জুলাই শহীদের মা এমপি হচ্ছেন জামায়াতের মনোনয়নে শরিকদের ছাড়া হলো তিনটি আসন

0
4

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশু শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে যাচ্ছেন। জোটের শরিক এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত, জাগপাকেও একটি করে আসন ছেড়েছে জামায়াত।

এতে এনসিপির নারী এমপির সংখ্যা হবে ২। ভাগে ১২টি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও জুলাই শহীদ পরিবার এবং  শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়ায় জামায়াতের পদধারী নেত্রীদের মধ্যে সাতজন এমপি হতে পারছেন।

জামায়াত এককভাবে ৬৮ আসন পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফতের দুই এমপি ও খেলাফত মজলিসের এক এমপি জামায়াতের সঙ্গে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছয় আসন পাওয়া এনসিপির এমপিরা আলাদা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সংসদের প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের জন্য একটি নারী আসন পায় রাজনৈতিক দল ও জোট। এ হিসাবে জামায়াতের ১২টি ও এনসিপির একটি নারী আসন পাওয়ার কথা।
আজ মঙ্গলবার নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। সোমবার সন্ধ্যায় মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জোটের ১৩ নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। একাধিক প্রার্থী না থাকায় মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ঘোষিত প্রার্থীদের সবার এমপি হওয়া নিশ্চিত।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, শহীদ পরিবারকে সম্মান করে একজন শহীদজননীকে সংসদে পাঠানো হচ্ছে। জামায়াত প্রতিশ্রুতি রেখেছে। ১১ দলীয় ঐক্যের কাছে মুখ্য হলো প্রাপ্যতা ও  সমঝোতা। তাই এনসিপি, জাগপা ও খেলাফতকে একটি করে আসন ছাড়া হয়েছে সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষায়।
দলীয় নেত্রীদের কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে– প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের মনোনয়ন পদ্ধতি আলাদা। এখানে কেউ এমপি হতে চেয়ে আবেদন করেন না। তৃণমূল ও নারী বিভাগের মতামতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংসদে নারী এমপিরা ১১ দলের পক্ষেই ভূমিকা রাখবেন জানিয়ে হামিদুর রহমান বলেছেন, একসঙ্গে পথচলা শুরু করেছি। একসঙ্গে দেশ গড়ব। মূল লক্ষ্য শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন, সংসদে নারীর পক্ষে কথা বলা, নারীদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা।

জুলাই শহীদের মা এমপি
ছয় বছর বয়সী জাবির ইব্রাহিম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়। উত্তরার কেসি মডেল স্কুলের নার্সারির ছাত্র জাবির সেদিন বাবা কবির হোসাইন এবং মা রোকেয়া বেগমের সঙ্গে মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারায়।

রোকেয়া বেগম পেশায় গৃহিণী। জুলাই শহীদদের জীবনী অনুযায়ী, ছোট্ট জাবির শিক্ষার্থীদের মিছিলে অংশ নিতে উদগ্রীব ছিল। রোকেয়া সন্তানদের নিয়ে ৫ আগস্টের লংমার্চে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। শেখ হাসিনার পতনের পর সন্তান নিয়ে বিজয় মিছিলে যোগ দেন। তখন পূর্ব থানা থেকে পুলিশ গুলি করলে মায়ের হাত ধরা জাবির গুলিবিদ্ধ হয়। তার ঊরুতে গুলি লাগে। রক্তাক্ত জাবিরকে কোলে করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। রক্ত জোগাড় হলেও ক্রস ম্যাচ না হওয়ায় সন্ধ্যায় মারা যায়।
পুত্রহারা রোকেয়া বেগম এমপি হতে যাচ্ছেন। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন বিভাগের সেক্রেটারি সাবিকুন নাহার মুন্নি, প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সাবেক সেক্রেটারি মাহফুজা সিদ্দিকা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য সাজেদা সামাদ ও শামছুন্নাহার নাহার। এ ছাড়া মনোনয়ন পেয়েছেন নারী অধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠনের নেতা এবং ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ।

এনসিপির মনিরা ও মিতু তালিকায়
জামায়াত জোট থেকে এমপি হতে যাচ্ছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন। জামায়াতের ভাগ থেকে সংসদে যাচ্ছেন ডা. মিতু।
সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসনে প্রার্থী ছিলেন মিতু। পরে তিনি জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তখনই সমঝোতা হয়েছিল, জোট থেকে তিনি নারী আসনে পরে মনোনয়ন পাবেন।

আসন পাচ্ছে খেলাফত ও জাপগা 
সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের জোটে থাকলেও জাপগাকে কোনো আসন ছাড়া হয়নি। জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান। এর প্রতিদান হিসেবে তাঁর বোন তাসমিয়া প্রধানকে নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। জামায়াতের সমর্থনে একটি আসন পাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here