Home Blog

মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১-এর মুকুট জিতলেন ছোঁয়া

০

নারী চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও বহুমুখী প্রতিভাকে তুলে ধরতে আয়োজিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডা. কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া। রাজধানীর একটি হোটেলে ৩১ অক্টোবর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে বিজয়ের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী নাবিলা তোরা এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন ডা. রিফা তামান্না।

আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত নারী চিকিৎসকদের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণ তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী চিকিৎসকেরা এতে অংশ নেন।

বিজয়ের মুহূর্তটি ডা. ছোঁয়ার কাছে ছিল ভীষণ আবেগের। মুকুট মাথায় নিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েও যেন নিজের অর্জন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। সেই মুহূর্তে বারবার বাবার মুখ ভেসে উঠছিল তাঁর চোখের সামনে। বাবা পাশে থাকলে হয়তো মেয়ের সাফল্যে গর্বে বুক ভরে উঠত তাঁর। তাই বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি বাবাকে কাছে না পাওয়ার কষ্টও অনুভব করেছেন ছোঁয়া। প্রতিযোগিতায় সফলতার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শো ডিরেক্টর সাকিব সনেট এবং শোয়ের সিইও ও অর্গানাইজার ড. হাসান মাহমুদের প্রতি।

chowa 1793632409

খুলনার মেয়ে কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া ২০২৫ সালে রাশিয়ার রস্তভ স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে রয়েছে শিল্পীসত্তা। অভিনয়, গান, নাচ ও ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনার সময়ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি তিনি। দেশের বাইরে পড়াশোনার সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন।

ছোঁয়ার ভাষায়, ‘আমার কেন যেন মনে হতো, আমার ভেতরে একটা শিল্পীসত্ত্বা রয়েছে। যে কারণে সংস্কৃতির প্রতি আমার একটা আলাদা টান অনুভব করি। আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে, গাইতে ভালো লাগে, নাচতে ভালো লাগে। ছবি আঁকতেও ভালো লাগে।’ছোঁয়ার পারিবারিক জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর বাবা জি এম কামরুল হুদা একসময় ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু দেড় বছর আগে স্ট্রোক করার পর থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রয়েছেন। মা ফিরোজা হুদা। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোট ভাই তানজিমকে মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ববোধও রয়েছে তাঁর কাঁধে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ছোঁয়া জানান, চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যেতে চান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, চিকিৎসক পরিচয়ের বাইরেও একজন মানুষের নিজস্ব প্রতিভা ও সৃজনশীল পরিচয় বিকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের শিল্পীসত্তাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন ছোঁয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অভিনয়েও নিয়মিত হতে চান তিনি। আর সে লক্ষ্যেই  এগিয়ে চলছেন এই চিকিৎসক।

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন ও প্রণোদনা
তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে তরুণেরা কাজ করছেন। সম্প্রতি একটি প্রতিযোগিতায় তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী তাদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। তাদের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতাও চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণা বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। অর্থের অভাবে যেন তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এভাবে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ সরকার প্রণোদনাসহ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজেও তাঁর বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই রকম রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায় এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং বাসা, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না। সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সাফ খেলতে সবার আগে ঢাকায় ভুটান

০

৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রাত ৮টায় স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গতকাল সোমবার সবার আগে ঢাকায় এসেছে ভুটান ফুটবল দল। অনেকটা নীরবে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় তারা। এত বড় একটা টুর্নামেন্ট অথচ ভুটান দলের ঢাকায় আসা নিয়ে আয়োজক সাউথ এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারত ও পাকিস্তান– দুই দলেরই আজ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করবে ভুটান। অন্যদিকে স্বাগতিক বাংলাদেশ গতকাল ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলন করেছে জাতীয় স্টেডিয়ামে। ভুটানের বিপক্ষে খেলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। গত বছরের ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগে ঢাকায় ভুটানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সংস্কারকাজ শেষে সেই ম্যাচ দিয়েই ঢাকা স্টেডিয়ামে নতুন করে ফুটবল ফিরেছিল। ম্যাচটিতে ভুটানকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি সেদিন ভুটানের বিপক্ষেই করেছিলেন হামজা চৌধুরী।

বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘এ’ গ্রুপ। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে শেষ চারের লড়াই। ফাইনাল ১৭ নভেম্বর।

সিডনিতে বুয়েটিয়ানদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বনভোজন ও মিলনমেলা। সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন সিডনির বিংগারাবি পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রায় ৬০০ জন।

ব্ল্যাকটাউন সিটি কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বুয়েটিয়ানদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। তবে আয়োজনে শুধু স্থানীয়রাই নন, সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তাঁদের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অংশগ্রহণে দিনভর চলে আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সদস্যদের মধ্যে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রবাসে বসবাসরত বুয়েটিয়ানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে এ মিলনমেলা।

বনভোজনে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়দের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজন। পরিবারের সব বয়সী সদস্যের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় অনুষ্ঠানটি কেবল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত পারিবারিক উৎসবে।

BeFunky collage%20(10) 1793438634

আয়োজক কমিটির সদস্যদের মতে, প্রায় ৬০০ মানুষের এ আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি কার্যক্রম সময়মতো শেষ করা, খাবার পরিবেশনা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাবার বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল একাধিক পরিবেশনকেন্দ্র। ফলে দীর্ঘ সারি এড়িয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা সম্ভব হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, দায়িত্ব বণ্টন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে বড় পরিসরের এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সিডনিতে বসবাসরত বুয়েটিয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

রান্নায় কোন লবণ ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর

প্রতিদিনের রান্নায় লবণ ব্যবহার করা হলেও কোন ধরনের লবণ শরীরের জন্য ভালো, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। বাজারে সাধারণ সাদা লবণের পাশাপাশি পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব লবণ, বিট লবণ ও কেল্টিক লবণ পাওয়া যায়। এসব লবণের রং, স্বাদ ও দাম আলাদা। তবে শরীরের প্রয়োজন মেটাতে সব লবণ সমান ভূমিকা রাখে না। বিশেষ করে আয়োডিনের চাহিদা পূরণে লবণ নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হায়দরাবাদের ক্যান্সার সার্জন ডা. অর্জুন শঙ্করন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বিভিন্ন ধরনের লবণের ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। লবণের রং নয়, তাতে আয়োডিন আছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিনের রান্নায় কোন লবণ?

ডা. শঙ্করনের মতে, প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত সাদা লবণ ব্যবহার করা ভালো। অনেকের ধারণা, সাধারণ সাদা লবণ রাসায়নিক দিয়ে ব্লিচ করে সাদা করা হয়। তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ লবণ প্রাকৃতিকভাবেই সাদা। লবণ সংগ্রহ ও পরিষ্কার করার পর এতে আয়োডিন যোগ করা হয়। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে গলগণ্ড ও থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই লবণ কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত লেখা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

পিঙ্ক সল্ট ও সৈন্ধব লবণ কতটা ভালো?

সাম্প্রতিক সময়ে পিঙ্ক সল্ট ও সৈন্ধব লবণের ব্যবহার বেড়েছে। অনেকেই মনে করেন, এসব লবণে খনিজ উপাদান বেশি থাকায় সাধারণ লবণের তুলনায় এগুলো বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে ডা. শঙ্করনের মতে, এসব লবণে থাকা খনিজ উপাদানের পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই বাড়তি পুষ্টির আশায় এগুলো ব্যবহার করার বিশেষ কারণ নেই। পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব লবণ ও বিট লবণে আয়োডিনের পরিমাণও খুব কম। একই অবস্থা কেল্টিক লবণের ক্ষেত্রেও। ফলে প্রতিদিনের রান্নায় এসব লবণ ব্যবহার করলে শরীরের প্রয়োজনীয় আয়োডিনের চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে। স্বাদের ভিন্নতার জন্য মাঝেমধ্যে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

সামুদ্রিক লবণেও খেয়াল রাখতে হবে

সামুদ্রিক লবণ থেকে তৈরি হলেই তাতে পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকবে, এমন নয়। লবণে আয়োডিন যোগ করা হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ জন্য প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত লেখা দেখে লবণ কেনার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কোন লবণ?

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ লবণের কিছু অংশের পরিবর্তে এতে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। ফলে খাবারের স্বাদ অনেকটা একই রেখে সোডিয়াম গ্রহণ কমানো সম্ভব। তবে এ ধরনের লবণ সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি কিংবা যারা পটাশিয়ামযুক্ত ওষুধ খান, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করা উচিত নয়।

 দিনে কতটুকু লবণ খাবেন?

কোন লবণ ব্যবহার করছেন, তার পাশাপাশি প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডা. শঙ্করনের পরামর্শ, আচার, পাপড়সহ সব খাবার মিলিয়ে দিনে এক চা চামচের কম লবণ খাওয়া উচিত। তাই রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করার পাশাপাশি লবণের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

দামি বা রঙিন লবণ মানেই বেশি স্বাস্থ্যকর নয়। প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ বেছে নেওয়া এবং পরিমিত লবণ খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ হামলার খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

প্রথম গ্রিন সুকুক বন্ড আল-ইস্তিসনা সম্পদ অধিগ্রহণে অযাচিতভাবে হাজির বিদেশি কোম্পানি

বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন সুকুক ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা’র মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বন্ডের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কোম্পানির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বন্ডটি পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। বিদ্যমান আর্থিক কাঠামো পর্যালোচনা করে সুকুকের শর্তাবলি সংশোধন, একটি বাস্তবসম্মত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল ওই উদ্যোগে। কিন্তু কোনো কোনো মহলের কারসাজিতে এ উদ্যোগ বারবার হোঁচট খাচ্ছে। উল্টো দুবাইভিত্তিক একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে সুকুক বন্ড আল-ইস্তিসনার কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নামমাত্র মূল্যে কিনে নিতে চাইছে। এ জন্য তারা আইসিবি, বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন। কয়েক সপ্তাহ অনুসন্ধানে এ নিয়ে ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা’র অধীনে মোট তিন হাজার কোটি টাকা ইস্যু করা হয়। এই সুকুকের মাধ্যমে তিস্তা সোলার লিমিটেড (টিএসএল), করতোয়া সোলার লিমিটেড (কেএসএল) এবং বেক্সিমকোর টেক্সটাইল-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়। সুকুকটির ট্রাস্টি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে তিস্তা সোলার লিমিটেড থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনার পুনর্গঠন, বিদ্যমান শর্তাবলি সংশোধন এবং মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয় পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রাথমিক আলোচনায় একটি পৃথক ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২১ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিকে আটটি নির্দিষ্ট সুপারিশ ও দায়িত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করে সুকুক পুনর্গঠনের একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়।

ওয়ার্কিং কমিটি মোট তিনটি সভা করে। সভাগুলোতে সুকুকের আর্থিক দায়, বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক কাঠামো, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটির প্রতিনিধিরা তিস্তা সোলার লিমিটেডের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পর্যালোচনা ও আলোচনার ভিত্তিতে ওয়ার্কিং কমিটি সুকুক পুনর্গঠনের বিষয়ে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেন এবং প্রস্তাবিত পুনর্গঠন কাঠামোর বিষয়ে আরও কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করেন। গত ২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।

সূত্র জানায়, পুনর্গঠন-সংক্রান্ত আলোচনায় বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনার অরিজিনেটর বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রস্তাবিত মূল শর্তাবলিতে সম্মতি প্রদান করে। বিশেষভাবে অরিজিনেটর সুকুকধারীদের জন্য বার্ষিক ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত মুনাফার হার গ্রহণে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সুকুকধারীদের নিয়মিত মুনাফা পরিশোধের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের পৌনে ১১ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার অঙ্গীকার করে অরিজিনেটরের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং বিদ্যমান চুক্তিপত্র সংশোধনের শর্তে অরিজিনেটর সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আইসিবি ট্রাস্টি সুকুক পুনর্গঠন, বিদ্যমান শর্তাবলি সংশোধন এবং মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বিএসইসিতে দাখিল করে। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান আর্থিক ও চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে বকেয়া আর্থিক দায় পরিশোধের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাস্টি, অরিজিনেটর, সুকুকধারী এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।

আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সুকুক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি উল্লেখ করে একটি চিঠি দেয়। এতে জানানো হয়, ট্রাস্টি, ইস্যুয়ার ও অরিজিনেটরের প্রয়োজনীয় সম্মতি এবং কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাস্ট ডিড সংশোধন করা যাবে। এ ছাড়া বিএসইসির বিধিমালা, অনুযায়ী সুকুক পুনর্গঠন বা সমাপ্তির ক্ষেত্রে বোর্ড অব ট্রাস্ট, শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড (এসএসবি) এবং কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিএসইসি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করার জন্য আইসিবিকে নির্দেশনা প্রদান করে। বিএসইসি আরও নির্দেশ দেয়, প্রয়োজনীয় চুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে সংশোধিত ট্রাস্ট ডিড, সংশোধিত ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্রসহ আবেদনটি পুনরায় দাখিল করতে হবে।

আইসিবি কর্তৃক পুনর্গঠনের আবেদন দাখিলের পর সুকুকের অরিজিনেটর চলতি বছরের ১২ আগস্ট বিএসইসিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেয়। এতে সুকুকের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ছিল সুকুকের বকেয়া দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া এবং একটি পরিকল্পিত পদ্ধতিতে মূলধন পরিশোধের ব্যবস্থা করা। অরিজিনেটর মনে করে, প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির উদ্যোগ এবং ওয়ার্কিং কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে আলাপ করে জানা গেছে, অরিজিনেটর, আইসিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএসইসির আলোচনা এবং চিঠি চালাচালির মধ্যে একটি নতুন উপদ্রপ এসে হাজির হয়। অরিজিনেটর বিএসইসিতে সুকুকের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দাখিলের একই দিনে দুবাইভিত্তিক একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি আইসিবির কাছে একটি আগ্রহপত্র জমা দেয়। আগ্রহপত্রটিতে তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং বেক্সিমকো গ্রুপের নির্বাচিত কিছু সম্পদে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের কথা বলা হয়। আগ্রহপত্রটি ছিল প্রাথমিক ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, সন্তোষজনক দলিলপত্র, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুমোদন এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। বিএসইসিতে সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বিষয়টি অরিজিনেটরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বিদ্যমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্পদের মালিকানার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অরিজিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আইসিবি অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসির দাখিল করা আগ্রহপত্রটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিএসইসিতে পাঠায়। পত্রে আইসিবি সুকুকের বিদ্যমান কাঠামো, সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনগত ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরে। আইসিবি উল্লেখ করে যে, সুকুক একটি বিনিয়োগ ব্যবস্থা, যেখানে সুকুকধারীদের সংশ্লিষ্ট অন্তর্নিহিত সম্পদের ওপর অবিভক্ত মালিকানা স্বার্থ রয়েছে। সুতরাং তিস্তা সোলার লিমিটেড বা সুকুক-সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সম্পদ নিয়ে প্রস্তাবিত লেনদেনের ক্ষেত্রে ট্রাস্ট ডিড, বিদ্যমান চুক্তিপত্র, প্রযোজ্য বিধিবিধান এবং সুকুকধারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইসিবি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দাখিল করা পুনর্গঠন প্রস্তাব এবং বিএসইসির দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টিও উল্লেখ করে।

অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র বিষয়ে আইসিবির পত্রের জবাবে বিএসইসি প্রযোজ্য আইনগত শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসির সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে আইসিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিএসইসি জানায়, আইসিবির উদ্যোগ কেবল অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য কৌশলগত ও আর্থিক বিনিয়োগকারীদের সম্ভাবনা ও যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত বিনিয়োগকারী নির্বাচন বা সম্পদ হস্তান্তরের ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিএসইসির নির্দেশনার পর অরিজিনেটর অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় অরিজিনেটরের পক্ষ থেকে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আপত্তিপত্র দাখিল করে। একই সঙ্গে বিষয়টি বিএসইসিকেও দেওয়া হয়। অরিজিনেটর জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং ২১ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি ইতোমধ্যে সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়া অরিজিনেটর প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের শর্তাবলি গ্রহণ করেছে এবং ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এ অবস্থায় বিদ্যমান পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে পৃথক কোনো অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা সম্পর্কে অরিজিনেটর প্রশ্ন তোলে। আপত্তিপত্রে ট্রাস্টির দায়িত্ব, বিদ্যমান চুক্তিপত্রের শর্ত এবং অরিজিনেটরসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চুক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে  অরিজিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার যথাযথ নিষ্পত্তি ছাড়া সুকুকের অন্তর্নিহিত সম্পদ অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলে আইনগত ও আর্থিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে অরিজিনেটর বিদ্যমান চুক্তিপত্র, প্রযোজ্য আইন এবং চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানায়।

আইসিবি সূত্র আরও জানায়, অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি তাদের আগ্রহপত্র বিষয়ে আইসিবির সঙ্গে সরাসরি সভার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিবি ৮ অক্টোবর অ্যাডসাম ক্যাপিটালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভার আয়োজন করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অরিজিনেটরের আনুষ্ঠানিক আপত্তি দাখিলের পরও সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সভায় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং অ্যাডসাম ক্যাপিটালের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সভা ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। পরে এসপিভি গভর্নিং বোর্ডের আলোচনায় অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র, অরিজিনেটরের আপত্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ও চুক্তিগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। বোর্ডের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়, যে কোনো প্রস্তাবিত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক শর্ত এবং বিদ্যমান চুক্তিপত্রের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অরিজিনেটরের একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিদ্যমান পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে পৃথক কোনো অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেখানে সুকুকে বিনিয়োগকারীরা নতুন মুনাফা এবং মেয়াদ বৃদ্ধিার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন, সেখানে বিদেশি কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি দেশীয় কোম্পানি বা তার সম্পদ অধিগ্রহণের আলোচনায় আসতে পারে না।

দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

এক মাসে দুই দফা এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের খালি সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হন এনসিপি নেতারা। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভবিষ্যতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সামনে সিলিন্ডার হাতে প্রতিবাদ করবো।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।

দেশবাসীর উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা সিলিন্ডার হাতে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করুন। মানুষ যেন প্রতিবাদ জানাতে না পারে, এজন্য বিএনপি সরকার রাতের বেলায় গ্যাসের দাম বাড়ায়। এটা রাতের সরকার, শেখ হাসিনার সময় যেমন রাতের বেলায় দাম বাড়িয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিত, এখন তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথ দেখানো অনুযায়ী রাতের বেলায় গ্যাসের দাম বাড়ায়। গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন।

গাজীপুরে মহাসড়কে আগুন দিয়ে শ্রমিকদের অবরোধ

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কারখানার বর্জ্য মহাসড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন শ্রমিকেরা।

অবরোধের কারণে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলতে দিচ্ছিলেন না আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাদের কয়েকজনকে মহাসড়কে ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করেন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা। তবে শ্রমিকেরা তাদের বাধা দেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, মঙ্গলবার সকাল আটটার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

রাজধানীর মিরপুরে মঙ্গলবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিক্ষোভকালে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর আগে সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তাদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলতে থাকায় স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না।

এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা।