সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ঘোষিত স্কিমের বাইরেও বিশেষ প্রয়োজনে জমানো টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা। তবে যারা টাকা তুলতে চান তাদেরকে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শাখাগুলোতে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংক। দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত এ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় লেনদেন স্বাভাবিক করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, আজকের বৈঠকে টাকা ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। মূলত ব্যাংকটির খেলাপিদের থেকে আদায় পরিস্থিতি, গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় বিশৃঙ্খলমুক্তভাবে টাকা ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফার একটি অংশ কাটছাঁট বা ‘হেয়ারকাট’ উদ্যোগ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে মেয়াদি আমানতে ঘোষিত মুনাফার পুরোটা পাবেন আমানতকারীরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবের লেনদেন স্বাভাবিক করা হবে। এর বাইরে অধিকতর প্রয়োজনে যেসব গ্রাহক মেয়াদি আমানত বন্ধ করে ‘এক্সিট’ নিতে চান তারাও পুরো টাকা তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আর আবগারি শুল্ক হিসেবে সরকারকে যে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে তা ব্যাংক বহন করবে। অবশ্য কেউ মেয়াদি আমানতের আংশিক তুললে বাকি টাকার ওপর পুরো মুনাফা পাবেন।
বিভিন্ন অনিয়ম জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন আমানত ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্দশাগ্রস্ত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন হয়। ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীর সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের মোট এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৮৬ শতাংশ এখন খেলাপি। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। সরকারি মালিকানার ব্যাংক হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। ব্যাংকটির লেনদেন স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা কীভাবে টাকা তুলতে পারবেন সে বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি স্কিম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় সব ধরনের মেয়াদি আমানতের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবে যত টাকা জমা থাকুক– আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিলের আওতায় প্রথমে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে প্রতি তিন মাস পর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এখন এই স্কিমের বাইরেও টাকা তোলা যাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।


