Home Blog Page 95

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত: মাহফুজ আনাম

দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যথেষ্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ‘সাংবাদিকরা যেন নৈতিকতার ভিত্তিতে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করেন, ইনস্টিটিউশনগুলোকে দায়বদ্ধ রাখেন এবং পাবলিক ফান্ডের খরচগুলোকে ট্রান্সপারেন্ট করেন। ইলেকটেড গভর্ন্যান্স ভার্সেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম— এটি একে অপরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা আশা করি, এটি বিকশিত হবে। ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত।’ শুক্রবার রাজধানীর র‌্যাডিশন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যথেষ্ট অতীতে হয় নাই এবং আগামীতে হবে কিনা সেটার একটা মূল, বলতে পারেন যে প্রি-কন্ডিশন হচ্ছে রোল অফ এডিটর। সেখানে একজন এডিটরের সেই নৈতিকতা আছে কিনা, তার সেই সাহস আছে কিনা, তার সেই পেশাগত রেপুটেশন আছে কিনা। রাইজ অফ এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশন ইজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম। ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম ইজ প্রি-কন্ডিশন ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।’

দেশে যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ডিগ্রেডেশন হয়েছে, এমনকি বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতির বিষয়ে যে সমস্ত পাবলিক ডিবেট হয়েছে- তার জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কিন্তু ক্রেডিট নিতেই পারেন। মিডিয়া ক্রেডিট নিতেই পারে। তারা সেই ডিবেট তৈরি করেছে বা গতি বাড়িয়েছে। সে সমস্ত ডিবেটে অনিয়মের, দুর্নীতির— আপনার পত্রিকাও ক্রেডিট নিতে পারে কিছু। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের প্রতি এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যতটা প্রশ্ন করা উচিত ততটা কি হচ্ছে? কনফারেন্স এই প্রশ্নে মাহফুজ আনাম আরও বলেন, ‘রিপোর্টার যখন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করবে, প্রথমে একটা বিষয় আসবে যে, যারা করাপশন করছে তাদের কে এক্সপোজ করবেন। এই করাপশনের অনেক সোর্স হচ্ছে বিজ্ঞাপন, অনেক সোর্স হচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের প্রেসার আসবে। সেই প্রেসারটা কে সহ্য করবে? এডিটর। ইন মাই ভিউ, ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম, রোল অফ এডিটর বিকামস প্রিন্সিপাল। আনফরচুনেটলি, আওয়ার এডিটরস আর নট রাইজিং টু দ্যাট কন্ডিশন। আমি একটি কলাম লিখেছিলাম যে, এডিটর শুড নট বি পিআরও অফ ওনার। ওনার ডেফিনেটলি— দেয়ার শুড বি আ ডিস্টিংশন বিটুইন রোল অফ ওনার অফ মিডিয়া ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড রোল অফ এডিটর।’

দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যথেষ্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আনফরচুনেটলি এডিটোরিয়াল ইনস্টিটিউশনটা গড়ে ওঠে নাই। আগে আমরা অনেক বিখ্যাত সম্পাদকের নাম জানি— আবদুস সালাম, তারপরে অনেক নাম মনে পড়ছে এই মুহূর্তে, পাওয়ারফুল এডিটর। আলটিমেটলি হচ্ছে পলিটিসাইজেশন অফ মিডিয়া। আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, আমরা পেশাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি না বলে আমার ধারণা। আমরা খুব সহজেই সাংবাদিকতা করতে করতে রাজনীতির মধ্যে ঢুকে যাই। আমরা দেখেছি যে, একটা রিজিম যখন থাকে, তখন একদল সাংবাদিক সেই রিজিমের যারা পক্ষে তারা বেশ নেতৃত্বের মধ্যে থাকে। আর অন্যদলের সাংবাদিকরা চুপি চুপি ঘুরে বেড়ায়, তাদের অস্তিত্বই প্রশ্নে থাকে। আবার রিজিম যখন বদলায়, তখন সাংবাদিকদের নেতৃত্ব বদলে যায়। এটা হয়, ওটা হয়।’

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, ‘ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপল অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ইজ রোল অফ এডিটর, এথিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড অফ ইনস্টিটিউশন এবং সাংবাদিকদের নিজেদের পেশার প্রতি আনুগত্য ও ডিভোশন। আমি এটা মনে করি প্রি-কন্ডিশন। আমি আজকে ৩৫ বছর ধরে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সঙ্গে আছি। আমি অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। আমি দেখেছি রাজনৈতিক ক্ষমতায় কে আসছেন বা কে পেছনে পড়ে গেছেন এবং পলিটিক্যাল পাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাংবাদিকতার ইমপ্যাক্টও দেখেছি।’

মাহফুজ আনাম বলেন, আজকে দেশের সামনে ফান্ডামেন্টাল ইস্যু হচ্ছে— আমাদের যদি প্রগ্রেস করতে হয়, তবে মিসইউজ অফ পাওয়ার, করাপশন এবং পাবলিক ফান্ডের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। বাংলাদেশের প্রগ্রেস নির্ভর করে গভর্ন্যান্স, অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সির ওপর। আর সেই প্রত্যাশাটি ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়। ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই হলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মূল কাজ। এটি গভর্ন্যান্স প্রসেসে ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিত করে। শুধুমাত্র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই আমাদের সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি গণতান্ত্রিক বিকাশের প্রাণকেন্দ্র। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এটা অত্যন্ত জরুরিভাবে প্রয়োজন। আমরা অনেক রিজিম চেঞ্জ এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এখন এক জায়গায় এসেছি। আমাদের এখন ক্ষমতায় একটি নির্বাচিত সরকার আছে, পার্লামেন্ট আছে। আমরা আশা করব যে, এই নতুন পার্লামেন্ট এবং নতুন সরকার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখবেন। বিগত সরকারগুলোর পতন এবং দুর্বলতার অন্যতম কারণ ছিল তারা স্বাধীন মিডিয়াকে বিকশিত হতে দেয় নাই। কারণ স্বাধীন মিডিয়া প্রশ্ন তোলে, অ্যাকাউন্টেবিলিটি যাচাই করে এবং তাদের এক্সপোজ করে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের বোঝা উচিত তাদের সাফল্যের জন্যই স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রয়োজন। একজন নির্বাচিত সরকার যার জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা আছে, তাদের মানসিকতা আরও দৃঢ় হতে পারে যদি তারা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বিকশিত হতে দেন। সাংবাদিকরা যেন নৈতিকতার ভিত্তিতে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করেন, ইনস্টিটিউশনগুলোকে দায়বদ্ধ রাখেন এবং পাবলিক ফান্ডের খরচগুলোকে ট্রান্সপারেন্ট করেন। ইলেকটেড গভর্ন্যান্স ভার্সেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম— এটি একে অপরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা আশা করি, এটি বিকশিত হবে। মোট কথা, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত।

তাহলে আপনি মনে করছেন সমস্যা দুই তরফেই। এক হচ্ছে এক্সটারনাল প্রেসার আছেই, সেই সাথে সম্পাদকদের যে সাহস দরকার সেটাও তারা ঠিকমতো দেখাতে পারছেন না- এই প্রশ্নে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘দেখাতে পারছেন না একটা কারণ হচ্ছে— তারা কি সততার অনেক উপরে আছেন? এডিটররা নির্ভর করেন সমাজ কতটা ট্রান্সপারেন্ট তার ওপর। মিডিয়াকে অ্যাকাউন্টেবল হতে হলে এডিটর ইম্পর্টেন্ট এবং এডিটরের এথিকস ইম্পর্টেন্ট। আমি এখানে জাফর আব্বাসকে উদাহরণ হিসেবে আনতে পারি। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ভেতরে অনেক আইডেন্টিক্যাল এলিমেন্ট আছে।

শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বিজেপির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের প্রস্তাব জানাবেন শুভেন্দু।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে আজ শুক্রবার কলকাতায় বৈঠকে বসেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এতে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকটি এখনও চলছে। বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল গত কয়েক দিন ধরে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ হওয়ার কথা শনিবার। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এবং এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা আছে।

বৈঠকের জন্য অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। হাতে ফুল তুলে দেওয়ার পর অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীকে কাছে টেনে নিয়ে পিঠ চাপড়ে দেন।

এদিকে নতুন সরকারের জন্য বিধানসভা নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। নতুন করে রঙ করার কাজ চলছে। চেয়ার টেবিলে পালিশের কাজ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যে ঘরে বসবেন সেই ঘর থেকে শুরু করে স্পিকার ও মন্ত্রীরা যেসব ঘরে বসবেন তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।

শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

দলীয় সূত্রের খবর, ভবানীপুর থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দুর জয়কে বাংলার রাজনীতির একটি প্রতীকী ও কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির অভ্যন্তরে আরও কিছু নাম নিয়ে আলোচনা ছিল। তাদের মধ্যে আছেন- রাজ্য শাখার সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি স্বপন দাশগুপ্ত।

দলের একটি অংশ স্বপন দাশগুপ্তকে একজন বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে দেখে থাকেন। মনে করা হয়, তিনি শাসন ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সফলভাবে সংগঠন পরিচালনার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিকদার পরিবারের ঋণ নিয়ে চিন্তিত ব্যাংক

আওয়ামী লীগ আমলে নানা ক্ষেত্রে ছিল সিকদার পরিবারের দাপট। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ২০০৯ সালে জয়নুল হক সিকদার ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করে গড়ে তোলে রাজত্ব। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাংকটি থেকে একে একে ছয় এমডিকে বিদায় করা হয়। আইন ভেঙ্গে সিকদার পরিবারের ৫ জন সদস্য ব্যাংকটির পরিচালক হয়ে যান। এভাবে ব্যাংকটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অন্য ব্যাংকের প্রভাবশালী পরিচালকদের সমঝোতার ঋণ, কমিশন নিয়ে ভুয়া ঋণ, বেনামি ঋণ কিংবা উচ্চ দরে ব্যাংকের কাছে ভবন ভাড়া দিয়ে টাকা কামানো যেন এই পরিবারের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

সম্প্রতি সিকদার পরিবারের সদস্যদের কয়েকজনের মৃত্যুতে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণের কী হবে সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ নিয়ে ব্যাংকগুলো চিন্তিত। কেননা, দেশে তাদের যে সম্পদ রয়েছে ঋণের তুলনায় তা সামান্য।

ন্যাশনাল ব্যাংক দখলের পর থেকে সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এরপর তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার চেয়ারম্যান হন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মনোয়ারা সিকদার যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন। তাদের সাত সন্তানের মধ্যে প্রধানত দেশের সব কিছু দেখাশোনা করতেন রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার। গত ৪ মে দুবাইর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন রন হক সিকদার। আরেক ভাই রিক হক সিকদারও হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর এই পরিবারের কাউকে আর দেশে দেখা যায়নি। জয়নুল হক সিকদারের মেয়ে পারভীন হক সিকদার আওয়ামী লীগের সময়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সিকদার গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি ব্যাংকে ঋণের তথ্য পেয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা ঋণ চিহ্নিত হয়। সব মিলিয়ে এখন এ পরিমাণ ঠেকেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায়। বিভিন্ন উপায়ে নেওয়া ঋণের বড় অংশই পাচার করে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব দেশে তাদের হোটেল, রেস্তোরাঁ, আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

পাচার অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ
সরকার শেখ হাসিনা পরিবার ও সিকদার গ্রুপসহ দশ ব্যবসায়ী গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার নিয়ে যৌথ তদন্ত দল গঠন করে কাজ করছে। তদন্ত দল এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে সিকদার পরিবারের সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। সিকদার পরিবারের কারণে সমস্যায় পড়া ১১টি ব্যাংক চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তালিকায় ন্যাশনাল ব্যাংক ছাড়া রয়েছে– ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম, প্রিমিয়ার, এবি, আইএফআইসি, জনতা এবং অগ্রণী ব্যাংক।

জানা গেছে, সিকদার গ্রুপের পাচারের অর্থ ফেরত আনার আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিদেশি আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চুক্তি করেছে অগ্রণী, আইএফআইসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। সিকদার পরিবারের হাতে যাওয়ার পর থেকে ব্যাংকটির চরম অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে দুই ভাইয়ের সঙ্গে বোন পারভীন হক সিকদারের দ্বন্দ শুরু হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ব্যাংকটি থেকে সিকদার পরিবারের সব সদস্যকে বের করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিকদার পরিবারের ১৪ সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। ওই সময় বেঁচে থাকা তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার ছাড়াও রিক হক সিকদার, রন হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার, দীপু হক সিকদার, মমতাজুল হক সিকদার, নাসিম সিকদার ও লিসা ফাতেমা হক সিকদার ছিলেন তালিকায়। এ ছাড়া ছিলেন নাসিম সিকদারের মেয়ে মনিকা খান সিকদার, রিক সিকদারের দুই ছেলে শন হক সিকদার ও জন হক সিকদার, তাদের পরিবারের সদস্য সালাহউদ্দিন খান, জেফরী খান সিকদার ও মেন্ডি খান সিকদার।

আলোচিত নানা ঘটনা

ন্যাশনাল ব্যাংক বেশ আগে থেকে দুর্বল অবস্থায় থাকলেও এস আলম গ্রুপের দুই হাজার ২৮৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নজিরবিহীনভাবে ব্যাংকের আয় খাত বিকলন করে  সুদ মওকুফের পর ২০২২ সালে ব্যাংকটি তিন হাজার ২৬০ কোটি টাকার লোকসান করে। মূলত ওই সময় এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকও সিকদার গ্রুপকে অতিরিক্ত ঋণসহ নানা সুযোগ দেয়।

২০২০ সালে এক্সিম ব্যাংকে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ আবেদন করে সিকদার গ্রুপ। জামানত ছাড়া বিপুল অঙ্কের এ ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন রন হক সিকদার ও তাঁর ভাই দীপু হক সিকদার।

সিকদার পরিবারের খারাপ আচরণের কারণে একে একে পাঁচজন এমডি পদ হারানোর পর ব্যাংকটি আর এমডি খুঁজে পাচ্ছিল না। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিশিষ্ট ব্যাংকার মেহমুদ হোসেন দুই বছরের জন্য এমডি পদে যোগদান করেন। তবে এক বছর এক মাসের মাথায় বনানীর সিকদার হাউসে ডেকে নেন রন হক ও রিক হক সিদকার। সেখান থেকে ফিরে পদত্যাগ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে সিকদার পরিবার ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এক কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ডলার পাচার করে বলে তথ্য উঠে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শনে।

গত মাসে জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় থাকা সিকদার গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান হলো পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড ও সিএলসি পাওয়ার।

জেট ফুয়েলের দাম কমলো

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ বৃহস্পতিবার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। তিন দফায় টানা ১৩২ টাকা বাড়ানোর পর লিটারে দাম প্রায় ২২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিইআরসি ঘোষিত নতুন মূল্যে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম এক দশমিক ৪৮০৬ ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত) থেকে কমিয়ে এক দশমিক ৩৩৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এই দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্চ মাসে। প্রথম দফায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে একলাফে দাম বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ২৪ মার্চ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছায়।

রক্তচাপ কমাতে কোন বয়সে কতটা হাঁটা প্রয়োজন?

সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা প্রতিদিন হাঁটার পরামর্শ দেন। এটি খুব সহজ শরীরচর্চা। হাঁটলে শরীর ভালো থাকে, রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং হার্ট ভালো থাকে। কিন্তু কোন বয়সে কতটা হাঁটা উচিত তা ভেবেছেন কি?

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেঁটেই উচ্চ রক্তচাপ কমানো যায়। তবে হাঁটতে হবে নিয়ম মেনে ও সময় ধরে। বয়স অনুপাতে হাঁটার সময়ও আলাদা। ১৮ বছরের তরুণ বা তরুণী যতটা হাঁটবেন, ষাট বছর বয়সীদের হাঁটার হিসাব ভিন্ন। কোন বয়সে কতটা হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার নির্দিষ্ট হিসাব আছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়স যাদের, তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন। শুরুটা হতে পারে ৩০ মিনিট দিয়ে, ধীরে ধীরে ৪৫ মিনিট ও তারপর ১ ঘণ্টায় পৌঁছোবেন। দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে এমন কড়া নিয়ম নেই।

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নেই, তাদেরও (১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা) ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটা উচিত। বয়স কম হলে ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুতগতিতে হাঁটা ভালো। তবে ইন্টারভাল ওয়াকিংও ভালো। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে ইন্টারভাল ওয়াকিং বেশি উপকারী। শুরুটা দ্রুত গতিতে করে তারপর খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটতে হবে।

৪০+ থেকে ৬০ বছর বয়সে দিনে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা ভালো। মাঝারি থেকে দ্রুত গতিতে হাঁটতে পারেন। চাইলে কেউ ৪৫ মিনিটও হাঁটতে পারেন। নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতার উপর। কারণ, এই বয়সে অনেকেরই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, গোড়ালি, হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। তাই শরীর বুঝে হাঁটার সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ষাটের উপরে বয়স হলে দিনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটলেও হবে। সে ক্ষেত্রে হাঁটার গতি ধীরে হতে হবে। খুব দ্রুত গতিতে হাঁটা যাবে না।

পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার একীভূত নিয়ম জারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক

পরিবহন সেবার বিপরীতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে একটি সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন, বিদেশি এয়ারলাইন্স ও শিপিং কোম্পানির বৈদেশিক কার্গো সেবার টিকিট ইস্যু ও চার্জ সংগ্রহ সেবার জন্য অভিন্ন এ নিয়ম করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি একীভূত নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানো, কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি এবং পূর্বের বিভিন্ন নির্দেশনার অস্পষ্টতা দূর করা।

সার্কুলার অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বহিঃগামী রেমিট্যান্স সংক্রান্ত কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এবং সংশ্লিষ্ট পরবর্তী সার্কুলারগুলোর আওতায় পরিচালিত হবে। তবে কার্যক্রম সহজীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাত-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সব নির্দেশনাকে একত্র করে একটি সমন্বিত দলিলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সাথে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সার্কুলারটি আইনের ধারা ২০(৩) অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। এটি জারির তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে জারি করা নতুন কোনো নির্দেশনা এই কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচিত হবে।

সমন্বিত নির্দেশনায় পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন ও কার্গো সেবার টিকিট ইস্যু ও ফ্রেইট সংগ্রহ, বিদেশি এয়ারলাইন ও শিপিং কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লেনদেন।

এছাড়া বেসরকারি খাতের শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইন, কুরিয়ার সার্ভিস এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের জন্যও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইন ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্সির বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশপাশি আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি পরিবহন কোম্পানির নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবও এ সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সার্কুলারে ট্যুর অপারেটরদের জন্য হালনাগাদ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান সেবা খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বহির্গামী রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করা যাবে।

রাজনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার বার্তা পেলেন ডিসিরা

দেশে চলমান সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলেমিশে এবং সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে এমন বার্তা নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শও পেয়েছেন ডিসিরা।

বিএনপির সরকার গঠনের পর এটি ছিল প্রথম ডিসি সম্মেলন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ডিসি সম্মেলন শুরু হয় গত ৩ মে। চার দিনের সম্মেলনে ২৮টি কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ডিসিরা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিন সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পৃথক কর্ম-অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সম্মেলনের প্রথম দিন রাজনীতিকদের সমন্বয়ে জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়; মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সম্মেলনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। তবে এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

মাঠ প্রশাসনে ভালোভাবে কাজ করতে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে– প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। সব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে কীভাবে কার্যকর এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি– দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন।

ওই দিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে ডিসিদের কার্যকর ভূমিকার ওপর। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা শুনে সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনের তৃতীয় দিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন ডিসিরা। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিসিরা মিলেমিশে কাজ করলে সব সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাবে। এবার যে ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়ার কথা বলা হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো ওঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক হলো মামলা-মোকদ্দমার বিষয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এই বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করাই ভালো।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সম্মেলনের শেষ দিন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। সেসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার জন্য ডিসিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল, তা পার হওয়ার পরও একটি বড় অংশের অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে মামলা করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন ডিসিরা। সে ব্যাপারে তাদের পূর্ণ উদ্যমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল মন্ত্রী বলেন, আমাদের জেলা পরিষদ অতটা সক্রিয় বা শক্তিশালী নয়। আমাদের মূল চাবিকাঠি এখনও জেলা প্রশাসক। তাই তাদের সঙ্গে এমন একটা সংযোগ দরকার, যাতে আমরা যে কার্যক্রম হাতে নিই, তা সহজেই বাস্তবায়ন করা যায়।

গণমাধ্যমকে ডিজিটাল বাস্তবতার উপযোগী করতে হবে 
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের সমস্যাটা অনেক ব্যাপক। এটি একটি পুরোনো অ্যানালগ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে গতকাল তিনি জেলা প্রশাসকদেরও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশের কারণে সাংবাদিকতায় সুস্পষ্ট নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রয়োজন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের সহযোগিতার আহ্বান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা পর্যায়ে সবখানে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রচারাভিযানের জন্য ডিসিদের  সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সম্মেলনের শেষ দিনে ডিসিদের সঙ্গে অধিবেশন শেষে দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দুদকের বর্তমান কাঠামোতে আমরা যে কাজগুলো করছি, সে সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক যে কাজগুলো আছে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা রয়েছে।

সিলেটে শাহজালাল (র.)-এর ওরস শুরু, ভক্তদের ভিড়

সুফি সাধক ও ইসলাম প্রচারক হজরত শাহজালাল (র.) এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথা অনুযায়ী মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চলে দুপুর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা মাজারের জন্য গিলাফ নিয়ে আসেন। ওরসের অন্যতম আকর্ষণ গিলাফ ছড়ানোর আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা গিলাফের চারদিকে ধরে মাজারে প্রবেশ করেন। ওই সময় তারা শাহজালালের নামে স্লোগান দেন।

এদিকে গতকাল বুধবার থেকেই ভক্তরা মাজারে আসতে শুরু করেন। আজ বিকেলে দেখা গেছে, মাজার এলাকায় হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান অবস্থান নিয়েছেন। ওরস উপলক্ষে বসেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকানও।

১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়ামেন থেকে সিলেটে আগমন ঘটে হজরত শাহজালালের। উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে তিনি সিলেটে আস্তানা গড়েন। তার সফরসঙ্গী হয়ে উঠে ৩৬০ জন। যাদের অধিকাংশের মাজার সিলেট অঞ্চলে। এ অঞ্চলে শাহজালাল ও তার সঙ্গীদের মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। তার ইন্তেকালের পর প্রতিবছর আরবি জিলকদ মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনের ওরস হলেও আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আখেরি মোনাজাতের পর শিরনি বিতরণের মাধ্যমে ওরস শেষ হবে।

মাজারের মোতাওয়াল্লী ফতেহ উল্লাহ আল আমান জানিয়েছেন, রেওয়াজ অনুযায়ী মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর মিলাদ মাহফিল, জিগির আজগার, কোরান খতমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত আশেকানরা মাজারে আসছেন। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েনে রয়েছেন মাজার এলাকায়। শৃঙ্খলা রক্ষায় মাজার এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় বাঁশ দিয়ে রাস্তা পৃথক করা হয়েছে।

আরজে থেকে অভিনেতা, কেমন ছিল আরেফিন জিলানীর জার্নি

পুরো নাম আরেফিন জিলানী। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আলো-বাতাসে বড় হওয়া ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একদিন অভিনেতা হবেন। সেন্ট যোসেফ থেকে এসএসসি তারপর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। তারপর বাবা-মার বাধ্যগত সন্তানের মতো যোগ দেন একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে। কিন্তু মনের মাঝে বোনা স্বপ্নটা বাস্তব করতে নিজেকে প্রস্তুত করেন নিয়ত।

ছোটবেলা থেকেই প্রচুর সিনেমা দেখতেন এই অভিনেতা। এখনও দেখেন। হলিউড, ঢালিউড কিংবা বলিউড– সব রকমের সিনেমাই দেখেন প্রতিনিয়ত। জিলানীর ভাষ্যে, ‘আসলে সিনেমা দেখতে দেখতেই অভিনয়ের পোকা ঢুকে যায় মাথার ভেতর। শিহাব শাহীন, তানিম নূর, ভিকি জাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তবে মনের গহিনে গোপন ইচ্ছা রায়হান রাফীর সঙ্গে একটি তুমুল অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় কাজ করার।’

অনেকে হয়তো জানেন না, জিলানীর শুরুটা আর জে হিসেবে। ২০১৫ সালে সিটি এফএম-এ যোগ দেন। এরপর কাজ করেছেন রেডিও দিনরাত ও রেডিও টুডেতে; যা নিজেকে প্রস্তুত করতে সহজ করেছে অভিনেতা হিসেবে।

করোনার ঠিক আগে ২০১৯ সালে, গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’ সিনেমায় সুযোগ এলো। মাত্র তিন-চার মিনিটের উপস্থিতি। একটি দৃশ্যে ছবির নায়ক আরিফিন শুভর বিকল্প হিসেবে একজনকে দরকার। উচ্চতা, কাঠামো–সব জিলানীর সঙ্গে মিলে যায়। ছবিতে ওপর থেকে পানিতে লাফ দেওয়ার একটা স্টান্টও নিজেই করেছিলেন। এমন ‘সাহসী’ শুরুর পরই আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে করোনার পর থমকে যায় অভিনয় ক্যারিয়ার।

এরই মাঝে বিয়ে করেন তারকা কণ্ঠশিল্পী ঐশীকে। এক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের পর অল্প অল্প কথোপকথন ও ভালোবাসা গড়ায় পরিণয়ে। জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে জিলানী বলেন, ‘মনের মতো একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। যে আমাকে বুঝতে পারে। দেখা গেল, কোনো শুটিংয়ে খুব ব্যস্ত আমি। ঠিকঠাক যোগাযোগও হচ্ছে না। তাতে ওর কোনো সমস্যাও হচ্ছে না। আসলে নিজে তারকা কণ্ঠশিল্পী, তাই বোঝে আমার ব্যথা। ঐশীর যারপরনাই সহযোগিতা ছাড়া আমার এই পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিল না।’

তবে অভিনয়ের প্রতি তীব্র আকর্ষণ দমাতে পারেনি তাঁকে। কারণ, শিউলিমালা নাটকে অভিনয়ের জন্য দুই সপ্তাহ ছুটি প্রয়োজন। করপোরেট অফিসে কী আর এতদিন ছুটি নেওয়া যায়! ব্যস, ছেড়ে দেন ফার্মাসিউটিক্যালসের চাকরিটি। মনে মনে শপথ করেন পুরো সময়টাই দেবেন অভিনয়কে।

তরুণ এই অভিনেতা অবশ্য বেশি পরিচিতি পান গত বছর মুক্তি পাওয়া তানিম নূরের ‘উৎসব’ সিনেমা দিয়ে। ছবিতে মোবারক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। জিলানী মনে করেন, বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পাওয়া এ সিনেমাই তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

এরপর একে একে কাজ করতে থাকেন ছোট-বড় চরিত্রে। পর্দায় স্বল্পসময়ের উপস্থিতিতেও বুঝিয়ে দিতে পারেন তাঁর অভিনয়ের সক্ষমতা। জিলানীর ভাষ্যে, ‘আমার কাছে কোনো চরিত্রই ছোট নয়। যেমন, বনলতা এক্সপ্রেসে কাজ করার প্রস্তাব যখন পাই তানিম নূরের কাছে; ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যাই আমি। হুমায়ূন আহমেদের অজস্র নাটক দেখি সে সময়। তাঁর চরিত্রেরা কীভাবে অভিনয় করে, সিরিয়াস ভঙ্গিতেও মজা করতে পারে তা আয়ত্ত করার চেষ্টা করি। উপন্যাসটিও পড়ি কয়েকবার। চেষ্টা করেছি নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে। কতটুকু করতে পেরেছি জানি না, তবে দর্শকের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা পেয়েছি। এতে অভিনয়ের প্রতি স্পৃহা আরও বেড়েছে। কাজ করতে চাই দর্শকমনে দাগ কাটার মতো সব চরিত্রে।

গেল ঈদে আলোচিত তিনটি কাজেই ছিল জিলানীর অনবদ্য অভিনয়। ‘চক্র-২’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কিংবা ‘ক্যাকটাস’–প্রতিটি কাজের চরিত্রেই জিলানী তাঁর অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। ‘‘শিহাব শাহীনের পরিচালনায় ‘ক্যাকটাস’ এ কাজ করতে গিয়েও বেশ প্রস্তুতি নিয়েছি আমি। হঠাৎ মনে পড়ে ছোটবেলায় একটি সিনেমা দেখেছিলাম, ‘সংঘর্ষ’। সেই সিনেমায় আশুতোষ রানার অভিনয় রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মনে। আবার দেখলাম সিনেমাটা। আর নিজের মতো করে একটি খলচরিত্র তৈরি করে ফেললাম নিজের মধ্যেই। এভাবেই প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি নিজেকে গড়তে কিংবা ভাঙতে।’’

এক ভক্তের ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়লে বোঝা যাবে জিলানীর অভিনয় নিয়ে দর্শকের ভাবনা– ‘‘এইতো কদিন আগে ‘ক্যাকটাস’ রিলিজের পর অভিনেতা আরেফিন জিলানীর অভিনয়ের প্রশংসা পঞ্চমুখ সবাই। এবার ‘চক্র টু’ সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন জিলানী। না চরিত্রের নয়; বরং ভালো অভিনয়ের ধারাবাহিকতা। চক্র টুতে তাঁর চরিত্রের নাম রাহাত, পেশায় ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট। গার্লফ্রেন্ডের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁর, হাসিখুশি এই রাহাত একটা সময় জড়িয়ে পড়ে এক চক্রে, যে চক্রের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই! রাহাত চরিত্রটাকে এত বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্লে করেছেন আরেফিন জিলানী! তাঁর এক্সপ্রেশনগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। একটা সিন আছে ডাইনিং টেবিলের, সেখানে তাঁর এক্সপ্রেশন জাস্ট টু গুড।’

এ রকম হাজারও শুভ কামনায় ভরে যায় অভিনেতার ফেসবুক ওয়াল। আর তাই যেন বড় প্রাপ্তি হয়ে ধরা দেয় জিলানীর কাছে। মনে রাখার মতো সব চরিত্রে কাজ করতে করতে আকাশছোঁয়া স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাক       এই প্রত্যাশায়।

তাইওয়ান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল জাপান, ক্ষুব্ধ চীন

তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষায় একটি পুরনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জাপানের এমন পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন।

এর মধ্যে দিয়ে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতিকে আরো আক্রমণাত্মক করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে টোকিও তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসছে। অনুমোদন দিয়েছে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির।

১৯ দিনব্যাপী এই মহড়া শুক্রবার শেষ হবে। এতে জাপানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার প্রায় ১৭ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে জাপানের যুদ্ধকালীন সেনাদল।

বুধবারের মহড়ায় দুটি ‘টাইপ-৮৮’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তাইওয়ান থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফিলিপাইনের উত্তর প্রদেশ ইলোকস নর্তেতে বসে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন টোকিও এবং ম্যানিলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই দক্ষিণ চীন সাগরে উপকূল থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান তাদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা অর্জনে জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে ফিলিপাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছে।

গত মাসে তাকাইচির সরকার দীর্ঘদিনের আরোপিত একটি নিয়ম শিথিল করে। এর ফলে দেশটি এখন থেকে প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানি করতে পারবে। মূলত বিশ্বজুড়ে সামরিক সরঞ্জামের বিশাল বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ গত বছর অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর কাছে থেকে ১১টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে। তাকাইচি নিজেও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। তাঁর এই সফর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের ক্ষোভ
বেইজিং-টোকিওর দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে সম্প্রতি তাকাইচির একটি মন্তব্যের পর। তিনি বলেছিলেন, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে মনে করে। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনের সামরিক শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়েছে। বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এটি জাপানি কট্টরপন্থীদের পুনরায় সামরিকীকরণের পথে আরো একটি পদক্ষেপ।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগ্রাসনকারী দেশ হিসেবে জাপান তাদের অতীতের অপরাধের জন্য অনুশোচনা করেনি। উল্টো তারা এখন নিরাপত্তা সহযোগিতার কথা বলে বিদেশে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ের অধ্যাপক ই কুয়াং হেং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জাপান ও ফিলিপাইন- উভয় দেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।