Home Blog Page 98

আসামে ফের বিজেপি, পালাবদল কেরালায়, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমক

ভারতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এল চমকের পর চমক। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি অন্য দুই রাজ্যও সাক্ষী থাকল পালাবদলের। আসামে বিজেপিই থাকল, তবে আরও শক্তিশালী হয়ে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে মসনদ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আবার সফল হলো ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামে ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পেয়েছে ৯২টিতে। কংগ্রেস পেয়েছে ২১টি; এআইইউডিএফ ২টি ও অন্যরা ১১টি আসনে জয়ী হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের ৩৫ মন্ত্রীর ২২ জনই হেরেছেন নিজ আসনে, তালিকায় মমতাও

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির সরকারে থাকা ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৬৩ শতাংশ মন্ত্রীই ভোটে জিততে পারেননি।

পরাজিতদের তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। কলকাতার ভবানীপুর আসনে তিনি পরাজিত হয়েছেন।

নাহিদ রানার গতি নিয়ে বাবরকে সতর্ক করলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার

রোববার রাতে পিএসএল ফাইনালে যেন আগুনের গোলা ছুড়ছিলেন নাহিদ রানা। হায়দরাবাদ কিংসমানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৯ বছরের দীর্ঘ শিরোপা খরা ঘুচিয়েছে পেশোয়ার জালমি। আর এই রাজকীয় জয়ে বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানা। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করা এই পেসারের গতি দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত সবাই। সতীর্থ অ্যারন হার্ডি তো হেসেই বললেন, আসন্ন টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজম হয়তো এই গতির মুখে পড়তে চাইবেন না।

ফাইনালের মঞ্চে নাহিদ রানার ৪ ওভারের স্পেলে একটি ছিল মেইডেন। তার প্রতিটি ডেলিভারিই ব্যাটারদের জন্য ছিল আতঙ্কের নাম। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে মাঠে এসেই নাহিদ রানাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি। বাংলাদেশি এই পেসারের পিঠ চাপড়ে দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। ম্যাচশেষে নাহিদ রানা পান ‘সুপার পাওয়ার অব দ্য ম্যাচ’ স্বীকৃতি।

ম্যাচসেরা অ্যারন হার্ডি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে মাত্র তিন দিন আগে বিমান থেকে নামল এবং আজকেও দুর্দান্ত গতিতে বল করল। করাচিতে যখন সে ১৫১ কিমি গতিতে বল করছিল, তখন ব্যাটারদের সেটা এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’

আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে ইঙ্গিত করে হার্ডি আরও বলেন, ‘আমি জানি, এক সপ্তাহ পরেই তার টেস্ট ম্যাচ আছে। এটাও জানি যে, বাবর সম্ভবত তার মুখোমুখি হতে চাইবে না। তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, সে বিশ্বের যেকোনো প্রতিযোগিতায় ঘুরে ঘুরে খেলছে; তার মতো মাপের একজন খেলোয়াড়কে সবাই সানন্দে গ্রহণ করবে।’

ফাইনালে শিরোপা জেতার পর নাহিদ রানা বলেন, ‘আমি এটি সত্যিই উপভোগ করলাম। গত বছর আমি এসেছিলাম কিন্তু খেলিনি। এ বছর আমি এসেছি এবং এটি সত্যিই উপভোগ করেছি। আমি কেবল আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম এবং দলের জন্য এমন পারফর্ম্যান্স করতে চাইছিলাম, যা একটা বড় প্রভাব রাখে। আমি আমার পারফরম্যান্সে সে লক্ষ্যটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, তাই আমি খুশি।’

সিংড়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও ছেলে গ্রেফতার

নাটোরের সিংড়ায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী শিউলি বেগম ও ছেলে সাইফুদ্দিন সিদ্দিক ওরফে রয়েল (১৯) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে ওই ব্যবসায়ীর নিজ শয়ন কক্ষ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যবসায়ী একই গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।

সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবার একযোগে ৪৫ কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলা ও মহানগরে এসব কমিটি দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার মধ্যরাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এসব কমিটিতে জায়গা হয়নি অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর। এতে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন। রাজধানীর নয়াপল্টনসহ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেছেন বঞ্চিতরা।

দুই বছরে দেশে গরু-ছাগল কমেছে সাড়ে ৬ লাখ

দুই বছরের ব্যবধানে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা কমেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৭টি। ২০২৪ সালে যেখানে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি, সেখানে চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টিতে। দুই বছরে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা এত কমে যাওয়ার ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। খামারিরা বলছেন, কেন পশুর সংখ্যা কমছে, এর কারণ বের করা দরকার।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহের বিষয় তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এবার কোরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।

গত বছর কোরবানির হাটের জন্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৫১২টি অন্য প্রজাতির। গত বছর ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি কোরবানির পশু অবিক্রীত ছিল।

২০২৪ সালে কোরবানির পশু প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। ২০২৩ সালে প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়। ২০২১ সালে করোনাকালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।

তবে দেশে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার আগে যে পরিমাণ পশু কোরবানি হতো, তা এখন হয় না। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০১৬ সালে ৯৮ লাখ ১৩ হাজার পশু কোরবানি হয়। এরপর থেকে ক্রমাগত বেড়ে ২০১৭ সালে ১ কোটি ৪ লাখ, ২০১৮ সালে ১ কোটি ৬ লাখ, ২০১৯ সালে দেশে ১ কোটি ৬ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। করোনা দেখা দিলে ২০২০ সালে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার পশু কোরবানি হয়। ২০২১ সালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোরবানি হয় ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু। প্রায় ২৮ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়নি। গত বছর কোরবানি হয় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু।

চুয়াডাঙ্গা সদরের খামারি আব্দুর রহমান বলেন, করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গবাদিপশুর দানাদার খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এখনও খামারিরা বাড়তি দামেই দানাদার খাদ্য কিনে পশুকে খাওয়াচ্ছেন। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম, শ্রমিক খরচসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে কোরবানিযোগ্য পশুপালন অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর পার্বতীর কৃষক মাহফুজুল হক জানান, বেশি দামে খাদ্য কিনে গরু পালন করে লাভ হচ্ছে না। ফলে গরু পালন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। সেসব কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এই হিসাব তৈরি করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মূলত পশু কোরবানির হিসাব করে থাকে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, স্তরায়িত দৈব নমুনায়নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে এবারের হিসাব করা হয়েছে। প্রতি উপজেলার অন্তত ১ শতাংশ নমুনা সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে হিসাবটি। যেমন– এক উপজেলায় ১০০টি গ্রাম থাকলে এর মধ্যে অন্তত একটি গ্রামে কোরবানি দেওয়া পশুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির পশু পালনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের অনেকেরই লোকসান হয়েছে। এর কারণ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ কারণে মাংস ও পশুর দাম বাড়ছে। এতে উৎপাদিত গরু-ছাগলের একটা অংশ ঈদে অবিক্রীত থাকছে। এ জায়গায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পশুখাদ্য ও পশুর ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তবে পশুর সংখ্যা কমলেও কোরবানি ঘিরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঈদুল আজহা ঘিরে দেশে যে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়, তা কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনে রূপ নেয়। যার প্রভাব পড়ে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে শহরের বাজার পর্যন্ত। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতিবছর ৭০-৮০ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০২৫ সালে দেশটিতে কোরবানির পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৪ লাখ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ লাখ ৫৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বিপুল হলেও কোরবানির বাজারের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে ছোট। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে কোরবানির সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ পশু জবাই হলেও দেশটি মূলত আমদানিনির্ভর। সুদান, সোমালিয়া ও ব্রাজিল থেকে বড় অংশের পশু সরবরাহ করা হয়। তুরস্কে গত ঈদে প্রায় ৩৮ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে, আর মিসরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির বড় শক্তি হলো এর বিস্তৃত গ্রামীণ সংযোগ। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম পশু পালনের সঙ্গে যুক্ত, ফলে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া মৌসুমি হলেও এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়। যেমন– হাট পরিচালনা, পরিবহন, পশু পরিবহন শ্রমিক, চামড়া সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ, পশুখাদ্য সরবরাহ ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থনীতি মূলত একটি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ তৈরি করে, যেখানে শহরের অর্থ গ্রামে প্রবাহিত হয় এবং গ্রামীণ আয় নগর বাজারে ফেরত আসে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিসহায়তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে কোরবানিকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি আরও বড় পরিসরে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ছোট খামারি ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, বাজার সংযোগ এবং পশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।

ছোট ঋণে খেলাপির ৬৮ শতাংশ ১০ ব্যাংকে

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৯ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা এ খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। অথচ ব্যাংক খাতের মোট সিএমএসএমই ঋণের ৩৮ শতাংশের কম রয়েছে এসব ব্যাংকে। এই ব্যাংকগুলোর উচ্চ খেলাপির প্রভাবে পুরো ব্যাংক খাতে ছোট ঋণের খেলাপির হার অনেক বেড়েছে। মোট ঋণে এসএমইর অংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু তা না বেড়ে আরও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় এসএমই নীতির আলোকে ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল নাগাদ ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ এ খাতে দেওয়ার কথা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ বাড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থান বাড়ানো। উন্নয়নশীল দেশগুলো সব সময়ই এ ধরনের খাতে বেশি জোর দিয়ে থাকে। বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করেছে। এ জন্য বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোট ঋণে সিএমএসএমইর অংশ কমছে
মোট ঋণে সিএমএসএমই খাতের অংশ না বেড়ে ধারাবাহিকভাবে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে দেওয়া হয়েছে তিন লাখ এক হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ঋণের ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল এ খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএমই ঋণ বাড়াতে নানা নির্দেশনা দিয়ে আসছে। তবে ব্যাংকগুলো কম কষ্টে বেশি মুনাফা করার আশায় সব সময়ই করপোরেট ঋণে বেশি আগ্রহ দেখায়।  কিন্তু বড় ঋণ দিয়ে অনেক ব্যাংক ঝামেলায় পড়েছে। তা আদায় না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তারা জানান, সিএমএসএমই খাতে উৎসাহিত করতে গত ডিসেম্বরে কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখার শর্ত শিথিল করা হয়। এ জাতীয় সাধারণ ঋণ ও দুই মাস পর্যন্ত বকেয়া ঋণে (এসএমএ) বিপরীতে দশমিক ৫০ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। এর আগে এটি সাধারণ ঋণে ১ ও এসএমএতে ৫ শতাংশ ছিল। এ ছাড়া বিনা জামানতে নারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং অন্য ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই এমন ব্যবসায়ীরা যে কোনো ব্যবসা-সংক্রান্ত সনদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এরপরও ব্যাংকগুলো সিএমএসএমই ঋণের চেয়ে করপোরেট খাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ দেখায়।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মানে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি। মূলত বড় করপোরেট গ্রুপের প্রভাবে ব্যাংক খাতের খেলাপি এ পর্যায়ে উঠেছে। ১০টি ব্যাংকের উচ্চ খেলাপির পরও ব্যাংক খাতের মোট খেলাপির তুলনায় সিএমএসএমই খাতে খেলাপির হার অনেক কম। অনেক ভালো ব্যাংকের এসএমইতে খেলাপি ঋণ খুব সামান্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশের শীর্ষ এসএমই ব্যাংক ব্র্যাকের এ খাতে মোট ঋণ রয়েছে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণ মাত্র ৬৬৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের মাত্র ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

খেলাপি ঋণে শীর্ষ ১০ ব্যাংক
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ৭২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ দশমিক ৩০ শতাংশ রয়েছে শীর্ষ ১০ ব্যাংকে। সিএমএসএমই ঋণের পরিমাণে বিবেচনায় খেলাপি সবচেয়ে বেশি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে। এ খাতে ব্যাংকটির ২৯ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের ১১ হাজার ৪২ কোটি টাকা এসএমই ঋণের বিপরীতে ৫ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। এ খাতে সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ঋণের ৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা খেলাপি।
পরিমাণ বিবেচনায় সিএমএসএমই খাতে খেলাপি ঋণে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ৫ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৪ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

এর পরের অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সিএমএসএমই ঋণের তিন হাজার ৮৯১ কোটি টাকা খেলাপি। এ ছাড়া এসআইবিএলের ৪ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা ঋণের ৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

পদ্মা ব্যাংকের তিন হাজার ৩৭১ কোটি টাকার মধ্যে তিন হাজার ২১৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আর এ খাতে এক্সিম ব্যাংকের ৫ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা ঋণের ৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষকরা আশ্বাস পান, তবে বৈষম্য কাটে না

সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলোর অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকরা তিন দশকের বেশি সময় ধরে এমপিও সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এই বঞ্চনার অবসানে গত বছর সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। দাবি আদায়ে শিগগিরই নতুন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হলেও এসব কোর্সে নিয়োজিত অধিকাংশ শিক্ষক মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) ব্যবস্থার বাইরে আছেন। বর্তমানে দেশের ৪১৪টি কলেজে কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আসেননি।

সূর্যাস্তের পরে জিতবেন, ওয়েট অ্যান্ড সি: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি ১৯০ আসনে এগিয়ে। এ অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মী ও কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, নিজেদের এগিয়ে থাকার ফলাফল আগে প্রকাশ করাটা বিজেপির একটি চাল।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তবে বর্তমান মূখ্যমন্ত্রী মমতা বলছেন, ‘পুরোটাই মিথ্যা নিউজ প্রচার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইচ্ছে মতো খেলছে। সুতরাং কাউন্টিং এজেন্ট ও কর্মীদের বলব, মন খারাপ করবেন না। আমি আগেও বলেছিলাম সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন থেকে চার রাউন্ড কাউন্ট হলেও এটা ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড পর্যন্ত কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি।’

পুড়ল ৮ দোকান, কোটি টাকার ক্ষতি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাতের আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে আটটি দোকান। এতে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি।

পুড়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয়টি জুতার দোকান, একটি ওষুধের ও অপর উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত ভাই ভাই সুজের মালিক বাদশা মিয়ার ভাষ্য, তাঁর দোকানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালপত্র ছিল। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ফোনে আগুন লাগার খবর পান। বাজারের কাছে বাড়ি হওয়ায় আত্মীয়স্বজন নিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে এসে দেখেন আগুন ছড়িয়ে গেছে কয়েকটি দোকানে। সবার সহায়তায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

একই সময়ে আগুন লাগার সংবাদ পান পায়ে পায়ে সুজের মালিক মুক্তার হোসেন। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে দোকানের কাছে আসতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে যায়। তিনি এসে দেখেন, সবাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তবে তার দোকানের প্রায় ২০ লাখ টাকার মালপত্র পুড়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করা যায়নি।

আত্মীয়দের কাছ থেকে সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পান সাধনা মেডিকেলে মালিক বিপুল চন্দ্র দাস। তাঁর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বাজারের পাশে হওয়ায় তারা দ্রুত চলে আসেন। বাড়ি থেকে নদী পাড়ি দিয়ে আসতে এই ব্যবসায়ী সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। তাঁর দোকানে ওষুধ ছিলো প্রায় ৮ লাখ টাকার। প্রায় ৬ লাখ টাকার ওষুধ পুড়ে যায়। দুই লাখ টাকার পণ্য রক্ষা পেয়েছে।

বাজিতপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পান। তাদের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও পুলিশের সহায়তায় রাত ২টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তবে তিন কোটি টাকার মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।