Home Blog Page 81

বাবার এক ফোনে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়লেন ছেলে

বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নই দেখেন সব ফুটবলার। কেউ এই পরম সুযোগের জন্য বছরের পর বছর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন, আবার সুযোগ না পেয়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। অথচ তিউনিসিয়ার ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান স্ট্রাইকার লুয়ি বেন ফারহাতের ক্ষেত্রে ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। বাবার একটিমাত্র ফোনকলের কারণে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হলো এই তরুণ তুর্কিকে!

তিউনিসিয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল বেন ফারহাতকে। বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুচির মূল পরিকল্পনা জুড়েই ছিলেন এই তরুণ। ধারণা করা হচ্ছিল, শুধু ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলেই নয়, বরং বিশ্বকাপের মূল একাদশেও দেখা যেতে পারত তাকে।

কিন্তু তিউনিসিয়ার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণায় নাম ছিল না এই তরুণ স্ট্রাইকারের। সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই কোচের দিকে ধেয়ে যায় ফারহাতের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন। আর তখনই কোচ লামুচি ফাঁস করে বলেন, ‘আজ সকালে হুট করেই ফারহাতের বাবার কাছ থেকে একটি ফোনকল পাই। তিনি আমাকে সাফ জানিয়ে দেন, এখনই তাঁ ছেলেকে বিশ্বকাপে নেওয়া খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। এত অল্প বয়সে তিনি তার ছেলেকে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের চাপ ও স্পটলাইটে খেলাতে রাজি নন।’

কোচ আরও যোগ করেন, এই ফোন পাওয়ার পর তিনি নিজে বেন ফারহাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওই ফুটবলারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পুরো বিষয়টিকে জাতীয় দলের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন কোচ।

দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বিশ্বকাপে দল ভালো না করলে বা ছেলে ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় ফুটবলে তার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারহাতের পরিবার। তাদের ধারণা, বড় মঞ্চে এই বয়সে ব্যর্থতার দায় চেপে বসলে ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলো ফারহাতের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

তবে এর পেছনে অন্য একটি সমীকরণও দেখছেন অনেকে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া বেন ফারহাতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে বেন ফারহাত জার্মান জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার আশায় আছেন বলেও আলোচনা চলছে।+

আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু মসলার বাজারে অস্বস্তি

আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কয়েকটি মসলা পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি। বিশেষ করে দাম বেড়েছে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের। এক মাসের ব্যবধানে জিরার কেজিতে ৫০ টাকা, লবঙ্গে ৫০ থেকে ১০০ ও এলাচের কেজিতে ৩০০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। এতে ক্রেতাকে মসলা কেনার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় মসলার চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দামও বাড়তি। আমদানিকারকদের দাবি, আমদানি খরচ বাড়লেও বাজারে দাম স্বাভাবিক। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের আগে মসলার চাহিদা বাড়লেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক সময় কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। সরকারের যথাযথ নজরদারি থাকলে বাজারে এই পরিস্থিতি হতো না। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি থেকে খুচরা পর্যায়ে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছর দেশের মসলার বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদা ঘিরে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত পুরো বাজারে তৈরি হয় বাড়তি উত্তাপ। যদিও গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব দোকানে রয়েছে ভরপুর মসলা পণ্য। দোকানে দোকানে ক্রেতার ভিড়ও রয়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মানভেদে প্রতি কেজি জিরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মাসখানেক আগে জিরার কেজি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একইভাবে এক মাস আগে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লবঙ্গের কেজি এখন এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ৩০০ টাকা বেড়ে এলাচ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৪০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায়। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গোলমরিচ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০, হলুদ ২৫০ থেকে ৪০০, আদা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ২০০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে দারুচিনির দাম ৫, লবঙ্গের ৩, এলাচের ৫, আদার ১৩, শুকনো মরিচের গড়ে ৩৫ এবং তেজপাতার ২১ শতাংশ দর বেড়েছে। তবে রসুনের ২০ ও জিরার ৫ শতাংশ দর কমেছে।

মসলার দাম বাড়লেও বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। আমদানিও হচ্ছে নিয়মিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার টন (১৪ ধরনের মসলা)। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই (জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) আমদানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ টন।

ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে মসলার অভাব নেই। ঈদের চাহিদা ঘিরে খুচরা থেকে পাইকারি সব ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিলন হোসেন বলেন, আগে যে টাকায় এক মাসের মসলা কিনতাম, এখন সেই টাকায় মসলায় এক সপ্তাহের বেশি চলে না।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, কয়েক দিন ধরে মানুষ মসলা বেশি কিনছে। কেউ কেউ কিনে গ্রামেও পাঠাচ্ছে। এতে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে। এ কারণে ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।

আমদানিকারকরা জানান, দেশের মসলার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, অতিরিক্ত শুল্ক ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, মসলার বাজার স্থিতিশীল। এ সময় দাম যা থাকার কথা, তার চেয়েও কম আছে।

এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কোরবানির ঈদের আগে মসলার বাজারে কিছুটা চাপ থাকে। এর সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা।

শিশু হত্যা-ধর্ষণে বিক্ষোভ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জামায়াতের

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। আইনশৃঙ্খলার অবনতির ‘দায়ে’ এই কর্মসূচি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে রামিসার ধর্ষক ও খুনিদের দ্রুততম সময়ে বিচার দাবি করেছেন।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, নারী নিপীড়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রামিশা হত্যাকে অমানবিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ আখ্যা দিয়ে বলেন, ফুটেফুটে শিশুটির জন্য পুরো জাতি ব্যথিত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্যথিত নন! আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্যান্য দেশে মন্ত্রীরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। আর আমাদের দেশের মন্ত্রীরা দায় চাপানোর রাজনীতি করেন।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, খালি অতীতের সরকারের ব্যর্থতার বুলি দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানো যাবে না। মানুষের অস্তিত্বে আঘাত লাগলে সরকারের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। নিরীহ মানুষকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে দৌড়ে পালিয়েছে, জনগণের মতের বিরুদ্ধে গেলে সরকারকেও দৌড়াতে হতে পারে।

বিএনপি সরকারের সময়ে নারী-শিশুদের সামান্য নিরাপত্তা নেই বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে এতবেশী নারী শিশু ধর্ষিতা হচ্ছে, তখন আর বলার দরকার নেই পরিস্থিতি কতটা খারাপ। এইসব ঘটনায় সরকার আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আবার সারাদেশে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিতে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির সঞ্চালনায় সমাবেশে নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তৃতা করেন।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগরে গিয়ে শেষ হয়।

রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

বুধবার রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেন মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ধর্ষক ও খুনির শাস্তি নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দেন স্থানীয় এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে মহিলা জামায়াত। সংগঠনটির সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি বিবৃতিতে বলেছেন, গত ৯ দিনে পাঁচজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার দায়ীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে।

আরও বিক্ষোভ

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এদিকে একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।
রামিসার ধর্ষণ ও হত্যায় প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বুধবার বিবৃতিতে বলেছেন, ধর্ষণ হত্যার আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন চরমে পৌঁছেছে।
খুন ও ধর্ষণসহ নৃশংস অপরাধের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বিচারের দাবি জানিয়েছে।

তিন বছরের মধ্যে অর্গানিক মাংস রপ্তানি করবে বাংলাদেশ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কোনো ধরনের জিনগত পরিবর্তন ছাড়াই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ঘাস ব্যবহার করে উৎপাদিত গরুর মাংস আগামী তিন বছরের মধ্যে রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ নেপিয়ার ঘাস প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির (সিএসইউ) যৌথভাবে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের অর্থায়নে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব বেড়েছে। জেনেটিক মডিফায়েড খাদ্য বিশ্বকে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ দিতে পারেনি। এ অবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে ১৮ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ নেপিয়ার ঘাস উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা গবাদিপশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও খরা-সহিষ্ণু ঘাস উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি। এতে কম খরচে উন্নতমানের প্রাণিখাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে মাংস উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাংসের দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে।

গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের কল্যাণে স্বাধীনভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে মাংস উৎপাদনের খরচও কমবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে মাংস কিনতে পারবেন। তিনি গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।

ব্রাজিলের মাংস আমদানির বিষয়ে লিখিত প্রস্তাবনা চাইলেন মন্ত্রী

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিখাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানির প্রসঙ্গ উঠলে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সংরক্ষণব্যবস্থা ও কোল্ড চেইন আরও উন্নত করা জরুরি। তিনি ব্রাজিলকে বাংলাদেশে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকে স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সার্টিফিকেশনসহ প্রাণিস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান নিয়েও মতবিনিময় হয়।

সরকার প্রশাসনে বদলি পদায়ন ও নিয়োগ নিয়ে তালগোল

প্রশাসনের বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তালগোল লেগে যাচ্ছে। সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান, এসপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বদলি, পদায়ন কিংবা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিতর্কের মুখে দুই মাসে অন্তত ১৫ জনকে প্রত্যাহার করছে সরকার। বাছাই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, তথ্যের ঘাটতি আর তাড়াহুড়া করে প্রজ্ঞাপন দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে। এতে বিব্রত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবার সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর আলোচনা বা অন্যভাবে প্রভাবিত হয়ে নিয়োগ বাতিলের নজিরও রয়েছে। এ ছাড়া গত ২৬ এপ্রিল ১৫ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন অধিদপ্তর-সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত সাত কর্মকর্তা বদলির আদেশ না মানার ধৃষ্টতাও দেখিয়েছেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পুরো প্রশাসনে ছিল অস্থিরতা। এসব কারণে সেই সময় আন্দোলনও করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সচিব ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়েও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আন্দোলন হয়েছে। কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে প্রজ্ঞাপন জারির পর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অন্তত আট ডিসির পদায়ন বাতিল করেছিল সরকার। নিয়োগের পরপরই সাত সচিবের পদায়ন বাতিল করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া পিএসসির ছয় সদস্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা ও যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠায় ১১ দিনের মাথায় তাদের সবার নিয়োগাদেশ বাতিল হয়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সে সময় চার উপদেষ্টা ও দুই সচিবের সমন্বয়ে গঠিত ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটিও’ বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই কমিটি জনপ্রশাসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন বিষয়ে পরামর্শ দিত।

জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে তা বাতিল করলে সরকারের দুর্বলতা দৃশ্যমান হয়। এতে তৈরি হয় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা। কর্মকর্তাদের মধ্যে দলাদলিও বাড়ে। এ জন্য ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। যেন পদায়ন বা নিয়োগের পর সমালোচনা হলেও পরিবর্তন করা না লাগে।
তারা বলেন, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এরপর তারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবকে সে তথ্য জানাবেন। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত।

বিতর্কের মুখে প্রত্যাহার 
আবদুর রশীদ মিয়াকে গত ২৪ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের পাঁচ দিন পর আবদুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আবদুর রশীদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির দুদিনের মাথায় তা বাতিল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। গত ৩ মে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানকে। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই সে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে রদবদল আনা হয়। বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। গত ৯ মে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের আলাদা দুই আদেশে ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়। এসব আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ হয়।

গত ২৫ মার্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক; বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের পদে অন্য তিনজন সচিব নিয়োগ করা হয়। পরে এক দিনের মধ্যে এই তিন সচিবের বদলি আদেশ স্থগিত করে নতুন নিয়োগ পাওয়া তিন সচিবের আদেশ বাতিল করা হয়।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সমকালকে বলেন, সরকারের নিয়মেই নিয়োগগুলো হয়। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

সমালোচনায় বাতিল, তবু সমালোচিত নিয়োগ 
গত ১০ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান। এই নিয়োগের পর কয়েকজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফেসবুকে লেখেন, তিনি ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন। পত্রিকার লেখাগুলোও ফেসবুকে জুড়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৪ মে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়। ওমর ফারুক দেওয়ান তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। এরপরও তাঁকে একই দিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তার পদ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠায় গত মঙ্গলবার ওমর ফারুক দেওয়ানের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদায়নের আদেশও বাতিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কোনো কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে হবে। প্রয়োজনে নিতে হবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন। সেই কর্মকর্তার বিষয়ে নেতিবাচক কোনো বিষয় থাকলে সেটা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে জানাতে হবে।
জানতে চাইলে সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, আমি উপসচিব থাকার সময় একজন মন্ত্রী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ডিও লেটার দেন। ওই কর্মকর্তার বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সদয় অবগতির জন্য মন্ত্রীকে তা জানানো হয়।

সকালে আদেশ, বিকেলে বাতিল
এদিকে, গত সোমবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মিজানুর রশীদকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়ার পর বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে তোলপাড় চলছে।

বদলি আদেশ মানছেন না অনেকে
গত ২৬ এপ্রিল পরিবেশ ও খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনে সরকার। নিয়োগ পাওয়া সবাই অতিরিক্ত সচিব। ওই ১৫ কর্মকর্তার মধ্যে সাতজন এখনও তাদের পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগ দেননি। অথচ ওই পদগুলো শূন্য আছে। অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান পদে বদলির প্রায় এক মাসেও যোগদান না করায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলের ৮১ ধারায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বদলি আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ছয় দিন সময় পাবেন। তবে একই শহরে বদলির আদেশ হলে প্রস্তুতির কোনো সময় পাবেন না।

বদলির পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া কর্মকর্তারা হলেন– নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজা, পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পদে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আবদুল হাইকে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক পদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল পদে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কেউ এখনও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা জানান, রাজা মো. আবদুল হাই গত ৫ মে এখানে শুধু পরিচিত হতে এসেছিলেন। এরপর আর আসেননি। তবে রাজা মো. আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেনি সমকাল।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও রিলিজ করেনি। তাই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারিনি।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান দপ্তরের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারিনি। শিগগির যোগ দেব, তবে কত তারিখ সেটা বলতে পারছি না।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমার আরও একটা প্রকল্পের দায়িত্ব আছে। এ জন্য সচিব ও ডিজি স্যার বলেছেন, ১ জুন আমাকে ছাড়পত্র দেবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ বলেন, যোগদান না করার কোনো কারণ নেই। তবে আরও কিছু দিন পরে যাব।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বদলির নির্দেশনা না মানার অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সমকালকে বলেন, বদলির ক্ষেত্রে কারও মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, যুগ্ম সচিব থেকে ওপরের পদে বদলির ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।

গাজামুখী ত্রাণবহরে গুলি, ইসরায়েলের হেফাজতে আটক ত্রাণকর্মীরা অনশন শুরু করেছেন ৮৭ জন

গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি ত্রাণবাহী জাহাজের বহর আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। জাহাজগুলো থেকে ৪৩০ জন ত্রাণকর্মীকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে তারা। এর আগে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র দুই জাহাজে গুলির অভিযোগ করেছেন নৌবহরের আয়োজকরা। ভিডিও ফুটেজেও গুলির দৃশ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার এএফপি জানায়, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আটককৃতদের মধ্যে অন্তত ৮৭ জন অনশন শুরু করেছেন।

গত সপ্তাহে প্রায় ৫০টি জাহাজের এই বহর তুরস্কের একটি বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু সাইপ্রাসের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজগুলোর গতিরোধ করে এবং জাহাজে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ৪৩০ জনকে জাহাজে করে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ত্রাণবাহী জাহাজ আটকের ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেছেন, গাজায় হামাসের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।
ফ্লোটিলার আয়োজক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই দাবির বিরোধিতা করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ বলছে, ত্রাণবহরে যাত্রীদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জোর করে ইসরায়েলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের এই কার্যকলাপ গাজার মানুষকে অনাহারী রাখার নীতিরই অংশ।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, মানবাধিকারকর্মীদের জোর করে ধরে নেওয়া এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রতি সংহতি জানিয়ে বহরের ৮৭ জন কর্মী অনশন শুরু করছেন।

এই ঘটনার পর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তুরস্ক ও স্পেন এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া তাদের নাগরিক ও জাহাজগুলো দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ত্রাণবহরের সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বোর্ড অব পিসে সৌদি আরবের অর্থায়ন নিশ্চিতের চেষ্টা

গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা ইসরায়েলি বাধায় আটকে যাওয়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বোর্ড অব পিসের জন্য সৌদি আরবের প্রতিশ্রুত ১০০ কোটি ডলার নিশ্চিত করতে রিয়াদ সফর করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এই বোর্ডে ইসরায়েলের পছন্দ করা ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দিয়ে গাজার উন্নয়নমূলক কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সৌদি আরব চাচ্ছে, এই বোর্ডে যেন ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র এই প্রকল্পে এক হাজার কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পুরো পরিকল্পনাটির সাফল্য নির্ভর করছে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর অর্থায়নের ওপর। কিন্তু গাজায় চলমান হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বের জটিলতার কারণে এই ফান্ডের কাজ বর্তমানে কিছুটা আটকে আছে।

ইবোলার নতুন স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন পেতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেইন বা প্রজাতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো ও প্রতিবেশী উগান্ডায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ড. ভাসি মূর্তি জানান, বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেনি।

তিনি জানান, একটি ভ্যাকসিন বিদ্যমান ইবোলা প্রতিরোধী টিকার মতো কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমোদিত যে ইবোলা ভ্যাকসিন রয়েছে, তা শুধুমাত্র ‘জায়ার’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। তাই নতুন ভ্যাকসিন তৈরিকে দ্রুত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।’

আরেকটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো কোনো প্রাণীর ওপর পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ড. ভাসি মূর্তি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ ভ্যাকসিনের কিছু ডোজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধও এখনো নেই। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ইতুরি প্রদেশকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসাকর্মীদের।

এ দিন জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনকে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ১৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাস শনাক্তে বিলম্ব হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৫১টি এবং উগান্ডায় দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শনাক্ত হওয়া দুজনই ডিআর কঙ্গো থেকে সেদেশে গিয়েছিলেন, যাদের একজন মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করলেও এটিকে এখনো বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়ে নেয়নি। সংস্থাটি বলছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’, তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি এখনো ‘নিম্ন’।

ইবোলা ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গোতে প্রথম শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এটি অত্যন্ত বিরল। এর আগে মাত্র দুইবার এই প্রজাতির প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, যার একটি ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। তখন আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব কঙ্গোয় দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগের সঙ্গে ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মিল থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ একে একে ভেঙে পড়ল সেতুর সাত গার্ডার যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণের নামে লুটপাটের অভিযোগ

সেতু নির্মাণ নয়, যেন লুটপাটের মহোৎসব চলছে। সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন থমকে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর-মহেষখলা-মধ্যনগর সংযোগ সড়কের (সীমান্ত সড়ক) কাজে সেতুর জন্য অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই সড়কপথের যাদুকাটা নদীর ওপর প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর (শাহ আরেফিন (রা.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু) গার্ডার দুই বছরের মধ্যে দুইবার ভেঙে পড়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি গার্ডার ভাঙায় উৎকণ্ঠিত এলাকাবাসী।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, সীমান্তের বড় বালুমহাল হিসেবে পরিচিত যাদুকাটার এই সেতুর অন্য গার্ডারগুলোও ভেঙে পড়তে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে এখান দিয়ে যাওয়া শত শত নৌকার শ্রমিকরা বিপদে পড়তে পারেন।
এলজিইডির এক কর্মকর্তা বললেন, এর চেয়ে গভীর ও খরস্রোতা নদীতে সুনামগঞ্জে অনেক সেতু হয়েছে। এভাবে বারবার গার্ডার ভেঙে পড়ার নজির নেই। এই সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়েছেন। এরও বহু আগে থেকে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল, কিন্তু এলজিইডি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি ঠিকাদার বাতিল করে পুনরায় অসমাপ্ত কাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে সোমবার বিকেলে পাঁচ গার্ডার ভাঙার পর এই প্রক্রিয়া থমকে গেছে। আবার নতুন করে ওই পাঁচ গার্ডারসহ ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করতে হবে।
এলজিইডির একজন প্রকৌশলী জানান, পল্লি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর তমা কনস্ট্রাকশন একাধিক দফায় সময় বাড়িয়েও আট বছরে কাজ শেষ করতে পারেনি। সেতুর ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে এখনও ১৮ ডি গার্ডার ও পাঁচটি স্লাবের কাজ বাকি রয়েছে। এরমধ্যেই দুই দফায় সাতটি গার্ডার ভেঙে পড়েছে।

তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান মানিক নোয়াখালীর বাসিন্দা। বিগত সরকারের সময়ে মন্ত্রী মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলজিইডি সদরদপ্তরে পরিচিত ছিলেন। এই সেতু এবং একই পথের মধ্যনগরের সোমেশ্বরী সেতু ও তাহিরপুরের ডাম্পের বাজার সেতুর কাজও পেয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। আট বছরেও শেষ হয়নি এসব সেতুর কাজ। ওই সেতুগুলোর কাজেও অনিয়মের অভিযোগ আছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

অনেকে বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন। এলজিইডি কেবল ঠিকাদার বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তাহিরপুরের ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম বললেন, ‘সেতুর গার্ডার এক এক করে দুবারে সাতটি পড়ে গেছে। এই সেতু ভেঙে ফেলা উচিত। গার্ডার ভাঙার পর এলজিইডির কর্মকর্তারা যে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন, তাতেও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমির শাহ্ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সময়কালে এই সেতুর কাজ হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে নির্মাণকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।’

মঙ্গলবার সেতু এলাকায় গেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের। অথচ আট বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখে কেবল টাকা লুটপাট হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেতুর পাশের গ্রাম রাজারগাঁওয়ের মাওলানা শামীম আহমদ বললেন, দুই বছরের মধ্যে দুইবার গার্ডার ভেঙে পড়ল। কাজে অবহেলা এবং অনিয়ম না থাকলে এটি হতো না। লামাশ্রমের আব্দুল মজিদ বললেন, সেতু হয়নি, বরং সেতুর কিছু মালপত্র রেখে আট বছর ধরে পথচলায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্মাণ ত্রুটির কারণে এমনটি হচ্ছে। এখন সেতু নির্মাণকাজ আরও পেছাবে।’

তমা কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার আনিসুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, সেতুর বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন দিতে পরামর্শ দিয়ে লাইন কেটে দেন আনিসুর। এরপর আর কল রিসিভ করেননি।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, যাদুকাটা সেতুর আগের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে ছিল। ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই দরপত্র প্রস্তুত করা হয়। এখন দুই কোটি বাড়িয়ে আবার দরপত্র প্রস্তুত করা হবে। প্রস্তুত করতে এক মাস সময় লাগবে। যে গার্ডারগুলো ভেঙেছে, সেগুলো নির্মাণ করতে ৮-৯ মাস সময় বেশি লাগবে। কাজে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে এই প্রকৌশলী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গার্ডারগুলো করার সময় ক্লোজ গার্ডার করলে, এমন হতো না। এ কারণে তাদের পাওনা টাকা থেকে মোট দুই কোটি ১০ লাখ টাকা কর্তন করা হবে।

সোমেশ্বরী ও ডাম্পের বাজার সেতুর কাজও শেষ হয়নি
এই সীমান্ত পথেই সোমেশ্বরী নদীর ওপর ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের আরেকটি সেতুর কাজও তমা কনস্ট্রাকশনের লোকজন শেষ না করে এলাকা ছেড়েছে। এটিরও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে করা ডাম্পের বাজার সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কও এই প্রতিষ্ঠান করেনি। এই সেতুর কাজে তমা কনস্ট্রাকশনকে বাতিলের প্রস্তাব সম্প্রতি পাঠিয়েছে এলজিইডি।

পাকিস্তানি টিকটক তারকা সানা ইউসুফকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের একটি আদালত জনপ্রিয় টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম তারকা সানা ইউসুফ হত্যার দায়ে ২৩ বছর বয়সী উমর হায়াতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। গত বছরের ২ জুন ইসলামাবাদে নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ১৭ বছর বয়সী সানা ইউসুফ। এ ঘটনায় আবারও পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

রায়ের পর আদালতের বাইরে সানার বাবা হাসান ইউসুফ বলেন, এই রায় শুধু আমার জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য। এটি অপরাধীদের জন্য একটি শিক্ষা।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরের ফয়সালাবাদ শহর থেকে ওমর হায়াতকে গ্রেফতার করা হয়।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেওয়া এক জবানবন্দিতে হায়াত হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, অনলাইনে যোগাযোগের পর সানার প্রতি একতরফা আসক্তি তৈরি হয়েছিল তার জবানবন্দিতে বলা হয়, সানার জন্মদিন উপলক্ষে মে মাসের শেষ দিকে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন হায়াত। কিন্তু তাদের দেখা হয়নি। পরে সানা দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি সন্দেহ করেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এরপর ২ জুন দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন একটি গাড়ি ভাড়া করে এবং একটি পিস্তল নিয়ে সানার বাসায় যান তিনি। সানা বাইরে না এলেও কোনোভাবে বাসায় ঢুকে পড়েন। সেখানে তর্কের একপর্যায়ে গুলি করে হত্যা করা হয় সানাকে। ঘটনাটি সানার মা ও খালা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

তবে পরবর্তী এক বক্তব্যে হায়াত দাবি করেন, তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়নি এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, সানা ইউসুফ হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি এমন একটি সামাজিক বাস্তবতার অংশ, যেখানে নারীদের স্বাধীনতা ও সামাজিক উপস্থিতিকে অনেক সময় সহ্য করা হয় না।

মেটায় বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কাজে।

ছাঁটাই শুরুর আগে কোম্পানি বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের হোম অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেয়, যা বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের সময় মেটার নিয়মিত পদ্ধতি। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় অঞ্চলে কর্মীদের কাছে ছাঁটাই সংক্রান্ত ইমেইল পাঠানো হয়। কিছু কর্মী স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে এই নোটিশ পান বলে জানা গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন টাইম জোন অনুযায়ী ভাগ করে সম্পন্ন করা হয়।

রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও ‘ফ্ল্যাট’ বা সরল কাঠামোয় যেতে চায়। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জেনেল গেইল কর্মীদের বার্তায় বলেন, নতুন কাঠামোয় ছোট ছোট দল বা ‘পড’ গঠন করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ করা যায় এবং কর্মীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের কারণে বড় পরিবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাঁটাই মূলত কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বড় সংগঠন কাঠামো ভেঙে ছোট, দ্রুতগতির এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক দল গঠনের দিকে এগোচ্ছে। অনেক পুরোনো পদ বাতিল করে নতুন ধরনের এআই-ভিত্তিক ভূমিকা তৈরি করা হচ্ছে।

কোম্পানির ভেতরে উদ্বেগ ও অস্থিরতা

ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী ভবিষ্যৎ চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিসের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন ল্যাপটপ চার্জার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন একটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা কর্মপরিবেশকে আরও চাপপূর্ণ করে তুলছে।

প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের বড় ঢেউ

এই ছাঁটাই শুধু মেটা প্ল্যাটফর্মসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। সিসকো সিস্টেমস, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ওরাকলসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে তাদের কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি খাতে একটি বড় পরিবর্তন চলছে, যেখানে কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বড় কর্মী নির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে ছোট কিন্তু বেশি দক্ষ দল গঠনের দিকে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাঠামোগত পরিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেক নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এখন মেশিন এবং সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

ফলে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কোম্পানিগুলো এখন এমন কর্মীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যারা জটিল সমস্যা সমাধান, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় দক্ষ।