কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেল জার্মানি

0
4

ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ‘মিনেইরাজো’ ট্র্যাজেডি এখনও দগদগে। সেদিন বেলো হরিজন্তের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানি। এক যুগ পর বিশ্বমঞ্চে আবারও সেই ঐতিহাসিক ‘সেভেন আপ’ স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি ঘটাল ডাই ম্যানশাফটরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ ব্যবধানে ভাসিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। এই জয়ের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে জার্মানি।

চলতি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে ২৩৭ গোল নিয়ে তালিকার চূড়ায় বসে ছিল ব্রাজিল। ৫ গোল পিছিয়ে ২৩২ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল জার্মানি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল মাত্র ১টি গোল করায় জার্মানির সামনে সুযোগ আসে রেকর্ড ভাঙার। কুরাসাওয়ের জাল গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের মোট গোলসংখ্যাকে ২৩৯-এ নিয়ে গেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২৩৮ গোল নিয়ে ব্রাজিল এখন দ্বিতীয় স্থানে। আর ১৫২ গোল নিয়ে অনেক পিছিয়ে তিনে আছে আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত ২১টি বিশ্বকাপে ১১৩ ম্যাচ খেলে ২৩৯ গোল করল জার্মানি, যেখানে ২৩টি আসরে ১১৫ ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল।

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় জার্মানি। যা চলতি আসরের এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার গ্যালারির ৬৮ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। যা কিনা কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে একদমই সময় নেয়নি জার্মানি। ৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের গোলে আবার এগিয়ে যায় তারা। আর প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তেপেনাল্টি থেকে কাই হাভার্টজ জাল কাঁপালে ৩-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে বলতে গেলে একপেশে খেলেছে জার্মানি। ৭১ শতাংশ বলের দখলে রেখেছে তারা। ১৬ বার প্রতিপক্ষের দুর্গে হানা দিয়েছে। নিশানায় শট নিয়েছে ৫টি। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে ৪টি শট। মুহুর্মুহু আক্রমণে রণক্লান্ত হয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন কুরাসাও খেলোয়াড়রা।

বিরতি থেকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফেরে জার্মানি। গোলের বন্যা বয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে স্রোতের মতো আক্রমণ হানে। ৪৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিং দেন তিনি। ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান ৫-১ করেন লেফট ব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। জার্মানির গোলের তোড়ে বানের জলের মতো ভেসে যায় কুরাসাও। জার্মানির পক্ষে ৬ নম্বর গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান হয় ৬-১। ম্যাচের শেষভাগে কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে জার্মানির ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়ার স্মৃতি ফেরাল জার্মানি।

গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে নামবে কিছুটা চাপে থাকা ব্রাজিল। সেই ম্যাচে বড় জয় পেলেই আবার জার্মানিকে টপকে শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে ভিনিসিয়ুসদের। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্যদিকে, আগামী শনিবার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে উড়তে থাকা জার্মানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here