নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কাছে মনে হতে পারে মেরু থেকে মরুতে এসেছেন। এই তো কয়েক দিন আগেও ঠান্ডা ফুরফুরে হাওয়ায় অনুশীলন করেছেন দেশে। ৭ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে ওঠানামা করেছে তাপমাত্রা। সে রকম একটি সহনশীল আবহাওয়া থেকে ঢাকার ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস টম ল্যাথামদের জন্য মরুর উত্তাপের মতোই। দেশটির কোচ পল ওয়াইজম্যান গতকাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে ধারণাই দিলেন। তাঁর মতে, ঢাকায় বৈশাখের গরমও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিপক্ষ। প্রখর রোদে ক্লান্ত হয়ে পড়ার একটা ভয় কাজ করছে কিউইদের মধ্যে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় দলটি। পেশাদার ক্রিকেট দল হিসেবে সেভাবে মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।
ল্যাথামরা সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান। এক দিন বিশ্রাম নিয়ে গতকাল বুধবার প্রথম অনুশীলন করেন তারা। মূল মাঠে ফিল্ডিং সেশন ছিল লম্বা সময়। এরপর আউটার নেটে ব্যাটিং সেশন হয়েছে পালা করে। পেস এবং স্পিন বোলারদের নেট ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এই সেশনগুলো করার সময় একেকজন ব্যাটার ও বোলার যে কত বোতল পানি আর শক্তিবর্ধক পানি পান করেছেন, তার ইয়াত্তা নেই। এই এক দিনের অনুশীলনেই কিউই কোচ বুঝে গেছেন বৈশাখের গরম ভোগাবে। তাঁর মতে, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে দুয়েক দিনে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। আমাদের শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, গরম মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গরম একটি চ্যালেঞ্জ। অন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষ। আমাদের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে– গরম তার মধ্যে অন্যতম। গরম পিচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। উইকেট কিছুটা ধীরগতির হতে পারে।’
ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে। সেদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন একটি সিরিজ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, কিউইরা সেরা দল নিয়ে খেলছে না। কোচ পল জানান, এ মুহূর্তে বিশ্বে তাদের ৫৪ জন ক্রিকেটার খেলছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের সিরিজ মিলে এই বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটার তাও উপমহাদেশে খেলছে। শ্রীলঙ্কায় খেলছে দেশটির এ দল। যেখান থেকে তিন ক্রিকেটার বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছেন। আইপিএল ও পিএসএল টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সবচেয়ে বেশি এবং দেশটির তারকা ক্রিকেটারা। এ কারণেই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশে খেলতে এসেছে টম ল্যাথামের নেতৃত্বে। এই দল নিয়েই লড়াই গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন পল ওয়াইজম্যান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। খেলাটা কেমন হবে, তা আমরা আগে থেকে ঠিক করে ফেলি না। কারণ, ক্রিকেট সব সময় বদলায় এবং খেলার মাঝেই তা বদলে যায়।’ ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বোলিং লাইনআপকে কাজে লাগাতে চান কোচ, ‘খেলার মাঝের পর্যায়ে প্রভাব ফেলার জন্য যদি আমাদের স্পিনারদের ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, আমরা তা করব। আমাদের কিছু ভালো ফাস্ট বোলারও আছে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিয়ে খেলার চেষ্টা করব। আর সেটাই খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।’




