Home Blog Page 91

ঈদ আসছে চার মহাসড়কে চার সমস্যা

আসন্ন ঈদযাত্রায় দেশের চারটি মহাসড়কে অন্তত চার ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে ঘরমুখী মানুষকে। সড়ক ও সেতুতে বোতলগলা (বটলনেক) পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ পথে  যানবাহনের অত্যধিক চাপ তৈরি হতে পারে, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ভোগাতে পারে ভাঙাচোরা সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে জলাবদ্ধতার সমস্যা আর ঢাকা-সিলেট সড়কে ভোগান্তির কারণ হতে পারে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ।

এর পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা, সড়কে পশুর হাট, গাড়ি পার্কিংয়ের মতো দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু কারণ যাত্রার সময় দীর্ঘ করতে পারে। যদিও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে টানা তিন দিন ছুটি, শিল্পকারখানা ধাপে ধাপে বন্ধ করার মতো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবু শেষ সময়ে যাত্রীর চাপে আগের ঈদের মতো এবারও যানজটে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

সমকালের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকরা সমস্যাজনক স্থানগুলো চার দিন ধরে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে খানাখন্দ, সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার ও অবৈধ স্থাপনা এখনও রয়েছে। গজারিয়ায় মালবাহী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা ও সড়কের পাশে বাজার বসায় স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করতে পারছে না। ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় সড়কের পাশে দোকানপাট ও বাজার, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সড়ক সরু হয়ে যাওয়া, টাঙ্গাইলে লক্কড়ঝক্কড় যান চলাচল এবং এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের পাঁচ জায়গায় ঈদের সময় যানজট অনেক বেড়ে যায়। নরসিংদীতে মহাসড়কের জায়গায় জায়গায় খানাখন্দ, অন্তত আট জায়গায় বাস থামানো ও বাজার বসানোয় যানজট হচ্ছে। আখাউড়া স্থলবন্দর নির্মাণকাজ চলায় আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার যানজট হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের তারগাছ, গাছা, বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন অংশ বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। বড় নালা বানিয়েও পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত যানজট হচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে মাঝেমধ্যেই যানজট হচ্ছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, গত বছর ঈদুল ফিতরের আগে টানা পাঁচ দিনের ছুটির কারণে যাত্রীরা ধাপে ধাপে শহর ছাড়ায় ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কম ছিল। কিন্তু একই বছর ঈদুল আজহার আগে মাত্র দুদিন ছুটি থাকায় তীব্র যানজট হয়েছিল। এ বছর ঈদুল ফিতরের আগে ছুটি ছিল চার দিন। তারপরও কলকারখানায় ছুটির শেষ দিনে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট হয়। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে ১৩-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগেছিল, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পাঁচ ঘণ্টা লাগে। ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামের পথেও তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি যানজট হয়েছিল।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। ২৪ মে অফিস শেষে শুরু হবে ছুটি। এ হিসাবে ঈদের আগে তিন দিন সময় পাওয়া যাবে শহর ত্যাগের। হাইওয়ে পুলিশের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, গত কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে ২০০টির বেশি পশুর হাট বসেছিল। এতে যানজট হয়েছিল। আগের বছরগুলোর মতো এবারও সরকার বলছে, মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদেরই সংশয় রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা 
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ কিলোমিটারে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক ১৮ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন মহাসড়কে ২৬ থেকে ৩০ হাজার যানবাহন চলে। তবে ঈদের সময় যানবাহনের সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়ে যায়। এতে টোল আদায়ের ধীরগতিতে যানজট হয়।

বাসচালকরা জানান, কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড, মদনপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় বাস স্টপেজের কারণে যানজটে পড়তে হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণেও যানজট তীব্র হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। মহাসড়কে বিকল হওয়া যানবাহন দ্রুত সরাতে দুটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ঈদের আগেই বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট খানাখন্দগুলো মেরামত করা হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহাসড়কের পাশে শিমরাইলে টাইগার রিরোলিং মিলের পরিত্যক্ত মাঠে এবারও কোরবানির হাট বসবে। মহাসড়কের এই অংশে সড়ক দখল করে বাজার ও অবৈধ স্থাপনা বসছে। গত ৫ এপ্রিল উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর আবার অবৈধ স্থাপনা ফিরে এসেছে। সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার জানান, শিমরাইল, সাইনবোর্ড ও কাঁচপুরে আবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহাসড়কের গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটারে যানজট হতে পারে মালবাহী যানবাহন পার্কিং ও বাজারের কারণে।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ইউটার্ন থেকে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। তিন চাকার যানবাহনগুলো উল্টো পথে চলে। ঈদের সময় এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহাসড়কের পাশে কয়েকটি পশুর হাট ও খানাখন্দের কারণে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

সওজের প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা শুক্রবার সমকালকে বলেন, মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সড়কের সব সংস্কারকাজ শেষ হবে।

উত্তরবঙ্গের পথে ভোগান্তি হতে পারে
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, কয়েক বছর ধরে ঈদযাত্রায় ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের প্রবেশদ্বার খ্যাত চন্দ্রায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফ্লাইওভার থাকলেও গত রোজার ঈদে এই মোড় পার হতে সাত থেকে আট ঘণ্টা লেগে যায়। মহাসড়কের পাশে বাজার এবং যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের চাপে যানজট হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে শত শত দোকান। মৌচাক এলাকায় সড়কের পাশে বাজার।

চন্দ্রা ত্রিমোড় ঢাকা ও গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের প্রবেশপথ। দুটি সড়কের সংযোগস্থলে সড়কে বিভাজক বানানো হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জায়গা বেশি রাখায় যান চলাচলের পথ সরু হয়েছে।
নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শওগাত উল আলম বলেন, গত ঈদে যেসব কারণে ভোগান্তি হয়েছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে এবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, যমুনা সেতুতে দিনে গড়ে ২০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদের সময় এই সংখ্যা ৬০ হাজার পার হয়ে যায়। বিপুলসংখ্যক গাড়ির চাপে টোলপ্লাজা মাঝে মধ্যেই বন্ধ রাখতে হয়। ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরও দীর্ঘ হয়।

ট্রাফিক পুলিশের পরির্দশক কাউসার হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেও যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা যানজটের মূল বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি।’
এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভাজক নেই। এখানে দুই লেনে যান চলাচল করে। এ জন্য রোজার ঈদে এখানে যানজট হয়েছিল। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে দুই পাশের রাস্তা সরু হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল অংশে মির্জাপুরের দেওহাটায় কোরবানির পশুর হাট বসবে। এই হাটের কারণে আগের বছরগুলোতে মহাসড়কে যানজট হয়েছিল।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ১৯০ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত হলেও যমুনা সেতুর সম্প্রসারণ কাজ শেষ হয়নি। রেললাইন অপসারণের পর সেতুতে গাড়ি চলাচলের পথ সম্প্রসারণে দরপত্র ইতোমধ্যে সরকারি অনুমোদন পেলেও কাজ শুরু হয়নি। তাই সেতুর ওপর পুরোনো ‘বটলনেক’ সংকটে উত্তরের পথে যানজট হতে পারে।

রোজার ঈদে এই সরু পথে বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে শতাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এতে দীর্ঘ যানজট হয়। তবে স্বস্তি দেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ‘ক্লোভারলিভ ইন্টারচেঞ্জ’। সাউথ এশিয়া সাব-জোনাল কোঅপারেশন ‘সাসেক-২’ প্রকল্পের আওতায় এই ইন্টারচেঞ্জের একটি র‍্যাম্প ২০ মে খুলে দেওয়া হবে।

প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বগুড়া ও উত্তরাঞ্চলগামী নতুন র‍্যাম্পটি চালু হলে পশুবাহী ট্রাক ও বাসগুলো সিগন্যাল ছাড়াই মোড় পাড় হতে পারবে।
হাটিকুমরুল মোড় ঠিক হলেও মহাসড়কের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় গাইবান্ধায় গত ঈদের মতো যানজট হতে পারে। ‘সাসেক’ প্রকল্পের পরিচালক ড. ওয়ালীউর রহমান বলেন, গোবিন্দগঞ্জ অংশের ৭০ শতাংশসহ মহাসড়কের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ।

নীলফামারীর যাত্রী ব্যাংক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মহাসড়ক ভালো হয়েছে। কিন্তু সেতুর মুখে এসে গত ঈদে কয়েক ঘণ্টার দুর্ভোগের স্মৃতি এবারও মনে ভয় ধরাচ্ছে।’
যমুনা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের (বিবিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে বিকল্প সড়ক হিসেবে ভুয়াপুর রুট চালু রাখার পরিকল্পনা আছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহান ইমতিয়াজ সুমেল বলেন, বৃষ্টিতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।

ঢাকা-সিলেট মহসড়কে জায়গায় জায়গায় যানজট
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশের ভুলতা-গাউছিয়া, কাঞ্চন সেতু, রূপসী, বরাবো ও তারাবো এলাকায় প্রতিদিনই যানজট হচ্ছে।

ভূলতা-গাউছিয়ায় প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা ও যানবাহনের সমাগম ঘটে। ঈদে তা বাড়বে। আশপাশের কলকারখানার গাড়ির অবৈধ পার্কিং এবং অটোরিকশা-সিএনজির অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে পুরো সড়কে নৈরাজ্য চলছে। মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলায় পুরো পথে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যান চলাচল ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী অংশে মহাসড়কটির সম্প্রসারণ কাজ চালু থাকায় প্রায় পুরো পথেই খানাখন্দ। মাধবদী, শেখেরচর, পাঁচদোনা, সাহেপ্রতাপ, ভেলানগর, ইটাখোলা, মরজাল, বারৈচাসহ বিভিন্ন অংশে মহাসড়কের পাশে বাস স্টপেজ ও বাজারের কারণে যানজট হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক বলেছেন, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করা হবে।
ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও আশুগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-সিলেট এবং আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কের নির্মাণকাজ চলায় যানজট হচ্ছে। আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত মহাসড়ক এক সপ্তাহের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে।
আশুগঞ্জ-আখাউড়া মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যবস্থাপক-১ মো. শামীম আহমেদ বলেন, উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করলে যানজটের আশঙ্কা নেই।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুর্ভোগ পুরোনো
গাড়ির চাপ বাড়লেই টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট হচ্ছে। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, মাঝারি বৃষ্টিতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের তারগাছ, গাছা, বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যায়। বাস র‌্যাপিট ট্রানজিট প্রকল্পের আওতায় বড় নালা নির্মাণ করা হলেও সেগুলো ময়লায় অনেকটা বন্ধ। পানি নিষ্কাশন হয় না।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আগের ঈদের চেয়ে আমরা বেশি প্রস্তুতি নিয়েছি।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে যানজট হয়। অবৈধ বাজার ও পার্কিংয়ের কারণে সড়কের কোনো কোনো অংশ গলিতে পরিণত হয়েছে। টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগ আলী, ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট হচ্ছে।

মাওনা চৌরাস্তার পর বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি, জৈনাবাজার যানজটপ্রবণ এলাকা। গাজীপুর শিল্প-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, ঈদে কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হবে। এতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমবে।

কোন পথে মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেদিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিলেন, সেদিন বিকেলেই ব্রিগেড থেকে বড়জোর দুই-তিন মাইল দূরে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের বাসভবনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী যা বললেন; সেটাকে মহাকাব্যিক আয়রনি বা শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডির সঙ্গে তুলনা করলেও বোধহয় ভুল হবে না।

মমতা ব্যানার্জী সেদিন সোজাসুজি দেশের ‘বাম, অতিবাম ও জাতীয় শক্তিগুলোকে’ তার সঙ্গে হাত মেলানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে এখন সবাইকে একজোট হতে হবে। এবং ‘শত্রুর শত্রুকেই’ এখন বন্ধু বলে ভাবতে প্রস্তুত তিনি।

এমন কী- আলোচনার দরজা খুলে রেখে বাড়িতে কখন থেকে কখন তাকে পাওয়া যাবে, সেটাও একই নিঃশ্বাসে সেদিন জানিয়ে দেন তিনি।

আসলে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের একটানা শাসনের অবসান ঘটিয়ে যখন মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সরকার রাজ্যের ক্ষমতায় আসে, সেটাকে এই রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়।

সিপিআইএমের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের আমলে শাসক দলের একচ্ছত্র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের সমাজ, রাজনীতি, প্রশাসন ও দৈনন্দিন জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে প্রবেশ করেছিল যে, মাত্র ১০-১২ বছরের পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল প্রায় একজন ব্যক্তির ভরসায় সেই বামপন্থিদের ক্ষমতা থেকে প্রায় নির্মূল করে দিতে পারবেন, এটা অনেকে ভাবতেই পারেননি।

মমতা ব্যানার্জী প্রায় একার হাতে সেই অসাধ্যসাধন করেছিলেন, আর পশ্চিমবঙ্গকে বামপন্থিদের ক্ষমতা থেকে হঠাতে পারাটাকেই তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে ধরা হয়ে থাকে।

কিন্তু সেই ঘটনার ঠিক ১৫ বছরের মাথায় যেভাবে তিনি এখন সেই ‘লেফট’ বা ‘আলট্রা লেফট’দেরও তার সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তা থেকে বোঝা কঠিন নয় তার রাজনৈতিক জীবনের পরিক্রমাও এখন একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছে।

বামপন্থি দলগুলো তার সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করেছে সেটা অন্য কথা। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী যে নির্বাচনী বিপর্যয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে নিজের মতো করে আবার ঘর গোছানোর চেষ্টা শুরু করেছেন এবং রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন সেটাও এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট।

কলকাতার যোগমায়া দেবী কলেজের ছাত্রী সংগঠন থেকে যার কংগ্রেসী রাজনীতিতে হাতেখড়ি, সেই মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক জীবন পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পুরোনো। পার্লামেন্ট ও বিধানসভা মিলিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতেও তিনি আছেন ৪২ বছর ধরে। কিন্তু এই একাত্তর বছর বয়সে রাজ্যে বিজেপির প্রবল দাপটের মধ্যে তিনি কি আদৌ পারবেন আরও একবার ঘুরে দাঁড়াতে?

না-কি মমতা ব্যানার্জী ও তার নিজের হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রাজনৈতিক অবিট’ লেখার সময় এসে গেছে?

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে ও সামনের চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন উত্তর খুঁজেছে সেই প্রশ্নগুলোরই।

যাদবপুরে সোমনাথ চ্যাটার্জীকে হারিয়ে উত্থান

১৯৭৬ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সেই মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের (আই) সাধারণ সম্পাদক হন। কয়েক বছর পর তিনি হন নিখিল ভারত যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। কলকাতার রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জি বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জীর একটা বিশেষত্ব হলো তার প্রচণ্ড লড়াকু মনোবৃত্তি, এবং তার পরিশ্রম করার ক্ষমতা।’

শিখার ভাষায়, মমতার রাজনৈতিক জীবনে বহু বাধা এসেছে, ২০০১ সালে রাজ্য নির্বাচনে হারার পর তার দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ধ্বংস হবার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু তিনি আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন, দলকে পুনর্গঠিত করেছেন। এটা তার লড়াই করার ক্ষমতার প্রমাণ।

পশ্চিমবঙ্গে এবারের ভোটে ফল প্রকাশের পরদিন (৫ মে) মমতা ও অভিষেক ব্যানার্জী

প্রতীচী ট্রাস্ট নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কারী সাবির আহমেদ বলেন, ‘ছোট ছোট অনেক ঘটনা আছে যার মধ্যে দিয়ে তিনি তখনকার কংগ্রেসের বড় বড় নেতাদের নজরে এসেছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো ১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে সোমনাথ চ্যাটার্জির মত প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতাকে হারানো।’

প্রকৃতপক্ষেই সেটা ছিল এক সাড়া-জাগানো ঘটনা। কলকাতার যাদবপুর লোকসভা আসনে সেই প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতাকে হারিয়ে মমতা ব্যানার্জী ভারতের কনিষ্ঠতম পার্লামেন্ট সদস্যদের একজন হয়েছিলেন।

১৯৮৪-র লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেস অবশ্য বিপুল সহানুভূতি ভোট পেয়েছিল। কিন্তু যাদবপুরের মতো বামপন্থিদের শক্ত ঘাঁটিতে সোমনাথ চ্যাটার্জির মতো ডাকসাইটে নেতা একজন আনকোরা অপরিচিত তরুণী নেত্রীর কাছে হেরে যাচ্ছেন, এটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছিল।

মমতা ব্যানার্জীর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার সেই শুরু। দিল্লিতেও তিনি ততদিনে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সুনজরে এসে গেছেন।

এর পর ১৯৮৯ সালে নির্বাচনে ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসবিরোধী হাওয়ার মধ্যে মমতা ব্যানার্জী অবশ্য সেই যাদবপুর আসনেই হেরে যান। কিন্তু কিছুদিন পরই ১৯৯১-এ আবার কলকাতা দক্ষিণ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে লোকসভায় ফিরে আসেন। এবং পরে আরও পাঁচবার লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

লোকসভা সদস্য থাকার সময় বেশ কিছু ঘটনায় মমতা ব্যানার্জীর সেই ‘লড়াকু’ ও ‘প্রতিবাদী’ ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

নিজ দলের বিরুদ্ধে সিপিআইএমকে সহায়তার অভিযোগ আনা, পার্লামেন্ট ভবনে পেট্রোলিয়াম মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, একজন এমপির সাথে হাতাহাতি, ‘পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে’ রেলমন্ত্রীর প্রতি শাল ছুঁড়ে মারা এবং এমপি পদ থেকে ইস্তফা—ইত্যাদি নানা ঘটনায় আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।

মমতা ব্যানার্জী প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৯১ সালে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পি ভি নরসিমহা রাও।

আর প্রথম পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ১৯৯৯ সালে—যখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অংশ হয়েছিল তার নিজের প্রতিষ্ঠিত দল তৃণমূল কংগ্রেস।

সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ভূমিকা

মমতা ব্যানার্জী কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৯৮ সালে, এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যেই এটি পরিণত হয় বামফ্রন্ট-শাসিত পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে।

বামফ্রন্ট সরকারের সময় ২০০৫ সাল থেকে পরবর্তী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য কৃষিজমি বরাদ্দের কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণঅসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে জমি রক্ষার জন্য গড়ে ওঠা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রধান বিরোধীদলে পরিণত হয় তৃণমূল কংগ্রেস।

নন্দীগ্রামে আন্দোলনরত জনতার ওপর পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হবার পর পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারবিরোধী মনোভাব জোরদার হয়ে ওঠে। নন্দীগ্রামে কৃষকদের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে মমতা ব্যানার্জী হয়ে ওঠেন রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা।

সাবির আহমেদ বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে একটা সময় ছিল যে, লোকে ভাবত বামফ্রন্টকে কেউ হটাতে পারবে না। কিন্তু তাদের মোকাবিলা করার নেতৃত্ব এবং সাহস মমতা ব্যানার্জী দেখাতে পেরেছিলেন। আর ভূমি অধিগ্রহণের ইস্যুটিতে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন।’

শিখা মুখার্জি আরও বলেন, প্রথম দিকে তার স্লোগান ছিল শুধুই বামফ্রন্ট হটাও। কিন্তু পরে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে তার রাজনৈতিক ভিত্তি সৃষ্টি হয়। তার ফলেই মমতা ব্যানার্জির নির্বাচনে বিজয়ের পথ তৈরি হয়েছিল।

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বামফ্রন্টের চাইতে বেশি আসন পায় তৃণমূল। আর তার দুই বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল দল ওই রাজ্যে ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টকে হারায়।

মমতা ব্যানার্জী হন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী। এরপর থেকে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় ছিলেন একটানা ১৫ বছর। এরপর ২০১৬ এবং ২০২১-এর নির্বাচনেও বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস।

বিরোধী মমতা বনাম প্রশাসক মমতা

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক জীবনে স্পষ্টতই দুটো পর্ব—শুরু থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি ছিলেন মূলত বিরোধীর ভূমিকায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামফ্রন্টকে হঠানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। আর তার পরবর্তী ১৫ বছর তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষতম পদে।

মুখ্যমন্ত্রিত্বের এই ১৫ বছরে এসে দুর্নীতির অভিযোগ তাকে ও তার দলকে খুবই বিপর্যস্ত করেছে। সাদামাটা জীবনযাপন আর নীল-সাদা হাওয়াই চটি বহুদিন যার সততার ট্রেডমার্ক ছিল, তার নিজের গলাতেও শোনা গেছে অভিমান আর উৎকন্ঠা।

একটা সময় একের পর এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘ভুল করলে আমায় চড় মারবেন, কিছু মনে করব না। বললে বাড়িতে গিয়ে বাসনও মেজে দিয়ে আসব। কিন্তু দয়া করে চোর বলবেন না, মিথ্যে বদনাম দেবেন না!’

তবে শুধু দুর্নীতি নয়, রাজ্যের প্রশাসক হিসেবে তিনি শিল্প টানতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চরম ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী বিজেপি বা সিপিআইএম।

তারা প্রায় এক সুরে বলেছে, এই দেড় দশকে রাজ্যে বড় লগ্নি একটাও আসেনি—মুখ্যমন্ত্রী শুধু ধূপকাঠি বা তেলেভাজা শিল্পকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

আসলে রাজপথে সফল আন্দোলনের যে ট্র্যাডিশন মমতা ব্যানার্জিকে বিরোধী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল—ক্ষমতায় আসার পর সেটাই তাকে প্রশাসক হিসেবে ডুবিয়েছে বলে মনে করতেন অধুনা প্রয়াত, প্রবীণ বামপন্থি নেতা শ্যামল চক্রবর্তী।

ঠিক ১০ বছর আগে শ্যামল বিবিসিকে বলছিলেন, ‘সাহিত্যিক সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এক সময় লিখেছিলেন, বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। সেটাকেই একটু ঘুরিয়ে নিয়ে বলতে চাই, বন্যেরা বনে সুন্দর আর মমতা ব্যানার্জি বিরোধী দলে!’

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভাঁটা?

পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের মানুষের ধারণা ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা যতই দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকুক, দলের সর্বোচ্চ নেত্রীকে সেই কলঙ্ক কখনো স্পর্শ করেনি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি সব দুর্নীতির ঊর্ধ্বে, এমনটাই মনে করতেন অনেকে।

একদা মমতা ব্যানার্জীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও কবি সুবোধ সরকার বলতেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যে অসাধারণ ‘কানেক্ট’—সেটাই কিন্তু তাকে এই বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের দরিদ্রতম অংশের সঙ্গে তিনি যেভাবে মিশতে পারেন, তাদের উঠোনে বসে তাদের ভাষায় যেভাবে কথা বলতে পারেন সেটাই তাকে মানুষের এত আপন করে তুলেছে। মনে রাখবেন, ৩৪ বছরে কমিউনিস্টদের সঙ্গে মানুষের কিন্তু বিরাট দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছিল।’

ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর কালীঘাটের বাসভবনে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করতে যাচ্ছেন। ৫ মে, ২০২৬

ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর কালীঘাটের বাসভবনে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করতে যাচ্ছেন। ৫ মে, ২০২৬

সুবোধ সরকার বলেছিলেন, ‘গরিবের সঙ্গে এই যে গরিবের স্তরে নেমে এসে মেশা—তা আমাদের শহুরে চোখে অদ্ভুত লাগতে পারে। মনে হতে পারে এমন আবার সম্ভব না কি? এটা নিয়ে হাসাহাসিও কম হয়নি। কিন্তু আমার মতে, এটাই মমতা ব্যানার্জির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।’

ফলে মমতা ব্যানার্জি কোনো সরল, একমাত্রিক কোনো রাজনীতিক নন—যাকে খুব সহজে ব্যাখ্যা করা যায়।

একদা কংগ্রেস নেতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র কিন্তু মনে করতেন সংসদীয় রাজনীতির গরিমা তিনি রাখতে পারেননি।

ড. ওমপ্রকাশ বিবিসিকে এক সময় বলছিলেন, ‘মমতার ক্রিস্ট্যালাইজেশন, অঙ্গভঙ্গি বা ভাষাজ্ঞান নিয়ে আমি কিছু বলব না। কিন্তু যেটা আমি বলতে বাধ্য; তা হল সব ক্ষমতাকে উনি কেন্দ্রীভূত করতে চান। এমন কী বলছেন, সব কেন্দ্রে উনিই না কি প্রার্থী—বাকিরা কেউ কিছু নন। ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রকেও তার দল সম্মান জানাচ্ছে না।’

এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে ওমপ্রকাশ নিজেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা নিজস্ব ভাবমূর্তিও যে দলের সব ব্যর্থতা ঢেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর জন্য আর যথেষ্ট হচ্ছে না, ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলই সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে।

এখন কি সম্ভব ঘুরে দাঁড়ানো?

একদা সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও এখন তৃণমূল-ঘেঁষা নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তর মতে, মমতা ব্যানার্জীকে এখনই রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক মনে করে খরচের খাতায় ফেলে দেওয়াটা চরম ভুল হবে।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, ‘এখন দেখলাম, কেউ কেউ বলছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপ্রাসঙ্গিক। কেউ কেউ আবার সে কথা মেনে নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছেন। তাদের মনে করিয়ে দিই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ৮০ জন বিধায়ক, লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে ৪২ জন এমপি এবং এখনো ৪১ শতাংশ ভোট রয়ে গিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাওকে রাতারাতি অপ্রাসঙ্গিক বলে দেওয়ার আগে, দয়া করে প্রণব মুখার্জী এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর দৃষ্টান্ত দুটি মনে রাখবেন। রাজনীতি একটি লম্বা রেস এবং সংখ্যার বিচারে কা‌উকে অপ্রাসঙ্গিক বলে দেওয়াটা বোকামি। চরম বোকামি।’

তবে বিবিসি গত কয়েকদিনে পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে, যারা বিশ্বাস করেন— মমতা ব্যানার্জীর পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো শুধু কঠিন নয়, খুব কঠিন। তাদের মতে, এটা নির্ভর করবে মূলত তিনটি প্রধান ফ্যাক্টরের ওপর।

প্রথমত- মমতা তার দলকে অক্ষত রাখতে পারেন কি না! এই শোচনীয় হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে বা বিজয়ী শিবিরে যোগদানের ঢল নামতে পারে—এমন একটা সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের কঠিনতম চ্যালেঞ্জের মুখে এখন মমতা ব্যানার্জী। ছবি: ফাইল

রাজনৈতিক জীবনের কঠিনতম চ্যালেঞ্জের মুখে এখন মমতা ব্যানার্জী। ছবি: ফাইল

এটা যদি সত্যিই হয়, তাহলে বলতে হবে বিরোধী দলের নেতাদের ভাঙিয়ে এনে একধারসে তৃণমূলের পতাকা হাতে ধরানোর যে সংস্কৃতি রাজ্যে মমতা ব্যানার্জী চালু করেছিলেন সেটার মূল্যই এখন তাকে দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত- দলে অভিষেক ব্যানার্জী ফ্যাক্টর তিনি কীভাবে সামলান সেটাও দেখার বিষয় হবে অবশ্যই।

প্রিয় ভাইপোর প্রতি মমতার যতই দুর্বলতা থাক, জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতায় তিনি যে নিজের পিশির তুলনায় অনেক অনেক পিছিয়ে, সেই প্রমাণও এখন হাতের কাছেই মজুত। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেসে মমতার অঘোষিত উত্তরসূরী তথা তার ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীর দল পরিচালনার পদ্ধতি, করপোরেট স্টাইলে রাজনৈতিক দল চালানো কিংবা পরামর্শদাতা সংস্থার হাতে কর্তৃত্ব তুলে দেওয়া এবং সর্বোপরি দুর্নীতি আর ঔদ্ধত্যর ভূরি ভূরি অভিযোগ—এগুলোর বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোও অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে তৃতীয় ফ্যাক্টরটাই বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- সফল বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতার যে অসাধারণ ট্র্যাক রেকর্ড, তিনি কি নিজের সেই পুরোনো পরিচয়কে রাজ্য রাজনীতিতে পুনরাবিষ্কার করতে পারবেন?

এর জন্য মমতাকে অবশ্যই নতুন বিজেপি সরকারের ‘ভুল’গুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে—কোনো একটা ইস্যুকে কীভাবে রাজপথের শক্তিশালী আন্দোলনে বদলে দেওয়া যায়, আবার সেই দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।

কিন্তু এখানে তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা সম্ভবত তার বিরুদ্ধে যাবে। কারণ, তিনি সত্তর পেরিয়ে গেছেন বেশ কিছুদিন, অসম্ভব পরিশ্রম করার ক্ষমতাতেও বোধহয় কিছুটা শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে—এই রাজ্যের মানুষ একবার কোনো দলকে ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেললে তাদের আর ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ দেয় না। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী সেই রীতির বিরল ব্যতিক্রম ঘটাতে পারবেন কি না, সেটা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবে তার নিজের ওপরেই।

লোকসানে ৫৪টি কোম্পানি, মুনাফা কমেছে ৫৭টির

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি যুদ্ধসহ নানা বৈশ্বিক কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি কয়েক বছর ধরে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে উৎপাদন ও সেবা-সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানির লাভ-ক্ষতির খতিয়ানে।

চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অন্তত তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৫ শতাংশ হয় লোকসান করেছে, নয়তো মুনাফা কমেছে, অথবা বন্ধ ও রুগ্‌ণ অবস্থায় পড়ে আছে বলে আর্থিক হিসাব প্রকাশই বন্ধ রেখেছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন ও সেবা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের তালিকাভুক্ত দেশীয় কোম্পানি ২৩১টি। এসব কোম্পানির আর্থিক হিসাব বছর জুলাই মাসের শুরু হয়ে শেষ হয় জুনে। গত ৩১ মার্চ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে এ ধরনের কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১১৩ কোম্পানি কম-বেশি মুনাফা করার বিপরীতে ৫৪টি লোকসান করেছে বলে জানিয়েছে। তবে মুনাফায় থাকা ১১৩ কোম্পানির মধ্যে ৫৭টির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

এর বাইরে ৬৪ কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনই প্রকাশ করেনি। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা কোম্পানিগুলোর অধিকাংশ গত অন্তত এক বছর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। এর বড় কারণ কোম্পানিগুলোর ব্যবসা কার্যক্রম হয় পুরোপুরি বন্ধ বা অত্যন্ত রুগ্‌ণ অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

আর্থিক প্রতিবেদন এবং কোম্পানিগুলোর প্রদান করা তথ্যানুযায়ী, চলতি হিসাব বছরে লোকসান করার পেছনে প্রধানত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, ডলার সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির মতো কারণগুলো উৎপাদনমুখী কোম্পানির ব্যাখ্যায় লোকসানের মূল নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বেশ কিছু কোম্পানি জানিয়েছে, ডলার সংকটের কারণে তারা সময়মতো কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারেনি। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে কাঁচামাল কিনতে হয়েছে। দেশবন্ধু পলিমার জানিয়েছে, কাঁচামালের অভাবের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটে পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেনি।

মেঘনা সিমেন্ট কোম্পানিও জানিয়েছে, কাঁচামাল আমদানিতে বাধার কারণে কোম্পানিটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি এবং আয়ের জন্য প্রধানত কনভার্সন ইনকামের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।

হেইডেলবার্গ সিমেন্ট জানিয়েছে, কাঁচামালের দাম বাড়লেও বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস এর ব্যাখ্যায় বলেছে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া লোকসানের বড় কারণ। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা নিট মুনাফাকে নেতিবাচক করে তুলেছে। এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন এবং বসুন্ধরা পেপার মিলসও।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রি কমেছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। মুন্নু সিরামিকস জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ঈদ ও নির্বাচনের ছুটির কারণে কর্মদিবস কমে যাওয়ায় তাদের রাজস্ব ও মুনাফা কমেছে। এদিকে কারখানা বন্ধ থাকা কয়েকটি কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মিথুন নিটিং বলেছে, কারখানা বন্ধ থাকায় কোম্পানিটির কোনো আয় হয়নি।

ভালো করেছে কিছু কোম্পানি

সার্বিক এমন নেতিবাচক চিত্রের বিপরীতে কিছু কোম্পানি ভালো মুনাফা করারও তথ্য দিয়েছে। প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে অন্তত ৩০ কোম্পানির ইপিএস অর্জিত হয়েছে পাঁচ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৪ টাকা।

বারাকা পাওয়ার কোম্পানিটির ৯ মাসের ইপিএস ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৭ পয়সা হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মুনাফা বেড়েছে। সহযোগী কোম্পানি তালিকাভুক্ত বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার কোম্পানিটির ইপিএস ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৮৬ পয়সা হয়েছে। কারণ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত লোকসান কমা এবং গত বছরের তুলনায় আর্থিক ব্যয় কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেছে।

জ্বালানি খাতের কোম্পানি সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের ইপিএস দুই টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে পাঁচ টাকা ০৮ পয়সা হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিক্রি বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের দাম কমে যাওয়ায় তাদের মুনাফা বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি গত বছরের লোকসান কাটিয়ে ৯ মাসে বড় মুনাফা করেছে। তাদের ৯ মাসের ইপিএস ৩৪ পয়সা থেকে ছয় টাকা ২৪ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

প্রকৌশল খাতের আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লোকসান কাটিয়ে ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি চার টাকা ইপিএস দেখিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের ‘নন-অপারেটিং’ আয় অনেক বেশি হওয়ায় মুনাফায় এই পরিবর্তন এসেছে।

কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফার অঙ্কের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্কয়ার ফার্মা সর্বোচ্চ দুই হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে। স্টিল খাতের বিএসআরএম লিমিটেড এবং বিএসআরএম স্টিল যথাক্রমে ৪৬৪ কোটি ও ৪৩২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। বিদ্যুৎ খাতের পাওয়ার গ্রিড ৫৭০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ যারা

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অনেক কোম্পানি তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি। এই তালিকায় রয়েছে জিপিএইচ ইস্পাতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া টেক্সটাইল খাতের আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফ্যামিলি টেক্স, জেনারেশন নেক্সট এবং ওষুধ খাতের বেক্সিমকো ফার্মা, কেয়া কসমেটিকস ও মারিকো বাংলাদেশ তাদের আর্থিক তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটিতে নতুন মুখ চায় শীর্ষ নেতৃত্ব

৯ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। রাউজানে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের জের ধরে গত বছরের ২৯ জুলাই এই সাংগঠনিক জেলায় বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভায়ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনের আগে দল পুনর্গঠনের ঝুঁকি নেয়নি বিএনপি। এখন দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেই কার্যক্রম শুরু করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীরা। তবে মূল নেতৃত্বের জন্য ‘ক্লিন ইমেজের’ নতুন মুখ চাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলা এবং ৯টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা। দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন চলমান সংঘাত থামিয়ে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা যোগ্য ও ত্যাগীদের যেন নেতৃত্বের ভার দেওয়া।

বিএনপির সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির ৯ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কিন্তু কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক জেলাতে দল গোছানো যায়নি। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে রাউজান উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হলেও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সেই কমিটি মেনে নেননি। এখানে তাঁর নেতৃত্বে আলাদা একটি গ্রুপে রয়েছে। মূলত সেই গ্রুপের সঙ্গে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার গ্রুপের সংঘাত-সংঘর্ষে অস্থির রাউজান। গত ২১ মাসে ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটে রাউজানে, যার বেশির ভাগই রাজনৈতিক। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাছির উদ্দীন নামে এক বিএনপিকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু রাউজানই নয়, অন্য উপজেলাগুলোতেও কমবেশি সংঘর্ষ-সংঘাত ঘটছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, দলের একটি পক্ষের নানামুখী বাধার পরও স্বচ্ছতার সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছি। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি, আপসও করিনি। সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন সব কটি উপজেলা ও পৌরসভায় দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কাজ শুরু হলেও তা শেষ করা যায়নি।

এদিকে নির্বাচনের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলটির হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন দলটির পদপ্রত্যাশী নেতারা। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় আছেন এক ডজনেরও বেশি বিএনপি
নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বিলুপ্ত উত্তর জেলা
বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, নূরুল আমিন, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ,
সরোয়ার আলমগীর, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা কতুব উদ্দিন বাহারসহ
আরও কয়েকজন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর ৯ মাসের বেশি হলেও নতুন কমিটি করা হয়নি। আমরা চাই, দলের যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করে দল পুনর্গঠন করা হোক। তাহলে দলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা বিএনপি পুনর্গঠনের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পদপ্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা আশা করছি, এখানে সহসাই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তবে চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা সমকালকে বলেন, নেতাকর্মীদের বিরোধের কারণে রাউজানসহ উত্তর চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে এমন যোগ্য ও পরীক্ষিত মুখ খোঁজা হচ্ছে। সহসা এই সাংগঠনিক জেলায় দল গোছানোর কাজ শুরু হবে।

কোন ধরনের পাত্রে মধু সংরক্ষণ ভালো

মধুর স্বাস্থ্যগুণের কথা কমবেশি সবারই জানা। অনেকেই ওজন কমাতে বা খাবারে মিষ্টতা বাড়াতে মধু বেছে নিচ্ছেন। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা বছরের পর বছর ভালো থাকে।  কিন্তু ভুল পাত্রে মধু রাখলে এর স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কী ধরনের পাত্রে মধু সংরক্ষণ করা ভালো তা জানানো হয়েছে ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে।

কাচের জার

মধু রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে কাচের জার। মধুর সাথে কাচের জারের কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না। এ কারণে মধুর প্রাকৃতিক স্বাদ, গন্ধ এবং গুণাগুণ দীর্ঘ সময় অটুট থাকে। তবে মধু রাখার কাচের জারটি যেন এয়ার টাইট হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। তা না হলে মধুর আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্লাস্টিকের পাত্র 
মধু কখনওই প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা উচিত নয়। কারণ এ ধরনের পাত্রে থাকা রাসায়নিক উপাদান মধুতে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই মধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ধাতব পাত্র
মধু সামান্য অ্যাসিডিক প্রকৃতির। লোহা, তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতব পাত্রে মধু রাখা ঠিক নয়। এর সঙ্গে মধুর বিক্রিয়া ঘটে স্বাদ বদলে যায়। এর পাশাপাশি এতে থাকা ক্ষতিকর ধাতব কণা মধুর সঙ্গে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে স্টেইনলেস স্টিলে মধু রাখতে পারেন।

মাটির পাত্র
আগেকার দিনে অনেকেই মাটির পাত্রে মধু রাখতেন। এই পাত্রে মধু রাখা নিরাপদ। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পাত্রটি এয়ার টাইট হয়। বাতাসের সংস্পর্শে এলে মধু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মধুর ঘনত্বও কমে যেতে পারে।

মধু সংরক্ষণের নিয়ম
ঘরের তাপমাত্রাতেই মধু বছরের পর বছর ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখার দরকার পড়ে না। কিন্তু সূর্যালোক সংস্পর্শে এলে বা আর্দ্রতার কাছাকাছি থাকলে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ কারণে শুকনো ও সূর্যালোক থেকে দূরে ঘরের এমন জায়গায় মধুর জার রাখা উচিত।

কারিনাকে বিকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে

কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের। কনটেন্ট তৈরি, অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার ব্যস্ততার মধ্যেই চলছিল তাঁর সময়। তবে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এই তরুণী।

গুরুতর লিভার জটিলতায় আক্রান্ত কারিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার বিকেলে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তাঁর বাবা, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।

মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও আর্থিক চাপে ভেঙে পড়া কায়সার হামিদ বলেন, “মাত্রই ভিসা হাতে পেলাম। বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ওকে নিতে আসবে। এখানে হাসপাতালের অনেক বিল, আবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও বড় অঙ্কের টাকা লাগছে। আম্মার আর আমার কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙছি, একটা জমির বায়নাও করছি। আজকের মধ্যেই সব শেষ করতে হবে।”

একজন অসহায় বাবার কণ্ঠে তখন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা। মেয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওকে নিরাপদে সেখানে পৌঁছানো। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে হয়তো একটা আশার জায়গা থাকবে। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

কারিনার শারীরিক অবস্থার এখনো তেমন উন্নতি হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে চিকিৎসকেরা আপাতত তাঁর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। কায়সার হামিদ বলেন, “অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে প্রেশারটা নিয়ন্ত্রণে আছে।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই কারিনার শারীরিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। আগে থেকেই তাঁর ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গত শুক্রবার লিভার ফেইলিউর হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

এই সংকটের মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছে চিকিৎসার ব্যয়। এর আগে কায়সার হামিদের এক ভাই দীর্ঘদিন ব্রেন ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছেন। সেই সময়ও পরিবারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল। এখন মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁদের।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কারিনা সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখাতেও নিয়মিত ছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইনটান্টশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের কারণে তরুণ দর্শকদের কাছেও আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।

পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন

পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের সঙ্গে আমরা আপস করতে চাই না। অনেক সময় আমরা দেখেছি, আপনাদের একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী পরিচয়—এ রকম বিষয় আপনাদের ফেস করতে হয়। আমি পরিষ্কারভাবে আজকের অনুষ্ঠানে বলতে চাই, দুর্নীতি-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে তাকে আপনারা অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন।’

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা দল কিন্তু আপনাদের দল নয়। বরং আপনারা আইনের রক্ষক—এ জিনিসটা কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত ও মানবিক।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কঠোরভাবে বজায় রাখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ‘বর্তমান সরকার অবশ্যই জনগণের গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত রাখতে চায়। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (বিনষ্ট) কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে না পারে, এটিও কিন্তু আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে। একটা সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে এসেছি। ঠিক একইভাবে কিন্তু জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদ কিন্তু কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিপদে পড়লে যেকোনো পেশার মানুষ আপনাদের কাছে যায়। অর্থাৎ লোকাল থানায় যায়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেখানে দায়িত্বশীল যে পুলিশ সদস্যরা থাকেন, তারা যদি আন্তরিকভাবে চান তাহলে আইনি ও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অনেক ঘটনার শুরুতেই নিষ্পত্তি করা যায়।’ পুলিশের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে মব ভায়োলেন্স সুন্দরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষ নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই এর অন্যতম একটি কারণ। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যদি পূরণ হয়, সে ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে নাগরিকদের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টি টানা কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হতে পারে। এই বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১৩ মে (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় (১৬ মে শনিবার) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটার) বৃষ্টি হতে পারে। এর কারণে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, বজ্রমেঘের কারণে গতকাল রোববার থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রংপুর বিভাগে বৃষ্টি বাড়তে থাকবে। এর ময়মনসিংহ, সিলেট এমনকি ঢাকা বিভাগেও বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা সমকালকে বলেন, চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সারা দেশেই কম বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে দেশের উত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এটি কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি সম্পর্কে আরও ২৪ ঘণ্টা পর স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এরপরই বোঝা যাবে লঘুচাপটি শক্তিশালী হবে কিনা, কিংবা শক্তিশালী হলে উপকূলের কোথায় আঘাত হানবে।

নোয়াখালী পুরাতন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারকে অব্যাহতি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে চলমান মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সোনাইমুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হিন্দু ধর্মশিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ওই কেন্দ্রে মোট ১৫ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অভিভাবকদের নজরে আসে বিষয়টি, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার কারণেই এই ভুল হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত হল সুপার ও কেন্দ্র সচিব মাওলানা সফি উল্যাহ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তা সংশোধন করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, পরীক্ষার্থীদের তথ্য কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানান, ভুলভাবে গত বছরের প্রশ্নপত্র চলতি বছরের পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কেন্দ্র সচিব, হল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কেন্দ্র সচিব ও হল সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে কাঁটাতার, চাকরির বয়স বৃদ্ধিসহ কী কী সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

শনিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে অফিস করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ১৪ তলায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দুর সঙ্গেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রমাণিক। অবশ্য তাঁদের দপ্তর এখনও বণ্টন হয়নি। এই বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পসহ প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বৈঠকে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির বয়স পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।

সকাল থেকে একের পর দলীয় কর্মসূচি সেরে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছেন নবান্নতে। সেখানেই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। তারপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাসহ একাধিক ইস্যুতে বৈঠক করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন বেশ কয়েকটি দপ্তরের সচিব ও কর্মকর্তা।

শান্তি নিশ্চিত সরকারের অগ্রাধিকার
এরই মধ্যে বৈঠকের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব শ্রী দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ, রাজ্যের ডিজিপি শ্রী সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার শ্রী অজয় নন্দের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলাম। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।’

সোমবার নবান্নে এরপর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ১টা নাগাদ বৈঠক শুরু করেন ২৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে। এরপর বিকেল ৪টায় নবান্নে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। যদিও তার আগে শুভেন্দু অংশ নেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু।

বিজেপির নিহত ৩২১ কর্মীর পাশে সরকার
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব।

শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে। প্রথমত, দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখলো দেশের মানুষ। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সমস্ত প্রার্থীদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই ৩২১ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

সীমান্ত সুরক্ষায় ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তর
শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আজ থেকেই জমি ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে ততটা জমি দেওয়া হবে। আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। আমরা ভূমি দপ্তরকে আজ থেকেই রেডি থাকা জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া করতে বলেছি। আগের সরকারের মতো আলাপ করা প্রশ্নোত্তরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বা তার ক্যাবিনেট যাবে না।’

এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএসএফকে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্প যেগুলোতে এতদিন রাজ্য সরকার যুক্ত হয় নেই সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন প্রথম ক্যাবিনেটের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে আমরা যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলাম। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন। প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। উজলা যোজনার ৮ লাখ ৬৫ হাজার পিটিশন যেটা আগের সরকার কেন্দ্রকে পাঠায়নি, আমরা সেটা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের সিআরপিসি আইপিসি চলছিল। আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তার সঙ্গেও আমরা যুক্ত হলাম।’

বাড়ানো হলো সরকারি চাকরির বয়স
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গেছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হলো। ১৬ জুন ২০২৫, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জনগণনার জন্য মিনিস্টার হোম অ্যাফেয়ার্স থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই ফাইল ফেলে রেখেছিল। এরা শুধু পশ্চিমবাংলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি দেশের সঙ্গে দেশের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদের মূল লক্ষ্যই ছিল এই জনগণনা আটকে দিয়ে মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এই মুহূর্ত থেকে জনগণনার কাজ আজ থেকেই শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।’

‘আমিত্ব’ নয়, ‘আমরা’ নীতিতে চলব
শুভেন্দুর দাবি, আমাদের কিছু পেপার ওয়ার্কের প্রয়োজন আছে। আমাদের সংকল্পপত্রে যে ঘোষণাগুলো করেছিলাম সেই বিষয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত আমরা পরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেব। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’ নীতিতে চলবে। বেঁচে থাকা চার-পাঁচ পার্সেন্ট সমালোচক, তারাও যাতে কোনো সমালোচনা করতে না পারে, আমরা তেমনভাবেই কাজ করব। আমাদের উপর ভরসা রাখুন, আমরা ঠিক পথেই চলব। আগের সিএমকে তো প্রশ্ন করতে পারতেন না।