বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ মাঠে নামার সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে নামতেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেওয়ার একক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন। আগামীকাল বুধবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামলে তিনিও এই তালিকায় মেসির সঙ্গী হবেন। তবে এই মুহূর্তে অনন্য এই রেকর্ডের একক চূড়ায় বসে আছেন শুধু আর্জেন্টাইন জাদুকরই।
এর আগে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার যৌথ রেকর্ড ছিল মেক্সিকোর আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ এবং জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের। আজ তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি।
রেকর্ডের খাতা ওখানেই বন্ধ হয়নি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলে তার ওপরে আছেন কেবল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ) এবং কুয়েতের বাদের আহমেদ আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ)।
কাকতালীয়ভাবে, ১৬ জুনের এই দিনটি মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্যও এক আবেগঘন দিন। ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের এই ১৬ জুনেই সার্বিয়া ও মন্টেনিগোর বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ও প্রথম গোল করেছিলেন এই ক্ষুদে জাদুকর। দুই দশক পর হুবহু সেই একই তারিখে দাঁড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়লেন তিনি।
রেকর্ডময় এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আক্রমণভাগে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন। ফর্মের তুঙ্গে থাকা হুলিয়ান আলভারেজকে বেঞ্চে রেখে ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজকে আজ শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়েছেন কোচ। আক্রমণভাগের দুই উইংয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে থাকছেন তরুণ প্রতিভাবান থিয়াগো আলমাদা।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কাতার বিশ্বকাপজয়ী সেই চেনা ত্রয়ী রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার এবং এনজো ফার্নান্দেজের ওপর। রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে গঞ্জালো মন্তিয়েল ও ফাকুন্দো মেদিনা সামলাবেন রক্ষণভাগ। আর গোলপোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।




