Home Blog Page 85

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে

ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দখল, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সুশাসনের অভাব এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করেছে। এসব কারণে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা আস্থার প্রতীক থেকে এখন বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের যে সংকট চলছে, তার সমাধান না হলে অর্থনীতির ধস ঠেকানোর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়: প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং খাত: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শিরোনামের এক সেমিনারে গতকাল শনিবার এমন মত দিয়েছেন বিশিষ্ট জন। তারা জাতীয় অর্থনীতির বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যাংক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারা বাতিলের সুপারিশ করেছেন তারা। এই ধারায় একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার, যাদের কারণে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল, তাদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে সংগঠনের ব্যানারে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। আরও বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি ফারুক মঈনউদ্দীন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যারা ব্যাংক খাতে সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের ফেরত আনতে আইনে নতুন ধারা কেন? ব্যাংক রেজল্যুশন আইনটির পুনর্বিবেচনা করতে সরকারকে অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমানতকারীসহ সব ধরনের গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তার সংস্থান করতে হবে। অনেক আমানতকারী ব্যাংক থেকে তাদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। এর সমাধান দরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নৈতিকতার মানদণ্ডে দাঁড়াতে পারছে কিনা, তাও দেখতে হবে। সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত জরুরি।
হোসেন জিল্লুর বলেন, অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে কয়েকটি বিষয়ে সবাই একমত। এগুলো হচ্ছে– অর্থনীতিতে বিপর্যয় হয়েছে এবং কলুষিত নীতি প্রক্রিয়া অর্থনীতির সংকট ত্বরান্বিত করেছে, যা এখনও চলছে। আমানতকারীরা নীরবে দুঃখকষ্ট ভোগ করছেন। অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় আছে। বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে। দেশের বড় পরিবর্তন সংকট সমাধানের সুযোগ হিসেবে এসেছে। সব সংকটের টেকসই সমাধান প্রয়োজন।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। এ খাতে লুট হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে। ব্যাংক দখল নিয়ে যেসব খবর বেরোচ্ছে, তা দিয়ে থ্রিলার সিনেমা হতে পারে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি দখল করা ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্যাংকটি থেকে টাকা তোলার লাইন পড়েছে। তিনিও ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের নতুন ধারা বাতিল করার দাবি জানান।
ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। ব্যাংক খাতে বিগত দিনে যে লুটপাট হয়েছে, তা মন্দ ঋণ হিসেবে মূল ব্যালান্সশিট থেকে আলাদা হিসাব অর্থাৎ ঋণ অবলোপনের পরামর্শ দেন তিনি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষি ভালো করলেও শিল্পে ছিল স্থবিরতা

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কৃষি খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হলেও উৎপাদন বা শিল্প খাতে স্থবিরতা বজায় ছিল। তবে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল মধ্যম পর্যায়ের। সার্বিকভাবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষে আলোচ্য প্রান্তিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার ধাপে প্রবেশের আভাস মিলেছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) অর্থনৈতিক সূচক ‘ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্স’ (ইপিআই) থেকে এমন তথ্য দিয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে এ সূচক প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

ঢাকা জেলার ৭৬২টি প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে ঢাকা চেম্বার বলেছে, ইপিআই সূচকে কৃষি খাত পেয়েছে শূন্য দশমিক ৮০, উৎপাদন খাত শূন্য দশমিক ৩৩ এবং সেবা খাত শূন্য দশমিক ৪৭। সার্বিক ইপিআই মান দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৫০, যা ‘মডারেট’ বা মধ্যম মান নির্দেশ করে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোনো প্রতিষ্ঠান ভালো করলে তার মান ‘এক’ এবং স্থিতিশীল বা খারাপ করলে ‘শূন্য’ ধরে সূচকটি গণনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বা ব্যবসায় কতটা ভালো বা খারাপ করেছে, তা এ সূচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
ডিসিসিআই বলেছে, আলোচ্য সময়ে বেসরকারি খাতে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। সেবা খাতের অবস্থা ‘মডারেট’ বা মধ্যম পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের প্রকৃত স্বাস্থ্য এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি।

বেসরকারি খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে ঢাকা চেম্বার ঢাকাকেন্দ্রিক ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা নিয়ে একটি ত্রৈমাসিক নতুন সূচক ইপিআই চালু করেছে। তবে আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আরও বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ‘রিয়েল-টাইম’ বা তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে সূচক গণনার ওপর জোর দেন।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, এ সূচক একটি উচ্চমাত্রার ডেটা প্রাক্কলন, যা অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বুঝতে সহায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, সূচকটি বর্তমানে কিছুটা ‘ঢাকাকেন্দ্রিক’ মনে হচ্ছে, তবুও সামগ্রিক ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আইএফসির সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিয়া রহমত আলী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভোক্তানির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু উৎপাদনশীল খাতের স্থবিরতা কাটানো জরুরি। তিনি এসএমই খাতের অর্থায়নের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং তৈরি পোশাক খাতকে পরিবেশবান্ধব ও কমপ্লায়েন্ট করার জন্য সরকারি সহায়তার ওপর জোর দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক গতি ছিল। ২০২২ সালের পর থেকে এতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। ২০২২ সালে দেশের চলতি হিসাবের বিশাল ঘাটতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে তিন-চার বছর ধরে অর্থনীতি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা একটি জটিল অর্থনৈতিক সময় পার করছি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, জিডিপি পরিসংখ্যান আসতে দেরি হওয়ার কারণে অনেক সময় সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তিনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বিগ ডেটা ব্যবহার করে জিডিপির ত্রৈমাসিক প্রক্ষেপণ করার পরামর্শ দেন।

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কারের আহ্বান টিআইবির শাহ আলীর মাজারে হামলা

রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনা দেশের স্বাধীনতা এবং জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভীষ্টের পরিপন্থি। এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার অধিকার ও সহাবস্থান বিষয়ে জামায়াতসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ রক্তস্নাত জুলাই আন্দোলনের ফলে কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের পরিপন্থি শক্তির উত্থান ও দেশব্যাপী বহুমত, বহুধর্মী, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। বরং সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়িয়ে আবহমান বাঙালির উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার ক্ষেত্র ও মাধ‍্যমসমূহ ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার সুদূরপ্রসারী ছকের অংশ, যা মুক্তচিন্তা ও সহিষ্ণু আচরণের ধারক ও বাহক তথা দেশবাসীর জন্য অশনিসংকেত।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভীষ্টের ধারক শক্তি হিসেবে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার। এ আমলে বহুসংস্কৃতি ও বহুধর্মী বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রত‍্যাশার পাশাপাশি এদেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক, আধ‍্যাত্মিক, সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান পরিপন্থি এ ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা প্রতিরোধের দায়িত্ব সরকারের। আমরা শাহ আলীর মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ড. জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শুধু প্রত্যাখ‍্যান যথেষ্ট নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার পাশাপাশি এদেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক, আধ‍্যাত্মিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থানের যে গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি রয়েছে, এ ব্যাপারে তাদের ও ধর্মভিত্তিক অন‍্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানাই।’

সিলেট লোকসানের শঙ্কা, চামড়া কেনা নিয়ে দোটানায় ব্যবসায়ীরা কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করবে না

কোরবানির পশুর চামড়া কওমি মাদ্রাসারগুলো সংগ্রহ না করার ঘোষণা, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় না হওয়া এবং চামড়ার দাম ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় সিলেটের ব্যবসায়ীরা এবার চামড়া কিনবেন কিনা– দোনামোনায় আছেন। এ ব্যাপারে শিগগির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

সিলেটের শাহজালাল বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যবসায়ীরা গত বছর দুই কোটি ১০ লাখ টাকার চামড়া বিক্রি করেন।
সমিতির আওতাধীন ৫৫-৬০ ব্যবসায়ী আছেন। এ ছাড়া খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন শখানেক। এর বাইরে রয়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা।
এই সমিতির আওতাধীন ব্যবসায়ীরা অতীতে প্রতিবছর ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ করেন কওমি মাদ্রাসা থেকে। মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার নামে চামড়া সংগ্রহ করতেন।

কিন্তু গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এবার চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দেন সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান। তিনি বিগত দুই সরকারের ‘ষড়যন্ত্র ও অকার্যকর সিদ্ধান্ত’ এবং বর্তমান সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন। পরের দিন সুনামগঞ্জের মাদ্রাসাগুলোও একই ঘোষণা দেয়।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. আবু জাফর মো. ফেরদৌস জানিয়েছেন, গত বছর সিলেট বিভাগে তিন লাখের বেশি এবং সিলেট জেলায় প্রায় দেড় লাখ পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৭২ হাজার ১৭৪টি।

কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দেওয়ায়, এবার এত বিপুলসংখ্যক পশুর চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে কারা সরবরাহ করবেন– এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠছে।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির কিছুটা সময় চেয়েছেন। তিনি গত শুক্রবার সিলেটের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, চামড়া খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এ খাতকে শক্তিশালী করতে কাজ চলছে।

তবে এতে আস্থা রাখতে পারছেন না সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা। মাদ্রাসাগুলোর ঘোষণা ও সিন্ডিকেটের কারণে এবার চামড়া ব্যবসায় লোকসান গোনার আশঙ্কার প্রসঙ্গ টেনে শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া বলেছেন, ‘লোক দেখানো উদ্যোগে ভরসা পাচ্ছি না। সরকার বদলায় কিন্তু চামড়ার সিন্ডেকেট বদলায় না।’ তিনি মনে করেন, কওমি মাদ্রাসারগুলোর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া টাকা না পাওয়া এবং বাজারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করার প্রেক্ষাপটে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম। এমনিতেই এই শিল্প ধুঁকছে। এখন সিংহভাগ জোগানদাতা মাদ্রাসাগুলোর ঘোষণা, ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে ফেলছে।

শাহজালাল বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ শামিম আহমদ জানিয়েছেন, শুধু সিলেট নয়, সারাদেশের ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা পাবেন। তাদের ট্যানারি মালিকদের কাছে সমিতির ৬০  ব্যবসায়ীর তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে। অনেক দেনদরদার করে কয়েক বছরে সামান্য করে টাকা পেয়েছেন অনেকে। চামড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতসহ সব খরচ মিলিয়ে যখন লাভের মুখ দেখেন না, তখন কেউ দেউলিয়া হন, কেউবা ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। একসময় এই সমিতির আওতাধীন অন্তত ৩০০ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং খুচরা ব্যবসায় ছিলেন হাজারখানেক। ইতোমধ্যে ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন ৮০ ভাগ।

সমিতির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান বলেন, এই সমিতির ব্যবসায়ীরা অন্তত ৭০ হাজার চামড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। গড়ে ৪০০ টাকা করে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকার চামড়া বিক্রি হয়। তবে এবার পরিস্থি অন্য রকম আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার চামড়া সংগ্রহ এবং ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা আদায়সহ নানা বিষয়ে শিগগির আমরা বৈঠকে বসব। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সমিতির ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করবেন কিনা।’

এদিকে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চামড়া পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় টহল বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে বিছনাকান্দি, উৎমা, সোনারহাট, কালাইরাগ ও সুতারকান্দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দেবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ী ও কওমি মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে দুয়েক দিনের মধ্যে আমরা বসব। সরকারের পক্ষ থেকে এবার লবণসহ বিভিন্ন সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা যেন ভালো মূল্যে তা বিক্রি করতে পারেন। সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় স্ত্রী-কন্যাসহ হামাসের সামরিক শাখাপ্রধান নিহত

গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান এজেদ্দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। পরে হামাসও এক বিবৃতিতে তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। হামলায় ইজ্জ আল-দিনের স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী মেয়েও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, শুক্রবার গাজা নগরীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে এই শীর্ষ হামাস নেতাকে হত্যা করা হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল ও হামাস। তবে সেই সমঝোতার মধ্যেও গাজায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

শুক্রবার ছিল ফিলিস্তিনিদের ‘নাকবা দিবস’-এর ৭৮তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনার স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। এদিনই হামাসের সামরিক শাখার এই শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হলো।

হামাসের বিবৃতিতে ইজ্জ আল-দিনকে সংগঠনের সামরিক অভিযানের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতার জানাজা শনিবার গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-আকসা শহীদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের অন্তত দুটি হামলায় সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলা চালিয়ে ইজ্জ আল-দিন ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন হাম মোকাবিলায় ব্যর্থতা স্পষ্ট আরও দুই শিশুর মৃত্যু

হামে শিশুমৃত্যু বাড়তে থাকায় আগের অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। তাদের অভিযোগ, সময়মতো স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করা, টিকার ঘাটতি, দুর্বল নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে গাফিলতির কারণেই শত শত শিশুর প্রাণ ঝরছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ আয়োজিত ‘হামে শিশুমৃত্যু: জনস্বাস্থ্য সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। তাদের ভাষ্য, চার শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সরকার দায় এড়াতে পারে না।

এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৩। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭৪ জন, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৭৯ জন।

সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএইচ ফারুকী বলেন, হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট। গাফিলতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ভারপ্রাপ্ত) স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, টিকা কেনায় জটিলতা, রোগ নজরদারি প্রতিবেদনে দেরি, জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন না হওয়া বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।

ডা. ফারুকী আরও বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগামী বাজেট থেকেই স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, মৃত্যুহার কমাতে হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি হাই-ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ এবং আক্রান্তদের দ্রুত প্রতিরোধ জরুরি।

আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যখন কোনো সংক্রামক রোগকে জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়, তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে বাংলাদেশে সেই ঘোষণা না আসায় আক্রান্ত শিশুরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, সরকারি খরচে চিকিৎসা, সব সরকারি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু এবং পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতসহ ১৫ দফা দাবি জানানো হয়।

ময়মনসিংহে ৭৭ শতাংশেরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি
হামে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে যত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এর প্রায় ৭৭ শতাংশেরই বয়স ছিল ৯ মাসের নিচে। অর্থাৎ তারা সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার আগেই সংক্রমণের শিকার হয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ৩১ শিশুর মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল শূন্য থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে। এ ছাড়া ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সী চার শিশু এবং ১৫ মাসের বেশি বয়সী আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজনের বয়সের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, এই সময়ে আইসিইউ খুব জরুরি ছিল। সেটি থাকলে হয়তো এত শিশুর মৃত্যু হতো না।

পিবিআইর তদন্ত ২৩ শতাংশ হত্যা মামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি

দেশে খুনের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়েরের মতো ঘটনা ঘটছে। কাউকে হয়রানি বা সামাজিকভাবে হেয় করা, অর্থ আদায়, রাজনৈতিক বিরোধ ও শত্রুতাবশত এসব মামলা করা হয়। চলে ‘মামলা বাণিজ্য’। প্রচলিত আইনে মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য– দুটোই ফৌজদারি অপরাধ। এ জন্য শাস্তির বিধান থাকলেও এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। পক্ষান্তরে, কেউ ন্যায়বিচার পেতে মামলা করলেও সাক্ষ্য, আলামতের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।

পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিন গত বুধবার অপরাধবিষয়ক সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হত্যা মামলা তদন্তের চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ১০ বছরে পিবিআই সাত হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে। জেনারেল রেজিস্ট্রার বা জিআর হিসেবে এসব মামলার এজাহার (এফআইআর) সরাসরি থানায় করা হয়েছিল। সংস্থাটির তদন্ত করা ২২.৭১ শতাংশ হত্যা মামলায় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিপরীতে খুন বা ইচ্ছাকৃত হত্যার ঘটনায় চার হাজার ১৭৫টি মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী পিবিআই চার্জশিট দাখিল করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় অনেক মামলায় নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। একেকটি মামলায় কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এ ধারা ১৭৩(এ) সংযোজন করে পরিপত্র জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর মাধ্যমে হয়রানিমূলক কারও নাম মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) অন্তর্ভুক্ত করা হলে তদন্ত কর্মকর্তার অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও তা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

হত্যা মামলার চিত্র 
পিবিআইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সাত হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে হত্যার অভিযোগে ৫৬ শতাংশ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর অর্থ, এজাহার দাখিলের সময় যে অভিযোগ ছিল, তদন্তে সেই অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। ৩০৬ ও ৩০৪(ক) বা অন্যান্য ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ৪৯৫টি মামলার। এ ছাড়া মিথ্যা অভিযোগে ১১৪টি, আইনগত ভুলে ২৩টি এবং তথ্যগত ভুলের জন্য এক হাজার ৫৫টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অর্থাৎ ১ হাজার ৬৮৭টি মামলা প্রমাণ করা যায়নি।

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) ও পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) অনুযায়ী মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঁচ ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হলো– চূড়ান্ত রিপোর্ট (সত্য), চূড়ান্ত প্রতিবেদন (মিথ্যা), চূড়ান্ত প্রতিবেদন (তথ্যগত ভুল), চূড়ান্ত প্রতিবেদন (আইনগত ভুল) ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন (আমল অযোগ্য)।

পিবিআই গত এক দশকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (তথ্যগত ভুল) দাখিল করেছে এক হাজার ৫৫টি মামলার। ঘটনার সত্যতা আছে, কিন্তু মামলা করার ক্ষেত্রে ভুল বা অজ্ঞতাবশত নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হলে, এমনকি ভুল তথ্য দেওয়া হলে তদন্ত কর্মকর্তা এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন (মিথ্যা) দাখিল করা হয়েছে ১১৪টি মামলায়। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়– মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা; তখন এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পিবিআইর তদন্তকৃত এক হাজার ৫৬৫টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল হয়েছে। কোনো মামলায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও চার্জশিট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়া গেলে বা প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা না গেলে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। এ মামলায় খুনি শনাক্ত না হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করতে হবে।

এ ছাড়া ২৩টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (আইনগত ভুল) দাখিল করা হয়েছে। ঘটনা সত্য, তবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়নি বা আইনের দৃষ্টিতে মামলাটি চালানোর কোনো ভিত্তি নেই– এমনটি প্রমাণিত হলে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

পিবিআইর প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত একটি শিল্পের সঙ্গে তুলনীয়। দিনের পর দিন নিবিড়ভাবে এ তদন্ত করতে হয়। চাপ, সময় বেঁধে দিয়ে মামলার সঠিক তদন্ত সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সততা, যোগ্যতার বিষয় যুক্ত। একটিতে বিচ্যুতি হলেই তদন্ত ভিন্ন দিকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।’

মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘অনেকে বিভিন্ন কারণে প্রকৃত অভিযুক্তদের সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়িয়ে মামলা করেন। আবার পৃথিবীর কোনো দেশ শতভাগ হত্যা মামলার ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারে না। আমাদের এখানেও এ ধরনের মামলা রয়েছে। ঘটনা সত্য হলেও দেড় হাজারের মতো মামলার ক্লু পায়নি পিবিআই। কীভাবে হত্যা মামলার তদন্তের মান আরও বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে গত ১৬ এপ্রিল আইনমন্ত্রীর কাছে রুমিন ফারহানা জানতে চেয়েছিলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিথ্যা ও ভুয়া মামলার মধ্যে কত সংখ্যক মামলা তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণ হয়েছে?’

জবাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভুয়া মামলাগুলোর মধ্যে কত সংখ্যক মামলা তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে– তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়।’

আদালতে করা মামলার ৬২.৬৫% আসামি নির্দোষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা (সিআর) ১৯৫টি মামলার তদন্ত করেছে পিবিআই। এতে ৮২টি মামলার অভিযোগ প্রমাণিত। এসব মামলায় মোট সাত হাজার ৬৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে দুই হাজার ৮৫৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত। চার হাজার ৭৯৫ জনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ মোট অভিযুক্তের ৬২ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্দোষ।

পিবিআইপ্রধান মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, ‘ওই সময় একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। এমন উদাহরণ আছে, একই ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এখন দেশের কোথাও এ ধরনের মামলা করার সুযোগ নেই। অনেক যাচাই-বাছাই করে মামলা নেওয়া হয়।’

সঠিক তদন্তে যা করণীয় 
পিবিআই তাদের মতামতে অজ্ঞাতপরিচয় কোনো লাশ উদ্ধারের পর কিছু করণীয় উল্লেখ করেছে। প্রথমে ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে। এরপর অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ রোধ করতে হবে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতদেহের অবস্থান, পরিবেশ, সময় ও সাক্ষীদের বিবরণ তুলে ধরতে হবে। রক্ত, চুল, কাপড়, অস্ত্রসহ অন্যান্য বস্তুগত আলামত সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। এসব সাক্ষ্য পরবর্তী সময়ে মামলা চলাকালে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে দ্রুত জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠাতে হবে। আঘাতের ধরন, সময় নির্ধারণ ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। ডিএনএ প্রোফাইল করতে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া তদন্তকালে প্রথমে জিডি করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলা করতে হবে। মৃতদেহের ছবি সংগ্রহ করে দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠাতে হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা বা এ-সংক্রান্ত জিডি যাচাই করতে হবে।

লাশ শনাক্ত 
২০১৯ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অজ্ঞাত লাশ শনাক্ত করে ২২৮টি মামলা করেছে পিবিআই। এর মধ্যে ১৫৬টি পুরুষের লাশ, ৭২টি নারীর। গত সাত বছরে অজ্ঞাত লাশ শনাক্তের হার ২৭.৬৭ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে দুই হাজার ৩৪০টি লাশ শনাক্ত করা গেছে। শনাক্ত হয়নি ছয় হাজার ১১৬টি।

শাস্তির বিধান 
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারায় মিথ্যা অভিযোগে শাস্তির বিধান আছে। ম্যাজিস্ট্রেট যদি আসামিকে খালাস দেওয়ার সময় প্রমাণ পান– মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক; বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। দণ্ডবিধির ১৯১ ও ১৯৩ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্যদানের শাস্তির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের কথা বলা আছে। দণ্ডবিধির ২০৯ ধারামতে, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলার সাজা হলো দুই বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় ধরনের দণ্ড। যদি মিথ্যা মামলা কোনো মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সাত বছর বা তার বেশি মেয়াদের কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ সম্পর্কে দায়ের করা হয়, তাহলে মামলা দায়েরকারী বা বাদী সাত বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এর সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরকারীকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৭ ধারাতেও মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তির কথা উল্লেখ আছে।

এখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কারও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে এই আইনের অন্য কোনো ধারায় মামলা করার জন্য আইনানুগ কারণ নেই জেনেও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন অথবা করান, তবে সেই অভিযোগকারী অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

গুলশান অ্যাভিনিউতে ঢাকা ব্যাংকের নতুন শাখার উদ্বোধন

শনিবার ঢাকা ব্যাংক পিএলসি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে তাদের ১১৮তম শাখা ‘গুলশান অ্যাভিনিউ শাখার’ উদ্বোধন করেছে। এ উপলক্ষে হেনা সুবাস্তু স্পেস স্কাইলাইন অ্যাভিনিউতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য আরও আধুনিক, সহজ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং উন্নত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন এই শাখাটি চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক এবং বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান জনাব এ.টি.এম. হায়াতুজ্জামান খান এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার। এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ জনাব আব্দুল্লাহ আল আহসান, জনাব আমির উল্লাহ এবং প্রফেসর বিলকিস আরা বেগমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, গ্রাহক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ব্যাংকের উন্নয়নের বিবর্তনের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ‘পিপল, প্রসেস অ্যান্ড টেকনোলজি’—এই তিনটি মূল ভিত্তিকে কেন্দ্র করে পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ-উপযোগী, গ্রাহককেন্দ্রিক এবং উদ্ভাবননির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠায় ঢাকা ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টেকনো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সায়েদ মনজুরুল হক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী, ফজলুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টার্লিং গ্রুপ, জহর রিজভি, চেয়ারম্যান, এলায়েন্স হোল্ডিংস, সাকিফ আরিফ তাবানি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান, খাদিম সিরামিক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিত মোহাম্মদ আউয়ালও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা সমাজে বৃহত্তর আস্থা, উদ্ভাবন এবং ক্ষমতায়ন প্রসারের লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাংকের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য নেটওয়ার্কিং সেশন ও নতুন শাখা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

তানজিদ কি তামিম হতে পারবেন

তানজিদ হাসান তামিমের মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া ব্যাটার দেশের ক্রিকেটের আইকন। তার নামের পাশে ১০২ টি টেস্ট ম্যাচ লেখা হয়েছে আজ। সেই কিংবদন্তি মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া একজন ব্যাটারের জন্য দারুণ ব্যাপার। এই খুশিতে হলেও নবাগতর ভালো কিছু করার কথা। অভিষেকে সেটা তিনি পারেননি। লেগে থাকলে হয়তো পারবেন। যেমন লেগে রয়েছেন মুশফিক সেই ২০০৫ সাল থেকে।

অভিষিক্ত তানজিদ ৩৪ বলে ২৬ রান করেন। তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছুটা বাধ্য হয়েই তাকে খেলিয়েছে দল। সাদমান ইসলাম চোট না পেলে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন করা হতো না। এই পরিবর্তনে টেস্টের ওপেনিং জুটি আবারও কিছুটা অনভিজ্ঞ হলো। তবে তানজিদকে দেখে নেওয়ার সুযোগও এসেছে।

২৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার কারণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তার ওপর তামিম ইকবালের ছায়া দেখতে পায় কোচিং স্টাফ। এ কারণে টেস্ট দলে নেওয়া। যদিও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, বাঁহাতি এ ব্যাটারকে কিছুটা সময় দিয়ে খেলাতে চেয়েছিলেন। তিনি যাতে নিজেকে লাল বলের ক্রিকেটের সঙ্গে মানসিক সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নিয়ে খেলতে পারেন।

তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের পর টেস্টে ‘সেটেলড’ ওপেনিং জুটি পায়নি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসানের মধ্যেই লড়াই চলছিল। এই তালিকায় যোগ হলেন তানজিদ। মুমিনুল হক এক আড্ডায় বলেছিলেন, এক বছর ধরে তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার আলোচনা ছিল। এই সুযোগ তানজিদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি হলেও তার দায়িত্বও বেড়ে গেলো। তিন সংস্করণে খেলার জন্য অনেক ফিট থাকতে হবে তাকে। যাপিত জীবনে শৃঙ্খলা থাকতে হবে চোট মুক্ত থাকার জন্য।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারের তালিকায় ১০৯ নম্বর নাম তানজিদ হাসান। তার আগের নামটি বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। এক সিরিজ আগেই অভিষেক হয়েছে তার। অভিষেকে ভালোও করেছিলেন। বোলিং ইউনিট সাজাতে গিয়ে ১৫ জনে জায়গা হয়নি তার। ব্যাটিং কিভাগ কিছুটা আলাদা। ওপেনিং জায়গাটি বেশি নিরাপদ। একটু ভালো করলেই ক্যারিয়ার বড় করার সুযোগ। কারণ তামিম, ইমরুলের পর জাতীয় দল ভালো মানের ওপেনার পায়নি দল। সাদা বলের মতো লাল বলের ক্রিকেটেও তানজিদ থিতু হয়ে গেলে মাহমুদুল হাসান জয়ের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাতে লাভ বেশি। ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। স্বাস্থ্যকর  প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সবার জন্যই লাভ। দলে জায়গা ধরে রাখতে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা থাকবে সবার।

তবে তানজিদকে নিয়ে একটা শংকা করা হচ্ছে- আক্রমণাত্মক ব্যাটার হওয়ায় টেস্টে ধারাবাহিক হওয়া কঠিন। কারণ টেস্টে সেট হওয়ার জন্য মানসিক ধৈর্য্যের ব্যাপার থাকে। বোলার একই চ্যানেলে বল করেন। শট খেলার নেশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে বেশি। অভিষেক ইনিংস বড় না হওয়ার পেছনে শট খেলার লোভ কাজ করেছে। শূন্য রাতে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বড় ইনিংসের চিন্তা করতে হতো তাকে। সেটা না করে স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে গিয়ে দ্রুত আউট হয়েছেন।

আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নাইজেরিয়ায় নিহত: ট্রাম্প

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,’সাহসী মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি জটিল ও পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, আল-মিনুকি আফ্রিকায় লুকিয়ে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার গতিবিধি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা নিয়মিত তথ্য পাচ্ছিল।

ট্রাম্প জানান, অভিযানে নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতা ছিল এবং এজন্য তিনি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি অভিযানের বিস্তারিত সময় বা অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৩ সাল থেকেই আল-মিনুকিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ট্রাম্প বলেন, তার মৃত্যুতে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চলছে। দেশটির সরকার অবশ্য আগেও জানিয়েছে, এসব গোষ্ঠী মুসলিম ও খ্রিস্টান-দুই সম্প্রদায়ের ওপরই হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিসমাস ডে-তে নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে আইএস লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ সেনা কেবল প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।