Home Blog Page 97

১০ মামলায় আইভীর জামিন আপিলে বহাল মুক্তিতে বাধা নেই বললেন আইনজীবী

নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আজ রোববার এই আদেশ দেন।

এর ফলে কারা মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।

গত বছরের ৯ মে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন দেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়।

১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সেগুলো হলো- ফতুল্লা থানায় করা বাস চালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা।

হামলা ও সরকারি কাজো বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।

এরপর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এর মধ্যে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসব মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

রাতে মুখে নারকেল তেল লাগালে কী হয়

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নারকেল তেলের তুলনা নেই। এতে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয়, মাথার তালুতে নানা ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে। নারকেল তেল কিন্তু ত্বকের জন্যও ভালো। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এই তেল। নারকেল তেল ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কাও কমায়। কিন্তু মুখের ত্বকের সঙ্গে সারা গায়ের ত্বকের পার্থক্য আছে। কারণ মুখের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। চাইলেই সব ধরণের পণ্য ব্যবহার করা ঠিক নয়। সারা শরীরের তাই সেখানেও কি মাখা উচিত এই তেল? আর সারা রাত মুখে নারকেল তেল মাখিয়ে রাখলেই বা কি হয়?

‘হিন্দুস্তান টাইমসে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন তারা রাতে মুখে নারকেল তেল লাগাতে পারেন । সকালে উঠে দেখতে পারেন, সব ব্রণ ফেটে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে যাদের ত্বক খুব পাতলা, তাদের আবার ব্রণ বেড়েও যেতে পারে। এ কারণে আগেভাগে ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া ভালো।
সারা দিন যাদের বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়, তাদের মুখের ত্বকে নানা রকম দূষিত পদার্থ জমা হয়। সারা রাত নারকেল তেল মাখিয়ে রাখলে সেই আবর্জনা ত্বকের ফাঁক থেকে বেরিয়ে আসে।
যারা ব্লাকহেডসের সমস্যায় ভুগছেন তারা রাতে মুখে নারকেল তেল লাগাতে পারেন। ধীরে ধীরে এ সমস্যা কমে যাবে।

মুখের ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি হলে সারা রাত নারকেল তেল মাখিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
সারা রাত নারকেল তেল মুখে মাখিয়ে রাখলে ত্বক প্রচণ্ড নরম হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে ত্বকের শুষ্কতার পরিমাণও কমে যায়।
অনেকের নারকেল তেল ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জির দেখা দেয়। তবে বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এই তেল খুব কাজের। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এই তেল।
রাতে অনেকেই ক্রিম মেখে ঘুমোতে যান। তার বদলে খুব সহজেই নারকেল তেল মাখতে পারেন। তাতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। তবে মুখে মাখার জন্য একেবারে খাঁটি নারকেল তেল মাখার চেষ্টা করতে হবে। তার মধ্যে সুগন্ধী, অন্য তেল বা রাসায়নিক মেশানো থাকলে, সেটি মুখের ত্বকের কাজে লাগবে না। উল্টে ক্ষতি করে দেবে।

রাতে মুখে নারকেল তেল ব্যবহারের পদ্ধতি
প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

অল্প পরিমাণে নারকেল তেল নিয়ে আলতোভাবে বৃত্তাকার গতিতে মুখে ম্যাসাজ করুন। তেলটি সারারাত মুখে লাগিয়ে রাখুন। সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য নারকেল তেল সেরা প্রতিকার। এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এটি ক্ষতিকর নয়, প্রাকৃতিক, সাশ্রয়ী এবং সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন হুমা-রচিত

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। এমন খবরে ইতোমধ্যেই সরগরম বিনোদন দুনিয়া। দীর্ঘদিনের প্রেমিক রচিত সিংয়ের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন এই অভিনেত্রী। কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাগদানের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাত পাকে বাঁধা পড়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ কিংবা নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন হুমা ও রচিত। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো। ঝাঁ-চকচকে তারকাবহুল আয়োজনের পরিবর্তে বরং ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে, সাদামাটা ও রুচিশীল আয়োজনেই বিয়েটি সারতে চান এই অভিনেত্রী।

কিন্তু বলিউডের তারকাদের বিয়ে মানেই যেন এক বিশাল আয়োজন। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা, বিলাসবহুল মেন্যু আর হাই-প্রোফাইল অতিথিদের ভিড়। সেই প্রেক্ষাপটে হুমার এই সাধারণ পরিকল্পনা ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোথায় হবে বিয়ে? কারা থাকবেন অতিথি তালিকায়? কী ধরনের সাজে ধরা দেবেন কনে? এসব প্রশ্ন এখনই ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।

হুমা কুরেশি নিজেও এ প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ‘জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটা আমি খুব ব্যক্তিগতভাবে উপভোগ করতে চাই। খুব বেশি কোলাহল নয়; বরং কাছের মানুষদের নিয়েই সুন্দর একটা দিন কাটাতে চাই।’

রচিত সিং বলিউডের পরিচিত মুখ না হলেও ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে তিনি একজন অভিনয় প্রশিক্ষক। তাঁর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আলিয়া ভাট, রণবীর সিং এবং ভিকি কৌশলের মতো তারকারা। ফলে ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে পেশাগত ক্ষেত্রেও তিনি প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচিত।

হুমা ও রচিতের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম গুঞ্জন শুরু হয় ‘থাম্মা’ সিনেমার একটি স্ক্রিনিং ঘিরে। এরপর সোনাক্ষী সিনহার বিয়ের অনুষ্ঠানে রং মিলিয়ে গোলাপি পোশাকে একসঙ্গে হাজির হয়ে আলোচনায় আসেন তারা। শুধু তাই নয়, রচিতের জন্মদিনের আয়োজনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। আর এখন সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন তারা।

হুমাকে সর্বশেষ দেখা গেছে রোমান্টিক কমেডি ছবি ‘সিঙ্গেল সালমা’-তে। বর্তমানে তিনি তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে ‘এলিজাবেথ’ চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে। কন্নড় সুপারস্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত প্যান-ইন্ডিয়ান সিনেমা মুক্তি বার বার পেছাচ্ছে। এবার তৃতীয়বারের মতো পরিবর্তন করা হলো এর মুক্তির তারিখ।

আগামী ৪ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী বড় পরিসরের ডিস্ট্রিবিউশন এবং কৌশলগত পার্টনারশিপ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতারা। শিগগির নতুন মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। একসঙ্গে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শুট করা সিনেমাটি মুক্তি পাবে ছয়টি ভাষায়। এই সিনেমায় হুমা ছাড়াও অভিনয় করছেন যশ, নয়নতারা এবং কিয়ারা আদভানির মতো তারকারা।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও পরিচ্ছন্ন হয়নি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও পরিচ্ছন্ন হয়নি। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। আমাদের নেতা বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই কথার মধ্যে অনেক গভীরতা আছে। কেউ ভারতের পক্ষে, কেউ পাকিস্তানের পক্ষে, কেউ আমেরিকার পক্ষে, কিন্তু আমরা বাংলাদেশের পক্ষে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পতিসরে রবীন্দ্র জন্মোৎসবে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নওগাঁ, নাটোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন। জুলাইয়ের আন্দোলনে আমাদের তরুণেরা যে সংগ্রাম করেছে, আমরা সেটিকে ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। মানুষ এখন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। যারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, তারা অর্থনীতি লুট করেছে, ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, প্রশাসনকে দুর্বল করেছে। সেই অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-৫ আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের এমপি এনামুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী), রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন, তখন কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যথিত হতেন। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, সমাজ সংস্কারক ও ছিলেন। কৃষকদের সহায়তায় তিনি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য তিনি নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর সাহিত্যচর্চার বাইরেও মানুষের জন্য গভীর দায়বদ্ধতার প্রকাশ। রবীন্দ্রচর্চাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িকভাবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। আমি মনে করি, এটি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ও অনুভবের অভাব। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব মানবতার কবি। তাঁর সাহিত্য মানুষের জীবনকে সুন্দর ও আলোকিত করার শিক্ষা দেয়। আমার কাছে তিনি একজন দার্শনিক।’

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, যারা সবসময় সমাজকে অস্থির রাখতে চায়। ছোটখাটো ইস্যুকে বড় করে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চাই না দেশে আর কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক।’
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ।

জাতীয় কাউন্সিলের আগে কমিটি পুনর্গঠনের চিন্তা

ঢাকা মহানগরে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার চেষ্টা করছে বিএনপি। এ জন্য ঢেলে সাজানো হবে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণ। মেয়াদ শেষ না হলেও দুটি কমিটি পুনর্গঠন করা হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় কাউন্সিলের আগে পুরো সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা সমকালকে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এখন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে দলটির ৮২ সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি থেকে শুরু করে এর সব অঙ্গসংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির কমিটিকেও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ওই নেতারা জানান, এবারের প্রতিটি কমিটি গঠনে যেমন ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের সামনে রাখা হবে, তেমনি অভিজ্ঞদেরও মূল্যায়ন করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। সাংগঠনিক গতিশীলতা ফেরাতে শিগগিরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে।

বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করছে দলটি। চলতি বছরের সুবিধাজনক সময়ে তা করা হবে। এর আগে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তরে আহ্বায়ক করা হয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবকে, সদস্য সচিব করা হয় আমিনুল হককে। দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিতে রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব করা হয় তানভীর আহমেদ রবিনকে। পরে সাইফুল আলম নিরবকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।

দক্ষিণে আলোচনায় আছেন যারা
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তাঁকে নিজ এলাকায় বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এ কারণে তিনি ঢাকা মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের তৎপরতায় তেমন সময় দিতে পারবেন না বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কারা-নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন রবিন। এদিকে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনে যখন দল ও সংগঠনের বেশির ভাগ নেতা কারাবন্দি কিংবা আত্মগোপনে চলে যান, তখন ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন লিটন মাহমুদ। ওই সময়ে আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার জন্যও দলের চেয়ারম্যানের সুনজরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিন-লিটন কমিটির ওপরেই ভরসা করা হতে পারে।

এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনামসহ বেশ কয়েকজন।

কদমতলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবু নাসের ফকির সমকালকে বলেন, দলের দুর্দিনে তানভীর আহমেদ রবিন ও তাঁর পুরো পরিবার নেতাকর্মীদের জন্য ঢাল হয়ে ছিলেন। প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে রবিন নিজে মাঠে ছিলেন। এ জন্য তাঁকে অনেক ত্যাগ আর নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে শক্তিশালী মহানগর কমিটি গঠন অত্যন্ত জরুরি। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন না করলে নির্বাচনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

নিউমার্কেট থানা বিএনপির নেতা আব্দুল হাই বলেন, ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমন নেতাদের মূল্যায়ন করে মহানগর কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিতে পারে।

উত্তরে আলোচনায় আছেন যারা
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বর্তমানে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। তবে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ককে সরকারের মন্ত্রিসভায় ডেকে নিয়েছে দল।

সাফ গেমস বিজয়ী ফুটবলার আমিনুল হক ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই বছরের ২ আগস্ট গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৪৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি প্রথম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান। ওই সময় আহ্বায়ক ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান। পরে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাইফুল আলম নিরব আহ্বায়ক হলে তিনি আবার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৪ নভেম্বর ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে আমিনুল হককে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়।

মহানগর উত্তর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, আমিনুল হক গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের দায়িত্বে আসার পর থেকে সংগঠন অধিক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও সক্রিয় হন।

শুধু মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীই নন, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বলছেন, ঢাকা মহানগর কমিটি অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান কমিটি সেরা নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের নেতৃত্বে যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সুফল এসেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। কারণ তারা জানেন, কারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। ফলে মহানগর কমিটিতে তাদের নেতৃত্বে থাকা উচিত।

এ ছাড়াও মহানগর উত্তর বিএনপির আলোচনায় আছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, মহানগর বিএনপির নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, এবিএম আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ অনেকে।

কলেজ শিক্ষার্থীর তৈরি স্মার্ট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম উদ্ভাবিত স্মার্ট কার-এ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম। এ সময় তার বানানো ছোট বাহনটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল। ব্যাটারিচালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে এ টু আই স্মার্ট কার।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের ওই তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরও আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। পাশপাশি এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতকালে তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির পুরো গল্পটি শোনান ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই তরুণ জানান, এক সময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাইরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাইরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে কারটি বানানো শুরু করেন।

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

ওয়াকিমুল জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়াও প্রবীণরাও সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ওয়াকিমুলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গাজীপুর একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, গৃহকর্তা উধাও

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় কাপাসিয়ার সদর ইউনিয়নের রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। তিনি জানান, পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কাপাসিয়া থানা পুলিশের কয়েকটি দল কাজ শুরু করেছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫) মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং ফোরকান মিয়ার শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে সন্দেহভাজন ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পরিবারটি রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।

ওই বাড়িতে সকালে তিন শিশুর মরদেহ বসতঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রসুল মিয়ার মরদেহ খাটের ওপর এবং শারমিনের মরদেহ জানালার সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়।

কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুবাইর হোসেন জানান, প্রায় এক বছর ধরে প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এ ঘটনা ঘটেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিএনএনের বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় শান্তি আলোচনা পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা থেকে আদৌ কোনো সুফল আসবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি আসন্ন বলে দাবি করে আসছেন। তবে পরিস্থিতি সমাধানের দিকে যাচ্ছে না। ট্রাম্পের প্রধান দাবি ছিল, ‘ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে। তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ ট্রাম্পের এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ, এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প শুরুতে যা চেয়েছিলেন, তা পাচ্ছেন না। শুক্রবার সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি আসন্ন। তবে সর্বশেষ হামলা পাল্টা-হামলায় প্রতীয়মান হয়, আলোচনার টেবিলে থাকা সম্ভাব্য চুক্তিটি মূলত অগ্রগতি পায়নি। এই অবস্থার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। জরিপে তাঁর জনসমর্থন ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শান্তি আলোচনাটি একটি সংক্ষিপ্ত স্মারকলিপি বা সম্মতিপত্র তৈরিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে চাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অন্তত ১০ বছরের জন্য তা স্থগিত চান বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর চায় ওয়াশিংটন। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছিলেন, শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। তাঁর আরেকটি লক্ষ্য ছিল, যা অর্জন করা অসম্ভব ছিল। হয়েছেও তাই। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মিলে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর রাতে ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে, আপনারা ক্ষমতা দখল করে নিন। পরে যে সরকার হবে, তা আপনাদেরই হবে। এটাই পদক্ষেপ নেওয়ার মুহূর্ত, হাতছাড়া হতে দেবেন না।’ কিন্তু ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

ইরানের প্রক্সি শক্তি নির্মূলেও ব্যর্থতা 
মার্কিন প্রশাসনের আরেকটি লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা। গত ২ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যেন প্রক্সি শক্তিগুলোকে অস্ত্র, অর্থায়ন এবং নির্দেশনা দেওয়া চালিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তিতে রাজি হয়েছে। তখন তিনি সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, ইরান সব প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্পের এই দাবি অসত্য ছিল। সিএনএনসহ গণমাধ্যমে এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনার যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে প্রক্সি গোষ্ঠীর কোনো উল্লেখ নেই। সর্বশেষ গত বুধবার যখন ট্রাম্প পিবিএস নিউজকে একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে প্রক্সি গোষ্ঠীর কথা শোনা যায়নি।

কোনো যুদ্ধ প্রচেষ্টার পক্ষে তাঁর সব লক্ষ্য অর্জন করা বিরল। কিন্তু এটা লক্ষণীয় যে, ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্যগুলোর ব্যাপারে যতটা একরোখা ছিলেন, তাঁর প্রশাসন তত দ্রুতই সেগুলোর কয়েকটি পরিত্যাগ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রশংসার পাশাপাশি ইরানি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং তেহরানকে আত্মসমর্পণ করাতে ব্যর্থতা নিয়ে সেক্রেটারি পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করেন। জবাবে হেগসেথ বলেন, প্রেসিডেন্ট পিছু হটেননি। ইরানের জনগণ চাইলে তাদের সরকারকে এখনও উৎখাত করতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথম সরকার গঠন করল বিজেপি। সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরএন রবি।

আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শপথ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। মোদি পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার পাঁচ জনের নাম এখন পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন- দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু।

%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%20%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80 1778311435

কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিজেপি শাসিত ও বিজেপির জোট সরকারের ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মঞ্চে ছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, অভিনেতা ও রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমচাঁদ সিং, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর।

অনুষ্ঠান শুরুর তিন ঘন্টা আগে থেকে ব্রিগেড ময়দান ছিল বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা। এখানে ২১টি ঝালমুড়ির স্টল ও একাধিক মিষ্টির স্টল করা হয়। সকাল থেকে ওইসব স্টলে ছিল ভিড়। ভোটপ্রচারে গিয়ে ঝাড়গ্রামে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পর থেকে ঝালমুড়ি তাদের সফলতার উপকরণ মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।

%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20 %20%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE 1778313296

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৮০টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই (এম) ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট ১টি করে আসন পেয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ বাতিল হয়েছে একটি আসনের ভোট। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটের ফল প্রকাশ হয় ৪ মে।

শুভেন্দু অধিকারী এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে জোরালো করে।

হাওরে বিপর্যয়, চাপে পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তা

দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে শুধু বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওর জেলা দেয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে চলছে কৃষকদের বোবাকান্না। কারণ, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিস্তীর্ণ জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, ৮০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান তলিয়ে গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন অঞ্চলে। এতে জাতীয় সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাবছরের জন্যই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা রয়েছে। চালের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই দাম স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আড়াই লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত
গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সাতটি হাওর জেলায় প্রায় এক হাজার ১১০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ কৃষক। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, হাওর অঞ্চলের মোট কৃষিজমির ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টন বোরো ধানের উৎপাদন হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, হাওর অঞ্চলের প্রায় ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো হাওর অঞ্চলের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ এলাকা প্রতিবছরই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, আগাম সতর্কতা ও দ্রুত ধান কাটার কারণে এবার তুলনামূলক বেশি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।

সামান্য ক্ষতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে
বোরো ধানের চারা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে রোপণ করা হয়। এপ্রিল থেকে জুনে কাটা হয় পাকা ধান। মোট চাল উৎপাদনের ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে এই এক মৌসুম থেকেই। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলার হাওরে উৎপাদন হয় প্রায় ২০ শতাংশ। উৎপাদনের এই ঘনত্বের কারণে হাওরাঞ্চলে সামান্য ক্ষতি হলেও জাতীয় সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলে।

ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বোরো উৎপাদনও বেড়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বোরো উৎপাদন ছিল দুই কোটি এক লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই কোটি ১৩ লাখ টনে। আর চলতি মৌসুমে সরকার দুই কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সাত জেলার হাওরাঞ্চলের কৃষিজমির বিশাল অংশ এখন পানির নিচে। কোথাও ধান কাটার সুযোগই পাননি কৃষকরা। কোথাও কাটা হচ্ছে আধাপাকা ধান। কোথাও পানির নিচে থেকে ধান পচে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের গড় হিসাব বলছে, প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ দশমিক ৪৭ টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই লাখ টনের মতো উৎপাদন কমে যেতে পারে। আর যদি ৮০ হাজার হেক্টরের হিসাব ধরা হয়, তাহলে ঘাটতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠসেবা বিভাগের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হলেও হাওরাঞ্চলে উৎপাদনের ঘনত্ব বেশি। এ কারণে ক্ষতির প্রভাবও তুলনামূলক বেশি। গত মৌসুমে দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলা থেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরও দুই সপ্তাহ পর পরিষ্কার বোঝা যাবে ঠিক কী পরিমাণ ধান বাঁচানো গেল, আর কতটুকু নষ্ট হলো। সেই হিসাব অনুযায়ী সরবরাহ কমে গেলে ধান-চালের দাম বাড়তে শুরু করবে।
গত অর্থবছরে দেশে প্রায় দুই কোটি ১৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। আর চলতি মৌসুমে সরকার দুই কোটি ২৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু হাওরের এই ধাক্কা সেই হিসাবকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর আগে, ২০১৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের অকাল বন্যায় নষ্ট হয় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান। ওই বছর চালের দর রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পাঁচ বছর পর আঘাত হানে আগাম ঢল। যাতে ক্ষতির মুখে পড়ে সাত হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান। এতে চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮০ থেকে তিন কোটি ৮৫ লাখ টন। বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে প্রায় তিন কোটি ৭৭ লাখ টন। পরের বছরে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে তিন কোটি ৯১ লাখ টনে, ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান আরও বাড়বে। এক দশকের বেশি সময় ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি থাকলেও চলতি অর্থবছরেই দেশকে ১২ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছে।

দেশে প্রায় ১৩ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা স্বল্প মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা, ধান শুকানোর ব্যবস্থা, সরাসরি সংগ্রহ কার্যক্রমসহ ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

Arif Hazra 1778294923

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, হাওরের চাল দ্রুত বাজারে আসে এবং মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এই অংশে ঘাটতি মানে বাজারে প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি হওয়া, যা পরে বড় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই বোরো থেকে আসে। উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে। বাজারে চালের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চাল মজুত করতে শুরু করতে পারে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলবে।
তিনি আসন্ন আমন মৌসুমের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আগাম পরিকল্পনা না নিলে খাদ্য নিরাপত্তা আরও চাপে পড়তে পারে। আমন মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা, ফসল বহুমুখীকরণ এবং বিকল্প মৌসুমে প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

কৃষকের ত্রিমুখী সংকট
হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন। সেগুলো হলো– ধানের ক্ষয়ক্ষতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আর বাজারদর কমে যাওয়া। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানিতে নেমে কাঁচা ধান কাটছেন। কিন্তু এতে লাভ কম, ক্ষতি বেশি। কারণ, এই ধান থেকে ভালো চাল পাওয়া কঠিন। শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। যেখানে আগে একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল ৫০০-৬০০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২শ থেকে দুই হাজার টাকা। আগে দিনে তিন কাঠা জমির ধান কাটা যেত, এখন এক কাঠাও ঠিকমতো কাটা যাচ্ছে না। যান্ত্রিক হারভেস্টার ব্যবহারও সীমিত। যেগুলো চলছে সেগুলোর ভাড়া তিন থেকে চার গুণ হয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে ভেজা ধানের দাম কমে গেছে। মণপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা থেকে নেমে ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে বইছে। আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নতুন করে ৭৭ হাজার হেক্টরের বেশি ধানিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল বায়েস মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে বড় অস্থিরতা হয়তো হবে না, কিন্তু স্থানীয়ভাবে চাপ বাড়বে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে, যেখানে বোরোই প্রধান ফসল। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিজেদের চাহিদার জন্যও বাজারের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা স্থানীয় বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। এই সংকট সামাল দিতে শুধু ত্রাণ বা সহায়তা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত কৌশল। নির্ধারিত ক্রয়মূল্যের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যেন দুর্নীতি ‍ও হয়রানি ছাড়া তাদের ফসল বিক্রি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্রয়) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না। ফলে বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। খাদ্য অধিদপ্তর শুকনো ধান সরাসরি সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি মিল মালিকদের দ্রুত ধান কেনার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেন সরকার সর্বোচ্চ সংগ্রহ নিশ্চিত করতে পারে এবং মিলগুলো সচল থাকে।