Home Blog Page 9

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই : সালাহউদ্দিন আহমদ

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে তারা অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন গ্রহণ করুক। বিরোধী দলকে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আলোচনায় অংশ নেয়। তবে তারা একান্তই না এলে আমাদের সাংবিধানিক সংশোধন তো নিতেই হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এখন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দিলে তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।বিশেষ কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন। বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিফলিত করা যায়, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা অতিরিক্ত নমনীয়তাÑকোনোটিই যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় মতামত এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শোনা, তা রেকর্ড করা এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রাখতেই দিনব্যাপী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রফেসর গীতি আরা নাসরিন, প্রফেসর সামিয়া লুৎফা, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ একরামুল হক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর নেসার ইউ আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সভাপতি বলেন, শিক্ষাবিদদের লিখিত ও মৌখিক মতামত পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে কমিটিতে আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রয়োজন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয় সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে।

উচ্চাকাক্সক্ষার পথে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এমবিএস ইরানের মদদপুষ্ট মিলিশিয়াদের চাপে কোণঠাসা সউদী যুবরাজ

চলতি বছরের শুরুটা দারুণ এক অবস্থানে থেকে শুরু করেছিলেন সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে সদ্যই হোয়াইট হাউস সফর করে ফিরেছিলেন তিনি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও মনে হচ্ছিল সউদী আরব বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলেও বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছিল দেশটি।সরকারি আদেশ দেখুন
কিন্তু ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইরান সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের সঙ্গে সউদী আরবের সংঘাতের তীব্রতা এখন দেশটির নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি যুবরাজের সেই উচ্চাভিলাষী কিন্তু ধুঁকতে থাকা পরিকল্পনাগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মাধ্যমে তেলনির্ভর অর্থনীতিকে রূপান্তর করার কথা ছিল।

শনিবার সউদীর রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ছোড়া অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ইরান যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। হামলা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানান, ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান, যার একটি হাত বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের অঙ্গ হারিয়েছেন।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানান, বিমানবন্দরটির দুটি টার্মিনালে আঘাত হানা হয় এবং সেগুলোর ছাদ আংশিক ধসে পড়ে। ‘স্টোরিফল’-এর যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দর খালি করার সময় যাত্রীরা রক্তমাখা ফ্লোরের ওপর দিয়ে স্যুটকেস টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্ধ থাকা এই বিমানবন্দরে রবিবারও আরো হামলা হয়েছে। একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ৪ নম্বর টার্মিনালে আগুন ধরে যায় এবং এতে একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকজন আহত হন।

চলতি গ্রীষ্মেও সউদী কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে হুথি পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মিলিশিয়াদের ক্রমবর্ধমান হামলাÑযাকে তারা সউদী পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করছেÑবিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাসহ রাজ্যের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ও শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এটি দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে বাড়তে থাকা হুমকিকে স্পষ্ট করে তুলছে।

এ সংঘাত সউদী আরবের ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করে তুলেছে। এর প্রভাব পড়েছে মাসের শেষে নির্ধারিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের ওপরও, যা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। যুদ্ধের খরচ ইতোমধ্যে বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেওয়ার উপক্রম করেছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ এ পরিস্থিতি কীভাবে সামলান, তার ফলাফল সউদী সীমান্ত ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পের জন্য সউদী আরব অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী উৎস। এছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার প্রদানেও দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সপ্তাহের শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তবে মিলিশিয়া গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সউদী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দিতে পারে। গত শনিবার রাতে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যা করেছে তা অত্যন্ত খারাপ’।
রোববারের এক বক্তব্যে হুথির এক সামরিক মুখপাত্র সউদী বিমানবন্দরগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুÑএই হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে সউদী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরো হামলা প্রতিহত করার জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ৫০০ বা তারও বেশি মাইল দূরে অবস্থিত রিয়াদে তীব্র হামলা রাজধানীটির কিছু অংশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। পুরো শহরজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি মেডিকেল ক্লিনিক কমপ্লেক্সে এসে পড়ে। নগরীর আর্থিক জেলার কর্মী, কিছু আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বা সরে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ বাঙ্কারযুক্ত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত রাজপ্রাসাদগুলোর মধ্যে চলাচল করছেন এবং একটি নির্বাচিত নিরাপত্তা দল তাকে পাহারা দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সর্বশেষ প্রকাশ্যে এসেছিলেন।

রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ এবং ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিখসেন বলেন, সউদী নেতার সামনে ভালো বিকল্প খুব কমই আছে। ‘যে কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ার অর্থ হলো এমন একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংঘাতে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়া, যেখানে হুথিরা প্রমাণ করেছে যে তারা উল্লেখযোগ্য এবং প্রতীকী ক্ষতি সাধনে সক্ষম’।

সউদী প্রেস কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। রাজতান্ত্রিক এ দেশটিতে আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগ ও পর্যটন আকর্ষণের উদ্দেশ্যে গত এক দশকে যুবরাজ মোহাম্মদ অসাধারণ সব প্রকৌশলগত চাহিদাসম্পন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ঢেলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ শহর ‘নিওম’, রিয়াদে বিশালাকার কিউব আকৃতির ভবন এবং মরুভূমির স্কি রিসোর্ট। বার্ষিক প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বাজেটের একটি সরকারের জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, যার মোট খরচ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের খরচ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সেই অসম্ভব সমীকরণটিকে আরো কঠিন করে তুলেছে।

বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে এবং তা যুবরাজের ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত ব্যয় অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ অভিযানে প্রয়োজনীয় অর্থ সরিয়ে নেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করছে। এমনকি দেশটির এআই হাব হওয়ার পরিকল্পনাটিও এখন নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, কারণ ডেটাকেন্টারগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

যুবরাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে নেয়া বিশাল প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোই এখন স্থবির অথবা পর্যালোচনার মুখে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সউদী আরব ২০২৯ সালের এশিয়ান উইন্টার গেমস আয়োজনের পরিকল্পনা বাদ দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং তার চার বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করার জন্য এখনো তহবিল জোগাড় করতে হবে তাদের।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকস-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির তেলবহির্ভূত অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ছোট হয়ে এসেছে। সউদী অর্থ মন্ত্রণালয় এখন আশা করছে যে ২০২৬ সালে জিডিপি ৩.৬ শতাংশ সঙ্কুচিত হতে পারে।

বছরের শুরুতে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর দেশটি মরুভূমির ওপর দিয়ে লোহিত সাগরে তেল পাম্প করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তেল বিক্রি এবং উচ্চ মূল্যের কারণে তারা কিছুটা সুবিধা পেয়েছিল।
তবে জুলাই মাসে হুথিরা সউদী আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়, যা লোহিত সাগরের শিপিংকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। এরপর সেপ্টেম্বরে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা সউদীর প্রধান পথটিতেও আঘাত হানে তারা।

এরপর মিলিশিয়ারা সউদী বিমান চলাচলের ওপর নজর দেয়, যা অর্থনীতির আরেকটি স্তম্ভকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। হুথিরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপক্ষে চারবার হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সউদী আরবকে জড়িয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ নিজেই। ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল রিয়াদ। সউদী নেতৃত্বাধীন এই হস্তক্ষেপে চালানো ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা সংঘাতকে আরো উসকে দেয় এবং তেল স্থাপনাসহ রিয়াদ ও অন্যান্য শহরে হুথিদের হামলা চালাতে উৎসাহিত করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

ইরানের সঙ্গে চলা সংকট নিরসনে যুবরাজ মোহাম্মদ যখন কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই নতুন করে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। যুদ্ধের শুরুর দিকে তেহরানের হামলাগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরসহ জ্বালানি স্থাপন এবং অর্থনৈতিক সম্পদগুলোর ঝুঁকি পরিষ্কার করে দিয়েছিল।
সউদীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ব্যক্তিরা জানান, বিশাল এ দেশটিকে বিমান প্রতিরক্ষার আওতায় আনতে হিমশিম খাচ্ছিল সউদী আরব এবং রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার্থে তারা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ব্যাটারিগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিল।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে সমর্থন থাকলেও, যুবরাজ তার উপদেষ্টাদের ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখতে এবং দেশটির উদ্দেশ্য যে আক্রমণাত্মক নয় তা স্পষ্ট করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বসন্ত ও গ্রীষ্মজুড়ে হুথিদের বক্তব্য আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সউদীর গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য ইরান তাদের সক্রিয়ভাবে চাপ দিচ্ছিল। তবে কিছু সউদী কর্মকর্তার মতে, হুথিরা গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির শিকার হয়েছে এবং তারা ইরানের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে।

লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত কৌশলগত চৌকি ‘বাব আল-মান্দেব’-এর উপকূলীয় এলাকার দখল নিতে আগস্ট মাসে হুথিরা আক্রমণ শুরু করলে তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কৌশলগত বন্দর শহর মোখায় হুথিদের আক্রমণ প্রতিহত করার সময় সউদী সমর্থিত ইয়েমেনি মিত্রদের ওপর কোনো বিমান সহায়তা পাঠায়নি রিয়াদ, কারণ তারা সংঘাত আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চেয়েছিল। ফলস্বরূপ, মোখাসহ উপকূলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোর পতন ঘটে, যা সউদী তেল চালানের ওপর হুথিদের হুমকি আরো বাড়িয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে যুবরাজ মোহাম্মদের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেওÑযার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও রয়েছেÑহুথিদের অগ্রগতি রোধে সামরিক সহায়তার অনুরোধে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটন, যদিও তারা কিছু সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি তাদের সামরিক মিত্র পাকিস্তানের কাছে সহায়তা চেয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেতে সারা বিশ্বে খোঁজখবর চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এছাড়া ইয়েমেনি মিত্রদের সহায়তার জন্য তারা বিদেশি যোদ্ধা সংগ্রহের কথাও ভাবছে। একই সঙ্গে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এই সংঘাতের কোনো কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব কি না, সেটিরও সন্ধান করছে রিয়াদ।

হুথিদের কড়া সতর্কবার্তা সউদীর: ‘জঘন্য অপরাধ ও অনবরত হামলার পর মিলবে না কোনো ছাড়’

সউদী আরবের বিমানবন্দর, পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরী, দুটি পবিত্র মসজিদের দর্শনার্থী এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বারবার জঘন্য হামলা ও অপরাধ সংগঠিত করার জন্য হুথি মিলিশিয়াদের পুরোপুরি দায়ী করা হবে বলে এক কঠোর হুশিয়ারি জারি করেছে সউদী মন্ত্রিসভা (কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স)।

 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সউদী আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

 

 

বৈঠকের শুরুতে, মাতৃভূমি রক্ষা, এর সম্পদ ও অর্জনসমূহ হেফাজত এবং সার্বভৌমত্বসহ নাগরিক ও অধিবাসীদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণ বা হুমকি কার্যকরভাবে প্রতিরোধে সশস্ত্র বাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকার উচ্চসিত প্রশংসা করে মন্ত্রিসভা। একই সাথে আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তি নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যাওয়ার ফলে সউদী আরব যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার এক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে, তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

 

বৈঠক শেষে ‘সউদী প্রেস এজেন্সি’কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি জানান, হুথিদের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। ইয়েমেনের জনগণ, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, বিশ্ব বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়াদের হুমকি দূর করতে ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি ইন ইয়েমেন’-এর পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রশংসাও করা হয়।

 

সউদী আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা কিংবা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো হুমকি তারা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। পাশাপাশি যেসকল বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অপরাধের নিন্দা জানিয়েছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

 

এছাড়াও, সউদী দক্ষ জনবল কর্তৃক ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে’ অপরিশোধিত তেল প্রবাহ সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রশংসা করেছে মন্ত্রিসভা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পুনরুদ্ধারের ঘটনা সউদী এনার্জি সেক্টরের পরিচালনগত তৎপরতা, জরুরি প্রতিক্রিয়া জানানোর দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে তুলে ধরে—যা বৈশ্বিক বাজারে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিকে সহায়তা করে।

 

তথ্যমন্ত্রী জানান, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাথে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা পর্যালোচনা করেছে মন্ত্রিসভা। এই আলোচনা মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদারের ওপর কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

 

সউদী-বাহরাইন সমন্বয় কাউন্সিলের ‘নিরাপত্তা সমন্বয় কমিটি’র পঞ্চম বৈঠকের ফলাফল পর্যালোচনা করে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে গৃহীত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নে যৌথ প্রয়াস অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

চলতি সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ২৫তম ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেসএবং একই সময়ে আয়োজিত আরব ও আন্তর্জাতিক মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানায় মন্ত্রিসভা। জ্বালানি বিষয়ক সংলাপ, উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সৌদির অবস্থানকে এই আয়োজনগুলি পুনরুজ্জীবিত করে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

ক্রাউন প্রিন্স কর্তৃক সূচিত ২০২৬ সালের জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) মানবিক তহবিলে সউদী আরবের অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সিরিয়া ও সউদী আরবের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

এছাড়াও মন্ত্রিসভায়, মধ্যপ্রাচ্য সবুজ উদ্যোগের সাথে আবহাওয়া বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ইউনেস্কোর শিক্ষা বিষয়ক আঞ্চলিক কেন্দ্রের সাথে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতা এবং তুরস্কের ‘সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনোলজিকাল রিসার্চ কাউন্সিল’-এর সাথে গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক স্মারক অনুমোদিত হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় মডেল সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাক্ষরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণে মিশরীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাথে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

০

আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে।

 

নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বলেন, ‘ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোনালী ব্যাংক শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েছে। মেয়াদ শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। এর আগেও ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।’

 

একসময় বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন আসে। পরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সিকদার পরিবারের হাতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদে আবার পরিবর্তন আসে। তবে সিকদার পরিবারের সময়কার অনিয়ম ও লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সূচকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। টানা লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকটি।

 

ধারাবাহিক লোকসানে থাকা ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

 

সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী তাদের জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা উত্তোলন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

 

এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক।

 

সাক্ষাৎকালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

গভর্নর ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ওই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে সেই দায় মেটাতে হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ওই অর্থ দায় তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থের পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে দিয়েছে।

 

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ধরনের সহায়তা তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মেটাতে ভূমিকা রাখলেও ঋণ আদায় ও আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে দীর্ঘমেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

 

দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।

 

এ ছাড়া এসব ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

 

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বরও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫
পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬
ডিপ্লোম্যাটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪
মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০

 

সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের ইন্তেকাল

বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাবেক এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন সন্তান তানভীর আহমেদ রবিন। বাবার মৃত্যুর কথা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তানভীর।

বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমার আব্বু আর নেই। সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছেন। রাত ৮ টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়ার দরখাস্ত করছি। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমার আব্বুকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।’
সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজার নামাজ আজ বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলীর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটিতে আদালত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব বিচারিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ ছুটি কার্যকর হবে। কিন্তু ছুটি সমন্বয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশের সকল বিচারিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলবে।
গত সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির আদেশক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ শরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ছুটির সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ম্যানচেস্টারে শাহজালাল মসজিদের উদ্যোগে তা’লীম-তারবিয়াত ও দারসে হাদীস মাহফিল অনুষ্ঠিত

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে এক ধর্মীয় মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার ১১ অক্টোবর।

 

মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তা’লীম-তারবিয়াত ও দারসে হাদীস প্রদান করেন উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা ইমাদউদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।

মাহফিলে লন্ডন, মিডল্যান্ডস, নর্থসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক আলিম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মাহফিলটি এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, লাতিফী হ্যান্ডস বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থওয়েস্টের প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী, লাতিফী হ্যান্ডস বাংলাদেশের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার মাওলানা লুকমান আহমদ চৌধুরী সাদী প্রমুখ। এ ছাড়াও বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সাহেবান ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি হযরত আল্লামা ইমাদউদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী সহীহ বুখারী শরীফ থেকে দরস প্রদান করেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের আলোকে মানবসেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিবার-পরিজনের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিধবা, মিসকিন, অসহায় ও অনাথ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এ ধরনের মানবসেবামূলক কাজের সওয়াব এমন ব্যক্তির ইবাদতের সমতুল্য, যিনি আল্লাহর পথে জিহাদ করেন অথবা রাতে ইবাদত করেন ও দিনে রোজা রাখেন। তিনি আরও বলেন, ইসলামে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। একইভাবে নিজের পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা করা এবং স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেওয়াও সদকা হিসেবে গণ্য হয় বলে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে।

মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্বের বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মা-বাবার খেদমতে সন্তানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ করে যাঁরা মা-বাবাকে দেশে রেখে প্রবাসে অবস্থান করছেন, তাঁদের দেশে গেলে মা-বাবার কবর জিয়ারতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী অনুশাসন ও উত্তম চরিত্র গঠনের বিষয়ে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, অন্যের ভালো কিছু দেখলে অন্তরে আনন্দ অনুভব করা, মানুষের দুঃখ-কষ্টে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত দরুদ শরীফ ও ইস্তিগফারের অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তাসাউফ ও আত্মিক পরিশুদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের তরিকার ইমাম। তাঁর মাধ্যমে তাসাউফ তথা তাজকিয়ায়ে নফস ও আত্মশুদ্ধির মহান চর্চা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফ বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের শিক্ষা ও চর্চা প্রসারে আমাদের পীর ও মুর্শিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সারা জীবন অসামান্য খেদমত আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। কোরআন তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মূল্যবান উত্তরাধিকার।

 

আউলিয়ায়ে কেরামের রেখে যাওয়া দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতায় শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে পরিচালিত বিভিন্ন দ্বীনি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার খেদমত আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হওয়ার জন্য তিনি দোয়া করেন। পাশাপাশি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া সকল মুসলমানের মাগফিরাত কামনা করেন।

 

মাহফিলে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আনজুমানে আল ইসলাম ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট এবং শাহজালাল জামে মসজিদ কিথলীর ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফিজ হেলাল উদ্দিন।

 

মসজিদের ইমাম হাফিজ আবদুল হামিদ শাহানের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মসজিদের ভাইস চেয়ারম্যান গনি আহমদ চৌধুরী।

 

অনুষ্ঠানে ওয়ালসলের শামসুদ্দোহা শিল্পীগোষ্ঠী এবং ওল্ডহামের দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর নাশিদ পরিবেশনা উপস্থিত মুসল্লিদের মুগ্ধ করে। ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তিলাওয়াত ও নাশিদ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মাহফিলটি এক সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

 

সম্পূর্ণ মাহফিল সঞ্চালনা করেন শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতিব মাওলানা খায়রুল হুদা খান।

 

পরিশেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং মরহুম উম্মতে মুহাম্মদির মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাহফিলের প্রধান অতিথি শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী। বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট পছন্দের টেস্টে সেঞ্চুরি উদযাপন লিটনের

০

এই তো তিন টেস্ট আগেই সেঞ্চুরি ও ফিফটি ছিল লিটন কুমার দাসের। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ওই ইনিংস দুটি ছিল বিনোদনে ভরপুর। রীতিমতো ক্ল্যাসিক শটে আনন্দ বিলিয়েছেন তিনি। সেই লিটন পরের তিন ইনিংসে তিন শূন্য! অনেক স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে শূন্যহাতে ফেরার কষ্ট কুরে কুরে খেয়েছে তাকে। ম্যানেজার নাফিস ইকবাল বলেছিলেন, ব্যর্থ লিটন কেঁদে ছিলেন নীরবে। সেই লিটনের মুখে এক সিরিজ পরই হাসি ফুটেছে। খুশিতে দুই বাহু প্রসারিত করেছেন। আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পেলেন সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি। ম্যাচে ১৫৫ রান তাঁর। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ (১৫৬) ছাড়া লিটনের পেছনে বাকিরা। ছবির মতো ব্যাটিং দিয়ে সেঞ্চুরি করার আগে একটি মাইলফলকও ছুঁয়েছেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটার। এর মাধ্যমে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মালিক হলেন তিনি।

বাংলাদেশ তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল ছয় উইকেটে ২২৩ রানে। লিটন দাস পাঁচ ও মেহেদী মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল সোমবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন দুজন। একটু একটু করে জুটি গড়েন। ইনিংসের ৭৭তম ওভারে কায়েসের বলে চার মেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলে ৯ হাজার রানে পৌঁছান লিটন। ব্যক্তিগত স্কোর হাফ সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৬১ বলে ৭টি চারে। পরের পঞ্চাশ রান করতে লেগেছে ৫৪ বল। এখানেও সাতটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। ১১৫ বলে ১৪ চারে ১০০ রান তথা সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি লিটনের। ১০২ রানে আউট হন তিনি। যদিও তাঁর এই সেঞ্চুরি নিখুঁত ছিল না, ১৪ রানে স্লিপে শাহিদউল্লাহ কামালের হাতে আর ২৬ রানে কায়েসের হাতে জীবন পান তিনি। দিনের খেলা শেষে লিটন জানান টেস্ট ক্রিকেটটা একটু বেশি উপভোগ করেন তিনি, ‘তিনটা ফরম্যাটই আমার ভালো লাগে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা একটু ওপরে। কারণ এই ম্যাচটিতে অনেক কিছু হয়। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। উপভোগ করার মতো অনেক পরিস্থিতি থাকে। টেস্ট ক্রিকেট আমার পছন্দের।’ টেস্টে ভালো খেলার কারণ হিসেবে কিপিংয়ের ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি, ‘কিপিং আমার ব্যাটিং ভালো করতে সাহায্য করে। উইকেটের পেছনে থেকে অনেক কিছু বুঝতে পারি। পিচ সম্পর্কে একটা ধারণা চলে আসে। এটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেক সাহায্য করে।’

লিটনের শতক ছোঁয়ার ঠিক আগে অর্ধশতক করেন মেহেদী মিরাজ। ৯২ বলে টেস্টে ১২তম হাফ সেঞ্চুরির পেলেন তিনি। ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত মিরাজ। লিটনের আউটের পর সাত উইকেটে ৩৭২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৮ রানের লিড নাজমুল হোসেন শান্তদের। আফগানিস্তান ৪৭৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে দ্বিতীয় ইনিংস। ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলা দল লড়াই করে তৃতীয় উইকেট জুটিতে। এবারও রহমত শাহ প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দেন বোলারদের সামনে। সেদেকুল্লাহ আতালকে নিয়ে ২১৪ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন। ১২৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত আতাল। ৫১ রানে এবাদত হোসেনের বলে আউট হন রহমত। তিন উইকেটে ১৩২ রানে দিন শেষ করেছে তারা। সাত উইকেটে শেষ দিন ৩৪৭ রান করতে পারলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতবে আফগানিস্তান। এর আগে অলআউট হলে জয়ী হবে বাংলাদেশ।

টানা তৃতীয় দিন রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা টানা তৃতীয় দিনের মতো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

তুর্কি আল-মালিকি বলেন, রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

গত কয়েক দিনে রিয়াদে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে সৌদি আরবের রাজধানী।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের হামলার পর রিয়াদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।