Home Blog Page 96

আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ ঠিক করবে মন্ত্রিসভা। এর পর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরও দুই থেকে তিন দিন সচিব কমিটি কারিগরি কিছু দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। এর পর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এর পর প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর পর সুপারিশ ছিল দুই ধাপে বাস্তবায়নের। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়। সে অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কীভাবে জোগান দেবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।

বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে জন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।

সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়েছে দুই ধাপে
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছর ভাতা দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা যেটি ভালো মনে করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো– জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা।

বন্যার ক্ষতচিহ্ন কৃষিতে, ডুবেছে ১.১৪ লাখ হেক্টর জমির ফসল

সপ্তাহব্যাপী অতিভারী বর্ষণ থামার পর চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কোথাও ডুবে গেছে পাকা আউশ ধান, কোথাও নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলা, আবার কোথাও পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের কিংবা মারা গেছে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ–এই তিন খাত মিলিয়ে বন্যা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও বাজারে নতুন অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের গতকাল মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত দেশের ৪৩টি জেলার কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখের বেশি কৃষক। একই সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়লে আগামী কয়েক মাসে খাদ্য সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সবজি ও ধানের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১৬ জেলাতেই ৯০ শতাংশ ক্ষতি
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬টি জেলা। এগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, মেহেরপুর, বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী। এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ ১ লাখ ৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর, যা সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত জমির ৯০ শতাংশেরও বেশি। শুধু এ ১৬ জেলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬ জন। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ৭৯ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ ধান, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি রয়েছে। এ ছাড়া আদা, হলুদ, পেঁপে ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনাই এখন অগ্রাধিকার। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আমন ধানের বীজ, আগাম শীতকালীন সবজির বীজ ও প্রয়োজনীয় সার বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। মূল্যায়ন শেষ হলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলায়। তবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নতুন বীজতলা তৈরির সুযোগ রয়েছে। সরকারি জমিতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করে সেখানকার চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এ কাজে বিএডিসি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এখনও ব্যাপক পরিসরে আমন রোপণ শুরু হয়নি। ফলে সময়মতো বিকল্প চারা সরবরাহ করা গেলে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

মাছ ও গবাদি পশুতেও বড় ক্ষতি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গতকাল মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা। এসব এলাকায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০টি গরু, ৪ হাজার ১৪৮টি মহিষ, ১ লাখ ১২ হাজার ৬৫৫টি ছাগল, ২৪ হাজার ৭৯৫টি ভেড়া, ১১ লাখ ৯১ হাজার ২০টি মুরগি এবং ২৪ হাজার ২৮টি হাঁস বন্যার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৫টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১ হাজার ১৯৮টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫২১টি হাঁস। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫টি গবাদি পশুর খামার ও ৬৩টি হাঁস-মুরগির খামার। নষ্ট হয়েছে ১১৮ টন গোখাদ্য।

অন্যদিকে ৬০২টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ৪৩ টন সাদা মাছ, ১৪ হাজার  টন চিংড়ি, ১৮ লাখ পোনা এবং ২৫৯ লাখ রেণু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। মাছ ধরার জাল, নৌযান, পুকুর, ঘের, স্লুইসগেটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, অনেক কৃষক বিক্রির উদ্দেশ্যেও ধান ও সবজির বীজতলা তৈরি করেন। তাই বীজতলা নষ্ট হওয়া মানে শুধু উৎপাদন নয়, সরাসরি আয় হারানোও।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমনের বীজতলা আবার তৈরি করা সম্ভব হলেও পানিতে ডুবে যাওয়া আউশ ধানের ক্ষতি পূরণ করা যাবে না। বিশেষ করে মিল্ক স্টেজে থাকা ধান দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ফলন প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বন্যাপ্রবণ এলাকায় বন্যাসহনশীল ব্রি ধান-১১০সহ অনুরূপ জাতের চাষ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এ জাতের ধান ১৫ থেকে ২০ দিন পানির নিচে থাকলেও ফলন দিতে সক্ষম।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা না দিলে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চাল ও গম আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে সবজি উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়বে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোজন এখন সময়ের দাবি। ভাসমান বীজতলা, উন্নত আগাম পূর্বাভাস এবং কৃষকের কাছে সময়মতো তথ্য পৌঁছে দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত আমনের চারা রয়েছে। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে সেসব চারা সরবরাহ করা সম্ভব। তবে পেঁয়াজ, মরিচসহ গ্রীষ্মকালীন সবজিতে ক্ষতির প্রভাব কিছুদিন বাজারে থাকবে।

বিধিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত শিথিল হচ্ছে মার্জিন ঋণের বিধিনিষেধ

অন্তত এক বছর কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকা এবং ৫ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘বি’ ক্যাটেগরিভুক্ত শেয়ারে মার্জিন ঋণ পেতে বর্তমানে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নতুন করে মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খসড়া প্রস্তাব অনুসারে, মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত না করেই কোনো ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক ঋণ প্রদান করতে পারবে। মার্জিন অ্যাকাউন্টে নগদে নন-মার্জিন শেয়ারও কেনা যাবে।

বিধিমালায় আরও বেশ কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এ বিষয়ে খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছে, যা শিগগিরই জনমত গ্রহণের প্রকাশ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এ বিধিমালার সংশোধন করে গত বছরের ৬ নভেম্বর গেজেট হয়েছিল।

এদিকে মার্জিন ঋণ বিধিমালায় সংশোধন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি গতকালের সভায় কমিশন দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে স্ক্রিপ নেটিং বা একই দিনে কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কিনে পরে এক বা একাধিক কেনাবেচার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সব আইনি বিধান পরিপালনে শর্ত দেওয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল মার্জিন ঋণ নিরুৎসাহিত করা। বর্তমান কমিশনের অবস্থান প্রায় এর বিপরীত। তারা প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ বিধানে যেসব পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে তাতে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং রাতারাতি শেয়ারদর বেড়ে যাবে। টানা দুই বছর আইপিও খরার মধ্যে একই শেয়ারে নতুন চাহিদা অস্বাভাবিক দাম বাড়াবে। আবার বিনিয়োগকারীরা এখনও সচেতন নয় বলা হলেও  স্ক্রিপ নেটিংয়ের মতো সুবিধা চালু করে ‘বিনিয়োগ’ এর বদলে ‘ট্রেডিং’ বা শেয়ার ব্যবসা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ৩-৬ মাসে বহু শেয়ারের দাম দ্বিগুণ, তিনগুণ, এমনকি আটগুণ হয়েছে। এ সময়ে চাহিদা বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত ‘আগুনে ঘি ঢালা’র মতো। ফলে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কমিশন আয় বাড়বে এবং এরই মধ্যে বাজারে যে কারসাজি চক্র শুরু হয়েছে, তাদের উৎসাহিত করবে।
অবশ্য বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালামের দাবি, কিছু প্রয়োগিক জটিলতা কমাতে এ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্ক্রিপ নেটিংয়ের কারণে বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, শুরুতে চাহিদা তৈরি করলেও ওই দিন দাম বাড়লে দিনের মধ্যে ওই শেয়ার বিক্রি করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এতে বাড়তি ‘সাপ্লাই’ নিশ্চিত হবে, যা বাজারকে ‘কুল’ করতে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানান, কমিশন এ সুবিধা প্রচলনের অনুমতি দিলেও তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ, এ সুবিধা চালু করতে সফটওয়্যারে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে। আশা করছি, এরই মধ্যে পাইপলাইনে থাকা কিছু আইপিও বাজারে আসবে। ফলে চাহিদা ও জোগানে সমন্বয় হয়ে যাবে। সময়মত জোগান নিশ্চিত না হলে কী হবে সে প্রশ্নে তিনি বলেন, নিশ্চয় তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুরুতে ব্লুচিপ ৩০ শেয়ারে এ সুবিধা চালু করার চিন্তা আছে, সব শেয়ারে নয়।
বিদ্যমান আইনে বাজার পিই রেশিও ২০-এ উন্নীত হলেই সতর্কতা জারির শর্ত ছিল। বিধিমালার সংশােধন প্রস্তাব অনুসারে মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে পিই রেশিও ৩০ বহাল থাকছে। এর বাইরে বিদ্যমান আইনে গৃহিণী ও শিক্ষার্থীদের মার্জিন ঋণ গ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? জানাল সুপার কম্পিউটার

০

ডালাসের মাঠে ফরাসিদের দাপটের সাথে বিদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। গত রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

আজ বুধবা দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জয়ী দলই আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র সুপারকম্পিউটার হিসাব কষে জানিয়েছে, ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আসলে কারা এগিয়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ফেভারিট ঘোষণা করলেও সুপার কম্পিউটারের সেই পূর্বাভাস মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসিদের বিদায় দিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

ফরাসি জুজু কাটার পর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস দিল অপটা’র সুপারকম্পিউটার। অপটার ২৫,০০০ প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশনের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে থমাস টুহেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫২.৫৩ শতাংশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪৭.৪৭ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, থ্রি লায়ন্সদের লড়াকু ফুটবল আর ট্যাকটিক্যাল শক্তির কারণে লিওনেল মেসির দলের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আজ রাতে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখার পর ট্রফি জয়ের দৌড়েও পরিবর্তন এসেছে। সুপার কম্পিউটারের সর্বশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী, তিন সিংহের দল কিংবা আলবিসেলেস্তেরা যারাই ফাইনালে উঠুক না কেন, শিরোপা জয়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসাব মতে, স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন ৫৬.১৫ শতাংশ।

ধামরাইয়ে দেশের সর্ববৃহৎ রথযাত্রা উৎসব বৃহস্পতিবার শুরু

ধামরাইয়ে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসব ও মাসব্যাপী মেলা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। দেশের সর্ববৃহৎ এ রথযাত্রা ঘিরে ধামরাইয়ে এখন সাজসাজ রব।
এরই মধ্যে যশোমাধব মন্দির ও রথ পরিচালনা পরিষদ রথ মেরামত, সাজসজ্জাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। এ উৎসব দেশ-বিদেশের লাখো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। শ্রীশ্রী যশোমাধবের প্রতি কলা-চিনি ছিটিয়ে এক বছরের পাপ মোচনের জন্য দূরদূরান্ত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কয়েক দিন ধরেই এসে উঠছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উদ্বোধনী দিনে প্রথমে রথের সারথি উত্তম গাংগুলি ও চপলেশ গাংগুলি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়ায় অস্থায়ী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ও পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করবেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

যশোমাধব মন্দির ও রথমেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ, ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন প্রমুখ।

এদিন বিকেল ৬টায় রথযাত্রা উদ্বোধনের পর উৎসবে আগতরা কায়েতপাড়া থেকে মূর্তিসহ ৪২ ফুট উচ্চতার তিনতলা রথটি পাটের রশি ধরে টেনে যশোমাধবের শ্বশুরবাড়ি যাত্রাবাড়ি মন্দিরে নিয়ে যাবেন। সেখানে পূজা-অর্চনা শেষে ৯ দিন পর তা উল্টো টেনে আগের স্থানে আনা হবে। এই উল্টো রথটান আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। তবে রথ উৎসবের মেলা চলবে এক মাসব্যাপী।
শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির ও রথমেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রথযাত্রা উৎসব লাখো ভক্তের মিলনমেলায় পরিণত হবে। এরই মধ্যে রথমেলার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন ও থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, রথমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন শতাধিক পুলিশ, র‍্যাব, আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সাদা পোশাকে নজরদারি করবেন।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত ৯

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচির এক দিন আগে মঙ্গলবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে সাতজন বিক্ষোভকারী, একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

এই সহিংসতার মূল কারণ আঞ্চলিক পরিষদে সংরক্ষিত ১২টি আসন নিয়ে বিরোধ। পাকিস্তানের অন্য এলাকায় বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত এসব আসনের ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্বকে দুর্বল করছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে বলেন, পুঞ্চ জেলার তারারখাল এলাকায় বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে বাধা দেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেন।’

ওয়াহিদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, তারারখালে ছয়জন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ছাড়া রাওয়ালাকোটে পৃথক আরেকটি সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারান।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত জুনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) বুধবার রাওয়ালাকোট অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের শহরে প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী, গত জুন থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে আজ বুধবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোক প্রস্তাবটি কাতার সরকার এবং ঢাকাস্থ কাতার দূতাবাসে পাঠানো হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য শামীম কায়সার মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এদিকে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তা পৌঁছে দিতে দোহা গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রয়াতের ছেলে, কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি শেখ হামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তরফে শোক ও সমবেদনা জানাবেন। আগামী ১৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে মারা যান কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ কারণে তাঁকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হামাদ বর্তমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির পিতা।

এরশাদের স্মরণসভায় জিএম কাদের বিএনপির সঙ্গে বাটোয়ারা করে জামায়াত-শিবির সব করছে

বিএনপির সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা করে জামায়াত-শিবির সব করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত-শিবির এবং তাদের দোসর একদল। বাইরে নানাভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের নেতাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বোঝাপড়া) ঠিক আছে। আসল শত্রু আওয়ামী লীগ, আর একটা ছোটখাটো শত্রু আছে–জাতীয় পার্টি।

গতকাল মঙ্গলবার রংপুর নগরীর পল্লীনিবাসে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আর ২০২৪ সালে দিনের ভোট আরও খারাপভাবে হয়েছে। এখানে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, পরদিন সকালে হয়েছে, দুপুরে হয়েছে, আবার রাতেও হয়েছে। অনেক সময় ভোট ছাড়াই কাগজে লেখা হয়েছে কে কত ভোট পেয়েছে। এসবের যথেষ্ট প্রমাণ ও নথি আমাদের কাছে আছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকার করলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা খবর পেয়েছি, সেখানে বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসরদের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল। তারা মিলেমিশে কোথায় কাকে পাস করাবে, আর কোথায় জাতীয় পার্টিকে পাস করাবে না– সেটি ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। সময় এলে আপনারা বুঝতে পারবেন কেমন নির্বাচন হয়েছে। আইনগতভাবে এটি একতরফা নির্বাচন। একতরফা নির্বাচন কোনো নির্বাচন নয়। এটি অবাধ নয়, সুষ্ঠু নয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এখনও আওয়ামী লীগের লোক বা দোসর বলে যে কোনো মানুষকে ধরে মব তৈরি করে মারধর করা হচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগ মানুষকে মারত বা জেলে দিত। এখন শুধু মানুষ হত্যা করা হচ্ছে না, তাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, ‘জুলাই গণআন্দোলনকে সফলও বলব না, বিফলও বলব না। এটি অসমাপ্ত। যে বৈষম্যবিরোধী সমাজ, জবাবদিহিমূলক সরকার ও আইনের শাসনের স্বপ্ন নিয়ে মানুষ আন্দোলন করেছিল, সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।’

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

বর্ষা মৌসুমে আর পাবলিক পরীক্ষা হবে না

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী বছর থেকে বর্ষাকালে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক গতকাল মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয়ে সমকালকে বলেন, বর্ষাকালে আমরা আর পরীক্ষা নেব না। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। আগামী বছর জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে, ধাপে ধাপে পাবলিক পরীক্ষাগুলো স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে ফিরিয়ে আনা।
সচিব বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসন– সব পক্ষই নানা সমস্যায় পড়ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পরীক্ষার ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও পরীক্ষার নতুন সময়সূচির পরিকল্পনার কথা জানান। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাবর্ষ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুনে আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমবে এবং শিক্ষা ক্যালেন্ডার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে।
করোনা মহামারির পর দেশের পাবলিক পরীক্ষার সূচি স্বাভাবিক ধারার বাইরে চলে যায়। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে অটো পাস দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে, ২০২২ সালে নভেম্বরে এবং ২০২৩ সালে আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে জুনে পরীক্ষা শুরু হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা শেষ করা যায়নি। ২০২৫ সালে জুনের শেষ দিকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছর পরীক্ষা আরও এগিয়ে জুনের শুরুতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে ২ জুলাই শুরু করা হয়। ফলে ভরা বর্ষায় পরীক্ষা আয়োজনের বাস্তবতা তৈরি হয়।

দুটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, অতীতে কখনোই বর্ষাকালে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এবার অনেকটা বাধ্য হয়েই এ সময় পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এত বড় জাতীয় পরীক্ষার সময় নির্ধারণে আবহাওয়া ও দুর্যোগের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কোমরপানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান পরীক্ষার পরিবেশও নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

মজিবুর রহমান বলেন, তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো অনুকূল আবহাওয়ার সময়ে নিয়ে আসা এবং দুর্যোগকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাপনার একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন তাসলিমা বানু সমকালকে বলেন, প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করা বেশ জটিল। এবার সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে। কোনো এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নিতে হলে ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে, যা বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষা প্রশাসন মূলত ৭ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা প্রায় এক মাস পিছিয়ে ২ জুলাই থেকে শুরু করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের কারণেই পরীক্ষা বর্ষার মধ্যভাগে চলে এসেছে।

এইচএসসি পরীক্ষায় ভোগান্তি দিনভর রাস্তায় শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ দেশের অন্তত ১৭ স্থানে বিক্ষোভ-অবরোধ

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে হঠাৎ আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তাদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বৈঠকে ডাকেন শিক্ষামন্ত্রীকে। এরপর সন্ধ্যায় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনে পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।

বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরা এলাকায় বিক্ষোভের পর বিকেলে শিক্ষার্থীরা সংসদের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। রাতে আবারও তারা সেখানে জড়ো হন। আজ বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে তারা গতকালের আন্দোলনের ইতি টানেন এবং ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আজকের পরীক্ষার পর এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর বাইরে অন্তত ১৭টি স্থানে কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। চট্টগ্রামে শিক্ষা বোর্ডের ফটক খুলে নিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে অবরোধের কারণে যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর জাতীয় সংসদেও তোপের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। সংসদের পূর্বনির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এহছানুল হক মিলনকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধানের সংসদ কার্যালয়ে বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সমকালকে জানিয়েছেন, দ্রুত কীভাবে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি বা ওই দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যাদের পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে, তাদের আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়েই বাকি পরীক্ষাগুলোর আয়োজন করা হবে।

গত ২ জুলাই শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে অন্য সব বোর্ডের পরীক্ষা ঘোষিত সময়সূচি ধরে চলছে।

গত সোমবার ভারী বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিশেষ করে ঢাকা ও কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েন। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ ছাড়া গতকালের আন্দোলনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। এতে একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এ মন্তব্যে পরীক্ষার্থীদের অপমান করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তবে একই কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলেন। জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ড ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সকালে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থী দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অনেককে কোমরপানি ও কাদা পার হয়ে ভেজা জামাকাপড়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

Arif Hazra 1784083980

সায়েন্স ল্যাবে অবরোধ
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ, বিশেষ করে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড়ো হন। ১১টা ৪০ মিনিটে তারা ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজট হয়।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত, পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেননি। তাই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

আট দফা দাবি 
প্রাথমিকভাবে আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো– দেশে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

পরে তারা আট দফা দাবি ঘোষণা করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে– দুর্যোগকালে পরীক্ষা বন্ধ রাখা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের নম্বর প্রদান, শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যৎ প্রশ্নপত্র পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রণয়ন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং একমাত্র দাবি হবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাব থেকে এক দল শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা
দুপুরে শিক্ষা ভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে আন্দোলনকারীদের বাধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়। এরপর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সময়ে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সিনেট ভবনের পাশের এলাকায় অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে রওনা হন।

উত্তরায় অবরোধ 
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দর, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কয়েক দফায় রাস্তা বন্ধ ছিল।

শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ
ঢাকা বোর্ডের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, সকাল থেকেই তারা ঢাকা বোর্ডের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। দুপুর ২টার পরপর দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বোর্ডের সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে প্রধান দুটি ফটকই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফটক ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত তারা ঢুকতে না পেরে ইটপাটকেল ছোড়েন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সমকালকে বলেন, বোঝানোর পর ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যায়।

সংসদ ভবনের সামনে অবরোধ
সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এক দল শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কিছুক্ষণ পর শতাধিক শিক্ষার্থী আবার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এবার তারা স্লোগান না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। দ্বিতীয় দফায় রাত ৮টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করা হয়। অ্যাভিনিউর দুই পাশ আটকে রাখার ফলে আসাদগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামারবাড়ি থেকে আসাদগেট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার বাইরেও দিনভর বিক্ষোভ 
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৭টি স্থানে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দিনাজপুর স্টেশনে আটকা পড়ে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বগুড়া নগরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের সাতমাথায় বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারের পূর্ব পাশের সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের পর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষার্থীরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে আবারও সাতমাথায় ফিরে সড়কে অবস্থান নেন।

নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ‘সব কলেজের সচেতন শিক্ষার্থী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুপুরে রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করা হয়। দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং পাবনার শহীদ চত্বরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে জয়পুরহাট শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ করা হয়েছে।
দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও অংশ নেন। এর আগে সকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

বিকেলে জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভ করেন। বরিশালে দুপুর ১২টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ ও ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘সিলেটের সার্বজনীন শিক্ষার্থী’র ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

কক্সবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ২টা থেকে সাত ঘণ্টা শহরের গুনগাছতলা এলাকায় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে  তারা বিক্ষোভ করেন ও টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিকেল খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে শিববাড়ী মোড়ের সাতটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর জেলখানা মোড় অবরোধ করা হয়। দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজার মোড়ে শহীদ ইয়ামিন চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)