Home Blog Page 95

ইতিহাসের দুয়ারে স্কালোনি

ফুটবল একটি জাতিকে আনন্দ-বেদনার আবেগে ভাসায়। ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করতে হয় অনেকটা ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’-এ বসে। যে দল নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ বেশি, কোচদের টিকে থাকা তত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় দল তো বটেই, এমনকি শীর্ষ সারির ক্লাবগুলোতেও দীর্ঘ মেয়াদে কোচের দায়িত্ব পালনে রাজকপালই লাগে বটে। খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স– কোথাও পান থেকে চুন খসলেই যেন রক্ষা নেই। সবার আগে কোচকে শুনতে হয়, ‘ইউ ফায়ারড।’ সে ক্ষেত্রে ফুটবলে জীবনের সুখ খোঁজা আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে সেঞ্চুরির মাইলফলক লিওনেল স্কালোনির জন্য অসাধারণ এক অর্জন হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার হার্ডরক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ালেই জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী কোচদের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাবেন স্কালোনি। ইতিহাস গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্কালোনির কেমন অনুভূতি হচ্ছে? শনিবার রাতে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিনে যেমনটি ছিলাম, আজও ঠিক তেমনিই আছি।’ দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নির্ভার কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ জানান, (দলের) প্রতিটি ম্যাচ চলাকালেই মনের ভেতর একটা অনুভূতি কাজ করে। পেটের ভেতর সব সময়ই এক ধরনের টান বা উত্তেজনা অনুভব করেন। আর আসলে সহজ ম্যাচ বলেও কিছু নেই।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তে দলের বাজে পারফরম্যান্সে কোচ জর্জ সাম্পাওলি চাকরি হারালে অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচের দায়িত্ব পান সাম্পাওলির সহকারী স্কালোনি। এরপর দলের খোলনলচে বদলে দিয়ে মাত্র চার বছরেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা দলে পরিণত করেন জাতীয় দলের সাবেক এই ডিফেন্ডার। যুগসেরা তারকা লিওনেল মেসিকে সঙ্গী করে দলকে একের পর এক বিজয়ে নেতৃত্ব দেন স্কালোনি। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে বড় আসরে আলবিসেলেস্তেদের ২৮ বছরের শিরোপা-খরার অবসান ঘটান। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যাক টু ব্যাক কোপা শিরোপা এনে দেন। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিনালিসিমা’ ট্রফিও জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তাঁর অধীনে ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।

পরিসংখ্যান বলছে, স্কালোনির আগে মাত্র একজন কোচ ডাগআউট থেকে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার সেঞ্চুরি গড়েছেন। তিনি হলেন গিলের্মো স্তেবিলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের তোলার নায়ক গিলের্মো। যিনি ফাইনাল ম্যাচে গোল করাসহ ওই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এই সেন্টার ফরোয়ার্ডই ১৯৩৯ সালে আলবিসেলেস্তে দলের কোচের দায়িত্ব পান। টানা ২১ বছর দায়িত্ব পালনকালে ১২৭টি ম্যাচে ডাগআউটে থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে না পারলেও ছয়বার মহাদেশীয় আসর সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান।

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে কোচ স্কালোনির দায়িত্বকাল অন্যতম স্বর্ণযুগ হিসেবে এরই মধ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত ৯৯ ম্যাচে ডাগআউটে থেকে দলকে ৭২ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ ম্যাচ ড্র করেছেন। আর পরাজয় দেখেছেন হাতের আঙুল গুনে মাত্র ৯ বার।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে আজ বৃহস্পতিবার একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী।

এবারই প্রথম কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সেল থেকে দেশের যে কোনো প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির (ভোকেশনাল) তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তাত্ত্বিক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪, যা গত বছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। চার হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী এক হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবে এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী। এক হাজার ৮৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

জানা যায়, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা দুই হাজার ৬৯৭ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি।

২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা যাচ্ছে না। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে।

দুই সন্তানসহ নিখোঁজ মা, ৯ দিনেও মেলেনি সন্ধান

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই সন্তানসহ জুলি বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। ২১ জুন রাতে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর গত ৯ দিনেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ অপর দুজন হলেন–জুলি বেগমের মেয়ে ফাইজা ও ছেলে আজান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ বা মনোমালিন্য ছাড়াই গত ২১ জুন রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান জুলি বেগম। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও গভীর রাতে সন্তানদের নিয়ে তাঁকে হেঁটে চলে যেতে দেখা গেছে।

জুলি বেগমের স্বামী আজাদ মিয়া জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের ঝগড়াঝাটি ছিল না। ঘটনার পর থেকে আত্মীয়-স্বজন, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। কোথাও হদিস মেলেনি।

এদিকে জুলি বেগমের বাবার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। তাঁর এভাবে নিখোঁজ হওয়ার খবরে স্তব্ধ দুই পরিবার। সন্তানদের ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আজাদ মিয়া। তারা বলছেন, স্বামীর সংসারে সুখেই ছিলেন জুলি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সুরমা থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সব ধরনের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান ও মাঠ পর্যায়ের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটালেন তিন শিক্ষক, ৫ হাজার টাকায় মীমাংসা

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি হেফজ মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং শিশুটির চিকিৎসা খরচ হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার (১১) জিয়ানগরের পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে অধ্যয়ন করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’ করার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগে মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাকে হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এতে মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ও ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানানো হলে শিশুটির চাচা জামাল সরদারকে ডেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে নির্যাতনের বিষয় জানালে তারা শুধু ওষুধ খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো শিক্ষকের শাস্তি হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের রায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।’

তবে সালিশকারীদের একজন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ‘খারাপ কাজ’ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে সভা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্পেনে তাপপ্রবাহে মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার

ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে গত এক মাসে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বুধবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জুন মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে মারা গেছে ১ হাজার ২৮ জন। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল কেবল ২০১৭ সালের জুনে। দেশটি তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে।

নিহতদের প্রায় সবাই বয়োবৃদ্ধ। তীব্র গরমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ২২ জনের বয়স ৬৫ বছর বা এর বেশি। ৭২০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছরের ওপরে। ১৫ বছরের কম বয়সী মাত্র একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। দেশটির এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কাতালোনিয়া অঞ্চলে- ২১৮ জন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুনের দিকে দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরের দিনগুলোতে তা অব্যাহত ছিল।

খামেনির একটি শব্দে যেভাবে ইরানজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলো

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বলা একটি শব্দ দেশটির ঐক্যে যতটা ফটল ধরিয়েছে, তা ৪০ দিনের যুদ্ধও করতে পারেনি। বিতর্ক তৈরি করা সেই শব্দটি হলো ‘আলাল-উসুল’। যার অর্থ- ‘নীতিগতভাবে’।

যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তি বা সমঝোতাকে অনুমোদন দেওয়ার ফার্সি ভাষার একটি বিবৃতিতে মোজতবা এই শব্দটি ব্যবহার করেন। চুক্তি অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি এই চুক্তি চাননি। বলেন, ‘নীতিগতভাবে, আমার ভিন্ন মত ছিল।’

দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও শব্দটির রেশ এখনো তেহরানের ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র, গণমাধ্যম ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই শব্দটি ইরানকে একটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করা আদৌ উচিত কি না?

শব্দটির নানা ব্যাখ্যা
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এমন এক শাসনব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে একজন সর্বোচ্চ নেতার হাতে। তবে সমঝোতা স্মারকের অনুমোদনে মোজতবার ওই শব্দের ব্যবহার অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। ফলে বিভিন্ন গোষ্ঠী এর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে।

এক পক্ষের মতে, এই শব্দটি ইঙ্গিত দেয়- মোজতবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর মতো সংশয়বাদী নেতা ভেঙে পড়া অর্থনীতি, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন করে যুদ্ধের হুমকি এড়ানোর পথ হিসেবে কূটনীতিকে বেছে নিয়েছেন।

অন্য পক্ষের মতে, সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতিতে ‘ভিন্ন মত’ উল্লেখ থাকাটা চুক্তি প্রতিহতের সবুজ সংকেতকে ইঙ্গিত করে। এই পক্ষের সমর্থকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা একটি ফাঁদ। আলী খামেনিকে হত্যাকারী শত্রুদের কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। নতুন কোনো ছাড় দেওয়ার ফাঁদে না পড়ে ইরানের উচিত এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসা।

বিবৃতিতে উল্লেখ থাকা মোজতবা খামেনির বার্তা। ইলাস্ট্রেশন: দ্য টেলিগ্রাফের সৌজন্যে

বিবৃতিতে উল্লেখ থাকা মোজতবা খামেনির বার্তা। ইলাস্ট্রেশন: দ্য টেলিগ্রাফের সৌজন্যে

তেহরান থেকে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, বিবৃতির ওই একটি শব্দ বর্তমানে শাসনব্যবস্থার ভেতরে সংকট তৈরি করেছে। এটি কমান্ডারদের, বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। তারা ভাবছেন মোজতবা এই আলোচনায় খুশি নন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সন্দেহ বেড়েছে
পার্লামেন্টে কট্টরপন্থীদের আধিক্যের কারণে এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তেহরানের ওই কর্মকর্তা সন্দেহের উদাহরণ হিসেবে কট্টরপন্থী আলেম ও এমপি মাহমুদ নাবাবিয়ানের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খামেনির কিছু গোপন চিঠি পড়ে শোনান নবাবিয়ান। তিনি দাবি করেন, চিঠিগুলো প্রমাণ করে চুক্তির আলোচনাকারীরা সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অমান্য করে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।

নাবাবিয়ান এমন দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন পরিচালক পদত্যাগ করেন। তেহরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, সাক্ষাৎকারে নবাবিয়ান যা বলেছেন তা সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত সবকিছুকেই বড় ধরনের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

এই সন্দেহের দোলাচল রণক্ষেত্রেও পৌঁছে গেছে। সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দায়িত্বরত আইআরজিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই প্রণালি দিয়ে কারা পার হবে তা আমরা ঠিক করব। এ দায়িত্ব তেহরানের এসি রুমে বসে থাকা কেউ কিংবা ওয়াশিংটনের কোনো কর্মকর্তার নয়। আমরা এখানে আছি এবং আমরাই ঠিক করব কে আসবে আর কে যাবে।’

তেহরান থেকে দ্বিতীয় আরেক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে বলেছেন, শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পুরো বিষয়কে প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি নীরবে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে আছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলা।

এদিকে মোজতবার বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁর শ্বশুর ও সাবেক স্পিকার গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেল। গত সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, মোজতবা দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ঐক্যের কথা বলে আসছেন। তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে বিভক্ত করবেন- এটা ভাবা যায় না।

আদেলের মতে, এই বার্তাটিকে একটি লাইনে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্পূর্ণভাবে পড়তে হবে। ‘আলাল-উসুল’ শব্দের ভুল ব্যাখ্যাই বিভেদের কারণ হয়েছে। মোজতবা চুক্তিকে নস্যাৎ করা তো দূরের কথা, তিনি বরং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ইরানি আলোচকদের হাত শক্তিশালী করছেন।

রাজনৈতিক কৌশল
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিবৃতিতে এমন শব্দের ব্যবহার এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশলকে ইঙ্গিত করে। মোজতবার বাবা আলি খামেনিও এমন কৌশল অবলম্বন করতেন। মোজতবা সম্ভবত চুক্তির দায় নিজের কাঁধে নিতে চাননি। তাই তিনি বিবৃতিতে নিজের অবস্থান এমনভাবে তুলে ধরেছেন যা সব অবস্থাতেই তাঁর জয় নিশ্চিত করে।

চুক্তিটি সফল হলে অনুমোদনকারী হিসেবে মোজতবা নিজেও কৃতিত্ব পাবেন। আর যদি ভেস্তে যায়, তবে তিনি নিজের ‘ভিন্ন মত’ থাকার দোহাই দিতে পারবেন। তখন সব ব্যর্থতার দায় বর্তাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর।

আলী খামেনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও ঠিক এমন কাজ করেছিলেন। তিনি প্রথমে একটি রেড লাইন বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকারের করা চুক্তিটি যখন ব্যর্থ হয়, তখন আলী খামেনি সেটির দায় নিতে চাননি।

তেহরানের একজন বিশ্লেষক টেলিগ্রাফকে বলেন, অন্তত সাতটি গোষ্ঠী মোজতবার বিবৃতির মূল বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা তৈরি করছেন। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে কট্টরপন্থীরা। তারা চুক্তির আলোচনাকারীদের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অপরদিকে আছে সরকারপন্থী গণমাধ্যম। তারা সমঝোতাকে প্রচার করছে জাতীয় বিজয় হিসেবে।

সাতটি গোষ্ঠীর মধ্যে একাংশ আবার মনে করছে, মোজতবার উল্লেখ করা ওই শব্দের হয়তো বিশেষ বা গভীর কোনো অর্থই নেই।

কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবে, বিশ্বাস প্রেসিডেন্টের

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপপর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো দলকে রুখে দিয়ে নকআউটের টিকিট পেয়েছে দলটি। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাউন্ড অব ৩২-এ আফ্রিকার দেশটির প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের কথাই শুনিয়েছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোস মারিয়া নেভেস। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দেশের।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারবে।’

কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক আসরেই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখায় তারা। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষেও ড্র করে নবাগত দলটি। একই সময়ে স্পেনের কাছে উরুগুয়ের পরাজয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরু থেকে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপপর্বের সব ম্যাচে জয় নিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শক্তির বিচারে আর্জেন্টাইনদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলতে নামবো। যখন কোনো দলের প্রতি প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু সেই দলের জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশের সবসময় মানুষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা আছে।’

নেভেস জানান, কেপ ভার্দের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা। নকআউটে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি সেই যাত্রার স্বাভাবিক পরিণতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা লেখার জন্য, আর সেই পথেই এখন আমাদের সামনে চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করার সুযোগ এসেছে। তাই একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা আর্জেন্টিনা ও মেসিদের বিপক্ষে মাঠে নামবো। আমাদের লক্ষ্য একটাই, পরের রাউন্ডে ওঠা।’

জার্মানির সেই গোল কেন বাতিল, ব্যাখ্যা দিল ফিফা

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির বাতিল হওয়া গোল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির জোনাথন তাহর গোলটি বাতিল করায় অনেকেই ভিএআরের সমালোচনা করেছেন। তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিএআরে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক উল্লেখ করে ফিফার রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, ফুটবলে সময় অপচয় বন্ধ করতে এবং খেলাটি আরও সুন্দর করতেই কিছু কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে।

শেষ ষোলোতে ওঠার ওই লড়াইয়ে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। এদিন নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচে ১-১ গোলের সমতা ছিল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দেন সেন্টার ব্যাক জোনাথন তাহ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিএআর কক্ষ থেকে রেফারিকে গোলটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত গোল বাতিল করেন রেফারি।

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। জার্মানির ভক্ত-সমর্থকদের মতে, তাহর গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

তবে এসব সমালোচনা গায়ে মাখছে না ফিফা। সংস্থাটির রেফারিপ্রধান বলেন, ‘কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যদি বলের প্রতি আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, বিশেষ করে গোলরক্ষকের নড়াচড়ায় বাধা দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ফাউল হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা সঠিক সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোলরক্ষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এসব নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

 

ফিফার রেফারিপ্রধান বলেন, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনায় গোল বাতিল হলে সেটি অপ্রত্যাশিত হওয়ার কথা নয়।’

এ সময় ম্যাচে কালক্ষেপণ কমাতে ফিফার নতুন উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন কলিনা। গোল কিক, থ্রো-ইন ও খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং চোট পেলে খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার নিয়ম ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফিফার নতুন উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছেন কলিনা বলেন, ‘এ পদক্ষেপগুলো সবই অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে বেশ ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।’

কোডভিত্তিক সব লেনদেন আজ থেকে বাংলা কিউআরে

আজ ১ জুলাই থেকে কোডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলা কিউআরে শুরু হচ্ছে। যে কোনো ব্যাংক, এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে সব ধরনের পরিশোধ করা যাবে।

এতে দোকান বা মার্চেন্ট পয়েন্টে আর আলাদা কিউআর রাখতে হবে না। মঙ্গলবার মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলা কিউআর ভালোভাবে বাস্তবায়ন হলে পুরো লেনদেন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ কমবে। এটাকে জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআর লেনদেনের একটি পর্যায় পর্যন্ত খরচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

ব্যাংকসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআর বাদ দিয়ে বাংলা কিউআর চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত এপ্রিলে একটি সার্কুলার দেয়। সেখানে বলা হয়, সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি ও পিএসওগুলোকে তাদের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে নিজস্ব মালিকানার কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলা কিউআরে ইন্টারঅপারেবিলিটি বা আন্তঃলেনদেন নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পয়েন্টে গ্রাহকের জন্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে বলা হয়।

অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ৩৫ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩০ দশমিক ৩২৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।