Home Blog Page 96

কর্মপরিষদ সভায় জামায়াত আমির সরকার একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে

সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদেও চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য চরম হতাশাজনক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় কথা বলছিলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রায় ইসলামী ব্যাংক যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ব্যাংকটিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ২০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একগুচ্ছ বড় ক্রয় ও উন্নয়ন প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট চার হাজার ১৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ২০টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেও কিছু নীতিগত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় কমিটি। এ জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই ও গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই এলএনজি সরবরাহ করবে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এক কোটি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকার মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস থেকে প্রতি কেজি ৮১ দশমিক ৪৭ টাকা দরে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল থেকে পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি কেজি ৭৪ দশমিক ৮৬ টাকা দরে ১২ হাজার ৫০০ টন ডাল কেনা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল থেকে প্রতি লিটার ১৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা দরে দুই কোটি লিটার পাম অলিন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনা হবে, যার প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬৪ দশমিক ৭৭ টাকা।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (এনইইটি) আট লাখ ৫০ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সক্ষমতা বাড়াতে ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর এনইইটি প্রকল্প সম্পর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগে প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ব্র্যাক জেভি, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ ১০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্র্যাক জেভিকে ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি ও শতাব্দী হাই বাংলাদেশ।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের সাতটি প্যাকেজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে।

কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রায় ৪৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জন্য মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কেনা হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়। অন্যদিকে কাফকো থেকে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ এবং বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ১৯৫ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

 

দাম কমেছে স্বর্ণের, আজ থেকেই কার্যকর

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমেছে। এর ফলে পরপর দুই দফা কমল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে কমেছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা।

তিস্তাসহ বন্যা মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে একমত ঢাকা-বেইজিং

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়িং। এ সময় দুই দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে।

বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় দুপুরে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, নদী খনন, ভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের নানা দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংও ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক করেছেন। এ সময় তিনি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

চীনা পক্ষ দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে বিএনপির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সফরের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে সফরের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে। ছবি: সংগৃহীত

বিকেলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এটি অনুষ্ঠিত হবে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন।

মাহদী আমিন জানান, শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমান বৈঠক করবেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন- চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি, রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিনিয়োগকারী ও মন্ত্রীরা। সাক্ষাতের সময় তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিডা ও ‘চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে চীনের প্রথম সারির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৮০ জন মালিক ও শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নতুন লাইসেন্সও দেওয়া হবে।

সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান, উপ প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম, সুজন মাহমুদসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকে আসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলার জট কমাতে হচ্ছে আলাদা ট্রাইব্যুনাল

দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এজন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫ টি বেসরকারি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি প্রথাগত আদালতেও এর বিচার কাজ চলবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে রোববার

বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করেন তিনি। এরপর ভারতীয় ভিসা সেন্টারে যান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফের সিইওর সাক্ষাৎ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য সহায়তার আহ্বান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ বদ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জুইংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিবৃতি ও ইউএনবি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বৈঠকের শুরুতে আলোইস জুইংগি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনর্খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া পাটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পে উৎসাহের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে। গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষিতে সহায়তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি ব্যাপক মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারাজকেও আধুনিকীকরণ করছি।’
তারেক রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকার কর রেয়াত সুবিধা দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়। আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।’ তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীলতার অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কপ৩১ এবং কপ৩২ (আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়া এবং আগামী বছর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের অধিবেশন)-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য, অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা; দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য ও চাহিদাসাপেক্ষ করা, যার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়; তৃতীয়ত, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন শুধু নীতিগত বিকল্প নয়, এটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডির মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।’

জলবায়ু মোকাবিলায় তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন ডব্লিউইএফ প্রধান।
ডব্লিউইএফ প্রধান বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
বাংলাদেশ যেসব বিষয় উত্থাপন করেছে, তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে বলে ডব্লিউইএফ প্রধান আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান ডব্লিউইএফ প্রধান।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া থেকে সোমবার রাতে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দেশ সফর। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গেছেন।

চীনে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসূচি 
দালিয়ানে দুদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের লিয়াওনিং প্রদেশে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ১৭তম বার্ষিক সভা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আজ বুধবার সকালে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিকেলে তিনি ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতাগুলো বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পরদিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রথমবার এক নাটকে বরেণ্য তিন অভিনয়শিল্পী

প্রথমবারের মতো এক নাটকে অভিনয় করেছেন দেশের তিন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক-নেতিবাচক প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটকটিতে দর্শকদের জন্য সচেতনতামূলক বার্তা রয়েছে বলেন জানান নির্মাতা।

রাহাত কবিরের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘দাদি ভয়ংকর’ নাটকের শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

নাটকের গল্প নিয়ে রাহাত কবির বলেন, ‘ইন্টারনেট-এর ভালো দিকও আছে খারাপ দিকও আছে। আমরা চাইলে ভালো দিকটা ব্যবহার করতে পারি আবার খারাপ দিকটাও ব্যবহার করতে পারি। নাটকে ভালো খারাপ দুটো দিকই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ভালো দিকটা কীভাবে ব্যবহার করা যায়-সেই বিষয়টাই অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখানো হয়েছে।’

আবুল হায়াত বলেন, ‘ভীষণ ভালো লেগেছে নাটকটিতে কাজ করে। কারণ, সিনিয়র কয়েকজন শিল্পীকে এক করে নাটক নির্মাণ করা খুব কঠিন একটি কাজ। নির্মাতা সেটা করতে পেরেছেন।’

দিলারা জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যতোটা স্বচ্ছন্দ দিচ্ছে ঠিক ততোটা বিপদও ডেকে আনছে। সেই ব্যাপারে মূলত নাটকের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দেওয়া। খুব ভালো লেগেছে একসঙ্গে একই নাটকে অভিনয় করে। আমার তো বারবার সেই শেষ পত্রের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিলো।’

ডলি জহুর বলেন, ‘অনেক বছর আগে আবুল হায়াত ভাইয়ের পরিচালনায় আমরা চারজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম, তারমধ্যে শর্মিলী আপা আমাদের মাঝে নেই। আসলে দিলারা আপা, হায়াত ভাইয়ের সঙ্গে এক নাটকে কাজ করাটা এটা যে আসলে কতোটা ভালোলাগার বিষয় তা ভাষায় প্রকাশের নয়।’

আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুর ছাড়াও এই নাটকে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, করভী মিজান, আরশ খান ও প্রিয়ন্তী উর্বী। শিগগিরই একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচার হবে।

গরমকালে হজমশক্তি দুর্বল হয় কেন? প্রতিকারে যা করবেন

গরমের দিন তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। তবে কী কারণে এমন হয় অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। অধিকাংশ মানুষেরই প্রচণ্ড গরমের সময় অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব এবং ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যাগুলো বেড়ে যায়।

‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ুর্বেদ অনুসারে, এই উপসর্গগুলির মূল কারণ শরীরের পাচনশক্তির মধ্যে নিহিত। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ আচার্য মনীশের মতে, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হজমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । এর ফলে শরীর ঠিকমতো খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না।

গ্রীষ্মের তাপ কীভাবে আপনার হজমতন্ত্রকে প্রভাবিত করে
আয়ুর্বেদ অনুসারে, গ্রীষ্ম ঋতু এমন একটি সময় যা স্বাভাবিকভাবেই হজমশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। ঘন ঘন ঘাম, পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস পাকস্থলী এবং এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে, গরম আবহাওয়ায় হজম ব্যবস্থা কম কার্যকর হয়ে পড়ে।

খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে কী হয়?
আয়ুর্বেদ অনুসারে, খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ার ফলে শরীরে টক্সিন পর্দার্থ জমা হতে থাকে। এর ফলে ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, দুর্বল বিপাক, অ্যাসিডিটি এবং হজমের অস্বস্তি হতে পারে। যেহেতু শরীরের প্রতিটি টিস্যু হজমের মাধ্যমে প্রাপ্ত পুষ্টির উপর নির্ভরশীল, তাই শরীরে সুস্থতার জন্য হজম ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকর হওয়া দরকার বলে মনে করা হয়।

 যা হজমের অবনতি ঘটাতে পারে
আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও স্বীকার করে যে, গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজা খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, চা, কফি এবং অনিয়মিত খাবার গ্রহণ হজমের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সেই সঙ্গে মানুষকে অলস ও ক্লান্ত বোধ করাতে পারে।

তবে, আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, গরম আবহাওয়ায় কয়েকটি সাধারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন হজমশক্তি এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-

সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
ডাবের পানি, ঘোল এবং লেবুর পানি পান করা
হালকা, তাজা তৈরি খাবার খাওয়া
ভাজা, মসলাদার এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা
তরমুজ, খরমুজ, শসা এবং ডালিমের মতো পানিযুক্ত ফল খাওয়া
অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা এবং হজম ক্ষমতা অনুযায়ী খাওয়া
যোগব্যায়াম এবং প্রাণায়াম 
আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় হজমের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রাণায়ামসহ বেশ কিছু আসন স্বাভাবিকভাবে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। সকালের হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিনও গ্রীষ্মকালে বিপাকক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৪৪, সারাদেশে শতাধিক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার শঙ্কায় সরকার ছয় জেলায় সেনাবাহিনী ও পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল। কর্মসূচি ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকলেও বড় কোনো সহিংসতা হয়নি। গত দুদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সারাদেশে এই আটকের সংখ্যা শতাধিক।

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে সেভাবে মাঠে দেখা যায়নি। তবে দেশের কয়েকটি জেলা থেকে মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। আর আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকাতে সারাদেশে তৎপর ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জামায়াতের কর্মসূচি থেকে হামলা চালিয়ে চার সাংবাদিককে আহত করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি। সাংবাদিকরাও এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
গতকাল ঢাকা মহানগরজুড়ে পুলিশ-র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থান দেখা যায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১৮ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে ডিএমপির পক্ষে নাশকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করতে দেখা যায়।

গতকাল সকাল থেকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের সড়কের দুপাশে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একই অবস্থা দেখা গেছে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় ও তেজগাঁও দলীয় কার্যালয়ের সামনেও। র‍্যাব-পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যক্তি কিংবা যানবাহনে তল্লাশিসহ টহল দিতে দেখা যায়। সকাল থেকে রাস্তায় গণপরিবহন কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়ে।

নাশকতার শঙ্কায় পুলিশ সোম ও মঙ্গলবার দুদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় সাখাওয়াত হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল (আওয়ামী লীগ) তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত করে সরকারকে বিব্রত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে দারুস সালাম এলাকার টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দারুস সালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. ইমদাদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চলন্ত বাস থেকে ককটেলটি ছুড়ে মারা হয়। তবে এতে কেউ আহত হননি। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।

সরব বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি
গতকাল সকাল থেকে মাঠে সরব ছিলেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এনসিপির নেতাকর্মীরাও আওয়ামী লীগবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, শেওড়াপাড়া, মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন এসব দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো প্রতিবাদ মিছিল করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই। জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ আছে।

জামায়াতের মিছিল শেষে হামলা, আহত ৪ সাংবাদিক
গতকাল সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে হামলা চালিয়ে অন্তত চার সাংবাদিককে আহত করা হয়। গুরুতর আহত দৈনিক সকালের স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা হলেন– দৈনিক কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান, দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন আয়োজিত মিছিল শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনের সড়কে সমাবেশ চলছিল। এ সময় শুধু দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য একজন সাংবাদিক অনুরোধ জানালে ক্ষুব্ধ হন দলটির নেতারা। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সংক্রান্ত ভিডিওতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান, জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং তখনই সেটা নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে শুনেছি।

সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি দায়ী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় জামায়াত।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে এই হামলাকে বর্বরোচিত, গণতন্ত্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তির কাজ বলে অভিহিত করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এক বিবৃতিতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সংঘটিত এই হামলা, হেনস্তা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।

জামায়াতের কর্মসূচি চলাকালে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। গতকাল বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম।

সারাদেশে ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর
গোপালগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত ছিল। এরই মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দীঘারকুল গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কে পৌর ছাত্রলীগের ব্যানারে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক রিপনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সংক্ষিপ্ত মিছিল ও কেক কাটার আয়োজন করে। গতকাল দুপুরের এই কর্মসূচির ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, জেলা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাশকতার আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জের প্রবেশপথসহ সাইনবোর্ড, শিমরাইল মোড়, ফতুল্লা, সৈয়দপুর, সোনারগাঁ, কাঁচপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০ স্থানে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেন।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সাতটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও নগরকান্দার সীমান্তবর্তী শুয়াদি এলাকায় গতকাল বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

বিকেলে ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী আরেকটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া তিনজনকে আটক করে মারধর করেন এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ছাড়া ফরিদপুরের নগরকান্দা-ভাঙ্গা সীমান্তে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন শাকিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আল আমিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পিজিপি কেজি স্কুল মাঠে কেক কেটে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সজিব ও বিল্লাল নামে দুই কর্মীকে আটক করেছে।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তেলিখালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া রাঙামাটিতে দুদিনের বিশেষ অভিযানে যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের নলমুড়ি ইউনিয়নের হাটুরিয়া বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে মধ্যরাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে ওই কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত দাবি করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা বিএনপি।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মিছিল
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে অপপ্রচার ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল এবং নারায়ণগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিবদমান দুই পক্ষ পৃথকভাবে সতর্ক অবস্থান ও বিক্ষোভ করেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা বিএনপির সমাবেশ থেকে যুবদল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা রাস্তায় নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না।

সাতক্ষীরায় জেলা ও পৌর যুবদলের যৌথ উদ্যোগে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে, যেখানে নেতারা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র রাজপথে রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ছয়টি ইউনিয়নে একযোগে পথসভা এবং মেহেরপুর, লক্ষ্মীপুর ও রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া যশোরে জেলা যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল শেষে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা সতর্ক পাহারায় থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধি)