Home Blog Page 82

রংপুরের পাঁচ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

আগামী তিন দিন উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কিছু কিছু জায়গায় পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বেড়েছে যা আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ পূর্বাভাস জানানো হয়। এতে বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

বন্যা সতর্কতা জারি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা) উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী তিন দিন নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে। কিছু জায়গায় বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলায় এসব নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে সুরমা নদীর পানি সমতল কমেছে যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী, মুহরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। এসব নদীর পানি সমতল আরও একদিন বৃদ্ধি পাবে এবং পরে দুদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিপদসীমার উপরে নদ-নদীর তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

লঘুচাপ ও নিম্নচাপের তথ্য জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং আশপাশের বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে।

এ ব্যাপারে মোস্তফা কামাল জিহান বলেন, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি আগামী তিনদিন বাড়তে পারে। কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ নদীর পানি আগামী পাঁচদিন বাড়তে পারে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু জায়গায় এসব নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। একইসঙ্গে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

মসজিদের পাশে মুয়াজ্জিনকে গলাকেটে হত্যাচেষ্টা

খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলার সাহস ইউনিয়নে কারিমুল ইসলাম (৫০) নামে এক মুয়াজ্জিনকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সাহস-নোয়াকাটি বাজার মসজিদের পাশে মুয়াজ্জিনকে গলাকেটে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওই মসজিদে ইমাম মো. আবুল হোসেন সরদার জানান, ফজরের আযান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিন সাহেব বাড়ি থেকে মসজিদে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য তারা মসজিদে যেয়ে দেখেন, দরজায় তালা দেওয়া। মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদে নেই। পরে মসজিদের ১০০ গজ দূরে গ্রামীণ সড়কে মুয়াজ্জিন সাহেবকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মাঠে পুলিশ কাজ করছে।

বৃষ্টি বাড়িয়েছে সবজির দাম

কয়েক দিনের বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে অধিকাংশ সবজির দর কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে হাতেগোনা দু-তিনটি ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি এখন ৭০ টাকার ওপরে। ডিম ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারও বেশ চড়া।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে লাগাতার বৃষ্টির কারণে কৃষক ক্ষেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। ক্ষেতে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ঢাকায় সবজি তুলনামূলক কম এসেছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় বন্যায় সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এসব কারণে সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বৃষ্টি না থামলে সবজির বাজার চড়তে পারে। গতকাল সবজির বাজারে গিয়ে তাদের ধারণা যে ঠিক, এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগে ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। গতকাল এই তিনটি সবজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম হাঁকছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পাঁচ-ছয় দিন আগেও সবজিটি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে বেগুন ও বরবটি গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল কেজিতে খরচ করতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শসা, টমেটোতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না! শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় শসা বিক্রি হয়।

সবজির মধ্যে কিছুটা কম দাম দেখা গেছে পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপের। এসব সবজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে সবজি নিয়ে আগারগাঁওয়ের কলোনির পাশে ভ্যানে করে বিক্রি করেন সাইফুল মিয়া। তিনি বলেন, তিন-চার দিন আগের চেয়ে পাল্লায় (পাঁচ কেজি) অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম। এ জন্য তাঁকেও খুচরায় বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী রিফাত হোসেন বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চাষিরা সবজি তুলতে পারেননি। অনেকের ক্ষেতে পানি জমে সবজি পচে গেছে। কিছু এলাকায় বন্যায় জমি ডুবে গেছে। ফলে সেসব এলাকায় সবজির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে সরবরাহ কম। ফলে দর বেড়েছে।

বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার সমকালকে বলেন, বাজারে এখন কিছু সবজি পাওয়া যাচ্ছে, এটাই স্বস্তির। প্রায় সপ্তাহজুড়ে সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে। পানি জমলে সবজি গাছ বাঁচে না। এখন বাজারে যেসব সবজি আসছে, সেগুলো বেশির ভাগই পচে বা মরে যাচ্ছে এমন গাছের সবজি। এসব গাছ মরে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

তিন-চার দিনের ব্যবধানে ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম ১১৫ থেকে ১২০ এবং বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে মুরগির দর। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেজকুনীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বলেন, সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের হাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। সেজন্য খুচরা বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।

মাছের বাজারের অস্বস্তি কমেনি। আগে থেকেই ইলিশের দর চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি কমবেশি দুই হাজার আর এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। রুই-কাতলার দামও অনেকের নাগালের বাইরে। মাঝারি আকারের এসব মাছ কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কিছুটা স্বাভাবিক দাম চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের। এসব মাছ কেনা যাচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।

মুদি পণ্যের মধ্যে আগের মতোই কিছুটা বেশি দর রয়েছে সব ধরনের ডালের। ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়নি। তবে ফের দাম বাড়তে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এ ছাড়া আগে থেকেই বেড়ে থাকা চাল-আটার বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

২০২৬-২৭ অর্থবছর ৫৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির বড় লক্ষ্যমাত্রা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইপিবির প্রস্তাব

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ১ শতাংশের মতো কম হয়েছে প্রকৃত রপ্তানি। এ বাস্তবতার মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। এটি গত অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বড় আয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার খসড়া তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে খসড়া লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। আগামী সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পণ্য ও সেবা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করতে পারেন।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কৃষি, মৎস্য, চা ও ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প পণ্যসংক্রান্ত সরকারি দপ্তর ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে ইপিবি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা কত হতে পারে সে বিষয়ে মতামত দেন। সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করা হয়। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তিসহ সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব নিয়েও আলােচনা হয়।  এ সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লষণ ও সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কাছ থেকে এ বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। বিজিএমইএ গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ওপর ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। ইপিবির সঙ্গে আলোচনায়ও এ সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সংগঠন দুটি। তৈরি পোশাক খাতে নতুন অর্থবছর ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে ইপিবির খসড়ায়।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল সমকালকে বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে যেখানে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি সেখানে এমন কী ঘটে গেল যে, এক লাফে রপ্তানি ২১ শতাংশ বেড়ে যাবে রপ্তানি। বাস্তবতা হচ্ছে, প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রেও গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানি পরিস্থিতি ভালো নয়। এই বড় দুই বাজার বাদ দিয়ে বিশ্বের বাকি সব দেশে যদি ১০০ শতাংশ হারেও রপ্তানি বাড়ে তাহলে এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য নয়।
ইপিবির তৈরি খসড়া প্রস্তাব অনুসারে, পোশাকের বাইরে চামড়া, কৃষি, পাট, প্রকৌশল, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের জন্যও উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ জুলাই শহীদদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, জুলাই শহীদদের যথাযথ মূল্যায়ন এখনও করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়ারও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল বুধবার বগুড়া শহরের নামাজগড় কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ সময় তারা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জনগণ একাত্তরের আদর্শ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা মাঠে নেমেছি।’

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, সেটি তাদের ন্যায্য দাবির অংশ। একজন শিক্ষার্থী কখনোই স্বেচ্ছায় পরীক্ষার হল ছেড়ে রাজপথে নামে না। যখন তারা গভীর সংকট ও কষ্টের মধ্যে পড়ে, তখনই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান সংকট দ্রুত সমাধান করে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক।’

সেমিনারে মির্জা ফখরুল বাসযোগ্য নগর গড়তে প্রয়োজন নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ

একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এ জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

গতকাল বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিলনায়তনে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা দীর্ঘদিনের। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় রাজধানীতে মানুষের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে নগর ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি আধুনিক নগর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

শাহে আলম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা ও উন্নত নাগরিক বোধ তৈরির লক্ষ্যে আগামী বছরে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৃষ্টি বাড়িয়েছে সবজির দাম

কয়েক দিনের বৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের চেয়ে অধিকাংশ সবজির দর কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে হাতেগোনা দু-তিনটি ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি এখন ৭০ টাকার ওপরে। ডিম ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারও বেশ চড়া।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে লাগাতার বৃষ্টির কারণে কৃষক ক্ষেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। ক্ষেতে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ঢাকায় সবজি তুলনামূলক কম এসেছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় বন্যায় সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এসব কারণে সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বৃষ্টি না থামলে সবজির বাজার চড়তে পারে। গতকাল সবজির বাজারে গিয়ে তাদের ধারণা যে ঠিক, এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগে ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। গতকাল এই তিনটি সবজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম হাঁকছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পাঁচ-ছয় দিন আগেও সবজিটি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে বেগুন ও বরবটি গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল কেজিতে খরচ করতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শসা, টমেটোতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না! শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় শসা বিক্রি হয়।

সবজির মধ্যে কিছুটা কম দাম দেখা গেছে পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপের। এসব সবজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে সবজি নিয়ে আগারগাঁওয়ের কলোনির পাশে ভ্যানে করে বিক্রি করেন সাইফুল মিয়া। তিনি বলেন, তিন-চার দিন আগের চেয়ে পাল্লায় (পাঁচ কেজি) অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম। এ জন্য তাঁকেও খুচরায় বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী রিফাত হোসেন বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চাষিরা সবজি তুলতে পারেননি। অনেকের ক্ষেতে পানি জমে সবজি পচে গেছে। কিছু এলাকায় বন্যায় জমি ডুবে গেছে। ফলে সেসব এলাকায় সবজির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে সরবরাহ কম। ফলে দর বেড়েছে।

বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার সমকালকে বলেন, বাজারে এখন কিছু সবজি পাওয়া যাচ্ছে, এটাই স্বস্তির। প্রায় সপ্তাহজুড়ে সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে। পানি জমলে সবজি গাছ বাঁচে না। এখন বাজারে যেসব সবজি আসছে, সেগুলো বেশির ভাগই পচে বা মরে যাচ্ছে এমন গাছের সবজি। এসব গাছ মরে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

তিন-চার দিনের ব্যবধানে ডিম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম ১১৫ থেকে ১২০ এবং বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে মুরগির দর। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেজকুনীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বলেন, সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের হাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। সেজন্য খুচরা বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।

মাছের বাজারের অস্বস্তি কমেনি। আগে থেকেই ইলিশের দর চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি কমবেশি দুই হাজার আর এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। রুই-কাতলার দামও অনেকের নাগালের বাইরে। মাঝারি আকারের এসব মাছ কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কিছুটা স্বাভাবিক দাম চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের। এসব মাছ কেনা যাচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।

মুদি পণ্যের মধ্যে আগের মতোই কিছুটা বেশি দর রয়েছে সব ধরনের ডালের। ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়নি। তবে ফের দাম বাড়তে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এ ছাড়া আগে থেকেই বেড়ে থাকা চাল-আটার বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

লঘুচাপের প্রভাবে বাড়তে পারে বৃষ্টি চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস, মৌলভীবাজার হবিগঞ্জে অবনতির শঙ্কা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কম।

লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার ও শনিবার একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। রোববারও দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর কিছুটা উত্তাল হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরে এটি ভারতের দিকে সরে যাবে। এর প্রভাবে শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে কোথাও অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কম, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

গত ৫ জুলাই নিম্নচাপের প্রভাবে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে দেশের অন্তত ১১ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

ডেঙ্গুতে চলতি মাসে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, আরও ২ মৃত্যু জুলাইয়ের ১৫ দিনে রোগীর সংখ্যা ৩২৬৬ জন

দেশে বর্ষাকালে যত্রতত্র জলাবদ্ধতার জেরে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রকট হতে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৩৯১ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৬৬ জনে, যা চলতি মাস এমনকি চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড। এর আগে জুনে হাসপাতালে ভর্তি হয় দুই হাজার ৯০৭ জন। এতদিন এটিই ছিল সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাঁচ বছরের মেয়ে শিশু এবং ৪৬ থেকে ৫০ বছরের একজন পুরুষ। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু হলো। গত জুনে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গুর সংক্রমণবিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৩৭০ জন। যার মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে তিন হাজার ২৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

অন্যদিকে মৃত্যুর তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রবণতা কম দেখা গেলেও জুন থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে কারও মৃত্যু হয়নি। এরপর জুনে ১৩ এবং চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে মারা গেছেন ১২ জন।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চলতি বছর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে, যা সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। মশা ও এর আবাসস্থল ধ্বংসে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের অপর্যাপ্ত উদ্যোগ আর উদাসীনতা এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইডিং এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ ঠিক করবে মন্ত্রিসভা। এর পর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরও দুই থেকে তিন দিন সচিব কমিটি কারিগরি কিছু দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। এর পর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এর পর প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর পর সুপারিশ ছিল দুই ধাপে বাস্তবায়নের। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়। সে অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কীভাবে জোগান দেবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।

বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে জন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।

সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়েছে দুই ধাপে
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছর ভাতা দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা যেটি ভালো মনে করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো– জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা।