Home Blog Page 81

এবার জানা গেল মেসির কান্নার ‘আসল’ কারণ

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন লিওনেল মেসি। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকে রীতিমতো ট্রেন্ডিং-এ এই আর্জেন্টাইন তারকা। বিশ্বজুড়ে মেসি এখন হট কেক। বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রথম গোল করার পর জার্সি দিয়ে তার চোখ মোছা নিয়েও হচ্ছে আলোচনা। ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন, তাদের প্রিয় তারকা মেসি কেন কেঁদেছেন?

সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেসি নিজেই দিয়েছেন। ম্যাচ শেষ হতেই জানিয়েছিলেন কান্নার কারণ। মেসি জানান, কান্নার কারণটা ফুটবলীয় নয়। বরং তার ব্যক্তিগত।

এবার মেসির কান্না নিয়ে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। জানা গেছে, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বাবা হোর্হে মেসি অসুস্থ। বাবার অসুস্থতাই ফুটবলের এই জাদুকরকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মেসির বাবা হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বাবার অসুস্থতাই মেসির ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তার অসুস্থতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেসিকে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে দেখা যায়। অনেকের মতে, সেটাও ছিল বাবার উদ্দেশে মেসির আবেগঘন বার্তা।

মেসির ফুটবল জীবনের শুরু থেকেই ছায়াসঙ্গী ছিলেন তার বাবা। শুধু অভিভাবক হিসেবেই নয়, বরং কোচ, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে এজেন্ট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

এর আগে কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৭ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পান মেসি। সেই গোলটি করার পরই তাকে আবেগপ্রবণ দেখা যায়, ক্যামেরায় ধরা পড়ে মেসির চোখের জল। ম্যাচ শেষে কান্নার কারণ জানতে চাওয়া হলে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।’

বাবার অসুস্থতা নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে থাকলেও ম্যাচে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্ব নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নিজের নাম লেখান তিনি।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প চার বছরে অগ্রগতি সামান্য, ভূমি অধিগ্রহণ বড় অন্তরায়

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে এক বছরের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করে চলতি বছর কাজ শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সিলেট অংশে গত চার বছরে ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। এর মধ্যে অনেক ভূমির স্থাপনা আবার সরানো হয়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজও করতে পারছে না।

২০২১ সালে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও নানা কারণে ঠিকাদার নিয়োগ হয় দুই বছর পর ২০২৩ সালে। মেগা এ প্রকল্প কাজে ধীরগতির কারণে একদিকে যেমন যাত্রীরা বছরের পর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে কবে কাজ শেষ হবে– তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার গঠনের পর সড়কের কাজ দ্রুত করতে তাগাদা দিচ্ছেন সিলেটের দুই মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রকল্পের তথ্যমতে, সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে ২০৯ কিলোমিটার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, আটটি ওভারপাস, ২৬টি ফুট ওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন ও আটটি রাউন্ড অ্যাবাউট (গোলচত্বর) নির্মাণ করার কথা। এর মধ্যে সিলেট অংশে ১১৭ কিলোমিটারের মধ্যে জায়গা অধিগ্রহণ করার কথা প্রায় সাড়ে ৫০০ একর। সেখানে হয়েছে এক-চতুর্থাংশ। অনেক জায়গা আবার খালি করা হয়নি।

গত রোববার সিলেট অংশের সড়কের সাদিপুর এলাকার গজিয়া সেতুর পাশে কাজ করতে গেলে বাধা দেন সেখানকার ভূমি মালিকরা। মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকার ইদ্রিস আলী জানান, তাঁর ভাই, তিনিসহ অনেকে জমি অধিগ্রহণের টাকা পাননি।

রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের সাতমাইল নামক স্থানে কাজ চলছে। এরপর কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কাজ নেই। সড়কটির শেরপুর পর্যন্ত তাজমহরমপুর, বরকাপন, দয়ামির, সোয়ারগাঁও, কুরুয়া, আহমদনগর, কুতুবপুর, কলারাই, ভূরুঙ্গা এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে। কোনো স্থানে ব্রিজ ও কালভার্ট এবং কোনো স্থানে মাটি ভরাট ও রাস্তার একাংশ ঢালাই কিংবা মাটি রোলার করা হচ্ছে। একমাত্র আহমদনগর এলাকায় পুরো রাস্তার কাজ ভেসে উঠেছে।

সিলেট অংশের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী দেবাশীষ রায় জানান, ১০ কিলোমিটার জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরে এটি শেষ করতে সবাই কাজ করছেন। ঠিকাদার নিয়োগ হয় দুই বছর পর। তাঁর অংশে ১৫-১৬ শতাংশ কাজ হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ঠিকাদার নিয়োগ হয় ২০২৪ সালে। সেখানে অধিগ্রহণ হয়েছে খুবই সামান্য। যেটুকু হয়েছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। খালি জায়গায় মাটি ভরাট ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। শেরপুর থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার মজলিসপুর পর্যন্ত নতুনবস্তী (ব্রাহ্মণগ্রাম), শেরপুর গ্রামের কাছে ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। হবিগঞ্জের অধিকাংশ অংশের কাজও একইভাবে চলছে।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ ৩৫ কিলোমিটার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, তাঁর কিছু জায়গা অধিগ্রহণ হলেও বুঝে পাননি। জমির জন্য প্রকল্পে দেরি হচ্ছে।
সিলেট অংশে ১৪ কিলোমিটারের কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইএনজেড-টিসিসিএল যৌথ কাজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উদয়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘৪৮ মাস কাজের মেয়াদ হলেও ৩৭ মাস পর পাঁচ কিলোমিটার জায়গা বুঝে পাইনি। ভূমি জটিলতার কারণে কাজ বিলম্ব হচ্ছে। আগে নানা সমস্যা থাকলেও এখন আমাদের জনবল, সরঞ্জামসহ নির্মাণসামগ্রী পর্যাপ্ত রয়েছে। কয়েকটি ব্রিজের কাজ শুরু করেছি। কিন্তু জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
সিলেট পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের সিলেটের কিছু অংশসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলায় যাত্রীদের ভোগান্তি লেগেই আছে। ভূমি জটিলতার অবসান করে দ্রুত কাজ করার দাবি করেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগ জড়িত। অতীতে ভূমি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বদলির কারণে বিলম্ব হয়। কিন্তু এখন আমরা দ্রুত কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের পর অনেকে মামলাও করেছেন। নোটিশ করলে জবাব দেন না। কেউ আবার কাগজপত্র না দেখাতে পারার কারণে ক্ষতিপূরণ পেতে বিলম্ব হওয়ায় সেই ভূমি ছাড়তে চান না। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। ইতোমধ্যে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ নেই, স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ মজুত

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সংকট এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়েও রোগী ফিরছেন খালি হাতে। ইনডোর ও আউটডোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। এর মধ্যেই হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ। এসব ওষুধ কীভাবে গ্রহণ করা হলো, সে প্রশ্নেরও জবাব মিলেনি।
হাসপাতালে ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন আউটডোর, ইনডোর, জরুরি বিভাগ ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগী প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেককে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামের শহীদুর রহমান বলেন, ‘ছয় ধরনের ওষুধ লিখে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে পেয়েছি তিনটা। গরিব মানুষ, টাকা কোথায় পাই?’ রাবেয়া বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘ডাক্তার তিনটা ওষুধ লিখছে, পাইছি একটা। বাকি দুইটা বাইরে কিনতে কইছে।’ আক্ষেপ করে তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যখন অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, তখন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বহির্বিভাগের ফার্মাসিস্ট মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগীদের সঙ্গে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’ আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, ‘সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়।’ তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার মেসার্স আসলাম উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমি কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করিনি। নির্ধারিত সময়েই সব ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি তালিকায় ৪৭ পদের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন ইউনিটে ১০ থেকে ১৫ পদের বেশি ওষুধ পৌঁছায় না। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ওয়ার্ড ক্লিনিকগুলোও দীর্ঘদিন ওষুধ সংকটে ছিল। ছয় মাস পর চলতি মাসে প্রতিটি ক্লিনিকে মাত্র এক বাক্স করে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ পাওয়া গেছে। স্টোরকিপার মো. বছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো আমার আমলের নয়। স্বল্পমেয়াদি ওষুধ এসেছে, তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

ইনডোর ইনচার্জ শাহীনুর বেগম অভিযোগ করেন, ‘এক মাস মেয়াদের ওষুধও অনেক সময় নিতে বলা হয়। আপত্তি করলেও আমাদের গ্রহণ করতে হয়।’ তবে এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি মোক‌ছেদুল আলম ব‌লেন, মা‌ঝেম‌ধ্যে স্বল্প মেয়া‌দের ওষুধ হাসপাতা‌লের কর্তৃপক্ষ‌কে জা‌নি‌য়েই সরবরাহ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরবরাহ সংকট রয়েছে। ছয় পদের স্বল্পমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব‌্যা‌রিস্টার মাহবুব আলম ছা‌লেহী বলেন, খোঁজ নি‌য়ে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা সি‌ভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমা‌রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

আমরা ইন্সটাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি: মোদিকে মেলোনি

জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে দুই নেতার সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রাণবন্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রুপ ছবি তোলার আগে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।’ এরপর হাস্যরসের সুরে তিনি যোগ করেন, ‘আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।’

মেলোনির মন্তব্যে সায় দিয়ে মোদিও তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা জনপ্রিয় ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মুহূর্তটি দ্রুতই নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দেয়।

কী এই ‘মেলোডি’?
মোদি ও মেলোনির নাম মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘মেলোডি’ শব্দটি। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মেলোনি। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘গুড ফ্রেন্ডস’ এবং ব্যবহার করেছিলেন মেলোডি হ্যাশট্যাগ।

এরপর থেকেই ‘মেলোডি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে অসংখ্য মিম, ভিডিও ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে দুই নেতার সাক্ষাৎ হলেই নতুন করে আলোচনায় আসে ‘মেলোডি’।

‘মেলোডি’ টফি উপহার
গত মাসে ইতালি সফরের সময় মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন মোদি। ঘটনাটিকেও অনেকে ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রতি তার মজার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের বন্দগালা স্যুট পরা মোদি মেলোনির হাতে টফির প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। উপহার পেয়ে হাসিমুখে ধন্যবাদ জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন… খুব, খুব ভালো টফি।’ এ সময় দুই নেতাকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মোদি ও মেলোনির এই বন্ধুত্বপূর্ণ রসিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। আর সেই কারণেই ‘মেলোডি’ এখন শুধু একটি হ্যাশট্যাগ নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বহুল আলোচিত এক বৈশ্বিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

আইইএলটিএসে ৬২,৭৯৪ শিক্ষার্থীর ফল ভুল, ক্ষতিপূরণে যে উদ্যোগ নিল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএসে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থীর ফল ভুলভাবে নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এই ত্রুটি ঘটে। পরে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ অথবা সম্পূর্ণ ফি ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অফকোয়াল জানায়, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন বা অটোমেটেড মার্কিং সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সমস্যা ঘটে। ওই সময়ে প্রায় ৭৭ লাখ পরীক্ষার্থী আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার ৮৬৫টি উত্তর ভুলভাবে মূল্যায়িত হয়।

ত্রুটির ফলে অনেক পরীক্ষার্থীর ব্যান্ড স্কোর ভুলভাবে নির্ধারিত হয়। পরে সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর স্কোর আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্যদিকে, ১ হাজার ১১৫ জনের স্কোর ভুলভাবে বেশি দেওয়া হয়েছিল, যা সংশোধন করে কমানো হয়।

এ ঘটনায় আইইএলটিএসের অন্যতম অংশীদার কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে অফকোয়াল। সংস্থাটির ডেলিভারি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আমান্ডা সোয়ান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতা পরীক্ষার্থী ও ফল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান-উভয়ের জন্যই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুল ফলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছেন। এ কারণেই এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কেমব্রিজ ইংলিশ তাদের ত্রুটি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধান, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়াতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে ইতিমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডের বেশি ব্যয় করা হয়েছে।

আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বা সম্পূর্ণ ফি ফেরত দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত পরীক্ষায় প্রভাব পড়া কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আইইএলটিএস পরীক্ষা যৌথভাবে পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট।

সুস্থতার জন্য সেরা ৪ পানীয়

আমরা অনেক সময় এমন সব স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগি, যার লক্ষণগুলো হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ সময়, এসব লক্ষণ কমানোর জন্য আমরা ওষুধ খাই অথবা লক্ষণগুলো নিজে থেকে চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু আপনি জানেন কী কয়েক ধরনের বিশেষ পানীয় পানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা কমানো যায়। যেমন-

লেবু পানি
লেবুর পানি বর্তমানে আমাদের পরিচিত অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়।  যারা ওজন কমাতে চান, তারা সাধারণত এই পানীয় নিয়মিত খান। কারণ এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। লেবুর পানি পান করার আরেকটি সুবিধা হলো, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এর ফলে শরীর বিভিন্ন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এটি হজমশক্তিও উন্নত করতে পারে। যার ফলে শরীর আরও ভালোভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

পুদিনা পানি

পুদিনার পানিও শরীরের জন্য খুব উপকারী। পুদিনা ক্ষুধা বাড়াতে এবং বদহজম প্রতিরোধ করে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় ভোগেন, তবে পুদিনার পানি পান করলে পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি জগে পানি ভরে তাতে লেবুর টুকরো এবং পুদিনার পাতাসহ ডালপালা যোগ করুন। মিশ্রণটি নেড়ে নিন এবং পরে ফ্রিজে রাখুন। পান করার আগে দিনে একবার পানিটা নেড়ে নিন। এটি ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। পেটের সমস্যা দূর করতে দিনে এক বা দুই গ্লাস এই পানি পান করতে পারেন।

আদা পানি
আদা পানি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আদা পানি বমি বমি ভাব, বমি এবং এমনকি গ্যাসের সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। একটি সসপ্যানে পানি ও কিছুটা আদা দিয়ে উচ্চ তাপে ফুটিয়ে নিন। আঁচ কমিয়ে দিন এবং আরও ১৫ মিনিট অল্প আঁচে রাখুন। মিশ্রণটি ছেঁকে ঠান্ডা হতে দিন। সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে এই পানি পান করুন।

মধু পানি
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিছুটা মধু পানি পান করা একটি ভালো উপায়। অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি মধু পানি অ্যালার্জি কমাতে, গলা ব্যথা সারাতে এবং এমনকি প্রদাহও কমাতে পারে। পানি ফুটিয়ে একটি কাপে ঢেলে কয়েক মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন। এক থেকে দুই টেবিল চামচ মধু যোগ করে নাড়ুন। এরপর এটি পান করুন।

বাজেট ২০২৬-২৭ জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় বাড়ছে করের বোঝা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থাবর সম্পত্তি বা জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচা বা লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কর নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, আগামী অর্থবছর থেকে ডেভেলপারকে জমি দেওয়ার বিনিময়ে মালিক নগদ টাকা, ফ্ল্যাট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত ভাড়া সুবিধা বা আর্থিক মূল্য আছে– এমন যে সুবিধাই নেবেন, তার আর্থিক মূল্য ধরে ১৫ শতাংশ হারে ‘ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স’ বা মূলধনি মুনাফা কর দিতে হবে।

জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে আগে উৎসে কেটে নেওয়া করই ছিল চূড়ান্ত কর দায়। অর্থমন্ত্রীর কর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে তা অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি জমি অধিগ্রহণ বাবদ সরকার ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা দেবে, তার ওপর উৎসে কর কাটবে। কেটে নেওয়া ওই করও কেবল অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর আয়কর রিটার্নে ওই আয় প্রদর্শন করে মোট আয় হিসাব করতে হবে এবং প্রযোজ্য কর ধাপে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। অবশ্য কর ধাপ অনুযায়ী, বেশি কর কেটে নেওয়া হলে তার ‘রিফান্ড’ বা ফেরতও চাওয়া যাবে। তবে আয় বেশি হলে বেশি হারে কর দিতে হবে।
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, আয়কর আইনের এ পরিবর্তনের ফলে করভার বাড়বে। বিশেষত করদাতা উচ্চ কর ধাপের হলে, তার করের বোঝা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

ডেভেলপারকে জমি দিলে কর কত
প্রস্তাবিত অর্থ বিলের  ৫৮(৩) ধারা এবং ৫ম তপশিলের অংশ-৩ এ ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছ থেকে জমি বা স্থাপনার মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা অন্য যে কোনো সুবিধার ওপর মূলধনি মুনাফা কর গণনার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফাজনিত কর গণনার সূত্রটি হলো চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার থেকে প্রাপ্ত ‘সাইনিং মানি’ এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থ, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সুবিধার মোট বাজারমূল্য থেকে জমিটির আদি অর্জন মূল্য বাদ দিয়ে যা থাকবে তার ১৫ শতাংশ।
স্নেহাশীষ বড়ুয়া এর সহজ উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক এক ব্যক্তি এক খণ্ড জমি ডেভেলপারকে দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেন। বিনিময়ে তিনি ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পেলেন। ভবন নির্মাণের পর পেলেন দুটি ফ্ল্যাট, যার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিনি পেলেন ২ কোটি টাকা। এখন জমির মালিক যদি ওই জমি ৮০ লাখ টাকায় কিনে থাকেন, তাহলে নিট মূলধনি মুনাফা হবে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে তাঁকে এর ১৫ শতাংশ বা ১৮ লাখ টাকা কর দিতে হবে। যদি কোনো জমির মালিক চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট পাওয়ার আগে বাড়ি ভাড়া নেন এবং প্রাপ্য ফ্ল্যাট বিক্রি করেন, সেক্ষেত্রে কর কীভাবে হিসাব করতে হবে, সে উদাহরণও দিয়েছেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ধরুন আবিদ নামে একজন ব্যক্তি তাঁর পাঁচ কাঠা জমি ডেভেলপারকে ভবন নির্মাণের জন্য দিলেন। চুক্তির শর্তানুসারে তিনি পেলেন ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি, ফ্ল্যাট নির্মাণ চলাকালে তিন বছরের জন্য মাসিক ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া। ভবন নির্মাণ শেষে পেলেন প্রতিটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ফ্ল্যাট।
চুক্তি চলাকালীন প্রতিবছর প্রাপ্ত ভাড়ার ওপর আবিদকে ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর বছরে ৬৩ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে যখন তিনি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন, তখন তাঁকে একবারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এ ছাড়া তিনি যদি পরবর্তী বছর ফ্ল্যাটগুলো বেশি দামে বিক্রি করেন, তবে বর্ধিত মুনাফার ওপর আবার ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।

ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরও বেড়েছে। মূলধন ঘাটতি নেমেছে ঋণাত্মক ধারায়। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিলের পরও বেশির ভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০২৫ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক খাতের আদায় অনিশ্চিত উচ্চ ঝুঁকির ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত তথা ডিসট্রেস অ্যাসেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে ব্যাংক খাতের দেখানো মোট খেলাপি ঋণ, পুনঃতপশিল করা ঋণের অনাদায়ী অংশ এবং অবলোপন করে আলাদা করে রাখা অনাদায়ী ঋণ স্থিতির যোগফলকে বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবছর এ ধরনের ঋণ বাড়ছে। এর আগে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

মূলত এসব ঋণ অনাদায়ী। তবে নানা উপায়ে নিয়মিত দেখানো হতো। কিছু ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে ব্যালান্স শিট বা আর্থিক হিসাব বিবরণী থেকে আলাদা রাখা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুব কম। যে কারণে এসব ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক চলে গেছে। ব্যাংকগুলোর মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যেখানে সাড়ে ১২ শতাংশ ধনাত্মক রাখার কথা, সেখানে উল্টো ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক রয়েছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাত এ পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী রয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতপশিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনও নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতপশিল, কখনও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আগের বছর মোট ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছিল। ২০২৪ সালে পুনঃতপশিল করা হয়েছিল ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। তার আগের বছর পুনঃতপশিল হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০২১ সালে যেখানে মাত্র ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আর ২০২০ সালে পুনঃতপশিলের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। অবশ্য করোনা মহামারির প্রভাবকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে এক টাকা পরিশোধ না করলেও নিয়মিত দেখানো হয়। ২০২১ সালে কিস্তির মাত্র ১৫ শতাংশ দিলেই নিয়মিত দেখানোর সুযোগ ছিল। যে কারণে ওই দুই বছরে পুনঃতপশিলে তেমন আগ্রহ দেখাননি ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতির ওপর কোনো চাপ নেই। তবে মূলধন ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক হওয়ার মূলে ইসলামী ব্যাংকিং খাত। এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত মারাত্মক কমে নেগেটিভ ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। অবশ্য একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংককে হিসাবের বাইরে রাখলে এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে। ইসলামিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও, নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও এবং ইনভেস্টমেন্ট-ডিপোজিট রেশিও বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরেন্দ্রভূমি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে যাচ্ছে। যে ভূগর্ভস্থ পানি কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রেখেছিল, সেই পানির স্তর এখন দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় গভীর নলকূপে আর আগের মতো পানি উঠছে না। কোথাও কোথাও ২০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে পানির স্তর।

খাওয়ার পানির জন্য গ্রামবাসীকে শত শত মিটার দূরে যেতে হচ্ছে। সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এই পটভূমিতে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মরূকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস।

দ্রুত নামছে পানির স্তর
বরেন্দ্র অঞ্চলে তুলনামূলক কম ও অনিয়মিত বৃষ্টি হয়। কয়েক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। আশির দশক থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) হাজার হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করে। ফলে একসময় খরাপ্রবণ এই অঞ্চলে বোরো ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু হয়। তবে সেই সাফল্যের পেছনে তৈরি হয়েছে বড় সংকট। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি প্রতিস্থাপন হচ্ছে না।

পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ছিল ২৬ থেকে ৩০ ফুট নিচে। ১৯৯৪ সালে তা নেমে যায় ৩৫ ফুটে। ২০০৪ সালে ৫১ ফুট এবং ২০১৩ সালে ৬০ ফুটে পৌঁছে। বর্তমানে বহু এলাকায় পানির স্তর ৮০ থেকে ৯০ ফুটেরও নিচে। কোথাও কোথাও ১১৩ ফুটের বেশি খনন করেও পানি মিলছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের ৮২ শতাংশের বেশি এলাকা পানি সংকটে রয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু’দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সরকার গত বছর রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং এক হাজার ২৪০টি মৌজাকে ‘মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে। সরকারি হিসাবে এসব এলাকার আয়তন প্রায় দুই হাজার ৭৮৭ বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রায় ২১ লাখ পাঁচ হাজার মানুষ পানি সংকটে ভুগছে। পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী, এসব এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নলকূপ স্থাপনেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। বাস্তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলা অব্যাহত রয়েছে।

পানি সংকট এখন শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহু গ্রামে নিরাপদ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর তানোরের উচ্চাডাঙ্গা গ্রামে শত শত গভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। ডাসকো ফাউন্ডেশন এক হাজার ৪০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও ওই গ্রামের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পানির স্তর পায়নি।

বাড়ছে সেচ ব্যয়, কমছে উৎপাদন
পানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। রাজশাহীর কৃষানি শব্দরানী বলেন, আগে এক ঘণ্টা সেচের জন্য ৯০ টাকা লাগত, এখন লাগে ১২০ টাকা। সারের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, তবে ফলন কমেছে।

সরকারি নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০ গভীর নলকূপের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ব্যক্তিমালিকানায় হাজার হাজার শ্যালো ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলায় ৬২ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল ও প্রায় চার হাজার গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এসব নলকূপের পানি তোলার সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার গভীর নলকূপের সমান।
বাংলাদেশে ব্র্যাকের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে শুধু নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না। এর জন্য পানিসাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জলবায়ু সহায়ক কৃষি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বড় কারণ ব্যক্তিমালিকানাধীন নলকূপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০টি নলকূপ থাকার কথা। এর মধ্যে বিএমডিএ পরিচালনা করছে আট হাজার ৪০০টি। তবে ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত নলকূপের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজারে পৌঁছেছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে আমরা একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

‘বুড়ো’ বয়সের হ্যাটট্রিকে রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে একাই ৩ গোল করে কানসাস মাতিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। এটি ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওলটপালট করে দেওয়া এক মহাকাব্যিক রেকর্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হলেন মেসি। তার বিশ্বরেকর্ডের আগে ৮ বছর ধরে রেকর্ডটি ছিল পর্তুগাল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণ মিলল আজ ১৬ জুন। ঠিক ৮ বছর আগে, ২০১৮ সালের ১৬ জুন রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে করা রোনালদোর সেই হ্যাটট্রিকটিই ছিল এতদিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের হ্যাটট্রিক রেকর্ড।

কাকতালীয়ভাবে, ৮ বছর পর ঠিক একই তারিখে আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন এলএমটেন। কানসাসের মাঠে যখন মেসি তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন! প্রায় ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে বিশ্বমঞ্চে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে মেসি প্রমাণ করলেন, বয়সটা তাঁর কাছে শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র।