Home Blog Page 89

২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত রুটিন থেকে জানা গেছে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি শুরু হবে ৬ জুন।

প্রস্তাবিত এ রুটিনটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় কোনো সংশোধনী বা পরিবর্তন করে তাহলে সেগুলো সংশোধন করে রুটিন চূড়ান্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে যৌথভাবে জারিকৃত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

​এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র এবং সহজ বাংলা-১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে। এসএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংগীতসহ অন্যান্য সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

৬ জুন সকালে বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ জুলাই। রুটিন অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিদিন দুটি শিফটে অনুষ্ঠিত হবে; সকালের শিফট সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এবং বিকালের শিফট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। লিখিত পরীক্ষা শেষে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসির সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

​শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই সময়সূচি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নদী ভাঙনে দিশেহারা দুই জেলার মানুষ, বিলীন হচ্ছে জনপদ ও ফসলি জমি

নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নদীপাড়ের মানুষ। মেঘনা, ধলেশ্বরী ও লঙ্গন নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নতুন মানচিত্র পরিবর্তনের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের ঢল, টানা বৃষ্টি, নদীতে চর জেগে ওঠা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এতে এক সময়ের জনবহুল এলাকা ও শত বছরের পুরোনো জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

নাসিরনগরের গোয়ালনগর ও ভলাকুট ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ চর জেগে উঠেছে। অন্যদিকে অষ্টগ্রামের নোয়াগাঁও এলাকায় একটি ইটভাটার প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে চর পড়তে শুরু করে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

২০১৪ সালে নদী ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। বর্তমানে মেঘনার মূল স্রোত লোকালয়ের দিকে ধাবিত হয়ে ভাঙন তীব্র করছে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে নোয়াগাঁও এলাকায় নবনির্মিত পাকা সড়কের অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় বাজার, দোকানপাটসহ প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতিতে প্রায় চার হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত খান বলেন, “যেভাবে ভাঙন চলছে, কয়েক দিনের মধ্যে পুরো নোয়াগাঁও গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।”

প্রশাসনের উদ্যোগ ও মতভেদ

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া জানান, উজানের ঢল ও নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়ায় দ্রুত ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

তবে পরিবেশবিদরা বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

নাসিরনগরের চাতলপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন

একই ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে নাসিরনগরের চাতলপাড় ইউনিয়নেও। চকবাজার, বিলেরপাড় ও অফিসপাড়ায় নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাজার, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি মেঘনায় বিলীন হয়ে অনেক পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অষ্টগ্রামের একটি ইটভাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এই ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ভাঙন শুরু হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা ইমরান আলী বলেন, “প্রতিবারই কিছু জিও ব্যাগ ফেলে আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু স্থায়ী বাঁধের কোনো উদ্যোগ নেই।”

স্থায়ী বাঁধের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত জানান, চাতলপাড়সহ আশপাশের ভাঙন রোধে প্রায় দেড় কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

জনজীবনে বিপর্যয়

ভাঙনে বিলেরপাড় জামে মসজিদসহ বহু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে এলাকা ছেড়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, হাওরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

বড় ঋণ কারা পাচ্ছে যাচাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বড় ঋণ কারা পাচ্ছে, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বিতরণ করা প্রতিটি ব্যাংকের ২০ কোটি টাকা বা এর বেশি ঋণ কোন কোন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে, তার তথ্য এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এখন গ্রাহক ধরে ধরে দেখা হবে জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কেউ নতুন করে ঋণ পেয়েছে কিনা।
জানা গেছে, গভর্নরের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাংকে টেলিফোন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি-সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখন নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ঋণের আসল সুবিধাভোগীর যাবতীয় তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো গ্রাহকের বিষয়ে আগে ঋণ নিয়ে অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণ শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রহীতারা ঋণ  পাওয়ার যোগ্য কিনা, জামানত কতটুকু রয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে ঋণ নিয়েছেন, সেখানে ব্যবহার করেছেন কিনা, খতিয়ে দেখা  হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচ্য সময়ে বিতরণ করা প্রতিটি ঋণের তথ্য যাচাই করবে না। পরীক্ষামূলক প্রতিটি ব্যাংকের কিছু গ্রাহকের তথ্য যাচাই হবে। এ ক্ষেত্রে বড় ঋণ অগ্রাধিকার পাবে।

নতুন করে বিতরণ করা ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী বের করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ আগেই এমন পরিকল্পনা করেছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ব্যাংক খাতের ২০ কোটি টাকার বেশি সব নতুন ঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। কাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে, ঋণের জামানত ঠিক আছে কিনা, দেখা হবে। এসব ঋণে কোনো অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদসহ এই স্থিতি হিসাব করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ব্যাংকগুলো গড়ে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। এর মানে প্রকৃত সুদহার বিবেচনায় নিলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ঋণাত্মক। এ রকম সময়ে কোনোভাবেই যেন ঋণের অপব্যবহার না হয়, সে জন্য তদারকি বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে চলতি বছর থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথাগত পরিদর্শন না করে ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে এ তদারকি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১২টি তদারকি বিভাগের অধীনে ব্যাংকগুলোর সব তথ্য সংগ্রহ ও তদারকি করা হয়। এর বাইরে কারিগরি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি, ডেটা ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ, তদারকি-সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন, পেমেন্ট সিস্টেম সুপারভিশন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নামে আরও পাঁচটি বিভাগ কাজ করছে।

গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বড় ঋণের তথ্য যাচাইয়ের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ জালিয়াতির অনেক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান। এখন লক্ষ্য, নতুন করে যাতে জালিয়াতি না হয়।

Arif Hazra 1778640491

বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে তারা বড় ঋণের তথ্য দিয়েছেন। তবে এ তথ্য কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু বলা হয়নি। তিনি জানান, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থার ফলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি বেড়েছে। ঋণের অপব্যবহার হলে

তাদের শাস্তির বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড বা আইএফআরএস-৯ চালু হবে। এসব বিষয়ে প্রস্তুতির দরকার আছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন উদ্যোগ নিতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার হয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা ২৮ লাখ কোটি টাকার বেশি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ অর্থ বাইরে নেওয়া হয়।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপের দেশে-বিদেশে পাচারের অর্থ উদ্ঘাটনে চার সংস্থার উদ্যোগে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপের দেশে-বিদেশে ৫৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া ১০ হাজার ৪৫২ কোটি এবং দেশে জব্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। জব্দ করা ৫৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি ১৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশে রয়েছে ৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকা এবং দেশে আছে ৭ হাজার ৭৭৫ কোটি। আর ৪৩ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে দেশে রয়েছে ৩৯ হাজার ৩১ কোটি টাকা। বিদেশে রয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।

বিদেশে জব্দ হওয়া অর্থের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ১৫ কোটি পাউন্ড এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমানের ছেলে ও ভাতিজার ৯ কোটি পাউন্ড অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) গত বছর এ অর্থ জব্দ করে। ছয়টি গ্রুপের কারণে বর্তমানে ২৮টি ব্যাংক ভুগছে। এসব অর্থ ফেরত আনতে বিদেশি ল ফার্মের সঙ্গে ১৬টি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করেছে আটটি ব্যাংক। সন্দেহভাজন পাচারকারী যে ব্যবসায়ী গ্রুপ যে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে, তাকে লিড ব্যাংক নির্বাচন করা হয়েছে।

বেসরকারি খাতের এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, ব্যাংকগুলো নিজ থেকে সব ধরনের নিয়ম মেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে ঋণ বিতরণ করবে– এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু বিগত সময়ে বড় ঋণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো না কোনো ত্রুটি নিয়ে ঋণ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বেনামি, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিংবা ভুয়া জামানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। তাই যাচাই-বাছাই করা ভালো।

প্রেক্ষাগৃহের পর ওটিটিতে আসছে ‘দম’

ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় আফরান নিশো ও পূজা চেরি অভিনীত সিনেমা ‘দম’। এখনও দেশে বিদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে সিনেমাটি। এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘দম’ মুক্তির ঘোষণা এলো।

আজ দুপুরে চরকি জানিয়েছে, আসছে ঈদ উপলক্ষে ২১ মে চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। অর্থাৎ ঘরে বসে ‘দম’ উপভোগ করতে পারবেন দর্শক।

আফগানিস্তানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক বাংলাদেশীর সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত ’দম’ সিনেমার ট্যাগ লাইন ‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’।

রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরি। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখে দর্শক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সমালোচক—সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন ‘দম’ সিনেমাটি নির্মাণের মুন্সিয়ানার কথা।

পরিচালক রেদওয়ান রনি বলেন, ‘আমি বরাবরই বলে এসেছি ‘দম’ বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশীদের জয়ের গল্প। চরকিতের মুক্তির মাধ্যমে এই জয়ের গল্প সবার ঘর বা হাতে পৌঁছে যাবে। আশা করব দশে–বিদেশের সবাই এই জয় উপভোগ করবেন। ঈদের আনন্দে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরে বসেই ‘দম’ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। আশা করছি সবার ঈদ হবে দমদার।’

এসভিএফ আলফা–আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহের দর্শকরা বলছেন ‘দম’ সিনেমা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে লেভেল আপ করেছে। প্রতি সিনেমায় এটাই আমাদের চেষ্টা থাকে। এই চেষ্টাটা এবার সবাই দেখার সুযোগ পাবেন, সে জন্য ভালো লাগছে। প্রেক্ষাগৃহ নাই বা বিদেশ বলে এখন আরও কোনো বাঁধা থাকছে না। চরকিতে যে কোনো জায়গা থেকে সিনেমাটি দেখতে পারবেন দর্শকরা। এটাই আনন্দের।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগছেন? যে ৪ খাবার এড়িয়ে চলবেন

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও নানাবিধ কারণে বর্তমানে তরুণ-প্রবীণ অনেকেই ডায়াবেটিসের মতো ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগছেন। এ সমস্যায় প্রথম থেকেই সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে খাবারের দিকে নজর দিলে এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এমনটায় বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে।

ইউরিক অ্যাসিড 
ইউরিক অ্যাসিড কিডনি বা মলের দ্বারা বেরিয়ে যাওয়ার শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া রয়েছে। শরীরের প্রক্রিয়া অনুযায়ী এটি ফিল্টার হয়ে যায়। যদি কিডনি সঠিকভাবে একে ফিল্টার করতে না পারে, তাহলে ইউরিক অ্যাসিড রক্তে মিশে যেতে পারে। ফলে গাঁটের ব্যথার মতো রোগ দেখা যায়।

উপসর্গ
•    শোবার সময় পায়ে প্রবল ব্যথা অনুভব করা।
•    পায়ের কিনারায় ফোলাভাব।
•    পায়ের জয়েন্টে ব্যথা।
•    বসা ও ওঠার সময় পায়ের পাতায় ব্যথা।

ভুলেও যে খাবার খাবেন না

দই: দই পেট ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগলে এটি খাবেন না। এতে থাকা ট্রান্সফ্যাট আর প্রোটিন শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে দেয়।

জাঙ্কফুড: ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেলযুক্ত খাবার ও জাঙ্কফুড খাওয়া বাদ দিন। এসব খাবার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

ফুলকপি ও বাঁধাকপি: শীতকালীন সবজি হলেও এখন প্রায় সারাবছরই ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা মনে করেন পাতাজাতীয় এ সবজি খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মাশরুমের মতো জিনিস খাওয়া উচিত নয়। কারণ এসব সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। শরীরে অতিরিক্ত পিউরিন প্রবেশ করলে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

বাদাম: ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের বাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন অনেকে। কারণ বাদাম খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া অ্যালকোহল সেবনেও ইউরিক অ্যাসিড অনেক বাড়ে। তাই সুস্থ থাকতে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকতে হবে।

বিসিবি নির্বাচনে তিন সদস্যের কমিশন গঠন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিমকে। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন- গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপসচিব ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ. বি. এম. এহসানুল মামুন।

আজ বুধবার বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিসিবি জানিয়েছে, এই নবগঠিত কমিশন ২০২৬ সালের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আইনি বিষয়গুলো তদারকি করবে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তাদের ক্ষমতাবলে গত ৭ এপ্রিল বিসিবির আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন ওই বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম তদন্ত করে খুঁজে পায় এনএসসি। সেদিনই তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয় অ্যাডহক কমিটি। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কমিশন নির্বাচনের বিস্তারিত তপশিল ঘোষণা করবে। বর্তমান বোর্ড প্রধান তামিম জানিয়েছিলেন- জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে বিসিবির নির্বাচন, যেখানে তিনিও একজন প্রার্থী।

গোপনে সৌদি আরবও ইরানে হামলা করেছিল: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার সময় সৌদি আরবও গোপনে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছিল। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন পশ্চিমা ও দুজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে রিয়াদ কখনো তেহরানে অভিযান চালায়নি। ফলে এবারের হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোকাবিলায় সৌদি আরব আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিচ্ছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি বিমান বাহিনী ওই হামলাগুলো চালিয়েছিল। একজন কর্মকর্তা এটিকে ‘ইট মারলে পাটকেল খাওয়ার মতো’ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা করেছিল।

ইরানে সৌদি আরবের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো কী ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটি আছে। এর বিনিময়ে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পায়। তবে ইরান যুদ্ধ সেই নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকে নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে বিএনপি

তৃণমূলকে ব্যস্ত রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে ফিরছে বিএনপি। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের অপপ্রচার ঠেকাতে এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এরই মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র থেকে জেলা, মহানগর পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ঝালকাঠিতে লিফলেট বিতরণ করেছে যুবদল।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৯ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে দলটি। এর আগে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয়। এখন আবার রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ আর গণভোট নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সৃষ্ট মতবিরোধ যাতে রাজপথে না গড়ায় সেদিকে নজর দিতে হচ্ছে। এ জন্য এই দুই ইস্যু ছাড়াও বিরোধী দলের নেতিবাচক প্রচারণার পাল্টা হিসেবে নিজেদের বক্তব্য নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি নেতারা জানান, দলটি শুরু থেকেই বলে আসছে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তবে গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারের প্রস্তাব পাস হয়েছে তার দায় কোনোভাবেই তারা নেবেন না। এ নিয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই নতুন কর্মসূচি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বলছে, বিএনপি সংস্কার চায় না। তারা সত্যের অপলাপ করছে। আমরা নির্দ্বিধায় ঘোষণা করতে চাই যে, আমরা শুধু সংস্কার চাই না, সংস্কার বাস্তবায়নও করব।’

গত শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি এলাকার দলীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি নির্ধারণের নির্দেশ দেন। গণভোট আর জুলাই সনদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য জানাতে লিফলেট বিতরণ, পথসভা, উঠান বৈঠকের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বলেছেন তিনি। থানা-উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কর্মসূচি করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে জানানোর জন্যও বলা হয়।

এর অংশ হিসেবে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরের দায়িত্বশীল নেতাদের দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপি এবং দলীয় গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের (জেলা ও মহানগর পর্যায়ের) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে।

বিএনপির কয়েকজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা সমকালকে জানান, বিএনপির সরকার গঠনের প্রায় তিন মাস হতে চলল। এর মধ্যে তৃণমূলে ক্ষোভ-হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বিগত দিনের ত্যাগের মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে এক ধরনের অভিযোগ আছে। তারা চাইছেন সরকার আর ক্ষমতার অংশীদারিত্ব। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান মনে করছেন, সরকার এবং দল মিলেমিশে একাকার হলে সংগঠন যেমন ধ্বংস হয়, তেমনি সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

অনেক সময় দলের নেতাকর্মীদের অযৌক্তিক দাবি বা অসংলগ্ন আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এতে সরকার ও দলের মধ্যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। এ জন্য সেটি তারা চাইছেন না। তারা দল আর সরকারকে আলাদাভাবে চাইছেন। এর অংশ হিসেবে দলীয় কার্যক্রমের দিকে নজর দিতে চাইছেন তারেক রহমান। নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় কর্মসূচির বাইরেও শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

নেতারা বলেন, আগামী কোরবানির ঈদের পরপরই বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, মহানগর ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। এতে দল ও সংগঠন শক্তিশালী হবে, তেমনি নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রে সরকার কাজ করবে এবং বিরোধী দল তার সমালোচনা করবে—এটিই স্বাভাবিক। তবে সেই সমালোচনা এবং কর্মসূচি যেন গঠনমূলক হয়। সরকারের ভুল ধরিয়ে দিলে রাষ্ট্র আরও কার্যকর হয়। বিরোধী দল যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য অনবরত মিথ্যাচার করে, সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা হয়। আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

হামের টিকার আওতায় ৯৮ শতাংশ শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে বর্তমানে ৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ২ শতাংশ শিশুকেও টিকাদানের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে চীনের দূতাবাস ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে কেন কিছু শিশু হামের টিকার বাইরে ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন জুনে 
দেশে বর্তমানে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের সাময়িক ঘাটতি থাকলেও আগামী জুনের মধ্যে তা পূরণ হবে। এরপর জুন মাস থেকে দুই ধাপে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশেপাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার পিছু নেন। হঠাৎ দেখা যায় ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু একটা পেঁচিয়ে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একজনের চিৎকার শুনতে পাই। আমরা সেখানে গেলে পাশের জঙ্গল থেকে একটা মেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় আসে। তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি, ধুলা লেগে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘আপু কী সমস্যা?’ তখন ওই শিক্ষার্থী জানান, কেউ একজন তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আমরা উপস্থিত সবাই তৎক্ষণাৎ জঙ্গলে ঢুকে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু অন্ধকারে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা নিরাপত্তা শাখায় ফোন দিই। তারা আসার পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।”

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জাকসুর নেতারাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহিৃত করেছি। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা কোনো না কোনো ফুটেজ দেখে তার পরিষ্কার ছবি পাব বলে আশা করছি। আমরা ইতিমধ্যে পুলিশকে এই বিষয়ে জানিয়েছি। অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’