Home Blog Page 98

রাজধানীর পশুর হাট ঝড়বৃষ্টিতে পশু-ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি, কাদায় সয়লাব হাট

ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাবনার সাথিয়ার মেওয়াপুর থেকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটে ১৩টি গরু এনেছেন ব্যাপারী মো. আলাউদ্দিন। কিন্তু দুদিনের ঝড়বৃষ্টির কারণে হাটের সামিয়ানা যেমন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, তেমনি পানি-কাদায় সয়লাব হয়ে গেছে পুরো জায়গাটা। এখন গরুগুলো যে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবে, সে অবস্থা নেই। গরুর খুব কষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যাপারীরও ভোগান্তির শেষ নেই।

আলাউদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে তীব্র
গরম থেকে স্বস্তি মিলেছে। গরমে পশুর হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু এখন দেখা দিয়েছে নতুন যন্ত্রণা।

এ চিত্র কেবল দিয়াবাড়ির হাটের পশু ব্যাপারীদের নয়, এটি রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটের। অনেক হাটে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পর্যন্ত এলাকাজুড়ে বসা পশুর হাটে। সেখানে হাটের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পশুগুলোকে দীর্ঘ সময় পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
হাটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান কেবি ট্রেডার্সের মালিক শামীম খান বলেন, জলাবদ্ধতা শুধু হাটকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, বরং পুরো নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প বসিয়েছে; পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে নামানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

ব্যাপারীরা জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে বেচাবিক্রি কম। ক্রেতারা হাটে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ জন্য গত দুদিনে তেমন পশু বিক্রি হয়নি। আজ ও আগামীকাল আবহাওয়া ভালো থাকলে বেচাবিক্রি জমবে।
কমলাপুর, কচুক্ষেত ও গাবতলী পশুর হাট ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভারী বৃষ্টিতে কাদাপানি মাড়িয়ে ক্রেতাদের হাটে ঢুকতে হচ্ছে। এ ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গতকাল অনেকেই হাটে ঢোকেননি।
হাটগুলো ঘুরে এবার প্রচুর পশু আমদানির চিত্র চোখে পড়েছে। ছোট-মাঝারি ও বড় আকৃতির গরুও উঠেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আকৃতির ছাগল, ভেড়া, মহিষও উঠেছে। ভুটানি জাতের কিছু গরু দেখা গেছে হাটে।

কমলাপুর পশুর হাটে ২৭ মণ ওজনের ‘প্রেসিডেন্ট’ নামের একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু এনেছেন ফরিদপুরের নগরকান্দার ব্যবসায়ী মতিউর রহমান। সেটার দাম চাইছেন ১২ লাখ টাকা। কিন্তু কেউ চাহিদামতো দাম বলেননি। হাটে পশু কিনতে যাওয়া শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘আমরা এক লাখ টাকায় একটি গরু কিনেছি, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার টাকা বেশি। তিন মণ মাংসও হবে বলে মনে হয় না।’

বিক্রেতারা বলেছেন, পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তবে দামে মিললেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগেই সব গরু বিক্রির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। তবে শঙ্কা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসলে গুনতে হবে লোকসান।

নজর কাড়তে পশুর হরেক রকম নাম 
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে উৎসুক মানুষের আকর্ষণ বাড়াতে খামারি ও ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর বিভিন্ন নাম রেখেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন, এমনকি আলোচিত-সমালোচিত রাজনীতিবিদ ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’ নামেও রাখা হয়েছে গরুর নাম।
পশু ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, এ রকম নাম রাখলে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। লোকজন ভিড় করে। দামও বাড়ে। এ জন্য তাঁর মহিষের নাম ‘ডিপজল’।

গরুর দাম বেশি 
খামারি ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। যে হাটগুলো বসছে সেখানে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। ছোট গরু হলেও লাখ টাকার নিচে তেমন গরু নেই। চার থেকে সাড়ে চার মণ মাংস হবে- এমন গরুর দাম দেড় লাখ টাকার ওপর হাঁকছেন বিক্রেতারা।
ধোলাইখাল পশুর হাটের ক্রেতা সুমন তালুকদার বলেন, এ বছর সব হাটেই গরুর দাম অনেক চড়া। যে গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চায়, সেটা আমার কাছে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা মনে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি গরুর দাম ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি বলছেন বিক্রেতারা।

সীমানা ছাড়িয়ে পশুর হাট
কতটুকু এলাকার মধ্যে পশুর হাট বসবে, সে বিষয়ে একটি চৌহদ্দি নির্ধারণ করে দেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু বেশিরভাগ ইজারাদারই সেই চৌহদ্দি মানেন না। যেমন তেজগাঁও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে কেবল হাট বসার কথা। কিন্তু সেই হাট এখন পুরো তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ওই এলাকার সড়কগুলো দিয়ে যান চলাচলই বন্ধ হয়ে গেছে।
একই অবস্থা দিয়াবাড়ি-বনশ্রী, ধোলাইখালসহ অন্যান্য হাটেও। গতকাল সোমবার ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নিজে দিয়াবাড়ি হাটে গিয়ে দেখেন নির্ধারিত এলাকার বাইরে আরও বিপুল এলাকাজুড়ে হাট বসানো হয়েছে। এমনকি উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে ডাইভারশন দিয়ে পশু বেঁধে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি দেখে প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোনোভাবেই যেন রাস্তায় পশুর হাট বিস্তৃত না হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন। পরে পশুগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসক ইজারাদারের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।

পরে ইজারাদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃষ্টির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কোরবানির পশু রাখা হয়েছিল। তারা ডিএনসিসির নির্দেশনা মেনে চলছেন এবং রাস্তায় যেন কোনোভাবেই পশু না রাখা হয় সে ব্যবস্থাও নিচ্ছেন।

এর আগে গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে যান ডিএনসিসি প্রশাসক। এ সময় হাসিলের অতিরিক্ত কোনো ধরনের অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি পশুর হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে রাজধানীর ৩০০ ফিট, বেরাইদ ও স্বদেশ প্রপার্টিজের খালি জায়গায় স্থাপিত অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শন করেন তিনি।

পাকিস্তান সিরিজ শেষ মার্শের, অনিশ্চিত বাংলাদেশ সফরও

পাকিস্তান সফরের ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মিচেল মার্শ। এতে আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ সফরেও তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্শের অনুপস্থিতিতে এই দুই সফরে অজি দলকে নেতৃত্ব দেবেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জশ ইংলিস। নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও সহ-অধিনায়ক ট্রাভিস হেড আইপিএল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই সফরে নেই।

আইপিএলে লক্ষ্ণৌর হয়ে খেলা মার্শ গত ১৯ মে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেই দেশে ফিরে যান। ৩০ মে থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজে তার অজিদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। তবে চোটের কারণে তিনি পাকিস্তানের বিমানে ওঠেননি। ফলে ৯ জুন শুরু হতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও তার খেলা এখন শঙ্কায়।

মার্শের এই ছিটকে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা। আইপিএলের শেষ চার ইনিংসে ১১১, ১০, ৯০ ও ৯৬ রান করে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মার্শ ও হেডই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দের ওপেনার। পাকিস্তান সফরে হেড ও মার্শ কেউই না থাকায় এখন বিকল্প ওপেনার খুঁজতে হচ্ছে নির্বাচকদের।

মার্শের বদলি হিসেবে এখনও কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে আইপিএল থেকে দেশে ফেরা তরুণ কুপার কনোলিকে পাকিস্তানে পাঠানো হতে পারে। বাংলাদেশ সিরিজের স্কোয়াডে অবশ্য কুপার কনোলি, জাভিয়ার বার্টলেট, বেন ডোয়ারশুইস ও ট্রাভিস হেড চারজনকেই রাখা হয়েছে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে আজ বুধবার। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াতেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ইসলাম ধর্মমতে, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, আদরের ধন পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন ইব্রাহিম (আ.)। পিতার এই সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেন পুত্র ইসমাইল (আ.)।

এরপর ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির প্রস্তুতি নেন পিতা ইব্রাহিম (আ.)। কিন্তু আল্লাহতায়ালা ইব্রাহিমের (আ.) কঠোর আনুগত্য ও ত্যাগকে গ্রহণ করেন। ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে কোরবানি হয় একটি দুম্বা। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার স্মরণে মুসলমানরা প্রতি বছরের ১০ জিলহজ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে কোরবানি করেন।

সৌদি গেজেট জানায়, হজের মূল রুকন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর লাখো হজযাত্রী মুজদালিফায় পৌঁছেছেন। তালবিয়া পাঠ করতে করতে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে তাঁরা সেখানে রাত যাপন করেছেন। আজ স্থানীয় সময় ফজরের নামাজের পর হাজিরা মিনায় গিয়ে জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

কোরবানির দিন আজ হাজিরা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। এগুলো হলো— জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা, পশু কোরবানি, তাওয়াফে ইফাদা এবং সাঈ সম্পন্ন করা।

হজযাত্রীদের গ্রহণে মুজদালিফায় আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঈদের আগে গতকাল হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ পালন করেন হাজিরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ মুসল্লি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। ইহরাম পরিহিত হাজিদের দোয়া, তওবা ও ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রচণ্ড গরম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক বার্তাও প্রচার করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে যে ভুলগুলো করেন অনেকেই সামান্য অসতর্কতায় বাড়তে পারে দুর্গন্ধ, খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি

কোরবানির ঈদে ঘরে সবচেয়ে বড় ব্যস্ততার একটি হলো মাংস সংরক্ষণ। কিন্তু প্রতি বছরই একই ধরনের কিছু ভুলের কারণে অনেক পরিবারকে পরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কখনো ফ্রিজে জায়গা সংকট, কখনো দুর্গন্ধ, আবার কখনো মাংস ঠিকমতো না জমার মতো সমস্যায় নষ্ট হয় স্বস্তি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির মাংস সংরক্ষণে বেশির ভাগ সমস্যার পেছনে থাকে কিছু সাধারণ অসতর্কতা। সামান্য পরিকল্পনা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এসব ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্রিজ না গুছানো
সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি হলো ঈদের আগ পর্যন্ত ফ্রিজ না গুছানো। অনেকের ফ্রিজেই পুরোনো ফ্রোজেন খাবার, আধখাওয়া আইসক্রিম বা অচেনা বক্স জায়গা দখল করে থাকে। ফলে কোরবানির মাংস রাখার সময় হঠাৎ করেই জায়গা সংকট তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঈদের অন্তত এক-দুই দিন আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা উচিত।

মাংস সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া
অনেকে কাটা মাংস প্যাকেট করেই দ্রুত ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং অন্য খাবারও প্রভাবিত হতে পারে। মাংস কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর প্যাকেট করে ফ্রিজে রাখলে সংরক্ষণ নিরাপদ হয়।

অতিরিক্ত গাদাগাদি করে রাখা
ফ্রিজে যতটা জায়গা আছে, তার চেয়ে বেশি মাংস গুঁজে রাখার প্রবণতা খুবই সাধারণ। কিন্তু এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে কিছু প্যাকেট শক্ত হয়ে জমে গেলেও কিছু অংশ আধা-গলা অবস্থায় থেকে যায়। এতে মাংস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ফ্রিজের কুলিং সিস্টেমের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

সব ধরনের মাংস একসঙ্গে মিশিয়ে রাখা
অনেকেই কিমা, হাড়সহ মাংস, কলিজা বা নেহারি আলাদা না করে একসঙ্গে প্যাকেট করেন। পরে প্রয়োজনের সময় কোন প্যাকেটে কী আছে, সেটাই আর মনে থাকে না। এ কারণে মাংস আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্যাকেট করা ভালো। প্যাকেটের ওপরে নাম লিখে রাখলে আরও সুবিধা হয়।

পাতলা বা নিম্নমানের ব্যাগ ব্যবহার
বাজারের পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগে মাংস রাখলে তা বরফের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। পরে টানতে গেলে ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপানি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। মোটা ও ফ্রিজ-উপযোগী ব্যাগ বা জিপ-লক ব্যবহার করলে এই ঝামেলা কমে।

সমতলভাবে প্যাকেট না করা
বড় গোলাকার ব্যাগে গুঁজে মাংস রাখলে তা জমতে বেশি সময় লাগে। আবার ফ্রিজে স্তূপ করেও রাখা কঠিন হয়। পাতলা ও সমানভাবে ভাগ করে প্যাকেট করলে মাংস দ্রুত জমে এবং জায়গাও কম লাগে।

লিকেজ পরিষ্কার না করা
ঠিকমতো না জমলে প্যাকেট থেকে রক্তপানি বের হয়ে ফ্রিজের ট্রেতে জমে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। ফ্রিজের নিচে ট্রে, খবরের কাগজ বা প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করলে পরিষ্কার করা সহজ হয়।

বারবার ফ্রিজ খোলা
ঈদের সময় প্রায়ই দেখা যায়, কেউ না কেউ কিছুক্ষণ পরপর ফ্রিজ খুলে দেখছেন সব ঠিক আছে কি না। কিন্তু বারবার ফ্রিজ খোলা হলে ভেতরের তাপমাত্রা ওঠানামা করে, যা মাংস দ্রুত জমতে বাধা দেয়। যে প্যাকেটগুলো বেশি ব্যবহার হবে, সেগুলো সামনে রাখলে অযথা পুরো ফ্রিজ ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা ও পরিকল্পনাই কোরবানির মাংস দীর্ঘ সময় নিরাপদ ও ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ঈদে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন খোকন মিয়া

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকার পুরস্কার জিতেছেন ময়মনসিংহের ভালুকার বাসিন্দা খোকন মিয়া। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মিলিয়নিয়ার হওয়ায় আনন্দে ভাসছে তার পরিবার। রোববার রাজধানীতে ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খোকন মিয়ার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন চিত্রনায়ক আমিন খান এবং ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের হেড অব সেলস মো. ফিরোজ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ফ্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার তাহসিনুল হক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর শোরুম ‘হক এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী এনামুল হক প্রমুখ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ৮ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’-এর আওতায় ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন ও বিএলডিসি ফ্যান কিনে ‘আবারও মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

এই ক্যাম্পেইনে ইতোমধ্যে ছয়জন ক্রেতা ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার পেয়েছেন। খোকন মিয়ার পাশাপাশি রাজধানীর দক্ষিণখানের মাহমুদুল হাসান, নাটোরের আফরোজা বেগম, বান্দরবানের সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের কুদ্দুস হাওলাদার ও নরসিংদীর তাহমিনা আক্তারও মিলিয়নিয়ার হয়েছেন।

চেক গ্রহণ শেষে খোকন মিয়া বলেন, ‘ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পাবো এটা যেন স্বপ্নের মতো লাগছিল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা হাতে পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। এই টাকা দিয়ে আমার স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করবো।’

ওয়ালটনের ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান মো. ফিরোজ আলম বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় ওয়ালটন আজ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ক্রেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ওয়ালটনের বিভিন্ন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। ওয়ালটনের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

হজের মূল কার্যক্রম শুরু, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান সমবেত ১৬ লাখের বেশি মুসল্লি

পবিত্র হজের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে লাখো মুসল্লির সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে। আজ মঙ্গলবার ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পূর্বেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সমগ্র আরাফাত প্রান্তর।

ভোর থেকেই হাজিরারা ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মগ্ন রয়েছেন। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান ফরজ এবং হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

এর আগে সোমবার মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর হাজিরারা মিনার তাঁবু নগরী থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আজ মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরারা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।

সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা মুজদালিফায় গমন করবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপনের পর মিনায় ফিরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও কাবা শরিফে তাওয়াফসহ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধিত হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী। এছাড়া সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজিদের অংশগ্রহণে আরাফাতে উপস্থিত মুসল্লির সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়’কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই প্রান্তরেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন।

রাজধানীতে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি, ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি

রাজধানী ঢাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

এছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কনভেনশন সেন্টারসহ বেশ কিছু জায়গাতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কনভেনশন সেন্টারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গাতে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে জামাতে আদায় করা হয় ঈদের নামাজ। এতে অংশ নেন কয়েকশ মুসল্লি।

এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই রেওয়াজ মেনে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন স্থানীয় কিছু মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক নারী ও পুরুষ মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের জামাতের ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী। জামাত শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া পটুয়াখালীতে ৩৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছে। আবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে সাড়ে ৭টার দিকে গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মিজানুর রহমান। নারী ও শিশু মুসল্লিরাও এতে অংশ নেন। মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এ জামাতে গাবতলীসহ কাহালু ও ধনুট উপজেলা থেকেও কিছু সংখ্যক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। বৈরী আবহওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এবারে জামাত খোলা মাঠের অনুষ্ঠিত না হয়ে মসজিদের ভেতরে অর্ধশত মুসল্লি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, আবহাওয়া কারণে অনেকে এবারে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলীতে এটি ছিল ৪র্থ বারের মতো আগাম ঈদ উদযাপন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আয়োজকদের দাবি, বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সে অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করা উচিত। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।

এদিকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

তিনি লেখেন, ‘ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্যাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।’

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কো রবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা আজ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

এরপর দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।