স্থানীয় সরকার নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ও পলাতকরা ভোটে অযোগ্যই থাকছেন

0
8

জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এমন সব বিধান যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সপ্তাহে জনমতের জন্য খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার খসড়ায়ও একই ধরনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশন সভা হবে বলে আশা করছি। সেখানেই ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনার পর সবার মতামতের জন্য এটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

আচরণবিধিতে আনা অন্যান্য পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের জামানত বাড়বে। আর নির্বাচনী প্রচারে পোস্টারের ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হয়। সেটা আচরণ বিধিমালায়ও যুক্ত করা হয়।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও এটি মতামতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সংবাদপত্রে সার্কুলার জারি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর খসড়াটি সংযোজন-বিয়োজন ও কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের চার হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে তিন হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত। যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাতটি ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here