আরবদের সঙ্গে জোটে আপত্তি ইসরায়েলি নেতাদের মনোভাব বর্ণবাদী: সামি আবু শেহাদেহ

নির্বাচনে কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী উঠে না আসার পর, জনমত জরিপে রেকর্ডসংখ্যক সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্টে (নেসেট) ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো। এমন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠন করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির বালাদ পার্টির নেতা সামি আবু শেহাদেহ। তাদের মনোভাবকে বর্ণবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি আরব। এত বড় জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও তাদের বৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এটি বর্ণবাদ। আমরা জাতীয় সংখ্যালঘুদের বৈধভাবে নির্বাচিত নেতৃত্ব। আমাদের জনগণের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আমাদের নেতৃত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছে।’

আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ৫৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছিল ৪৮টি আসন। ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো জোটই তখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলিরা একটি শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দাবি, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

জয়েন্ট লিস্টের তিনটি দলের একটি হলো বালাদ। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন আবু শেহাদেহ। তবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। কট্টর ডানপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের অনুরোধে ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে রায় দেয়। বেন-গভির অভিযোগ করেন, আবু শেহাদেহ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে সমর্থন করেছিলেন।

এই অভিযোগের পক্ষে তিনি হামলার পরদিন প্রকাশিত আবু শেহাদেহর একটি নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেন। ওই নিবন্ধে আবু শেহাদেহ হামলাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

পরে আবু শেহাদেহ সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, আমি সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করি না। তবে তিনি স্বীকার করেন, নিবন্ধটির একটি অনুচ্ছেদের ভাষা সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো।’

অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের একটি প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করতে পারেন বলে মনে হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে আবু শেহাদেহ নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

তবে তিনি অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে দেওয়া যুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তার অভিযোগ, ‘আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসরায়েলে দুটি ভিন্ন বিচারব্যবস্থা রয়েছে—একটি ইহুদিদের জন্য, অন্যটি আরবদের জন্য।’

আল জাজিরাকে আবু শেহাদেহ বলেন, ইসরায়েলের আরব ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুদের নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে গিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “ভোটারদের কাছে আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল নেতানিয়াহু এবং কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরকে ক্ষমতায় ফেরা থেকে ঠেকানো। আমরা তাদের ‘অপরাধীদের চক্র’ বলে উল্লেখ করেছি। তাই আমরা এখন থেকেই আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি রক্ষার কাজ শুরু করতে পারি।”

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর