Home Blog Page 84

সাতক্ষীরা পেঁয়াজ-রসুনের দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা

সাতক্ষীরার কলারোয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গত তিন দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে রসুনের দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। অল্প সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ দুই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

কলারোয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মনিরুজ্জামান বলেন, কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে ছিল। হঠাৎ কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ বেড়ে গেছে। বাজারে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলার সরসকাটি বাজারের ক্রেতা আব্দুল মাজেদ বলেন, তিন দিন আগে দুই কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকায় কিনেছেন, এখন একই পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে ১০০ টাকা লাগছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।

ছলিমপুর গ্রামের ভ্যানচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে।

বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন মোকামে পেঁয়াজ ও রসুনের পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন বলেন, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুমগত কারণেও এ সময়ে দাম কিছুটা বাড়ে।

পেঁয়াজ-রসুন বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সম্প্রতি মোকামগুলোতে দাম বেড়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।

কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে সংগ্রহ করা পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কয়েক দিন ধরে বেড়েছে। পাশাপাশি বর্ষাকালের প্রভাবেও দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা শেষ হলে বাজারে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার তুলনায় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ বাজারগুলোতে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবে অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে, সাধারণ ক্রেতারা পেঁয়াজ-রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ক্যামেরার সামনে কেন গম্ভীর থাকেন আরিয়ান, জানালেন বন্ধু

রূপালি পর্দার বাইরে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান যখন জনসমক্ষে আসেন তখন তাকে সবসময় হাস্যেজ্জল দেখা যায়। কিন্তু তার ছেলের ক্ষেত্রে সেটা উল্টো। আরিয়ান খানকে জনসমক্ষে হাসতে দেখা যায় না বললেই চলে। ক্যামেরার সামনে তার গম্ভীর মুখভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এবার সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিলেন বন্ধু অভিনেতা রাঘব জুয়াল।

সম্প্রতি পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাঘব বলেন, আরিয়ান ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে হাসেন না। কারণ, তিনি কোনো কৃত্রিম অভিব্যক্তি দেখাতে চান না।

রাঘবের ভাষায়, ‘সে ভান করতে চায় না। আমার মনে হয়, অভিনয় করে কিছু দেখানোরও প্রয়োজন সে অনুভব করে না। সে যেমন, ঠিক তেমনভাবেই থাকতে চায়। আর সেটার স্বাধীনতা তার থাকা উচিত। সে খুবই সৃজনশীল, প্রাণবন্ত ও দয়ালু একজন মানুষ। এটাই তার স্বভাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি সে হাসতে না চায়, সেটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে বাড়িতে সে অনেক হাসে, মজা করে, আড্ডা দেয়।’

আরিয়ান খান ও রাঘব জুয়াল

আরিয়ান খান ও রাঘব জুয়াল

সম্প্রতি রাঘব জুয়ালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে খুব কম সময়ের জন্য প্রকাশ্যে দেখা যায় আরিয়ান খানকে। সেখানে ভক্ত ও আলোকচিত্রীদের ভিড়ে প্রায় আটকে পড়েন তিনি। সেই উপস্থিতির পর থেকেই আবারও তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও আরিয়ানের প্রশংসা করেছিলেন রাঘব। তিনি বলেন, ‘তিনি শাহরুখ খান ও গৌরী খানের ছেলে—এটা সত্যি। কিন্তু তার নিজেরও আলাদা পরিচয় আছে। তিনি নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মানুষ। আমার কাছে তিনি একজন প্রতিভাবান নির্মাতা। না হলে এমন একটি সিরিজ তৈরি করা সম্ভব হতো না, যেখানে বলিউডকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমন সাহসী কাজ সবাই করতে পারে না।’

আরিয়ান খানের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস*** অব বলিউড’ সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে গৌরী খান প্রযোজিত এই ব্যঙ্গাত্মক কমেডি-ড্রামায় অভিনয় করেছেন লক্ষ্য, ববি দেওল, রাঘব জুয়াল, সাহের বাম্বা, আনিয়া সিং, মোনা সিং, মনোজ পাহওয়া ও মনীশ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

সাত পর্বের এই সিরিজে বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়ার সংগ্রামে নামা এক তরুণের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের সংস্কৃতি, তারকাদের জনমুখী ভাবমূর্তি এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বাস্তবতাকেও ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে আগ্রহী বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনো চলতি বছরের বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওই সময় তিনি ট্রাম্পকে ফিফার উদ্বোধনী ‘পিস প্রাইজ’ও প্রদান করেন।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জাতিসংঘ সনদের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ মহাসচিব নিয়োগ দেয়। এ পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রথমে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পেতে হয়। তবে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমেই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানায়, আন্তর্জাতিক বড় বড় সংঘাত মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনামুখর। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে তিনি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন।

ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সেনা মোতায়েনের পথ খুলছে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপির জামিনদার, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে পারবে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১২তম কমিশন সভা শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব আকারে পাঠাব। তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে একাধিক নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগামী আগস্টে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ-বিষয়ক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ বা তপশিল বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তপশিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে তা ৫ মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দিনব্যাপী চলা কমিশন সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ আইন সংশোধনে ইসির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজীকরণ ও নবায়ন, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন প্রস্তাবগুলো কবে নাগাদ সরকারের কাছে পাঠানো হবে– এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পারি প্রস্তাবগুলো পাঠাব। কাল-পরশু তৈরি হয়ে গেলেই পাঠিয়ে দেব।’
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা আইনের কিছু সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’

যেসব সংশোধনী আনছে ইসি 
ইসি সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনে সেভাবে নেই। আমরা মনে করি, সব আইনেই এটা যুক্ত করা উচিত। এই কারণে সব আইনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা– এ বিষয়ে কমিশন মনে করে; না, তারা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন। ঋণখেলাপির বিষয়ে দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং অন্যটি জামিনদার। যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার একটি প্রস্তাবে ইসি নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, পাশাপাশি ইউটিলিটি বিলখেলাপি, যেমন– বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসার বিল– এ ধরনের সেবা প্রদানকারী সংস্থার কোনো বিলখেলাপি থাকলে সেটা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। লাভজনক পদে থেকেও নির্বাচন করা যাবে না।
তিনি জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানেও এ বিষয়ে একটি সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।

এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক
সভায় ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়নের বিষয়টি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমে কী কী তথ্য থাকতে হবে, সে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। নবায়নের ক্ষেত্রে পরিবারের সবার এনআইডির তথ্যও দিতে হবে। এ ছাড়া এনআইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কী কী তথ্য দিতে হবে, সেটাও ঠিক করা হয়। উভয় সেবার ক্ষেত্রেই ইসি আবেদন ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সভায় প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দুই স্তর থেকে এক স্তরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অনলাইন আবেদনে প্রবাসী ভোটাররা তথ্য দেওয়ার পর তদন্ত করা হয়। এর পর বায়োমেট্রিক দিতে হয় তাদের। এখন থেকে তথ্য এবং বায়োমেট্রিক একসঙ্গে নেওয়ার পর তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে ইসি। সভায় এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, এখন আমরা এনআইডি বা ভোটার তালিকার জন্য ১৬ বছর ও তদূর্ধ্বদের তথ্য সংগ্রহ করি। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। সভায় এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কোন পর্যায় পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি নাকি প্রাথমিক যেটাই হোক না কেন– একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তী সময় সিদ্ধান্তে আসবে ইসি।

একা ফিরলেন মেসি, মার্তিনেজদের বরণ

০

বিশ্বকাপ এখন ভাঙা হাট। খেলা শেষ করে যে যার ঘরে ফিরে গেছে। রোববারের ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন স্পেন মাদ্রিদে পৌঁছায় সোমবার। লামিনে ইয়ামালদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয় দেশে। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরেছে বিশেষ বিমানে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজরাও পেয়েছেন জমকালো সংবর্ধনা। এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লালগালিচা পাতা হয়েছিল খেলোয়াড়দের বরণ করে নিতে। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ শেষে নেওয়া হয় দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে। রাজপথের দুপাশে দাঁড়িয়ে স্লোগান আর করতালিতে লাউতারো মার্তিনেজদের স্বাগত জানায় লাখ লাখ মানুষ। জাতীয় দলের দেশে ফেরা ও সমর্থকদের উদযাপনের সুযোগ করে দিতে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
লিওনেল মেসির বীরের সম্মান পাওয়ারই কথা। ফুটবলপাগল আর্জেন্টাইনরা ভালো করেই জানেন, ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পরের বিশ্বকাপে (২০২৬) রানার্সআপ হওয়া কম পাওয়া নয়। দিয়েগো ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসির হাতে লেখা হলো টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার বীরত্বগাথা। যদিও স্পেনের কাছে ফাইনাল ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরে যাওয়া আর্জেন্টাইনদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ। খেলা শেষে হতাশায় বিমর্ষ ছিলেন মেসি। বিবাদ এড়িয়ে মাঠের এক কোণে ঠায় বসেছিলেন কিংবদন্তি। লামিনে ইয়ামাল কাছে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে টেনে নিয়েছিলেন বুকে। সৌজন্যটুকু শেষ করে আবার বসে পড়েন মাটিতে। কতটা হতাশ হলে একজন মানুষ এভাবে বসে থাকতে পারেন! জাতিকে চতুর্থ বিশ্বকাপ উপহার দিতে না পারার কষ্ট লুকাতে ১০ জন খেলোয়াড় দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। তাদেরই একজন হলেন মেসি। দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই দেওয়া হয় সংবর্ধনা। মেসির শূন্যতায় অপূর্ণই থেকে গেছে অনুষ্ঠান।

মেসি দেশে ফিরেছেন এক দিন দেরিতে। তিনি গেছেন জন্মস্থান রোজারিওতে অসুস্থ বাবার কাছে। আর্জেন্টাইন স্পোর্টস পোর্টাল টিওয়াইসি জানায়, কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন মেসি। নিজের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবেন। মেসির জীবনে তাঁর বাবাই সব। যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের খেলা দেখতে আসতে পারেননি অসুস্থতার কারণে। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর বাবার জন্য কেঁদেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ ভেন্যুতে এসেছিল ১ জুন। ১ মাস ২০ দিন পর দেশে ফেরার ফুরসত মিলেছে ফুটবলারদের। বাবাকে না দেখার কষ্টে কত দিন যে কেঁদেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা, তা জানেন তিনি আর তাঁর ঈশ্বর। লিও চেয়েছিলেন, সোনালি ট্রফি জিতে বাবাকে উপহার দেবেন। বুয়েন্স আয়ার্স থেকে রোজারিওর রাস্তায় কোটি মানুষকে বিজয়ের আনন্দে ভাসাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধাতা যে চিত্রনাট্য লিখে রেখেছেন অন্যভাবে! শিরোপা জিততে না পারার হতাশা থেকেই হয়তো দলের সঙ্গে দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত লিওর। বিশ্বকাপ শেষে এক্সে আবেগঘন পোস্ট দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। রানার্সআপ পদকের ছবি জুড়ে দেন সঙ্গে। মেসির পোস্টে লেখা ছিল, ‘ব্যথাটা অনেক তীব্র। এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে। তবে আমি সব ভালো জিনিসও সঙ্গে নিচ্ছি। যে ম্যাচগুলোতে আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা স্মৃতিতে চিরকাল থেকে যাবে। পুরো দেশের সমর্থন আর প্রচেষ্টা আরও একবার বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে আমাদের।’ তাঁর পোস্টের পরের লাইনগুলো বেশি আবেগঘন, ‘আজ আমরা যা করেছি, তার কদর করা কঠিন; কিন্তু এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে।’ মেসি যেন আর্জেন্টাইন ভক্তদের মনে করিয়ে দিতে চাইলেন চার বছর আগের উদযাপনের কথা।

মেসির মতো দুঃখের দহনে কাতর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তিনিও সামাজিক মাধ্যমে কষ্টের কথা লিখেছেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমরা আবার জিতব। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম এটাকে (সোনালি ট্রফি) আর্জেন্টিনায় নিয়ে এসে আরও একবার ইতিহাস গড়ব। সত্যি বলতে, এই কষ্টটা বোঝানো কঠিন।’ পরের লাইনেই দুঃখ প্রকাশ করেন সমর্থকদের কাছে, ‘অনেক কিছু নিয়ে ভাবার আছে এবং দেখতে হবে কীভাবে সামনে এগোনো যায় আর সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে কিনা। আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি আমার দেশ এবং সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য আমার সেরাটা দিয়েছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, আমি কী করতে চাই, সে সম্পর্কে আমার একটা ধারণা আছে। আমি আমার চুক্তি পূরণ করব, তারপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমি ভাবার প্রয়োজন বোধ করছি। কারণ জানি না, আমি এত বড় (বিশ্বকাপ জয়) কিছু করতে পারব কিনা। হয়তো আমাদের কথা বলতে হবে।’ সিলভার মেডেলের একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনিও।

মেসি, এমিলিয়ানোদের চার বছর আগের অর্জনকে ভুলে যায়নি আর্জেন্টিনার মানুষ। সে প্রমাণ মিলেছে জাতীয় দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। তীব্র শীত আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল, এই ভালোবাসা অকৃত্রিম।

বনের বুক চিরে সড়ক, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত বনে ৩০টি সড়ক নির্মাণ চেয়ে এমপির ডিও লেটার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া মধুশিয়া বন। বনে উঁচু গর্জন গাছ, নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে খুঁটাখালী খাল। বনের ভেতরে রাতে হেঁটে বেড়ায় হাতির পাল। এখানেই আছে মহাবিপন্ন এশীয় হাতির গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ (করিডোর)।

অন্যদিকে, মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সরু পথ চলে গেছে পাহাড়ি বনের বুক চিরে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বনেই রয়েছে মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, বানর, মুখপোড়া হনুমান, বিপন্নপ্রায় পাহাড়ি কচ্ছপ ও অজগরের আবাসস্থল।

এ দুই সংরক্ষিত পাহাড়ি বনের ভেতর দিয়েই দুটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতরে সড়কটির দৈর্ঘ্য হবে পাঁচ কিলোমিটার, আর মহেশখালীর বনের সড়কটি হবে প্রায় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। দুটি প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণ ঘিরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বন বিভাগের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক নির্মাণে সহযোগিতার জন্য বন বিভাগকে ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তাতেও দমে যায়নি বন বিভাগ। দিয়েছে পাল্টা জবাব। বন বিভাগের দাবি, সংরক্ষিত বনে পাকা সড়ক নির্মাণ আইনবিরোধী এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজের সুযোগ নেই। বন বিভাগের তীব্র আপত্তি, পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদ এবং আইনি জটিলতার মধ্যেও প্রকল্প দুটির কাজ এগিয়ে চলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সড়কের কারণে বনের ভেতরে মানুষের অবাধ প্রবেশ, দখল, অবৈধ বসতি, বন্যপ্রাণী শিকার এবং বনভূমি ধ্বংসের নতুন পথও তৈরি করবে। জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাউছার বলেন, বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের জন্য অনাপত্তি চেয়ে আবেদন এসেছে। এখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক
কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চকরিয়ার খুঁটাখালী থেকে রামুর ঈদগড় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৯ কোটি টাকার বেশি। কাজ শুরু হয় গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি। আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের আওতায় খুঁটাখালী বাজার থেকে মধুশিয়া এবং ঈদগড় থেকে কালাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ।

বন বিভাগের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ করার পর তাদের কাছে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চাওয়া হয়েছে। অথচ বনভূমির ভেতরে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন বলেন, মধুশিয়া গর্জন বন হাতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। এখানে রাস্তা নির্মাণ করা হলে হাতির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে মানুষ ও হাতিতে সংঘাত বাড়বে এবং প্রাচীন এই গর্জন বন ঝুঁকিতে পড়বে।

চকরিয়া উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল আলম বলেন, প্রকল্পের দুটি প্যাকেজে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে উভয় প্রান্তে কাজ চলছে। বন বিভাগ যে অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে, সেখানে এখনও নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি। তিনি বলেন, যেসব অংশে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, সেখানে বন বিভাগের জমি বা বনাঞ্চল নেই। রয়েছে বাজার, বসতি ও কৃষিজমি। তাই ওই অংশে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন হয়নি। এখন যে অংশ বন রয়েছে, সেই অংশের জন্য অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হাতির করিডোর চিহ্নিত করতে একটি সমীক্ষা চালায়। ‘অ্যাটলাস: এলিফ্যান্ট রুটস অ্যান্ড করিডোরস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সমীক্ষায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১২টি হাতির করিডোর চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে আটটি করিডোর রয়েছে কক্সবাজার অঞ্চলে। সেগুলোর অন্যতম হলো খুঁটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া করিডোর, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মধুশিয়া গর্জন বন।

এমপির ডিও লেটার
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনের বুক চিরে পাহাড়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে পথটি। মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে শুরু হয়ে রাস্তাটি গেছে কালারমারছড়ায়। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বনের এই রাস্তাটি পাকা করতে চায় এলজিইডি। জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে জেএম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু অংশে ঢালাইয়ের পাশাপাশি কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলছে।

তবে বন বিভাগ বলেছে, যে বনভূমির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি ১৯৫৭ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সরকারের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের ভেতর পাকা রাস্তা করার সুযোগ নেই। এতে বন এবং বন্যপ্রাণী উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে। তাদের দাবি, এটি নানা প্রজাতির গাছপালার পাশাপাশি হরিণ, বানর, অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এখানে বন বিভাগের বনায়ন কর্মসূচিও চলমান।

এদিকে মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণে অনাপত্তিপত্র চেয়ে বন অধিদপ্তরে ডিও লেটার দিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ। তিনি সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে ৩০টি সড়ক নির্মাণ করতে চান। গত ২০ মে দেওয়া ওই চিঠিতে এসব সড়ক বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ বলেন, মানুষের যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য রাস্তা প্রয়োজন। সড়ক না করলে মানুষ চলাচল করবে কীভাবে? দরপত্র হয়ে গেছে, কিন্তু বন বিভাগের কারণে কাজ আটকে আছে।

তবে বন বিভাগ তাঁর এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, সংরক্ষিত বনের মধ্যে পাকা রাস্তা নির্মাণ আইনবিরোধী এবং সরকারপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজের সুযোগ নেই।
মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, জনগণের প্রয়োজনেই সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের আপত্তির কারণে কাজ এগোতে পারছে না।

কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শেখ আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাঁটার পথ থাকলেও সংরক্ষিত বনের ভেতর পাকা রাস্তা করার সুযোগ নেই। পাকা রাস্তা হলে পাচারকারীরা বন উজাড় করে ফেলবে; দখল হয়ে যাবে বনভূমি। তিনি দাবি করেন, এলজিইডি রাস্তার কাজ বন্ধ না করলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মী রাসেল মাহফুজ বলেন, মধুশিয়া গর্জন বনটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। আইন অনুযায়ী, বনভূমিকে বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যায় না। দেশের সংবিধানেও বলা আছে, বর্তমান ও পরবর্তী সময়ে প্রজন্মের জন্য বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে সরকার। দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ ধরনের প্রকল্প থেকে সরে আসা উচিত।

আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন ২০২৬-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, বনবহির্ভূত কাজে কোনো প্রাকৃতিক বন ব্যবহার করা যাবে না। অন্য কোনো বিকল্প না থাকলে মন্ত্রিসভার সম্মতি ও সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে তা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকি বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। জাতীয় বননীতি ২০২৫-এ বনভূমিকে বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ২০০১ সালের জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিতেও বনভূমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদ
গত ১ জুলাই বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ (বেলা) কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়ে খুঁটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানায়। তাদের মতে, মধুশিয়া গর্জন বন শুধু হাতির করিডোর নয়; এটি বনশূকর, শিয়াল, বানর, বনমোরগ, নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপেরও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। পরিবেশবাদীর শঙ্কা, নতুন সড়ক চালু হলে বনাঞ্চলে মানুষের অবাধ যাতায়াত বাড়বে। ফলে বন উজাড়, অবৈধ দখল, বন্যপ্রাণী শিকার এবং কাঠ পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

বেলার প্রধান নির্বাহী ও সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রচলিত আইনে ওই দুটি বনে সড়ক করার সুযোগ নেই। সড়ক প্রকল্প দুটির না আছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি, না আছে বন বিভাগের অনুমতি। বন বিভাগ সুস্পষ্টভাবে আপত্তি তোলার পরও অন্য মন্ত্রণালয়গুলো বন বিভাগের কর্তৃত্ব মানছে না। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছে।

ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনতে তিন চিন্তা পাইপলাইন বরিশাল হয়ে ঢাকা অথবা খুলনা

ঢাকার শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভোলার গ্যাস এলএনজি করে সরবরাহ করার কথা ভাবছে সরকার। দীর্ঘ মেয়াদে পাইপলাইন করে বরিশাল হয়ে ঢাকা বা খুলনা অঞ্চলে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। এলএনজি ও পাইপলাইন পদ্ধতিতে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল)। মঙ্গলবার এক বৈঠকে জিটিসএলকে দায়িত্ব দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

দ্বীপজেলা ভোলায় রয়েছে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র। এর মধ্যে ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৯ কোটি ঘনফুট থাকলেও চাহিদা না থাকায় উত্তোলন করা হয় ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট। এখানে আরও ১৫টি কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে পেট্রোবাংলা। প্রস্তাবিত কূপগুলোর খনন শেষ হলে দৈনিক উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ কোটি ঘনফুট বাড়তে পারে। বর্তমানে ভোলায় গ্যাসের মজুত রয়েছে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এই মজুত আরও বাড়তে পারে। ফলে দেশের চলমান গ্যাস সংকটের সমাধান হিসেবে ভোলার গ্যাস কয়েক বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে। এই গ্যাস কীভাবে দেশের মূল গ্রিডে আনা হবে, তা নিয়েই চলছে টানাপোড়েন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমিত আকারে সিএনজিতে রূপান্তর করে ঢাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রচেষ্টা খুব বেশি এগোয়নি।

একদিকে এলএনজি আকারে গ্যাস পরিবহন, অন্যদিকে পাইপলাইনের দুটি রুট এখন আলোচনার টেবিলে। স্বল্প মেয়াদে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার বিষয় সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম।

পাইপলাইন নিয়ে দুটি মত রয়েছে। একটি বরিশাল হয়ে সরাসরি ঢাকার আমিন বাজারে আসবে। অন্যটি বরিশাল হয়ে খুলনা যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়। সে সময় বরিশাল থেকে খুলনার চেয়ে ঢাকার গ্যাস নেওয়ার বিষয়ে বেশি জোর ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজির পাশাপাশি ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে আনার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর খুলনার রুটটি ফের আলোচনায়। এখন খুলনা হয়ে যশোর পর্যন্ত পাইপলাইন নেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে। তবে শিল্প মালিকদের দাবি, সবচেয়ে তীব্র গ্যাস সংকট যেহেতু ঢাকা-গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে, তাই ভোলার গ্যাসের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিল্পাঞ্চলের জন্য।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, ভোলার গ্যাস এখন শুধু একটি জেলার সম্পদ নয়। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। স্বল্প মেয়াদে এলএনজি পরিবহন কিছুটা স্বস্তি দিতে পারলেও দীর্ঘ মেয়াদে পাইপলাইন, স্থানীয় শিল্পায়ন এবং নতুন অনুসন্ধান– এই তিনটি উদ্যোগকে সমন্বয় করেই এগোনো উচিত।
এ ব্যাপারে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী সমকালকে বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে কাজে লাগানো যায় তার নানা উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকে।

এলএনজি ও পাইপলাইনে গ্যাস আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প-কারখানার মাধ্যমে বাড়তি গ্যাসকে কাজে লাগানো যায় কিনা, পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কোনো আলোচনাই এখনও চূড়ান্ত নয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ভোলার গুরুত্ব
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২৬০-২৬৫ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও দিন দিন কমছে।

এক সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদনও দ্রুত কমছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিদিন ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, এখন তা ৮০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের গ্যাস সংকট এখন আর শুধু জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ ও অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। একদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে, অন্যদিকে এলএনজি আমদানিও চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো যাচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা থাকায় গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস একটি বড় সমাধান হতে পারে।

১৯৯৫ সালে বাপেক্স ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে এবং ২০০৯ সালে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। পরবর্তীকালে ভোলা নর্থ ও ইলিশা নামে আরও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।

সাম্প্রতিক থ্রিডি সিসমিক জরিপে শাহবাজপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২ দশমিক ৪২৩ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চরফ্যাসন এলাকায় টুডি জরিপে আরও ২ দশমিক ৬৮৬ টিসিএফ গ্যাসের সম্ভাবনার তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন মূল্যায়নে ভোলার সম্ভাব্য মজুত পাঁচ থেকে আট টিসিএফ পর্যন্ত হতে পারে।

ব্যর্থ সিএনজি, ব্যয়বহুল এলএনজি
আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকোকে সিএনজি আকারে ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনার অনুমতি দেয়। প্রথমে দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট এবং পরে আড়াই কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। বাস্তবে দিনে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ৯ লাখ ঘনফুট গ্যাস পরিবহন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ আরও কমেছে। অতিরিক্ত ব্যয়, পরিবহন জটিলতা ও সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রকল্পটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

এই অবস্থায় সরকার নতুন পথ খোঁজে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তর করে জাহাজে মূল ভূখণ্ডে আনা হবে। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত বছর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। এফবিসিসিআই, বিজেএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বৈঠকের পর মতামতের জন্য ১৬০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় পেট্রোবাংলা। তবে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। অল্প কয়েক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে।  তারা প্রতি ঘনমিটার ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছে। তবে গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এলএনজি করে ভোলার গ্যাস সরবরাহ করতে প্রতি ঘনমিটারের দাম ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা প্রস্তাব করে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, এত বেশি দামে গ্যাস কিনে প্রতিযোগিতামূলক শিল্প চালানো কঠিন হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার বিষয়ে ৯টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়। এখান থেকে গ্যাজপ্রম, সিসিডিসি, সিএমসিসহ ৪টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, ঢাকা-গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের তীব্র গ্যাস সংকটের স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে এলএনজির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পাইপলাইনের বিষয়ে কথা হয়েছে।

বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, বিদ্যমান শিল্পের জন্য পাইপলাইনের গ্যাস প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা। তবে নতুন শিল্প ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই দাম ৪০ টাকা। আর ভোলা থেকে সিএনজি করে আনা গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা।

পাইপলাইনের রুট 
দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল-খুলনা বা ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ঢাকা-বরিশাল অংশের পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই আওয়ামী লীগের আমলেই সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তী সময়ে বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারও ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন বিষয়ে আগ্রহী ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম ধাপে ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। এই গ্যাস যাবে খুলনার রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রে। যশোর, খুলনা ও বরিশালে আবাসিকে গ্যাস দেওয়া হবে। রূপসা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ যাবে সিরাজগঞ্জে। তখন সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রর গ্যাস এলেঙ্গা হয়ে চন্দ্রা, আশুলিয়ায় দেওয়া হবে। এরপর গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকলে বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা হবে।

ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্যাস আনতে ২০২৩ সালে আনুমানিক এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের প্রস্তাব করেছিল জিটিসিএল। ঢাকার আমিনবাজার পর্যন্ত এই পাইপলাইনের মোট দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার । বরিশাল-ঢাকা অংশের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’ এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত গ্যাস নিতে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে।
শিল্প মালিকদের মতে ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলে গ্যাসের সংকট বেশি। তাই ভোলার গ্যাস এ অঞ্চলের জন্য বেশি প্রয়োজন। তার বলেন, খুলনায় শুধু ৮০০ মেগাওয়াটের রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া বড় কোনো শিল্প এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। তাই ঢাকার অগ্রাধিকার বেশি হওয়া উচিত।

স্থানীয় উন্নয়ন 
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভোলার গ্যাস আগে স্থানীয় উন্নয়নেই ব্যবহার করা উচিত। সরকারি অর্থায়নে সার কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং বিসিক শিল্পনগরী, শিল্পাঞ্চল ও ইপিজেড গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেলটেক সিরামিক কারখানা চালু করেছে এবং প্রাণ-আরএফএল বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতে, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাস পরিবহনের বদলে ভোলাতেই সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিরামিক, কাচ, রাসায়নিক ও গ্যাসভিত্তিক ভারী শিল্প গড়ে তোলা হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন শিল্পবিপ্লব ঘটতে পারে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে ।

ঋণ পুনঃতপশিলে ঘুরেফিরে চিহ্নিত কয়েকটি কোম্পানি

টাকা ফেরত না দিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ পেয়ে আসছেন শীর্ষ খেলাপিরা। বিশেষ সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ীরাই ঘুরেফিরে পুনঃতপশিলের জন্য হাজির হচ্ছেন। একের পর এক সুবিধা নেওয়ার কিছুদিন পর তারা আবার খেলাপি হচ্ছেন। প্রকৃত আদায় ছাড়া ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত দেখিয়ে আসা ব্যাংক খাত এভাবে পুনঃতপশিলের ফাঁদে পড়েছে। এতে খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বের শীর্ষস্থান পেয়েছে।

কখনও বৈশ্বিক খারাপ অবস্থা, কখনও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই খেলাপিদের জন্য উপায় বের করে দিচ্ছে। সুবিধা দিয়ে খেলপি ঋণ কমানোর নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের বেশির ভাগের মতে, খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধানে নীতি শিথিলতার সিদ্ধান্ত কাজ দিচ্ছে না। এ ধরনের নীতির বারবার অপব্যবহার হয়েছে।

অধিকাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই। খেলাপি অনেকেই ব্যাংকের টাকায় বিলাসী জীবন, বিদেশে পাচারসহ নানা অনিয়ম করছেন। এর বিপরীতে দেশে এমন অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন, যারা খেলাপি হননি। তাই ঋণখেলাপিদের বারবার সুবিধা দিতে থাকলে ভালো ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণে বিশ্বে এখন শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত মার্চ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৩ সালভিত্তিক খেলাপি ঋণের দেশওয়ারি তথ্য রয়েছে। ওই সময় ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ১৪ নম্বরে ছিল বাংলাদেশের নাম। তখন খেলাপি ঋণে শীর্ষে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইউক্রেনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক কমে ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির খেলাপি নেমেছে ২৭ শতাংশে।

২০২৩ সালে ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শাদ। আর আফ্রিকান দেশ গিনি ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ছিল তৃতীয় অবস্থানে। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে গিনির খেলাপি ঋণ নেমেছে ৩০ শতাংশে।

কারা সুবিধা পায়
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতপশিলসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে ১২ শতাধিক আবেদন এসেছে। এর বিপরীতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের পুনঃতপশিল চাওয়া হয়েছে। বিশেষ সুবিধার জন্য গত বছর ঋণ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের ১২ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সাড়া দেয়নি। ২৬ ব্যাংক ও দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বেক্সিমকোর ছয় হাজার ৯১৯ কোটি টাকার পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন এসেছে। বেক্সিমকোর ঋণ পুনঃতপশিল না হলেও তাদের মালিকানাধীন খেলাপি প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকের এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বারবার বিশেষ সুবিধা নেওয়া আব্দুল মোনেম গ্রুপ এ দফায় দুই হাজার ৫১১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে। এই গ্রুপের মালিকানার আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি মিলের খেলাপি ঋণ থাকা অবস্থায় একইভাবে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতে বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপের ৯ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার ঋণ বিশেষ সুবিধায় পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নাবিল গ্রুপ ৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করতে চেয়েছে। ১২ ব্যাংকে এসএ অয়েল রিফাইনারির এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকা পুনঃতপশিলের আবেদন এসেছে। আব্দুল কাদির মোল্লার মালিকানাধীন থার্মেক্স গ্রুপ চেয়েছে এক হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। সাদ মুসা গ্রুপ চেয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে এক খাতের ঋণ নিয়ে আরেক খাতে ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে। মাগুরা গ্রুপ ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার বিশেষ সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

আনন্দ শিপইয়ার্ড চেয়েছে এক হাজার ৫৬ কোটি টাকার পুনঃতপশিল। এক হাসপাতালের নামে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আলোচিত আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালও চেয়েছে বিশেষ সুবিধা। দেশবন্ধু সুগার মিল, জেএমআই গ্রুপ, সানম্যান গ্রুপ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, সাইফ পাওয়ারটেক, রাইসিং স্টিল, অটোবি গ্রুপ, রানকা টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ৩৬টি ব্যাংকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করতে বলা হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনের পর আবার বড় ঋণগ্রহীতাদের অভিনব সুবিধা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক খাতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে– এ রকম গ্রাহকের সুদহার কমানো, এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন করে আর কখনও পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য আসবে না– এই শর্তে ১১ গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা নিয়মিত করে ব্যাংকগুলো।

পরে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই শেষে বেক্সিমকো, আব্দুল মোনেম, সিকদার, অ্যাননটেক্স, কেয়া গ্রুপ, থার্মেক্স, যমুনা গ্রুপ, রাইজিং স্টিল মিলস, এসএ অয়েল রিফাইনারি, রতনপুর ও এমআর গ্রুপের বিআর স্পিনিং মিলস বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা নেয়। এ গ্রুপগুলোর মধ্যে যমুনা ছাড়া অন্য সবাই এখন খেলাপি।

এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন সুবিধা চেয়ে আবেদন করে তিন গ্রুপ। এর মধ্যে ৯২৮ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে চট্টগ্রামের এসএ গ্রুপ, ৮১২ কোটি টাকা রতনপুর গ্রুপ এবং ৫৭২ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে বিআর স্পিনিং মিল। বেক্সিমকো গ্রুপ ওই সময়ে পাঁচ হাজার ৬৪৩ কোটি পুনর্গঠন করে। সুদসহ বছর শেষে তাদের স্থিতি দাঁড়ায় ছয় হাজার ১৫১ কোটি টাকায়।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার ‘এককালীন এক্সিট ও বিশেষ পুনঃতপশিল’ নীতিমালা জারি হয়। সেখানে বলা হয়, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। আগের সুবিধা নেওয়া গ্রুপগুলো এ দফায়ও ঋণ পুনর্গঠন করে। ফলে আগের সব রেকর্ড ভেঙে এ সুবিধার আওতায় পুনঃতপশিল হয় ৫২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা।
২০১৯ সালেই আবার খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো মেয়াদি ঋণ অনাদায়ী থাকার ছয় মাস পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাব করতে বলা হয়। এভাবে চলার পর ২০২০ সালে এক টাকাও পরিশোধ না করে খেলাপিমুক্ত দেখাতে সার্কুলার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধের কথা, তার ১৫ শতাংশ দিলেই আর খেলাপি হয়নি।

২০২৩ সালে বিশেষ সুবিধায় সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না। প্রতিবার সুবিধা পাওয়াদের তালিকায় ঘুরেফিরে একই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম দেখা যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সময়ে একের পর এক বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারও খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ নীতি-সহায়তা দেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন করে গত ২৯ জুনের এক নির্দেশনার মাধ্যমে এক্সিট নীতিমালার আওতায় কোনো ঋণখেলাপি এককালীন সমুদয় পাওনা পরিশোধ করলে আয় খাতে নেওয়া সুদ কিংবা তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বেশি মওকুফের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, বারবার পুনঃতপশিল করা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসার চেয়ে পুনঃতপশিল ব্যবসা অনেক লাভজনক। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে তারা দেশে বা বিদেশে কোনো না কোনো সম্পদ কিনেছে। নিয়মিতভাবে ওই সম্পদের দর বেড়েছে। অথচ বছরের পর বছর সুদ মওকুফসহ নানা সুবিধা নিয়ে আসছে। অনেক চাপে পড়লে এক পর্যায়ে হয়তো দেখা যাবে, এক্সিটের নামে আসল পরিশোধ করে বেরিয়ে যাবে। এরপরও ব্যবসা করে যে আয় করা যায়, তার চেয়ে সম্পদ বিক্রি করলে বেশি মুনাফা থাকবে।

আরফান আলী বলেন, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান করতে হলে খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, সরকারি কোনো সুবিধা না দেওয়া এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাতে ভালো ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।

যত টাকা পুনঃতপশিল 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে বিশেষ সুবিধায় মোট ছয় লাখ ১১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার পুনঃতপশিল করা হয় ২০২৫ সালে। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না।

আইএমএফের পদ্ধতির আলোকে এসব ঋণ ডিসট্রেস অ্যাসেট বা দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়। উচ্চ খেলাপির কারণে গত বছর ২২টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৫ সালে দেশীয় মালিকানার ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক লোকসান করেছে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে। ঋণের টাকা আদায় করতে না পারলেও আমানতকারীকে নিয়মিত সুদসহ টাকা ফেরত দিতে হয়। আবার আয় খাতে নেওয়া সুদের ওপর সরকারকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ কর পরিশোধ করা হয়েছে। এখন সেই সুদ মওকুফ করা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। অথচ ইতোমধ্যে সুদ পরিশোধ করেছেন, এ রকম গ্রাহকও এখন রাজনৈতিক পরিচয়ে এ সুবিধার জন্য আসছেন। এভাবে চললে ব্যাংক খাত টিকবে কীভাবে– প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতিমালা করে থাকে। এখন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক দেখবে, ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করছে না। সে আলোকে ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ব্যাংক যখন দেখবে ঋণ পরিশোধ না করে প্রাডো নিয়ে চলেন; ঠান্ডা লাগলেও চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড-ব্যাংকক যান– এ রকম খেলাপির জন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

মেসির সারা

০

ফিরিয়ে দেওয়া সোনালি ট্রফিটার পাশ দিয়ে যখন তিনি হেঁটে যাচ্ছেন, অবয়বে অদ্ভুত এক নির্লিপ্ততা; যেন বিশ্বজয়ের ওই প্রগাঢ় আলোকবৃত্তও তাঁকে আর স্পর্শ করতে পারছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে যখন মেডেলটা গলায় পরছেন, তখনও ঠোঁটের কোণে ধরে রেখেছেন এক যান্ত্রিক, অতিমানবিক স্বাভাবিকতা। কিন্তু নিয়তি বোধহয় তাঁর জন্য অন্য এক নাটকের চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল। যখনই গ্যালারির ওই অতলান্ত নীল-সাদার মহাসমুদ্র থেকে হাজারো কণ্ঠের ‘মেসি, মেসি’ গর্জন আছড়ে পড়ল, ঠিক তখনই অলক্ষ্যে কোনো এক অদৃশ্য বাঁধ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ভেতরে এতক্ষণ ধরে জমিয়ে রাখা আবেগের অতলান্ত পুকুরটা যেন নিমেষেই উথলে উঠল চোখের কোণে। বেয়ে নামল এক নিস্তব্ধ ভাঙনের শ্রাবণ। এ কোনো সাধারণ কান্না নয়, এ যেন এক জমে থাকা অভিমানের একলা মেঘমল্লার। নিথর, স্তব্ধ হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন প্রায় ১০টি মিনিট।

অপলক চেয়ে রইলেন সেই গ্যালারির দিকে, যেখানে তাঁর জীবনের শেষ বিশ্বকাপের শেষ ধুলোবালি উড়ছে। কোনো হুংকার নেই, কোনো নাটকীয়তা নেই; শুধু নির্বাক, অপলক চোখে তাকিয়ে রইলেন ওই গ্যালারির দিকে। তখনও মাঠের এক পাশে ট্রফি বিতরণ চলছিল, লাউড স্পিকারে বারবার স্প্যানিশ ফুটবলারদের নাম শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন বোধ ছিল না তাঁর। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থির হয়ে সেই আর্জেন্টিনার গ্যালারির সামনে। তাঁর পাশে এরপর এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর দলের সবাই। কোনো কথা নেই, হাত নাড়ানো নেই, শুধু মাথা তুলে গ্যালারির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা। ওই ১০টি মিনিট আসলে নিছক কোনো সময় ছিল না, ওটা ছিল নিজের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের বালুচরে দাঁড়িয়ে ফেলে আসা দুই দশকের অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের পাতা ওল্টানো। ফুটবল দুনিয়ার অলিখিত ব্যাকরণ বলে, মহাতারকাদের নাকি কাঁদতে নেই, তাদের আবেগের প্রকাশ হতে হয় ইস্পাতকঠিন। নিয়মের নিগড় ভেঙে আজ মনে হলো, ঈশ্বরের বরপুত্রও দিন শেষে রক্ত-মাংসের এক নশ্বর মানুষ।

ম্যাচের পর দর্শকদের সঙ্গে হৃদয় ভাঙার ব্যথাটা শেয়ার করে আর মিডিয়ার সামনে আসেননি মেসি। তাঁর দলেরও কেউ না। নিয়ম থাকায় শুধু এসেছিলেন তাদের কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনিও শেষ করতে পারেননি সংবাদ সম্মেলন। এটাই মেসির শেষ ম্যাচ ছিল কিনা? প্রশ্নটি করেছিলেন বুয়েন্স আয়ার্সের এক সাংবাদিক। উত্তর দিতে গিয়ে স্কালোনি শুধু বলেছেন, ‘তিনি এই ব্যাপারে কথা বলেননি মেসির সঙ্গে। ওর এখন ৩৯ বছর বয়স, এটা সত্যিই ভাবা যায় না, অকল্পনীয়। এই বিশ্বকাপে ও যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। আশা করি, সবাই তাঁর অর্জনের জন্য তাঁকে নিয়ে গর্বিত হবে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। এটা নিয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।’ আগামী বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। অঙ্কটা মেলানো সত্যিই কঠিন। রোনালদো ফিটনেস ধরে রেখে এবার একচল্লিশে খেলেছেন।

অফিসিয়াল ঘোষণা না দিলেও নিজের একটি ইচ্ছার কথা তিনি বিশ্বকাপের আগে এক সাক্ষাৎকারেই বলেছিলেন। তাহলো আর্জেন্টিনার কোনো ঘরের মাঠ থেকে তিনি বিদায় নিতে চান প্রিয় গ্যালারির কাছ থেকে। তবে স্কালোনি জানুক আর না জানুক এটা অন্তত সবাই জেনে গেছে যে আর্জেন্টিনার একটা ‘সোনালি অধ্যায়’ এবং সোনালি প্রজন্মের বিদায় হয়ে গেল স্পেনের কাছে এই ফাইনাল হেরে। নিউ জার্সির মিডিয়া সেন্টারে বসা অনেক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক বলাবলি করছিলেন স্কালোনি-মেসি জুটির সমাপ্তি দেখে নিয়েছে সবাই। আর যাই হোক স্কালোনিকে কোচ হিসেবে আর রাখা হচ্ছে না। ২০১৮ সালে স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই মানিকজোড় আলবিসেলেস্তেদের দীর্ঘ ট্রফিখরা কাটিয়ে মোট চারটি প্রধান আন্তর্জাতিক শিরোপা উপহার দিয়েছেন; যার মধ্যে রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ সালের ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ইউরোপ-আমেরিকা শ্রেষ্ঠত্বের ফিনালিসিমা এবং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কাতার ২০২২-এর ফিফা বিশ্বকাপ।

এর আগেও মারাকানার ঐতিহাসিক মাঠে যখন বিষাদের সুর বেজেছিল, তখন অঝোরে কেঁদেছিলেন মেসি; নিউ জার্সির এই স্টেডিয়ামেও এর আগে ঝরেছে তাঁর চোখের জল–তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের এই কান্নাটি ছিল একেবারেই নিস্তব্ধ, এক অদ্ভুত পাথরচাপা নীরবতায় ঘেরা। ৩৯ বছর বয়সে এসেও টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি যেভাবে একাই ৮টি গোল করলেন ও ৪টি অ্যাসিস্ট সাজালেন, খাদের কিনারা থেকে দলকে মহাবীরের মতো কামব্যাক করালেন এবং এক অতন্দ্রপ্রহরীর মতো নেতৃত্ব দিলেন; তাতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কারটি নিঃসন্দেহে তাঁরই প্রাপ্য ছিল। চিরকাল একদল সমালোচক মুখিয়ে থাকে এটা বলার জন্য যে ফিফা নাকি সবসময় মেসিকে বাড়তি সুবিধা দেয় বা নিজেদের দিকে টানে। কিন্তু ট্র্যাজিক ফাইনালের পর পুরস্কার মঞ্চে সবাই দেখল, বিশ্বমঞ্চে বীরোচিত লড়াইয়ের পরও সেই মেসিই কীভাবে সবচেয়ে বড় উপেক্ষার শিকার হলেন, যখন তাঁর হাত ফসকে স্পেনের রদ্রির কাছে চলে গেল শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান। এই অবিচার দেখে ক্ষুব্ধ ফুটবল আইকন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ স্পষ্ট ভাষায় ফিফার দ্বিমুখী নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, ‘গোল্ডেন বল জিততে মেসিকে আর ঠিক কী করতে হতো? আমি তো এদের বিচারবুদ্ধির কোনো ব্যবচ্ছেদই খুঁজে পাই না! ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ না জিতেও লুকা মড্রিচ যদি টুর্নামেন্টসেরা হতে পারে, তবে এবার কোন নিয়মে মেসির মাপকাঠি বদলে গেল?’ ইব্রার এই বিস্ফোরক মন্তব্যই প্রমাণ করে, নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় ট্রফি ভাঙলেও এই জাদুকরের শ্রেষ্ঠত্ব আর ফুটবলীয় আত্মত্যাগ খোদ ফুটবল-বিধাতার চেয়েও অনেক বেশি মহিমান্বিত।

হাঁটু- কনুইয়ের কালচে ,খসখসে ভাব দূর করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে

খাবারে স্বাদ বাড়াতে পাতে লেবু খাওয়া হয় প্রায় প্রতিদিনই। এছাড়া চা, শরবত ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর জুড়ি নেই। বেশিরভাগ সময়ই রস বের করে লেবু খোসা ফেলে দেওয়া হয়। অনেকের হয়তো জানা নেই, ত্বক চর্চার এক দুর্দান্ত প্রাকৃতিক উপাদান লেবুর খোসা। যারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও হাঁটু, কনুই কিংবা পায়ের  কালচে দাগ উঠাতে পারছেন না তারা ভরসা করতে পারেন এই উপাদানের উপর।

লেবুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এসব উপাদান ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এবং ম্লান হয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফেরাতে অত্যন্ত সাহায্য করে। হাত-পায়ের খসখসে ভাব কাটাতে নিয়মিত রূপচর্চার অংশ করতে পারেন লেবুর খোসা। তবে মুখে ব্যবহারের আগে অবশ্যই ‘প্যাচ টেস্ট’করে নেওয়া জরুরি।

কীভাবে বানাবেন ঘরোয়া স্ক্রাব?

রস বের করে নেওয়া লেবুর খোসা ১টি, চিনি ১ চা চামচ, বেকিং সোডা ১ চিমটে

তৈরির নিয়ম:

লেবুর উল্টানো খোসার ভেতরের অংশে চিনি ও সামান্য বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিন। তৈরি হয়ে যাবে প্রাকৃতিক স্ক্রাব।

ব্যবহারের পদ্ধতি

কনুই, হাঁটু বা পায়ের যে যে অংশে কালচে দাগ বা ময়লা জমে রয়েছে, সেখানে লেবুর খোসাটি দিয়ে হালকা হাতে ১ থেকে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। মিশ্রণটি ত্বকে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। নির্দিষ্ট সময় পর পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এই পদ্ধতি মেনে চললেই ধীরে ধীরে পার্থক্য চোখে পড়বে।