Home Blog Page 9

যুক্তরাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

০

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিন পর একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুমকির জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত থাকা অবস্থায় প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে নিউইয়র্ক সময় বুধবার জাতিসংঘে ভাষণ দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বল প্রয়োগের ভাষা মেনে নেওয়া হবে না।’

অধিবেশনে সাধারণ বিতর্ক শুরুর প্রথমদিনে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, সংঘাত নিরসনের আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দেবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি কি তাদের এমন নরকে ঠেলে দেব, যেখানে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না?’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট। ছবি: এএফপি

ইরানের কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি অন্য দেশগুলোকে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ওই ভাষণের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ এবং হেয় করা হলে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়বে। আমরা কখনো কারও কাছে মাথা নত করব না।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্প ও অন্য যারা আমাদের হেয় করতে চায়, তাদের একটি বিষয় বুঝতে হবে। সেটি হলো- আমরা আলোচনা, সংলাপ কিংবা কূটনীতিতে রাজি। কিন্তু বল প্রয়োগের ভাষা মেনে নেব না।’

পেজেশকিয়ান বক্তব্য শুরু করার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদল পরিষদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। আগেরদিন ট্রাম্পের ভাষণের সময়ও ইরানি প্রতিনিধিরা একইভাবে পরিষদ ত্যাগ করেছিলেন।

ভারত মহাসাগরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিল ইরান

০

যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে ইরান। বৃহস্পতিবার এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স-এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ইয়াহিয়া রহিম বলেন, এরইমধ্যে সংঘাত পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। আরও যুদ্ধ হলে সেটির জবাবে সংঘাতের ফ্রন্ট বিস্তৃত হবে। যা ভারত মহাসাগর ও এর বাইরের অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াইরত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। এই প্রণালি সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আছে। তবে ইয়েমেনের সংঘাতে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা তেহরান অস্বীকার করে আসছে।

এর আগেও ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন হামলার জবাবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবারের সতর্কবার্তায় প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতার কোনো উপদেষ্টা সরাসরি ভারত মহাসাগরের কথা উল্লেখ করলেন। মহাসাগরটির দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি আছে। এটি ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে।

সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা হিসেবে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন। সেখানে নিজেদের শর্ত তুলে ধরে ইরান। এরমধ্যে আছে- আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ ছাড়।

গত মঙ্গলবার এএফপিকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। তখন তিনি ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন।

নিত্যপণ্যের দাম একের পর এক বাড়ছে

০

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাস দেড়েক ধরে ক্রেতাকে ভোগাচ্ছিল আটা-ময়দা। গত সপ্তাহে আরেক দফায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পণ্য দুটির দাম। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এতে নতুন করে চাল, ডিমসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দর বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রতি কেজিতে পয়সার হিসাবে বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে টাকার অঙ্কে।

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর মধ্যে একের পর এক নিত্যপণ্যের দর বাড়তে থাকায় কম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নতুন করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে গরিব মানুষের টিকে থাকতে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ থেকে উত্তরণে বাজারে সরকারের কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে
গতকাল বুধবার রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। সেই হিসাবে আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

তবে খোলা আটা ও ময়দার দর কিছুটা কম। পণ্য দুটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ ও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।

আটা-ময়দার দাম বাড়ার বিষয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক সমকালকে বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বাড়ল। নতুন করে দুই কেজির যে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা দিয়েছে কোম্পানিগুলো, সেগুলোর খুচরা ‍মূল্য লেখা রয়েছে ১৪০ এবং ১৬০ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামান্য লাভ হয়। তাই গায়ের দরে বিক্রি করি।’

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসে প্যাকেটজাত আটার ৪ ও ময়দার ১৭ শতাংশ দর বেড়েছে।

চালের দাম বাড়ার ইঙ্গিত
আটা-ময়দার এমন উচ্চমূল্যের মধ্যেই নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে চালের বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ট্রাক ভাড়া বাড়ার ফলে মাসখানেক ধরে স্থির থাকা চালের বাজারেও নড়চড় শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

‘আজ ১৫ টন চাল এনেছি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। দুই দিন আগেও ট্রাক ভাড়া দিছি ১৭ হাজার টাকা। আজ চার হাজার টাকা বেশি দিলাম। এটা আসলেই অনেক বেশি।’ গতকাল পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমকালকে এভাবেই জানালেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের বিক্রয়কর্মী মহিউদ্দিন।

তাঁর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চালের জন্য তাঁকে আগের তুলনায় পরিবহন ভাড়া ২৭ পয়সা বেশি গুনতে হচ্ছে।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘গাড়ি ভাড়া যেহেতু বেড়েছে, চালের দর না বাড়িয়ে উপায় নেই।’

কত বাড়তে পারে– জানতে চাইলে মহিউদ্দিনের পাশের দোকানদার মুক্তা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান বলেন, ৫০ পয়সা বাড়ার কথা। কিন্তু এখন তো আর পয়সার হিসাব নেই। হয়তো এক টাকা বাড়তে পারে। তবে এই দর এখনই বাড়বে না বলে জানান উভয় ব্যবসায়ী। তাদের ভাষ্য, এখনও আগের কেনা চাল রয়ে গেছে। নতুন করে যেসব চাল আসছে; দুই-এক দিন পর সেগুলো বিক্রি শুরু হলে তখন দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে চাল এনে মহাখালী কাঁচাবাজারে বিক্রি করে ইয়াসিন ট্রেডার্স। দোকানটির বিক্রয়কর্মী বলেন, কৃষি মার্কেট থেকে আগে ছোট পিকআপে দেড় হাজার টাকার মতো ভাড়া ছিল। এখন ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বাড়তি এই ভাড়া চালের দামেই যুক্ত হবে। ফলে দাম কিছুটা হলেও বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে মিলারদেরও চাল ভাঙানোর খরচ বাড়বে। কয়েক দিনের মধ্যে তারাও হয়তো দাম বাড়াতে পারে। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই চাল বিক্রেতা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, সরকারের নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা মনগড়া দাম বাড়িয়ে ভোক্তার ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কেজিতে পরিবহন খরচ হয়তো ১৫ থেকে ২৫ পয়সা বাড়তে পারে। কিন্তু এই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নেবে।

জ্বালানি তেলের দাম ধাপে ধাপে বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হলো। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে একে ব্যবহার করে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াতে না পারে তার জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে সরকারকে।

প্রভাব পড়তে পারে চিড়া-মুড়িতে
কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে চিড়া-মুড়ি-খই ও গুড় বিক্রি করেন মনির হোসেন। গতকাল তিনি বরিশাল থেকে তিন হাজার ২০০ কেজি হাতে ভাজা মুড়ি এনেছেন। সমকালকে মনির হোসেন বলেন, নিয়মিত ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছি। অনেক দর কষাকষির পর গতকাল তিন হাজার টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে মুড়ি আনতে হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মুড়ি মানভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মনির হোসেন জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কেজিপ্রতি তাঁকে প্রায় এক টাকা বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ফলে পাইকারি দরে বিক্রি করার সময় এই টাকা যোগ করেই তাঁকে বেচতে হবে। তিনি বলেন, খুচরা বাজারে এই এক টাকা হয়তো দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। শুধু চাল আর মুড়ি নয়, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ভাড়া বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে এবং এর চূড়ান্ত চাপ পড়ছে ভোক্তার ঘাড়ে।

ভোজ্যতেল
চলতি মাসের শুরুতে বোতল ভোজ্যতেলের দর লিটারে পাঁচ টাকা বেড়েছিল। এর পরও বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা পাঁচ লিটার বোতলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। মহাখালী কে বি স্টোরের বিকাশ বণিক বলেন, ভোজ্যতেল কোম্পানির ডিলাররা আকারে-ইঙ্গিত জানালেন, তেলের দর আরও বাড়ানোর জন্য তারা সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। এ জন্য তারা তেল কম দিচ্ছেন।

ডিমের হালি ৫৫ টাকা
দুই মাস ধরে ডিমের বাজারও চড়া। এখন দাম আরও চড়েছে। পশ্চিম নাখালপাড়ার মা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, ভ্যানগাড়িতে তাঁর দোকানে যিনি প্রতিদিন ডিম দিচ্ছেন, তাঁকে পাইকাররা বলে দিয়েছেন– ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে ডিমের দর কিছুটা বাড়তে পারে। গতকাল তিনি প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি করেছেন ১৬০ টাকা দরে। তবে কেউ এক হালি (চারটি) কিনলে সে ক্ষেত্রে দাম রাখছেন ৫৫ টাকা।

প্যাকেটজাত তরল দুধ ও ফলের দাম বেড়েছে
সম্প্রতি সব কোম্পানির প্যাকেটজাত তরল দুধ লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে আমদানি করা সব ধরনের ফলও। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের জন্য কেজিতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং তা মেনে নিতে হবে– বিষয়টা এমন নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কত হওয়া উচিত; বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কত হতে পারে– বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে এ বিষয়ে দ্রুত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা উচিত।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কমিশনের বলা দরকার– জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে আসতে পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হবে। এর ভিত্তিতে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলো বাজার তদারক করলে সুফল মিলবে। কারণ তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার-সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যমূল্যে সামান্য যে পরিমাণ প্রভাব পড়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে প্রভাব বেশি পড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ দেব না। কারণ পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়বে; সেই অজুহাতে দাম দ্বিগুণ বাড়াবে– এই অতি মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন বাজার তদারক করছি। পরিবহন ভাড়া কত বাড়ছে আর পণ্যমূল্য কত বাড়ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। নজরদারি আরও কঠোর হবে।’

তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী কার্নিভাল

০

তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে WUB STEM Carnival 2026।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উত্তরায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ কার্নিভালে দেশের শতাধিক কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর জাকি ইমাম, ডিন অব একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসার্চ প্রফেসর ড. এ.কিউ.এম. শফিউল আজম এবং ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

কার্নিভালে চারটি প্রধান ইভেন্ট ছিল—Mathematical Olympiad, Science & ICT Olympiad, Quiz Competition এবং Project Showcasing। এইচএসসি, এ লেভেল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। কার্নিভালে মোট ৩ লাখ টাকা প্রাইজমানি ছিল। বিজয়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি সনদ ও ক্রেস্ট এবং অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ সনদ প্রদান করা হয়।

কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল Project Showcasing। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দল রোবোটিক্স, টেকসই উন্নয়ন ও প্রকৌশল নকশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। দুই থেকে চার সদস্যের দলগুলো তাদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ধারণাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে।

সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশন ও রিসেপশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

কার্নিভালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ধারণা বিনিময়, সহপাঠীদের কাছ থেকে শেখা, দলগতভাবে কাজ করা এবং নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা উপস্থাপনের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ ও উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দেয়।

WUB STEM Carnival 2026 তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশে রিজভী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সায় দিচ্ছে গুপ্ত বাহিনী

০

শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে দেশের গুপ্ত বাহিনী সায় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে গিয়ে সেখান থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা তালের পাখা দিয়ে বাতাস করছে।

দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার জাহিদ, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মাসুম বিল্লাহ, জহির উদ্দিন তুহিন, শেখ ফরিদসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যে দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু এ দেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছে। এই রাজপথ অন্য কোনো দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি বা কেউ কিনে নেয়নি। এই রাজপথ এ দেশের মেহনতি জনগণের। বিএনপি সব সময় অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কিউবায় ১০-১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের কিছু নেতা না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে মোড় নিচ্ছে। অথচ একটি মহল জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে বিলাসিতা ও অতিরিক্ত গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করে অপচয় করছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যমুনা সেতুর টোলের হিসাব ছিল সাড়ে ৪০০ গাড়ি। আর জামায়াতের আমির বলেছেন, এক হাজার গাড়ি নিয়ে গেছেন। এত গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বা রংপুরে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? যদি ধরেও নিই যে সাড়ে ৪০০ গাড়ি ছিল, তবে এই পরিমাণ জ্বালানি খরচ না করে তা যদি সাশ্রয় করা হতো, তবে দেশের উপকার হতো।

আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে: মারদিয়া মমতাজ

০

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নারী প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও নারী অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘গত নির্বাচনেও আমাদের দলের নারীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা সরাসরি নির্বাচন করতে চান কি না। ৭০ শতাংশ নারী না উত্তর দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, আমি যে নির্বাচন করব, আমি আমার নিরাপত্তা পাব কি না।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের আজ রাস্তায় নামার অবস্থা নেই। আমি দলের বিরুদ্ধে বললে পদ পাব না, বরাদ্দ পাব না।’

ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আমি যখন ঢাকা-৮ আসনে দাঁড়াব, তখন আমার অবস্থা ওসমান হাদীর মতো হবে? তখন মনে হয় দাঁড়াব না।’

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

০

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের (স্থায়ী) বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান দেবাশীষ রায় চৌধুরী। তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।

লন্ডন থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে কজ শুরু করেন। এরপর ২০০৭ সালে হাইকোর্ট ও ২০১৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এ নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারকের সংখ্যা দাঁড়াল ১০০ জনে।

হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭০ জন ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, খুলনা ১ জন ও রংপুরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।

গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

এরদোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? খাদ্যতালিকায় রাখুন ৬ খাবার

০

অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

ওটমিল
এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

কাঠবাদাম 
এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের  আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

টক দই 
ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

তিসির বীজ 
খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

আপেল
‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

পুদিনা পাতার চা 

বারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।