বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন সুকুক ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা’র মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বন্ডের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কোম্পানির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বন্ডটি পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। বিদ্যমান আর্থিক কাঠামো পর্যালোচনা করে সুকুকের শর্তাবলি সংশোধন, একটি বাস্তবসম্মত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল ওই উদ্যোগে। কিন্তু কোনো কোনো মহলের কারসাজিতে এ উদ্যোগ বারবার হোঁচট খাচ্ছে। উল্টো দুবাইভিত্তিক একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে সুকুক বন্ড আল-ইস্তিসনার কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নামমাত্র মূল্যে কিনে নিতে চাইছে। এ জন্য তারা আইসিবি, বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন। কয়েক সপ্তাহ অনুসন্ধানে এ নিয়ে ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা’র অধীনে মোট তিন হাজার কোটি টাকা ইস্যু করা হয়। এই সুকুকের মাধ্যমে তিস্তা সোলার লিমিটেড (টিএসএল), করতোয়া সোলার লিমিটেড (কেএসএল) এবং বেক্সিমকোর টেক্সটাইল-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়। সুকুকটির ট্রাস্টি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে তিস্তা সোলার লিমিটেড থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনার পুনর্গঠন, বিদ্যমান শর্তাবলি সংশোধন এবং মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয় পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রাথমিক আলোচনায় একটি পৃথক ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২১ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিকে আটটি নির্দিষ্ট সুপারিশ ও দায়িত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করে সুকুক পুনর্গঠনের একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়।
ওয়ার্কিং কমিটি মোট তিনটি সভা করে। সভাগুলোতে সুকুকের আর্থিক দায়, বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক কাঠামো, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটির প্রতিনিধিরা তিস্তা সোলার লিমিটেডের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পর্যালোচনা ও আলোচনার ভিত্তিতে ওয়ার্কিং কমিটি সুকুক পুনর্গঠনের বিষয়ে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেন এবং প্রস্তাবিত পুনর্গঠন কাঠামোর বিষয়ে আরও কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করেন। গত ২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।
সূত্র জানায়, পুনর্গঠন-সংক্রান্ত আলোচনায় বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনার অরিজিনেটর বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রস্তাবিত মূল শর্তাবলিতে সম্মতি প্রদান করে। বিশেষভাবে অরিজিনেটর সুকুকধারীদের জন্য বার্ষিক ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত মুনাফার হার গ্রহণে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সুকুকধারীদের নিয়মিত মুনাফা পরিশোধের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের পৌনে ১১ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার অঙ্গীকার করে অরিজিনেটরের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং বিদ্যমান চুক্তিপত্র সংশোধনের শর্তে অরিজিনেটর সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আইসিবি ট্রাস্টি সুকুক পুনর্গঠন, বিদ্যমান শর্তাবলি সংশোধন এবং মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বিএসইসিতে দাখিল করে। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান আর্থিক ও চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে বকেয়া আর্থিক দায় পরিশোধের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাস্টি, অরিজিনেটর, সুকুকধারী এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।
আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সুকুক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি উল্লেখ করে একটি চিঠি দেয়। এতে জানানো হয়, ট্রাস্টি, ইস্যুয়ার ও অরিজিনেটরের প্রয়োজনীয় সম্মতি এবং কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাস্ট ডিড সংশোধন করা যাবে। এ ছাড়া বিএসইসির বিধিমালা, অনুযায়ী সুকুক পুনর্গঠন বা সমাপ্তির ক্ষেত্রে বোর্ড অব ট্রাস্ট, শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড (এসএসবি) এবং কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিএসইসি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করার জন্য আইসিবিকে নির্দেশনা প্রদান করে। বিএসইসি আরও নির্দেশ দেয়, প্রয়োজনীয় চুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে সংশোধিত ট্রাস্ট ডিড, সংশোধিত ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্রসহ আবেদনটি পুনরায় দাখিল করতে হবে।
আইসিবি কর্তৃক পুনর্গঠনের আবেদন দাখিলের পর সুকুকের অরিজিনেটর চলতি বছরের ১২ আগস্ট বিএসইসিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেয়। এতে সুকুকের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ছিল সুকুকের বকেয়া দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া এবং একটি পরিকল্পিত পদ্ধতিতে মূলধন পরিশোধের ব্যবস্থা করা। অরিজিনেটর মনে করে, প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির উদ্যোগ এবং ওয়ার্কিং কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে আলাপ করে জানা গেছে, অরিজিনেটর, আইসিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএসইসির আলোচনা এবং চিঠি চালাচালির মধ্যে একটি নতুন উপদ্রপ এসে হাজির হয়। অরিজিনেটর বিএসইসিতে সুকুকের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দাখিলের একই দিনে দুবাইভিত্তিক একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি আইসিবির কাছে একটি আগ্রহপত্র জমা দেয়। আগ্রহপত্রটিতে তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং বেক্সিমকো গ্রুপের নির্বাচিত কিছু সম্পদে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের কথা বলা হয়। আগ্রহপত্রটি ছিল প্রাথমিক ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, সন্তোষজনক দলিলপত্র, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুমোদন এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। বিএসইসিতে সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বিষয়টি অরিজিনেটরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বিদ্যমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্পদের মালিকানার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অরিজিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আইসিবি অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসির দাখিল করা আগ্রহপত্রটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিএসইসিতে পাঠায়। পত্রে আইসিবি সুকুকের বিদ্যমান কাঠামো, সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনগত ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরে। আইসিবি উল্লেখ করে যে, সুকুক একটি বিনিয়োগ ব্যবস্থা, যেখানে সুকুকধারীদের সংশ্লিষ্ট অন্তর্নিহিত সম্পদের ওপর অবিভক্ত মালিকানা স্বার্থ রয়েছে। সুতরাং তিস্তা সোলার লিমিটেড বা সুকুক-সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সম্পদ নিয়ে প্রস্তাবিত লেনদেনের ক্ষেত্রে ট্রাস্ট ডিড, বিদ্যমান চুক্তিপত্র, প্রযোজ্য বিধিবিধান এবং সুকুকধারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইসিবি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দাখিল করা পুনর্গঠন প্রস্তাব এবং বিএসইসির দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টিও উল্লেখ করে।
অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র বিষয়ে আইসিবির পত্রের জবাবে বিএসইসি প্রযোজ্য আইনগত শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসির সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে আইসিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিএসইসি জানায়, আইসিবির উদ্যোগ কেবল অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য কৌশলগত ও আর্থিক বিনিয়োগকারীদের সম্ভাবনা ও যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত বিনিয়োগকারী নির্বাচন বা সম্পদ হস্তান্তরের ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিএসইসির নির্দেশনার পর অরিজিনেটর অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় অরিজিনেটরের পক্ষ থেকে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আপত্তিপত্র দাখিল করে। একই সঙ্গে বিষয়টি বিএসইসিকেও দেওয়া হয়। অরিজিনেটর জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং ২১ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি ইতোমধ্যে সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়া অরিজিনেটর প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের শর্তাবলি গ্রহণ করেছে এবং ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এ অবস্থায় বিদ্যমান পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে পৃথক কোনো অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা সম্পর্কে অরিজিনেটর প্রশ্ন তোলে। আপত্তিপত্রে ট্রাস্টির দায়িত্ব, বিদ্যমান চুক্তিপত্রের শর্ত এবং অরিজিনেটরসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চুক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে অরিজিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার যথাযথ নিষ্পত্তি ছাড়া সুকুকের অন্তর্নিহিত সম্পদ অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলে আইনগত ও আর্থিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে অরিজিনেটর বিদ্যমান চুক্তিপত্র, প্রযোজ্য আইন এবং চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানায়।
আইসিবি সূত্র আরও জানায়, অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি তাদের আগ্রহপত্র বিষয়ে আইসিবির সঙ্গে সরাসরি সভার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিবি ৮ অক্টোবর অ্যাডসাম ক্যাপিটালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভার আয়োজন করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অরিজিনেটরের আনুষ্ঠানিক আপত্তি দাখিলের পরও সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সভায় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং অ্যাডসাম ক্যাপিটালের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সভা ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। পরে এসপিভি গভর্নিং বোর্ডের আলোচনায় অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র, অরিজিনেটরের আপত্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ও চুক্তিগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। বোর্ডের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়, যে কোনো প্রস্তাবিত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক শর্ত এবং বিদ্যমান চুক্তিপত্রের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অরিজিনেটরের একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিদ্যমান পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে পৃথক কোনো অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেখানে সুকুকে বিনিয়োগকারীরা নতুন মুনাফা এবং মেয়াদ বৃদ্ধিার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন, সেখানে বিদেশি কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি দেশীয় কোম্পানি বা তার সম্পদ অধিগ্রহণের আলোচনায় আসতে পারে না।