Home Blog Page 89

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিলেও বহাল

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার আপিল নিষ্পত্তি করে সংক্ষিপ্ত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল, সে আপিলগুলো ডিসমিস করে দিয়েছেন (আপিল বিভাগ)। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।’

২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। চুড়ান্ত শুনানি শেষে ওই বছর  ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয় হাই কোর্টের রায়ে। পরে ৩ নভেম্বর ওই রায় পুরো বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রিট মামলার বাদীপক্ষ সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি। টানা তিন দিন তিনটি আপিলের উপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় গতকাল বুধবার।

বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বিমান বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারপ্রধান জানান, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসনের প্রশ্নে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে।

নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

জামালপুর-৩ আসনের বিএনপির এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত বিনিয়োগ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও স্বচ্ছ করতে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি।

মিয়ানমারের সবপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয় সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির এমপি সেলিম রেজার প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর। রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের এমপি রবিউল আওয়ালের প্রশ্নে সংসদ নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে কর্মী নিয়োগে চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া পাঠানো হয়েছে।

শেয়ারবাজারের পতনের কারণ অনুসন্ধান
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দেশে শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য দায়ীদের চিহিৃত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যে দুদক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা রয়েছে। কিছু ব্যক্তিকে চিহিৃত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকা পুঁজিবাজারের বৈষম্য দূর করা হবে কিনা প্রশ্নে সংসদ নেতা বলেন, কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিমা কোম্পানির প্রতারণার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ রয়েছে। সেখানে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।

এই দল কখনো হার মানে না: মেসি

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা, তখন যেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্বাস হারায়নি লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

নাটকীয় এই জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসিও তুলে ধরলেন দলের অদম্য মানসিকতার কথা। তিনি বলেন, ‘এটাই বিশ্বকাপ, আর এখানে প্রতিটি ম্যাচই একই রকম কঠিন। আমি খুবই আনন্দিত। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে এভাবে ম্যাচে ফিরে এসে জেতা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু আমি সব সময়ই বলে এসেছি, এই দল কখনো হার মানে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাই। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, কারণ রোমেরোর গোলটা দ্রুতই পেয়েছিলাম। এতে ম্যাচে ফিরে আসার জন্য আমাদের যথেষ্ট সময় ছিল।’

ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল আবেগের রোলার-কোস্টার। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলেন নিজের চেনা জাদুতেই। ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করেন মেসি। চার মিনিট পর, ৮৩তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে নিজেই গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান আর্জেন্টিনা।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে নিশ্চিত হয় ৩–২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয়। কয়েক মিনিট আগেও যে দলটি বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল, তারাই মুহূর্তের ব্যবধানে জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

ম্যাচ শেষে গ্যালারি ভরিয়ে দেওয়া আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আজ এই দল মাঠে যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পুরো ম্যাচজুড়ে সমর্থকেরা আমাদের যেভাবে উৎসাহ দিয়েছে, তা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। মানুষ আমাদের খেলা উপভোগ করছে, দলের পাশে আছে। এটা আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়।’

অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও পরিবহনসংকটের প্রেক্ষাপটে আজ বুধবারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

কযেক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পরিবহনসংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

চট্টগ্রামে গত ৪২ বছরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। ১৯৮৪ সালের পর এটিই একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে একই সময়ে ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল, যা এখনো সর্বোচ্চ। তবে চলমান ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সেই রেকর্ডও ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা সুমন সাহা বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে অতীতেও টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে এবারের মত এত বৃষ্টিপাত আগে হয়নি। তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৮ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিলিমিটার, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই ২৯৯ মিলিমিটার, ২০১২ সালের ১২ জুলাই ১৮৪ মিলিমিটার এবং ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এবার সেই সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় আজ বুধবারের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আর যাত্রা করতে পারেনি। পরে ট্রেনটি যাত্রা বাতিল করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যায়।

দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশের ১৯টি অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে এ পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারসহ অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আড়াল ভেঙে ক্যামেরার সামনে ফিরছেন বুবলী

রোজার ঈদে রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ দিয়ে প্রশংসা পেয়েছিলেন শবনম বুবলী। এই সিনেমায় প্রচারণায় দেখা যায়নি তাকে। তারও আগে থেকে নিজেকে আড়াল করছিলেন অভিনেত্রী। কারণ, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এই নায়িকা। কিছুদিন আগে খবর দিলেন, এক কন্যার মা হয়েছেন তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরছেন বুবলী।

আসছে সেপ্টেম্বরেই জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী। চলচ্চিত্রটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ।

এ প্রসঙ্গে নির্মাতা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বুবলির সঙ্গে কথা হয়েছে। ওর শারীরিক অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন সাপেক্ষে সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরবে বলে কথা দিয়েছে বুবলি।’

486615367 1246739533475974 5338597192678625264 n 1783412326

পুরান ঢাকার সংস্কৃতি তুলে ধরতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ঢাকাইয়া দেবদাস। এতে শিয়া যুবকের চরিত্রে অভিনয় করবেন আদর আজাদ। অন্যদিকে, সুন্নি তরুণীর চরিত্রে দেখা যাবে বুবলিকে। শুধু তাই নয়, উর্দু ভাষায়ও তাদের কথা বলতে দেখা যাবে এ চলচ্চিত্রে।

নির্মাতা বলেন, ‘বুবলি যেহেতু এখন সন্তান ও নিজের পরিচর্যায় কিছুটা দিন সময় নেবেন, তাই আমরা এর মধ্যে অন্যান্য অংশের শুটিংগুলো শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য পুরান ঢাকাকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা।’

নামে বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্রের পরিচয় মিললেও এটি প্রথমত আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোকে লক্ষ্য করে নির্মিত হচ্ছে। তারপর দেশে মুক্তির পরিকল্পনা জানালেন জাহিদ হোসেন। তার পিতা নাসির হোসেন বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ ‘কিংবদন্তি ঢাকা’র রচয়িতা। পুরান ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় গল্পে পাওয়া যাবে এ অঞ্চলের সত্যিকারের ভাষা-সংস্কৃতি ও গল্প।

পপতারকা লরেন বেনেট মারা গেছেন

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘পার্টি রক অ্যান্থেম’ গানের কণ্ঠশিল্পী ব্রিটিশ গায়িকা লরেন বেনেট আর নেই। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক এই খবরে সংগীতপ্রেমীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পপ অঙ্গনেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সোমবার লরেনের সাবেক গার্ল গ্রুপ ‘জি.আর.এল.’ তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কিংবা ব্যান্ডের বিবৃতিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০১১ সালে এলএমএফএও-এর বিশ্বখ্যাত গান ‘পার্টি রক অ্যান্থেম’-এ কণ্ঠ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান লরেন বেনেট। গানটি প্রকাশের পর টানা ছয় সপ্তাহ বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখে। পরবর্তী সময়ে এটি বিলবোর্ড ইতিহাসের অন্যতম সফল গানের স্বীকৃতি পায়। ইউটিউবেও গানটির জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে এর মিউজিক ভিডিওর ভিউ ২.৫ বিলিয়নেরও বেশি, যেখানে লরেনের পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

২০১৪ সালে তিনি গার্ল ব্যান্ড ‘জি.আর.এল.’-এ যোগ দেন। দলটির ‘আগলি হার্ট’ গানটি প্রকাশের পর তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। একই সময়ে মার্কিন র্যা পার পিটবুলের ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড লাভ’ গানেও ব্যান্ডটির সঙ্গে কণ্ঠ দেন লরেন। তবে ২০১৫ সালে ব্যান্ড সদস্য সিমোন ব্যাটেলের মৃত্যুর পর দলটির কার্যক্রম ভেঙে পড়ে।

সংগীতের পাশাপাশি ‘ডেট নাইট’ ও ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’সহ কয়েকটি হলিউড চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকেও নিজের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। লরেনকে স্মরণ করে ‘জি.আর.এল.’ লিখেছে, তাঁর আন্তরিকতা, হাসিমুখ ও অসংখ্য স্মৃতি সবসময় সবার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। ভক্তরাও সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছেন।

বাসযোগ্যতা সূচক ঢাকার সংকট কোথায়

বিশ্বের শহরগুলো যখন স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন, নগর ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকা হাঁটছে উল্টো পথে। একের পর এক আন্তর্জাতিক বাসযোগ্যতা সূচকে পিছিয়ে পড়ছে শহরটি। চলতি বছরের বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহরের অবস্থানে নেমে এসেছে ঢাকা। একই সময়ে বিশ্বের সব অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে এশিয়ায়। কিন্তু সেই অগ্রগতির সুফল থেকেও কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার প্রধান সংকট শুধু যানজট নয়। সমস্যার মধ্যে রয়েছে– অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনঘনত্বের অস্বাভাবিক চাপ, দুর্বল গণপরিবহন, অপর্যাপ্ত খোলা জায়গা, বায়ু ও শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা ও নগর সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) মঙ্গলবার ২০২৬ সালের যে ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স’প্রকাশ করেছে তাতে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ১০০ নম্বরের মধ্যে ঢাকার সামগ্রিক স্কোর ৪২। ঢাকার নিচে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক এবং লিবিয়ার ত্রিপোলি। অর্থাৎ যুদ্ধবিধ্বস্ত দুটি শহর বাদ দিলে বিশ্বের আর কোনো শহরই ঢাকার চেয়ে কম বাসযোগ্য নয়। এই সূচক মূলত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে বিদেশে কর্মরত কর্মীদের জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা মূল্যায়নে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হলেও সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বের শহরগুলোর জীবনমান পরিমাপের অন্যতম গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। সরকার, বিনিয়োগকারী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং গবেষকরা শহরের শক্তি ও দুর্বলতা মূল্যায়নে এই সূচক ব্যবহার করেন।

ঢাকার অবস্থান এক বছরের ব্যর্থতার ফল নয়। বরং গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছে শহরটির। ২০২১ সালে ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭তম। ২০২২ সালে ১৭২টি শহরের মধ্যে ১৬৬তম। ২০২৩ সালেও ১৭৩টি শহরের মধ্যে একই অবস্থানে ছিল। ২০২৪ সালে আরও পিছিয়ে ১৬৮তম স্থানে নেমে যায়। ২০২৫ সালে অবস্থান হয় ১৭১তম। আর এ বছর একই অবস্থানে থেকে বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে রয়ে গেছে ঢাকা।

ইআইইউ পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে। এগুলো হলো–স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো। এর মধ্যে ঢাকার স্কোরগুলো হলো– স্থিতিশীলতা ৪৫, স্বাস্থ্যসেবা ৪২, সংস্কৃতি ও পরিবেশ ৪১, শিক্ষা ৬৭ এবং অবকাঠামো ২৭। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অবকাঠামোতে মাত্র ২৭ নম্বর পাওয়া। অর্থাৎ সড়ক, গণপরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও নগরসেবার মানই ঢাকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। শিক্ষা খাত তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও সেই অর্জন সামগ্রিক বাসযোগ্যতার মান বাড়াতে পারেনি।

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় নাগরিক সুবিধা ও জনঘনত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যাচ্ছে না। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নেই। যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, তার অনেকটাই পরিকল্পনার মানদণ্ড পূরণ করছে না।

তিনি বলেন, বাসযোগ্য শহরের অন্যতম শর্ত উন্নত গণপরিবহন। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও বাসভিত্তিক শৃঙ্খলাবদ্ধ গণপরিবহন গড়ে ওঠেনি। সরকার অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিলেও গণপরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার হয়নি। ফলে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং যানজট আরও বাড়ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ঢাকায় নাগরিক সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহির অভাব রয়েছে। কেন শহরটি ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকরভাবে জবাবদিহি করে না। অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি। বাসগুলোর মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা চলতে থাকলে তাকে আধুনিক গণপরিবহন বলা যায় না। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতেও ঢাকার বাসযোগ্যতায় বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা কম।

বর্তমানে এশিয়ার ৫৮টি শহরের গড় স্কোর প্রায় ৭৪, যা পূর্ব ইউরোপের গড়েরও ওপরে। কিন্তু ঢাকার স্কোর ৪২। অর্থাৎ আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে প্রায় ৩২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এশিয়ার উন্নয়নের সুফল সমানভাবে বণ্টন হয়নি। ঢাকার মতো নিম্ন স্কোরের শহরগুলো পুরো অঞ্চলের গড়কে নিচের দিকে টেনে ধরছে।

দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যেও ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে খারাপের দিকে। পাকিস্তানের করাচি রয়েছে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে, ১৭০তম স্থানে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও ঢাকার চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শহর যুদ্ধের প্রভাবে পিছিয়ে গেলেও ঢাকার অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার কারণ যুদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল অবকাঠামো, পরিবেশ দূষণ, নগর শাসনের সংকট এবং জনঘনত্ব।

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় দেশে প্রাণ গেছে ১০ জনের বিভিন্ন ঘটনায় আহত অন্তত ৪৫ জন

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল-ভক্তরা বাগ্‌যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। প্রিয় দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান তিনজন। এ ছাড়া মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় দুর্ঘটনা, উত্তেজনায় হার্ট অ্যটাকসহ বিভিন্ন ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এরই মধ্যে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবির সদস্যরা নজরদারি করবেন।

দূরদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ঘিরে দেশে হতাহতের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ চলার সময় এক মাসে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিন জেলায় তিনজন খুন হন। পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে ও ছাদ থেকে পড়ে সাতজনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও হবিগঞ্জে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

জানতে চাইলে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয় পরাজয় থাকবে– এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক– কোনো ক্ষেত্রেই জয় পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না। নিজের মতের বাইরে কিছু হলেই আমরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠি। এর মূলে রয়েছে আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং অন্যের আবেগের প্রতি সম্মান দেখানোয় ঘাটতি। আমরা মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সুস্থতার বিষয়ে মনোযোগী না হওয়ায় এমনটা ঘটছে।

তবে বিশ্বকাপ ঘিরে পৃথিবীর অনেক দেশেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর স্থানে গুলিতে একজন নিহত হন। মেক্সিকোতে জয় উদযাপনের সময় ভিড়ের ভেতর দমবন্ধ হয়ে চারজন এবং জর্ডানে হুড়োহুড়ির কারণে পদদলিত হয়ে একজনের মৃত্যু ও আটজন আহত হন।

খেলার বিরোধে ঝরল তিন প্রাণ

গত বুধবার একই দিনে ঢাকার আদাবর ও সিলেটের জকিগঞ্জে দুজনকে খুন করা হয়। সেই রাতেই ঢাকার আশুলিয়ায় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। আদাবরে বিএনপির নবোদয় হাউজিং ইউনিটের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আবুল বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। দুদিন আগে ব্রাজিলের জয় উদযাপন নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে সমকালকে জানান মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।

এদিকে, ব্রাজিল জাপান ফুটবল ম্যাচ নিয়ে সমর্থকদের বিরোধের জেরে আশুলিয়ায় নাহিদ হাসান নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া হয়। বুধবার মধ্যরাতে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার গরুর হাটে মাটি খুঁড়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

সেই রাতে সিলেটের জকিগঞ্জের খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রামে ফুটবল খেলার উল্লাস ঘিরে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান আলম আহমদ। জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, হত্যায় অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার ও রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনজনের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পর্শে

পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেছে তিনজনের। গত ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গাছে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। ১৫ জুন চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড় এলাকায় আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে মারা যান রামহরি বৈষ্ণব। আর ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় ফয়সাল নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়।

আরও চার মৃত্যু

বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবল খেলার ধুম পড়ে যায়। তেমনই একটি আয়োজন ছিল নড়াইল সদরে। সেখানে গত শুক্রবার কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তাফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিন চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় ফুটবল মাঠের গোলপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সেদিনই বরগুনার তালতলীতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।

এর আগে ১৩ জুন ভোলার বোরহানউদ্দিনে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় যোগ দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। তাঁর নাম মো. ইসমাইল।

ইরানের তেল বিক্রির সুবিধা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অনুমতিও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নেয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের বাহিনীর কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। এ কারণে ইরানকে ‘উচ্চ মূল্য’ দিতে বাধ্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সিরিকে একটি বাণিজ্যিক জেটিতে আঘাত হানা একটি প্রক্ষেপণের ধ্বংসাবশেষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সেখানে মাছ ধরার নৌঘাট ও কয়েকটি মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। তবে সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে ওই স্থানে হামলার কথা উল্লেখ করেনি।

এদিকে হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড়ও বাতিল করেছে। গত ২২ জুন দেওয়া ওই সাধারণ লাইসেন্সের আওতায় ইরানকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে সব লেনদেন গুটিয়ে ফেলতে হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিরতির কাঠামোগত সমঝোতা লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় কাতার ইরানকে দায়ী করেছে। দেশটির অভিযোগ, ‘আল রেকাইয়াত’ নামে একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে। তবে নাবিকেরা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলের কাছে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি সুপারট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।

তবে কাতারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। তবে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কাজ শেষ করে দেব।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে স্থায়ী চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।