Home Blog Page 86

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন হাম মোকাবিলায় ব্যর্থতা স্পষ্ট আরও দুই শিশুর মৃত্যু

হামে শিশুমৃত্যু বাড়তে থাকায় আগের অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। তাদের অভিযোগ, সময়মতো স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করা, টিকার ঘাটতি, দুর্বল নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে গাফিলতির কারণেই শত শত শিশুর প্রাণ ঝরছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ আয়োজিত ‘হামে শিশুমৃত্যু: জনস্বাস্থ্য সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। তাদের ভাষ্য, চার শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সরকার দায় এড়াতে পারে না।

এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৩। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭৪ জন, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৭৯ জন।

সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএইচ ফারুকী বলেন, হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট। গাফিলতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ভারপ্রাপ্ত) স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, টিকা কেনায় জটিলতা, রোগ নজরদারি প্রতিবেদনে দেরি, জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন না হওয়া বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।

ডা. ফারুকী আরও বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগামী বাজেট থেকেই স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, মৃত্যুহার কমাতে হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি হাই-ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ এবং আক্রান্তদের দ্রুত প্রতিরোধ জরুরি।

আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যখন কোনো সংক্রামক রোগকে জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়, তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে বাংলাদেশে সেই ঘোষণা না আসায় আক্রান্ত শিশুরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, সরকারি খরচে চিকিৎসা, সব সরকারি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু এবং পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতসহ ১৫ দফা দাবি জানানো হয়।

ময়মনসিংহে ৭৭ শতাংশেরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি
হামে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে যত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এর প্রায় ৭৭ শতাংশেরই বয়স ছিল ৯ মাসের নিচে। অর্থাৎ তারা সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার আগেই সংক্রমণের শিকার হয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ৩১ শিশুর মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল শূন্য থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে। এ ছাড়া ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সী চার শিশু এবং ১৫ মাসের বেশি বয়সী আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজনের বয়সের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, এই সময়ে আইসিইউ খুব জরুরি ছিল। সেটি থাকলে হয়তো এত শিশুর মৃত্যু হতো না।

পিবিআইর তদন্ত ২৩ শতাংশ হত্যা মামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি

দেশে খুনের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়েরের মতো ঘটনা ঘটছে। কাউকে হয়রানি বা সামাজিকভাবে হেয় করা, অর্থ আদায়, রাজনৈতিক বিরোধ ও শত্রুতাবশত এসব মামলা করা হয়। চলে ‘মামলা বাণিজ্য’। প্রচলিত আইনে মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য– দুটোই ফৌজদারি অপরাধ। এ জন্য শাস্তির বিধান থাকলেও এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। পক্ষান্তরে, কেউ ন্যায়বিচার পেতে মামলা করলেও সাক্ষ্য, আলামতের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।

পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিন গত বুধবার অপরাধবিষয়ক সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হত্যা মামলা তদন্তের চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ১০ বছরে পিবিআই সাত হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে। জেনারেল রেজিস্ট্রার বা জিআর হিসেবে এসব মামলার এজাহার (এফআইআর) সরাসরি থানায় করা হয়েছিল। সংস্থাটির তদন্ত করা ২২.৭১ শতাংশ হত্যা মামলায় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিপরীতে খুন বা ইচ্ছাকৃত হত্যার ঘটনায় চার হাজার ১৭৫টি মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী পিবিআই চার্জশিট দাখিল করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় অনেক মামলায় নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। একেকটি মামলায় কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এ ধারা ১৭৩(এ) সংযোজন করে পরিপত্র জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর মাধ্যমে হয়রানিমূলক কারও নাম মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) অন্তর্ভুক্ত করা হলে তদন্ত কর্মকর্তার অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও তা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

হত্যা মামলার চিত্র 
পিবিআইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সাত হাজার ৪২৭টি হত্যা মামলার তদন্ত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে হত্যার অভিযোগে ৫৬ শতাংশ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর অর্থ, এজাহার দাখিলের সময় যে অভিযোগ ছিল, তদন্তে সেই অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। ৩০৬ ও ৩০৪(ক) বা অন্যান্য ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ৪৯৫টি মামলার। এ ছাড়া মিথ্যা অভিযোগে ১১৪টি, আইনগত ভুলে ২৩টি এবং তথ্যগত ভুলের জন্য এক হাজার ৫৫টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অর্থাৎ ১ হাজার ৬৮৭টি মামলা প্রমাণ করা যায়নি।

এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) ও পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) অনুযায়ী মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঁচ ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হলো– চূড়ান্ত রিপোর্ট (সত্য), চূড়ান্ত প্রতিবেদন (মিথ্যা), চূড়ান্ত প্রতিবেদন (তথ্যগত ভুল), চূড়ান্ত প্রতিবেদন (আইনগত ভুল) ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন (আমল অযোগ্য)।

পিবিআই গত এক দশকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (তথ্যগত ভুল) দাখিল করেছে এক হাজার ৫৫টি মামলার। ঘটনার সত্যতা আছে, কিন্তু মামলা করার ক্ষেত্রে ভুল বা অজ্ঞতাবশত নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হলে, এমনকি ভুল তথ্য দেওয়া হলে তদন্ত কর্মকর্তা এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন (মিথ্যা) দাখিল করা হয়েছে ১১৪টি মামলায়। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়– মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা; তখন এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পিবিআইর তদন্তকৃত এক হাজার ৫৬৫টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল হয়েছে। কোনো মামলায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও চার্জশিট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়া গেলে বা প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা না গেলে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। এ মামলায় খুনি শনাক্ত না হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করতে হবে।

এ ছাড়া ২৩টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (আইনগত ভুল) দাখিল করা হয়েছে। ঘটনা সত্য, তবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়নি বা আইনের দৃষ্টিতে মামলাটি চালানোর কোনো ভিত্তি নেই– এমনটি প্রমাণিত হলে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

পিবিআইর প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত একটি শিল্পের সঙ্গে তুলনীয়। দিনের পর দিন নিবিড়ভাবে এ তদন্ত করতে হয়। চাপ, সময় বেঁধে দিয়ে মামলার সঠিক তদন্ত সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সততা, যোগ্যতার বিষয় যুক্ত। একটিতে বিচ্যুতি হলেই তদন্ত ভিন্ন দিকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।’

মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘অনেকে বিভিন্ন কারণে প্রকৃত অভিযুক্তদের সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়িয়ে মামলা করেন। আবার পৃথিবীর কোনো দেশ শতভাগ হত্যা মামলার ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারে না। আমাদের এখানেও এ ধরনের মামলা রয়েছে। ঘটনা সত্য হলেও দেড় হাজারের মতো মামলার ক্লু পায়নি পিবিআই। কীভাবে হত্যা মামলার তদন্তের মান আরও বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে গত ১৬ এপ্রিল আইনমন্ত্রীর কাছে রুমিন ফারহানা জানতে চেয়েছিলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিথ্যা ও ভুয়া মামলার মধ্যে কত সংখ্যক মামলা তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণ হয়েছে?’

জবাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভুয়া মামলাগুলোর মধ্যে কত সংখ্যক মামলা তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে– তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়।’

আদালতে করা মামলার ৬২.৬৫% আসামি নির্দোষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা (সিআর) ১৯৫টি মামলার তদন্ত করেছে পিবিআই। এতে ৮২টি মামলার অভিযোগ প্রমাণিত। এসব মামলায় মোট সাত হাজার ৬৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্তে দুই হাজার ৮৫৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত। চার হাজার ৭৯৫ জনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ মোট অভিযুক্তের ৬২ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্দোষ।

পিবিআইপ্রধান মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, ‘ওই সময় একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। এমন উদাহরণ আছে, একই ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এখন দেশের কোথাও এ ধরনের মামলা করার সুযোগ নেই। অনেক যাচাই-বাছাই করে মামলা নেওয়া হয়।’

সঠিক তদন্তে যা করণীয় 
পিবিআই তাদের মতামতে অজ্ঞাতপরিচয় কোনো লাশ উদ্ধারের পর কিছু করণীয় উল্লেখ করেছে। প্রথমে ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে। এরপর অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ রোধ করতে হবে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতদেহের অবস্থান, পরিবেশ, সময় ও সাক্ষীদের বিবরণ তুলে ধরতে হবে। রক্ত, চুল, কাপড়, অস্ত্রসহ অন্যান্য বস্তুগত আলামত সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। এসব সাক্ষ্য পরবর্তী সময়ে মামলা চলাকালে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে দ্রুত জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠাতে হবে। আঘাতের ধরন, সময় নির্ধারণ ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। ডিএনএ প্রোফাইল করতে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া তদন্তকালে প্রথমে জিডি করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলা করতে হবে। মৃতদেহের ছবি সংগ্রহ করে দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠাতে হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা বা এ-সংক্রান্ত জিডি যাচাই করতে হবে।

লাশ শনাক্ত 
২০১৯ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অজ্ঞাত লাশ শনাক্ত করে ২২৮টি মামলা করেছে পিবিআই। এর মধ্যে ১৫৬টি পুরুষের লাশ, ৭২টি নারীর। গত সাত বছরে অজ্ঞাত লাশ শনাক্তের হার ২৭.৬৭ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে দুই হাজার ৩৪০টি লাশ শনাক্ত করা গেছে। শনাক্ত হয়নি ছয় হাজার ১১৬টি।

শাস্তির বিধান 
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারায় মিথ্যা অভিযোগে শাস্তির বিধান আছে। ম্যাজিস্ট্রেট যদি আসামিকে খালাস দেওয়ার সময় প্রমাণ পান– মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক; বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। দণ্ডবিধির ১৯১ ও ১৯৩ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্যদানের শাস্তির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের কথা বলা আছে। দণ্ডবিধির ২০৯ ধারামতে, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলার সাজা হলো দুই বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় ধরনের দণ্ড। যদি মিথ্যা মামলা কোনো মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সাত বছর বা তার বেশি মেয়াদের কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ সম্পর্কে দায়ের করা হয়, তাহলে মামলা দায়েরকারী বা বাদী সাত বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এর সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরকারীকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৭ ধারাতেও মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তির কথা উল্লেখ আছে।

এখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কারও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে এই আইনের অন্য কোনো ধারায় মামলা করার জন্য আইনানুগ কারণ নেই জেনেও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন অথবা করান, তবে সেই অভিযোগকারী অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

গুলশান অ্যাভিনিউতে ঢাকা ব্যাংকের নতুন শাখার উদ্বোধন

শনিবার ঢাকা ব্যাংক পিএলসি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে তাদের ১১৮তম শাখা ‘গুলশান অ্যাভিনিউ শাখার’ উদ্বোধন করেছে। এ উপলক্ষে হেনা সুবাস্তু স্পেস স্কাইলাইন অ্যাভিনিউতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য আরও আধুনিক, সহজ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং উন্নত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন এই শাখাটি চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক এবং বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান জনাব এ.টি.এম. হায়াতুজ্জামান খান এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার। এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ জনাব আব্দুল্লাহ আল আহসান, জনাব আমির উল্লাহ এবং প্রফেসর বিলকিস আরা বেগমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, গ্রাহক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ব্যাংকের উন্নয়নের বিবর্তনের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ‘পিপল, প্রসেস অ্যান্ড টেকনোলজি’—এই তিনটি মূল ভিত্তিকে কেন্দ্র করে পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ-উপযোগী, গ্রাহককেন্দ্রিক এবং উদ্ভাবননির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠায় ঢাকা ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টেকনো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সায়েদ মনজুরুল হক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী, ফজলুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টার্লিং গ্রুপ, জহর রিজভি, চেয়ারম্যান, এলায়েন্স হোল্ডিংস, সাকিফ আরিফ তাবানি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান, খাদিম সিরামিক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিত মোহাম্মদ আউয়ালও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা সমাজে বৃহত্তর আস্থা, উদ্ভাবন এবং ক্ষমতায়ন প্রসারের লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাংকের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য নেটওয়ার্কিং সেশন ও নতুন শাখা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

তানজিদ কি তামিম হতে পারবেন

তানজিদ হাসান তামিমের মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া ব্যাটার দেশের ক্রিকেটের আইকন। তার নামের পাশে ১০২ টি টেস্ট ম্যাচ লেখা হয়েছে আজ। সেই কিংবদন্তি মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া একজন ব্যাটারের জন্য দারুণ ব্যাপার। এই খুশিতে হলেও নবাগতর ভালো কিছু করার কথা। অভিষেকে সেটা তিনি পারেননি। লেগে থাকলে হয়তো পারবেন। যেমন লেগে রয়েছেন মুশফিক সেই ২০০৫ সাল থেকে।

অভিষিক্ত তানজিদ ৩৪ বলে ২৬ রান করেন। তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছুটা বাধ্য হয়েই তাকে খেলিয়েছে দল। সাদমান ইসলাম চোট না পেলে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন করা হতো না। এই পরিবর্তনে টেস্টের ওপেনিং জুটি আবারও কিছুটা অনভিজ্ঞ হলো। তবে তানজিদকে দেখে নেওয়ার সুযোগও এসেছে।

২৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার কারণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তার ওপর তামিম ইকবালের ছায়া দেখতে পায় কোচিং স্টাফ। এ কারণে টেস্ট দলে নেওয়া। যদিও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, বাঁহাতি এ ব্যাটারকে কিছুটা সময় দিয়ে খেলাতে চেয়েছিলেন। তিনি যাতে নিজেকে লাল বলের ক্রিকেটের সঙ্গে মানসিক সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নিয়ে খেলতে পারেন।

তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের পর টেস্টে ‘সেটেলড’ ওপেনিং জুটি পায়নি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসানের মধ্যেই লড়াই চলছিল। এই তালিকায় যোগ হলেন তানজিদ। মুমিনুল হক এক আড্ডায় বলেছিলেন, এক বছর ধরে তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার আলোচনা ছিল। এই সুযোগ তানজিদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি হলেও তার দায়িত্বও বেড়ে গেলো। তিন সংস্করণে খেলার জন্য অনেক ফিট থাকতে হবে তাকে। যাপিত জীবনে শৃঙ্খলা থাকতে হবে চোট মুক্ত থাকার জন্য।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারের তালিকায় ১০৯ নম্বর নাম তানজিদ হাসান। তার আগের নামটি বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। এক সিরিজ আগেই অভিষেক হয়েছে তার। অভিষেকে ভালোও করেছিলেন। বোলিং ইউনিট সাজাতে গিয়ে ১৫ জনে জায়গা হয়নি তার। ব্যাটিং কিভাগ কিছুটা আলাদা। ওপেনিং জায়গাটি বেশি নিরাপদ। একটু ভালো করলেই ক্যারিয়ার বড় করার সুযোগ। কারণ তামিম, ইমরুলের পর জাতীয় দল ভালো মানের ওপেনার পায়নি দল। সাদা বলের মতো লাল বলের ক্রিকেটেও তানজিদ থিতু হয়ে গেলে মাহমুদুল হাসান জয়ের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাতে লাভ বেশি। ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। স্বাস্থ্যকর  প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সবার জন্যই লাভ। দলে জায়গা ধরে রাখতে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা থাকবে সবার।

তবে তানজিদকে নিয়ে একটা শংকা করা হচ্ছে- আক্রমণাত্মক ব্যাটার হওয়ায় টেস্টে ধারাবাহিক হওয়া কঠিন। কারণ টেস্টে সেট হওয়ার জন্য মানসিক ধৈর্য্যের ব্যাপার থাকে। বোলার একই চ্যানেলে বল করেন। শট খেলার নেশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে বেশি। অভিষেক ইনিংস বড় না হওয়ার পেছনে শট খেলার লোভ কাজ করেছে। শূন্য রাতে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বড় ইনিংসের চিন্তা করতে হতো তাকে। সেটা না করে স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে গিয়ে দ্রুত আউট হয়েছেন।

আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নাইজেরিয়ায় নিহত: ট্রাম্প

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,’সাহসী মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি জটিল ও পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, আল-মিনুকি আফ্রিকায় লুকিয়ে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার গতিবিধি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা নিয়মিত তথ্য পাচ্ছিল।

ট্রাম্প জানান, অভিযানে নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতা ছিল এবং এজন্য তিনি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি অভিযানের বিস্তারিত সময় বা অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৩ সাল থেকেই আল-মিনুকিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ট্রাম্প বলেন, তার মৃত্যুতে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চলছে। দেশটির সরকার অবশ্য আগেও জানিয়েছে, এসব গোষ্ঠী মুসলিম ও খ্রিস্টান-দুই সম্প্রদায়ের ওপরই হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিসমাস ডে-তে নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে আইএস লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ সেনা কেবল প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় সৌদি-কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করে আমিরাত

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার জবাবে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান গঠনের চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে বলে শুক্রবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন যৌথ প্রতিক্রিয়ার জন্য, তবে সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ এতে রাজি হয়নি।

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। এতে ইউএই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে সৌদি আরব ও ইউএই পৃথকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কিছু পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা কোনো যৌথ সামরিক পরিকল্পনায় একমত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অন্যদিকে ইউএই ইরানের কিছু জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়িয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করেছে।

ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদ শিবিরের

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-উত্তর পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার গবাদিপশু জবাইয়ে তথাকথিত যে ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, তা মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে অবাস্তব বিধিনিষেধ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এপিসিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৪টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

শিবির নেতারা বলেছেন, ভারতে উগ্রপন্থি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছে শিবির।

শাহ আলী মাজারে হামলা, অভিযোগ জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীর মিরপুরের হজরত শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারে ওরস চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। তবে জামায়াত বলছে, সেখানে তাদের কোনো নেতাকর্মী ছিল না। পুলিশ মাজারে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, তারা কোনো অভিযান চালায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, রাত ১টার দিকে একদল লোক মাজারে গিয়ে মারধর করে। তারা জামায়াত-শিবিরের বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ সেখানে কোনো অভিযান চালায়নি।

মহানগর পুলিশের দারুস সালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে বড় অনুষ্ঠান হয়। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি বাইরে থেকেও লোক আসেন। তারা সাধারণত অনেক রাত পর্যন্ত গান-বাজনা করেন। মাদক সেবনেরও অভিযোগ পাওয়া যায়। এমন একটি ঘটনা নিয়ে বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। কিছু লোক মাজার জিয়ারত করছিলেন। এর মধ্যে একটি দল মূল মাজারের কাছাকাছি গিয়ে মাদক সেবন করেন। এতে জিয়ারত করতে আসা অনেকে ক্ষিপ্ত হন। তাদের সঙ্গে স্থানীয়রা যোগ দিয়ে মাদক সেবনরতদের ওপর হামলা করেন বলে জানতে পেরেছি।
হামলায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে তাদেরও কিছু লোক ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমন কয়েকজনকে দেখা গেছে। তবে তাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বিষয়টা এমন নয়। আসলে মাজারের লোকজনই ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুস সবুর সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ওরস চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোটা হাতে বেশ কিছু লোক ঢুকে পড়ে। তারা এসে মাজার জিয়ারতকারীদের মারধর শুরু করে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সময় মাজারের গেটের বাইরে পুলিশের চারটি গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে ঢোকেনি।

হামলার সময়ের ভিডিওতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক লোক লাঠি হাতে মাজারে ঢুকে যাকে সামনে পাচ্ছেন পেটাচ্ছেন। তাদের কারও কারও মুখে মাস্ক ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে কল দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, মাজারের সামনের গেটে ফেরি করে মাদক বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে এটা আরও বেড়ে যায়। এ জন্য পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। তবে আমার দলের নেতাকর্মী কেউ সেখানে ছিল না। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকজন ছিল বলে শুনেছি।

যদিও এমপির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার। তিনি বলেন, ‘তাঁর (এমপি) সঙ্গে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার আমার কোনো কথা হয়নি।’

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, শাহ আলী মাজারে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ছিল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। যার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সব কিছুতে জামায়াতকে জড়িয়ে প্রোপাগান্ডা করা কিছু দল ও মিডিয়ার মজ্জাগত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এর আগেও মাজারে মাদক সেবনের বিরুদ্ধে পুলিশ ছাড়া স্থানীয়দের ‘অভিযান’ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া পুলিশও নিয়মিত অভিযান চালায়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৭ মাসে সারাদেশে অন্তত ৯৭টি মাজার ও এ সম্পর্কিত স্থাপনায় (দরগাহ ও খানকাহ) হামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধানে ৩৭টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঢাকায়; যথাক্রমে ১৭, ১০ ও ৯টি। সারাদেশে হামলার ঘটনাগুলোয় তিনজন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন।

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৫৮ হাজার ৩৪৭ বাংলাদেশি

হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৫০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৫৮ হাজার ৩৪৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

শনিবার রাত ৩টায় প্রকাশিত হজ অফিসের এক বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৫টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ৭০৪ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। বাকী যাত্রীরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।

গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য খাতেও অবদান রেখে গেছেন।