Home Blog Page 92

রাশফোর্ডের জাদুকরি ফ্রি-কিকে রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার লা লিগা জয়

ইংলিশ তারকা রাশফোর্ডের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। মৌসুম শেষ হওয়ার তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই নিজেদের ২৯তম লিগ শিরোপা জিতে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি।

ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এল ক্লাসিকোয় শুরু থেকেই দাপট দেখায় বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাশফোর্ড। এরপর ফেরান তোরেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চমৎকার এক ফিনিশে।

গোল করার পর দুই খেলোয়াড়ই কোচ ফ্লিকের কাছে ছুটে যান। সপ্তাহান্তে ফ্লিকের বাবার মৃত্যু হওয়ায় তাকে উৎসর্গ করেই উদ্‌যাপন করেন তারা।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগা জিতল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ শীর্ষ লিগে এখনো সর্বোচ্চ ৩৬ শিরোপা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবারের শিরোপা জয়ে রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমাল বার্সা।

লা লিগায় টানা ১১ ম্যাচ জয়ের ধারায় থাকা বার্সেলোনা এখন রিয়ালের চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে। ফলে বাকি ম্যাচগুলোতে আর তাদের ধরা সম্ভব নয়। ঘরের মাঠে এ মৌসুমে এটি বার্সেলোনার টানা ১৮তম জয়।

রূপপুরের দায় শোধের সব বিকল্প ব্যর্থ

দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায়। প্রকল্পটিতে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে এলেও রাশিয়াকে কীভাবে অর্থ পরিশোধ করা হবে, সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখে দেখেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল ঋণের বাইরে প্রাথমিক কাজের জন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এই ঋণ পরিশোধ শুরু করার কথা। কিন্তু রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এর বাইরে রাশিয়া থেকে অন্য কিছু কেনাকাটার দায়ও মেটানো যাচ্ছে না। মূল ঋণ পরিশোধ শুরু হবে ২০২৮ সালে। ওই ঋণ পরিশোধের কিস্তি হবে বড় অঙ্কের। এ কারণে সমস্যাটির সমাধান আরও জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে তারা আশা করছেন, ঋণ পরিশোধ শুরু করা না গেলেও রূপপুর প্রকল্পে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার কোনো ব্যাংক পেমেন্ট নিতে পারছে না। তাদের দায় পরিশোধের জন্য বিভিন্ন বিকল্প উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে আসা যায়নি। ফলে সোনালী ব্যাংকে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে রাশিয়ার পাওনা রাখা হচ্ছে।

সময়মতো অর্থ না পেলে জরিমানা আরোপের কথা বলেছিল রাশিয়া– এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, রাশিয়ার ঋণ পরিশোধ না করতে পারার সমস্যাটি বাংলাদেশের দিক থেকে নয়। তারাই অর্থ নিতে পারছে না। ফলে জরিমানা দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। রাশিয়াকে এমন অবস্থান জানানো হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। প্রকল্প শুরুর সময় প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে মোট ব্যয় ধরা হয় এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার হলো রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের ঋণ। তবে পরে ডলারের দর সমন্বয়সহ অন্যান্য খরচ বেড়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রাশিয়ার বিভিন্ন দায় পরিশোধের জন্য সোনালী ব্যাংকে তিনটি ‘এসক্রো’ হিসাব খোলা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত এসব হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি ডলার জমা হয়েছে। এর মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের জন্য জমা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ডলার। রাশিয়া থেকে অন্যান্য কেনাকাটার দায় পরিশোধ বাবদ অন্য দুটি হিসাবে জমা করা হয়েছে বাকি অর্থ।

জমা থেকে প্রকল্পের স্থানীয় ঠিকাদার বিল, সরবরাহকারী দায় পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে একটি অংশ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে পরিশোধযোগ্য দায় রয়েছে ১০২ কোটি ডলারের সামান্য বেশি।

ব্যাংকাররা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলে অন্য দেশগুলো তার সঙ্গে লেনদেন করে না। এমনকি চীনের কোনো ব্যাংকও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কায় পরিশোধ নিষ্পত্তি করে না। এর প্রধান কারণ, অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বার্তা পাঠানোর একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট)। এটি বিশ্বের সর্বাধিক দেশ ও ব্যাংকের ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর কয়েক ট্রিলিয়ন অর্থ লেনদেন হয়। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। এ কারণেও রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন করা কঠিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সোনালী ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে থাকা অর্থ নির্ধারিত সুদে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া তাতে রাজি হয়নি। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধ হলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি হলে দেশটির পরিশোধ নিষ্পত্তি করা যাবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প বাংলাদেশের কাছে নেই।

মূল ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। এই প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য নেওয়া ঋণের অর্থ পরিশোধ নিয়েই জটিলতা কাটেনি। মূল ঋণ পরিশোধের সময় যত এগিয়ে আসছে, উদ্বেগ তত বাড়ছে।

রূপপুর প্রকল্পের মূল ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের মার্চ থেকে। অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিশোধ শুরুর সময় দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের মার্চে নির্ধারণের জন্য রাশিয়ার কাছে আবেদন করে। রাশিয়া ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কিস্তি পরিশোধ শুরুর সময় নির্ধারণ করেছে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই তাদের দায় পরিশোধ করা হবে। যখনই সুযোগ হবে, তারা অর্থ নিতে পারবে।

আগের যত উদ্যোগ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ২০২২ সালে রাশিয়া চিঠি দিয়ে বাংলাদেশকে তাদের সব ধরনের পরিশোধ স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরের বছর পাওনা নিতে রাশিয়া আগ্রহ দেখায়।

সরাসরি অর্থ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে রূপপুরসহ বিভিন্ন পাওনা পিপলস ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে পরিশোধের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি প্রটোকল চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। তবে সুইফট চ্যানেলে অর্থ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত আর তা কার্যকর করা যায়নি।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হিসাব খোলার বিষয়ে গত বছরের ৫ থেকে ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সে দেশে যায়। সেখানে অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি সুইফটের বিকল্প হিসেবে চীনের আন্তর্জাতিক লেনদেনের বার্তা প্রেরণের মাধ্যম দ্য ক্রসবর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে (সিআইপিএস) যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোতে। আবার মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পাওনা নেওয়ার জন্য রাশিয়ার ‘এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’-এর নামে এলসি স্থাপনকারী সোনালী ব্যাংকে কয়েকটি ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে অর্থ স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। প্রথমে সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে একই ব্যাংকের এফসি হিসাবে স্থানান্তর করে রাশিয়ায় নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে সোনালী ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সব ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্টই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা দেশটির মিত্র দেশের সঙ্গে। যে কারণে এই উপায়ে পরিশোধ সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ পুরোনো, বিশেষ করে দেশটি থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনা হতো। অনেক আগে থেকেই রাশিয়ার কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও তখন দায় পরিশোধের রাস্তা খোলা ছিল। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রয়েছে– এমন সব ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান লাগলে কী করবেন

অনেকেরই মাঝরাতে পেশিতে টান ধরে ঘুম ভেঙে যায়। পা সোজা করতেই পারেন না। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন পানি কম খেলেই এই সমস্যা হয়। ডিহাইড্রেশন ছাড়াও পেশিতে টান ধরার পিছনে আরও অন্য কারণ থাকতে পারে। কোন কোন কারণে পায়ের পেশিতে টান ধরে এবং টান ধরলে কী করা উচিত তা জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে।

যেসব কারণে পেশিতে টান ধরে

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রুদ্রজিৎ পাল জানান, পেশিতে আঘাত লাগলে অনেক সময়ে এই ধরনের সমস্যা হয়। তবে অনেক সময় কোনও রকম চোট-আঘাত ছাড়াই পেশিতে টান লাগে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার সময়ে পায়ের পেশিতে সবচেয়ে টান ধরে। এর অন্যতম কারণ হলো ডিহাইড্রেশন।

ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল আরও জানান,শরীরে তরল ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হলে পেশিতে টান ধরে। শরীরে তরলের পরিমাণ কমে গেলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন পেশির সঙ্কোচন এবং তা প্রসারিত হতে পারে না। এ ছাড়া ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো বিভিন্ন খনিজের ঘাটতি হলেও পেশিতে টান লাগে।

যাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি 
ডা. রুদ্রজিতের মতে, যারা সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন, অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করেন, তদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া শরীরে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

রাতেই বেশি পায়ে টান ধরার কারণ

বিশ্রামের সময় শরীরের নিম্ন অংশে রক্ত চলাচল কমে যায়। তখন ওই অংশের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন বা খনিজ পৌঁছায় না। এই কারণেই অনেক সময়ে মাঝরাতে বা ঘুম ভাঙার সময়ে পায়ের পেশিতে টান ধরে। এ ছাড়া ডিহাইড্রেশনও অন্যতম কারণ।

টান ধরলে কী করবেন?

চিকিৎসক রুদ্রজিৎ বলেন, সাময়িক আরাম পেতে টান ধরার সময়ে মালিশ করতে পারেন। এ ছাড়া আইস প্যাক দিতে পারেন। বরফ সেঁক দিলে ওই অঞ্চলের পেশি শিথিল হয়। তার মতে, যাদের নিয়মিত এই ধরনের সমস্যা হয়, তাদের শরীরে ভিটামিন ও খনিজের মাত্রা যাচাইয়ের জন্য কিছু রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলেও পেশিতে টান ধরার সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার খেতে হবে। শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের সাহায্য নিতে পারেন।

এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা

এল ক্ল্যাসিকোতে এর আগে এমন উত্তেজনাহীন ম্যাড়মেড়ে পরিবেশ সর্বশেষ কবে দেখা গেছে, সেটা একটা গবেষণার বিষয়! ইতিহাস গড়ার হাতছানিতে উৎসবের মেজাজে আছে বার্সেলোনা। আজ রিয়ালকে হারিয়ে ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। ঠিক বিপরীত অবস্থা রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরের। শিরোপা লড়াই থেকে প্রায় ছিটকে গেছে তারা। তার ওপর নিজেদের মধ্যে মারামারি, দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জেরবার অবস্থা রিয়ালের। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এল ক্ল্যাসিকোতে মনোযোগ দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থাতে নেই তারা। কোনো রকমে মৌসুম শেষ করতে পারলেই যেন বাঁচে রিয়াল।

বার্সার চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে রিয়াল। আজ রিয়ালের বিপক্ষে ড্র করলেই তিন ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে বার্সার। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিরল এক ইতিহাসের অংশীদার হওয়ার পথেও এগিয়ে যাবে তারা। সেটা হলো ১০০ পয়েন্টের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে বার্সার। এ ম্যাচে জিতলে বার্সার পয়েন্ট হবে ৩৫ ম্যাচে ৯১। অবশিষ্ট তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেলে হবে সেই ইতিহাস।

লা লিগা ইতিহাসে সর্বপ্রথম ১০০ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, ২০১১-১২ মৌসুমে হোসে মরিনহোর কোচিংয়ে। পরের মৌসুমেই টিটো ভিলানোভার বার্সা এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছিল। চলতি মৌসুমে লা লিগায় বার্সা এখন পর্যন্ত ২৯টি জয় পেয়েছে। তারা যদি আজসহ অবশিষ্ট চারটি ম্যাচ জিততে পারে তাহলে নতুন রেকর্ড গড়বে। লা লিগার ইতিহাসে এক মৌসুমে ৩২ জয় নিয়ে মরিনহোর রিয়াল ও ভিলানোভার বার্সা যৌথভাবে শীর্ষে আছে। তাদের হটিয়ে এককভাবে রেকর্ডটির মালিকানা দখলের সম্ভাবনা রয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সার।

তবে এমন সব রেকর্ডের পেছনে ছুটতে থাকা বার্সা মৌসুমের শেষ ভাগে এসে পাচ্ছে না দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে। দলের আরেক তারকা রাফিনহা অবশ্য চোট থেকে সেরে উঠেছেন। গত ম্যাচে বেঞ্চে থাকলেও মাঠে নামেননি ব্রাজিলিয়ান এ উইঙ্গার। আজ তাঁর খেলার ব্যাপার বেশ আশাবাদী বার্সা ডিফেন্ডার জুলেস কুন্ডে, ‘সে এখানে চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। ক্ল্যাসিকোতে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আমরা খুবই আশাবাদী। আজ ড্র হলেই লা লিগা জিতে নেব আমরা। তবে জিততে পারলে ভীষণ ভালো লাগবে।’

আর চোটে বিপর্যস্ত রিয়াল মাদ্রিদ। রদ্রিগো, গুলের, মিলিতাও, কর্তুয়াসহ সাতজন মাঠের বাইরে। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে ওঠে কিলিয়ান এমবাপ্পে অবশ্য গতকাল অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। আজ বদলি হিসেবে নামতে পারেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অনুশীলনে চুয়েমেনির সঙ্গে মারামারি করে হাসপাতালে যেতে হয়েছে ফেদে ভালভার্দেকে। কপালে সেলাই লাগায় সুস্থ হতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগবে উরুগুইয়ান মিডফিল্ডারের। এজন্য এল ক্ল্যাসিকোতে পাওয়া যাবে না তাঁকে। মারামারি করায় দুজনকে ৫০ হাজার ইউরো করে জরিমানা করেছে রিয়াল কর্তৃপক্ষ।

তবে আর্থিক জরিমানা করলেও চুয়েমেনিকে এল ক্ল্যাসিকোর স্কোয়াডে রেখেছেন রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া, ‘চুয়েমেনি স্কোয়াডে আছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ খুবই দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুই খেলোয়াড়ই ভীষণ অনুতপ্ত, তারা ক্ষমা চেয়েছেন।’ তার জন্য এটুকুই যথেষ্ট বলেও জানান তিনি, ‘এই ঘটনার জন্য আমি তাদের জনসম্মুখে অপমান করতে পারি না।’ তবে এই ঘটনার প্রভাব থেকে বের হয়ে মাঠের খেলায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া রিয়ালের জন্য কঠিন হবে।

মা তুমি সুন্দর, তুমি শান্তি, তুমি শক্তি…

মা শব্দটি ভালোবাসা, আশ্রয় আর নিঃস্বার্থ মমতার আরেক নাম। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা যেন মায়ের আঁচলই। বিশ্ব মা দিবসে সেই অনন্য সম্পর্কের গল্পেই ভরে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এদিন মাকে নিয়ে প্রকাশ করেছেন নিজেদের আবেগ, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি। কারও পোস্টে ছিল হারিয়ে ফেলা মায়ের স্মৃতি, কারও লেখায় উঠে এসেছে জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

ঢালিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী মা দিবসে তার মায়ের একটি পুরোনো ও দুর্লভ ছবি প্রকাশ করে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে মহাখালীর বাসায় স্ত্রী মৌসুমীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে তার মা-ই কাজী ডেকে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন। সেই স্মৃতির কথা মনে করে ওমর সানী লেখেন, সেখান থেকে আজ অব্দি একসঙ্গে আছি, আলহামদুলিল্লাহ।

প্রয়াত মাকে স্মরণ করে আরও আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি লেখেন, ‘বিশ্ব মা দিবসে অসীম ভালোবাসা আমার মায়ের জন্য। মা, আমি তোমাকে অনেক মিস করি।’

অন্যদিকে অপু বিশ্বাস মা দিবসে একটি প্রতীকী ছবি প্রকাশ করে মাতৃত্ব নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি লেখেন, ‘মাতৃত্ব একটি পবিত্র যাত্রা, যা সততার ওপর গড়ে ওঠে; কোনো লুকোচুরি বা বিতর্কের ওপর নয়।’

এদিকে মা দিবসের দিনই ছিল অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম–এর মায়ের জন্মদিন। মায়ের সঙ্গে একাধিক ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন মা, আমার জীবনের রানি।’

অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া মায়ের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘প্রতিদিনই মা দিবস, আর প্রত্যেক মা-ই প্রতিদিন সুখ পাওয়ার যোগ্য।’

অন্যদিকে সুনেরাহ বিনতে কামাল মাকে উদ্দেশ করে ভালোবাসাভরা বার্তায় লিখেছেন, ‘তুমি সুন্দর, তুমি শান্তি, তুমি শক্তি, তুমি ভরসা, তুমি ভালোবাসা। শুভ মা দিবস আম্মু।’

এছাড়াও দেশের বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেক তারকা মা দিবস উপলক্ষে মাকে নিয়ে নিজেদের না বলা অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। কোথাও ছিল ভালোবাসা, কোথাও কৃতজ্ঞতা, আবার কোথাও উঠে এসেছে মাকে হারানোর গভীর বেদনা। তবে সব অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই—মা, যিনি সন্তানের জীবনে ভালোবাসা আর ভরসার সবচেয়ে বড় নাম।

সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্র নীতিতে ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে: জামায়াত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশিকে নিহতের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্র নীতির কারণেই ভারত বারবার বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ডে ঘটাচ্ছে।

৮ মে রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন এবং একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেনকে ভারতীয় রক্ষীবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায়ই বিনা কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নিয়ে আসকে ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও হত্যা বাড়ছে। এসব অন্যায় হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্র নীতির কারণেই ভারত বারবার বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ডে ঘটাচ্ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবেশীদের কাছে বন্ধুসুলভ আচরণ কামনা করে। জামায়াত আশা করে, ভারত সরকার হত্যা বন্ধ করবে। সব হত্যার সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

মতবিনিময় সভা দলের কাছেও জবাবদিহি করবেন মন্ত্রীরা তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করতে এমপিদের প্রতি নির্দেশনা

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রীদের। একই সঙ্গে দলটির তৃণমূল নেতাদেরও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে তাদের। গতকাল শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএনপি ও এর তিন সহযোগী সংগঠন– যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সব বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন করে নেতাকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

বেলা পৌনে ১১টায় সভাস্থলে প্রবেশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভার শুরুতে তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের মতবিনিময় সভা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা হবে। সেই আলোকে তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মী জানান, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের (জনগণ) চাওয়া-পাওয়া নিয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি এলাকার দলীয় সংসদ সদস্যকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক নানা প্রচারণার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি থানা-উপজেলা, এমনকি উন্নয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানান, মতবিনিময় সভাটি জাতীয় সংসদের আদলে হয়েছে। এটাকেও তারা মিনি সংসদ বলে মনে করছেন। সেখানে মন্ত্রীরা তাদের কাজের বিবরণ ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আর সারাদেশ থেকে আসা নেতারা তাদের কাছ থেকে অনেক বিষয় জানতে চেয়েছেন। এটা দল ও কর্মীদের কাছে এক ধরনের কৈফিয়তের মতো।

সংসদ সদস্যদের মতো মন্ত্রীদেরও একই প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত এ রকম সভার মধ্য দিয়ে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম যেমন সামনে আনা হবে, তেমনি সরকারের নেওয়া উদ্যোগকেও দল ও নেতাকর্মীর সামনে তুলে ধরা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচন হতে পারে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই চ্যালেঞ্জ নিতে হলে সবার আগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, হিংসা দূর করতে হবে। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে এই নির্বাচনে ভালো করা সম্ভব হবে না।

নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউকে জিতিয়ে আনা হবে না। কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করে নির্বাচিত হতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। এ জন্য চলতি বছরের মধ্যে মূল দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করতে চায় বিএনপি।

নিয়ম মানলে ঠিকাদারি কাজ পাবেন
বৈঠক সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী, এমনকি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দলের নেতাকর্মীর মধ্যে যে অনিশ্চয়তা কিংবা হতাশা কাজ করছিল, তা নিরসনে নানা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সভাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপস্থিত নেতাকর্মী সমকালকে জানান, সরকার গঠনের আগে থেকে দলের মধ্যে চেইন অব কমান্ড জোরালো করা হয়। যার কারণে তারা সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেননি। এমনকি বিগত দিনের সরকারের মতো কোনো টেন্ডার বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এতে গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দলের শীর্ষ নেতাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নিয়ম মেনে যে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে।

এই সুবিধার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আশ্বস্ত করা হয়, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যে জটিলতা রয়েছে তা নিরসন করা হবে। যাতে প্রতিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা হবে। তবে সেখানে কোনো প্রকার লুটপাট, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও কড়া বার্তা রয়েছে দলের শীর্ষ নেতাদের।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগের সরকার যেভাবে লুটপাট করেছে, কাজ না করে টাকা পাচার করেছে, এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের এক নেতা (সাবেক সংসদ সদস্য মহারাজ) কোনো কাজ না করেই ৬৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ আছে। এ রকম কোনো কাজ করা যাবে না।

মন্ত্রীদের উদ্দেশে একজন নেতা বলেন, বিগত ১৭ বছর তারা কোনো সরকারি কাজ পাননি। তাদের ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলেও কোনো কাজে আসেনি। সরকারের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই খাল খননে তাদের যে লাইসেন্স রয়েছে, তাতে তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। টেন্ডারের শর্তে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ওই কাজ করতে পারবে না। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে কীভাবে সম্পৃক্ত করবেন। এর জবাবে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল আছেন। তারা এটা সবার জন্য সহজ করবেন।

সরকারের ৮০ দিনের কার্যক্রম 
বিএনপির নেতারা জানান, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র আগামী দিনে সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে সারাদেশে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সরকারের আড়াই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুতের রিজার্ভ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। এক কথায় মন্ত্রীরা নিজেদের কাজের জবাবদিহি করেন দলের নেতাদের কাছে। এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে নেতারা যার যার এলাকার সমস্যার কথা তুলেন ধরেন। কী করলে এলাকায় উন্নয়ন হবে। কী কী করলে জনগণ, এলাকা এবং দলের জন্য খারাপ, সেটাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন নেতারা।

জানা গেছে, সভায় মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং কাজের বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন। মন্ত্রীদের জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক এবং ছাত্রদলের ছয়জন করে নেতা প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে নেতারা নিজ এলাকার অবস্থা তুলে ধরে তা উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নেতারা বর্তমান শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তা পরিবর্তন করে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

দিনভর চলা এই আলোচনায় উঠে এসেছে সরকারের ৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও আগামী দিনের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা। একই সঙ্গে সভায় তৃণমূলের মতামত গ্রহণ করেছেন হাইকমান্ড।

খুব শিগগিরই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে ওদিকে সরকারের আড়াই মাসের অগ্রগতির বিষয়েও সভায় সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই প্রথম মতবিনিময় সভা করেন তারেক রহমান। বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সারাদেশের জেলা ও মহানগরের শীর্ষ দুই নেতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতা অংশ নেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীদের কাছে নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরেন। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা অংশ নেন। ৯ শতাধিক নেতা এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সভার সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রত্যেক মন্ত্রী বক্তৃতায় ৮০ দিনে তাদের কার্যকলাপ তুলে ধরেন। আগামী দিনে সরকার কীভাবে কাজ করবে তাও তুলে ধরেন তারা। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর পরিবর্তে গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার বক্তব্য তুলে ধরেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
সভায় অংশ নেওয়া ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, এখানে সরকারের ১০ জন মন্ত্রী তাদের ৮০ দিনের কার্যকলাপ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের দ্বিধা আছে। যেমন গণভোট, জুলাই সনদ, হামে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে, তা জানতে চান। এই বিষয়গুলো সভায় পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্ত্রীরা।

গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলা হয়, জুলাই সনদে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে তার প্রতিটি পদক্ষেপ আক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। এর মধ্যে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষে সংসদের আসন অনুপাতে প্রতিনিধি চায়, উচ্চকক্ষে সংবিধান সংশোধনসহ কয়েকটি বিল পাঠানো হবে না।

বিগত সময়ের মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যেগুলো ট্রায়ালে চলে গেছে, ওগুলো আদালতে সমাধান হবে।
সভায় হামের বিষয়টি তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেন এবং বিগত সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়ছে সেটিরও ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে এটি কীভাবে পুনরুদ্ধার করছেন এগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারে যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো নেতাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

মতবিনিময় সভা শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর আজকে প্রথম বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এখানে মূলত সরকার তিন মাসে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে; যাতে নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের সামনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। নেতাকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে সরকার, কী কী পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে।

নাছির বলেন, ‘সভায় মন্ত্রীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তেমনি জেলার নেতারা তাদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন। কেন কী কারণে কাজগুলো হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেমন সরকারের জবাবদিহি বাড়বে এবং একই সঙ্গে সরকারের যেসব ভুলত্রুটি হচ্ছে সেগুলো আর ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
সভাস্থলের বাইরে রাস্তায় সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যুবদল, ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী অনেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন করেছে। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

সভায় উপস্থিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন সমকালকে বলেন, আজকের মতবিনিময় সভা মুলতবি করা হয়েছে। তিন-চার মাস পরপর এ ধরনের সভা হবে। সেখানে সরকার কী ধরনের কার্যক্রম করছে; মন্ত্রীদের পদক্ষেপ; দেশের উন্নয়নে কী করবেন; সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরা হবে। মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়েও বলা হয়েছে।

যুদ্ধ একটি শেষ, আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
মতবিনিময় সভা শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নেতাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ একটি শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কী সেই যুদ্ধ? যুদ্ধটি হচ্ছে, আমরা মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই ইশতেহার ছিল বিএনপির ইশতেহার। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে এবং ফলাফল প্রকাশের পরে সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। কারণ ৫২ শতাংশ মানুষ যারা ভোট দিয়েছেন, তারা এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই এই ইশতেহারে আমরা যা যা বলেছি, তা সর্বোচ্চ দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে, আমরা সুশাসন দেব। মানুষকে আমরা বলেছিলাম যে, আমরা একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যে দেশে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। আমরা মানুষকে বলেছিলাম, আমরা একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ-শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে। আমরা মানুষকে নিয়ে যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম তখন আমরা বলেছিলাম যে, আমাদের ওপরে যেরকম অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে, যেরকম গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।’

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের কাঠমান্ডু সফর স্থগিত, নেপাল-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রির কাঠমান্ডু সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের শীর্ষ সরকারি সূত্র। আগামী ১১ মে দুই দিনের সফরে তার নেপালের রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা ছিল।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভারত সরকার নতুন নেপাল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই সফর আয়োজন করেছিল। সফরটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছিল।

তবে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত হওয়ায় নেপাল-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভারতীয় পক্ষ বিক্রম মিস্রির অন্যান্য ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সফর পিছিয়ে দিয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ধারণা করছেন, সফর স্থগিতের পেছনে দুটি বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শর্মা শাহের অনীহা। দ্বিতীয়ত, লিপুলেখ সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের যৌথভাবে মানসরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিরোধ।

নেপাল সরকার ওই অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ভারতের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।

এর আগে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে মৌরিশাসে হওয়া আলোচনার ভিত্তিতেবিক্রম মিস্রির এই সফর নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে নেপালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও পাঠানো হয়েছিল।

সফরের সময় তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করবেন বলে পরিকল্পনা ছিল।

তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী শর্মা শাহ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো নেপাল-ভারত সম্পর্কের মধ্যে শীতলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কা এখনই নেই।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেপালের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ভারত প্রস্তুত। অন্যদিকে নেপালও জানিয়েছে, লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চল নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং আলোচনা মাধ্যমে সমাধানে তারা আগ্রহী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সফর স্থগিত হওয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি নেতিবাচক সংকেত হলেও আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি আইআরজিসির, অপেক্ষায় ট্রাম্প

ইরানের তেলবাহী কোনো ট্যাঙ্কারে হামলা হলে এর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এক বার্তায় তারা বলেছে, তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ফের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

ওমান উপসাগরে ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার একদিন পর শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো ধরনের আক্রমণের ফল হবে ভয়াবহ। এর জবাবে এই অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোতে জোরালো হামলা চালানো হবে।

আইআরজিসি যখন এমন হুমকি দিচ্ছে, তখন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার তিনি জানিয়েছিলেন, শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তখন উল্লেখ করেছিলেন, সম্ভবত স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতেই জবাব পাবেন।

তেহরান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উল্টো মার্কিন নেতৃত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে আরাঘচি বলেন, পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর উত্তেজনা বাড়ানো এবং বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো কূটনৈতিক সদিচ্ছাকে সন্দেহের মুখে ফেলেছে। তারা আদৌ কূটনীতির পথে হাঁটতে আগ্রহী কি না, তা নিয়ে তেহরানে সন্দেহ বাড়ছে।

গত শুক্রবার একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের পতাকাবাহী দুটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজগুলো নৌ-অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের নৌবাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে। এ ঘটনার আগের রাতেও (বৃহস্পতিবার) হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এলসিআই-এর সাংবাদিক মার্গো হাদ্দাদ শনিবার জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলেছেন, ইরান খুব শিগগিরই প্রস্তাবের জবাব দেবে বলে তিনি আশা করছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে সবশেষ গত শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রস্তাবটি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

ফসলডুবির পর ঋণের চক্রে হাওরের কৃষক

কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলী হাওরের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। সদর থেকে এক-দেড় ঘণ্টায় নিকলী বেড়িবাঁধে পৌঁছে গেলাম। বেড়িবাঁধ পেরিয়ে নৌকায় উঠতেই চারপাশে দিগন্তজোড়া জলরাশি। মাঝেমধ্যে মাথা তুলে থাকা গাছ, আর কোথাও কোথাও ডুবে থাকা ফসলের ক্ষতচিহ্ন। এই জলরাশির নিচেই চাপা পড়ে আছে হাজারো কৃষকের এক মৌসুমের ঘামে অর্জিত সম্পদ।

হাওরপারে দেখা হয় হাজেরা খাতুনের সঙ্গে। চুপচাপ বসে ছিলেন তাঁর ডুবে যাওয়া জমির পাশে। কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পাকা ধান ছিল তাঁর। ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। ইচ্ছে ছিল, ধান ঘরে তুলে ঋণ শোধ করবেন। সন্তানদের নিয়ে কোরবানির ঈদ ভালোভাবে উদযাপন করবেন। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে।

ধান তলিয়ে যাওয়ার শোক সামলে নিয়ে হতাশাভরা কণ্ঠে হাজেরা খাতুন বলেন, ‘বন্যায় আমাদের গ্রামের সবার ধান গেছে। কারও দুই আনা ধানও টেকেনি। নিজেদের খাওয়ার ধান নাই; গবাদি পশুর খাবার খড়ও নাই। আর যদি দুই সপ্তাহ পরও বন্যার পানি ঢুকত, তাহলে খাওয়ার মতো কিছু ধান অন্তত ঘরে তুলতে পারতাম।’ এ আফসোস হাজেরা খাতুনের নয়; কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের। সবারই প্রায় হাজেরা খাতুনের মতো অবস্থা।

দেখা গেছে, কোথাও পাকা ধান পানির নিচে, কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। ফসল হারিয়ে সবাই ভেঙে পড়েছেন। দিন যত যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়ছে। আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

হাওরের কৃষি এমনই– এক মৌসুমের ধানের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় পুরো বছর। বোরো ধান ওঠা মানেই ঘরে চাল, ঋণ শোধ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা– সবকিছুর জোগান। সেই ধানই যদি হাতছাড়া হয়, তাহলে কৃষকের জীবনে শুরু হয় এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।

নিকলীর মোহরকোনা গ্রামের কৃষক রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, ‘কিছু ধান ঘরে তুলেছিলাম। এখন সেগুলো পচে গন্ধ করছে। মাঠের ধান তো গেলই, ঘরের ধানও বাঁচল না।’
হাওরের কৃষকের জীবন বোঝাতে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবদুর রহমান বলেন, হাওরে ঋণ ব্যবস্থা একটু ভিন্ন। এখানে খুব কম কৃষকই নিজের পুঁজিতে চাষ করতে পারেন। মৌসুম শুরুর আগে তাদের দরকার হয় নগদ টাকা। এই টাকার উৎস দুই ধরনের হয়ে থাকে– ব্যাংক বা এনজিও আর স্থানীয় মহাজন বা দাদনদার। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ব্যাংকের ঋণ পাওয়া কঠিন। কাগজপত্র, জামানত জোগাড় করা সহজ নয়। ফলে তারা ভরসা করেন মহাজনের ওপর। ফসল উঠলে নির্দিষ্ট দরে ধান দিয়ে ঋণ শোধ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কম দামে। এবার সেই ব্যবস্থাটাই উল্টো ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিকলীর শাহপুর গ্রামের কৃষক মাহফুজ মিয়া ২০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সব। ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে। কীভাবে শোধ করবেন এত টাকা, সেই চিন্তায় ঘুম হয় না তাঁর।

মুছা মিয়া নামে আরেকজন বলেন, ‘সবাই ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেন। ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক– এমন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনেকে সমিতি বা মহাজনের কাছ থেকেও ঋণ নেন। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ কৃষক জমি, গরু বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন। তারপর সামনের বছর আবার ঋণ করে চাষ করবেন। এভাবে ঋণের চক্র চলতেই থাকবে।’
কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে কোনোমতে কিছু ধান নৌকায় তুলছিলেন আবু তাহের। দৈনিক এক হাজার ২০০ টাকায় দিনমজুর নিয়েছেন তিনি। অথচ ভেজা ধান ৬০০ টাকা মণ। ক্ষতি জেনেও মায়ায় পড়ে কিছু ধান তোলার চেষ্টা করছিলেন। জানালেন, ধান চাষের জন্য তিনি ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আবু তাহের বললেন, ‘এখন ঘরে যে ধান আছে, তা দিয়ে পরিবারের খাবারই জুটবে না। ওদিকে পাওনাদার (মহাজন) টাকা শোধের জন্য জমি বিক্রি করার চাপ দিচ্ছে। জমি বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।’

মিঠামইন উপজেলার খাসাপুর গ্রামের কৃষক রতন মিয়া বলেন, বন্যায় পুরো হাওরে ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সব সহায়তা যাচ্ছে সুনামগঞ্জে। কিশোরগঞ্জে এখনও সহায়তা শুরু হয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধানক্ষেত  তলিয়ে গেছে। এতে ৫২ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত চলবে।

২০২৭ সালে বোরো মৌসুমে আগাম বন্যায় কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার ফসল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২২ সালেও ফসলডুবির ঘটনা ঘটে। পরের দুই বছর ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য পাননি কৃষক। তারা এলাকার মহাজন, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে একের পর এক ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণের জাল থেকে বের হতে পারেননি হাওরবেষ্টিত উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও করিমগঞ্জের কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, তিন বছর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নষ্ট হয় ৫৫ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমির প্রায় তিন লাখ টন ধান। ক্ষতিগ্রস্ত হন এক লাখের বেশি কৃষক। এর পরের দুই মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলেও কৃষক বলছেন, তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পাননি। ফলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেননি। এই অবস্থায় মহাজনদের থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে অনেকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণ শোধ করতে ঋণ নিয়েছেন ব্যাংক থেকে। এভাবে ঋণের চক্রে পড়েছেন তারা।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, এই বিপর্যয় পুরোপুরি প্রাকৃতিক নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা। হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া, অকেজো স্লুইসগেটের কারণে পানি নামার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সময়মতো ধান কাটতে না পারার সমস্যা। ডিজেল সংকট, শ্রমিকের অভাব, যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা– সব মিলিয়ে কৃষকেরা প্রস্তুত থাকলেও ফসল তুলতে পারেননি। অনেক জায়গায় জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যায়নি। অন্য বছর দূরদূরান্ত থেকে শ্রমিক এলেও এবার সেই প্রবাহ কম ছিল।

তিনি বলেন, এই ক্ষতি এখানেই শেষ নয়। কৃষকের হাতে এখন কোনো পুঁজি নেই। ফলে পরের মৌসুমে চাষ করাই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একটি বিশেষ কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তিন মাস কৃষককে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক মনে করেন, শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ফসলহানির পর কৃষকেরা কীভাবে কৃষিঋণের চাপ সামলাবেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ঋণ পুনঃতপশিলীকরণ, কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ এবং সুদ মওকুফের মতো সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের (ফ্রিপ) পরিচালক ড. তৌফিকুর রহমান বলেন,‌ হাওরাঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফ্রিপ প্রকল্প কাজ করছে। প্রকল্পটি সাতটি হাওর জেলার ৬৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফসলের নিবিড় ও বহুমুখী চাষ, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় হাওর এলাকায় ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় স্বল্প জীবনকালীন উচ্চফলনশীল ধানের জাত, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনতে সোলার সেচ ব্যবস্থা ও বারিড পাইপ সেচ প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান ড. তৌফিকুর। পাশাপাশি কৃষিতে শ্রমিক সংকট কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং সময়মতো বপন, রোপণ ও ফসল কাটার সুবিধার্থে প্রকল্প এলাকার কৃষক গ্রুপগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

ড. তৌফিকুর রহমান বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে ফ্রিপ প্রকল্প হাওরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি টেকসই ভূমিকা রাখছে।