Home Blog Page 94

সমকাল এক্সপ্লেইনার মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখার রাজনীতি ও অর্থনীতি

ঠিক পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। সে বছরের জুলাইয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের এক খামারে কোরবানির পশুর নাম রাখা হয়েছিল ‘হামাস’।

পাঁচ বছর পর ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে মহিষের নাম রাখা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরেকটিকে ডাকা হচ্ছে ‘নেতানিয়াহু’ নামে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যশোরে একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের নামানুসারে।

২০২১ ও ২৬ এর মাঝের বছরগুলোতেও কোরবানির পশুর হাট কিংবা খামারে সমসাময়িক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গরু-মহিষের নামকরণের প্রবণতা দেখা গেছে। একটি ধর্মীয় আচারের জন্য নির্ধারিত পশুর গায়ে যখন কোনো বিশ্বনেতা বা বিতর্কিত ব্যক্তির নাম সেঁটে দেওয়া হয়, তখন সেটি আর কেবল একটি পশু থাকে না; পরিণত হয় শক্তিশালী প্রতীকী বার্তায়।

প্রশ্ন হলো- এই নামকরণের পেছনে ঠিক কী ধরনের মনস্তত্ত্ব কাজ করে, কেন সাধারণ মানুষ একজন ক্ষমতাধর নেতার নাম কোরবানির পশুর সঙ্গে যুক্ত করছে এবং ডিজিটাল যুগের অ্যাটেনশন ইকোনমি বা মনোযোগের অর্থনীতি কীভাবে এই ট্রেন্ডকে উসকে দিচ্ছে?

অ্যাটেনশন ইকোনমি
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাজার ব্যবস্থায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের ফলে, কোরবানির পশুর হাটগুলো এখন আক্ষরিক অর্থেই একটি ‘অ্যাটেনশন ইকোনমি’ বা মনোযোগের অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে বানানো।

প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে বানানো।

অ্যাটেনশন ইকোনমির তাত্ত্বিক ভিত্তি হলো- আধুনিক বিশ্বে তথ্যের কোনো অভাব নেই, বরং অভাব আছে মানুষের মনোযোগের। তাই যেখানে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়, অর্থের প্রবাহ সেদিকেই যায়।

নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে অ্যালবিনো (ধবল) জাতের যে মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখা হয়েছে, সেটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। মহিষটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও খবরের শিরোনাম হয়েছে। সুদূর ফ্রান্সের গণমাধ্যম টিএফওয়ান-এর ফেসবুক পেজে মহিষটি নিয়ে বানানো একটি রিল ৬২ লাখের বেশি দেখা হয়েছে।

সমকালের ১২ মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতিকেজি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসেবে মোট দাম পড়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদুল আজহায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়। এমন পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, দেশে ঈদ ঘিরে গবাদিপশু লালন-পালন ও বিক্রি একটি বড় ধরনের ব্যবসা। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজের খামারের পশুকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করাটাও কৌশলে পরিণত হয়েছে।

যেমন- নারায়ণগঞ্জের মহিষটির ক্ষেত্রে বিক্রেতারা যুক্তি দিচ্ছেন, মাথায় একগুচ্ছ সোনালি চুলের মিল থাকায় এর নাম রাখা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও তাঁর হালকা সোনালি চুলের জন্য বেশ পরিচিত। এই নামের কারণে মহিষটি সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের যে বিপুল মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, তা সাধারণ বিপণন কৌশলের মাধ্যমে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

খামারে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ চুল আঁচড়ে দেন এক ব্যক্তি। ১৭ মে নারায়ণগঞ্জে। ছবি: এএফপি

খামারে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ চুল আঁচড়ে দেন এক ব্যক্তি। ১৭ মে নারায়ণগঞ্জে। ছবি: এএফপি

গত কয়েক বছরের প্রবণতা দেখাচ্ছে, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সাররা মূলত পশুর হাটে ‘ভাইরাল মার্কেটিং’-এর প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেন। এটি এমন এক বিপণন কৌশল যা মানুষের আবেগ, কৌতূহল ও বিনোদনের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কনটেন্টকে দ্রুত ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদমও অস্বাভাবিক বা কৌতূহলোদ্দীপক কনটেন্ট খুব দ্রুত মানুষের ফিডে ছড়িয়ে দেয়। যেমন- নারায়ণগঞ্জের খামারটিতে যাওয়া দর্শনার্থীরাই বলছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য পেয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা মহিষটি দেখতে গেছেন।

রাজনীতিও তাহলে যুক্ত?
নারায়ণগঞ্জের মহিষটি নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেটির মন্তব্যের ঘরে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মেক ক্যাটল গ্রেট অ্যাগেইন’। এই মন্তব্যটি অনেকটা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রচার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-এর আদলে করা হয়েছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্যের ঘরে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে পার্থক্য হলো, মহিষটির কথা এপস্টেইন ফাইলে নেই’। কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত নথি এপস্টেইন ফাইল নামে পরিচিত। যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের নাম আছে।

কোরবানির পশুর হাটে আনা হয়েছে গরু। শুক্রবার রাজধানীর ধোলাইখালে। ছবি: ফোকাস বাংলা

কোরবানির পশুর হাটে আনা হয়েছে গরু। শুক্রবার রাজধানীর ধোলাইখালে। ছবি: ফোকাস বাংলা

এই দুটি মন্তব্য দেখাচ্ছে, কোরবানির পশুর নাম দেখেই পাঠকের রাজনৈতিক মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। অর্থ্যাৎ, তারা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিকে পরোক্ষভাবে ব্যঙ্গ করার সুযোগ পেয়েছেন। বিষয়টির আরো ভালো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় রাশিয়ান দার্শনিক মিখাইল বাখতিনের ‘কার্নিভালেস্ক’ তত্ত্বে।

বাখতিনের মতে, কার্নিভাল বা মেলা হলো এমন একটি স্থান যেখানে সমাজের প্রতিষ্ঠিত সমস্ত নিয়মকানুন, আনুষ্ঠানিকতা, শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্ষমতার দম্ভ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। কার্নিভালের সময় সমাজে একটি উল্টো পৃথিবী তৈরি হয়। যেখানে রাজা সাময়িকভাবে পরিণত হয় ভিখারিতে, আর ভিখারি বা বোকা ব্যক্তি রাজার বেশ ধারণ করেন। যেটিকে বাখতিন ক্ষমতার উল্টোপাল্টা রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নামকরণের ট্রেন্ড বিবেচনায় ধরলে বাংলাদেশের কোরবানির পশুর হাটগুলো সেই কার্নিভালেস্ক তত্ত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। একজন সাধারণ কৃষক ও গরুর ব্যাপারী যখন তার গবাদিপশুর নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বা ‘নেতানিয়াহু’ রাখেন, তখন তিনি মূলত বাখতিনের সেই ‘উল্টানো পৃথিবীর’ জন্ম দেন। যেখানে বিশ্ব রাজনীতির পরাক্রমশালী ব্যক্তিরা নগণ্য ও ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রে পরিণত হন।

বিষয়টিকে আরেকভাবেও দেখা যায়। তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ মানুষের পক্ষে ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহুর মতো ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ সমালোচনা কিংবা তাদের ক্ষমতার ওপর আঘাত করা অসম্ভব। কিন্তু কার্নিভালের পরিবেশে (কোরবানির পশুর হাট) ক্ষমতাধর ব্যক্তির নাম এমন এক প্রাণীর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেটিকে দড়ি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ দৃশ্য দেখাটাও একজন সাধারণ দর্শকের কাছে প্রতীকী বিজয়।

নারায়ণগঞ্জের খামারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ। ছবি: এএফপি

নারায়ণগঞ্জের খামারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ। ছবি: এএফপি

যেমন- টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মন্তব্যের ঘরে আজহার ইসলাম রাসেল নামে একজন লিখেছেন, ‘মহিষ ও ট্রাম্পের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো- মহিষটি সহিংস নয়।’ ফারিস্তা আন্দালিব নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর মতে, ‘মহিষটিকে ট্রাম্পের চেয়ে বরং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতো লাগছে।’ হুসাইনি উসমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘ক্রেতার উচিত মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় রাখা, যাতে আরো দর্শনার্থী দেখতে পারে।’

এটি এক ধরনের লুকায়িত প্রতিরোধ, যা সরাসরি রাজনৈতিক বিক্ষোভের পরিবর্তে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মোড়কে প্রকাশ পায়।

বিশ্বে পশুকেন্দ্রিক যত ব্যঙ্গ
ফরাসি বিপ্লবের সময় রানি মেরি অ্যান্টোয়েনেটের চিতাবাঘের ক্যারিকেচার প্রকাশ করা হতো। এর মনস্তাত্ত্বিক উদ্দেশ্য ছিল রানিকে অমানবিক হিসেবে জনতার সামনে উপস্থাপন করা। একইভাবে, রাজা ষোড়শ লুইসহ সম্পূর্ণ রাজপরিবারকে শুকরের পাল হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। যা তাদের লোভ ও সম্পদ গিলে খাওয়ার প্রতীক ছিল।

জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর প্রচ্ছদ। ছবি: আমাজন ডটকমের সৌজন্যে

জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর প্রচ্ছদ। ছবি: আমাজন ডটকমের সৌজন্যে

সাহিত্যের জগতে আরেকটি উদাহরণ হলো জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’। সেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্তালিনপন্থী সমাজতন্ত্রের পতন এবং স্বৈরাচারী শাসনকে রূপকভাবে তুলে ধরতে খামারের পশুদের ব্যবহার করা হয়েছে। স্তালিনকে চিত্রিত করা হয় স্বৈরাচারী শুকর হিসেবে।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অজ্ঞতাকে ব্যঙ্গ করতে পরিবেশবাদীরা একটি উভচর প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম রেখেছেন ‘ডেরমোফিস ডোনাল্ড ট্রাম্পি’।

গরমে পেটের সমস্যা কমাবে যে পানীয়

বেশি গরম পড়লে প্রথমেই পেটের সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ গ্যাস, পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, পেটের নানান সমস্যা যেন লেগেই থাকে। তাই গরমে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরি। পেট ভার হয়ে থাকাসহ অন্যান্য পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পুদিনার পানীয় বেশ ভালো কাজ করে। এমনটাই বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে।

ভারতের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডক্টর দীক্ষা বাবসার বলছেন, যদি প্রতিদিন সকালে উঠে বিশেষ পানীয় পান করা যায়, তাহলে এই গরমে পেটের সমস্যা কেটে যেতে পারে। এই বিশেষ পানীয় তৈরির রেসিপি দিয়েছেন তিনি।

প্রণালি

এক গ্লাস পানিতে ৫ থেকে ৭ টি পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিন। ১ টেবিল চামচ জিরা ও জোয়ান মেশান। মিশ্রণটি অল্প আঁচে ফুটিয়ে নিন। তারপর তা গরম গরম পান করুন।

পানীয় পানের সময় ও উপকারিতা
এ পানীয় সকালে ঘুম থেকে উঠেই পান করা ভালো। তবে সকালে সময় না পেলে দিনের যেকোনো সময় পান করতে পারেন। যখনই পেটভার লাগবে, তখনই এটি পান করুন। এই পানীয় থাইরয়েড, অ্যাসিডিটি, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কোষ্ঠকাঠিন্য কাটাতে উপকারী।

পল্লবীতে শিশু হত্যা আসামি সোহেল আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল ডিবি

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। স্বভাব-চরিত্রও খারাপ ছিল।

তিনি জানান, মামলার চার্জশিট দেওয়ার আগে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডি ল্যাবে প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। রোববার দুপুরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বিচার কার্য শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের চেষ্টা থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ইরান যুদ্ধের কারণে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নিজেদের গোলাবারুদের মজুত বজায় রাখতে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে এমন তথ্য জানান। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের বৈঠকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

সিনেটে হাং কাও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখছি। অপারেশন এপিক ফিউরির জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ থাকার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। তবে প্রশাসন যখন প্রয়োজন মনে করবে তখন বিক্রি আবার শুরু হবে।’

কাও জানান, অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসে তাইওয়ানের জন্য একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তাইওয়ানের গণমাধ্যম এফটিভি নিউজ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই সাংবাদিকদের বলেছেন, অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

এক টিকেটে দুই সিনেমা দেখার সুযোগ

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘উৎসব’-এ মুক্তি পেয়েছে গেল ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে আলোচনায় থাকা দুই সিনেমা ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’। বিগ বাজেটের এই দুই সিনেমা এখন দর্শকরা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারছেন।

‘উৎসব’-এর প্রধান নির্বাহী জাহিদ হাসান অভি জানান, গতকাল রাত ১২টায় ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’-এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উৎসবের ওয়েবসাইটে  (www.utshob.live) প্রবেশ করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে দর্শকরা এখন সিনেমা দুটি উপভোগ করতে পারছেন। ৮৫ টাকার এক টিকিটে দুইটি ছবি দেখতে পাছেন দর্শকরা। প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের সাড়ায় আমরা মুগ্ধ।  সিনেমা দুটি উৎসবের পাশাপাশি বায়োস্কোন প্লাসেও দেখা যাচ্ছে।’

শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ এবং কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ড। গেল ঈদে মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও ডিসিপি ও সার্ভার জটিলতার কারণে দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহে ঠিকভাবে সিনেমাটি উপভোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওটিটি মুক্তির আগে সিনেমাটির ডিজিটাল সংস্করণ নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সাউন্ড, কালার গ্রেডিং ও ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকদের যেসব অভিযোগ ছিল, সেগুলো সংশোধন করে আরও উন্নত মানে সিনেমাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে দর্শকরা এখন ওটিটিতে ‘প্রিন্স’-এর আরও পরিপূর্ণ সংস্করণ দেখতে পারছেন।

অন্যদিকে মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’ ইতোমধ্যেই অ্যাকশনপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর একটি অংশ। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকরাও সেই নির্মাণশৈলী ও আবহের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

রোমান্টিক অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার বিপরীতে রয়েছেন কলকাতার অভিনেত্রী সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া অভিনয় করেছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। সিনেমার বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক।

‘রাক্ষস’-এর মাধ্যমে সিয়াম আহমেদকে পুরোপুরি অ্যাকশনধর্মী নায়ক হিসেবে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন দর্শকরা। সিনেমা হলের পর আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতেই এবার ওটিটিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সিনেমাটি।

প্রাথমিকভাবে দর্শকরা সরাসরি ‘উৎসব’-এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’ উপভোগ করতে পারছেন। প্লাটফর্মটিতে মাসিক ৯৯ টাকা, তিন মাসের প্যাকেজে ২৩৯ টাকা এবং বাৎসরিক প্যাকেজ ৪২৯ টাকায় উৎসবের  শতাধিক সিনেমা, নাটক ও ওয়েব সিরিজ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। খুব শিগগিরই গুগল প্লে স্টোরে ‘উৎসব’ অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আইওএস, অ্যাপল টিভি, অ্যামাজন ফায়ার টিভি, অ্যান্ড্রয়েড টিভি এবং স্যামসাং স্মার্ট টিভিতেও ‘উৎসব’-এর সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভাগ করতে নতুন আইন হচ্ছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ আলাদা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নতুন করে যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি আগামীকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে। যাচাই শেষে নতুন করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে শিগগির উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই যাচাই-বাছাই শেষে নতুন বিল উত্থাপন করা হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে অধ্যাদেশের কিছু কাঠামোগত বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে প্রায় দুই মাস আন্দোলন চলে। পরে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ দুটি তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো প্রতি বছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ কারণে রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতসহ অন্যান্য সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় আইএমএফ দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেনি। একই সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের জন্য প্রস্তুত করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার পর থেকেই এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় না। এতে স্বার্থের সংঘাত, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়, করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ এবং জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় তাঁকে রাজস্ব আহরণের চেয়ে নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজস্ব প্রশাসন ও রাজস্ব নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম পৃথক করতে একটি আদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর এনবিআরের দুই সাবেক চেয়ারম্যান ও তিন সাবেক সদস্যকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বিভিন্ন দলিল ও অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন পৃথক করার সুপারিশ দেয়।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে একই কর্মকর্তার দ্বৈত দায়িত্ব আলাদা করার সুপারিশ করা হয়। কমিশন আয়কর, শুল্ক ও আবগারি এবং ভ্যাটের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনেরও পরামর্শ দেয়। এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নপূর্বক রাজস্ব আহরণ পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, কমিটির সুপারিশে রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব নিয়োগের বিধানেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অধ্যাদেশে বলা আছে, সরকার উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে। তবে সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।

একইভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগেও কঠোরতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল অধ্যাদেশে রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির জন্য অ্যালোকেশন অব বিজনেস, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ কারণে অধ্যাদেশ কার্যকরের তারিখ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল  গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, একই সংস্থা যখন করনীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে, তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

শিশু হত্যা-ধর্ষণে বিক্ষোভ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জামায়াতের

সু‌প্রিম কোর্ট স‌চিবালয় বিলু‌প্তিকে জা‌তির সঙ্গে সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা, আদালত অবমাননা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর চপেটাঘাত বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্প‌তিবার রাজধানীর মগবাজা‌রে দলীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এমন মন্তব্য করে জামায়াত।

দল‌টির কর্মপ‌রিষদ সদস্য শিশির মোহাম্মদ মনির ব‌লেন, জুলাই সনদে স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিতের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। স্বাধীন বিচার বিভাগ বিএনপি ও জামায়াতসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী দলের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। কিন্তু সরকার এটি বাতিল করে সেই চাহিদার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। জুলাই সন‌দে বিএন‌পিসহ ৩২‌টি দল পৃথক সৃ‌প্রিম কোর্ট স‌চিবাল‌য় স্থাপ‌নে একমত হ‌য়ে‌ছিল। বর্তমান আইনমন্ত্রী সেসম‌য় আদাল‌তে হলফনামা দি‌য়ে‌ছি‌লেন স‌চিবালয় স্থাপ‌নে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন জামায়া‌তের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবা‌য়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নিম্ন আদাল‌তের বিচারক‌দের পদোন্নতি, ব‌দলিসহ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দি‌য়ে পৃথক সু‌প্রিম কো‌র্ট স‌চিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় অন্তর্বর্তী সরকা‌রের জা‌রি করা অধ্যাদে‌শে। ত‌বে অধ্যাদে‌শটি পাস করায়‌নি বিএন‌পি সরকার।‌ স‌চিবাল‌য় বিলুপ্ত ক‌রে বিচারক‌দের নিয়ন্ত্রণ আবার আইন মন্ত্রণাল‌য়কে দিয়ে‌ছে। য‌দিও বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশ‌তেহা‌রে সু‌প্রিম কোর্ট পৃথক স‌চিবালয় স্থাপ‌নের প্রতিশ্রু‌তি ছিল।

জাতীয়ভাবে যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয়েছিল, বিএন‌পি প্রতিশ্রু‌তি ভঙ্গ করায় তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে শিশির মনির বলেন, এই কাজের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

জামায়াত স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে জা‌নি‌য়ে শি‌শির ম‌নির ব‌লেন, নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলে নিম্ন আদালতের বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। রাতে কিংবা সন্ধ্যায় আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা সাজা দেওয়ার যদি অভিপ্রায় থাকে, তবে আইন মন্ত্রণালয় বিচারক‌দের নিয়ন্ত্রণ নি‌জের হা‌তে রাখ‌বে। আর যদি এই অভিপ্রায় না থাকে তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবে।

বিচারকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে শি‌শির ম‌নির বলেন, পছন্দসই রায় না হলে বিচারক‌দের ওপর চড়াও হওয়ার নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে রেখে দিচ্ছেন। অধঃস্তন দুই হাজার বিচারক তাদের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রতি ৭৮ হাজর মানুষের জন্য মাত্র একজন বিচারক রয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সুপ্রিম কোর্ট এই ৭৮ হাজার মানুষের জন্য বিচারক বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, এই ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এখন ইচ্ছা করলে নিয়োগ দেবে বা সংখ্যা বাড়াবে বা কমাবে। প্রধান বিচারপতির আর কোনো এখতিয়ার নেই।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, রিট মামলার রা‌য়ে হাইকোর্ট গত বছ‌রের ২ সে‌প্টেম্বর আদেশ দেন, ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর আলোকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের উদ্বোধন করা হয়। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের বিস্তারিত রায় প্রকাশিত হয়ে‌ছে।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশ বা‌তিল হ‌লেও আদাল‌তের রায় অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল আরেকটি রিট পিটিশন দায়ের করা হ‌য়। সরকার‌কে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এরপরও ১৯ মে বিচার বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়ে‌ছে। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগের দুটি অংশ রয়েছে- উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত। কিন্তু নিম্ন আদাল‌তের নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভা‌গের কা‌ছে। বিচারক‌দে‌র ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার সব আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। ফলে আইন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারকরা কোনো আদেশ দিলে তাদের বদলি করে দেন, পদোন্নতি দেন না কিংবা শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ আনা হয়।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বিচারক‌দে‌র ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে প্রধান বিচারপতির অধীনে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

শিশির মনির বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে রায় যার পক্ষেই যাক না কেন তাতে কোনো আপত্তি নেই। সঠিক বিচারের মাধ্যমে আমাদের আসামি হিসেবে আদালতে দাঁড়াতে হলেও আপত্তি নেই। সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, যা সংবিধান ও আইনসম্মত নয়-বিচারকরা সেটি দেখবেন ও রায় দেবেন। আমি রায়ে অসন্তুষ্ট হলে আপিল করব। কিন্তু বিচারকদের বদলি করে দেব, তাদের পদোন্নতি দেব না, তাদের সুন্দরবন-বান্দরবান বদলি করে দেব- এটি স্বাধীন বিচার বিভাগের চরিত্র হতে পারে না।

সু‌প্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা: জামায়াত

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯। এর মধ্যে ৮৫ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

এছাড়া, এ সময়ে নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪।  ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯। এর মধ্যে ৮৫ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

এছাড়া, এ সময়ে নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪।  ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

পল্লবীতে শিশু হত্যা আসামি সোহেল আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল: ডিবি

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। স্বভাব-চরিত্রও খারাপ ছিল।

তিনি জানান, মামলার চার্জশিট দেওয়ার আগে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডি ল্যাবে প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। রোববার দুপুরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বিচার কার্য শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের চেষ্টা থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।