ফ্যাসিবাদ বিলোপে সংস্কারের অধ্যাদেশগুলোকে বাদ দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে সোমবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতারা।
দলটির এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের বিদায়ের পরে জনগণ আইনের শাসন ও সংস্কার নিশ্চিত করতে যে বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছিল, সেসব অধ্যাদেশই বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা হয়েছে।
মন্ত্রীরা বলেছেন, যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। জামায়াত এ প্রতিশ্রুতিতে কেন ভরসা রাখছে না প্রশ্নে নাজিবুর রহমান বলেছেন, বিএনপি বহু বছর বলেছে ঈদের পর আন্দোলন করবে। সেই ঈদ কখনও আসেনি। এখন চাপে পড়ে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিল যাচাই-বাছাই করে সংসদে আনার কথা বলছে। কবে আনবে বলছে না। ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হবে কিনা–এটিই জাতির প্রশ্ন।
গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে সংজ্ঞা, শাস্তির বিধান ঠিক নেই–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে শিশির মনির বলেন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে গুমের যে সংজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের যে সংজ্ঞা দুটি একই। এজন্য সরকার এটি বাদ দিচ্ছেন–এই বক্তব্য মিথ্যা।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের ব্যাখ্যাকে নাকচ করে শিশির মনির বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে ২৮, ১৬ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত শেষ করতে না পারেন তাহলে কী হবে, জরিমানা কী হবে, কীভাবে আদালত জরিমানা আদায় করবেন, তা স্পষ্ট বলা আছে। অথচ আইনমন্ত্রী বলছেন, আইনে এসব নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, তিনি বলেছেন, ‘গণভোট ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, মানে ঘটনাক্রমে সিদ্ধ।’ তাহলে এখন মন্ত্রীর দায়িত্ব গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করা। সিদ্ধ জিনিস বাস্তবায়ন না হলে, দায় সরকারের ওপর থাকবে।
নিম্ন আদালতের ২৮ বিচারককে কারণ দর্শানোর বিষয়ে শিশির মনির বলেছেন, যে আইনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই আইনটিই নেই। সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। অথচ, আইন যে নেই, আইন মন্ত্রণালয় খবরই রাখে না।
সরকারি দলের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করে নাজিবুর রহমান বলেন, বিশেষ কমিটিতে যেসব অধ্যাদেশ হুবহু পাসে ঐকমত্য হয়েছিল, এর কয়েকটিতে সংশোধন আনা হয়। যেগুলোতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওয়াদা ভঙ্গ করেছে সরকারি দল।
ঋণ জালিয়াতি অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার অধ্যাদেশ নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নাজিবুর রহমান।




