বাংলাদেশের বড় হারে সমতায় সিরিজ শেষ নিউজিল্যান্ডের

0
3

অল্প পুঁজিতেও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের আগুনে স্পেলে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল নিউজিল্যান্ড। তবে জীবন পেয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন বেভন জ্যাকবস। তার অপরাজিত ফিফটিতে ২০ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শরিফুল ইসলামের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ৩ উইকেট শিকার করে কিউইদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই বাঁহাতি পেসার। শেখ মেহেদী হাসান কিউই অধিনায়ক নিক কেলিকে বিদায় করলে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারায় কিউইরা। মিরপুরের গ্যালারি তখন সিরিজ জয়ের গন্ধে মাতোয়ারা।

বিপর্যয় থেকে নিউজিল্যান্ডকে টেনে তোলেন বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। তবে এই জুটিকে থামাতে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে। বিশেষ করে ৪৫ রানে থাকা অবস্থায় জ্যাকবসের ক্যাচ মিস করেন শেখ মেহেদী হাসান। জীবন পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জ্যাকবস। এরপর রিশাদ হোসেনের বলে সীমানায় তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচ তো নিতেই পারেননি, উল্টো তার হাত লেগে বল সীমানার বাইরে চলে গেলে জ্যাকবস ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন।

পঞ্চম উইকেটে জ্যাকবস ও ফক্সক্রফটের ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ম্যাচটি বাংলাদেশের হাত থেকে কেড়ে নেয়। ৩১ বলে ৬২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবস। অন্য প্রান্তে ১৫ বলে ১৫ রান করে সঙ্গ দিয়েছেন ফক্সক্রফট। ১১.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা।

প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছিল এবং দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ৩ ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো। শরিফুল ইসলাম ৩ উইকেট নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও বাকিদের ব্যর্থতায় শেষটা রাঙাতে পারল না বাংলাদেশ।

শরিফুলের পর আক্রমণে এসে সফল হয়েছেন শেখ মেহেদী হাসানও। কিউই অধিনায়ক নিক কেলি ৫ বলে মাত্র ১ রান করে মেহেদীর বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। এতে ৪ উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

৭ বলে শরিফুলের ৩ উইকেট

নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ক্লিন বোল্ড করে দেন ওপেনার টিম রবিনসনকে। এর ফলে মাত্র ৭ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট নেন এই  পেসার।

শরিফুলের এক ওভারে দুই শিকার

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন শরিফুল। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাটেনে ক্লার্ককে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে আবারও উৎসব বাংলাদেশের। এবার তার শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে ডেন ক্লেভার পরাস্ত হলে আম্পায়ার আউট দেননি। তবে অধিনায়ক লিটন দাসের রিভিউতে দেখা যায় বল ব্যাটের কানায় লেগেছে। এক ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে কিউইদের চাপে ফেলেন শরিফুল।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। সাইফ হাসানের (১৬) কল্যাণে ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রান তোলে টাইগাররা। তবে চতুর্থ ওভারেই ধাক্কা দেন জেইডেন লেনক্স। সাইফের বিদায়ের পর পঞ্চম ওভারে শুরু বাংলাদেশ ভুগে নাথান স্মিথে। ওভারের তৃতীয় বলে তানজিদ হাসান তামিমকে (৬) বোল্ড করার পরের বলেই পারভেজ হোসেন ইমনকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি। ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখনই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

বৃষ্টির পর অধিনায়ক লিটন দাস আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন। ৩টি চার ও ১টি ছয়ে ১৭ বলে ২৬ রান করে তিনি ক্লার্কসনের শিকার হলে বড় সংগ্রহের আশা ফিকে হয়ে যায়। এক প্রান্ত আগলে রাখা তাওহিদ হৃদয় সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থন পাননি। শামীম পাটোয়ারী (৩) রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিলে মিডল অর্ডার পুরোপুরি ধসে পড়ে।

ইনিংসের শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও রিশাদ হোসেনরা রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ১৫তম ওভারের প্রথম দুই বলে শরিফুল ও রিপন মণ্ডলকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংস ১০২ রানে গুটিয়ে দেন বেন সিয়ার্স। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে জশ ক্লার্কসন ৩টি, বেন সিয়ার্স ও নাথান স্মিথ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। একটি করে পান জেইডেন লেনক্স ও ইস সোধি।

বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ১৫ ওভারে। কিন্তু ৪ বল বাকি থাকতেই ১০২ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আজকের এই ম্যাচটিই অলিখিত ফাইনাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here