Home Blog Page 92

সাহসী কেপ ভার্দে, আতঙ্কে উরুগুয়ে

ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে (০-০) রুখে দিয়েছে। যেটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অঘটন বলা হচ্ছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। ওই ম্যাচে দলটির কী প্রত্যাশা থাকবে? লড়াই করা। আরেকটি সমতা! কিন্তু কেপ ভার্দের তরুণ মিডফিল্ডার দিরয় দুয়ার্তে বলেছেন ভিন্ন কথা, ‘স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটা আপনারা দেখেছেন। সমতা করবো কেউ প্রত্যাশা করেনি। তাদের আটকে দিতে পারলে উরুগুয়েকে কেন হারাতে পারবো না?’

বার্তা পরিষ্কার। স্পেনের বিপক্ষে সাহস সঞ্চয় করা ব্লু শার্করা দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে এবারের পরীক্ষাটা তাদের ফাঁস হওয়া প্রশ্নে দিতে হবে।

স্পেনের বিপক্ষে ফুটবলের রক্ষণাত্মক লো ব্লকেরও সবচেয়ে কুখ্যাত পদ্ধতিটা অবলম্বন করে খেলেছিল কেপ ভার্দে। মাঠ ছোট করে, প্রতিপক্ষকে কোনো জায়গা না ছেড়ে, গায়ে গা লাগিয়ে খেলাই এই কৌশলের ফুটবলের শেষ কথা। স্পেনের ফুটবলাররা দীর্ঘদেহি না হওয়ায় ক্রস খেলেও সুবিধা করতে পারেনি। দায় ছিল সুযোগ হারানোরও। উরুগুয়েকে একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।

 

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জয় চায় জাপান

দারুণ এক মাইলফলকের অংশ হওয়ার অপেক্ষায় জাপান ও তিউনিসিয়া। মন্তেরিতে বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ১০টায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাজারতম ম্যাচটি খেলবে দুই দল। এমন উপলক্ষটি জয় দিয়ে রাঙাতে মরিয়া জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু। তিউনিসিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ডও জাপানের বিপক্ষে নিখুঁত পারফরম্যান্স চান।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে যাত্রা শুরু করেছে জাপান। দুইবার পিছিয়ে পড়েও অনেকটা ডাচদের পকেটে চলে যাওয়া ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে ১ পয়েন্ট প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছে জাপান। তার পরও সন্তুষ্ট নন কোচ মরিয়াসু।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মরিয়া তিনি, ‘আমাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস খুব ভালো খেলেছিল। আমাদের দলও ভালো করেছিল। কিন্তু ওই ম্যাচের ফলাফলে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। এখন আমাদের প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। আমি বিশ্বাস করি, দলের সবাই মনে করে যে ম্যাচটি আমাদের জেতা প্রয়োজন।’

তিউনিসিয়া প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তার পরও প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন জাপানের কোচ, ‘আমি নিশ্চিত, সুইডেনের বিপক্ষে খেলা তিউনিসিয়ার চেয়ে এই তিউনিসিয়া ভিন্ন। নতুন কোচ নিশ্চিতভাবে দলকে তাতিয়ে দিচ্ছেন। তাদের জমাট রক্ষণ আছে, গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরির জন্য ফাঁকফোকর খুঁজে বের করতে তারা পারদর্শী।’

সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার জেরে তিউনিসিয়ার ডাগআউটে পরিবর্তন এসেছে। ওই ম্যাচের পরই কোচ সাবরি লামৌচিকে বরখাস্ত করে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন। নিয়োগ দেওয়া হয় ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ডকে। গত বিশ্বকাপে তাঁর অধীনেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সৌদি আবর। সেই রেনার্ডের চোখে জাপান হলো এশিয়ার সেরা দল।

মালয়েশিয়ায় ১১৮ বাংলাদেশিসহ ১৮৬ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক বিশেষ অভিযানে ১১৮ জন বাংলাদেশিসহ ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে পুডু মার্কেট এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই আকস্মিক অভিযান চালায় দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। তবে যৌথ বাহিনী তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুলিশ ও সিটি হলের মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ওই ভবনে থাকা মোট ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ১৮৬ জনকে আটক করে ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশিয়ান, ২৬ জন মিয়ানমারের এবং পাঁচজন ভিয়েতনামের। বাকিদের মধ্যে চারজন নেপালি, দুজন ভারতীয়, দুজন চীনা ও একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটকদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেকের কাছে দেশটিতে বসবাসের কোনো বৈধ নথিপত্র বা পাসপোর্ট ছিল না।

তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবাইকে ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

পোশাকের কাঁচামাল আমদানি ৩০% মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল চায় বিটিএমএ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত প্রত্যাহারের কঠোর সমালোচনা করেছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি বলেছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হবে। এতে টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি তৈরি পোশাক রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উন্নীত হওয়ার পর জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে স্থানীয় মূল্যসংযোজন অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার শর্ত থাকবে। এছাড়া জোটগত প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্য বাজারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতেও মূল্যসংযোজনের শর্ত থাকবে।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার, সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংগঠন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গত ৮ জুন জারি করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিল করা হয়। এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় শিল্প আরও সমস্যায় পড়ে বন্ধ হবে। এমনিতেই ২৩৪টি বস্ত্রকল বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে তাঁর নিজেরই ৫টি মিল বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কসুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি রাখতে হবে। তাই দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন ধরে রাখতে এবং বন্ডের অনিয়ম রুখতে এই শর্ত বহাল রাখা অপরিহার্য।
করপোরেট পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য করপোরেট করহার ১২ শতাংশ হলেও প্রাথমিক বস্ত্র খাতে কার্যকর আয়কর হার সাড়ে ২৭ শতাংশ। এটিকে ‘চরম বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, একই ব্যবস্থার অংশ হওয়া সত্ত্বেও বস্ত্র খাত বেশি করের মুখোমুখি হচ্ছে। বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের করহার কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি করেন তিনি।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই ৬০ হাজার কোটি টাকা কাকে দেওয়া হবে, কেন দেওয়া হবে, কীভাবে দেওয়া হবে, তার কোনো পথনকশা এখনও জানা যায়নি।

পিপিআরসির আলোচনায় হোসেন জিল্লুর রহমান বাজেট বাস্তবায়ন তিন মাস অন্তর তদারক করতে হবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না, বাস্তবে কতটুকু অর্জিত হচ্ছে, তার ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে। গতকাল শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় সংগঠনটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এমন মত দিয়েছেন।

‘পিপিআরসির বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে হোসেন জিল্লুর বলেন, যেকোনো বাজেটের প্রকৃত পরীক্ষা তার প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং বাস্তবায়নে। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়ন কৌশলকে সরকারের শাসন কাঠামোর মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এতে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিতা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ছাড়া বাজেটের লক্ষ্য অর্জন কঠিন। তিনি মনে করেন, দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি বড় সমস্যা বাধাগ্রস্ত করছে—দুর্নীতি, বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যর্থতা এবং অপ্রয়োজনীয় দপ্তর ও প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অপচয়। এসব সমস্যা সমাধান না হলে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু সুরক্ষা থাকলেও মধ্যবিত্তের ওপর বাজেটের প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলেও করহার বাড়ানোর কারণে করদাতাদের একটি অংশ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের বৈষম্য কমানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার গুণগত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী গতি এবং অধিকতর স্বচ্ছতা ছাড়া উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব, সে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি রাজস্ব প্রশাসনে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, রাজস্ব মূলত একটি কার্যকর অর্থনীতি থেকেই আসে। উৎপাদনশীল খাত ও বেসরকারি উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে রাজস্ব আহরণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, বাজেটের অনেক প্রক্ষেপণ দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। কিছু ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কারকে স্বাগত জানালেও তিনি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষ্য, বাজেটে যেন ধরে নেওয়া হয়েছে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে পুনরুদ্ধারের জন্য সময় প্রয়োজন। প্রত্যাশিত ফল অর্জন নির্ভর করবে এমন একটি পরিবেশ তৈরির ওপর, যেখানে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণে আস্থা পাবেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণকে একাধিক কাজ করতে হচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ খরচ সামলাতে এক বেলা কম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরের চিত্র দেখে দেশের সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করা যাবে না। রাজধানীর বাইরের অঞ্চলে মানুষের কষ্ট ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি দৃশ্যমান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এ. সাত্তার মণ্ডল বলেন, কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উন্নয়ন কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। তিনি স্মার্ট কৃষি, প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং কৃষির আধুনিকায়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মালালা ফান্ডের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুশাররফ তানসেন শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এ বরাদ্দ শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানের বিদ্যমান ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ বাজেটের আকারে নয়, বরং সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পেতে হলে শেখার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাদানের গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্যাসিস্টদের মতো বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে: জামায়াত আমির

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকে কালো হাতের থাবা দিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগত ও পদধারী লোকদের বসিয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে বিগত ফ্যাসিস্টদের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। অর্ধবছর থাকতে পারেননি। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেখতে চায় না। অনির্বাচিত প্রশাসক আমরা দেখতে চাই না। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি  নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ দেখতে চায়।

‎জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-র জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। দেশে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্ত এবং জিহাদের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল, তারা যদি শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা এবং উপহাস করেন তবে নিজের সঙ্গেই গাদ্দারি কায়েম হবে।

‎তিনি দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু জনগণের বিজয় অনেক জায়গায় প্রতিফলিত হয়নি। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচন আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নির্বাচন হয়েছে। জনগণতো আমাদের ভোট দিয়েছে।

‎ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে। জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

‎সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভুল করেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‎তিনি বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোঁটা দেয়, হাজার জাতের খোঁটা। আমার নাকি কোথায় জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছি। আপনারা কি কোথাও কোনও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আপনাদের কাছে কি কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আপনারা কেউ বিক্রি করেনি। আপনাদের কাছেও কেউ বিক্রি করেনি। জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে যারা ইলেকশনের সময় গিয়ে বলেছে এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে। কারা বিক্রি করেছেন যারা বলেছেন অমুক নেতার নাম ১০০ বার জপলে আপনি জান্নাতে যাবেন।

‎জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ অন্যান্যরা।

‎পরে জামায়াতের আমির আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে ২৭টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামির কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

কাঁঠাল খুলেছে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দ্বার

রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণ হয়ে ‍উঠেছিল একটি ফলের রাজ্য। সেখানে ঢুকতেই স্বাগত জানায় পানিতে ভাসমান বিশাল এক পদ্মফুল; যা কোনো সাধারণ পদ্ম নয়, নানা রঙ ও আকৃতির ফল দিয়ে সাজানো এক শিল্পকর্ম। এরপর কাঁঠাল, ড্রাগন, ডেউয়া, কামরাঙা, সফেদা, জাম্বুরা, গোলপাতার ফল, বিলাতি গাব, নারকেল ও বেলের সমাহার দর্শনার্থীদের চেনাল দেশের ফলের ভাণ্ডারের সঙ্গে।

তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার শেষ দিন গতকাল শনিবার কেআইবি প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে কেউ ফল কেনেন, কেউ ছবি তোলেন। কেউ শিশুদের সঙ্গে ফলের পরিচয় করিয়ে দেন।
এবারের মেলায় প্রায় ৭৮টি স্টল অংশ নেয় । শত রকম ফলের সমাহার থাকলেও মেলায় আমের ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা হয়েছিলেন দর্শনার্থীরা। ল্যাংড়া, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, ফজলি, নাগফজলি, গোপালভোগ, আশ্বিনা জাতের আম ছিল স্টলে স্টলে। আরও ছিল কোহিতুর, জাপানের মিয়াজাকি, আমেরিকান রেড পালমার, থাই কাটিমন, মহাচানক, আলফানসো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কিং অব চাকাপাতের মতো বিদেশি জাত ও উচ্চমূল্যের আম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টলেই ছিল ৫৪ জাতের আম।
মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ফল কিনতে আসা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই মেলায় আসি। এখানে ফলের দামও অনেক ক্ষেত্রে বাজারের তুলনায় কম। সবচেয়ে বড় কথা, এক জায়গায় এত রকম ফল দেখা যায়।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারের আয়োজনকে ‘সবচেয়ে সফল’ বলে জানালেন মেলার আয়োজক ও বিক্রেতারা। সোলেমানপুর কৃষিপণ্য সংগ্রহ বিপণন কেন্দ্রের আহসান হাবিব রাব্বি বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থী সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিক্রিও ভালো হয়েছে।’

রপ্তানিযোগ্য আম নিয়ে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিদেশে পাঠানো হয় এমন প্রায় সব জাতের আমই তারা প্রদর্শন করেছেন।’ অন্যদিকে, কয়েক টন আম নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া বিক্রেতা মুজিবর রহমান জানান, প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

ফল মেলার চমকপ্রদ দিক ছিল ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী। বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে ছিল জাতীয় ফল কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, বার্গার, রুটি, জালি কাবাব, কাঠি কাবাব, চিপস, সমুচা, শিঙাড়া, পাকোড়া, পাটিসাপটা, কাটলেট, কাপকেক ও পেস্ট্রি। কাঁঠালের বীজ দিয়ে তৈরি করা হয় বরফি ও চিপস। পাশাপাশি ছিল কাঁঠালের হালুয়া, পুডিং ও আচার।
একটি স্টলে ১০ টাকায় কাঁঠালের জালি কাবাব চেখে দেখছিলেন দর্শনার্থীরা। পাশেই কাঁঠালের শিঙাড়া, সমুচা, চিজবল ও কাটলেট তৈরি করে
বিক্রি করছিলেন উদ্যোক্তারা। এক সময় শুধু
মৌসুমি ফল হয়ে থাকা কাঁঠাল এখন নতুন শিল্প ও রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বার খুলছে– এ বার্তা জানিয়ে দিল ফল মেলা।

শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ নেতাকর্মী আর প্রবাসীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আজ রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর আসছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে আসছেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সফরে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে। এ সফরে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করা এবং অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করার বিষয়টি। এ ছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা, শিক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ জুন দুপুরের পর কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে যাবেন। তিনি ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৬ জুন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা। সফর উপলক্ষে কুয়ালালামপুরের পথে পথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং মালয়েশিয়ার পতাকা শোভা পাচ্ছে।

তারেক রহমান কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে উঠবেন। সেখানে মালয়েশিয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হতে পারে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল থাকবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে।

মালয়েশিয়া বিএনপির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের বিরাট সুযোগ।

রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে তেল মালিশ করলে যেসব উপকারিতা মেলে

পা শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের যত্ন নেওয়া হলেও খেুব কম মানুষই পায়ের যত্ন নেন। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভালো রাখতে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে ম্যাসাজ করার কথা ভাবতে পারেন। পায়ে ম্যাসাজ করার জন্য নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হবে। যেমন-

গভীর এবং আরামদায়ক ঘুম

অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য পায়ের ম্যাসাজ দারুন সমাধান। পায়ে ম্যাসাজ করলে মনকে শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমায় এবং শরীর ও স্নায়ুগুলিকে শিথিল করে। এই অভ্যাস গভীর, আরামদায়ক ঘুম পেতে সাহায্য করে।

রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
দিনের বেলা দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটার ফলে পায়ে সৃষ্ট ক্লান্তি এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা দূর করতে পায়ের ম্যাসাজ সাহায্য করে। নিয়মিত ম্যাসাজ করা পায়ে রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এর ফলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়। সেই সঙ্গে সতেজ লাগে। শীতকালে পায়ে ঠান্ডা লাগা রোধ করতেও এটি সাহায্য করে।

রক্তচাপ হ্রাস
যখন আপনি মানসিক চাপে ও ক্লান্ত থাকেন, তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যদি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে ম্যাসাজ করুন — এটি উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ মোকাবেলায় সাহায্য করার মাধ্যমে রক্তচাপ কমাতে পারে।

মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমায়

পায়ের ম্যাসাজ করলে আরাম বোধ হয়। এই অভ্যাস মন শান্ত করে, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। একিউপ্রেশার পয়েন্টগুলি উদ্দীপিত হওয়ার ফলে, শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয় যা মেজাজ উন্নত করে। এটি একটি প্রাকৃতিক মানসিক চাপ উপশমকারী হিসেবে কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত পায়ে ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে । এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

প্রতিদিন পায়ে ম্যাসাজ করলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ উদ্দীপিত হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

মাংসপেশির ব্যথা এবং টান কমায়
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা টাইট জুতা পরার ফলে সৃষ্ট পায়ের ব্যথা, মাংসপেশির টান এবং ফোলাভাব কমাতে পায়ের ম্যাসাজ খুবই উপকারী। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেলের মতো প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত তেল ব্যবহার করলে আরাম হয়। সেই সঙ্গে ব্যথাও কমে।

কোন তেল ব্যবহার করা যেতে পারে?
আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত তেলের মধ্যে সরিষার তেল বেশ জনপ্রিয়। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত নারকেল তেল ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। ত্বক কোমল করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধেও এই তেল বেশ কার্যকর।

ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম তেল ত্বক কোমল এবং পুষ্ট করতে সাহায্য করে।

গভীর ঘুম আনতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ল্যাভেন্ডার তেল। এটি অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কলেজের জমিতে প্রাচীর, গুঁড়িয়ে দিলেন শিক্ষার্থীরা

দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রাচীর নির্মাণকালে ১৫টি গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিলসহ গিয়ে প্রাচীরটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, দুই দিন ধরে একটি মহল কলেজ হোস্টেলের পেছনের অংশ দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। প্রথমে আশপাশের আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের অজুহাতে ড্রেন নির্মাণের কথা বলা হয়। পরে ড্রেন নির্মাণের নামে হোস্টেলের ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু ড্রেন নির্মাণ না করে রাতারাতি সেখানে মাটি ভরাট করে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে কয়েকশ শিক্ষার্থী হোস্টেলে জড়ো হয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাতুড়ি দিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের চোখের সামনে কলেজের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল হয়ে যাবে– মেনে নেওয়া যায় না। পানি নিষ্কাশনের মিথ্যা অজুহাতে হোস্টেলের ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং এক রাতের মধ্যে দেয়াল তুলে জায়গা দখল করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত।
জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সফিউল্লাহ মানিক বলেন, কলেজের জায়গা দখল করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। বর্ষাকালে পেছনের আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়। সেই জনদুর্ভোগ কমাতে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ফেলেছে। কলেজের সম্পত্তি রক্ষায় যা করার প্রয়োজন, তা-ই করেছে তারা।
দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিনের ভাষ্য, হোস্টেলের পেছনের বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং তৎকালীন ইউএনও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি, জায়গাটি কলেজের। কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’