বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নির্যাতিতরা তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।
মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সংগঠনটির সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্ব করেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে দুলু বলেন, ‘সম্প্রতি তার এক বক্তব্যে শুনলাম, তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবেন। আসার কথা বলে তিনি মূলত দেশবাসীকে ভয় দেখাতে চান। তার বোঝা উচিত, দেশের মানুষ ভয় পায় না। বরং তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি সোনা মসজিদ বর্ডার দিয়ে আসুন, এয়ারপোর্ট দিয়ে আসুন অথবা বেনাপোল দিয়ে আসুন—তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নির্যাতিত-নিপীড়িতরা প্রস্তুত থাকবে।’
দুলু দাবি করেন, দীর্ঘদিনের শাসনে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে এ সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনামলে ধীরে ধীরে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে তিন বা ছয় মাসের মধ্যে এর সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সময় প্রয়োজন।
বিরোধী দলের উদ্দেশে দুলু বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে সুপরামর্শ প্রয়োজন। তিনি বিরোধী দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।
বিএনপির গুরুত্ব তুলে ধরে দুলু বলেন, বিএনপি না থাকলে তিনি দুলু হয়ে উঠতে পারতেন না। সম্মান, পরিচিতি, হুইপ ও মন্ত্রী হওয়ার পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে। বিএনপির বয়স ৪৮ বছর এবং আমার রাজনীতির বয়সও ৪৮ বছর উল্লেখ করে দলটিকে ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবদান শ্রেষ্ঠতম। এ অবদানের জন্য তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক কালাম ফয়েজী, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহিন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব কোরেশী ও এসএম কমর উদ্দিন।
সভা শেষে লেখক কালাম ফয়েজী তার লেখা ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থটি প্রধান অতিথি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর হাতে তুলে দেন।


