দর্শকরা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারছেন।

‘উৎসব’-এর প্রধান নির্বাহী জাহিদ হাসান অভি জানান, গতকাল রাত ১২টায় ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’-এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উৎসবের ওয়েবসাইটে  (www.utshob.live) প্রবেশ করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে দর্শকরা এখন সিনেমা দুটি উপভোগ করতে পারছেন। ৮৫ টাকার এক টিকিটে দুইটি ছবি দেখতে পাছেন দর্শকরা। প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের সাড়ায় আমরা মুগ্ধ।  সিনেমা দুটি উৎসবের পাশাপাশি বায়োস্কোন প্লাসেও দেখা যাচ্ছে।’

শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ এবং কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ড। গেল ঈদে মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও ডিসিপি ও সার্ভার জটিলতার কারণে দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহে ঠিকভাবে সিনেমাটি উপভোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওটিটি মুক্তির আগে সিনেমাটির ডিজিটাল সংস্করণ নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সাউন্ড, কালার গ্রেডিং ও ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকদের যেসব অভিযোগ ছিল, সেগুলো সংশোধন করে আরও উন্নত মানে সিনেমাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে দর্শকরা এখন ওটিটিতে ‘প্রিন্স’-এর আরও পরিপূর্ণ সংস্করণ দেখতে পারছেন।

অন্যদিকে মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’ ইতোমধ্যেই অ্যাকশনপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর একটি অংশ। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকরাও সেই নির্মাণশৈলী ও আবহের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

রোমান্টিক অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার বিপরীতে রয়েছেন কলকাতার অভিনেত্রী সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া অভিনয় করেছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। সিনেমার বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক।

‘রাক্ষস’-এর মাধ্যমে সিয়াম আহমেদকে পুরোপুরি অ্যাকশনধর্মী নায়ক হিসেবে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন দর্শকরা। সিনেমা হলের পর আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতেই এবার ওটিটিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সিনেমাটি।

প্রাথমিকভাবে দর্শকরা সরাসরি ‘উৎসব’-এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’ উপভোগ করতে পারছেন। প্লাটফর্মটিতে মাসিক ৯৯ টাকা, তিন মাসের প্যাকেজে ২৩৯ টাকা এবং বাৎসরিক প্যাকেজ ৪২৯ টাকায় উৎসবের  শতাধিক সিনেমা, নাটক ও ওয়েব সিরিজ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। খুব শিগগিরই গুগল প্লে স্টোরে ‘উৎসব’ অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আইওএস, অ্যাপল টিভি, অ্যামাজন ফায়ার টিভি, অ্যান্ড্রয়েড টিভি এবং স্যামসাং স্মার্ট টিভিতেও ‘উৎসব’-এর সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভাগ করতে নতুন আইন হচ্ছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ আলাদা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নতুন করে যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি আগামীকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে। যাচাই শেষে নতুন করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে শিগগির উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই যাচাই-বাছাই শেষে নতুন বিল উত্থাপন করা হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে অধ্যাদেশের কিছু কাঠামোগত বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে প্রায় দুই মাস আন্দোলন চলে। পরে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ দুটি তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো প্রতি বছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ কারণে রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতসহ অন্যান্য সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় আইএমএফ দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেনি। একই সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের জন্য প্রস্তুত করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার পর থেকেই এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় না। এতে স্বার্থের সংঘাত, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়, করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ এবং জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় তাঁকে রাজস্ব আহরণের চেয়ে নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজস্ব প্রশাসন ও রাজস্ব নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম পৃথক করতে একটি আদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর এনবিআরের দুই সাবেক চেয়ারম্যান ও তিন সাবেক সদস্যকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বিভিন্ন দলিল ও অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন পৃথক করার সুপারিশ দেয়।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে একই কর্মকর্তার দ্বৈত দায়িত্ব আলাদা করার সুপারিশ করা হয়। কমিশন আয়কর, শুল্ক ও আবগারি এবং ভ্যাটের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনেরও পরামর্শ দেয়। এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নপূর্বক রাজস্ব আহরণ পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, কমিটির সুপারিশে রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব নিয়োগের বিধানেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অধ্যাদেশে বলা আছে, সরকার উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে। তবে সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।

একইভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগেও কঠোরতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল অধ্যাদেশে রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির জন্য অ্যালোকেশন অব বিজনেস, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ কারণে অধ্যাদেশ কার্যকরের তারিখ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল  গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, একই সংস্থা যখন করনীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে, তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

শিশু হত্যা-ধর্ষণে বিক্ষোভ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জামায়াতের

সু‌প্রিম কোর্ট স‌চিবালয় বিলু‌প্তিকে জা‌তির সঙ্গে সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা, আদালত অবমাননা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর চপেটাঘাত বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্প‌তিবার রাজধানীর মগবাজা‌রে দলীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এমন মন্তব্য করে জামায়াত।

দল‌টির কর্মপ‌রিষদ সদস্য শিশির মোহাম্মদ মনির ব‌লেন, জুলাই সনদে স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিতের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। স্বাধীন বিচার বিভাগ বিএনপি ও জামায়াতসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী দলের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। কিন্তু সরকার এটি বাতিল করে সেই চাহিদার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। জুলাই সন‌দে বিএন‌পিসহ ৩২‌টি দল পৃথক সৃ‌প্রিম কোর্ট স‌চিবাল‌য় স্থাপ‌নে একমত হ‌য়ে‌ছিল। বর্তমান আইনমন্ত্রী সেসম‌য় আদাল‌তে হলফনামা দি‌য়ে‌ছি‌লেন স‌চিবালয় স্থাপ‌নে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন জামায়া‌তের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবা‌য়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নিম্ন আদাল‌তের বিচারক‌দের পদোন্নতি, ব‌দলিসহ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দি‌য়ে পৃথক সু‌প্রিম কো‌র্ট স‌চিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় অন্তর্বর্তী সরকা‌রের জা‌রি করা অধ্যাদে‌শে। ত‌বে অধ্যাদে‌শটি পাস করায়‌নি বিএন‌পি সরকার।‌ স‌চিবাল‌য় বিলুপ্ত ক‌রে বিচারক‌দের নিয়ন্ত্রণ আবার আইন মন্ত্রণাল‌য়কে দিয়ে‌ছে। য‌দিও বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশ‌তেহা‌রে সু‌প্রিম কোর্ট পৃথক স‌চিবালয় স্থাপ‌নের প্রতিশ্রু‌তি ছিল।

জাতীয়ভাবে যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয়েছিল, বিএন‌পি প্রতিশ্রু‌তি ভঙ্গ করায় তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে শিশির মনির বলেন, এই কাজের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

জামায়াত স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে জা‌নি‌য়ে শি‌শির ম‌নির ব‌লেন, নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলে নিম্ন আদালতের বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। রাতে কিংবা সন্ধ্যায় আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা সাজা দেওয়ার যদি অভিপ্রায় থাকে, তবে আইন মন্ত্রণালয় বিচারক‌দের নিয়ন্ত্রণ নি‌জের হা‌তে রাখ‌বে। আর যদি এই অভিপ্রায় না থাকে তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবে।

বিচারকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে শি‌শির ম‌নির বলেন, পছন্দসই রায় না হলে বিচারক‌দের ওপর চড়াও হওয়ার নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে রেখে দিচ্ছেন। অধঃস্তন দুই হাজার বিচারক তাদের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রতি ৭৮ হাজর মানুষের জন্য মাত্র একজন বিচারক রয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সুপ্রিম কোর্ট এই ৭৮ হাজার মানুষের জন্য বিচারক বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, এই ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এখন ইচ্ছা করলে নিয়োগ দেবে বা সংখ্যা বাড়াবে বা কমাবে। প্রধান বিচারপতির আর কোনো এখতিয়ার নেই।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, রিট মামলার রা‌য়ে হাইকোর্ট গত বছ‌রের ২ সে‌প্টেম্বর আদেশ দেন, ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর আলোকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের উদ্বোধন করা হয়। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের বিস্তারিত রায় প্রকাশিত হয়ে‌ছে।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশ বা‌তিল হ‌লেও আদাল‌তের রায় অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল আরেকটি রিট পিটিশন দায়ের করা হ‌য়। সরকার‌কে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এরপরও ১৯ মে বিচার বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়ে‌ছে। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগের দুটি অংশ রয়েছে- উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত। কিন্তু নিম্ন আদাল‌তের নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভা‌গের কা‌ছে। বিচারক‌দে‌র ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার সব আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। ফলে আইন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারকরা কোনো আদেশ দিলে তাদের বদলি করে দেন, পদোন্নতি দেন না কিংবা শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ আনা হয়।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বিচারক‌দে‌র ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে প্রধান বিচারপতির অধীনে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

শিশির মনির বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে রায় যার পক্ষেই যাক না কেন তাতে কোনো আপত্তি নেই। সঠিক বিচারের মাধ্যমে আমাদের আসামি হিসেবে আদালতে দাঁড়াতে হলেও আপত্তি নেই। সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, যা সংবিধান ও আইনসম্মত নয়-বিচারকরা সেটি দেখবেন ও রায় দেবেন। আমি রায়ে অসন্তুষ্ট হলে আপিল করব। কিন্তু বিচারকদের বদলি করে দেব, তাদের পদোন্নতি দেব না, তাদের সুন্দরবন-বান্দরবান বদলি করে দেব- এটি স্বাধীন বিচার বিভাগের চরিত্র হতে পারে না।

সু‌প্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা: জামায়াত

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯। এর মধ্যে ৮৫ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

এছাড়া, এ সময়ে নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪।  ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯। এর মধ্যে ৮৫ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

এছাড়া, এ সময়ে নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪।  ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

পল্লবীতে শিশু হত্যা আসামি সোহেল আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল: ডিবি

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। স্বভাব-চরিত্রও খারাপ ছিল।

তিনি জানান, মামলার চার্জশিট দেওয়ার আগে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডি ল্যাবে প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। রোববার দুপুরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বিচার কার্য শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের চেষ্টা থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বইমেলার জৌলস বাড়াবে?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। সৈয়দ মুজতবা আলি’র বিখ্যাত উক্তি, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়না’ মনে পড়লে হাঁসি পায়, বাঙ্গালী কি আসলে বই কিনে? বই কিনে কোন বাঙ্গালী দেউলিয়া হয়েছে এমন তথ্য আমার জানা নেই! বাঙ্গালীর কি বই পড়ার বদভ্যাস আছে? একদা আমি যখন নিউইয়র্কে সাবওয়েতে চলাচল করতাম তখন অবাক হয়ে দেখতাম, অনেকের হাতেই বই, এমন দৃশ্য ঢাকায় দেখেছি বলে মনে পড়েনা। ওপার বাংলায় অবশ্য আগে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি দেখেছি, বাংলাদেশে তা দেখিনি। আমি চাঁদপুরের ছেলে, আমাদের ছোটবেলায় জোড়পুকুর পাড়ে ‘পাকিস্তান লাইব্রেরি’ নামে একটি লাইব্রেরি ছিলো, যা স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ লাইব্রেরি’ হয়ে যায়, আমরা সেখানে আড্ডা মারতাম, কারণ দোকানটি ছিলো আমাদের এক বন্ধু’র বাবার। সেই সুবাদে আমাদের কিছু বই পড়া হতো। ওই পাঠাগারে একটি ফ্ল্যায়ার প্রায়শ: আসতো, তাতে লেখা থাকতো, ‘যাঁরা লাইব্রেরি ব্যবসা করে তাঁরা মহান’। আসলে কি তাই? ঢালাও ভাবে এমন কথা কি বলা যায়?

এসব ভণিতার অর্থ হচ্ছে, নিউইয়র্কে বইমেলা এসে গেছে, এটি পঁয়ত্রিশ-তম। দেখতে দেখতে এত বছর পেরিয়ে গেছে। আমার সৌভাগ্য এ বইমেলায় প্রথম থেকেই আমি একজন দর্শক-অনুরাগী হিসাবে উপস্থিত থাকি, বা থাকার চেষ্টা করি। ঢাকাতে যখন বইমেলা শুরু হয় তখন আমি ঢাকা ভার্সিটি’র ছাত্র, কিন্তু প্রথম বইমেলায় উপস্থিত ছিলাম বা তাতে আমার কোন আগ্রহ ছিলো তা মনে হয়না। বয়সের একটা ব্যাপার থাকে, তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত পানসে লাগতো। বরং নজরুলের ‘মোর প্রিয়া হবে এস রানী’ ভাল লাগতো। ঢাকার বইমেলা যেমন ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত হয়, নিউইয়র্কে মুক্তধারার বইমেলাও তেমনি বিশ্বব্যাপী নন্দিত হয়। ঢাকা বা কলকাতার পর বহির্বিশ্বে এতবড় সাহিত্য আয়োজনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই? ২০২৪-এ তথাকথিত বিপ্লবের পর ঢাকায় বইমেলায় মৌলবাদের ছোবল পড়ে, ২০২৬-এ তো হচ্ছেনা, হচ্ছেনা করে শেষদিকে কোনরকমে একটি সংক্ষিপ্ত ‘জগাখিচুড়ি’ জৌলুসহীন বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এর কিছুটা আঁচ নিউইয়র্কেও লাগে। এমন ঝড় অবশ্য নুতন নয়, আগেও ক’বার এমনটা হয়েছে, তাতে মূল বইমেলার তেমন ক্ষতি হয়নি। ‘শত ফুল ফুটতে দাও’ বলে একটি কথা আছে, একাধিক বইমেলা ভাল, তাতে যদি বই বিক্রী বাড়ে, নুতন নুতন প্রতিভার সৃষ্টি হয়, তাহলে মন্দ কি? শুধু রেষারেষি না থাকলেই হলো। মুক্তধারার বইমেলা প্রবাসে প্রচুর লেখক, সাহিত্যিক, পাঠক সৃষ্টি করেছে তা বলা বাহুল্য। এ মেলা দেশ-প্রবাস এবং লেখক-পাঠকের মধ্যে একটি যোগসূত্র গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে তা স্বীকার্য। বইমেলা মুক্তমনা মানুষের মেলাবন্ধনকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অধুনা ‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা’ (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এআই)-র যুগে লেখক, কবি, সাহিত্যিক চাকুরী হারাবেন কিনা বলা শক্ত, তবে ‘এআই’ সামনের দিনগুলোতে যেকোন বইমেলায় অপরিহার্য হয়ে উঠবে। দেশে বা প্রবাসে আমাদের এনালগ বইমেলা হয়তো ধীরে ধীরে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করবে।

দেশের বা প্রবাসের মুক্তধারার বইমেলার ভবিষ্যৎ কি? বইকে ভালবাসে এমন মানুষ কি বাংলাদেশে খুব বেশি আছে? দেশে কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইব্রেরি নেই? ওমর খৈয়ামের বিখ্যাত উক্তি, ‘প্রিয়ার কালোচোঁখ ঘোলা হয়ে আসবে,—-কিন্তু বই অনন্তযৌবনা,…’র কোন মূল্য কি আছে আমাদের মৌলবাদী সমাজে? এ সমাজে ‘বইমেলার’ ভবিষ্যৎ কি খুব একটা উজ্জ্বল মনে হয়? একটি গল্প বলি, গল্প না সত্যি ঘটনা। ঢাকায় ‘ইত্তেহাদ’ নামে একটি সাপ্তাহিক ছিলো, এর প্রচার সংখ্যা বিশাল, কারণ পত্রিকাটি আগাগোড়া ‘সাম্প্রয়দায়িক ও কট্টর ভারত বিরোধী’। আমাদের এক বন্ধু রেজাউল হক সরোজ ঐ পত্রিকায় কাজ করতো। সরোজ খবর পেলো যে, ভারত থেকে প্রচুর বই চোরাচালান হয়ে এসেছে, তিনি মালিক-সম্পাদক অলি আহাদ-কে জানালেন। অলি আহাদ রিপোর্টটি ছাপালেন না, বললেন, বই আসতে দাও, বই ভাল জিনিষ।

বই যে ভাল জিনিষ তা কি আজকের বাঙ্গালীর মাথায় আছে? বই যদি ভাল হয়, বইমেলাও ভাল। তা সেটি নিউইয়র্ক, ঢাকা, কলকাতা যেখানেই হোক। ৩৫তম বইমেলা সফল হউক, সার্থক হউক। বাঙ্গালী বই কিনুক, বই পড়ুক, বই উপহার দিক। বই হোক নিত্যসঙ্গী। দেখা হবে বই মেলায়। #

অ্যামচ্যামের আলোচনা বিনিয়োগ বাড়াতে শক্তিশালী মেধাসম্পদ ব্যবস্থা জরুরি

দেশে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে শক্তিশালী মেধাসম্পদ  অধিকার (আইপিআর)  কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।  বাংলাদেশের এলডিসি  থেকে সফলভাবে উত্তরণ এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নিজস্ব অবস্থান সুরক্ষিত করতে একটি শক্তিশালী আইপিআর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘মেধাস্বত্ব অধিকার কাঠামোর উন্নয়ন: ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন মত দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের  সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ শক্তিশালী আইপিআর প্রয়োগের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ আইপিআর মেধাস্বত্ব অধিকার কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারের বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে।
নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের সিনিয়র কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট এবং আইপি পলিসি অ্যাডভাইজার শিল্পী ঝা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সামনে মেধাসম্পদ কাঠামো শক্তিশালী করার এবং এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা করার চমৎকার সুযোগ আছে।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের কোষাধ্যক্ষ আল-মামুন এম রাসেল, নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা সাজীব রায়হান, মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্ট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লায় হাম উপসর্গে সামিয়া আক্তার নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সামিয়া আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘শিশুটি ৫-৬ দিন জ্বরে আক্রান্ত ছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে বুধবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।’

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ বলেন, ‘চলতি বছরে জেলায় হাম ও হাম উপসর্গে সামিয়াসহ এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের নিশ্চিতভাবে হামজনিত এবং বাকি নয়জনের হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে।’

দখলবাজিতে আ.লীগ-বিএনপি নেতা, বিচারাধীন মার্কেট ঘিরে উত্তেজনা

বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা দুই সহোদর। ক্ষমতার পালাবদলে তাই তাদের আধিপত্যে ভাটা পড়ে না। এর জোরেই পালাক্রমে বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের চারাবই গ্রামে ভোগ-দখলের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মার্কেটের দখল নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ওই দুই সহদোর আফসার খান সাদেক ও আখতার খান জাহেদ।

সম্প্রতি চারাবই বাজারের হাজী মুজম্মিল আলী নামের একটি মার্কেটের দখলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। জানা গেছে, মার্কেট দখলের নেপথ্যে রয়েছেন আখতার ও আফসার। তারা দুই ভাই বিদেশে থেকে দেশে নিজেদের লোকজন দিয়ে মার্কেটটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, আখতার ও আফসার দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করায় দেশে তাদের কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন আরেক ভাই দিলদার হোসেন খান বেলাল ও ভাতিজা হাবিবুর রহমান খান। অভিযোগ রয়েছে, দিলদার হোসেন খান বেলাল আদালতের নিষ্পত্তির আগেই ওই মার্কেটের দখল প্রতিষ্ঠায় সেখানকার দোকান থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় বর্তমান মালিকপক্ষ মৃত মুজম্মিল আলীর ছেলে ডালিম আহমদ ও শাহীন আহমদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়; যা পরে হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। এ ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় রাজনৈতিক ক্ষমতার খেলায়। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় ভাই আখতার খান জাহেদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিয়ানীবাজার থানায় বর্তমান মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।
সরেজমিন চারাবই বাজার ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা জানা যায়, মূলত মার্কেটের বর্তমান মালিকপক্ষকে কোণঠাসা করতে এই মামলা করা হয়েছে। তারা সেদিনের মারামারির ঘটনাকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে মানতে নারাজ।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এখানে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। মার্কেটের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের ঝামেলা ছিল। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকে বৈধ মালিক হিসেবে ডালিমদের ভাড়া দিয়ে আসছেন। হঠাৎ ১৭ মে বেলাল খান মার্কেটে এসে ভাড়া দাবি করেন। এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
তারা জানান, দখলের প্রাথমিক চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ডালিমদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে শুনেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা এই সমস্যা দ্রুত সমাধান চান।
ভুক্তভোগী ডালিম আহমদ বলেন, জায়গাটি তাঁর দাদার। বাবার বরাতে পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে তারা মার্কেটের মালিক হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভুয়া কাগজ ও রাজনৈতিক বলপ্রয়োগে আফসার খান সাদেক তাদের নামে রেকর্ড করেন।

২০১৭ সালে নকল তুলে এর সত্যতা জানতে পেরে ২০১৮ সালে সিলেটের তপশিলি আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে আখতার খান জাহেদ ও আফসার খান সাদেক তাদের ভাই ও ভাতিজাদের দিয়ে জায়গা দখল করতে এলে বাধা দেন ডালিম ও তাদের স্বজনরা। তারা দখল করতে এসে ব্যর্থ হয়ে উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর উদ্দেশ্য পুলিশ দিয়ে তাদের বাড়িছাড়া করে জায়গার দখল নেওয়া।
ভুক্তভোগী শাহিন উদ্দিন বলেন, জায়গা দখল করতে না পেরে দিলদার হোসেন ও তাঁর সঙ্গীরা দুই ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় অভিযোগ করা হলেও তা আমলে নেয়নি থানা পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট নিয়ে কোনো পক্ষ যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আখতার খান জাহেদ, আফসার খান ও বেলাল খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দাবি করেছেন, মামলা সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছেন সেটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে। এর বাইরে কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি।
জানা গেছে, লন্ডনে নিজ বাসভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সহযোগিতায় জমিয়ে বসেন তিনি। ছিলেন বিগত সরকারের সুনজরে। স্থানীয় পর্যায়ে সেই ক্ষমতা খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেন দলের সমাজসেবাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য আফসার খান সাদেক। অপর দিকে সাদেকের ভাই আখতার খান জাহেদ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। দুই ভাই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা হলেও এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য ধরে রাখতে একসঙ্গেই কাজ করেন।