মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রিয়াদে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি। এতে একসময় নিজেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। খবর রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আইয়ের।
এদিকে, রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ৪১টি এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে পরিচালিত ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এ কারণে এসব ফ্লাইটের ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সমকাল প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি করে ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের সাতটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন, বিলম্ব ও যাত্রা বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কর্মস্থলে ফেরা প্রবাসী, ছুটি শেষে সৌদি আরবে যেতে চাওয়া যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা ও নতুন সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এয়ারলাইন্সগুলো টিকিট থাকা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দায় নিয়ে যাচ্ছে। বিমানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিসার মেয়াদ যাদের শেষের দিকে, তেমন যাত্রীদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে হুতিদের হামলা
ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য তেল স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। জোটটি সানায় ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির তেল ডিপোসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। এ হামলার পর গতকাল হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোয় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানের প্রধান কার্যালয়ে গত মঙ্গলবার রাতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে কার্যালয়টি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আগুনে ক্ষতি সীমিত ছিল এবং কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করছে।
তেল স্থাপনা ছাড়াও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সপ্তাহে চারবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এর মধ্যে শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন, যা গত এক দশকের মধ্যে সৌদিতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
সৌদির প্রতিরক্ষা বিভাগ গতকালও রিয়াদমুখী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। আকাশে বিকট শব্দের পর রিয়াদে সাময়িক বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
‘রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না’
এতদিন ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও রিয়াদ নিজেকে এক নিরাপদ ও শান্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা সেই নিরাপত্তার মিথকে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
সৌদিতে বসবাসরত প্রবাসীরা এখন চরম আতঙ্কে আছেন। রিয়াদে সাত বছর ধরে থাকা ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল বলেন, ‘ওমরাহ বা হজ করতে আসা যাত্রীদের কখনও এভাবে জীবনের ঝুঁকিতে পড়া উচিত নয়। পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি ঘটে, তবে আমি আমার পরিবারকে দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হব।’
দীর্ঘদিন ধরে রিয়াদে থাকা আরেকজন বিদেশি নাগরিক মোহাম্মদ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে বিমানবন্দর রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাতে প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন। সত্যি বলতে, রিয়াদ আর আগের মতো নিরাপদ মনে হচ্ছে না।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশকে শুধু তেলের ওপর নির্ভর না রেখে পর্যটন, বিনোদন ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এই সংঘাত তাঁর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা সরাসরি ধাক্কা দিয়েছে। চলতি মাসে দেশটিতে ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই এমন হামলায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয়
চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের ভেতরের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। দেশটিতে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলো আহত লাশের চাপে পিষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, মারিব, তাইজ ও লোহিত সাগর উপকূলীয় ফ্রন্টলাইনের হাসপাতালগুলোয় শুধু এক সপ্তাহেই সাত শতাধিক রক্তাক্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। পর্যাপ্ত অক্সিজেন, অ্যানেসথেশিয়া ও সার্জিক্যাল উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, হুতিরা তাইজ শহর অবরুদ্ধ করে ফেলায় প্রায় আট লাখ মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী ত্রাণ সহায়তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের বিমানকর্মীদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে এয়ার ফ্রান্স
জাতীয়তার ভিত্তিতে ইসরায়েলে ও এর আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী ক্রুদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ফরাসি বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার ফ্রান্স এই বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা নিশ্চিত করেছে। নতুন এই বিধিনিষেধে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং নাইজারসহ ৩১টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের এখন থেকে ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম এবং ফরাসি অনুসন্ধানী প্রকাশনা মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিতর্কিত এই নীতির কারণে এয়ারলাইনটি কর্মসংস্থান আইনে বৈষম্যমূলক মামলার মুখে পড়তে পারে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে একজন ওমানি কো-পাইলটের কথিত ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার পর ১ অক্টোবর ইসরায়েলি পরিবহন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করে। ওই ঘটনায় বিমানের ভারতীয় পাইলটকে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্যান্য সব এয়ারলাইন্সের মতো তারাও গ্রাহক ও কর্মীদের স্বার্থে সেবা প্রদানকারী দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশ বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য। তেল আবিবগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নতুন এই বিধিনিষেধ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ এয়ারলাইন স্মার্টউইংসও ইসরায়েলের এই বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন এয়ারলাইন ইউনাইটেড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই নির্দেশনা অমান্য করলে এয়ারলাইনটি ও এর কর্মীদের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিন মনে করেন, এই পদক্ষেপ এয়ার ফ্রান্সকে ফরাসি কর্মসংস্থান আইনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে পারে। এটিকে একটি ‘বৈষম্যমূলক পক্ষপাত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ৩১টি দেশের নাগরিকদের কেবল জাতীয়তা বা ধর্মের ভিত্তিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা সরাসরি বৈষম্যমূলক হয়রানির শামিল।
ফরাসি শ্রম বিধির অনুচ্ছেদ এল১১৩২-১ অনুযায়ী, প্রকৃত বা অনুভূত জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে দায়িত্ব প্রদান বা বেতনের ক্ষেত্রে যেকোনো বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই আইনজীবী আরও ব্যাখ্যা করেন, বিমান চালানোর জন্য নির্দিষ্ট জাতীয়তা কোনো আবশ্যক শর্ত হতে পারে না। এয়ার ফ্রান্সের এই নীতি গ্রহণের পেছনে আইনি বৈধতার চেয়ে ইসরায়েলি বাজার ধরে রাখার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যই বেশি কাজ করেছে। কিন্তু ফরাসি বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিবেচনা কখনোই বৈষম্যকে বৈধতা দিতে পারে না।
তিনি জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মূল্যায়নের (ভেটিং) মাধ্যমেই নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা উচিত, সামষ্টিকভাবে কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে নয়।
আসামি বিএনপির তিন নেতা, মামলা নিতে গড়িমসি
নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
দক্ষিণ ফার্সিপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাণ্ডবের ভয়াবহ চিত্র। গত ১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সোলাইমান আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। পাঁচটি ইটের ঘর, আসবাব, বৈদ্যুতিক মিটার ও টয়লেট ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২০টি কলাগাছসহ বেশ কিছু ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়। হামলাকারীরা ঘরের মালপত্র, টাকা-পয়সা, সিলিং ফ্যান ও পানির মোটর লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিলে সোলাইমান আলী ও তাঁর বড়মা গুলছিয়ারা বেগমকে মারধর করা হয়। এমনকি ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাঝরাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল হাসান মেবু এবং রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ অভিযুক্তদের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস ও শরীফ উদ্দিন আমাইতাড়া মৌজায় হাজেরা বিবি ও ময়েন উদ্দিন মণ্ডলের কাছ থেকে দুই দাগে মোট ১ দশমিক ০২ একর জমি কেনেন। একই জমি তোজাম্মেল হকও কিনেছেন বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিসে শুনানি হয়। জমিসংক্রান্ত নথিপত্রে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষ তোজাম্মেল হকের দাখিল করা ৩৫৮/১৯৭৪ নম্বর দলিলের স্বাক্ষর ও সিলে গুরুতর গরমিল থাকায় এবং সার্টিফায়েড কপি দেখাতে না পারায় ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ ওই নামজারি বাতিল করেছিলেন।
বাড়িটির দীর্ঘদিন ধরে থাকা ভাড়াটিয়া দুলাল হোসেন ও প্রতিবেশী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় ছয় বছর ধরে তারা এই বাড়িতে বসবাস করছেন এবং জমিটি সবসময় সোলাইমানদের দখলেই ছিল। ভাঙচুরের পর থেকে দরজা-জানালাহীন খোলা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভুক্তভোগী সোলাইমান আলী বলেন, ‘ভূমি অফিসের কাগজপত্রে আমরা বৈধ মালিক এবং বহু বছর ধরে ভোগদখলে আছি। অথচ সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়ি ভেঙে আমাদের পথে বসানো হলো। থানায় গিয়েও বিচার পাচ্ছি না, উল্টো আসামিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। ’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদ দাবি করেন, জায়গাটির দখল মূলত তাদেরই ছিল এবং প্রতিপক্ষই তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। একই সংগঠনের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল হাসান মেবুর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আইনি জটিলতা ও আদালতের রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ওই জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে পুলিশের এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই।’ তবে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় মামলা কেন নেওয়া হয়নি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘ঘটনার পরদিন আমি প্রতিনিধি পাঠাই এবং পরে নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ধামইরহাটে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি।’
মানবাধিকারকর্মী নাইস পারভীন বলেন, ‘জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা বা আদালতের রায় থাকতে পারে, কিন্তু গভীর রাতে বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর বা লুটপাট সম্পূর্ণ ফৌজদারি অপরাধ। আদালতের রায়ের অজুহাতে এমন সহিংস অপরাধের মামলা না নেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বিপজ্জনক।’
৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগছে?যেসব অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পরও মাঝেমধ্যে শরীর অসুস্থ বা ভারী লাগাটা স্বাভাবিক। তবে দিনের পর দিন যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত লাগে তাহলে তা চিন্তার বিষয়। সে ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। যেমন-
১. রাত জেগে শুয়ে শুয়ে অনেকেরই মোবাইলে রিলস দেখার অভ্যাস রয়েছে। কেউ কেউ ফোন গেম খেলে সময় কাটান। রাত জেগে এভাবে রিল, শর্ট ভিডিও বা গেম খেললে ঘুমের সমস্যা হয়। ফোনের উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে ও ঘুম আসতে বাধা দেয়। ফলে ৮ ঘন্টা ঘুমালেও সেই ঘুম হালকা ও গভীর না হওয়ার ফলে সকালে ক্লান্ত লাগে।
২. সকালের নাশতা না করা বা দেরিতে দুপুরে খাবার খাওয়ার ফলে রক্তের শর্করা কমে যায়, যা ক্লান্তি ও মাথাব্যথার কারণ হয়। মিষ্টি না স্ন্যাক্স সাময়িক শক্তি দিলেও পরে তা চলে যায়। প্রোটিনযুক্ত সুষম খাবার শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. কম পানি খেলেও আপনাকে অলস, ঘুম ঘুম ভাব ও অমনোযোগী করে তুলতে পারে। এসি রুমে বসার কারণে অনেকেই পানি কম খান। এতে শরীরে পানির ঘাটতি হয়। পানিশূন্যতা পূরণে পানি ছাড়াও লেবুর পানি, ডাবের পানি বা ঘোল খেতে পারেন।
৪. সারাদিন একটানা চেয়ারে বসে কাজ করা সামান্য পরিশ্রমের চেয়েও বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ শরীর স্থির থাকলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও পেশি শক্ত হয়ে যায়। তাই প্রতি ঘন্টায় উঠে হাঁটা ও দাঁড়ানো জরুরি।
৫. কফি বা চা তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি দিলে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বিকেলের পর ক্যাফেইন শরীরে গলে ক্লান্ত বোধ হয়। সেক্ষেত্রে হারবাল চা খেতে পারেন।
এই অভ্যাসগুলো বদলানোর পরেও যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ক্লান্তি না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আয়রন, ভিটামিন ডি, বি ১২-এর ঘাটতি বা থাইরয়েডের সমস্যা হলে এরকম হতে পারে।
‘জীবনবদলের রেসিপি’ থিমে সেরা রাঁধুনী সিজন-৯ শুরু
গৌরবময় দুই দশকের সাফল্য নিয়ে এবার শুরু হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় কুকিং রিয়্যালিটি শো রান্নায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘সেরা রাঁধুনী’। স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড-এর সুপরিচিত ব্র্যান্ড ‘রাঁধুনী’-র নিয়মিত আয়োজন ‘সেরা রাঁধুনী’ ফিরে এসেছে তার নবম সিজন নিয়ে। এবারের সিজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবনবদলের রেসিপি’।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রন্ধনশিল্পীদের খুঁজে বের করার এ প্রতিযোগিতা বরাবরের মতোই প্রচারিত হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে।
রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত জমকালো সংবাদ সম্মেলনে এবারের ‘সেরা রাঁধুনী সিজন ৯’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের প্রধান ইমতিয়াজ ফিরোজ এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মিডিয়াকম লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু।
এ বছরের আয়োজনে বিচারক হিসেবে থাকছেন ইনডাল্জ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ শেফ শুভব্রত মৈত্র, লো মেরিডিয়ান ঢাকার এক্সিকিউটিভ পেস্ট্রি শেফ শাহিদ শাহিন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান।
অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন মৌসুমী মৌ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সেরা রাঁধুনীর দুই দশকের পথচলা, অর্জন আর ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম। ২০ বছর আগে রান্নার মেধার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে জীবনবদলের যে স্বপ্ন নিয়ে সেরা রাঁধুনী যাত্রা শুরু করেছিল, সিজন ৯-এ তা আরও বড় পরিসরে রূপ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর মাছরাঙা টেলিভিশন ও মিডিয়াকম লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে ২০ বছরের অর্জন ও সম্প্রচারের প্রস্তুতির কথা জানান অজয় কুমার কুন্ডু। সর্বশেষে বক্তব্য রাখেন ইমতিয়াজ ফিরোজ, যেখানে তিনি গত দুই দশকে সেরা রাঁধুনী-র হাত ধরে জীবন বদলে যাওয়া নতুন উদ্যোক্তা ও শেফদের কথা বলেন, সেই সাথে তুলে ধরেন সিজন ৯ নিয়ে তার ভাবনা।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন লোগো ও প্রমোশনাল কনটেন্ট উন্মোচন করা হয়। এরপরে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার শুভ সূচনা ঘোষণা করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
এই সিজনে রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ নভেম্বর ২০২৬। ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এতে অংশ নিতে পারবেন। এবারের প্রতিযোগিতায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিংবা এসএমএস পদ্ধতির মাধ্যমে রেসিপি ও তথ্য পাঠিয়ে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করা যাবে।
দেশজুড়ে বিভাগীয় অডিশনের পর ঢাকায় গ্র্যান্ড অডিশনের মাধ্যমে স্টুডিও রাউন্ডের প্রতিযোগী নির্বাচন করা হবে। স্টুডিও রাউন্ডে স্বাদের পাশাপাশি বিচার করা হবে পরিবেশনা, পুষ্টিমান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও নেতৃত্ব গুণাবলি। বিজয়ী রাঁধুনী পুরস্কার হিসেবে জিতে নেবেন ১৫ লক্ষ টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ পাবেন যথাক্রমে ১০ লক্ষ এবং ৫ লক্ষ টাকা।
‘সেরা রাঁধুনী সিজন ৯’-এর পুরো আয়োজনটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে মিডিয়াকম লিমিটেড এবং সম্প্রচারের দায়িত্বে মাছরাঙা টেলিভিশন। হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে আছে রাঙামাটি ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট।
অংশগ্রহণের নিয়মাবলি:
অংশগ্রহণকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে এবং ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক।
অংশগ্রহণের জন্য নিজস্ব রান্নার রেসিপি, খাবারের ছবি, নিজের ছবি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য (নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন/পাসপোর্ট নম্বর) প্রদান করতে হবে।
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে ভিজিট করুন: www.sheraradhuni.com
এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে: SR9 <স্পেস> নাম <স্পেস> বয়স <স্পেস> বিভাগ <স্পেস> রেসিপির নাম এবং পাঠিয়ে দিন ৮৮০৯৬১২৬১৫৫৫৫ নম্বরে।
‘সেরা রাঁধুনী সিজন ৮’-এর স্টুডিও রাউন্ডে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা ‘সিজন ৯’-এ রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না।
রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর ২০২৬।
প্রতিযোগিতার নিয়মাবলি
বিচারকদের রায়ে রেসিপি নির্বাচিত হলে প্রতিযোগীকে বিভাগীয় অডিশনের জন্য আহ্বান করা হবে।
অডিশনের জন্য নির্বাচিত রেসিপির খাবার অডিশনের দিন নিজে তৈরি করে নিয়ে আসতে হবে।
তৈরিকৃত খাবার ও মৌখিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড অডিশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে ডায়াল করুন ০৮০০০১১১৩৩৩ (প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা)।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজ: www.facebook.com/SheraRadhuni.
নকল মুখ, মেকি কণ্ঠে প্রতারণার নতুন ফাঁদ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ভুয়া ছবি তৈরি করেন তোফায়েল আলম টিটু নামে এক যুবক। বাহিনীর পোশাক পরা ছবিটি ব্যবহার করে তিনি ‘লেডি সোলজার’ নামে ফেসবুক পেজ খোলেন। সেই ভুয়া পরিচয়ে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন তিনি। কৌশলে হাতিয়ে নেন প্রায় সাত লাখ টাকা। প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর এ ঘটনায় মামলা হয়। তদন্তে নেমে সম্প্রতি অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা আধুনিক জালিয়াতির জাল বুনছে। ভুয়া পরিচয়, নকল কণ্ঠ ও মুখাবয়ব তৈরি থেকে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, সেক্সটর্শন বা আর্থিক প্রতারণা– নানা অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে এ প্রযুক্তি। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের এই বছরের দুটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও সাইবার অপরাধের পরিবর্তনশীল এই চিত্র উঠে এসেছে।
গত ১৭ জুন প্রকাশিত এশিয়া অ্যান্ড সাউথ প্যাসিফিক সাইবার থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাইবার অপরাধের চিত্র তুলে ধরে ইন্টারপোল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি দেশ জানিয়েছে, তাদের নথিভুক্ত অপরাধের অন্তত ৩০ শতাংশ সাইবার অপরাধ। ৩৩ শতাংশ দেশ ১০ হাজারের বেশি অনলাইন স্ক্যামের কথা জানিয়েছে। এই প্রতিবেদনের তথ্যের সময়কাল ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত।
ইন্টারপোল আরও জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত ফোরাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে ডিপফেক নিয়ে আলোচনা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ৬০০ শতাংশ বেড়েছিল। এআই ব্যবহার করে আরও বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা, ভুয়া পরিচয় এবং বাস্তবসম্মত ডিপফেক তৈরির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতারণাবিষয়ক নোটিশ বেড়েছে ৫৪ শতাংশ
ইন্টারপোল গত ১৬ মার্চ ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট ২০২৬’ প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫ সালে আর্থিক প্রতারণাবিষয়ক ‘নোটিশ ও ডিফিউশন’ ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। নোটিশ ও ডিফিউশনের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সদস্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অপরাধবিষয়ক তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার অনুরোধ করে।
ওই প্রতিবেদনে এআইনির্ভর প্রতারণাকে দ্রুত বিকাশমান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এআইনির্ভর প্রতারণা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সাড়ে চার গুণ লাভজনক হতে পারে। এ হিসাবটি ব্লকচেইন ডেটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘চেইন্যালাইসিস’-এর উদ্ধৃত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় বা সেক্সটর্শনও বৃহত্তর অনলাইন প্রতারণা কাঠামোর অংশ হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে এআই নির্মিত কনটেন্ট ব্যবহার হচ্ছে।
বাংলাদেশে এআইয়ের অপব্যবহার
আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যাচ্ছে। এআই দিয়ে ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল, পরিচিত ব্যক্তির মুখ ও কণ্ঠ নকল করে বাণিজ্যিক প্রতারণা এবং ভুয়া পরিচয় তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাবেক স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে এআই দিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গত ১১ সেপ্টেম্বর এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, ওই যুবক কনটেন্ট দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে এআই ও ডিপফেক ভিডিও তৈরির একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী এ বিষয়ে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৩ এপ্রিল মামলা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যম থেকে তাঁর ছবি ও কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়। এসব ভিডিও ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তদন্তে ২৪টির বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে।
এআই প্রযুক্তিকে বিশ্বাসযোগ্যতার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করছে প্রতারকরা। গত ১৬ জুন সিআইডি জানায়, প্রতারক চক্র এআইভিত্তিক ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। এভাবে সাত লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিযানে বাংলাদেশ সাইবার অপরাধবিরোধী আন্তর্জাতিক অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ। গত ১৩ মার্চ প্রকাশিত ‘অপারেশন সিনার্জিয়া-৩’-এর ফলাফলে ইন্টারপোল জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭২টি দেশ ও অঞ্চলে অভিযানটি চালানো হয়। বাংলাদেশে তখন ৪০ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১৩৪টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।
এর পর গত ৯ জুলাই প্রকাশিত ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট ২০২৬’-এর ফলাফলে ইন্টারপোল জানায়, ১৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৯৭ দেশ ও অঞ্চলে চালানো অভিযানে পাঁচ হাজার ৮১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় বিশ্বজুড়ে এক লাখ ৪২ হাজারের বেশি ভুক্তভোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর যা বলছে
এআইয়ের অপব্যবহারে বদলে যাওয়া সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কীভাবে কাজ করছে– জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখা একটি লিখিত বক্তব্য দেয়। তারা বলছে, সাইবার অপরাধ ও ডিপফেকবিষয়ক অপরাধের তদন্ত, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে ডিএমপি, সিআইডিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আলাদাভাবে কাজ করে। তবে সম্প্রতি এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের একটি বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। আশা করা যায়, ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করলে সমন্বিত উদ্যোগ, বিশেষায়িত দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ ও ডিপফেকবিষয়ক অপরাধ দমন আরও সহজ হবে।
‘বাস্তবায়নযোগ্য সদিচ্ছা থাকা দরকার’
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের দেশে প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। আবার দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করেন, তাদের চেয়ে অপরাধীরা বেশি দক্ষ। আমাদের সক্ষমতা সেই পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না। আর সাইবার সুরক্ষা আইন হলেও অপরাধ যথাযথভাবে শনাক্ত করে আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বাস্তবায়নযোগ্য সদিচ্ছা থাকা দরকার।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এআই নেটওয়ার্কিং থাকা দরকার। এতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় বের করা সহজ হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’—প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদার
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক প্রকল্প পরিচালককে হেনস্তা ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে অধিদপ্তরের নিজ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পরিচালক মোস্তফা কামাল। একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার চার মিনিটের একটি ফুটেজে দেখা যায়, মিন্টু সেখানে বসে মুঠোফোনে কথা বলছেন। এ সময় প্রকল্পের একটি টেন্ডারে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে আইএসও সনদ চাওয়ার শর্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি এ শর্তের বিষয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে প্রকল্প পরিচালককে উদ্দেশ্য করে ‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ বলতে শোনা যায়।
প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, বুধবার দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয়ে ঢোকার পরপরই তাঁর পেছনে পেছনে হাসানুর জামান মিন্টু ও মিলন নামে দুজন কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা প্রকল্পের চলমান একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার তাঁদের দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে যিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন, তাঁকেই কাজ দেওয়া হবে।
মোস্তফা কামাল বলেন, এ সময় মিন্টু মুঠোফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে গালাগাল করা হয়। এতে তিনি বিব্রত বোধ করেন এবং ফোন রাখতে বলেন। পরে মিন্টু যেকোনোভাবে টেন্ডারটি দেওয়ার জন্য চাপ দেন। অন্যথায় তাঁকে থাপ্পড় মারার হুমকি দেন এবং মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করেন প্রকল্প পরিচালক।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত মিন্টু প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় টেন্ডারে আইএসও সনদ চাওয়ার শর্ত নিয়ে কথা হয়। প্রকল্প পরিচালক জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনা করেই এ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তখন অপর ব্যক্তি ১৭ বছর বঞ্চিত থাকার কথা উল্লেখ করেন। জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘নেতা আমিও ছিলাম।’ এরপরই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসানুর জামান মিন্টু বলেন, ‘আমি কেন তাঁকে হুমকি দেব? থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করব কেন? এসব মিথ্যা। পিডির টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।’
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল আরও বলেন, তিনি ঘটনার প্রতিবাদ করলে মিন্টু তাঁকে নানা ধরনের হুমকি দেন।
রাষ্ট্র কাঠামো নয় শুধু চেয়ার বদল হয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
রাষ্ট্র কাঠামোকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সঙ্গে তুলনা করে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো নয় শুধু চেয়ার বদল হয়েছে। কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন; কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দক্ষ চালক বসালেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো ঠিক না হলে সরকারও সফল হবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
সরকারের মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও তাদের অন্তরে আওয়ামী লীগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা ও দুর্নীতির পথে হাঁটছে। জুলাই গণহত্যার বিচারও দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই সংসদ সদস্য নেতা বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক মামলায় ঢালাওভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলা অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিলারশিপ ও সরকারি ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে জবাবদিহি দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।
আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর, জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
হাসানুল হক ইনুকে নেওয়া হলো ঢামেক হাসপাতালে
সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার জানান, শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হাসানুল হক ইনুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলার বিচার চলছে।


